সুনির্দিষ্ট প্রতিকার আইন, ১৮৭৭ (The Specific Relief Act, 1877)

সুনির্দিষ্ট প্রতিকার আইন দেওয়ানি প্রকৃতির অধিকার লঙ্ঘনের ক্ষেত্রে আর্থিক ক্ষতিপূরণের বিকল্প হিসেবে "সুনির্দিষ্ট" প্রতিকার প্রদান করে — অর্থাৎ শুধু টাকা দিয়ে ক্ষতিপূরণ নয়, বরং প্রকৃত অধিকার বা বস্তু ফিরিয়ে দেওয়া বা চুক্তি অনুযায়ী কাজ করানো। এটি একটি মূল আইন (Substantive Law), দেওয়ানি কার্যবিধি বা সাক্ষ্য আইনের মতো পদ্ধতিগত (Procedural) আইন নয়। আইনটি ৫৭টি ধারা এবং কয়েকটি অধ্যায়ে বিভক্ত — দখল পুনরুদ্ধার, চুক্তির সুনির্দিষ্ট কার্যসম্পাদন, দলিল সংশোধন-বাতিল-রদ, ঘোষণামূলক প্রতিকার এবং নিষেধাজ্ঞা।

বিজেএস ও বার কাউন্সিল উভয় পরীক্ষায় সুনির্দিষ্ট প্রতিকার আইন থেকে ব্যাপক প্রশ্ন আসে — বিশেষত ৯ ধারার দখল পুনরুদ্ধার মামলা, চুক্তি সুনির্দিষ্টভাবে বলবৎযোগ্য না হওয়ার শর্তাবলি, নিষেধাজ্ঞার প্রকারভেদ ও নামঞ্জুরের ক্ষেত্র থেকে।

পরীক্ষায় এই অধ্যায়ের গুরুত্ব

বিশেষভাবে গুরুত্বপূর্ণ: ৯ ধারার দখল পুনরুদ্ধার মামলায় শুধু দখল-বেদখল প্রমাণ, সরকারের বিরুদ্ধে ৯ ধারায় মামলা না চলা, ১২ ধারায় সুনির্দিষ্ট কার্যসম্পাদন বলবৎযোগ্য ৪টি ক্ষেত্র, ২১ ধারায় বলবৎযোগ্য নয় এমন ৮ ধরনের চুক্তি, ২২ ধারায় Hardship-এর ভিত্তিতে অস্বীকৃতি, তিন প্রকার নিষেধাজ্ঞা এবং ৫৬ ধারায় নিষেধাজ্ঞা নামঞ্জুরের ১১টি ক্ষেত্র। প্রতিটি ধারা নম্বর ও সংখ্যা নিখুঁতভাবে মনে রাখাই মূল কৌশল।

প্রশ্নের ধরন — সম্পূর্ণ মানচিত্র

যেখান থেকে প্রশ্ন আসেযা জানতে হয়উদাহরণ
ধারা সরাসরিকোন ধারায় কোন প্রতিকারঘোষণামূলক মামলা — ৪২ ধারা
সংখ্যাভিত্তিককতগুলো ক্ষেত্র/প্রকার আছেবলবৎযোগ্য নয় এমন চুক্তি — ৮ প্রকার
দৃষ্টান্তভিত্তিকএকটি ঘটনায় কোন প্রতিকার প্রযোজ্যগরু বিক্রয়ের চুক্তি ভঙ্গে কোন প্রতিকার?
পার্থক্যমূলককাছাকাছি দুটি প্রতিকারের পার্থক্যরদ (Rescission) ও বাতিলের পার্থক্য

পড়ার কৌশল

  • মূলনীতি মনে রাখুন: আর্থিক ক্ষতিপূরণ পর্যাপ্ত হলে সুনির্দিষ্ট প্রতিকার মেলে না — এই একটি সূত্র থেকেই অধিকাংশ ধারা ব্যাখ্যা করা যায়।
  • ৫ ধরনের প্রতিকার (দখল পুনরুদ্ধার, সুনির্দিষ্ট কার্যসম্পাদন, দলিল সংশোধন/বাতিল/রদ, ঘোষণা, নিষেধাজ্ঞা) — প্রতিটির জন্য কোন ধারা প্রযোজ্য তা টেবিল আকারে সাজিয়ে পড়ুন।
  • ব্যক্তিগত সেবা বা দক্ষতা-নির্ভর চুক্তি (যেমন শিক্ষানবিশ আইনজীবী, শিল্পীর পরিবেশনা) কখনোই সুনির্দিষ্টভাবে বলবৎযোগ্য নয় — এই নীতিটি বারবার বিভিন্ন প্রশ্নে ফিরে আসে।

সম্পত্তির দখল পুনরুদ্ধার (ধারা ৮-৯)

স্বত্ব-নির্ভর দখল পুনরুদ্ধার (৮ ধারা): স্থাবর সম্পত্তির প্রকৃত মালিক হিসেবে দখল দাবি করলে সেই মামলায় বাদীর স্বত্ব বিবেচনা করা হয়। সহজ দখল পুনরুদ্ধার (৯ ধারা): কোনো ব্যক্তি স্থাবর সম্পত্তির দখলে থাকা অবস্থায় আইনানুগ প্রক্রিয়া ছাড়া বেদখল হলে, তিনি স্বত্বের প্রশ্ন উত্থাপন ছাড়াই শুধু দখল ও বেদখল প্রমাণ করে দখল পুনরুদ্ধারের মামলা করতে পারেন — এই মামলায় স্বত্বের বিষয় সম্পূর্ণ অবান্তর।

৯ ধারার মামলার বৈশিষ্ট্য: বেদখলের তারিখ থেকে ৬ মাসের মধ্যে দায়ের করতে হয়; সরকারের বিরুদ্ধে এই ধারায় মামলা করা যায় না (সরকারের বিরুদ্ধে বেদখলে স্বত্ব ঘোষণা ও দখল পুনরুদ্ধার উভয়ের মামলা প্রয়োজন); এবং এই মামলার ডিক্রির বিরুদ্ধে আপিল চলে না, শুধু রিভিশন করা যায়। বাদী এই মামলায় জয়ী হলেও ভবিষ্যতে সেই সম্পত্তির প্রকৃত স্বত্ব নিয়ে পৃথক মামলা করতে বারিত হন না।

৮ ধারা বনাম ৯ ধারা — পার্থক্য বোঝার পদ্ধতি

  1. প্রশ্ন করুন: বাদী কি সম্পত্তির স্বত্ব দাবি করছেন, নাকি শুধু আগের দখল প্রমাণ করতে চান?
  2. স্বত্ব দাবি করলে — ৮ ধারা প্রযোজ্য, যেখানে স্বত্ব বিবেচিত হবে।
  3. শুধু বেআইনিভাবে বেদখল হওয়ার প্রমাণ দিলেই চলে — ৯ ধারা প্রযোজ্য, স্বত্ব অবান্তর।
  4. ৯ ধারায় দ্রুত প্রতিকার পাওয়া যায় (৬ মাসের মধ্যে দায়ের), কিন্তু সরকারের বিরুদ্ধে চলে না।

চুক্তির সুনির্দিষ্ট কার্যসম্পাদন (ধারা ১২, ২১, ২২)

বলবৎযোগ্য ক্ষেত্র (১২ ধারা): সাধারণত আর্থিক ক্ষতিপূরণই যথেষ্ট প্রতিকার হলে সুনির্দিষ্ট কার্যসম্পাদন মঞ্জুর হয় না। তবে ১২ ধারা অনুযায়ী ৪টি নির্দিষ্ট ক্ষেত্রে চুক্তির সুনির্দিষ্ট কার্যসম্পাদন বলবৎযোগ্য — যেমন যখন প্রকৃত ক্ষতি নিরূপণের কোনো মানদণ্ড নেই, বা আর্থিক ক্ষতিপূরণ পর্যাপ্ত প্রতিকার নয় (বিশেষত স্থাবর সম্পত্তি সংক্রান্ত চুক্তিতে)।

বলবৎযোগ্য নয় এমন চুক্তি (২১ ধারা): ২১ ধারায় ৮ ধরনের চুক্তি তালিকাভুক্ত যা সুনির্দিষ্টভাবে বলবৎযোগ্য নয় — যেমন ক্ষতির পরিমাণ নির্ণয়ের মানদণ্ড না থাকা চুক্তি, প্রকৃতিগতভাবে প্রত্যাহারযোগ্য (Revocable) চুক্তি, এবং সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণভাবে — ব্যক্তিগত দক্ষতা বা যোগ্যতা-নির্ভর চুক্তি (যেমন শিল্পীর পরিবেশনা, শিক্ষানবিশ আইনজীবীর চুক্তি), কারণ আদালত কাউকে জোরপূর্বক ব্যক্তিগত সেবা প্রদানে বাধ্য করতে পারে না।

Hardship-এর ভিত্তিতে অস্বীকৃতি (২২ ধারা): চুক্তি আইনগতভাবে বলবৎযোগ্য হলেও, তা বলবৎ করলে বিবাদীর প্রতি অন্যায় কষ্ট (Hardship) সৃষ্টি হবে এমন ক্ষেত্রে আদালত বিবেচনাধীন ক্ষমতাবলে সুনির্দিষ্ট কার্যসম্পাদন অস্বীকার করতে পারেন, যদিও বাদী তখন ক্ষতিপূরণ পেতে পারেন।

সাধারণ পণ্য বনাম বিশেষ সম্পত্তির চুক্তি

বাজারে সহজলভ্য সাধারণ পণ্যের (যেমন গরু, চাল) বিক্রয় চুক্তি ভঙ্গ হলে সাধারণত ক্ষতিপূরণই যথেষ্ট প্রতিকার, কারণ ক্ষতিগ্রস্ত পক্ষ বাজার থেকে একই জিনিস কিনতে পারেন। কিন্তু স্থাবর সম্পত্তি বা অনন্য/দুর্লভ বস্তুর ক্ষেত্রে আর্থিক ক্ষতিপূরণ পর্যাপ্ত নয়, তাই সুনির্দিষ্ট কার্যসম্পাদন মঞ্জুর হয়।

দলিল সংশোধন, বাতিল ও চুক্তি রদ

দলিল সংশোধন (Rectification): পক্ষগণের প্রকৃত অভিপ্রায় দলিলে ভুলবশত সঠিকভাবে প্রতিফলিত না হলে, আদালত সেই দলিল সংশোধন করতে পারেন — এই ক্ষমতা কেবল আদালতেরই, পক্ষগণ বা সম্পাদনকারীগণ নিজেরা দলিল সংশোধন করতে পারেন না। দলিল বাতিল (Cancellation of Document): কোনো দলিল বাতিলযোগ্য বা অকার্যকর হলে ক্ষতিগ্রস্ত পক্ষ আদালতের মাধ্যমে তা বাতিল ঘোষণা করাতে পারেন; দলিল বাতিলের ডিক্রি হলে সেই ডিক্রির কপি সংশ্লিষ্ট নিবন্ধন কর্মকর্তার কাছে নিবন্ধন করতে হয়।

চুক্তি রদ (Rescission of Contract): চুক্তি যদি প্রতারণা, ভুল তথ্য সরবরাহ বা গুরুত্বপূর্ণ তথ্য গোপনের মাধ্যমে সম্পাদিত হয়, তবে ক্ষতিগ্রস্ত পক্ষ সেই চুক্তি রদ (Rescind) করার অধিকারী — যেমন সম্পত্তি বিক্রেতা যদি সম্পত্তির উপর তৃতীয় পক্ষের চলাচলের অধিকার থাকার তথ্য জেনেও তা গোপন করেন, তবে ক্রেতা চুক্তিটি রদ করতে পারেন।

নিষেধাজ্ঞার প্রকারভেদ

সুনির্দিষ্ট প্রতিকার আইনে তিন প্রকার নিষেধাজ্ঞা স্বীকৃত — অস্থায়ী নিষেধাজ্ঞা (Temporary Injunction), যা মামলা চলাকালে দেওয়ানি কার্যবিধির আদেশ ৩৯ দ্বারা নিয়ন্ত্রিত এবং সাময়িকভাবে স্থিতাবস্থা রক্ষা করে; চিরস্থায়ী নিষেধাজ্ঞা (Permanent Injunction), যা মামলার চূড়ান্ত রায়ের মাধ্যমে স্থায়ীভাবে প্রদত্ত হয়; এবং বাধ্যতামূলক নিষেধাজ্ঞা (Mandatory Injunction), যা বিবাদীকে নির্দিষ্ট কোনো কাজ সম্পাদনে বাধ্য করে (নিছক বিরত রাখা নয়, বরং সক্রিয় পদক্ষেপ নিতে বাধ্য করা)।

প্রতিরোধমূলক প্রতিকার (Preventive Relief, ৬ ধারা): নিষেধাজ্ঞা হলো প্রতিরোধমূলক প্রতিকারের মূল হাতিয়ার — কাউকে কোনো কাজ করা থেকে বিরত রাখা। তবে শুধুমাত্র দণ্ড সংক্রান্ত (ফৌজদারি) আইন বলবৎ করার উদ্দেশ্যে নিষেধাজ্ঞা মঞ্জুর করা যায় না — নিষেধাজ্ঞা কেবল দেওয়ানি অধিকার রক্ষার জন্য।

নিষেধাজ্ঞা নামঞ্জুরের ক্ষেত্র (ধারা ৫৬)

৫৬ ধারায় ১১টি নির্দিষ্ট ক্ষেত্র উল্লেখ আছে যেখানে আদালত নিষেধাজ্ঞা মঞ্জুর করবেন না — যেমন যেক্ষেত্রে বিচারাধীন মামলায় নিষেধাজ্ঞা চাওয়া বিষয়বস্তুর বিচার নিষ্পত্তি করে ফেলবে, যেক্ষেত্রে বিবাদীর আচরণ রোধে বাদীর সুস্পষ্ট আইনগত অধিকার প্রতিষ্ঠিত নয়, বা যেক্ষেত্রে বাদী নিজেই বিলম্বের কারণে তার অধিকার হারিয়েছেন (Doctrine of Laches)।

অস্থায়ী নিষেধাজ্ঞা লঙ্ঘনের ফল: দেওয়ানি কার্যবিধির আদেশ ৩৯ বিধি ২(৩) অনুযায়ী অস্থায়ী নিষেধাজ্ঞা ভঙ্গকারীকে দেওয়ানি কারাগারে সর্বোচ্চ ৬ মাস আটক রাখা যেতে পারে, এবং সহকারী জজ প্রদত্ত অস্থায়ী নিষেধাজ্ঞার আদেশের বিরুদ্ধে আপিল চলে (আদেশ ৪৩ বিধি ১)।

ঘোষণামূলক ডিক্রি (ধারা ৪২)

ঘোষণামূলক মামলা (৪২ ধারা): কোনো ব্যক্তির আইনগত পদমর্যাদা বা সম্পত্তিতে অধিকার নিয়ে বিরোধ দেখা দিলে, তিনি আদালতের কাছে সেই অধিকার বা পদমর্যাদার আনুষ্ঠানিক ঘোষণা চাইতে পারেন — এটি শুধুমাত্র একটি ঘোষণা, কোনো কার্যকর প্রতিকার (যেমন দখল হস্তান্তর) নয়। Further Relief-এর বাধ্যবাধকতা: যেক্ষেত্রে বাদী শুধু ঘোষণা ছাড়াও অতিরিক্ত (Further) প্রতিকার চাইতে সক্ষম, সেক্ষেত্রে শুধু ঘোষণা চাইলে এবং অতিরিক্ত প্রতিকার না চাইলে মামলাটি ব্যর্থ হবে — যেমন দখলহীন সম্পত্তির স্বত্ব ঘোষণা চাইলে সাথে দখল পুনরুদ্ধারও চাইতে হবে।

তুলনা ও কমন বিভ্রান্তি

৮ ধারা বনাম ৯ ধারা (দখল পুনরুদ্ধার)

৮ ধারায় বাদীর স্বত্ব বিবেচিত হয়, মামলা তুলনামূলক দীর্ঘস্থায়ী; ৯ ধারায় শুধু দখল-বেদখল প্রমাণ করলেই চলে, ৬ মাসের মধ্যে দায়েরযোগ্য, কিন্তু সরকারের বিরুদ্ধে অকার্যকর।

চুক্তি রদ বনাম দলিল বাতিল

চুক্তি রদ (Rescission) প্রতারণা বা ভুল তথ্যে সম্পাদিত চুক্তি বাতিল করে পক্ষগণকে পূর্বাবস্থায় ফিরিয়ে দেয়; দলিল বাতিল (Cancellation) কোনো নির্দিষ্ট লিখিত দলিলকে আইনগতভাবে অকার্যকর ঘোষণা করে, যার ডিক্রি সংশ্লিষ্ট রেজিস্ট্রি অফিসে নিবন্ধন করতে হয়।

অস্থায়ী বনাম চিরস্থায়ী বনাম বাধ্যতামূলক নিষেধাজ্ঞা

অস্থায়ী নিষেধাজ্ঞা মামলা চলাকালীন সাময়িক স্থিতাবস্থা রক্ষা করে (CPC দ্বারা নিয়ন্ত্রিত); চিরস্থায়ী নিষেধাজ্ঞা মামলার চূড়ান্ত রায়ে স্থায়ীভাবে প্রদত্ত হয়; বাধ্যতামূলক নিষেধাজ্ঞা বিবাদীকে সক্রিয়ভাবে কিছু করতে বাধ্য করে, শুধু বিরত রাখে না।

দ্রুত রিভিশন — গুরুত্বপূর্ণ ধারা ও সংখ্যা এক নজরে

ধারাবিষয়
ধারা ৫৫ প্রকার সুনির্দিষ্ট প্রতিকার
ধারা ৬প্রতিরোধমূলক প্রতিকারের (Preventive Relief) সংজ্ঞা
ধারা ৮স্বত্ব-নির্ভর দখল পুনরুদ্ধার
ধারা ৯শুধু দখল-বেদখল ভিত্তিক পুনরুদ্ধার — সরকারের বিরুদ্ধে অকার্যকর, ৬ মাস তামাদি
ধারা ১২সুনির্দিষ্ট কার্যসম্পাদন বলবৎযোগ্য — ৪টি ক্ষেত্র
ধারা ২১বলবৎযোগ্য নয় এমন চুক্তি — ৮ ধরন
ধারা ২১এঅনিবন্ধিত বিক্রয় চুক্তি বলবৎযোগ্য নয়
ধারা ২২Hardship-এর ভিত্তিতে বিবেচনামূলক অস্বীকৃতি
ধারা ২৯সুনির্দিষ্ট কার্যসম্পাদনের মামলা খারিজে ক্ষতিপূরণের মামলায় বাধা নেই
ধারা ৪২ঘোষণামূলক মামলা, Further Relief-এর বাধ্যবাধকতা
ধারা ৫২নিরোধমূলক (Preventive) প্রতিকার
ধারা ৫৬নিষেধাজ্ঞা নামঞ্জুরের ১১টি ক্ষেত্র

বাস্তব পরীক্ষায় আসা প্রশ্ন ও ব্যাখ্যা

নিচে বিভিন্ন বছরের বার কাউন্সিল পরীক্ষায় সুনির্দিষ্ট প্রতিকার আইন থেকে সরাসরি আসা প্রশ্নগুলো দেওয়া হলো, প্রতিটির বিস্তারিত ব্যাখ্যাসহ।

২০১২ বার কাউন্সিল

সুনির্দিষ্ট প্রতিকার আইন কোন সালে প্রণীত হয়?

(ক) ১৮৭১   (খ) ১৮৭৭   (গ) ১৮৭০   (ঘ) ১৮৮৭

উত্তর: (খ) ১৮৭৭

ব্যাখ্যা: সুনির্দিষ্ট প্রতিকার আইন (The Specific Relief Act) ১৮৭৭ সালে প্রণীত হয়।

২০১২ বার কাউন্সিল

সুনির্দিষ্ট প্রতিকার আইনে কত প্রকার নিষেধাজ্ঞার উল্লেখ আছে?

(ক) ২ প্রকার   (খ) ৩ প্রকার   (গ) ৪ প্রকার   (ঘ) কোনটিই নয়

উত্তর: (খ) ৩ প্রকার

ব্যাখ্যা: সুনির্দিষ্ট প্রতিকার আইনে তিন প্রকার নিষেধাজ্ঞার কথা বলা হয়েছে — অস্থায়ী নিষেধাজ্ঞা, চিরস্থায়ী নিষেধাজ্ঞা এবং বাধ্যতামূলক নিষেধাজ্ঞা।

২০১২ বার কাউন্সিল

সুনির্দিষ্ট প্রতিকার আইনের ৯ ধারা অনুসারে জমির দখল পুনরুদ্ধারের মামলায় কোন বিষয়গুলো প্রমাণ করতে হবে?

(ক) স্বত্ব ও দখল   (খ) সীমানা   (গ) দখল ও বেদখল   (ঘ) শুধু স্বত্ব

উত্তর: (গ) দখল ও বেদখল

ব্যাখ্যা: সুনির্দিষ্ট প্রতিকার আইনের ৯ ধারায় দখল পুনরুদ্ধারের মামলায় শুধু বাদীর দখল এবং বেদখল প্রমাণ করতে হয় — স্বত্বের প্রশ্ন এখানে অবান্তর, এই মামলা বাদীকে স্বত্ব প্রতিষ্ঠায় বারিত করে না।

২০১২ বার কাউন্সিল

কোনো ব্যক্তির নির্দিষ্ট পদমর্যাদা (যেমন কলেজের অধ্যক্ষ পদ) অস্বীকৃত হলে সুনির্দিষ্ট প্রতিকার আইনের কোন ধারায় প্রতিকার পাওয়া সম্ভব?

(ক) ৯ ধারা   (খ) ৫৪ ধারা   (গ) ৩২ ধারা   (ঘ) ৪২ ধারা

উত্তর: (ঘ) ৪২ ধারা

ব্যাখ্যা: সুনির্দিষ্ট প্রতিকার আইনের ৪২ ধারা অনুযায়ী কোনো ব্যক্তি তার আইনগত পদমর্যাদা বা অধিকার ঘোষণার জন্য আদালতে ঘোষণামূলক মামলা করতে পারেন।

২০১৩ বার কাউন্সিল

দেওয়ানি আদালত কর্তৃক স্থায়ী নিষেধাজ্ঞার ডিক্রি প্রদানের ক্ষমতা কেমন?

(ক) বিবেচনামূলক   (খ) বাধ্যতামূলক   (গ) নির্দেশনামূলক   (ঘ) নিরোধমূলক

উত্তর: (ক) বিবেচনামূলক

ব্যাখ্যা: সুনির্দিষ্ট প্রতিকার আইন অনুযায়ী স্থায়ী নিষেধাজ্ঞা প্রদানের ক্ষমতা আদালতের বিবেচনামূলক (Discretionary) — বাদীর দাবি প্রমাণিত হলেও আদালত পরিস্থিতি বিবেচনায় নিষেধাজ্ঞা না-ও দিতে পারেন।

২০১৫ বার কাউন্সিল

সুনির্দিষ্ট প্রতিকার আইনের ৯ ধারার অধীনে কার বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করা যাবে না?

(ক) সরকারের বিরুদ্ধে   (খ) ব্যক্তির বিরুদ্ধে   (গ) ব্যক্তি সংস্থার বিরুদ্ধে   (ঘ) বেসরকারি সংস্থার বিরুদ্ধে

উত্তর: (ক) সরকারের বিরুদ্ধে

ব্যাখ্যা: সুনির্দিষ্ট প্রতিকার আইনের ৯ ধারায় সরকারের বিরুদ্ধে দখল পুনরুদ্ধারের মামলা করা যায় না — সরকারের বিরুদ্ধে বেদখলের প্রতিকার পেতে হলে স্বত্ব ঘোষণা ও দখল উদ্ধার উভয়ের মামলা করতে হয়।

২০২০ বার কাউন্সিল

সুনির্দিষ্ট প্রতিকার আইনের ৫ ধারা অনুযায়ী মোট কত প্রকার সুনির্দিষ্ট প্রতিকার প্রদান করা যায়?

(ক) ৩ প্রকার   (খ) ৪ প্রকার   (গ) ৫ প্রকার   (ঘ) ৬ প্রকার

উত্তর: (গ) ৫ প্রকার

ব্যাখ্যা: সুনির্দিষ্ট প্রতিকার আইনের ৫ ধারা অনুযায়ী ৫ প্রকার সুনির্দিষ্ট প্রতিকার প্রদান করা যায় — দখল পুনরুদ্ধার, চুক্তির সুনির্দিষ্ট কার্যসম্পাদন, দলিল সংশোধন, দলিল বাতিল ও ঘোষণামূলক প্রতিকার প্রভৃতি।

২০২০ বার কাউন্সিল

সুনির্দিষ্ট প্রতিকার আইনের ৫৬ ধারায় নিষেধাজ্ঞার প্রতিকার নামঞ্জুর করার ক্ষেত্র কয়টি উল্লেখ আছে?

(ক) ৭টি   (খ) ৯টি   (গ) ১০টি   (ঘ) ১১টি

উত্তর: (ঘ) ১১টি

ব্যাখ্যা: সুনির্দিষ্ট প্রতিকার আইনের ৫৬ ধারায় যেসব ক্ষেত্রে আদালত নিষেধাজ্ঞা মঞ্জুর করতে পারবেন না তার ১১টি ক্ষেত্র উল্লেখ রয়েছে।

২০২২ বার কাউন্সিল

সুনির্দিষ্ট প্রতিকার আইনের ২১ ধারার অধীন কত ধরনের চুক্তি সুনির্দিষ্টভাবে বলবৎযোগ্য নয়?

(ক) ৫   (খ) ৭   (গ) ৮   (ঘ) ১০

উত্তর: (গ) ৮

ব্যাখ্যা: সুনির্দিষ্ট প্রতিকার আইনের ২১ ধারায় ৮ ধরনের চুক্তি সুনির্দিষ্টভাবে বলবৎযোগ্য নয় বলে উল্লেখ আছে — যেমন ব্যক্তিগত দক্ষতা-নির্ভর চুক্তি, প্রকৃতিগতভাবে প্রত্যাহারযোগ্য চুক্তি ইত্যাদি।

২০২৩ বার কাউন্সিল

সুনির্দিষ্ট প্রতিকার আইনের ১২ ধারানুসারে কত ক্ষেত্রে চুক্তির সুনির্দিষ্ট কার্যসম্পাদন বলবৎযোগ্য?

(ক) ৭   (খ) ৫   (গ) ২   (ঘ) ৪

উত্তর: (ঘ) ৪

ব্যাখ্যা: সুনির্দিষ্ট প্রতিকার আইনের ১২ ধারায় ৪টি নির্দিষ্ট ক্ষেত্রে চুক্তির সুনির্দিষ্ট কার্যসম্পাদন বলবৎযোগ্য বলে উল্লেখ আছে।

অনুশীলনী — ২০টি প্রশ্ন

নিচের প্রশ্নগুলো অনুশীলন করে নিজের প্রস্তুতি যাচাই করুন। প্রতিটি প্রশ্নের সাথে সঠিক উত্তর ও ব্যাখ্যা দেওয়া আছে।

১. নির্দিষ্ট প্রতিকার আইনের ৮ ধারায় কোন প্রতিকারের বিধান আছে?

(ক) স্থাবর সম্পত্তির দখল উদ্ধার (খ) চুক্তি বলবৎকরণ (গ) ঘোষণামূলক ডিক্রি (ঘ) নিষেধাজ্ঞা

সঠিক উত্তর: (ক) স্থাবর সম্পত্তির দখল উদ্ধার

ব্যাখ্যা: ৮ ধারা অনুযায়ী স্থাবর সম্পত্তিতে স্বত্বের ভিত্তিতে দখলচ্যুত ব্যক্তি দখল উদ্ধারের মামলা করতে পারেন।

২. শুধুমাত্র দখলের ভিত্তিতে (বেআইনিভাবে দখলচ্যুত হলে, স্বত্ব প্রমাণ ছাড়াই) দখল উদ্ধারের মামলা কোন ধারায় করা যায়?

(ক) ধারা ৮ (খ) ধারা ৯ (গ) ধারা ৪২ (ঘ) ধারা ৫৪

সঠিক উত্তর: (খ) ধারা ৯

ব্যাখ্যা: ৯ ধারা অনুযায়ী কোনো ব্যক্তি তার সম্মতি ব্যতীত আইনানুগ প্রক্রিয়া ছাড়া দখলচ্যুত হলে স্বত্ব প্রমাণ ছাড়াই দখল উদ্ধারের মামলা করতে পারেন, তবে দখলচ্যুতির ৬ মাসের মধ্যে।

৩. ৯ ধারার অধীনে দখল উদ্ধারের মামলা দায়েরের সময়সীমা কত?

(ক) ৬ মাস (খ) ১ বছর (গ) ৩ বছর (ঘ) ১২ বছর

সঠিক উত্তর: (ক) ৬ মাস

ব্যাখ্যা: ৯ ধারা অনুযায়ী দখলচ্যুতির তারিখ থেকে ৬ মাসের মধ্যে এই মামলা দায়ের করতে হয়।

৪. চুক্তির সুনির্দিষ্ট বলবৎকরণ (Specific Performance) সংক্রান্ত মূল বিধান কোন ধারায় আছে?

(ক) ধারা ১২ (খ) ধারা ২১ (গ) ধারা ৩৪ (ঘ) ধারা ৪২

সঠিক উত্তর: (ক) ধারা ১২

ব্যাখ্যা: ১২ ধারা অনুযায়ী নির্দিষ্ট পরিস্থিতিতে আদালত চুক্তির সুনির্দিষ্ট বলবৎকরণের ডিক্রি প্রদান করতে পারেন।

৫. চুক্তি বাতিলকরণ (Rescission of Contract) সংক্রান্ত বিধান কোন ধারায় আছে?

(ক) ধারা ৩৫ (খ) ধারা ৩৬ (গ) ধারা ৩৭ (ঘ) ধারা ৩৮

সঠিক উত্তর: (ক) ধারা ৩৫

ব্যাখ্যা: ৩৫ ধারায় চুক্তি বাতিলকরণ (Rescission) সংক্রান্ত বিধান রয়েছে।

৬. দলিল সংশোধন (Rectification of Instrument) সংক্রান্ত বিধান কোন ধারায় আছে?

(ক) ধারা ৩১ (খ) ধারা ৩৫ (গ) ধারা ৩৬ (ঘ) ধারা ৩৯

সঠিক উত্তর: (ক) ধারা ৩১

ব্যাখ্যা: ৩১ ধারা অনুযায়ী পক্ষগণের প্রকৃত অভিপ্রায় প্রতিফলিত না হলে দলিল সংশোধনের আদেশ চাওয়া যায়।

৭. দলিল বাতিলকরণ (Cancellation of Instrument) সংক্রান্ত বিধান কোন ধারায় আছে?

(ক) ধারা ৩৯ (খ) ধারা ৪০ (গ) ধারা ৪১ (ঘ) ধারা ৪২

সঠিক উত্তর: (ক) ধারা ৩৯

ব্যাখ্যা: ৩৯ ধারা অনুযায়ী কোনো লিখিত দলিল বাতিলযোগ্য বা অকার্যকর হলে এবং তা ক্ষতির আশঙ্কা সৃষ্টি করলে দলিল বাতিলের মামলা করা যায়।

৮. ঘোষণামূলক ডিক্রি (Declaratory Decree) সংক্রান্ত বিধান কোন ধারায় আছে?

(ক) ধারা ৪২ (খ) ধারা ৪৩ (গ) ধারা ৫৪ (ঘ) ধারা ৫৬

সঠিক উত্তর: (ক) ধারা ৪২

ব্যাখ্যা: ৪২ ধারা অনুযায়ী কোনো ব্যক্তির আইনগত অধিকার বা মর্যাদা সম্পর্কে সংশয় দেখা দিলে তিনি ঘোষণামূলক ডিক্রি চাইতে পারেন।

৯. নিষেধাজ্ঞা (Injunction)-এর সাধারণ প্রকারভেদ কী কী?

(ক) সাময়িক ও স্থায়ী নিষেধাজ্ঞা (খ) শুধু স্থায়ী নিষেধাজ্ঞা (গ) শুধু সাময়িক নিষেধাজ্ঞা (ঘ) প্রকারভেদ নেই

সঠিক উত্তর: (ক) সাময়িক ও স্থায়ী নিষেধাজ্ঞা

ব্যাখ্যা: ৫৩ ধারা অনুযায়ী নিষেধাজ্ঞা প্রধানত সাময়িক (Temporary) ও স্থায়ী (Perpetual) — এই দুই প্রকার।

১০. স্থায়ী নিষেধাজ্ঞা (Perpetual Injunction) সংক্রান্ত মূল বিধান কোন ধারায় আছে?

(ক) ধারা ৫২ (খ) ধারা ৫৩ (গ) ধারা ৫৪ (ঘ) ধারা ৫৭

সঠিক উত্তর: (গ) ধারা ৫৪

ব্যাখ্যা: ৫৪ ধারা অনুযায়ী স্থায়ী নিষেধাজ্ঞা প্রদানের শর্তাবলি বর্ণিত আছে।

১১. বাধ্যতামূলক নিষেধাজ্ঞা (Mandatory Injunction) সংক্রান্ত বিধান কোন ধারায় আছে?

(ক) ধারা ৫৫ (খ) ধারা ৫৬ (গ) ধারা ৫৭ (ঘ) ধারা ৫৮

সঠিক উত্তর: (ক) ধারা ৫৫

ব্যাখ্যা: ৫৫ ধারা অনুযায়ী আদালত বাধ্যতামূলক নিষেধাজ্ঞার মাধ্যমে কোনো কাজ করতে বাধ্য করতে পারেন।

১২. কোন কোন ক্ষেত্রে নিষেধাজ্ঞা প্রদান করা যায় না তা কোন ধারায় বর্ণিত?

(ক) ধারা ৫৩ (খ) ধারা ৫৪ (গ) ধারা ৫৬ (ঘ) ধারা ৫৮

সঠিক উত্তর: (গ) ধারা ৫৬

ব্যাখ্যা: ৫৬ ধারায় নির্দিষ্ট পরিস্থিতিতে (যেমন ফৌজদারি মামলা প্রতিরোধে) নিষেধাজ্ঞা না দেওয়ার বিষয়গুলো বর্ণিত আছে।

১৩. সুনির্দিষ্ট বলবৎকরণ ডিক্রির বিকল্প হিসেবে ক্ষতিপূরণ চাওয়ার বিধান কোন ধারায় আছে?

(ক) ধারা ১৯ (খ) ধারা ২১ (গ) ধারা ২২ (ঘ) ধারা ২৩

সঠিক উত্তর: (খ) ধারা ২১

ব্যাখ্যা: ২১ ধারা অনুযায়ী চুক্তির সুনির্দিষ্ট বলবৎকরণের পাশাপাশি বা তার পরিবর্তে ক্ষতিপূরণ দাবি করা যায়।

১৪. ব্যক্তিগত দক্ষতা-নির্ভর চুক্তি (যেমন—শিল্পী/অভিনেতার চুক্তি) সাধারণত কোন কারণে সুনির্দিষ্টভাবে বলবৎ করা যায় না?

(ক) তা অতি ব্যক্তিগত প্রকৃতির বলে আদালতের পক্ষে তদারকি অসম্ভব (খ) তা বেআইনি (গ) তা মৌখিক চুক্তি বলে (ঘ) তার কোনো প্রতিকার নেই

সঠিক উত্তর: (ক) তা অতি ব্যক্তিগত প্রকৃতির বলে আদালতের পক্ষে তদারকি অসম্ভব

ব্যাখ্যা: ১২ ধারার নীতি অনুযায়ী যে চুক্তি বাস্তবায়নে ক্রমাগত ব্যক্তিগত তদারকি প্রয়োজন, তা সুনির্দিষ্টভাবে বলবৎ করা আদালতের পক্ষে ব্যবহারিকভাবে কঠিন বলে সাধারণত মঞ্জুর করা হয় না; ক্ষতিপূরণই সাধারণ প্রতিকার।

১৫. সুনির্দিষ্ট প্রতিকার আইন অনুযায়ী কার পক্ষে চুক্তির সুনির্দিষ্ট বলবৎকরণ চাওয়া যায় না?

(ক) যিনি নিজে চুক্তির শর্ত ভঙ্গ করেছেন (খ) চুক্তির প্রতিটি পক্ষ (গ) শুধু তৃতীয় পক্ষ (ঘ) শুধু নাবালক

সঠিক উত্তর: (ক) যিনি নিজে চুক্তির শর্ত ভঙ্গ করেছেন

ব্যাখ্যা: যে পক্ষ নিজেই চুক্তির শর্ত পালনে ব্যর্থ বা প্রতারণামূলকভাবে আচরণ করেছেন, তিনি সাধারণত সুনির্দিষ্ট বলবৎকরণ দাবি করতে পারেন না — এটি ন্যায়সঙ্গত হাতের নীতির (Doctrine of Clean Hands) প্রতিফলন।

১৬. চুক্তির সুনির্দিষ্ট বলবৎকরণের মামলায় বাদীর নিজের কর্তব্য পালনে প্রস্তুত ও ইচ্ছুক থাকার শর্ত কোন ধারায় বর্ণিত?

(ক) ধারা ২১ (খ) ধারা ২২ (গ) ধারা ২৪ (ঘ) ধারা ২৫

সঠিক উত্তর: (ক) ধারা ২১

ব্যাখ্যা: ২১ ধারা সংশ্লিষ্ট নীতি অনুযায়ী বাদীকে প্রমাণ করতে হয় যে তিনি চুক্তির শর্ত অনুযায়ী নিজের অংশ পালনে সদা প্রস্তুত ও ইচ্ছুক ছিলেন।

১৭. কোন ক্ষেত্রে আদালত সুনির্দিষ্ট বলবৎকরণের ডিক্রি প্রত্যাখ্যান করতে পারেন যদিও চুক্তিটি বৈধ?

(ক) ডিক্রি কার্যকর করা কঠোরভাবে অন্যায্য হলে (খ) সবসময় ডিক্রি দিতে বাধ্য (গ) শুধু বিবাদীর আপত্তিতে (ঘ) কখনোই প্রত্যাখ্যান করা যায় না

সঠিক উত্তর: (ক) ডিক্রি কার্যকর করা কঠোরভাবে অন্যায্য হলে

ব্যাখ্যা: সুনির্দিষ্ট প্রতিকার আইন অনুযায়ী এটি একটি ন্যায়সঙ্গত (Equitable) প্রতিকার হওয়ায় আদালত পরিস্থিতি বিবেচনায় কঠোরভাবে অন্যায্য হলে ডিক্রি প্রত্যাখ্যান করতে বিবেচনামূলক ক্ষমতা রাখেন।

১৮. চুক্তির অংশ বলবৎকরণ (Part Performance) সংক্রান্ত বিধান কোন ধারায় আছে?

(ক) ধারা ১৫ (খ) ধারা ১৬ (গ) ধারা ১৭ (ঘ) ধারা ১৮

সঠিক উত্তর: (ক) ধারা ১৫

ব্যাখ্যা: ১৫ ধারা অনুযায়ী নির্দিষ্ট শর্তে চুক্তির একটি অংশ সুনির্দিষ্টভাবে বলবৎ করা যেতে পারে।

১৯. তৃতীয় পক্ষের অনুকূলে চুক্তি সুনির্দিষ্টভাবে বলবতের অধিকার কোন ধারায় বর্ণিত?

(ক) ধারা ২৭ (খ) ধারা ২৩ (গ) ধারা ৩০ (ঘ) ধারা ৪২

সঠিক উত্তর: (খ) ধারা ২৩

ব্যাখ্যা: ২৩ ধারা অনুযায়ী নির্দিষ্ট ক্ষেত্রে চুক্তির পক্ষ না হয়েও তৃতীয় ব্যক্তি চুক্তি বলবতের সুবিধা দাবি করতে পারেন।

২০. নিষেধাজ্ঞা মঞ্জুরের ক্ষেত্রে আদালতের বিবেচ্য বিষয় কোনটি নয়?

(ক) আবেদনকারীর ব্যক্তিগত পছন্দ (খ) ক্ষতির প্রকৃতি ও পরিমাণ (গ) বিকল্প প্রতিকারের পর্যাপ্ততা (ঘ) বিলম্ব ও আচরণ (Delay and Conduct)

সঠিক উত্তর: (ক) আবেদনকারীর ব্যক্তিগত পছন্দ

ব্যাখ্যা: নিষেধাজ্ঞা মঞ্জুরে আদালত ক্ষতির প্রকৃতি, বিকল্প প্রতিকারের পর্যাপ্ততা এবং আবেদনকারীর আচরণ বিবেচনা করেন — নিছক ব্যক্তিগত পছন্দ নয়।