← বাংলা টপিকসমূহ | সকল বিষয়ের প্রস্তুতি

ধ্বনি ও বর্ণ

প্রাথমিক শিক্ষক নিয়োগ ও বিসিএস প্রিলিতে বাংলা ব্যাকরণ অংশে সবচেয়ে নিশ্চিতভাবে যে অধ্যায় থেকে প্রশ্ন আসে, তা হলো ধ্বনি ও বর্ণ — "বাংলা বর্ণমালায় বর্ণ কয়টি", "মৌলিক স্বরধ্বনি কয়টি", "'জন্ম → জম্ম' কোন ধ্বনি-পরিবর্তন", "'কৃষ্ণ'-এ ণ কেন" — এই ধাঁচের প্রশ্ন প্রায় প্রতি বছরই থাকে। এই অধ্যায়টি এমনভাবে সাজানো হয়েছে যেন আপনি শূন্য থেকে শুরু করেও শেষ পর্যন্ত পড়লে শুধু সংখ্যা মুখস্থ নয়, প্রতিটি শ্রেণিবিভাগের যুক্তিটাও বুঝে ফেলেন — কারণ যুক্তি বুঝলে ৫০টি আলাদা তথ্যের বদলে মনে রাখতে হয় মাত্র কয়েকটি নীতি।

মানুষের বাগ্‌যন্ত্র (ফুসফুস, স্বরতন্ত্রী, জিভ, তালু, দাঁত, ঠোঁট — উচ্চারণে ব্যবহৃত অঙ্গগুলোর সম্মিলিত নাম) থেকে নিঃসৃত অর্থবোধক বা অর্থ-প্রতীকী শব্দাংশকেই ধ্বনি বলা হয়। ধ্বনি ভাষার মৌলিক বা ক্ষুদ্রতম একক। ধ্বনির লিখিত রূপ বা প্রতীকই বর্ণ। অর্থাৎ ধ্বনি শ্রুতিগ্রাহ্য (কানে শোনা যায়), বর্ণ দৃশ্যগ্রাহ্য (চোখে দেখা যায়)। ধ্বনির লিখিত প্রতীক বর্ণমালার মাধ্যমে আমরা ক্ষণস্থায়ী উচ্চারণকে স্থায়ী রূপে ধরে রাখি।

ধ্বনি ≠ বর্ণ — সংখ্যা আলাদা কেন? ধ্বনি হলো উচ্চারণের একক, বর্ণ লেখার একক — আর বাংলা লিপি উচ্চারণের হুবহু প্রতিলিপি নয়। যেমন ‘ই’ ও ‘ঈ’ লেখায় দুটি আলাদা বর্ণ, কিন্তু আধুনিক বাংলা উচ্চারণে দুটোর ধ্বনি কার্যত একই; আবার ‘অ্যা’ ধ্বনিটি (যেমন ‘ব্যাংক’, ‘দেখা’-র এ্যা-উচ্চারণ) নিয়মিত উচ্চারিত হলেও তার জন্য আলাদা কোনো বর্ণই নেই। এ কারণেই বর্ণ ৫০টি হলেও মৌলিক ধ্বনি ৩৭টি (৭ স্বর + ৩০ ব্যঞ্জন) — বর্ণ বেশি, ধ্বনি কম।

বাংলা ভাষায় মোট ৫০টি বর্ণ আছে — ১১টি স্বরবর্ণ ও ৩৯টি ব্যঞ্জনবর্ণ। তবে স্বরধ্বনির সংখ্যা ৭টি এবং ব্যঞ্জনধ্বনির সংখ্যা ৩০টি। অর্থাৎ ধ্বনি ও বর্ণের সংখ্যায় পার্থক্য রয়েছে।

ধ্বনি ও বর্ণের পার্থক্য

বিষয়ধ্বনিবর্ণ
প্রকৃতিশ্রুতিগ্রাহ্য, উচ্চারিতদৃশ্যগ্রাহ্য, লিখিত
এককভাষার ক্ষুদ্রতম এককধ্বনির লিখিত প্রতীক
ইন্দ্রিয়কর্ণ (কান)চক্ষু (চোখ)
বাংলায় সংখ্যা৩৭ (৭ স্বর + ৩০ ব্যঞ্জন)৫০ (১১ স্বর + ৩৯ ব্যঞ্জন)
পড়ার কৌশল: এই অধ্যায়ের প্রশ্ন মূলত তিন ধাঁচের — (১) সংখ্যা/সংজ্ঞা (বর্ণ কয়টি, উষ্মবর্ণ কোনগুলো), (২) শ্রেণিবিন্যাস (কোন ধ্বনি ঘোষ/অঘোষ, উচ্চারণ-স্থান কোথায়), (৩) প্রয়োগ (‘রত্ন → রতন’ কোন পরিবর্তন, ‘কৃষ্ণ’-এ ণ কেন)। প্রথমে শ্রেণিবিভাগের ছকগুলো নিজে হাতে খাতায় আঁকুন — একবার নিজে আঁকলে তা মুখস্থের চেয়ে অনেক বেশি দিন মনে থাকে। তারপর ধ্বনি পরিবর্তন ও ণত্ব-ষত্বের প্রতিটি উদাহরণ উচ্চারণ করে পড়ুন — জিভ নিজেই আপনাকে নিয়মটা বুঝিয়ে দেবে। শেষে নিচের MCQ ব্যাংক টাইমার ধরে সমাধান করুন।

ধ্বনি ও তার শ্রেণিবিভাগ

উচ্চারণের সময় ফুসফুস থেকে নিঃসৃত বাতাস কণ্ঠনালী, মুখবিবর, নাসিকা ইত্যাদির বাধা পেয়ে বা না পেয়ে যে ধ্বনি উৎপন্ন হয়, তা-ই বাগধ্বনি (Speech sound)। বাগধ্বনি প্রধানত দুই প্রকার:

  1. স্বরধ্বনি (Vowel Sound): যে ধ্বনি উচ্চারণে বাতাস বাধাহীনভাবে মুখ থেকে বের হয়।
  2. ব্যঞ্জনধ্বনি (Consonant Sound): যে ধ্বনি উচ্চারণে বাতাস কোনো বাধা পায়।

মৌলিক ধ্বনি (Phoneme)

যে ধ্বনি ভাঙা যায় না, তাকে মৌলিক ধ্বনি বা স্বনিম বলে। বাংলায় মৌলিক স্বরধ্বনি ৭টি — অ, আ, ই, উ, এ, ও, অ্যা।

যৌগিক ধ্বনি

দুটি স্বরধ্বনি দ্রুত উচ্চারিত হয়ে একসঙ্গে মিলিত হলে তাকে যৌগিক স্বরধ্বনি বা দ্বিস্বর/সন্ধিস্বর (Diphthong) বলে। বাংলায় যৌগিক স্বরধ্বনি ২৫টি। বর্ণরূপে লেখা হয় ২টি — ঐ (অ+ই) ও ঔ (অ+উ)।

নিজে যাচাই করুন: ‘ঐ’ আসলেই অ+ই কি না?
ধাপ ১: ‘কৈ’ (মাছ) শব্দটি খুব ধীরে উচ্চারণ করুন — ক্‌... অ... ই।
ধাপ ২: লক্ষ করুন, জিভ প্রথমে ‘অ’-এর অবস্থান থেকে গড়িয়ে ‘ই’-এর অবস্থানে যাচ্ছে — এক ধ্বনির ভেতরেই দুটি স্বরের যাত্রা।
সিদ্ধান্ত: তাই ঐ = অ + ই একটি যৌগিক স্বর; একইভাবে ‘বৌ’ ধীরে বললে ব্‌ + অ + উ শোনা যায়, তাই ঔ = অ + উ।
সতর্কতা: "বাংলায় যৌগিক স্বরধ্বনি কয়টি?" — উত্তর ২৫টি; কিন্তু "যৌগিক স্বরধ্বনির বর্ণ/জ্ঞাপক চিহ্ন কয়টি?" — উত্তর ২টি (ঐ, ঔ)। প্রশ্নে ‘ধ্বনি’ চাওয়া হয়েছে না ‘বর্ণ’ — এই একটি শব্দই উত্তর পাল্টে দেয়।

স্বরধ্বনি ও স্বরবর্ণ

যেসব ধ্বনি অন্য ধ্বনির সাহায্য ছাড়াই উচ্চারণ করা যায়, তাকে স্বরধ্বনি বলে। স্বরধ্বনির লিখিত রূপ স্বরবর্ণ। বাংলায় স্বরবর্ণ ১১টি — অ, আ, ই, ঈ, উ, ঊ, ঋ, এ, ঐ, ও, ঔ।

স্বরধ্বনির শ্রেণিবিভাগ — উচ্চারণকাল অনুযায়ী

প্রকারউদাহরণবৈশিষ্ট্য
হ্রস্বস্বরঅ, ই, উ, ঋউচ্চারণে কম সময় লাগে; ১ মাত্রা
দীর্ঘস্বরআ, ঈ, ঊ, এ, ঐ, ও, ঔউচ্চারণে দ্বিগুণ সময়; ২ মাত্রা
প্লুতস্বরদূরবর্তী কাউকে ডাকার ‘ও-ও-ও’দীর্ঘস্বরের চেয়েও বেশি সময়; ৩+ মাত্রা

জিহ্বার অবস্থান অনুযায়ী

উচ্চতাসম্মুখমধ্যপশ্চাৎ
উচ্চই, ঈ—উ, ঊ
উচ্চ-মধ্যএ—ও
নিম্ন-মধ্যঅ্যা—অ
নিম্ন—আ—

ঠোঁটের অবস্থান অনুযায়ী

  • বৃত্তাকার (Rounded): উ, ঊ, ও, ঔ — ঠোঁট গোলাকার
  • প্রসারিত (Unrounded): ই, ঈ, এ, ঐ, অ্যা — ঠোঁট চ্যাপ্টা
  • স্বাভাবিক (Neutral): অ, আ — ঠোঁট স্বাভাবিক

স্বরবর্ণের কার-চিহ্ন

স্বরবর্ণকার-চিহ্নউদাহরণ
অ(কার-চিহ্ন নেই)কম, ফল
আাকাজ, রাজা
ইিকিল, দিন
ঈীনদী, পরী
উুফুল, গুরু
ঊূমূল, পূর্ণ
ঋৃমৃত, কৃষক
এেমেঘ, দেশ
ঐৈবৈশাখ, কৈশোর
ওোমোট, রোগী
ঔৌমৌচাক, নৌকা

ব্যঞ্জনধ্বনি ও ব্যঞ্জনবর্ণ

যেসব ধ্বনি স্বরধ্বনির সাহায্য ছাড়া উচ্চারণ করা যায় না, তাকে ব্যঞ্জনধ্বনি বলে। বাংলায় ব্যঞ্জনবর্ণ ৩৯টি — ক থেকে হ পর্যন্ত ৩৫টি বর্গীয় ও অবর্গীয় ব্যঞ্জনবর্ণ এবং ৪টি পরাশ্রয়ী/বিশেষ বর্ণ (ৎ, ং, ঃ, ঁ)।

২৫টি বর্গীয় বর্ণের ছকটা মুখস্থ নয় — বোঝার জিনিস: ছকটির পেছনে দুটি প্রশ্ন কাজ করে। প্রশ্ন ১: বাধাটা কোথায়? — গলার গভীরে (কণ্ঠ) হলে ক-বর্গ, তালুতে চ-বর্গ, তালুর ছাদে জিভ উল্টে (মূর্ধা) ট-বর্গ, দাঁতে ত-বর্গ, ঠোঁটে প-বর্গ। অর্থাৎ পাঁচটি বর্গ আসলে গলা থেকে ঠোঁট পর্যন্ত বাধার পাঁচটি স্টেশন। প্রশ্ন ২: বাধা কীভাবে ছাড়ছে? — স্বরতন্ত্রী না কেঁপে অল্প শ্বাসে (অঘোষ অল্পপ্রাণ: ক), না কেঁপে বেশি শ্বাসে (অঘোষ মহাপ্রাণ: খ), কেঁপে অল্প শ্বাসে (ঘোষ অল্পপ্রাণ: গ), কেঁপে বেশি শ্বাসে (ঘোষ মহাপ্রাণ: ঘ), আর বাতাস নাক দিয়ে বের হলে নাসিক্য (ঙ)। ৫ স্টেশন × ৫ ধরন = ২৫। এই দুটি প্রশ্ন মনে রাখলে যেকোনো বর্গীয় বর্ণের পূর্ণ পরিচয় (যেমন ‘ধ’ = দন্ত্য, ঘোষ, মহাপ্রাণ) নিজেই বের করতে পারবেন — মুখস্থ লাগবে না।
হাতে-কলমে পরীক্ষা: গলায় আঙুল রেখে ‘ক্‌... ক্‌...’ আর ‘গ্‌... গ্‌...’ বলুন — ‘গ’-এ কম্পন টের পাবেন (ঘোষ), ‘ক’-এ পাবেন না (অঘোষ)। আবার হাতের তালু মুখের সামনে রেখে ‘ক’ ও ‘খ’ বলুন — ‘খ’-এ বেশি বাতাস লাগবে (মহাপ্রাণ)। পরীক্ষার হলে সন্দেহ হলে এই পরীক্ষাটাই মনে মনে করুন।

স্পর্শ ব্যঞ্জনবর্ণ (বর্গীয় বর্ণ — ২৫টি)

বর্গঅঘোষ অল্পপ্রাণঅঘোষ মহাপ্রাণঘোষ অল্পপ্রাণঘোষ মহাপ্রাণনাসিক্য
ক-বর্গ (কণ্ঠ্য)কখগঘঙ
চ-বর্গ (তালব্য)চছজঝঞ
ট-বর্গ (মূর্ধন্য)টঠডঢণ
ত-বর্গ (দন্ত্য)তথদধন
প-বর্গ (ওষ্ঠ্য)পফবভম

অন্তঃস্থ ব্যঞ্জনবর্ণ (৪টি)

য, র, ল, ব — এগুলোকে অন্তঃস্থ বলা হয় কারণ এদের উচ্চারণ স্বরধ্বনি ও ব্যঞ্জনধ্বনির মধ্যবর্তী।

উষ্মবর্ণ (ঊষ্ম/শিস্‌ ধ্বনি — ৪টি)

শ, ষ, স, হ — উচ্চারণের সময় শ্বাস ‘উষ্ম’ বা ‘শিস্‌’ ধ্বনি তৈরি করে।

পরাশ্রয়ী বর্ণ (৪টি)

  • ৎ (খণ্ড-ত): উচ্চারণে ‘ত’-এর হ্রস্ব রূপ — উদাহরণ: হঠাৎ, ভবিষ্যৎ, সৎ
  • ং (অনুস্বার): ‘ঙ’-এর সংক্ষিপ্ত রূপ — উদাহরণ: রং, বাংলা, সংগীত
  • ঃ (বিসর্গ): ‘হ’-এর সংক্ষিপ্ত উচ্চারণ — উদাহরণ: দুঃখ, নিঃশ্বাস
  • ঁ (চন্দ্রবিন্দু): অনুনাসিকতা সূচক — উদাহরণ: চাঁদ, পাঁচ

যুক্তবর্ণ (Conjunct)

দুই বা ততোধিক ব্যঞ্জনবর্ণ মিলিত হয়ে গঠিত বর্ণকে যুক্তবর্ণ বলে। বাংলায় ২৮৫+ যুক্তবর্ণ আছে। যেমন — ক্ষ (ক+ষ), জ্ঞ (জ+ঞ), হ্ম (হ+ম), ঞ্চ (ঞ+চ), ক্ষ্ম (ক+ষ+ম)।

উচ্চারণ স্থান ও উচ্চারণ রীতি

উচ্চারণ স্থান অনুযায়ী ব্যঞ্জনধ্বনি

স্থাননামধ্বনি
কণ্ঠকণ্ঠ্য / জিহ্বামূলীয়ক, খ, গ, ঘ, ঙ; হ
তালুতালব্যচ, ছ, জ, ঝ, ঞ; য, শ
মূর্ধামূর্ধন্যট, ঠ, ড, ঢ, ণ; র, ষ
দন্তদন্ত্যত, থ, দ, ধ, ন; ল, স
ওষ্ঠওষ্ঠ্যপ, ফ, ব, ভ, ম
দন্ত-ওষ্ঠদন্ত্যৌষ্ঠ্যব (অন্তঃস্থ)
নাসিকানাসিক্যঙ, ঞ, ণ, ন, ম; চন্দ্রবিন্দু

উচ্চারণ রীতি অনুযায়ী

রীতিবৈশিষ্ট্যউদাহরণ
স্পর্শসম্পূর্ণ বাধা পেয়ে উচ্চারিতক, চ, ট, ত, প
উষ্মঘর্ষণ-জনিত শ্বাসশ, ষ, স, হ
নাসিক্যনাসিকা দিয়ে বের হয়ঙ, ঞ, ণ, ন, ম
তাড়নজাতজিহ্বার দ্রুত স্পর্শড়, ঢ়
কম্পনজাতজিহ্বার কম্পনর
পার্শ্বিকবাতাস পাশ দিয়ে যায়ল

ঘোষ-অঘোষ ও অল্পপ্রাণ-মহাপ্রাণ

  • অঘোষ: উচ্চারণে স্বরতন্ত্রী কম্পিত হয় না — ক, খ, চ, ছ, ট, ঠ, ত, থ, প, ফ, শ, ষ, স
  • ঘোষ: উচ্চারণে স্বরতন্ত্রী কম্পিত হয় — গ, ঘ, ঙ, জ, ঝ, ঞ, ড, ঢ, ণ, দ, ধ, ন, ব, ভ, ম, য, র, ল, হ
  • অল্পপ্রাণ: উচ্চারণে কম শ্বাস — ক, গ, ঙ, চ, জ, ঞ, ট, ড, ণ, ত, দ, ন, প, ব, ম
  • মহাপ্রাণ: উচ্চারণে বেশি শ্বাস — খ, ঘ, ছ, ঝ, ঠ, ঢ, থ, ধ, ফ, ভ

ধ্বনি পরিবর্তন

উচ্চারণের সময় শব্দের মূল ধ্বনির বিভিন্ন পরিবর্তন ঘটে — যাকে ধ্বনি পরিবর্তন বলা হয়। প্রধান প্রকারগুলি নিচে আলোচনা করা হলো।

প্রকারসংজ্ঞাউদাহরণ
আদি স্বরাগমশব্দের শুরুতে স্বরধ্বনির আগমনস্কুল → ইস্কুল, স্টেশন → ইস্টিশান
মধ্য স্বরাগম / স্বরভক্তিশব্দের মধ্যে স্বর যোগরত্ন → রতন, ভক্তি → ভকতি, প্রীতি → পিরীতি
অন্ত্য স্বরাগমশব্দের শেষে স্বর যোগদিশ্‌ → দিশা, বেঞ্চ → বেঞ্চি, সত্য → সত্যি
আদি স্বরলোপশব্দের শুরুর স্বর লোপঅলাবু → লাউ, উদ্ধার → উধার
মধ্য স্বরলোপ / সমাক্ষরলোপমধ্যবর্তী স্বর লোপঅগুরু → অগ্‌রু, বসতি → বস্‌তি
অন্ত্য স্বরলোপশেষের স্বর লোপআশা → আশ, সন্ধ্যা → সঞঝা
অপিনিহিতিপরের ‘ই’/‘উ’ আগেই উচ্চারণআজি → আইজ, রাখিয়া → রাইখ্যা
অভিশ্রুতিঅপিনিহিতিজাত ই/উ পরের স্বরে রূপ নেয়করিয়া → কইর্যা → করে, কালি → কাইল → কাল
বিপর্যাস / ধ্বনি-বিপর্যয়ধ্বনির পরস্পর স্থান পরিবর্তনপিশাচ → পিচাশ, লাফ → ফাল, রিকশা → রিশকা
সমীভবন / সমীকরণসমাসন্ন ধ্বনির পরস্পর প্রভাবজন্ম → জম্ম, ধর্ম → ধম্ম, কাঁদনা → কান্না
বিষমীভবনদুই সমধ্বনির একটি পরিবর্তিত হয়শরীর → শরীল, লাল → নাল
দ্বিত্ব ব্যঞ্জনএকই ব্যঞ্জনের দ্বিত্বরূপপাকা → পাক্কা, সকাল → সক্কাল
ব্যঞ্জনচ্যুতিদুই ব্যঞ্জনের একটি লোপবউদিদি → বউদি
অন্তর্হতিমাঝের ব্যঞ্জন লোপফাল্গুন → ফাগুন, ফলাহার → ফলার
অপভ্রংশমূল ধ্বনির বিকৃত উচ্চারণস্কন্ধ → কাঁধ
অসমীকরণএকই স্বর পাশে এলে একটিকে পরিবর্তনধাঁধাঁ → ধাঁধা, টাটাঁ → টাঁটা

স্বরসঙ্গতি (Vowel Harmony)

একই শব্দের মধ্যে দুটি স্বর পরস্পরের প্রভাবে যখন সমান বা সাদৃশ্যপূর্ণ হয়, তখন তাকে স্বরসঙ্গতি বলে।

  • প্রগত: পূর্ববর্তী স্বরের প্রভাবে পরের স্বর পরিবর্তন — মুলা → মুলো, শিকা → শিকে
  • পরাগত: পরবর্তী স্বরের প্রভাবে আগের স্বর পরিবর্তন — দেশি → দিশি, আখো → আখুয়া
  • মধ্যগত: মাঝের স্বরের প্রভাব — বিলাতি → বিলিতি
  • অন্যোন্য: পরস্পরের প্রভাব — মোজা → মুজো
প্রয়োগ শিখুন: ‘করিয়া → করে’ — অভিশ্রুতি কীভাবে ঘটল, ধাপে ধাপে
ধাপ ১ (মূল শব্দ): করিয়া — এখানে ‘ই’ ধ্বনিটি ‘র’-এর পরে আছে।
ধাপ ২ (অপিনিহিতি): ‘ই’ আগেই উচ্চারিত হয়ে গেল — করিয়া → কইরিয়া/কইর্‌যা। পূর্ব বাংলার মুখের ভাষায় এ রূপটিই শোনা যায় (যেমন ‘কইরা’)।
ধাপ ৩ (অভিশ্রুতি): আগে-সরে-আসা ‘ই’ পাশের স্বরের সঙ্গে মিশে তাকে বদলে দিল — কইর্‌যা → করে। এটিই চলিত ভাষার রূপ।
সিদ্ধান্ত: অপিনিহিতি হলো মাঝপথ, অভিশ্রুতি তার পরিণতি। তাই ‘আইজ’ = অপিনিহিতি, কিন্তু ‘আজ’ (আজি থেকে) = অভিশ্রুতি।
গুলিয়ে-যাওয়া জোড়াগুলো মনে রাখার সূত্র: সমীভবন = দুই ধ্বনি কাছাকাছি এসে সমান হয় (জন্ম → জম্ম); বিষমীভবন = দুই সমান ধ্বনির একটি বিষম (আলাদা) হয়ে যায় (লাল → নাল); বিপর্যাস = ধ্বনি দুটি জায়গা বদল করে (পিশাচ → পিচাশ); স্বরভক্তি = যুক্ত ব্যঞ্জন ভেঙে মাঝে স্বর ঢোকে (রত্ন → রতন) — বিদেশি/কঠিন উচ্চারণ সহজ করার প্রবণতা থেকেই সবগুলোর জন্ম।

ণত্ব ও ষত্ব বিধান

তৎসম শব্দে কোথায় ‘ন’ আর কোথায় ‘ণ’, কোথায় ‘স’/‘শ’ আর কোথায় ‘ষ’ ব্যবহার হবে — তার নিয়মাবলিকে ণত্ব ও ষত্ব বিধান বলে। বাংলায় এ বিধান কেবল তৎসম শব্দে প্রযোজ্য — তদ্ভব/দেশি/বিদেশি শব্দে নয়।

ণত্ব বিধানের নিয়ম

  1. ঋ, র, ষ-এর পরে মূর্ধন্য ‘ণ’ হয় — কৃষ্ণ, ব্রাহ্মণ, ঘৃণা, রামায়ণ, বর্ণ, ভাষণ।
  2. ঋ, র, ষ-এর পরে স্বরধ্বনি, ক-বর্গ, প-বর্গ, য়, ব, হ এবং অনুস্বার থাকলেও পরবর্তী ‘ন’ মূর্ধন্য ‘ণ’ হয় — কর্ণ, পর্ণ, ভ্রমণ, প্রমাণ।
  3. ট-বর্গের পূর্বে ‘ন’-এর জায়গায় ‘ণ’ হয় — লুণ্ঠন, কণ্টক, ঘণ্টা।
  4. প্র, পরা, পরি, নির্ — এই চারটি উপসর্গের পরে (ধাতুর) ‘ন’ মূর্ধন্য ‘ণ’ হয় — প্রণাম, পরায়ণ, পরিণাম, নির্ণয়, প্রণালী। (লক্ষ করুন, চারটিতেই র/ঋ-ধ্বনি আছে — আসলে এটি নিয়ম ১-এরই সম্প্রসারণ।)
  5. কতকগুলি শব্দে নিত্য ‘ণ’ হয় (কোনো নিয়ম ছাড়াই) — চাণক্য, মাণিক্য, গণ, বাণিজ্য, লবণ, বণিক, বাণী, বীণা, কল্যাণ, লাবণ্য, বেণু, মণি, কণিকা, গুণ, পুণ্য, বিপণি, নিপুণ।

ণত্ব বিধানের ব্যতিক্রম

ত-বর্গের (ত, থ, দ, ধ, ন) সঙ্গে যুক্ত হলে ‘ণ’ হয় না, ‘ন’-ই থাকে — অন্ত, গ্রন্থ, ক্রন্দন (র-এর পরে হলেও!)। সমাসবদ্ধ শব্দে পদ দুটি আলাদা থাকায় ণত্ব খাটে না — ত্রিনয়ন, সর্বজনীন, দুর্নীতি, দুর্নাম। আর তদ্ভব, দেশি ও বিদেশি শব্দে কখনোই ‘ণ’ বসে না — কান, সোনা, কোরআন, ইরান, জার্মানি।

প্রয়োগ শিখুন: ‘দুর্নীতি’-তে র-এর পরে ‘ন’ কেন, অথচ ‘নির্ণয়’-এ ‘ণ’?
ধাপ ১: ‘নির্ণয়’ = নির্ + ণয়(√নী) — উপসর্গ ও ধাতু মিলে একটিই শব্দ; র-এর প্রভাব ন-এর ওপর পড়ে, তাই ণ।
ধাপ ২: ‘দুর্নীতি’ = দুর্ (উপসর্গ) + নীতি — কিন্তু ‘নীতি’ এখানে স্বাধীন পদের মতো নিজের রূপ ধরে রাখে (সমাস-জাতীয় গঠন); র-এর প্রভাব সীমানা পেরোয় না।
সিদ্ধান্ত: একই ‘র্ + ন’ দেখেও গঠন বিচার করতে হবে — শব্দটি এক অখণ্ড গঠন হলে ণ, সমাসবদ্ধ/সীমানাযুক্ত হলে ন। এ জন্যই ‘দুর্নাম, দুর্নীতি, সর্বজনীন’ পরীক্ষার প্রিয় ফাঁদ।

ষত্ব বিধানের নিয়ম

  1. অ, আ ভিন্ন অন্য স্বর (ই/উ/ঋ/এ/ও) এবং ক, র-এর পরে তৎসম শব্দে ‘স’-এর পরিবর্তে ‘ষ’ বসে — কৃষি, ভাষা, পুষ্প, বিষ, ঋষি।
  2. ‘ট’ ও ‘ঠ’-এর পূর্বে ‘ষ’ হয় — কষ্ট, ইষ্ট, কাষ্ঠ, পুষ্ট, পৃষ্ঠ, ষষ্ঠ।
  3. ঋ-কারের পরে ‘ষ’ — তৃষা, কৃষ্ণ, বৃষ্টি।
  4. নি, অনু, অভি, পরি, প্রতি, সু, বি প্রভৃতি উপসর্গের পরে ‘সিচ্‌’, ‘স্‌তু’, ‘সদ’ ইত্যাদি ধাতুর ‘স’ মূর্ধন্য ‘ষ’ হয় — অভিষেক, অনুষঙ্গ, পরিষদ, প্রতিষ্ঠা।
  5. কতকগুলি শব্দে নিত্য ‘ষ’ — ভাষা, ঊষা, ঊষর, ঊষ্ম, ঐশ্বর্য, পাষাণ, মানুষ, মহিষ, পৌষ, আষাঢ়।

ষত্ব বিধানের ব্যতিক্রম

বিদেশি ও খাঁটি বাংলা শব্দে ‘ষ’ হয় না — মাস্টার, পোস্ট, জিনিস, সালাম, কিসমিস (বিদেশি); দেশি/তদ্ভব শব্দেও নয়। এ কারণেই ‘পোশাক’ (ফারসি) শব্দে তালব্য ‘শ’, মূর্ধন্য ‘ষ’ নয়। আরও মনে রাখুন: সাৎ-প্রত্যয়ে স অটুট থাকে — অগ্নিসাৎ, ধূলিসাৎ, ভূমিসাৎ (ই-কারের পরে হলেও ‘ষ’ নয়)।

প্রয়োগ শিখুন: ‘অভিষেক’ বানানে ‘ষ’ কেন? ধাপে ধাপে যাচাই
ধাপ ১: শব্দটি কি তৎসম? হ্যাঁ — অভি + সেক (√সিচ্‌ ধাতু থেকে)। তাহলে ষত্ব বিধান প্রযোজ্য।
ধাপ ২: ‘স’-এর আগে কী আছে? ‘অভি’ উপসর্গ — শেষ ধ্বনি ‘ই’, যা অ/আ ভিন্ন স্বর।
ধাপ ৩: নিয়ম বলছে — অ/আ ভিন্ন স্বরের পরে তৎসম শব্দে স → ষ। তাই অভি + সেক = অভিষেক।
একই যুক্তিতে: সু + সম = সুষম, বি + সম = বিষম, প্রতি + স্থান = প্রতিষ্ঠান। কিন্তু ‘সালাম’ বিদেশি বলে ধাপ ১-এই আটকে যায় — ষ হবে না।

সাধারণ ভুল ও সতর্কতা

এই অধ্যায়ে ভুলগুলো প্রায় সবসময় একই জায়গায় হয়। নিচের ফাঁদগুলো চিনে রাখলে পরীক্ষায় অন্তত ২-৩টি নম্বর বাঁচবে।

ভুল ১ — ধ্বনি ও বর্ণের সংখ্যা গুলিয়ে ফেলা: বর্ণ ৫০ (১১ + ৩৯), কিন্তু মৌলিক ধ্বনি ৩৭ (৭ স্বর + ৩০ ব্যঞ্জন)। প্রশ্নে ‘বর্ণ’ চাওয়া হলো নাকি ‘ধ্বনি’ — আগে সেটি পড়ুন, তারপর উত্তর দিন। "মৌলিক স্বরধ্বনি কয়টি" প্রশ্নে ১১ দাগানো এই অধ্যায়ের সবচেয়ে কমন ভুল (সঠিক: ৭)।
ভুল ২ — ‘এ, ঐ, ও, ঔ’ চারটিকেই দীর্ঘস্বর না ভাবা: হ্রস্বস্বর মাত্র ৪টি (অ, ই, উ, ঋ); বাকি ৭টিই দীর্ঘ। ‘এ’ ও ‘ও’-কে অনেকে হ্রস্ব ভেবে বসেন — বর্ণ-বিচারে এরা দীর্ঘস্বর।
ভুল ৩ — অপিনিহিতি বনাম অভিশ্রুতি: ই/উ শুধু আগে সরে এলে অপিনিহিতি (আজি → আইজ); সরে এসে পাশের স্বরকে বদলে মিশে গেলে অভিশ্রুতি (করিয়া → করে)। মাঝপথ না শেষ ধাপ — এটাই পার্থক্য।
ভুল ৪ — সমাসবদ্ধ শব্দে ণত্ব খাটানো: ত্রিনয়ন, সর্বজনীন, দুর্নীতি, দুর্নাম — র/ঋ আগে থাকলেও এখানে ‘ন’ হবে, কারণ ণত্ব বিধান পদের সীমানা পার হয় না। এই চারটি শব্দই পরীক্ষায় ঘুরেফিরে আসে।
ভুল ৫ — বিদেশি শব্দে ণ/ষ বসানো: ণত্ব-ষত্ব কেবল তৎসম শব্দের বিধান। তাই ‘কোরান’ নয় ‘কোরআন’, ‘পোষাক’ নয় ‘পোশাক’, ‘মাষ্টার’ নয় ‘মাস্টার’, ‘জিনিষ’ নয় ‘জিনিস’। বানান প্রশ্নে শব্দের উৎস আগে ভাবুন।
ভুল ৬ — ‘ং’ আর ‘ঙ’ এক ভাবা: ধ্বনি হিসেবে দুটির উচ্চারণ এক হলেও ‘ং’ (অনুস্বার) পরাশ্রয়ী বর্ণ — স্বাধীনভাবে উচ্চারিত হয় না; ‘ঙ’ পূর্ণ ব্যঞ্জনবর্ণ। প্রমিত বানানে ‘বাংলা, রং’ (ং) কিন্তু ‘ব্যাঙ, রঙিন’ (ঙ — পরে স্বর থাকলে)।

দ্রুত সমাধানের কৌশল

MCQ পরীক্ষায় এই অধ্যায়ের প্রশ্ন ১৫-২০ সেকেন্ডে সমাধান করার মতো কিছু পরীক্ষিত কৌশল:

কৌশল ১ — সংখ্যাগুলোর ছন্দ: ৫০ = ১১ + ৩৯; ৩৯ = ২৫ (বর্গীয়) + ৪ (অন্তঃস্থ: য র ল ব) + ৪ (উষ্ম: শ ষ স হ) + ২ (ড় ঢ়) + ৪ (ৎ ং ঃ ঁ)। একবার এই ভাঙন নিজে হাতে লিখুন — "অমুক বর্ণ কয়টি" জাতীয় সব প্রশ্ন এক ছকেই মিটে যায়।
কৌশল ২ — বর্গের কলাম-সূত্র: প্রতিটি বর্গের ক্রম সবসময় — অঘোষ অল্পপ্রাণ → অঘোষ মহাপ্রাণ → ঘোষ অল্পপ্রাণ → ঘোষ মহাপ্রাণ → নাসিক্য। অর্থাৎ ১ম-২য় অঘোষ, ৩য়-৪র্থ ঘোষ; ২য়-৪র্থ মহাপ্রাণ। ‘ঝ’ কেমন ধ্বনি? — চ-বর্গের ৪র্থ, তাই ঘোষ মহাপ্রাণ। গোনাটাই উত্তর।
কৌশল ৩ — মাত্রা মনে রাখার সূত্র: মাত্রাহীন ১০টির ৮টিই ‘বিশেষ দর্শন’ — এ ঐ ও ঔ (৪ স্বর) + ঙ ঞ (২ নাসিক্য) + ৎ ং ঃ ঁ (৪ পরাশ্রয়ী; ঁ ধরে)। অর্ধমাত্রা ৮টি: ঋ খ গ ণ থ ধ প শ — "ঋ-তে খেয়ে গেল ণ, থেকে ধরে পেল শ" জাতীয় নিজস্ব বাক্য বানিয়ে নিন; নিজের বানানো বাক্যই সবচেয়ে বেশি মনে থাকে।
কৌশল ৪ — ণত্ব-ষত্ব প্রশ্নে তিন-ধাপ পরীক্ষা: (১) শব্দটি তৎসম? না হলে ন/স — আলোচনা শেষ। (২) তৎসম হলে: ‘ন’-এর আগে ঋ/র/ষ বা প্র-পরা-পরি-নির্ আছে কি? থাকলে ণ। (৩) ‘স’-এর আগে অ/আ ভিন্ন স্বর বা ক/র আছে কি, কিংবা পরে ট/ঠ? থাকলে ষ। এই অ্যালগরিদমে ৯০% প্রশ্ন মিটে যায়; বাকিগুলো নিত্য ণ/ষ-এর তালিকা।
কৌশল ৫ — ধ্বনি-পরিবর্তন শনাক্তের প্রশ্নে আগে-পরে মিলান: দুই রূপ পাশাপাশি লিখে দেখুন কী ঘটেছে — কিছু যোগ হলো (স্বরাগম), বাদ গেল (লোপ), জায়গা বদল (বিপর্যাস), একরকম হয়ে গেল (সমীভবন), ই/উ এগিয়ে এল (অপিনিহিতি)। ঘটনা আগে ধরুন, নাম পরে বসান।

তথ্যের সারসংক্ষেপ

  • বাংলা বর্ণমালায় মোট বর্ণ — ৫০টি
  • স্বরবর্ণ — ১১টি, ব্যঞ্জনবর্ণ — ৩৯টি
  • মৌলিক স্বরধ্বনি — ৭টি (অ, আ, ই, উ, এ, ও, অ্যা)
  • স্পর্শ ব্যঞ্জনবর্ণ (বর্গীয়) — ২৫টি (৫ বর্গ × ৫)
  • অন্তঃস্থ বর্ণ — ৪টি (য, র, ল, ব)
  • উষ্মবর্ণ — ৪টি (শ, ষ, স, হ)
  • পরাশ্রয়ী/বিশেষ বর্ণ — ৪টি (ৎ, ং, ঃ, ঁ)
  • হ্রস্ব স্বরবর্ণ — ৪টি (অ, ই, উ, ঋ)
  • দীর্ঘ স্বরবর্ণ — ৭টি (আ, ঈ, ঊ, এ, ঐ, ও, ঔ)
  • যৌগিক স্বরধ্বনি — ২৫টি; বর্ণরূপে — ২টি (ঐ, ঔ)
  • মৌলিক ব্যঞ্জনধ্বনি — ৩০টি
  • মাত্রাহীন বর্ণ — ১০টি (এ, ঐ, ও, ঔ, ং, ঃ, ঁ, ৎ, ঙ, ঞ)
  • অর্ধমাত্রার বর্ণ — ৮টি (ঋ, খ, গ, ণ, থ, ধ, প, শ)
  • পূর্ণমাত্রার বর্ণ — ৩২টি (বাকি)
  • ‘ক্ষ’ = ক + ষ; ‘জ্ঞ’ = জ + ঞ; ‘হ্ম’ = হ + ম
  • ‘ণ’ ও ‘ন’-এর ব্যবহার-বিধি = ণত্ব বিধান
  • ‘স/শ/ষ’-এর ব্যবহার-বিধি = ষত্ব বিধান
  • ণত্ব ও ষত্ব বিধান প্রযোজ্য — শুধু তৎসম শব্দে

প্রশ্ন ও উত্তর (১০০+ MCQ)

১. বাংলা বর্ণমালায় মোট বর্ণ কয়টি?

(ক) ৪৭টি (খ) ৪৯টি (গ) ৫০টি (ঘ) ৫২টি

উত্তর: (গ) ৫০টি

১১টি স্বরবর্ণ + ৩৯টি ব্যঞ্জনবর্ণ = ৫০টি।

২. বাংলা স্বরবর্ণ কয়টি?

(ক) ৭ (খ) ৯ (গ) ১১ (ঘ) ১৩

উত্তর: (গ) ১১টি

৩. বাংলা ব্যঞ্জনবর্ণ কয়টি?

(ক) ৩৫ (খ) ৩৭ (গ) ৩৯ (ঘ) ৪১

উত্তর: (গ) ৩৯টি

৪. মৌলিক স্বরধ্বনি কয়টি?

(ক) ৫ (খ) ৬ (গ) ৭ (ঘ) ১১

উত্তর: (গ) ৭টি

অ, আ, ই, উ, এ, ও, অ্যা।

৫. বাংলায় মৌলিক ব্যঞ্জনধ্বনি কয়টি?

(ক) ২৫ (খ) ৩০ (গ) ৩৫ (ঘ) ৩৯

উত্তর: (খ) ৩০টি

৬. ধ্বনি ও বর্ণের পার্থক্য কী?

(ক) ধ্বনি লেখা যায় (খ) ধ্বনি উচ্চারিত, বর্ণ লিখিত (গ) কোনো পার্থক্য নেই (ঘ) উভয়ই দৃশ্য

উত্তর: (খ)

ধ্বনি শ্রুতিগ্রাহ্য, বর্ণ দৃশ্যগ্রাহ্য।

৭. ভাষার ক্ষুদ্রতম একক কোনটি?

(ক) ধ্বনি (খ) বর্ণ (গ) শব্দ (ঘ) বাক্য

উত্তর: (ক) ধ্বনি

৮. হ্রস্ব স্বরবর্ণ কয়টি?

(ক) ৩ (খ) ৪ (গ) ৫ (ঘ) ৭

উত্তর: (খ) ৪টি

অ, ই, উ, ঋ।

৯. দীর্ঘ স্বরবর্ণ কয়টি?

(ক) ৫ (খ) ৬ (গ) ৭ (ঘ) ৮

উত্তর: (গ) ৭টি

আ, ঈ, ঊ, এ, ঐ, ও, ঔ।

১০. কোনটি যৌগিক স্বরের বর্ণরূপ?

(ক) আ (খ) ই (গ) ঐ (ঘ) উ

উত্তর: (গ) ঐ (অ+ই)

১১. ‘ঔ’ কোন স্বরের যৌগ?

(ক) অ+ই (খ) অ+উ (গ) আ+উ (ঘ) এ+উ

উত্তর: (খ) অ+উ

১২. বাংলায় যৌগিক স্বরধ্বনি কয়টি?

(ক) ৭ (খ) ১১ (গ) ২৫ (ঘ) ৩০

উত্তর: (গ) ২৫টি

১৩. ‘ক’-বর্গীয় ধ্বনির উচ্চারণ-স্থান?

(ক) তালু (খ) মূর্ধা (গ) দন্ত (ঘ) কণ্ঠ

উত্তর: (ঘ) কণ্ঠ

১৪. ‘চ’-বর্গের উচ্চারণ স্থান?

(ক) ওষ্ঠ (খ) তালু (গ) দন্ত (ঘ) মূর্ধা

উত্তর: (খ) তালু

১৫. ‘ট’-বর্গের উচ্চারণ স্থান?

(ক) মূর্ধা (খ) তালু (গ) দন্ত (ঘ) কণ্ঠ

উত্তর: (ক) মূর্ধা

১৬. ‘ত’-বর্গের উচ্চারণ স্থান?

(ক) দন্ত (খ) ওষ্ঠ (গ) তালু (ঘ) কণ্ঠ

উত্তর: (ক) দন্ত

১৭. ‘প’-বর্গের উচ্চারণ স্থান?

(ক) ওষ্ঠ (খ) দন্ত (গ) মূর্ধা (ঘ) কণ্ঠ

উত্তর: (ক) ওষ্ঠ

১৮. উষ্মবর্ণ কয়টি?

(ক) ২ (খ) ৩ (গ) ৪ (ঘ) ৫

উত্তর: (গ) ৪টি — শ, ষ, স, হ

১৯. অন্তঃস্থ বর্ণ কয়টি?

(ক) ২ (খ) ৩ (গ) ৪ (ঘ) ৫

উত্তর: (গ) ৪টি — য, র, ল, ব

২০. পরাশ্রয়ী বর্ণ কয়টি?

(ক) ৩ (খ) ৪ (গ) ৫ (ঘ) ৬

উত্তর: (খ) ৪টি — ৎ, ং, ঃ, ঁ

২১. ‘ৎ’ কে কী বলে?

(ক) অনুস্বার (খ) বিসর্গ (গ) খণ্ড-ত (ঘ) চন্দ্রবিন্দু

উত্তর: (গ) খণ্ড-ত

২২. ‘ং’ কে কী বলে?

(ক) অনুস্বার (খ) বিসর্গ (গ) চন্দ্রবিন্দু (ঘ) খণ্ড-ত

উত্তর: (ক) অনুস্বার

২৩. ‘ঃ’ কে কী বলে?

(ক) অনুস্বার (খ) বিসর্গ (গ) হস (ঘ) ঋকার

উত্তর: (খ) বিসর্গ

২৪. ‘ঁ’ কে কী বলে?

(ক) অনুস্বার (খ) চন্দ্রবিন্দু (গ) বিসর্গ (ঘ) ফলা

উত্তর: (খ) চন্দ্রবিন্দু

২৫. ‘ক্ষ’ যুক্তবর্ণটি কোন কোন বর্ণের সমাহার?

(ক) ক+ষ (খ) ক+শ (গ) খ+ষ (ঘ) ক+হ

উত্তর: (ক) ক+ষ

২৬. ‘জ্ঞ’ কোন কোন বর্ণের যোগ?

(ক) জ+ঙ (খ) জ+ঞ (গ) জ+ন (ঘ) জ+য

উত্তর: (খ) জ+ঞ

২৭. ‘হ্ম’ কোন কোন বর্ণের যোগ?

(ক) হ+ম (খ) হ+ণ (গ) হ+ন (ঘ) হ+য

উত্তর: (ক) হ+ম

২৮. অঘোষ ধ্বনি কোনটি?

(ক) গ (খ) ক (গ) ঘ (ঘ) ঙ

উত্তর: (খ) ক

২৯. ঘোষ ধ্বনি কোনটি?

(ক) চ (খ) ছ (গ) জ (ঘ) ট

উত্তর: (গ) জ

৩০. অল্পপ্রাণ ধ্বনি কোনটি?

(ক) ক (খ) খ (গ) ঘ (ঘ) ছ

উত্তর: (ক) ক

৩১. মহাপ্রাণ ধ্বনি কোনটি?

(ক) ক (খ) গ (গ) ঘ (ঘ) ঞ

উত্তর: (গ) ঘ

৩২. নাসিক্য ধ্বনি কোনটি?

(ক) ক (খ) চ (গ) ঙ (ঘ) প

উত্তর: (গ) ঙ

৩৩. বাংলায় কয়টি নাসিক্য বর্ণ আছে?

(ক) ৩ (খ) ৪ (গ) ৫ (ঘ) ৬

উত্তর: (গ) ৫টি — ঙ, ঞ, ণ, ন, ম

৩৪. কম্পনজাত ধ্বনি কোনটি?

(ক) ল (খ) র (গ) ম (ঘ) য

উত্তর: (খ) র

৩৫. পার্শ্বিক ধ্বনি কোনটি?

(ক) ল (খ) র (গ) ব (ঘ) ম

উত্তর: (ক) ল

৩৬. তাড়নজাত ধ্বনি কোনগুলি?

(ক) ড, ঢ (খ) ড়, ঢ় (গ) ট, ঠ (ঘ) র, ল

উত্তর: (খ) ড়, ঢ়

৩৭. ‘স্কুল → ইস্কুল’ কোন ধরনের ধ্বনি-পরিবর্তন?

(ক) মধ্য স্বরাগম (খ) আদি স্বরাগম (গ) অপিনিহিতি (ঘ) সমীভবন

উত্তর: (খ) আদি স্বরাগম

৩৮. ‘রত্ন → রতন’ কোন ধরনের পরিবর্তন?

(ক) আদি স্বরাগম (খ) মধ্য স্বরাগম (গ) অন্ত্য স্বরাগম (ঘ) স্বরলোপ

উত্তর: (খ) মধ্য স্বরাগম / স্বরভক্তি

৩৯. ‘আজি → আইজ’ কোন পরিবর্তন?

(ক) সমীভবন (খ) অপিনিহিতি (গ) বিপর্যাস (ঘ) দ্বিত্ব

উত্তর: (খ) অপিনিহিতি

৪০. ‘করিয়া → করে’ কোন পরিবর্তন?

(ক) অপিনিহিতি (খ) অভিশ্রুতি (গ) সমীভবন (ঘ) দ্বিত্ব

উত্তর: (খ) অভিশ্রুতি

৪১. ‘পিশাচ → পিচাশ’ কোন পরিবর্তন?

(ক) সমীভবন (খ) বিপর্যাস (গ) অপিনিহিতি (ঘ) স্বরলোপ

উত্তর: (খ) ধ্বনি-বিপর্যয়

৪২. ‘জন্ম → জম্ম’ কোন পরিবর্তন?

(ক) সমীভবন (খ) বিপর্যাস (গ) অপিনিহিতি (ঘ) দ্বিত্ব

উত্তর: (ক) সমীভবন

৪৩. ‘শরীর → শরীল’ কোন পরিবর্তন?

(ক) সমীভবন (খ) বিষমীভবন (গ) বিপর্যাস (ঘ) দ্বিত্ব

উত্তর: (খ) বিষমীভবন

৪৪. ‘পাকা → পাক্কা’ কোন পরিবর্তন?

(ক) সমীভবন (খ) দ্বিত্ব (গ) বিপর্যাস (ঘ) অপিনিহিতি

উত্তর: (খ) দ্বিত্ব ব্যঞ্জন

৪৫. ‘ফাল্গুন → ফাগুন’ কোন পরিবর্তন?

(ক) সমীভবন (খ) ব্যঞ্জনচ্যুতি / অন্তর্হতি (গ) দ্বিত্ব (ঘ) অপিনিহিতি

উত্তর: (খ) অন্তর্হতি

৪৬. ‘স্কন্ধ → কাঁধ’ কোন পরিবর্তন?

(ক) অপভ্রংশ (খ) সমীভবন (গ) দ্বিত্ব (ঘ) বিপর্যাস

উত্তর: (ক) অপভ্রংশ

৪৭. ‘মুলা → মুলো’ কোন পরিবর্তন?

(ক) প্রগত স্বরসঙ্গতি (খ) পরাগত (গ) মধ্যগত (ঘ) অপিনিহিতি

উত্তর: (ক) প্রগত স্বরসঙ্গতি

৪৮. ‘দেশি → দিশি’ কোন পরিবর্তন?

(ক) প্রগত (খ) পরাগত স্বরসঙ্গতি (গ) মধ্যগত (ঘ) দ্বিত্ব

উত্তর: (খ) পরাগত স্বরসঙ্গতি

৪৯. ‘বিলাতি → বিলিতি’ কোন পরিবর্তন?

(ক) প্রগত (খ) পরাগত (গ) মধ্যগত (ঘ) অন্ত্য

উত্তর: (গ) মধ্যগত

৫০. ‘কৃষ্ণ’ শব্দে ‘ণ’ ব্যবহারের কারণ?

(ক) র-এর পরে (খ) ঋ-এর পরে (গ) ষ-এর পরে (ঘ) সবগুলো

উত্তর: (গ) ষ-এর পরে → ণ

৫১. ণত্ব বিধান কোন ধরনের শব্দে প্রযোজ্য?

(ক) তদ্ভব (খ) তৎসম (গ) দেশি (ঘ) বিদেশি

উত্তর: (খ) তৎসম

৫২. ষত্ব বিধান কোন ধরনের শব্দে প্রযোজ্য?

(ক) তৎসম (খ) তদ্ভব (গ) বিদেশি (ঘ) দেশি

উত্তর: (ক) তৎসম

৫৩. ‘পুষ্প’-এ ‘ষ’ কেন?

(ক) ক-এর পরে (খ) উ-স্বরের পরে (গ) প-এর পরে (ঘ) ট-এর পূর্বে

উত্তর: (খ) উ-স্বরের পরে স → ষ

৫৪. ‘ভাষা’-এ ‘ষ’ কেন?

(ক) ব্যতিক্রম-নিত্য ‘ষ’ (খ) আ-স্বরের পরে (গ) নিয়ম প্রযোজ্য (ঘ) কোনটি নয়

উত্তর: (ক) নিত্য ‘ষ’

৫৫. ‘ব্রাহ্মণ’-এ ‘ণ’ কেন?

(ক) র-এর পরে (খ) ষ-এর পরে (গ) ব্যঞ্জনের প্রভাবে (ঘ) ঋ-এর পরে

উত্তর: (ক) র-এর পরে → ণ

৫৬. ‘রামায়ণ’-এ ‘ণ’ কেন?

(ক) র-এর পরে (খ) আ-এর পরে (গ) য-এর পরে (ঘ) ম-এর পরে

উত্তর: (ক) র-এর পরে

৫৭. ‘ঘৃণা’-এ ‘ণ’ কেন?

(ক) ঋ-এর পরে (খ) ঘ-এর পরে (গ) আ-এর পরে (ঘ) কোনটি নয়

উত্তর: (ক) ঋ-এর পরে

৫৮. ‘কষ্ট’-এ ‘ষ’ কেন?

(ক) ট-এর পূর্বে (খ) ক-এর পরে (গ) উ-স্বর (ঘ) ঋ

উত্তর: (ক) ট-এর পূর্বে

৫৯. ‘পরিষদ’-এ ‘ষ’ কেন?

(ক) পরি-উপসর্গের প্রভাবে (খ) র-এর পরে (গ) দ-এর পূর্বে (ঘ) ই-এর পরে

উত্তর: (ক) পরি-উপসর্গের প্রভাবে

৬০. ‘ক্ষ’ একটি —

(ক) মৌলিক বর্ণ (খ) যুক্তবর্ণ (গ) পরাশ্রয়ী (ঘ) উষ্মবর্ণ

উত্তর: (খ) যুক্তবর্ণ

৬১. ‘ঙ’ কোন বর্গের নাসিক্য বর্ণ?

(ক) ক-বর্গ (খ) চ-বর্গ (গ) ট-বর্গ (ঘ) ত-বর্গ

উত্তর: (ক) ক-বর্গ

৬২. ‘ঞ’ কোন বর্গের নাসিক্য বর্ণ?

(ক) চ-বর্গ (খ) ক-বর্গ (গ) প-বর্গ (ঘ) ত-বর্গ

উত্তর: (ক) চ-বর্গ

৬৩. ‘ণ’ কোন বর্গের নাসিক্য বর্ণ?

(ক) ট-বর্গ (খ) ত-বর্গ (গ) প-বর্গ (ঘ) ক-বর্গ

উত্তর: (ক) ট-বর্গ

৬৪. ‘ন’ কোন বর্গের নাসিক্য?

(ক) ত-বর্গ (খ) ট-বর্গ (গ) চ-বর্গ (ঘ) প-বর্গ

উত্তর: (ক) ত-বর্গ

৬৫. ‘ম’ কোন বর্গের নাসিক্য?

(ক) প-বর্গ (খ) ত-বর্গ (গ) চ-বর্গ (ঘ) ক-বর্গ

উত্তর: (ক) প-বর্গ

৬৬. নিচের কোনটি মৌলিক স্বরধ্বনি নয়?

(ক) অ (খ) অ্যা (গ) ঈ (ঘ) উ

উত্তর: (গ) ঈ

মৌলিক স্বরধ্বনি ৭টি — অ, আ, ই, উ, এ, ও, অ্যা। ‘ঈ’ কেবল ‘ই’-এর দীর্ঘ লিখিত রূপ; উচ্চারণে আলাদা ধ্বনি নয়, তাই মৌলিক তালিকায় নেই। ‘অ্যা’ উল্টো — বর্ণ নেই, কিন্তু মৌলিক ধ্বনি।

৬৭. আধুনিক বাংলায় ‘ঋ’ বর্ণের প্রকৃত উচ্চারণ কীরূপ?

(ক) র্ + ই (‘রি’-র মতো) (খ) বিশুদ্ধ স্বরধ্বনি (গ) উ-এর মতো (ঘ) আ-এর মতো

উত্তর: (ক) র্ + ই (‘রি’-র মতো)

‘ঋষি’ পড়ি ‘রিশি’, ‘কৃষক’ পড়ি ‘ক্রিশক’। উচ্চারণে ব্যঞ্জন (র্‌) জড়িয়ে থাকায় ঋ স্বরবর্ণের তালিকায় থাকলেও মৌলিক স্বরধ্বনির তালিকায় নেই।

৬৮. উচ্চারণে দ্বিগুণ সময়ের স্বরকে কী বলে?

(ক) হ্রস্ব (খ) দীর্ঘ (গ) প্লুত (ঘ) যৌগিক

উত্তর: (খ) দীর্ঘ

৬৯. দূর থেকে কাউকে ডাকার ‘ও-ও-ও’ — কী স্বর?

(ক) হ্রস্ব (খ) দীর্ঘ (গ) প্লুত (ঘ) যৌগিক

উত্তর: (গ) প্লুতস্বর

৭০. বৃত্তাকার স্বর কোনগুলি?

(ক) ই, ঈ (খ) উ, ঊ, ও, ঔ (গ) এ, ঐ (ঘ) অ, আ

উত্তর: (খ) উ, ঊ, ও, ঔ

৭১. প্রসারিত স্বর কোনগুলি?

(ক) ই, ঈ, এ, ঐ (খ) উ, ঊ (গ) অ, আ (ঘ) ও, ঔ

উত্তর: (ক)

৭২. উচ্চারণ অনুসারে ‘শ’ কোন ধরনের ব্যঞ্জনধ্বনি?

(ক) স্পর্শ (খ) উষ্ম (গ) নাসিক্য (ঘ) তাড়নজাত

উত্তর: (খ) উষ্ম

৭৩. ‘হ’ ধ্বনির উচ্চারণ-স্থান?

(ক) কণ্ঠ (খ) তালু (গ) দন্ত (ঘ) মূর্ধা

উত্তর: (ক) কণ্ঠ

৭৪. ‘চাঁদ’ শব্দে ‘ঁ’-এর নাম?

(ক) বিসর্গ (খ) চন্দ্রবিন্দু (গ) অনুস্বার (ঘ) হস

উত্তর: (খ) চন্দ্রবিন্দু

৭৫. ‘দুঃখ’-এ ‘ঃ’-কে কী বলে?

(ক) অনুস্বার (খ) বিসর্গ (গ) হস (ঘ) কোলন

উত্তর: (খ) বিসর্গ

৭৬. ‘হঠাৎ’-এর ‘ৎ’ কী?

(ক) অনুস্বার (খ) খণ্ড-ত (গ) ফলা (ঘ) হস

উত্তর: (খ) খণ্ড-ত

৭৭. মাত্রাহীন বর্ণ কয়টি?

(ক) ৮ (খ) ৯ (গ) ১০ (ঘ) ১২

উত্তর: (গ) ১০টি

৭৮. অর্ধমাত্রার বর্ণ কয়টি?

(ক) ৬ (খ) ৭ (গ) ৮ (ঘ) ৯

উত্তর: (গ) ৮টি

৭৯. পূর্ণমাত্রার বর্ণ কয়টি?

(ক) ৩০ (খ) ৩২ (গ) ৩৪ (ঘ) ৩৬

উত্তর: (খ) ৩২টি

৮০. ব্যঞ্জনবর্ণ উচ্চারণের সময় তার সঙ্গে যে ‘অ’ ধ্বনি মিশে থাকে (যেমন ‘ফল’-এর ফ্‌+অ), তাকে কী বলে?

(ক) কার (খ) ফলা (গ) নিহিত বা অন্তর্নিহিত ‘অ’ (ঘ) মাত্রা

উত্তর: (গ) নিহিত বা অন্তর্নিহিত ‘অ’

প্রতিটি ব্যঞ্জনবর্ণের নিজস্ব উচ্চারণে ‘অ’ লুকিয়ে থাকে; আলাদা কার-চিহ্ন লাগে না। এ কারণেই ‘অ’-এর কোনো কার-চিহ্ন নেই।

৮১. অভিশ্রুতির ফলে ‘আজি’ শব্দের পরিবর্তিত রূপ কোনটি?

(ক) আজ (খ) আইজ (গ) আজকে (ঘ) আজু

উত্তর: (ক) আজ

আজি → (অপিনিহিতি) আইজ → (অভিশ্রুতি) আজ। ‘আইজ’ মাঝের ধাপ — অপিনিহিতির উদাহরণ।

৮২. ‘অ’ ও ‘আ’ ছাড়া অন্য স্বরের পরে ‘স’ কী হয়?

(ক) ণ (খ) ষ (গ) শ (ঘ) ছ

উত্তর: (খ) ষ

৮৩. কোন বর্ণটি অন্তঃস্থ নয়?

(ক) য (খ) র (গ) ল (ঘ) হ

উত্তর: (ঘ) হ — উষ্ম বর্ণ

৮৪. ‘ণ’ ও ‘ন’ পার্থক্যের নিয়মকে বলে —

(ক) ষত্ব বিধান (খ) ণত্ব বিধান (গ) উচ্চারণ-বিধি (ঘ) ধ্বনি-পরিবর্তন

উত্তর: (খ) ণত্ব বিধান

৮৫. ‘ষ’ ও ‘স/শ’ পার্থক্যের নিয়মকে বলে —

(ক) ণত্ব বিধান (খ) ষত্ব বিধান (গ) সন্ধি (ঘ) সমাস

উত্তর: (খ) ষত্ব বিধান

৮৬. শুদ্ধ বানান কোনটি?

(ক) পরিনাম (খ) পরিণাম (গ) পরীনাম (ঘ) পরীণাম

উত্তর: (খ) পরিণাম

‘পরি’ উপসর্গের পরে (প্র-পরা-পরি-নির্ সূত্র) ‘ন’ মূর্ধন্য ‘ণ’ হয়; ই-কারই সঠিক, ঈ-কার নয়।

৮৭. ‘প্রনাম’ — শুদ্ধ বানান?

(ক) প্রনাম (খ) প্রণাম (গ) প্রনামঃ (ঘ) প্রণামি

উত্তর: (খ) প্রণাম — প্র-উপসর্গের পরে ‘ণ’

৮৮. ‘স্বাস্থ’ — শুদ্ধ?

(ক) স্বাস্থ (খ) স্বাস্থ্য (গ) সাস্থ (ঘ) সাস্থ্য

উত্তর: (খ) স্বাস্থ্য

৮৯. বাংলা ভাষায় ‘ব’ কয়টি?

(ক) ১টি (খ) ২টি (গ) ৩টি (ঘ) ৪টি

উত্তর: (খ) ২টি — বর্গীয় ব ও অন্তঃস্থ ব

৯০. বাংলায় ‘য’ কয়টি?

(ক) ১টি (খ) ২টি (গ) ৩টি (ঘ) ৪টি

উত্তর: (খ) ২টি — য ও য়

৯১. ‘য়’-কে কী বলে?

(ক) অন্তঃস্থ য (খ) অন্তঃস্থ-অ (গ) ফলা (ঘ) ঋকার

উত্তর: (খ) অন্তঃস্থ-অ

৯২. ‘ড়, ঢ়’-কে কী বলে?

(ক) মূর্ধন্য (খ) তাড়নজাত (গ) দন্ত্য (ঘ) অন্তঃস্থ

উত্তর: (খ) তাড়নজাত মূর্ধন্য

৯৩. ‘অ্যা’ ধ্বনিটি লেখায় সাধারণত কীভাবে প্রকাশ করা হয়?

(ক) আলাদা একটি বর্ণ দিয়ে (খ) অ + য-ফলা + আ-কার দিয়ে (গ) এ-কার দিয়ে (ঘ) অ + আ পাশাপাশি লিখে

উত্তর: (খ) অ + য-ফলা + আ-কার দিয়ে

যেমন ‘ব্যাংক’, ‘অ্যাকাউন্ট’। ‘অ্যা’ মৌলিক ধ্বনি হলেও তার নিজস্ব বর্ণ নেই — তাই এই সংযুক্ত কৌশল। কখনো এ-কার দিয়েও এ ধ্বনি আসে (‘দেখা’, ‘একা’), তবে সেটি বানান নয়, উচ্চারণের ব্যাপার।

৯৪. ‘ঈ’ ও ‘ঊ’ মৌলিক স্বরধ্বনির তালিকায় নেই কেন?

(ক) এগুলো ব্যঞ্জনধ্বনি বলে (খ) আধুনিক উচ্চারণে ই/উ থেকে এদের পার্থক্য নেই বলে (গ) এগুলো যৌগিক স্বর বলে (ঘ) এগুলো বিদেশি ধ্বনি বলে

উত্তর: (খ) আধুনিক উচ্চারণে ই/উ থেকে এদের পার্থক্য নেই বলে

লেখায় হ্রস্ব-দীর্ঘ ভেদ থাকলেও মুখের ভাষায় ‘দিন’ আর ‘দীন’-এর স্বর একই। তাই বর্ণ ১১টি হলেও মৌলিক স্বরধ্বনি ৭টি।

৯৫. ‘বর্ণ’ কথাটি যে অর্থে ব্যবহৃত —

(ক) ধ্বনির লিখিত প্রতীক (খ) ধ্বনি (গ) শব্দ (ঘ) বাক্য

উত্তর: (ক)

৯৬. উচ্চারণে স্বরতন্ত্রী কম্পিত হলে কী হয়?

(ক) অঘোষ (খ) ঘোষ (গ) অল্পপ্রাণ (ঘ) মহাপ্রাণ

উত্তর: (খ) ঘোষ

৯৭. বেশি শ্বাস বের হলে কী?

(ক) অল্পপ্রাণ (খ) মহাপ্রাণ (গ) ঘোষ (ঘ) অঘোষ

উত্তর: (খ) মহাপ্রাণ

৯৮. ‘বিড়াল’ → ‘বেড়াল’ কোন ধরনের পরিবর্তন?

(ক) স্বরসঙ্গতি (খ) সমীভবন (গ) অপিনিহিতি (ঘ) ব্যঞ্জনচ্যুতি

উত্তর: (ক) স্বরসঙ্গতি

৯৯. ‘লাফ → ফাল’ কোন পরিবর্তন?

(ক) সমীভবন (খ) বিপর্যাস (গ) দ্বিত্ব (ঘ) ব্যঞ্জনচ্যুতি

উত্তর: (খ) ধ্বনি-বিপর্যয়

১০০. ‘কাঁদনা → কান্না’ কোন পরিবর্তন?

(ক) সমীভবন (খ) বিপর্যাস (গ) দ্বিত্ব (ঘ) অপিনিহিতি

উত্তর: (ক) সমীভবন

১০১. বাংলা বর্ণমালা — কোন লিপি থেকে উদ্ভূত?

(ক) দেবনাগরী (খ) ব্রাহ্মী (গ) সিদ্ধমাত্রিকা (ঘ) আরবি

উত্তর: (খ) ব্রাহ্মী → সিদ্ধমাত্রিকা → বাংলা

১০২. ‘সর্বজনীন’ শব্দে র-এর পরে থাকা সত্ত্বেও ‘ন’ হয়েছে কেন?

(ক) এটি নিত্য ‘ন’-এর শব্দ (খ) সমাসবদ্ধ শব্দে ণত্ব বিধান খাটে না (গ) এটি বিদেশি শব্দ (ঘ) ত-বর্গ পরে আছে বলে

উত্তর: (খ) সমাসবদ্ধ শব্দে ণত্ব বিধান খাটে না

‘জন’ পদটি সমাসবদ্ধ গঠনে নিজের রূপ ধরে রাখে; র-এর প্রভাব পদের সীমানা পেরোয় না। একই কারণে ত্রিনয়ন, দুর্নীতি, দুর্নাম — সবগুলোতে ‘ন’।

১০৩. ব্যঞ্জনবর্ণের সাথে স্বরবর্ণ যুক্ত হলে কী রূপ ধারণ করে?

(ক) ফলা (খ) কার (গ) যুক্তবর্ণ (ঘ) মাত্রা

উত্তর: (খ) কার (যেমন: ক+ি = কি)

১০৪. ব্যঞ্জনবর্ণের সাথে ব্যঞ্জনবর্ণ যুক্ত হলে কী হয়?

(ক) কার (খ) ফলা/যুক্তবর্ণ (গ) মাত্রা (ঘ) সন্ধি

উত্তর: (খ) ফলা ও যুক্তবর্ণ (যেমন: ক+ব = ক্ব)

১০৫. ‘য-ফলা’ কোন বর্ণের সাথে ব্যবহৃত হয়?

(ক) ব্যঞ্জনবর্ণের সাথে (খ) স্বরের সাথে (গ) উভয় (ঘ) কোনটি নয়

উত্তর: (ক) ব্যঞ্জনবর্ণের সাথে — বিদ্যা, সত্য