← বাংলা টপিকসমূহ | সকল বিষয়ের প্রস্তুতি
ধ্বনি ও বর্ণ
প্রাথমিক শিক্ষক নিয়োগ ও বিসিএস প্রিলিতে বাংলা ব্যাকরণ অংশে সবচেয়ে নিশ্চিতভাবে যে অধ্যায় থেকে প্রশ্ন আসে, তা হলো ধ্বনি ও বর্ণ — "বাংলা বর্ণমালায় বর্ণ কয়টি", "মৌলিক স্বরধ্বনি কয়টি", "'জন্ম → জম্ম' কোন ধ্বনি-পরিবর্তন", "'কৃষ্ণ'-এ ণ কেন" — এই ধাঁচের প্রশ্ন প্রায় প্রতি বছরই থাকে। এই অধ্যায়টি এমনভাবে সাজানো হয়েছে যেন আপনি শূন্য থেকে শুরু করেও শেষ পর্যন্ত পড়লে শুধু সংখ্যা মুখস্থ নয়, প্রতিটি শ্রেণিবিভাগের যুক্তিটাও বুঝে ফেলেন — কারণ যুক্তি বুঝলে ৫০টি আলাদা তথ্যের বদলে মনে রাখতে হয় মাত্র কয়েকটি নীতি।
মানুষের বাগ্যন্ত্র (ফুসফুস, স্বরতন্ত্রী, জিভ, তালু, দাঁত, ঠোঁট — উচ্চারণে ব্যবহৃত অঙ্গগুলোর সম্মিলিত নাম) থেকে নিঃসৃত অর্থবোধক বা অর্থ-প্রতীকী শব্দাংশকেই ধ্বনি বলা হয়। ধ্বনি ভাষার মৌলিক বা ক্ষুদ্রতম একক। ধ্বনির লিখিত রূপ বা প্রতীকই বর্ণ। অর্থাৎ ধ্বনি শ্রুতিগ্রাহ্য (কানে শোনা যায়), বর্ণ দৃশ্যগ্রাহ্য (চোখে দেখা যায়)। ধ্বনির লিখিত প্রতীক বর্ণমালার মাধ্যমে আমরা ক্ষণস্থায়ী উচ্চারণকে স্থায়ী রূপে ধরে রাখি।
বাংলা ভাষায় মোট ৫০টি বর্ণ আছে — ১১টি স্বরবর্ণ ও ৩৯টি ব্যঞ্জনবর্ণ। তবে স্বরধ্বনির সংখ্যা ৭টি এবং ব্যঞ্জনধ্বনির সংখ্যা ৩০টি। অর্থাৎ ধ্বনি ও বর্ণের সংখ্যায় পার্থক্য রয়েছে।
ধ্বনি ও বর্ণের পার্থক্য
| বিষয় | ধ্বনি | বর্ণ |
|---|---|---|
| প্রকৃতি | শ্রুতিগ্রাহ্য, উচ্চারিত | দৃশ্যগ্রাহ্য, লিখিত |
| একক | ভাষার ক্ষুদ্রতম একক | ধ্বনির লিখিত প্রতীক |
| ইন্দ্রিয় | কর্ণ (কান) | চক্ষু (চোখ) |
| বাংলায় সংখ্যা | ৩৭ (৭ স্বর + ৩০ ব্যঞ্জন) | ৫০ (১১ স্বর + ৩৯ ব্যঞ্জন) |
ধ্বনি ও তার শ্রেণিবিভাগ
উচ্চারণের সময় ফুসফুস থেকে নিঃসৃত বাতাস কণ্ঠনালী, মুখবিবর, নাসিকা ইত্যাদির বাধা পেয়ে বা না পেয়ে যে ধ্বনি উৎপন্ন হয়, তা-ই বাগধ্বনি (Speech sound)। বাগধ্বনি প্রধানত দুই প্রকার:
- স্বরধ্বনি (Vowel Sound): যে ধ্বনি উচ্চারণে বাতাস বাধাহীনভাবে মুখ থেকে বের হয়।
- ব্যঞ্জনধ্বনি (Consonant Sound): যে ধ্বনি উচ্চারণে বাতাস কোনো বাধা পায়।
মৌলিক ধ্বনি (Phoneme)
যে ধ্বনি ভাঙা যায় না, তাকে মৌলিক ধ্বনি বা স্বনিম বলে। বাংলায় মৌলিক স্বরধ্বনি ৭টি — অ, আ, ই, উ, এ, ও, অ্যা।
যৌগিক ধ্বনি
দুটি স্বরধ্বনি দ্রুত উচ্চারিত হয়ে একসঙ্গে মিলিত হলে তাকে যৌগিক স্বরধ্বনি বা দ্বিস্বর/সন্ধিস্বর (Diphthong) বলে। বাংলায় যৌগিক স্বরধ্বনি ২৫টি। বর্ণরূপে লেখা হয় ২টি — ঐ (অ+ই) ও ঔ (অ+উ)।
স্বরধ্বনি ও স্বরবর্ণ
যেসব ধ্বনি অন্য ধ্বনির সাহায্য ছাড়াই উচ্চারণ করা যায়, তাকে স্বরধ্বনি বলে। স্বরধ্বনির লিখিত রূপ স্বরবর্ণ। বাংলায় স্বরবর্ণ ১১টি — অ, আ, ই, ঈ, উ, ঊ, ঋ, এ, ঐ, ও, ঔ।
স্বরধ্বনির শ্রেণিবিভাগ — উচ্চারণকাল অনুযায়ী
| প্রকার | উদাহরণ | বৈশিষ্ট্য |
|---|---|---|
| হ্রস্বস্বর | অ, ই, উ, ঋ | উচ্চারণে কম সময় লাগে; ১ মাত্রা |
| দীর্ঘস্বর | আ, ঈ, ঊ, এ, ঐ, ও, ঔ | উচ্চারণে দ্বিগুণ সময়; ২ মাত্রা |
| প্লুতস্বর | দূরবর্তী কাউকে ডাকার ‘ও-ও-ও’ | দীর্ঘস্বরের চেয়েও বেশি সময়; ৩+ মাত্রা |
জিহ্বার অবস্থান অনুযায়ী
| উচ্চতা | সম্মুখ | মধ্য | পশ্চাৎ |
|---|---|---|---|
| উচ্চ | ই, ঈ | — | উ, ঊ |
| উচ্চ-মধ্য | এ | — | ও |
| নিম্ন-মধ্য | অ্যা | — | অ |
| নিম্ন | — | আ | — |
ঠোঁটের অবস্থান অনুযায়ী
- বৃত্তাকার (Rounded): উ, ঊ, ও, ঔ — ঠোঁট গোলাকার
- প্রসারিত (Unrounded): ই, ঈ, এ, ঐ, অ্যা — ঠোঁট চ্যাপ্টা
- স্বাভাবিক (Neutral): অ, আ — ঠোঁট স্বাভাবিক
স্বরবর্ণের কার-চিহ্ন
| স্বরবর্ণ | কার-চিহ্ন | উদাহরণ |
|---|---|---|
| অ | (কার-চিহ্ন নেই) | কম, ফল |
| আ | া | কাজ, রাজা |
| ই | ি | কিল, দিন |
| ঈ | ী | নদী, পরী |
| উ | ু | ফুল, গুরু |
| ঊ | ূ | মূল, পূর্ণ |
| ঋ | ৃ | মৃত, কৃষক |
| এ | ে | মেঘ, দেশ |
| ঐ | ৈ | বৈশাখ, কৈশোর |
| ও | ো | মোট, রোগী |
| ঔ | ৌ | মৌচাক, নৌকা |
ব্যঞ্জনধ্বনি ও ব্যঞ্জনবর্ণ
যেসব ধ্বনি স্বরধ্বনির সাহায্য ছাড়া উচ্চারণ করা যায় না, তাকে ব্যঞ্জনধ্বনি বলে। বাংলায় ব্যঞ্জনবর্ণ ৩৯টি — ক থেকে হ পর্যন্ত ৩৫টি বর্গীয় ও অবর্গীয় ব্যঞ্জনবর্ণ এবং ৪টি পরাশ্রয়ী/বিশেষ বর্ণ (ৎ, ং, ঃ, ঁ)।
স্পর্শ ব্যঞ্জনবর্ণ (বর্গীয় বর্ণ — ২৫টি)
| বর্গ | অঘোষ অল্পপ্রাণ | অঘোষ মহাপ্রাণ | ঘোষ অল্পপ্রাণ | ঘোষ মহাপ্রাণ | নাসিক্য |
|---|---|---|---|---|---|
| ক-বর্গ (কণ্ঠ্য) | ক | খ | গ | ঘ | ঙ |
| চ-বর্গ (তালব্য) | চ | ছ | জ | ঝ | ঞ |
| ট-বর্গ (মূর্ধন্য) | ট | ঠ | ড | ঢ | ণ |
| ত-বর্গ (দন্ত্য) | ত | থ | দ | ধ | ন |
| প-বর্গ (ওষ্ঠ্য) | প | ফ | ব | ভ | ম |
অন্তঃস্থ ব্যঞ্জনবর্ণ (৪টি)
য, র, ল, ব — এগুলোকে অন্তঃস্থ বলা হয় কারণ এদের উচ্চারণ স্বরধ্বনি ও ব্যঞ্জনধ্বনির মধ্যবর্তী।
উষ্মবর্ণ (ঊষ্ম/শিস্ ধ্বনি — ৪টি)
শ, ষ, স, হ — উচ্চারণের সময় শ্বাস ‘উষ্ম’ বা ‘শিস্’ ধ্বনি তৈরি করে।
পরাশ্রয়ী বর্ণ (৪টি)
- ৎ (খণ্ড-ত): উচ্চারণে ‘ত’-এর হ্রস্ব রূপ — উদাহরণ: হঠাৎ, ভবিষ্যৎ, সৎ
- ং (অনুস্বার): ‘ঙ’-এর সংক্ষিপ্ত রূপ — উদাহরণ: রং, বাংলা, সংগীত
- ঃ (বিসর্গ): ‘হ’-এর সংক্ষিপ্ত উচ্চারণ — উদাহরণ: দুঃখ, নিঃশ্বাস
- ঁ (চন্দ্রবিন্দু): অনুনাসিকতা সূচক — উদাহরণ: চাঁদ, পাঁচ
যুক্তবর্ণ (Conjunct)
দুই বা ততোধিক ব্যঞ্জনবর্ণ মিলিত হয়ে গঠিত বর্ণকে যুক্তবর্ণ বলে। বাংলায় ২৮৫+ যুক্তবর্ণ আছে। যেমন — ক্ষ (ক+ষ), জ্ঞ (জ+ঞ), হ্ম (হ+ম), ঞ্চ (ঞ+চ), ক্ষ্ম (ক+ষ+ম)।
উচ্চারণ স্থান ও উচ্চারণ রীতি
উচ্চারণ স্থান অনুযায়ী ব্যঞ্জনধ্বনি
| স্থান | নাম | ধ্বনি |
|---|---|---|
| কণ্ঠ | কণ্ঠ্য / জিহ্বামূলীয় | ক, খ, গ, ঘ, ঙ; হ |
| তালু | তালব্য | চ, ছ, জ, ঝ, ঞ; য, শ |
| মূর্ধা | মূর্ধন্য | ট, ঠ, ড, ঢ, ণ; র, ষ |
| দন্ত | দন্ত্য | ত, থ, দ, ধ, ন; ল, স |
| ওষ্ঠ | ওষ্ঠ্য | প, ফ, ব, ভ, ম |
| দন্ত-ওষ্ঠ | দন্ত্যৌষ্ঠ্য | ব (অন্তঃস্থ) |
| নাসিকা | নাসিক্য | ঙ, ঞ, ণ, ন, ম; চন্দ্রবিন্দু |
উচ্চারণ রীতি অনুযায়ী
| রীতি | বৈশিষ্ট্য | উদাহরণ |
|---|---|---|
| স্পর্শ | সম্পূর্ণ বাধা পেয়ে উচ্চারিত | ক, চ, ট, ত, প |
| উষ্ম | ঘর্ষণ-জনিত শ্বাস | শ, ষ, স, হ |
| নাসিক্য | নাসিকা দিয়ে বের হয় | ঙ, ঞ, ণ, ন, ম |
| তাড়নজাত | জিহ্বার দ্রুত স্পর্শ | ড়, ঢ় |
| কম্পনজাত | জিহ্বার কম্পন | র |
| পার্শ্বিক | বাতাস পাশ দিয়ে যায় | ল |
ঘোষ-অঘোষ ও অল্পপ্রাণ-মহাপ্রাণ
- অঘোষ: উচ্চারণে স্বরতন্ত্রী কম্পিত হয় না — ক, খ, চ, ছ, ট, ঠ, ত, থ, প, ফ, শ, ষ, স
- ঘোষ: উচ্চারণে স্বরতন্ত্রী কম্পিত হয় — গ, ঘ, ঙ, জ, ঝ, ঞ, ড, ঢ, ণ, দ, ধ, ন, ব, ভ, ম, য, র, ল, হ
- অল্পপ্রাণ: উচ্চারণে কম শ্বাস — ক, গ, ঙ, চ, জ, ঞ, ট, ড, ণ, ত, দ, ন, প, ব, ম
- মহাপ্রাণ: উচ্চারণে বেশি শ্বাস — খ, ঘ, ছ, ঝ, ঠ, ঢ, থ, ধ, ফ, ভ
ধ্বনি পরিবর্তন
উচ্চারণের সময় শব্দের মূল ধ্বনির বিভিন্ন পরিবর্তন ঘটে — যাকে ধ্বনি পরিবর্তন বলা হয়। প্রধান প্রকারগুলি নিচে আলোচনা করা হলো।
| প্রকার | সংজ্ঞা | উদাহরণ |
|---|---|---|
| আদি স্বরাগম | শব্দের শুরুতে স্বরধ্বনির আগমন | স্কুল → ইস্কুল, স্টেশন → ইস্টিশান |
| মধ্য স্বরাগম / স্বরভক্তি | শব্দের মধ্যে স্বর যোগ | রত্ন → রতন, ভক্তি → ভকতি, প্রীতি → পিরীতি |
| অন্ত্য স্বরাগম | শব্দের শেষে স্বর যোগ | দিশ্ → দিশা, বেঞ্চ → বেঞ্চি, সত্য → সত্যি |
| আদি স্বরলোপ | শব্দের শুরুর স্বর লোপ | অলাবু → লাউ, উদ্ধার → উধার |
| মধ্য স্বরলোপ / সমাক্ষরলোপ | মধ্যবর্তী স্বর লোপ | অগুরু → অগ্রু, বসতি → বস্তি |
| অন্ত্য স্বরলোপ | শেষের স্বর লোপ | আশা → আশ, সন্ধ্যা → সঞঝা |
| অপিনিহিতি | পরের ‘ই’/‘উ’ আগেই উচ্চারণ | আজি → আইজ, রাখিয়া → রাইখ্যা |
| অভিশ্রুতি | অপিনিহিতিজাত ই/উ পরের স্বরে রূপ নেয় | করিয়া → কইর্যা → করে, কালি → কাইল → কাল |
| বিপর্যাস / ধ্বনি-বিপর্যয় | ধ্বনির পরস্পর স্থান পরিবর্তন | পিশাচ → পিচাশ, লাফ → ফাল, রিকশা → রিশকা |
| সমীভবন / সমীকরণ | সমাসন্ন ধ্বনির পরস্পর প্রভাব | জন্ম → জম্ম, ধর্ম → ধম্ম, কাঁদনা → কান্না |
| বিষমীভবন | দুই সমধ্বনির একটি পরিবর্তিত হয় | শরীর → শরীল, লাল → নাল |
| দ্বিত্ব ব্যঞ্জন | একই ব্যঞ্জনের দ্বিত্বরূপ | পাকা → পাক্কা, সকাল → সক্কাল |
| ব্যঞ্জনচ্যুতি | দুই ব্যঞ্জনের একটি লোপ | বউদিদি → বউদি |
| অন্তর্হতি | মাঝের ব্যঞ্জন লোপ | ফাল্গুন → ফাগুন, ফলাহার → ফলার |
| অপভ্রংশ | মূল ধ্বনির বিকৃত উচ্চারণ | স্কন্ধ → কাঁধ |
| অসমীকরণ | একই স্বর পাশে এলে একটিকে পরিবর্তন | ধাঁধাঁ → ধাঁধা, টাটাঁ → টাঁটা |
স্বরসঙ্গতি (Vowel Harmony)
একই শব্দের মধ্যে দুটি স্বর পরস্পরের প্রভাবে যখন সমান বা সাদৃশ্যপূর্ণ হয়, তখন তাকে স্বরসঙ্গতি বলে।
- প্রগত: পূর্ববর্তী স্বরের প্রভাবে পরের স্বর পরিবর্তন — মুলা → মুলো, শিকা → শিকে
- পরাগত: পরবর্তী স্বরের প্রভাবে আগের স্বর পরিবর্তন — দেশি → দিশি, আখো → আখুয়া
- মধ্যগত: মাঝের স্বরের প্রভাব — বিলাতি → বিলিতি
- অন্যোন্য: পরস্পরের প্রভাব — মোজা → মুজো
ণত্ব ও ষত্ব বিধান
তৎসম শব্দে কোথায় ‘ন’ আর কোথায় ‘ণ’, কোথায় ‘স’/‘শ’ আর কোথায় ‘ষ’ ব্যবহার হবে — তার নিয়মাবলিকে ণত্ব ও ষত্ব বিধান বলে। বাংলায় এ বিধান কেবল তৎসম শব্দে প্রযোজ্য — তদ্ভব/দেশি/বিদেশি শব্দে নয়।
ণত্ব বিধানের নিয়ম
- ঋ, র, ষ-এর পরে মূর্ধন্য ‘ণ’ হয় — কৃষ্ণ, ব্রাহ্মণ, ঘৃণা, রামায়ণ, বর্ণ, ভাষণ।
- ঋ, র, ষ-এর পরে স্বরধ্বনি, ক-বর্গ, প-বর্গ, য়, ব, হ এবং অনুস্বার থাকলেও পরবর্তী ‘ন’ মূর্ধন্য ‘ণ’ হয় — কর্ণ, পর্ণ, ভ্রমণ, প্রমাণ।
- ট-বর্গের পূর্বে ‘ন’-এর জায়গায় ‘ণ’ হয় — লুণ্ঠন, কণ্টক, ঘণ্টা।
- প্র, পরা, পরি, নির্ — এই চারটি উপসর্গের পরে (ধাতুর) ‘ন’ মূর্ধন্য ‘ণ’ হয় — প্রণাম, পরায়ণ, পরিণাম, নির্ণয়, প্রণালী। (লক্ষ করুন, চারটিতেই র/ঋ-ধ্বনি আছে — আসলে এটি নিয়ম ১-এরই সম্প্রসারণ।)
- কতকগুলি শব্দে নিত্য ‘ণ’ হয় (কোনো নিয়ম ছাড়াই) — চাণক্য, মাণিক্য, গণ, বাণিজ্য, লবণ, বণিক, বাণী, বীণা, কল্যাণ, লাবণ্য, বেণু, মণি, কণিকা, গুণ, পুণ্য, বিপণি, নিপুণ।
ণত্ব বিধানের ব্যতিক্রম
ত-বর্গের (ত, থ, দ, ধ, ন) সঙ্গে যুক্ত হলে ‘ণ’ হয় না, ‘ন’-ই থাকে — অন্ত, গ্রন্থ, ক্রন্দন (র-এর পরে হলেও!)। সমাসবদ্ধ শব্দে পদ দুটি আলাদা থাকায় ণত্ব খাটে না — ত্রিনয়ন, সর্বজনীন, দুর্নীতি, দুর্নাম। আর তদ্ভব, দেশি ও বিদেশি শব্দে কখনোই ‘ণ’ বসে না — কান, সোনা, কোরআন, ইরান, জার্মানি।
ষত্ব বিধানের নিয়ম
- অ, আ ভিন্ন অন্য স্বর (ই/উ/ঋ/এ/ও) এবং ক, র-এর পরে তৎসম শব্দে ‘স’-এর পরিবর্তে ‘ষ’ বসে — কৃষি, ভাষা, পুষ্প, বিষ, ঋষি।
- ‘ট’ ও ‘ঠ’-এর পূর্বে ‘ষ’ হয় — কষ্ট, ইষ্ট, কাষ্ঠ, পুষ্ট, পৃষ্ঠ, ষষ্ঠ।
- ঋ-কারের পরে ‘ষ’ — তৃষা, কৃষ্ণ, বৃষ্টি।
- নি, অনু, অভি, পরি, প্রতি, সু, বি প্রভৃতি উপসর্গের পরে ‘সিচ্’, ‘স্তু’, ‘সদ’ ইত্যাদি ধাতুর ‘স’ মূর্ধন্য ‘ষ’ হয় — অভিষেক, অনুষঙ্গ, পরিষদ, প্রতিষ্ঠা।
- কতকগুলি শব্দে নিত্য ‘ষ’ — ভাষা, ঊষা, ঊষর, ঊষ্ম, ঐশ্বর্য, পাষাণ, মানুষ, মহিষ, পৌষ, আষাঢ়।
ষত্ব বিধানের ব্যতিক্রম
বিদেশি ও খাঁটি বাংলা শব্দে ‘ষ’ হয় না — মাস্টার, পোস্ট, জিনিস, সালাম, কিসমিস (বিদেশি); দেশি/তদ্ভব শব্দেও নয়। এ কারণেই ‘পোশাক’ (ফারসি) শব্দে তালব্য ‘শ’, মূর্ধন্য ‘ষ’ নয়। আরও মনে রাখুন: সাৎ-প্রত্যয়ে স অটুট থাকে — অগ্নিসাৎ, ধূলিসাৎ, ভূমিসাৎ (ই-কারের পরে হলেও ‘ষ’ নয়)।
সাধারণ ভুল ও সতর্কতা
এই অধ্যায়ে ভুলগুলো প্রায় সবসময় একই জায়গায় হয়। নিচের ফাঁদগুলো চিনে রাখলে পরীক্ষায় অন্তত ২-৩টি নম্বর বাঁচবে।
দ্রুত সমাধানের কৌশল
MCQ পরীক্ষায় এই অধ্যায়ের প্রশ্ন ১৫-২০ সেকেন্ডে সমাধান করার মতো কিছু পরীক্ষিত কৌশল:
তথ্যের সারসংক্ষেপ
- বাংলা বর্ণমালায় মোট বর্ণ — ৫০টি
- স্বরবর্ণ — ১১টি, ব্যঞ্জনবর্ণ — ৩৯টি
- মৌলিক স্বরধ্বনি — ৭টি (অ, আ, ই, উ, এ, ও, অ্যা)
- স্পর্শ ব্যঞ্জনবর্ণ (বর্গীয়) — ২৫টি (৫ বর্গ × ৫)
- অন্তঃস্থ বর্ণ — ৪টি (য, র, ল, ব)
- উষ্মবর্ণ — ৪টি (শ, ষ, স, হ)
- পরাশ্রয়ী/বিশেষ বর্ণ — ৪টি (ৎ, ং, ঃ, ঁ)
- হ্রস্ব স্বরবর্ণ — ৪টি (অ, ই, উ, ঋ)
- দীর্ঘ স্বরবর্ণ — ৭টি (আ, ঈ, ঊ, এ, ঐ, ও, ঔ)
- যৌগিক স্বরধ্বনি — ২৫টি; বর্ণরূপে — ২টি (ঐ, ঔ)
- মৌলিক ব্যঞ্জনধ্বনি — ৩০টি
- মাত্রাহীন বর্ণ — ১০টি (এ, ঐ, ও, ঔ, ং, ঃ, ঁ, ৎ, ঙ, ঞ)
- অর্ধমাত্রার বর্ণ — ৮টি (ঋ, খ, গ, ণ, থ, ধ, প, শ)
- পূর্ণমাত্রার বর্ণ — ৩২টি (বাকি)
- ‘ক্ষ’ = ক + ষ; ‘জ্ঞ’ = জ + ঞ; ‘হ্ম’ = হ + ম
- ‘ণ’ ও ‘ন’-এর ব্যবহার-বিধি = ণত্ব বিধান
- ‘স/শ/ষ’-এর ব্যবহার-বিধি = ষত্ব বিধান
- ণত্ব ও ষত্ব বিধান প্রযোজ্য — শুধু তৎসম শব্দে
প্রশ্ন ও উত্তর (১০০+ MCQ)
১. বাংলা বর্ণমালায় মোট বর্ণ কয়টি?
(ক) ৪৭টি (খ) ৪৯টি (গ) ৫০টি (ঘ) ৫২টি
উত্তর: (গ) ৫০টি
১১টি স্বরবর্ণ + ৩৯টি ব্যঞ্জনবর্ণ = ৫০টি।
২. বাংলা স্বরবর্ণ কয়টি?
(ক) ৭ (খ) ৯ (গ) ১১ (ঘ) ১৩
উত্তর: (গ) ১১টি
৩. বাংলা ব্যঞ্জনবর্ণ কয়টি?
(ক) ৩৫ (খ) ৩৭ (গ) ৩৯ (ঘ) ৪১
উত্তর: (গ) ৩৯টি
৪. মৌলিক স্বরধ্বনি কয়টি?
(ক) ৫ (খ) ৬ (গ) ৭ (ঘ) ১১
উত্তর: (গ) ৭টি
অ, আ, ই, উ, এ, ও, অ্যা।
৫. বাংলায় মৌলিক ব্যঞ্জনধ্বনি কয়টি?
(ক) ২৫ (খ) ৩০ (গ) ৩৫ (ঘ) ৩৯
উত্তর: (খ) ৩০টি
৬. ধ্বনি ও বর্ণের পার্থক্য কী?
(ক) ধ্বনি লেখা যায় (খ) ধ্বনি উচ্চারিত, বর্ণ লিখিত (গ) কোনো পার্থক্য নেই (ঘ) উভয়ই দৃশ্য
উত্তর: (খ)
ধ্বনি শ্রুতিগ্রাহ্য, বর্ণ দৃশ্যগ্রাহ্য।
৭. ভাষার ক্ষুদ্রতম একক কোনটি?
(ক) ধ্বনি (খ) বর্ণ (গ) শব্দ (ঘ) বাক্য
উত্তর: (ক) ধ্বনি
৮. হ্রস্ব স্বরবর্ণ কয়টি?
(ক) ৩ (খ) ৪ (গ) ৫ (ঘ) ৭
উত্তর: (খ) ৪টি
অ, ই, উ, ঋ।
৯. দীর্ঘ স্বরবর্ণ কয়টি?
(ক) ৫ (খ) ৬ (গ) ৭ (ঘ) ৮
উত্তর: (গ) ৭টি
আ, ঈ, ঊ, এ, ঐ, ও, ঔ।
১০. কোনটি যৌগিক স্বরের বর্ণরূপ?
(ক) আ (খ) ই (গ) ঐ (ঘ) উ
উত্তর: (গ) ঐ (অ+ই)
১১. ‘ঔ’ কোন স্বরের যৌগ?
(ক) অ+ই (খ) অ+উ (গ) আ+উ (ঘ) এ+উ
উত্তর: (খ) অ+উ
১২. বাংলায় যৌগিক স্বরধ্বনি কয়টি?
(ক) ৭ (খ) ১১ (গ) ২৫ (ঘ) ৩০
উত্তর: (গ) ২৫টি
১৩. ‘ক’-বর্গীয় ধ্বনির উচ্চারণ-স্থান?
(ক) তালু (খ) মূর্ধা (গ) দন্ত (ঘ) কণ্ঠ
উত্তর: (ঘ) কণ্ঠ
১৪. ‘চ’-বর্গের উচ্চারণ স্থান?
(ক) ওষ্ঠ (খ) তালু (গ) দন্ত (ঘ) মূর্ধা
উত্তর: (খ) তালু
১৫. ‘ট’-বর্গের উচ্চারণ স্থান?
(ক) মূর্ধা (খ) তালু (গ) দন্ত (ঘ) কণ্ঠ
উত্তর: (ক) মূর্ধা
১৬. ‘ত’-বর্গের উচ্চারণ স্থান?
(ক) দন্ত (খ) ওষ্ঠ (গ) তালু (ঘ) কণ্ঠ
উত্তর: (ক) দন্ত
১৭. ‘প’-বর্গের উচ্চারণ স্থান?
(ক) ওষ্ঠ (খ) দন্ত (গ) মূর্ধা (ঘ) কণ্ঠ
উত্তর: (ক) ওষ্ঠ
১৮. উষ্মবর্ণ কয়টি?
(ক) ২ (খ) ৩ (গ) ৪ (ঘ) ৫
উত্তর: (গ) ৪টি — শ, ষ, স, হ
১৯. অন্তঃস্থ বর্ণ কয়টি?
(ক) ২ (খ) ৩ (গ) ৪ (ঘ) ৫
উত্তর: (গ) ৪টি — য, র, ল, ব
২০. পরাশ্রয়ী বর্ণ কয়টি?
(ক) ৩ (খ) ৪ (গ) ৫ (ঘ) ৬
উত্তর: (খ) ৪টি — ৎ, ং, ঃ, ঁ
২১. ‘ৎ’ কে কী বলে?
(ক) অনুস্বার (খ) বিসর্গ (গ) খণ্ড-ত (ঘ) চন্দ্রবিন্দু
উত্তর: (গ) খণ্ড-ত
২২. ‘ং’ কে কী বলে?
(ক) অনুস্বার (খ) বিসর্গ (গ) চন্দ্রবিন্দু (ঘ) খণ্ড-ত
উত্তর: (ক) অনুস্বার
২৩. ‘ঃ’ কে কী বলে?
(ক) অনুস্বার (খ) বিসর্গ (গ) হস (ঘ) ঋকার
উত্তর: (খ) বিসর্গ
২৪. ‘ঁ’ কে কী বলে?
(ক) অনুস্বার (খ) চন্দ্রবিন্দু (গ) বিসর্গ (ঘ) ফলা
উত্তর: (খ) চন্দ্রবিন্দু
২৫. ‘ক্ষ’ যুক্তবর্ণটি কোন কোন বর্ণের সমাহার?
(ক) ক+ষ (খ) ক+শ (গ) খ+ষ (ঘ) ক+হ
উত্তর: (ক) ক+ষ
২৬. ‘জ্ঞ’ কোন কোন বর্ণের যোগ?
(ক) জ+ঙ (খ) জ+ঞ (গ) জ+ন (ঘ) জ+য
উত্তর: (খ) জ+ঞ
২৭. ‘হ্ম’ কোন কোন বর্ণের যোগ?
(ক) হ+ম (খ) হ+ণ (গ) হ+ন (ঘ) হ+য
উত্তর: (ক) হ+ম
২৮. অঘোষ ধ্বনি কোনটি?
(ক) গ (খ) ক (গ) ঘ (ঘ) ঙ
উত্তর: (খ) ক
২৯. ঘোষ ধ্বনি কোনটি?
(ক) চ (খ) ছ (গ) জ (ঘ) ট
উত্তর: (গ) জ
৩০. অল্পপ্রাণ ধ্বনি কোনটি?
(ক) ক (খ) খ (গ) ঘ (ঘ) ছ
উত্তর: (ক) ক
৩১. মহাপ্রাণ ধ্বনি কোনটি?
(ক) ক (খ) গ (গ) ঘ (ঘ) ঞ
উত্তর: (গ) ঘ
৩২. নাসিক্য ধ্বনি কোনটি?
(ক) ক (খ) চ (গ) ঙ (ঘ) প
উত্তর: (গ) ঙ
৩৩. বাংলায় কয়টি নাসিক্য বর্ণ আছে?
(ক) ৩ (খ) ৪ (গ) ৫ (ঘ) ৬
উত্তর: (গ) ৫টি — ঙ, ঞ, ণ, ন, ম
৩৪. কম্পনজাত ধ্বনি কোনটি?
(ক) ল (খ) র (গ) ম (ঘ) য
উত্তর: (খ) র
৩৫. পার্শ্বিক ধ্বনি কোনটি?
(ক) ল (খ) র (গ) ব (ঘ) ম
উত্তর: (ক) ল
৩৬. তাড়নজাত ধ্বনি কোনগুলি?
(ক) ড, ঢ (খ) ড়, ঢ় (গ) ট, ঠ (ঘ) র, ল
উত্তর: (খ) ড়, ঢ়
৩৭. ‘স্কুল → ইস্কুল’ কোন ধরনের ধ্বনি-পরিবর্তন?
(ক) মধ্য স্বরাগম (খ) আদি স্বরাগম (গ) অপিনিহিতি (ঘ) সমীভবন
উত্তর: (খ) আদি স্বরাগম
৩৮. ‘রত্ন → রতন’ কোন ধরনের পরিবর্তন?
(ক) আদি স্বরাগম (খ) মধ্য স্বরাগম (গ) অন্ত্য স্বরাগম (ঘ) স্বরলোপ
উত্তর: (খ) মধ্য স্বরাগম / স্বরভক্তি
৩৯. ‘আজি → আইজ’ কোন পরিবর্তন?
(ক) সমীভবন (খ) অপিনিহিতি (গ) বিপর্যাস (ঘ) দ্বিত্ব
উত্তর: (খ) অপিনিহিতি
৪০. ‘করিয়া → করে’ কোন পরিবর্তন?
(ক) অপিনিহিতি (খ) অভিশ্রুতি (গ) সমীভবন (ঘ) দ্বিত্ব
উত্তর: (খ) অভিশ্রুতি
৪১. ‘পিশাচ → পিচাশ’ কোন পরিবর্তন?
(ক) সমীভবন (খ) বিপর্যাস (গ) অপিনিহিতি (ঘ) স্বরলোপ
উত্তর: (খ) ধ্বনি-বিপর্যয়
৪২. ‘জন্ম → জম্ম’ কোন পরিবর্তন?
(ক) সমীভবন (খ) বিপর্যাস (গ) অপিনিহিতি (ঘ) দ্বিত্ব
উত্তর: (ক) সমীভবন
৪৩. ‘শরীর → শরীল’ কোন পরিবর্তন?
(ক) সমীভবন (খ) বিষমীভবন (গ) বিপর্যাস (ঘ) দ্বিত্ব
উত্তর: (খ) বিষমীভবন
৪৪. ‘পাকা → পাক্কা’ কোন পরিবর্তন?
(ক) সমীভবন (খ) দ্বিত্ব (গ) বিপর্যাস (ঘ) অপিনিহিতি
উত্তর: (খ) দ্বিত্ব ব্যঞ্জন
৪৫. ‘ফাল্গুন → ফাগুন’ কোন পরিবর্তন?
(ক) সমীভবন (খ) ব্যঞ্জনচ্যুতি / অন্তর্হতি (গ) দ্বিত্ব (ঘ) অপিনিহিতি
উত্তর: (খ) অন্তর্হতি
৪৬. ‘স্কন্ধ → কাঁধ’ কোন পরিবর্তন?
(ক) অপভ্রংশ (খ) সমীভবন (গ) দ্বিত্ব (ঘ) বিপর্যাস
উত্তর: (ক) অপভ্রংশ
৪৭. ‘মুলা → মুলো’ কোন পরিবর্তন?
(ক) প্রগত স্বরসঙ্গতি (খ) পরাগত (গ) মধ্যগত (ঘ) অপিনিহিতি
উত্তর: (ক) প্রগত স্বরসঙ্গতি
৪৮. ‘দেশি → দিশি’ কোন পরিবর্তন?
(ক) প্রগত (খ) পরাগত স্বরসঙ্গতি (গ) মধ্যগত (ঘ) দ্বিত্ব
উত্তর: (খ) পরাগত স্বরসঙ্গতি
৪৯. ‘বিলাতি → বিলিতি’ কোন পরিবর্তন?
(ক) প্রগত (খ) পরাগত (গ) মধ্যগত (ঘ) অন্ত্য
উত্তর: (গ) মধ্যগত
৫০. ‘কৃষ্ণ’ শব্দে ‘ণ’ ব্যবহারের কারণ?
(ক) র-এর পরে (খ) ঋ-এর পরে (গ) ষ-এর পরে (ঘ) সবগুলো
উত্তর: (গ) ষ-এর পরে → ণ
৫১. ণত্ব বিধান কোন ধরনের শব্দে প্রযোজ্য?
(ক) তদ্ভব (খ) তৎসম (গ) দেশি (ঘ) বিদেশি
উত্তর: (খ) তৎসম
৫২. ষত্ব বিধান কোন ধরনের শব্দে প্রযোজ্য?
(ক) তৎসম (খ) তদ্ভব (গ) বিদেশি (ঘ) দেশি
উত্তর: (ক) তৎসম
৫৩. ‘পুষ্প’-এ ‘ষ’ কেন?
(ক) ক-এর পরে (খ) উ-স্বরের পরে (গ) প-এর পরে (ঘ) ট-এর পূর্বে
উত্তর: (খ) উ-স্বরের পরে স → ষ
৫৪. ‘ভাষা’-এ ‘ষ’ কেন?
(ক) ব্যতিক্রম-নিত্য ‘ষ’ (খ) আ-স্বরের পরে (গ) নিয়ম প্রযোজ্য (ঘ) কোনটি নয়
উত্তর: (ক) নিত্য ‘ষ’
৫৫. ‘ব্রাহ্মণ’-এ ‘ণ’ কেন?
(ক) র-এর পরে (খ) ষ-এর পরে (গ) ব্যঞ্জনের প্রভাবে (ঘ) ঋ-এর পরে
উত্তর: (ক) র-এর পরে → ণ
৫৬. ‘রামায়ণ’-এ ‘ণ’ কেন?
(ক) র-এর পরে (খ) আ-এর পরে (গ) য-এর পরে (ঘ) ম-এর পরে
উত্তর: (ক) র-এর পরে
৫৭. ‘ঘৃণা’-এ ‘ণ’ কেন?
(ক) ঋ-এর পরে (খ) ঘ-এর পরে (গ) আ-এর পরে (ঘ) কোনটি নয়
উত্তর: (ক) ঋ-এর পরে
৫৮. ‘কষ্ট’-এ ‘ষ’ কেন?
(ক) ট-এর পূর্বে (খ) ক-এর পরে (গ) উ-স্বর (ঘ) ঋ
উত্তর: (ক) ট-এর পূর্বে
৫৯. ‘পরিষদ’-এ ‘ষ’ কেন?
(ক) পরি-উপসর্গের প্রভাবে (খ) র-এর পরে (গ) দ-এর পূর্বে (ঘ) ই-এর পরে
উত্তর: (ক) পরি-উপসর্গের প্রভাবে
৬০. ‘ক্ষ’ একটি —
(ক) মৌলিক বর্ণ (খ) যুক্তবর্ণ (গ) পরাশ্রয়ী (ঘ) উষ্মবর্ণ
উত্তর: (খ) যুক্তবর্ণ
৬১. ‘ঙ’ কোন বর্গের নাসিক্য বর্ণ?
(ক) ক-বর্গ (খ) চ-বর্গ (গ) ট-বর্গ (ঘ) ত-বর্গ
উত্তর: (ক) ক-বর্গ
৬২. ‘ঞ’ কোন বর্গের নাসিক্য বর্ণ?
(ক) চ-বর্গ (খ) ক-বর্গ (গ) প-বর্গ (ঘ) ত-বর্গ
উত্তর: (ক) চ-বর্গ
৬৩. ‘ণ’ কোন বর্গের নাসিক্য বর্ণ?
(ক) ট-বর্গ (খ) ত-বর্গ (গ) প-বর্গ (ঘ) ক-বর্গ
উত্তর: (ক) ট-বর্গ
৬৪. ‘ন’ কোন বর্গের নাসিক্য?
(ক) ত-বর্গ (খ) ট-বর্গ (গ) চ-বর্গ (ঘ) প-বর্গ
উত্তর: (ক) ত-বর্গ
৬৫. ‘ম’ কোন বর্গের নাসিক্য?
(ক) প-বর্গ (খ) ত-বর্গ (গ) চ-বর্গ (ঘ) ক-বর্গ
উত্তর: (ক) প-বর্গ
৬৬. নিচের কোনটি মৌলিক স্বরধ্বনি নয়?
(ক) অ (খ) অ্যা (গ) ঈ (ঘ) উ
উত্তর: (গ) ঈ
মৌলিক স্বরধ্বনি ৭টি — অ, আ, ই, উ, এ, ও, অ্যা। ‘ঈ’ কেবল ‘ই’-এর দীর্ঘ লিখিত রূপ; উচ্চারণে আলাদা ধ্বনি নয়, তাই মৌলিক তালিকায় নেই। ‘অ্যা’ উল্টো — বর্ণ নেই, কিন্তু মৌলিক ধ্বনি।
৬৭. আধুনিক বাংলায় ‘ঋ’ বর্ণের প্রকৃত উচ্চারণ কীরূপ?
(ক) র্ + ই (‘রি’-র মতো) (খ) বিশুদ্ধ স্বরধ্বনি (গ) উ-এর মতো (ঘ) আ-এর মতো
উত্তর: (ক) র্ + ই (‘রি’-র মতো)
‘ঋষি’ পড়ি ‘রিশি’, ‘কৃষক’ পড়ি ‘ক্রিশক’। উচ্চারণে ব্যঞ্জন (র্) জড়িয়ে থাকায় ঋ স্বরবর্ণের তালিকায় থাকলেও মৌলিক স্বরধ্বনির তালিকায় নেই।
৬৮. উচ্চারণে দ্বিগুণ সময়ের স্বরকে কী বলে?
(ক) হ্রস্ব (খ) দীর্ঘ (গ) প্লুত (ঘ) যৌগিক
উত্তর: (খ) দীর্ঘ
৬৯. দূর থেকে কাউকে ডাকার ‘ও-ও-ও’ — কী স্বর?
(ক) হ্রস্ব (খ) দীর্ঘ (গ) প্লুত (ঘ) যৌগিক
উত্তর: (গ) প্লুতস্বর
৭০. বৃত্তাকার স্বর কোনগুলি?
(ক) ই, ঈ (খ) উ, ঊ, ও, ঔ (গ) এ, ঐ (ঘ) অ, আ
উত্তর: (খ) উ, ঊ, ও, ঔ
৭১. প্রসারিত স্বর কোনগুলি?
(ক) ই, ঈ, এ, ঐ (খ) উ, ঊ (গ) অ, আ (ঘ) ও, ঔ
উত্তর: (ক)
৭২. উচ্চারণ অনুসারে ‘শ’ কোন ধরনের ব্যঞ্জনধ্বনি?
(ক) স্পর্শ (খ) উষ্ম (গ) নাসিক্য (ঘ) তাড়নজাত
উত্তর: (খ) উষ্ম
৭৩. ‘হ’ ধ্বনির উচ্চারণ-স্থান?
(ক) কণ্ঠ (খ) তালু (গ) দন্ত (ঘ) মূর্ধা
উত্তর: (ক) কণ্ঠ
৭৪. ‘চাঁদ’ শব্দে ‘ঁ’-এর নাম?
(ক) বিসর্গ (খ) চন্দ্রবিন্দু (গ) অনুস্বার (ঘ) হস
উত্তর: (খ) চন্দ্রবিন্দু
৭৫. ‘দুঃখ’-এ ‘ঃ’-কে কী বলে?
(ক) অনুস্বার (খ) বিসর্গ (গ) হস (ঘ) কোলন
উত্তর: (খ) বিসর্গ
৭৬. ‘হঠাৎ’-এর ‘ৎ’ কী?
(ক) অনুস্বার (খ) খণ্ড-ত (গ) ফলা (ঘ) হস
উত্তর: (খ) খণ্ড-ত
৭৭. মাত্রাহীন বর্ণ কয়টি?
(ক) ৮ (খ) ৯ (গ) ১০ (ঘ) ১২
উত্তর: (গ) ১০টি
৭৮. অর্ধমাত্রার বর্ণ কয়টি?
(ক) ৬ (খ) ৭ (গ) ৮ (ঘ) ৯
উত্তর: (গ) ৮টি
৭৯. পূর্ণমাত্রার বর্ণ কয়টি?
(ক) ৩০ (খ) ৩২ (গ) ৩৪ (ঘ) ৩৬
উত্তর: (খ) ৩২টি
৮০. ব্যঞ্জনবর্ণ উচ্চারণের সময় তার সঙ্গে যে ‘অ’ ধ্বনি মিশে থাকে (যেমন ‘ফল’-এর ফ্+অ), তাকে কী বলে?
(ক) কার (খ) ফলা (গ) নিহিত বা অন্তর্নিহিত ‘অ’ (ঘ) মাত্রা
উত্তর: (গ) নিহিত বা অন্তর্নিহিত ‘অ’
প্রতিটি ব্যঞ্জনবর্ণের নিজস্ব উচ্চারণে ‘অ’ লুকিয়ে থাকে; আলাদা কার-চিহ্ন লাগে না। এ কারণেই ‘অ’-এর কোনো কার-চিহ্ন নেই।
৮১. অভিশ্রুতির ফলে ‘আজি’ শব্দের পরিবর্তিত রূপ কোনটি?
(ক) আজ (খ) আইজ (গ) আজকে (ঘ) আজু
উত্তর: (ক) আজ
আজি → (অপিনিহিতি) আইজ → (অভিশ্রুতি) আজ। ‘আইজ’ মাঝের ধাপ — অপিনিহিতির উদাহরণ।
৮২. ‘অ’ ও ‘আ’ ছাড়া অন্য স্বরের পরে ‘স’ কী হয়?
(ক) ণ (খ) ষ (গ) শ (ঘ) ছ
উত্তর: (খ) ষ
৮৩. কোন বর্ণটি অন্তঃস্থ নয়?
(ক) য (খ) র (গ) ল (ঘ) হ
উত্তর: (ঘ) হ — উষ্ম বর্ণ
৮৪. ‘ণ’ ও ‘ন’ পার্থক্যের নিয়মকে বলে —
(ক) ষত্ব বিধান (খ) ণত্ব বিধান (গ) উচ্চারণ-বিধি (ঘ) ধ্বনি-পরিবর্তন
উত্তর: (খ) ণত্ব বিধান
৮৫. ‘ষ’ ও ‘স/শ’ পার্থক্যের নিয়মকে বলে —
(ক) ণত্ব বিধান (খ) ষত্ব বিধান (গ) সন্ধি (ঘ) সমাস
উত্তর: (খ) ষত্ব বিধান
৮৬. শুদ্ধ বানান কোনটি?
(ক) পরিনাম (খ) পরিণাম (গ) পরীনাম (ঘ) পরীণাম
উত্তর: (খ) পরিণাম
‘পরি’ উপসর্গের পরে (প্র-পরা-পরি-নির্ সূত্র) ‘ন’ মূর্ধন্য ‘ণ’ হয়; ই-কারই সঠিক, ঈ-কার নয়।
৮৭. ‘প্রনাম’ — শুদ্ধ বানান?
(ক) প্রনাম (খ) প্রণাম (গ) প্রনামঃ (ঘ) প্রণামি
উত্তর: (খ) প্রণাম — প্র-উপসর্গের পরে ‘ণ’
৮৮. ‘স্বাস্থ’ — শুদ্ধ?
(ক) স্বাস্থ (খ) স্বাস্থ্য (গ) সাস্থ (ঘ) সাস্থ্য
উত্তর: (খ) স্বাস্থ্য
৮৯. বাংলা ভাষায় ‘ব’ কয়টি?
(ক) ১টি (খ) ২টি (গ) ৩টি (ঘ) ৪টি
উত্তর: (খ) ২টি — বর্গীয় ব ও অন্তঃস্থ ব
৯০. বাংলায় ‘য’ কয়টি?
(ক) ১টি (খ) ২টি (গ) ৩টি (ঘ) ৪টি
উত্তর: (খ) ২টি — য ও য়
৯১. ‘য়’-কে কী বলে?
(ক) অন্তঃস্থ য (খ) অন্তঃস্থ-অ (গ) ফলা (ঘ) ঋকার
উত্তর: (খ) অন্তঃস্থ-অ
৯২. ‘ড়, ঢ়’-কে কী বলে?
(ক) মূর্ধন্য (খ) তাড়নজাত (গ) দন্ত্য (ঘ) অন্তঃস্থ
উত্তর: (খ) তাড়নজাত মূর্ধন্য
৯৩. ‘অ্যা’ ধ্বনিটি লেখায় সাধারণত কীভাবে প্রকাশ করা হয়?
(ক) আলাদা একটি বর্ণ দিয়ে (খ) অ + য-ফলা + আ-কার দিয়ে (গ) এ-কার দিয়ে (ঘ) অ + আ পাশাপাশি লিখে
উত্তর: (খ) অ + য-ফলা + আ-কার দিয়ে
যেমন ‘ব্যাংক’, ‘অ্যাকাউন্ট’। ‘অ্যা’ মৌলিক ধ্বনি হলেও তার নিজস্ব বর্ণ নেই — তাই এই সংযুক্ত কৌশল। কখনো এ-কার দিয়েও এ ধ্বনি আসে (‘দেখা’, ‘একা’), তবে সেটি বানান নয়, উচ্চারণের ব্যাপার।
৯৪. ‘ঈ’ ও ‘ঊ’ মৌলিক স্বরধ্বনির তালিকায় নেই কেন?
(ক) এগুলো ব্যঞ্জনধ্বনি বলে (খ) আধুনিক উচ্চারণে ই/উ থেকে এদের পার্থক্য নেই বলে (গ) এগুলো যৌগিক স্বর বলে (ঘ) এগুলো বিদেশি ধ্বনি বলে
উত্তর: (খ) আধুনিক উচ্চারণে ই/উ থেকে এদের পার্থক্য নেই বলে
লেখায় হ্রস্ব-দীর্ঘ ভেদ থাকলেও মুখের ভাষায় ‘দিন’ আর ‘দীন’-এর স্বর একই। তাই বর্ণ ১১টি হলেও মৌলিক স্বরধ্বনি ৭টি।
৯৫. ‘বর্ণ’ কথাটি যে অর্থে ব্যবহৃত —
(ক) ধ্বনির লিখিত প্রতীক (খ) ধ্বনি (গ) শব্দ (ঘ) বাক্য
উত্তর: (ক)
৯৬. উচ্চারণে স্বরতন্ত্রী কম্পিত হলে কী হয়?
(ক) অঘোষ (খ) ঘোষ (গ) অল্পপ্রাণ (ঘ) মহাপ্রাণ
উত্তর: (খ) ঘোষ
৯৭. বেশি শ্বাস বের হলে কী?
(ক) অল্পপ্রাণ (খ) মহাপ্রাণ (গ) ঘোষ (ঘ) অঘোষ
উত্তর: (খ) মহাপ্রাণ
৯৮. ‘বিড়াল’ → ‘বেড়াল’ কোন ধরনের পরিবর্তন?
(ক) স্বরসঙ্গতি (খ) সমীভবন (গ) অপিনিহিতি (ঘ) ব্যঞ্জনচ্যুতি
উত্তর: (ক) স্বরসঙ্গতি
৯৯. ‘লাফ → ফাল’ কোন পরিবর্তন?
(ক) সমীভবন (খ) বিপর্যাস (গ) দ্বিত্ব (ঘ) ব্যঞ্জনচ্যুতি
উত্তর: (খ) ধ্বনি-বিপর্যয়
১০০. ‘কাঁদনা → কান্না’ কোন পরিবর্তন?
(ক) সমীভবন (খ) বিপর্যাস (গ) দ্বিত্ব (ঘ) অপিনিহিতি
উত্তর: (ক) সমীভবন
১০১. বাংলা বর্ণমালা — কোন লিপি থেকে উদ্ভূত?
(ক) দেবনাগরী (খ) ব্রাহ্মী (গ) সিদ্ধমাত্রিকা (ঘ) আরবি
উত্তর: (খ) ব্রাহ্মী → সিদ্ধমাত্রিকা → বাংলা
১০২. ‘সর্বজনীন’ শব্দে র-এর পরে থাকা সত্ত্বেও ‘ন’ হয়েছে কেন?
(ক) এটি নিত্য ‘ন’-এর শব্দ (খ) সমাসবদ্ধ শব্দে ণত্ব বিধান খাটে না (গ) এটি বিদেশি শব্দ (ঘ) ত-বর্গ পরে আছে বলে
উত্তর: (খ) সমাসবদ্ধ শব্দে ণত্ব বিধান খাটে না
‘জন’ পদটি সমাসবদ্ধ গঠনে নিজের রূপ ধরে রাখে; র-এর প্রভাব পদের সীমানা পেরোয় না। একই কারণে ত্রিনয়ন, দুর্নীতি, দুর্নাম — সবগুলোতে ‘ন’।
১০৩. ব্যঞ্জনবর্ণের সাথে স্বরবর্ণ যুক্ত হলে কী রূপ ধারণ করে?
(ক) ফলা (খ) কার (গ) যুক্তবর্ণ (ঘ) মাত্রা
উত্তর: (খ) কার (যেমন: ক+ি = কি)
১০৪. ব্যঞ্জনবর্ণের সাথে ব্যঞ্জনবর্ণ যুক্ত হলে কী হয়?
(ক) কার (খ) ফলা/যুক্তবর্ণ (গ) মাত্রা (ঘ) সন্ধি
উত্তর: (খ) ফলা ও যুক্তবর্ণ (যেমন: ক+ব = ক্ব)
১০৫. ‘য-ফলা’ কোন বর্ণের সাথে ব্যবহৃত হয়?
(ক) ব্যঞ্জনবর্ণের সাথে (খ) স্বরের সাথে (গ) উভয় (ঘ) কোনটি নয়
উত্তর: (ক) ব্যঞ্জনবর্ণের সাথে — বিদ্যা, সত্য