সাক্ষ্য আইন, ১৮৭২ (The Evidence Act, 1872)
সাক্ষ্য আইন নির্ধারণ করে দেওয়ানি ও ফৌজদারি — উভয় ধরনের বিচারিক কার্যক্রমে কোন তথ্য আদালতে প্রমাণ হিসেবে গ্রহণযোগ্য, কীভাবে তা উপস্থাপন করতে হয়, এবং কার উপর কোন বিষয় প্রমাণের দায়িত্ব বর্তায়। আইনটি মোট ১৬৭টি ধারা ও ৩টি অধ্যায়ে বিভক্ত — প্রাসঙ্গিকতা (Relevancy), প্রমাণ (Proof), এবং সাক্ষ্য উপস্থাপন ও গ্রহণ (Production and Effect of Evidence)।
বিজেএস ও বার কাউন্সিল উভয় পরীক্ষায় এই আইন থেকে ব্যাপক প্রশ্ন আসে, বিশেষত প্রাসঙ্গিকতা, স্বীকারোক্তি, প্রমাণের দায়, এস্টোপেল এবং সাক্ষী পরীক্ষার নিয়মকানুন থেকে।
পরীক্ষায় এই অধ্যায়ের গুরুত্ব
বিশেষভাবে গুরুত্বপূর্ণ: প্রাসঙ্গিকতা ও গ্রহণযোগ্যতার পার্থক্য, স্বীকারোক্তি (Confession) কখন অগ্রহণযোগ্য হয় (২৪-২৬ ধারা), মৃত্যুকালীন ঘোষণা (৩২ ধারা), প্রাথমিক বনাম গৌণ সাক্ষ্য (৬২-৬৩ ধারা), প্রমাণের দায় ও অনুমানের প্রকারভেদ (Shall Presume/May Presume/Conclusive Proof), এস্টোপেল (১১৫ ধারা), এবং জেরা-পুনঃজেরার নিয়ম (১৩৫-১৬৬ ধারা)। প্রতিটি নির্দিষ্ট ধারা নম্বর মুখস্থ রাখা প্রশ্নের সরাসরি উত্তরে কাজে লাগে।
প্রশ্নের ধরন — সম্পূর্ণ মানচিত্র
| যেখান থেকে প্রশ্ন আসে | যা জানতে হয় | উদাহরণ |
|---|---|---|
| ধারা সরাসরি | কোন ধারায় কোন বিষয় | এস্টোপেল — ১১৫ ধারা |
| উদাহরণভিত্তিক (Illustration) | একটি ঘটনা দিয়ে ধারা শনাক্ত | A বলে B চুরি স্বীকার করেছে — প্রমাণের দায় কার? |
| পার্থক্যমূলক | কাছাকাছি দুটি ধারণার পার্থক্য | স্বীকৃতি ও স্বীকারোক্তির পার্থক্য কী? |
| প্রক্রিয়াগত | সাক্ষী পরীক্ষার ধাপ | জেরায় ইঙ্গিতবাহী প্রশ্ন করা যায় কি? |
পড়ার কৌশল
- প্রথমে "প্রাসঙ্গিকতা" (কোন তথ্য মামলার সাথে সম্পর্কিত) ও "গ্রহণযোগ্যতা" (তা আদালতে প্রমাণ হিসেবে ব্যবহারযোগ্য কিনা) — এই দুটি ধারণার মৌলিক পার্থক্য বুঝে নিন; পুরো আইনের কাঠামো এই দুইয়ের উপর দাঁড়িয়ে।
- সাক্ষী পরীক্ষার স্বাভাবিক ক্রম মনে রাখুন: জবানবন্দি (Examination-in-Chief) → জেরা (Cross-examination) → পুনঃজেরা (Re-examination)।
- Shall Presume (আবশ্যিক অনুমান), May Presume (ঐচ্ছিক অনুমান) ও Conclusive Proof (চূড়ান্ত প্রমাণ) — তিনটি ভিন্ন মাত্রার অনুমান, একসাথে তুলনা করে পড়ুন।
প্রাসঙ্গিক তথ্য — Relevancy (ধারা ৫-১৬)
প্রাসঙ্গিকতার মূলনীতি (৫ ধারা): শুধুমাত্র বিচার্য বিষয় (Fact in Issue) এবং তার সাথে প্রাসঙ্গিক তথ্য সম্পর্কেই সাক্ষ্য প্রদান করা যায় — অপ্রাসঙ্গিক কোনো তথ্য প্রমাণ করা যায় না। Res Gestae (৬ ধারা): বিচার্য বিষয়ের সাথে একই লেনদেনের অংশ হিসেবে সংঘটিত বা বলা তথ্য প্রাসঙ্গিক, যদিও তা বিচার্য বিষয় নয়।
উদ্দেশ্য, প্রস্তুতি ও পূর্ববর্তী/পরবর্তী আচরণ (৮ ধারা): কোনো ঘটনার উদ্দেশ্য, প্রস্তুতি বা পূর্ব-পরবর্তী আচরণ প্রাসঙ্গিক। ষড়যন্ত্র (১০ ধারা): একাধিক ব্যক্তি একত্রে অপরাধ করার ষড়যন্ত্র করলে, ষড়যন্ত্রের উদ্দেশ্যে যেকোনো একজনের কথা বা কাজ অন্য সবার বিরুদ্ধে প্রাসঙ্গিক।
Res Gestae উদাহরণ
- একটি ঘটনা: A কে ছুরিকাঘাত করা হলো এবং সাথে সাথেই A চিৎকার করে বলল "B আমাকে মারল"।
- এই উক্তিটি ঘটনার সাথে এত ঘনিষ্ঠভাবে সংশ্লিষ্ট যে তা একই লেনদেনের অংশ হিসেবে গণ্য হয়।
- ফলে ৬ ধারা অনুযায়ী এটি Res Gestae হিসেবে প্রাসঙ্গিক, যদিও A নিজে তখন সাক্ষী হিসেবে হাজির নেই।
স্বীকৃতি ও স্বীকারোক্তি (ধারা ১৭-৩১)
স্বীকৃতি (Admission, ১৭-২৩ ধারা): কোনো ব্যক্তি মৌখিকভাবে, লিখিতভাবে বা আচরণের মাধ্যমে কোনো বিচার্য বিষয় বা প্রাসঙ্গিক তথ্য সম্পর্কে যে অভিমত প্রকাশ করেন, তা স্বীকৃতি। স্বীকৃতি চূড়ান্ত প্রমাণ নয় (Not Conclusive), তবে অস্বীকৃতির (Estoppel) সৃষ্টি করতে পারে। স্বীকারোক্তি (Confession, ২৪-৩০ ধারা): ফৌজদারি মামলায় অভিযুক্ত ব্যক্তি নিজে অপরাধ করেছেন মর্মে যে স্বীকৃতি দেন, তা স্বীকারোক্তি — এটি স্বীকৃতিরই একটি বিশেষ রূপ।
অগ্রহণযোগ্য স্বীকারোক্তি (২৪ ধারা): প্রলোভন (Inducement), হুমকি (Threat) বা প্রতিশ্রুতি (Promise) দ্বারা প্রভাবিত হয়ে প্রদত্ত স্বীকারোক্তি অগ্রহণযোগ্য। পুলিশের নিকট স্বীকারোক্তি (২৫-২৬ ধারা): পুলিশ কর্মকর্তার নিকট প্রদত্ত স্বীকারোক্তি কোনো ফৌজদারি কার্যক্রমে প্রমাণ হিসেবে গ্রহণযোগ্য নয়, এমনকি পুলিশ হেফাজতে থাকাকালীন অন্য কারও নিকট প্রদত্ত স্বীকারোক্তিও নয় — ব্যতিক্রম শুধু ম্যাজিস্ট্রেটের সরাসরি উপস্থিতিতে প্রদত্ত স্বীকারোক্তি। আলামত আবিষ্কার (২৭ ধারা): পুলিশ হেফাজতে প্রদত্ত স্বীকারোক্তি সাধারণত অগ্রহণযোগ্য হলেও, সেই স্বীকারোক্তির ভিত্তিতে যদি নতুন কোনো তথ্য (যেমন লুকানো অস্ত্র) আবিষ্কৃত হয়, তবে সেই আবিষ্কৃত তথ্য পরিমাণ পর্যন্ত তা প্রাসঙ্গিক ও গ্রহণযোগ্য।
স্বীকৃতি বনাম স্বীকারোক্তি
| বৈশিষ্ট্য | স্বীকৃতি (Admission) | স্বীকারোক্তি (Confession) |
|---|---|---|
| প্রযোজ্য ক্ষেত্র | দেওয়ানি ও ফৌজদারি উভয় ক্ষেত্রে | শুধু ফৌজদারি ক্ষেত্রে |
| বিষয়বস্তু | যেকোনো প্রাসঙ্গিক তথ্য | নিজের অপরাধ স্বীকার |
| প্রমাণিক মূল্য | খণ্ডনযোগ্য, চূড়ান্ত নয় | স্বেচ্ছামূলক হলে শক্তিশালী প্রমাণ |
মৃত্যুকালীন ঘোষণা ও অন্যান্য বিবৃতি (ধারা ৩২-৩৩)
মৃত্যুকালীন ঘোষণা (Dying Declaration, ৩২(১) ধারা): কোনো ব্যক্তি তার মৃত্যুর কারণ বা মৃত্যু ঘটানো লেনদেন সম্পর্কে যে বিবৃতি দেন, তা তার মৃত্যুর পরও প্রাসঙ্গিক — সাধারণ নিয়মে সাক্ষী হাজির থাকা আবশ্যক হলেও এক্ষেত্রে ব্যতিক্রম, কারণ ঘোষণাকারী নিজেই মৃত। এটি প্রমাণ করতে প্রথমে ঘোষণাকারীর মৃত্যু প্রমাণ করতে হয়।
পূর্বে জেরাকৃত সাক্ষীর বিবৃতি (৩৩ ধারা): কোনো সাক্ষী পূর্ববর্তী বিচারিক কার্যক্রমে জেরার সুযোগ পেয়ে সাক্ষ্য দেওয়ার পর যদি মৃত্যুবরণ করেন বা হাজির হতে অক্ষম হন, তবে সেই পূর্ববর্তী সাক্ষ্য একই পক্ষ ও একই বিষয়ের পরবর্তী মামলায় প্রাসঙ্গিক।
জুডিশিয়াল নোটিশ ও অনুমান (ধারা ৫৭, ৭৯-৯০, ১১৪)
জুডিশিয়াল নোটিশ (Judicial Notice, ৫৭ ধারা): কিছু সুবিদিত সাধারণ তথ্য (যেমন দেশের ভৌগোলিক সীমানা, আইন) আদালত প্রমাণ ছাড়াই বিবেচনায় নিতে পারেন — এগুলো আলাদাভাবে প্রমাণ করার প্রয়োজন নেই।
অনুমানের তিনটি স্তর: "May Presume" (আদালত ঐচ্ছিকভাবে অনুমান করতে পারেন, খণ্ডনযোগ্য), "Shall Presume" (আদালত অবশ্যই অনুমান করবেন, তবে বিপরীত প্রমাণ দিয়ে খণ্ডনযোগ্য — যেমন মোক্তারনামার সম্পাদন), এবং "Conclusive Proof" (চূড়ান্ত প্রমাণ, কোনোভাবেই খণ্ডনযোগ্য নয়)। ৯০ ধারা অনুযায়ী ৩০ বছরের পুরাতন দলিল উপযুক্ত হেফাজত থেকে উপস্থাপিত হলে তার স্বাক্ষর ও সম্পাদন সঠিক বলে অনুমান করা যায়।
May Presume vs Shall Presume vs Conclusive Proof
| ধরন | আদালতের বাধ্যবাধকতা | খণ্ডনযোগ্য? |
|---|---|---|
| May Presume | বিবেচনামূলক (ঐচ্ছিক) | হ্যাঁ |
| Shall Presume | বাধ্যতামূলক | হ্যাঁ, বিপরীত প্রমাণে |
| Conclusive Proof | বাধ্যতামূলক | না, কোনোভাবেই নয় |
প্রমাণের দায় — Burden of Proof (ধারা ১০১-১১৪)
মূলনীতি (১০১-১০২ ধারা): যে ব্যক্তি কোনো তথ্যের অস্তিত্ব দাবি করেন, আদালতকে তা বিশ্বাস করাতে চাইলে তাকেই সেই তথ্য প্রমাণ করতে হবে — অর্থাৎ প্রমাণের দায় সবসময় দাবিকারীর উপর বর্তায়, প্রতিপক্ষের উপর নয়।
বিশেষ জ্ঞানের ব্যতিক্রম (১০৬ ধারা): কোনো তথ্য যদি বিশেষভাবে কোনো ব্যক্তির নিজস্ব জ্ঞানের মধ্যে থাকে (যেমন টিকিট থাকার প্রমাণ), তবে তা প্রমাণের দায় সেই ব্যক্তির উপরই বর্তায়। জীবিত থাকার অনুমান (১০৭-১০৮ ধারা): কোনো ব্যক্তির অস্তিত্বের ৩০ বছরের মধ্যে জীবিত থাকার প্রমাণ থাকলে তাকে জীবিত ধরা হয় (১০৭); কিন্তু ৭ বছর ধরে তার কোনো সংবাদ না পাওয়া গেলে, তাকে জীবিত দাবিকারীকেই তা প্রমাণ করতে হবে (১০৮)।
প্রমাণের দায় কার — সিদ্ধান্ত নেওয়ার পদ্ধতি
- প্রশ্ন করুন: কে কোনো তথ্যের অস্তিত্ব দাবি করছে?
- সাধারণ নিয়মে (১০১-১০২ ধারা) দাবিকারীকেই তা প্রমাণ করতে হবে।
- ব্যতিক্রম পরীক্ষা করুন: তথ্যটি কি প্রতিপক্ষের বিশেষ জ্ঞানের মধ্যে (১০৬ ধারা)? সাধারণ ব্যতিক্রমের (self-defence, alibi) দাবি কি (১০৫ ধারা)?
- থাকলে, প্রমাণের দায় সেই বিশেষ পরিস্থিতি অনুযায়ী স্থানান্তরিত হবে।
এস্টোপেল (ধারা ১১৫-১১৭)
মূলনীতি (১১৫ ধারা): কোনো ব্যক্তি তার কথা, আচরণ বা কাজের মাধ্যমে অন্য কোনো ব্যক্তিকে কোনো তথ্য সত্য বলে বিশ্বাস করিয়ে সেই বিশ্বাসের ভিত্তিতে তাকে কাজ করতে প্ররোচিত করলে, পরে সেই ব্যক্তি বা তার প্রতিনিধি নিজের পূর্ববর্তী বক্তব্যের বিপরীত কিছু প্রমাণ করতে পারবেন না। Feeding the Grant by Estoppel: এস্টোপেলের একটি প্রায়োগিক নীতি, যেখানে কেউ এমন সম্পত্তি হস্তান্তর করেন যার প্রকৃত মালিকানা তার তখন ছিল না, কিন্তু পরে অর্জিত হলে সেই হস্তান্তর কার্যকর ধরা হয়।
অংশীদার ও প্রতিনিধির এস্টোপেল (১১৬-১১৭ ধারা): ভাড়াটিয়া তার ভাড়াদাতার স্বত্ব অস্বীকার করতে পারেন না (১১৬), এবং কোনো প্রতিনিধি তার মালিকের স্বত্ব অস্বীকার করতে পারেন না (১১৭)।
সাক্ষীর যোগ্যতা ও সংখ্যা (ধারা ১১৮-১৩৪)
সাক্ষীর যোগ্যতা (১১৮ ধারা): সকল ব্যক্তি সাক্ষ্য দিতে যোগ্য, যদি না আদালত মনে করেন যে বয়স, অতিরিক্ত বার্ধক্য, রোগ বা অনুরূপ কারণে তিনি প্রশ্ন বুঝতে বা যুক্তিসঙ্গত উত্তর দিতে অক্ষম — শিশুর ক্ষেত্রেও যোগ্যতা তার বোধশক্তির (Understanding) উপর নির্ভর করে, বয়সের উপর নয়। স্বামী-স্ত্রী (১২০ ধারা): দেওয়ানি মামলায় কোনো পক্ষের স্বামী বা স্ত্রী যোগ্য সাক্ষী।
প্রয়োজনীয় সাক্ষী সংখ্যা (১৩৪ ধারা): কোনো তথ্য প্রমাণের জন্য নির্দিষ্ট সংখ্যক সাক্ষীর প্রয়োজন নেই — একজন বিশ্বাসযোগ্য সাক্ষীর সাক্ষ্যও যথেষ্ট হতে পারে। বিচারকের বিশেষাধিকার (১২১ ধারা): বিচারক নিজ আদালতে বিচারকালীন নিজ গোচরে আসা বিষয়ে উর্ধ্বতন আদালতের অনুমতি ব্যতীত সাক্ষী হিসেবে উত্তর দিতে বাধ্য নন।
সাক্ষী পরীক্ষা ও জেরা (ধারা ১৩৫-১৬৬)
পরীক্ষার তিন ধাপ: জবানবন্দি (Examination-in-Chief) — যে পক্ষ সাক্ষী ডাকে সে তাকে প্রশ্ন করে; জেরা (Cross-examination) — প্রতিপক্ষ কর্তৃক জিজ্ঞাসিত; পুনঃজেরা (Re-examination, ১৩৮ ধারা) — জেরার পর নিজ পক্ষ কর্তৃক পূর্বের বক্তব্য স্পষ্টীকরণের জন্য।
ইঙ্গিতবাহী প্রশ্ন (Leading Question, ১৪১-১৪৩ ধারা): যে প্রশ্নে উত্তর সরাসরি ইঙ্গিত করা থাকে, তা জবানবন্দিতে সাধারণত অনুমোদিত নয়, তবে জেরায় (Cross-examination) অনুমোদিত। অবিতর্কিত (Undisputed) বিষয়ে আদালতের অনুমতিক্রমে জবানবন্দিতেও তা অনুমোদিত হতে পারে। বৈরী সাক্ষী (Hostile Witness, ১৫৪ ধারা): আদালতের অনুমতিক্রমে নিজ সাক্ষীকেও ইঙ্গিতবাহী বা জেরার ধরনের প্রশ্ন করা যায়, যদি তিনি নিয়োগকারী পক্ষের বিপক্ষে সাক্ষ্য দেন।
চরিত্র আঘাতকারী প্রশ্ন (১৪৬ ধারা): সাক্ষীর বিশ্বাসযোগ্যতা যাচাইয়ের জন্য জেরায় তার চরিত্র আঘাত করে এমন প্রশ্নও করা যায়। বিচারকের প্রশ্ন করার ক্ষমতা (১৬৫ ধারা): সত্য উদঘাটনের স্বার্থে বিচারক নিজে প্রাসঙ্গিক বা অপ্রাসঙ্গিক যেকোনো প্রশ্ন যেকোনো পক্ষ বা সাক্ষীকে করতে পারেন।
কোন ধাপে ইঙ্গিতবাহী প্রশ্ন অনুমোদিত?
| ধাপ | ইঙ্গিতবাহী প্রশ্ন |
|---|---|
| জবানবন্দি (Examination-in-Chief) | সাধারণত নিষিদ্ধ (ব্যতিক্রম: অবিতর্কিত বিষয়) |
| জেরা (Cross-examination) | অনুমোদিত |
| পুনঃজেরা (Re-examination) | জবানবন্দির নিয়ম প্রযোজ্য |
মৌখিক ও দলিলি সাক্ষ্য (ধারা ৫৯-৭৮, ৯১-১০০)
মৌখিক সাক্ষ্য অবশ্যই প্রত্যক্ষ (Direct, ৬০ ধারা): যা দেখা, শোনা বা উপলব্ধি করা হয়েছে, তা নিয়েই মৌখিক সাক্ষ্য দিতে হয় — শোনা কথার উপর ভিত্তি করে (Hearsay) সাক্ষ্য সাধারণত গ্রহণযোগ্য নয়। দলিলের বিষয়বস্তু প্রমাণ (৫৯ ধারা): দলিলের বিষয়বস্তু ব্যতীত সকল তথ্য মৌখিক সাক্ষ্য দ্বারা প্রমাণ করা যায়; দলিলের বিষয়বস্তু প্রমাণ করতে হয় দলিলটি নিজে (৬৪ ধারা) অথবা তার প্রাথমিক/গৌণ সাক্ষ্য দ্বারা।
প্রাথমিক সাক্ষ্য (Primary Evidence, ৬২ ধারা): মূল দলিলটি নিজেই — আদালতে পরিদর্শনের জন্য উপস্থাপিত। একই ছাঁচ থেকে তৈরি একাধিক কপি (যেমন মুদ্রিত পত্রিকা) পরস্পরের প্রাথমিক সাক্ষ্য হিসেবে গণ্য। গৌণ সাক্ষ্য (Secondary Evidence, ৬৩ ধারা): মূল দলিলের প্রত্যায়িত কপি, যান্ত্রিক পদ্ধতিতে তৈরি কপি, প্রতিলিপি, বা মূল দেখেছেন এমন ব্যক্তির মৌখিক বিবরণ।
পাবলিক বনাম প্রাইভেট দলিল (৭৪-৭৫ ধারা): রাষ্ট্রীয় কর্তৃপক্ষ, আদালত বা সরকারি কর্মকর্তা কর্তৃক প্রণীত/সংরক্ষিত দলিল (যেমন আদালতের ডিক্রি, রেজিস্টার) পাবলিক দলিল; বাকি সব (যেমন বিক্রয় দলিল, চুক্তিপত্র) প্রাইভেট দলিল। দলিলি সাক্ষ্য দ্বারা মৌখিক চুক্তির শর্ত বহির্ভূত (৯১-৯২ ধারা): যেকোনো চুক্তি লিখিতভাবে সম্পাদিত হলে, তার শর্তাবলি প্রমাণে দলিলটিই একমাত্র প্রমাণ — পৃথক মৌখিক সাক্ষ্য দ্বারা তার বিপরীত বা সংযোজন প্রমাণ করা যায় না।
প্রাথমিক বনাম গৌণ সাক্ষ্য
| বৈশিষ্ট্য | প্রাথমিক সাক্ষ্য | গৌণ সাক্ষ্য |
|---|---|---|
| উৎস | মূল দলিল নিজে | মূলের প্রতিলিপি/বিবরণ |
| গ্রহণযোগ্যতা | সরাসরি গ্রহণযোগ্য | শুধু মূল অনুপস্থিত/অগম্য হলে |
| উদাহরণ | মূল বিক্রয় দলিল | ফটোকপি, সহিমোহর নকল |
তুলনা ও কমন বিভ্রান্তি
স্বীকৃতি বনাম স্বীকারোক্তি
স্বীকৃতি (Admission) দেওয়ানি ও ফৌজদারি উভয় ক্ষেত্রে যেকোনো প্রাসঙ্গিক তথ্য নিয়ে হতে পারে; স্বীকারোক্তি (Confession) শুধু ফৌজদারি মামলায় নিজের অপরাধ স্বীকার করাকে বোঝায় — সব স্বীকারোক্তিই স্বীকৃতি, কিন্তু সব স্বীকৃতি স্বীকারোক্তি নয়।
প্রাসঙ্গিকতা বনাম গ্রহণযোগ্যতা
প্রাসঙ্গিকতা (Relevancy) নির্ধারণ করে কোন তথ্য মামলার বিষয়ের সাথে যৌক্তিকভাবে সম্পর্কিত; গ্রহণযোগ্যতা (Admissibility) নির্ধারণ করে সেই প্রাসঙ্গিক তথ্য আদালতে আইনগতভাবে প্রমাণ হিসেবে উপস্থাপনযোগ্য কিনা। প্রাসঙ্গিক তথ্যও অনেক সময় পদ্ধতিগত কারণে অগ্রহণযোগ্য হতে পারে (যেমন পুলিশের নিকট স্বীকারোক্তি)।
মে প্রিজিউম বনাম শাল প্রিজিউম বনাম কনক্লুসিভ প্রুফ
May Presume-এ আদালতের সিদ্ধান্ত নেওয়ার স্বাধীনতা আছে; Shall Presume-এ আদালত বাধ্য কিন্তু পক্ষ বিপরীত প্রমাণ দিতে পারে; Conclusive Proof একবার প্রতিষ্ঠিত হলে তা কোনোভাবেই খণ্ডন করা যায় না।
দ্রুত রিভিশন — গুরুত্বপূর্ণ ধারা এক নজরে
| ধারা | বিষয় |
|---|---|
| ধারা ৫-১৬ | প্রাসঙ্গিকতা (Relevancy), Res Gestae |
| ধারা ১৭-২৩ | স্বীকৃতি (Admission) |
| ধারা ২৪-৩০ | স্বীকারোক্তি (Confession) ও তার গ্রহণযোগ্যতা |
| ধারা ২৫-২৬ | পুলিশের নিকট স্বীকারোক্তি — অগ্রহণযোগ্য |
| ধারা ২৭ | আলামত আবিষ্কারজনিত তথ্য — প্রাসঙ্গিক |
| ধারা ৩২(১) | মৃত্যুকালীন ঘোষণা (Dying Declaration) |
| ধারা ৩৩ | পূর্বে জেরাকৃত সাক্ষীর বিবৃতি |
| ধারা ৫৭ | জুডিশিয়াল নোটিশ |
| ধারা ৫৯-৬০ | মৌখিক সাক্ষ্য অবশ্যই প্রত্যক্ষ |
| ধারা ৬২ | প্রাথমিক সাক্ষ্য (Primary Evidence) |
| ধারা ৬৩ | গৌণ সাক্ষ্য (Secondary Evidence) |
| ধারা ৭৪-৭৫ | পাবলিক ও প্রাইভেট দলিল |
| ধারা ৯০ | ৩০ বছরের পুরাতন দলিলের অনুমান |
| ধারা ৯১-৯২ | দলিলি চুক্তির শর্ত বহির্ভূত মৌখিক সাক্ষ্য নিষেধ |
| ধারা ১০১-১০২ | প্রমাণের দায়ের মূলনীতি |
| ধারা ১০৫ | সাধারণ ব্যতিক্রমের (আত্মরক্ষা) দাবির প্রমাণের দায় |
| ধারা ১০৬ | বিশেষ জ্ঞানের বিষয়ে প্রমাণের দায় |
| ধারা ১০৭-১০৮ | জীবিত/মৃত থাকার অনুমান |
| ধারা ১১৪(g) | উপস্থাপন না করা সাক্ষ্য প্রতিকূল ধরে নেওয়ার অনুমান |
| ধারা ১১৫ | এস্টোপেল |
| ধারা ১১৮-১২০ | সাক্ষীর যোগ্যতা |
| ধারা ১৩৪ | নির্দিষ্ট সংখ্যক সাক্ষী আবশ্যক নয় |
| ধারা ১৩৮ | জবানবন্দি-জেরা-পুনঃজেরার ক্রম |
| ধারা ১৪২-১৪৩ | ইঙ্গিতবাহী প্রশ্ন (Leading Question) |
| ধারা ১৪৫-১৪৬ | জেরায় পূর্ব বিবৃতি ও চরিত্র সংক্রান্ত প্রশ্ন |
| ধারা ১৫৪ | বৈরী সাক্ষী (Hostile Witness) |
| ধারা ১৬৫ | বিচারকের প্রশ্ন করার বিশেষ ক্ষমতা |
বাস্তব পরীক্ষায় আসা প্রশ্ন ও ব্যাখ্যা
নিচে বিভিন্ন বছরের বার কাউন্সিল পরীক্ষায় সাক্ষ্য আইন থেকে সরাসরি আসা প্রশ্নগুলো দেওয়া হলো, প্রতিটির বিস্তারিত ব্যাখ্যাসহ।
পুলিশের নিকট আসামীর স্বীকারোক্তি কোন ক্ষেত্রে সাক্ষ্য হিসাবে আদালতে গ্রহণযোগ্য হবে?
(ক) ম্যাজিস্ট্রেটের উপস্থিতিতে (খ) নিরপেক্ষ সাক্ষীর উপস্থিতিতে (গ) স্বীকারোক্তিমতে আলামত উদ্ধার হলে (ঘ) স্বীকারোক্তি স্বেচ্ছামূলক হলে
উত্তর: (গ) স্বীকারোক্তিমতে আলামত উদ্ধার হলে
ব্যাখ্যা: সাক্ষ্য আইনের ২৭ ধারা অনুযায়ী পুলিশের নিকট প্রদত্ত স্বীকারোক্তি সাধারণত অগ্রহণযোগ্য হলেও, স্বীকারোক্তিমতে কোনো তথ্য (যেমন আলামত) আবিষ্কৃত হলে সেই তথ্য পরিমাণ পর্যন্ত তা গ্রহণযোগ্য।
কোন ব্যক্তির মৃত্যুকালীন ঘোষণা (Dying Declaration) তার কোন বিষয় সম্পর্কে সাক্ষ্য হিসাবে গ্রহণযোগ্য?
(ক) মৃত্যুর কারণ (খ) সম্পত্তি দান (গ) পরিচয় (ঘ) বিবাহ
উত্তর: (ক) মৃত্যুর কারণ
ব্যাখ্যা: সাক্ষ্য আইনের ৩২(১) ধারা অনুযায়ী কোনো ব্যক্তি তার মৃত্যুর কারণ বা মৃত্যু ঘটানোর লেনদেন সম্পর্কে প্রদত্ত বিবৃতি প্রাসঙ্গিক, যদিও সে ব্যক্তি সাক্ষ্য দিতে হাজির হতে পারেননি।
কোনটি মূল দালিলিক সাক্ষ্য (Primary Evidence)?
(ক) ফটোস্ট্যাট কপি (খ) দৈনিক পত্রিকার একটি কপি (গ) সত্যায়িত কপি (ঘ) মূল দলিলের বিবরণ শোনা সাক্ষ্য
উত্তর: (খ) দৈনিক পত্রিকার একটি কপি
ব্যাখ্যা: সাক্ষ্য আইনের ৬২ ধারা অনুযায়ী যখন একই ছাঁচ থেকে (যেমন মুদ্রণযন্ত্রে) একাধিক কপি তৈরি হয়, যেমন দৈনিক পত্রিকা, তখন প্রতিটি কপিই একে অপরের মূল দালিলিক সাক্ষ্য হিসেবে গণ্য।
কোন দলিলটি পাবলিক দলিল (Public Document)?
(ক) প্রকাশিত কবিতা (খ) ব্যক্তিগত পত্র (গ) আদালতে দাখিলকৃত মামলার আরজি (ঘ) ব্যক্তিগত উইল
উত্তর: (গ) আদালতে দাখিলকৃত মামলার আরজি
ব্যাখ্যা: সাক্ষ্য আইনের ৭৪ ধারা অনুসারে আদালতে দাখিলকৃত দলিল, যেমন আরজি, পাবলিক দলিল (Public Document) হিসেবে গণ্য হয়।
ফৌজদারি মামলায় আত্মরক্ষামূলক পরিস্থিতির (Private Defence) দাবি উঠলে তা প্রমাণের দায়িত্ব কার?
(ক) অভিযোগকারীর (খ) রাষ্ট্রের (গ) উক্ত দাবি উত্থাপনকারীর (ঘ) ক্ষতিগ্রস্ত ব্যক্তির
উত্তর: (গ) উক্ত দাবি উত্থাপনকারীর
ব্যাখ্যা: সাক্ষ্য আইনের ১০৫ ধারা অনুসারে আত্মরক্ষা বা দণ্ডবিধির সাধারণ ব্যতিক্রমের (General Exceptions) আওতায় দাবি উত্থাপিত হলে তা প্রমাণের দায় সেই দাবি উত্থাপনকারীর উপরই বর্তায়।
মালিকের অনুমতি নিয়ে 'ক' একটি বাড়িতে অবস্থানকালে বাড়ির মালিকানা দাবি করলে, এক্ষেত্রে আইনগত বাধাকে কী বলে?
(ক) স্বীকৃতি (Admission) (খ) স্ব-কার্যজনিত বাধা (Estoppel) (গ) দাবি ত্যাগ (Waiver) (ঘ) মৌন সম্মতি
উত্তর: (খ) স্ব-কার্যজনিত বাধা (Estoppel)
ব্যাখ্যা: সাক্ষ্য আইনের ১১৫ ধারায় Estoppel এর বিধান আছে — কোনো ব্যক্তি তার পূর্ববর্তী আচরণ বা স্বীকৃতির ভিত্তিতে অন্যকে বিশ্বাস করালে, পরে তা অস্বীকার করতে পারবেন না।
প্রতিপক্ষ কর্তৃক জেরাকৃত একজন সাক্ষীর সাক্ষ্য একই বিষয়ে ও পক্ষদ্বয়ের মধ্যে পরবর্তী যেকোনো বিচারিক কার্যক্রমে প্রাসঙ্গিক হবে, যখন উক্ত সাক্ষী হন—
(ক) সশস্ত্র বাহিনীর সদস্য (খ) সরকারি কর্মচারী (গ) মৃত ব্যক্তি (ঘ) জীবিত ব্যক্তি
উত্তর: (গ) মৃত ব্যক্তি
ব্যাখ্যা: সাক্ষ্য আইনের ৩৩ ধারা অনুযায়ী পূর্বে জেরাকৃত সাক্ষীর সাক্ষ্য, তিনি মৃত হলে বা হাজির হতে অক্ষম হলে, একই পক্ষ ও বিষয়ের পরবর্তী মামলায় প্রাসঙ্গিক হয়।
৩০ বছরের পুরাতন দলিলের সম্পাদন সঠিক ধরে নেওয়া যেতে পারে যদি তা উপস্থিত হয়—
(ক) যেকোনো হেফাজত হতে (খ) উপযুক্ত হেফাজত হতে (গ) একজন আইনজীবীর নিকট হতে (ঘ) একজন বিচারকের নিকট হতে
উত্তর: (খ) উপযুক্ত হেফাজত হতে
ব্যাখ্যা: সাক্ষ্য আইনের ৯০ ধারা অনুসারে ৩০ বছরের পুরাতন দলিল যদি উপযুক্ত হেফাজত (Proper Custody) থেকে উপস্থাপিত হয়, তবে তার স্বাক্ষর ও সম্পাদন আদালত সঠিক বলে অনুমান করতে পারে।
The Evidence Act, 1872-এর কোন ধারায় বিচারকের ক্ষমতাবলে তিনি কোনো সাক্ষীকে যেকোনো প্রশ্ন করতে পারেন?
(ক) ১৫১ (খ) ১৫৭ (গ) ১৬৫ (ঘ) ১৬৭
উত্তর: (গ) ১৬৫
ব্যাখ্যা: সাক্ষ্য আইনের ১৬৫ ধারায় বিচারকের বিশেষ ক্ষমতার বিধান আছে — সত্য উদঘাটনের স্বার্থে বিচারক প্রাসঙ্গিক বা অপ্রাসঙ্গিক যেকোনো প্রশ্ন যেকোনো সাক্ষী বা পক্ষকে করতে পারেন।
'Feeding the grant by estoppel' নীতিটি সাক্ষ্য আইনের কোন ধারার সাথে সম্পর্কিত?
(ক) ১১৪ (খ) ১১৫ (গ) ১১৮ (ঘ) ১১৭
উত্তর: (খ) ১১৫
ব্যাখ্যা: সাক্ষ্য আইনের ১১৫ ধারায় Estoppel-এর বিধান বর্ণিত আছে, এবং 'Feeding the grant by estoppel' নীতিটি এই ধারার আওতাভুক্ত একটি প্রায়োগিক নীতি।
অনুশীলনী — ৬৪টি প্রশ্ন
নিচের প্রশ্নগুলো অনুশীলন করে নিজের প্রস্তুতি যাচাই করুন। প্রতিটি প্রশ্নের সাথে সঠিক উত্তর ও ব্যাখ্যা দেওয়া আছে।
১. সাক্ষ্য আইনের ১০১ ধারায় কোন বিষয়ে বিধান আছে?
(ক) প্রমাণের দায় (Burden of Proof) (খ) প্রাসঙ্গিকতা (Relevancy) (গ) সাক্ষীর যোগ্যতা (ঘ) দলিলের প্রকারভেদ
সঠিক উত্তর: (ক) প্রমাণের দায় (Burden of Proof)
ব্যাখ্যা: ১০১ ধারা অনুযায়ী যিনি কোনো তথ্যের অস্তিত্ব দাবি করেন, তাকেই তা প্রমাণের দায় (Burden of Proof) বহন করতে হয়।
২. সাক্ষ্য আইনের ৩ ধারায় 'প্রমাণিত' (Proved) শব্দের সংজ্ঞা কীভাবে দেওয়া হয়েছে?
(ক) আদালত যখন কোনো তথ্যকে বিদ্যমান বলে বিশ্বাস করেন অথবা এতটাই সম্ভাব্য মনে করেন যে বিচক্ষণ ব্যক্তি তার ভিত্তিতে কাজ করবেন (খ) শুধু সাক্ষীর জবানবন্দিতে উল্লেখ থাকলেই (গ) শুধু দলিল দাখিল করলেই (ঘ) শুধু স্বীকারোক্তি থাকলেই
সঠিক উত্তর: (ক) আদালত যখন কোনো তথ্যকে বিদ্যমান বলে বিশ্বাস করেন অথবা এতটাই সম্ভাব্য মনে করেন যে বিচক্ষণ ব্যক্তি তার ভিত্তিতে কাজ করবেন
ব্যাখ্যা: ৩ ধারার সংজ্ঞা অনুযায়ী আদালত কোনো তথ্যকে বিদ্যমান বলে বিশ্বাস করলে বা তা এতটাই সম্ভাব্য মনে করলে যে বিচক্ষণ ব্যক্তি সে অনুযায়ী কাজ করবেন, তখন তা 'প্রমাণিত' বলে গণ্য হয়।
৩. প্রাসঙ্গিক তথ্য (Relevant Fact) ও বিচার্য বিষয় (Fact in Issue)-এর পার্থক্য মূলত কী?
(ক) বিচার্য বিষয় সরাসরি মামলার মূল প্রশ্ন, প্রাসঙ্গিক তথ্য তার সাথে সংযুক্ত সহায়ক তথ্য (খ) উভয়ই একই জিনিস (গ) প্রাসঙ্গিক তথ্য শুধু আসামীর বক্তব্য (ঘ) বিচার্য বিষয় শুধু ফৌজদারি মামলায় প্রযোজ্য
সঠিক উত্তর: (ক) বিচার্য বিষয় সরাসরি মামলার মূল প্রশ্ন, প্রাসঙ্গিক তথ্য তার সাথে সংযুক্ত সহায়ক তথ্য
ব্যাখ্যা: বিচার্য বিষয় হলো মামলার মূল প্রশ্ন যার উপর সিদ্ধান্ত নির্ভর করে, আর প্রাসঙ্গিক তথ্য তার সাথে সংশ্লিষ্ট এবং প্রমাণে সহায়ক তথ্য।
৪. মৌখিক সাক্ষ্য (Oral Evidence) অবশ্যই কেমন হতে হবে?
(ক) প্রত্যক্ষ (Direct) (খ) শোনা কথা (Hearsay) (গ) অনুমাননির্ভর (ঘ) লিখিত
সঠিক উত্তর: (ক) প্রত্যক্ষ (Direct)
ব্যাখ্যা: ৬০ ধারা অনুযায়ী মৌখিক সাক্ষ্য অবশ্যই প্রত্যক্ষ হতে হবে, অর্থাৎ সাক্ষী নিজে যা দেখেছেন, শুনেছেন বা অনুভব করেছেন তাই বলতে পারবেন।
৫. দলিলগত সাক্ষ্যের ক্ষেত্রে মূল দলিল দাখিলের নিয়মকে কী বলে?
(ক) Primary Evidence Rule (মূল সাক্ষ্যের নিয়ম) (খ) Secondary Evidence Rule (গ) Hearsay Rule (ঘ) Best Evidence Rule শুধুই সাক্ষীর জন্য
সঠিক উত্তর: (ক) Primary Evidence Rule (মূল সাক্ষ্যের নিয়ম)
ব্যাখ্যা: ৬৪ ধারা অনুযায়ী দলিল প্রমাণের জন্য সাধারণত মূল দলিল (Primary Evidence) দাখিল করতে হয়।
৬. গৌণ সাক্ষ্য (Secondary Evidence) কখন গ্রহণযোগ্য হয়?
(ক) মূল দলিল হারিয়ে গেলে বা দাখিল অসম্ভব হলে, নির্দিষ্ট শর্তে (খ) সবসময় ইচ্ছামতো (গ) শুধু ফৌজদারি মামলায় (ঘ) শুধু সরকারি দলিলের ক্ষেত্রে
সঠিক উত্তর: (ক) মূল দলিল হারিয়ে গেলে বা দাখিল অসম্ভব হলে, নির্দিষ্ট শর্তে
ব্যাখ্যা: ৬৫ ধারা অনুযায়ী নির্দিষ্ট পরিস্থিতিতে (যেমন মূল দলিল হারানো, ধ্বংস হওয়া) গৌণ সাক্ষ্য দাখিল করা যায়।
৭. স্বীকারোক্তি (Confession) ও স্বীকৃতি (Admission)-এর মধ্যে পার্থক্য কী?
(ক) স্বীকারোক্তি শুধু ফৌজদারি অপরাধের ক্ষেত্রে প্রযোজ্য, স্বীকৃতি দেওয়ানি ও ফৌজদারি উভয় ক্ষেত্রে (খ) উভয়ই সম্পূর্ণ অভিন্ন (গ) স্বীকৃতি শুধু আসামীর ক্ষেত্রে (ঘ) স্বীকারোক্তি শুধু সাক্ষীর ক্ষেত্রে
সঠিক উত্তর: (ক) স্বীকারোক্তি শুধু ফৌজদারি অপরাধের ক্ষেত্রে প্রযোজ্য, স্বীকৃতি দেওয়ানি ও ফৌজদারি উভয় ক্ষেত্রে
ব্যাখ্যা: স্বীকারোক্তি (Confession) হলো অভিযুক্ত ব্যক্তির নিজ অপরাধ স্বীকার, যা ফৌজদারি মামলায় প্রযোজ্য; স্বীকৃতি (Admission) ব্যাপকতর ও দেওয়ানি-ফৌজদারি উভয় ক্ষেত্রে প্রযোজ্য।
৮. যৌথ ষড়যন্ত্রে (Conspiracy) একজন অপরাধীর বক্তব্য অন্য অপরাধীর বিরুদ্ধে প্রাসঙ্গিক হওয়ার বিধান কোন ধারায়?
(ক) ধারা ১০ (খ) ধারা ১১ (গ) ধারা ২৪ (ঘ) ধারা ৩০
সঠিক উত্তর: (ক) ধারা ১০
ব্যাখ্যা: ১০ ধারা অনুযায়ী সাধারণ উদ্দেশ্য অর্জনের লক্ষ্যে ষড়যন্ত্রকালে একজনের বক্তব্য বা কাজ অন্য ষড়যন্ত্রকারীদের বিরুদ্ধেও প্রাসঙ্গিক প্রমাণ হিসেবে গণ্য হতে পারে।
৯. প্ররোচনা, ভীতি বা প্রলোভনের ফলে প্রদত্ত স্বীকারোক্তি সম্পর্কে বিধান কোন ধারায় আছে?
(ক) ধারা ২৪ (খ) ধারা ২৫ (গ) ধারা ২৬ (ঘ) ধারা ২৭
সঠিক উত্তর: (ক) ধারা ২৪
ব্যাখ্যা: ২৪ ধারা অনুযায়ী প্ররোচনা, ভীতি প্রদর্শন বা প্রলোভনের ফলে প্রদত্ত স্বীকারোক্তি অপ্রাসঙ্গিক ও অগ্রহণযোগ্য।
১০. পুলিশ হেফাজতে থাকাকালীন প্রদত্ত স্বীকারোক্তি সম্পর্কে বিধান কোন ধারায় আছে?
(ক) ধারা ২৫ (খ) ধারা ২৬ (গ) ধারা ২৭ (ঘ) ধারা ৩০
সঠিক উত্তর: (খ) ধারা ২৬
ব্যাখ্যা: ২৬ ধারা অনুযায়ী পুলিশ হেফাজতে থাকাকালীন প্রদত্ত স্বীকারোক্তি ম্যাজিস্ট্রেটের উপস্থিতি ব্যতীত গ্রহণযোগ্য নয়।
১১. তথ্য আবিষ্কারের সাথে সম্পর্কিত স্বীকারোক্তির অংশবিশেষ গ্রহণযোগ্যতা সংক্রান্ত বিধান কোন ধারায় আছে?
(ক) ধারা ২৬ (খ) ধারা ২৭ (গ) ধারা ২৮ (ঘ) ধারা ২৯
সঠিক উত্তর: (খ) ধারা ২৭
ব্যাখ্যা: ২৭ ধারা অনুযায়ী আসামীর তথ্যের ভিত্তিতে নতুন কোনো তথ্য বা বস্তু আবিষ্কৃত হলে, সেই তথ্যের ততটুকু অংশ যা আবিষ্কারের সাথে স্পষ্টভাবে সম্পর্কিত, তা গ্রহণযোগ্য।
১২. যৌথ বিচারে সহ-আসামীর স্বীকারোক্তি অন্য আসামীর বিরুদ্ধে বিবেচনার বিধান কোন ধারায় আছে?
(ক) ধারা ৩০ (খ) ধারা ৩২ (গ) ধারা ৩৩ (ঘ) ধারা ৩৫
সঠিক উত্তর: (ক) ধারা ৩০
ব্যাখ্যা: ৩০ ধারা অনুযায়ী যৌথ বিচারে একজন আসামীর স্বীকারোক্তি অন্য আসামীর বিরুদ্ধেও আদালত বিবেচনায় নিতে পারেন, যদিও তা একা যথেষ্ট প্রমাণ নয়।
১৩. মৃত্যুকালীন জবানবন্দি (Dying Declaration) সংক্রান্ত বিধান কোন ধারায় আছে?
(ক) ধারা ৩২(১) (খ) ধারা ৩৩ (গ) ধারা ৩৪ (ঘ) ধারা ৬০
সঠিক উত্তর: (ক) ধারা ৩২(১)
ব্যাখ্যা: ৩২(১) ধারা অনুযায়ী মৃত্যুর কারণ সম্পর্কে মৃত ব্যক্তির প্রদত্ত বিবৃতি (Dying Declaration) নির্দিষ্ট শর্তে প্রাসঙ্গিক ও গ্রহণযোগ্য।
১৪. বিশেষজ্ঞ মতামত (Expert Opinion) সংক্রান্ত বিধান কোন ধারায় আছে?
(ক) ধারা ৪৫ (খ) ধারা ৪৬ (গ) ধারা ৪৭ (ঘ) ধারা ৪৮
সঠিক উত্তর: (ক) ধারা ৪৫
ব্যাখ্যা: ৪৫ ধারা অনুযায়ী বিদেশি আইন, বিজ্ঞান, শিল্পকলা বা হাতের লেখা সংক্রান্ত বিষয়ে বিশেষজ্ঞের মতামত প্রাসঙ্গিক।
১৫. চরিত্র (Character) সংক্রান্ত সাক্ষ্য দেওয়ানি মামলায় কতটুকু প্রাসঙ্গিক?
(ক) সাধারণত ক্ষতিপূরণের পরিমাণ নির্ধারণ ব্যতীত অপ্রাসঙ্গিক (খ) সবসময় সম্পূর্ণ প্রাসঙ্গিক (গ) শুধু বাদীর ক্ষেত্রে প্রাসঙ্গিক (ঘ) শুধু বিবাদীর ক্ষেত্রে প্রাসঙ্গিক
সঠিক উত্তর: (ক) সাধারণত ক্ষতিপূরণের পরিমাণ নির্ধারণ ব্যতীত অপ্রাসঙ্গিক
ব্যাখ্যা: ৫২ ধারা অনুযায়ী দেওয়ানি মামলায় চরিত্র সংক্রান্ত তথ্য সাধারণত অপ্রাসঙ্গিক, তবে ক্ষতিপূরণের পরিমাণ নির্ধারণে তা প্রাসঙ্গিক হতে পারে (৫৫ ধারা)।
১৬. স্বীকৃত তথ্য (Admitted Facts) প্রমাণের প্রয়োজনীয়তা সম্পর্কে বিধান কোন ধারায়?
(ক) ধারা ৫৬ (খ) ধারা ৫৭ (গ) ধারা ৫৮ (ঘ) ধারা ৫৯
সঠিক উত্তর: (গ) ধারা ৫৮
ব্যাখ্যা: ৫৮ ধারা অনুযায়ী পক্ষগণ কর্তৃক স্বীকৃত তথ্য সাধারণত পুনরায় প্রমাণের প্রয়োজন হয় না।
১৭. দলিলে সাক্ষী (Attesting Witness) থাকা সত্ত্বেও তার সাক্ষ্য গ্রহণ বাধ্যতামূলক কিনা তা কোন ধারায় বর্ণিত?
(ক) ধারা ৬৮ (খ) ধারা ৬৯ (গ) ধারা ৭০ (ঘ) ধারা ৭১
সঠিক উত্তর: (ক) ধারা ৬৮
ব্যাখ্যা: ৬৮ ধারা অনুযায়ী নির্দিষ্ট দলিল (যেমন উইল) প্রমাণে অন্তত একজন সাক্ষী সাক্ষীর সাক্ষ্য প্রয়োজন হতে পারে, আইনে ভিন্ন বিধান না থাকলে।
১৮. গণসাক্ষ্য বা জনগণের সাধারণ বিশ্বাসের (Common Reputation) মাধ্যমে প্রমাণযোগ্য বিষয় কোনটি হতে পারে?
(ক) পুরাতন সীমানা বা প্রথা সংক্রান্ত বিষয় (খ) সাম্প্রতিক অপরাধ (গ) ব্যক্তিগত চুক্তি (ঘ) মৃত্যুর কারণ
সঠিক উত্তর: (ক) পুরাতন সীমানা বা প্রথা সংক্রান্ত বিষয়
ব্যাখ্যা: সাক্ষ্য আইনের বিধান অনুযায়ী দীর্ঘকালীন প্রথা, সীমানা বা সাধারণ অধিকার সংক্রান্ত বিষয় জনসাধারণের সাধারণ বিশ্বাসের (Common Reputation) মাধ্যমে প্রমাণিত হতে পারে।
১৯. সাক্ষীর যোগ্যতা (Competency of Witness) সংক্রান্ত মূল বিধান কোন ধারায় আছে?
(ক) ধারা ১১৮ (খ) ধারা ১১৯ (গ) ধারা ১২০ (ঘ) ধারা ১২১
সঠিক উত্তর: (ক) ধারা ১১৮
ব্যাখ্যা: ১১৮ ধারা অনুযায়ী প্রশ্ন বুঝতে ও যুক্তিসঙ্গত উত্তর দিতে সক্ষম যেকোনো ব্যক্তি সাক্ষী হিসেবে যোগ্য, বয়স বা অবস্থা কোনো বাধা নয় যদি বোধগম্যতা থাকে।
২০. স্বামী-স্ত্রীর মধ্যে বৈবাহিক জীবনকালীন যোগাযোগ প্রকাশে বাধা সংক্রান্ত বিধান কোন ধারায় আছে?
(ক) ধারা ১২১ (খ) ধারা ১২২ (গ) ধারা ১২৩ (ঘ) ধারা ১২৪
সঠিক উত্তর: (খ) ধারা ১২২
ব্যাখ্যা: ১২২ ধারা অনুযায়ী বিবাহিত অবস্থায় স্বামী-স্ত্রীর মধ্যে যোগাযোগ সাধারণত গোপনীয় এবং তা প্রকাশে বাধ্য করা যায় না, নির্দিষ্ট ব্যতিক্রম ব্যতীত।
২১. জেরার (Cross-Examination) মূল উদ্দেশ্য কী?
(ক) সাক্ষীর জবানবন্দির সত্যতা ও নির্ভরযোগ্যতা যাচাই করা (খ) সাক্ষীকে সমর্থন করা (গ) নতুন তথ্য গোপন রাখা (ঘ) মামলা দ্রুত শেষ করা
সঠিক উত্তর: (ক) সাক্ষীর জবানবন্দির সত্যতা ও নির্ভরযোগ্যতা যাচাই করা
ব্যাখ্যা: জেরার মাধ্যমে বিপক্ষের আইনজীবী সাক্ষীর জবানবন্দির সত্যতা, নির্ভরযোগ্যতা ও সামঞ্জস্য যাচাই করেন।
২২. পূর্ববর্তী লিখিত বিবৃতির মাধ্যমে সাক্ষীকে খণ্ডন (Contradiction) করার বিধান কোন ধারায় আছে?
(ক) ধারা ১৪৫ (খ) ধারা ১৪৬ (গ) ধারা ১৫৫ (ঘ) ধারা ১৬৫
সঠিক উত্তর: (ক) ধারা ১৪৫
ব্যাখ্যা: ১৪৫ ধারা অনুযায়ী সাক্ষীর পূর্ববর্তী লিখিত বিবৃতির সাথে অসামঞ্জস্য দেখিয়ে তাকে জেরায় খণ্ডন করা যায়।
২৩. সাক্ষীর বিশ্বাসযোগ্যতা প্রশ্নবিদ্ধ (Impeach Credit) করার বিধান কোন ধারায় আছে?
(ক) ধারা ১৫৪ (খ) ধারা ১৫৫ (গ) ধারা ১৫৬ (ঘ) ধারা ১৫৭
সঠিক উত্তর: (খ) ধারা ১৫৫
ব্যাখ্যা: ১৫৫ ধারা অনুযায়ী নির্দিষ্ট উপায়ে সাক্ষীর বিশ্বাসযোগ্যতা প্রশ্নবিদ্ধ করা যায়, যেমন চরিত্র সংক্রান্ত সাক্ষ্য বা ঘুষ গ্রহণের প্রমাণের মাধ্যমে।
২৪. বিচারক সাক্ষীকে প্রাসঙ্গিক প্রশ্ন জিজ্ঞাসা করার ক্ষমতা কোন ধারায় আছে?
(ক) ধারা ১৬৫ (খ) ধারা ১৬৬ (গ) ধারা ১৬৭ (ঘ) ধারা ১৪৫
সঠিক উত্তর: (ক) ধারা ১৬৫
ব্যাখ্যা: ১৬৫ ধারা অনুযায়ী সত্য উদঘাটনের স্বার্থে বিচারক যেকোনো সময় সাক্ষী বা পক্ষকে যেকোনো প্রাসঙ্গিক প্রশ্ন করতে পারেন।
২৫. ভুলভাবে সাক্ষ্য গ্রহণ বা বর্জনের কারণে রায় বাতিলযোগ্য হয় কিনা তা সম্পর্কে সাধারণ নীতি কী?
(ক) ন্যায়বিচারে প্রকৃত ব্যাঘাত না ঘটলে রায় বাতিল হয় না (খ) সবসময় রায় বাতিল হয়ে যায় (গ) শুধু ফৌজদারি মামলায় প্রযোজ্য (ঘ) কখনোই প্রভাব ফেলে না
সঠিক উত্তর: (ক) ন্যায়বিচারে প্রকৃত ব্যাঘাত না ঘটলে রায় বাতিল হয় না
ব্যাখ্যা: ১৬৭ ধারা অনুযায়ী সাক্ষ্য গ্রহণ বা বর্জনে ভুল হলেও তা প্রকৃত ন্যায়বিচারে বাধা সৃষ্টি না করলে রায় শুধুমাত্র সেই কারণে বাতিলযোগ্য নয়।
২৬. আসামীর নীরবতা (Right to Silence) সাক্ষ্য আইনের কোন মূলনীতির সাথে সম্পর্কিত?
(ক) আসামীকে নিজের বিরুদ্ধে সাক্ষ্য দিতে বাধ্য করা যায় না (খ) আসামীর নীরবতা দোষের প্রমাণ (গ) আসামীকে অবশ্যই সাক্ষ্য দিতে হবে (ঘ) শুধু দেওয়ানি মামলায় প্রযোজ্য
সঠিক উত্তর: (ক) আসামীকে নিজের বিরুদ্ধে সাক্ষ্য দিতে বাধ্য করা যায় না
ব্যাখ্যা: সংবিধানের ৩৫(৪) অনুচ্ছেদ ও প্রচলিত ফৌজদারি বিচার নীতি অনুযায়ী আসামীকে নিজের বিরুদ্ধে সাক্ষী হতে বাধ্য করা যায় না — এটি ন্যায্য বিচারের মৌলিক নীতি।
২৭. সাক্ষ্য আইনের ৯ ধারায় কোন ধরনের তথ্য প্রাসঙ্গিক বলা হয়েছে?
(ক) বিচার্য বিষয় ব্যাখ্যা বা তার সাথে সংগতিপূর্ণ তথ্য (পরিচয়, সময়, স্থান নির্ধারণে সহায়ক) (খ) শুধু চরিত্র সংক্রান্ত তথ্য (গ) শুধু বিশেষজ্ঞ মতামত (ঘ) শুধু দলিলগত প্রমাণ
সঠিক উত্তর: (ক) বিচার্য বিষয় ব্যাখ্যা বা তার সাথে সংগতিপূর্ণ তথ্য (পরিচয়, সময়, স্থান নির্ধারণে সহায়ক)
ব্যাখ্যা: ৯ ধারা অনুযায়ী বিচার্য বিষয় ব্যাখ্যাকারী, তার সাথে সংগতিপূর্ণ বা অসংগতিপূর্ণ তথ্য, এবং পরিচয়/সময়/স্থান নির্ধারণে সহায়ক তথ্য প্রাসঙ্গিক।
২৮. উদ্দেশ্য, প্রস্তুতি ও পূর্ব আচরণ (Motive, Preparation, Previous Conduct) সংক্রান্ত প্রাসঙ্গিকতা কোন ধারায় বর্ণিত?
(ক) ধারা ৮ (খ) ধারা ৯ (গ) ধারা ১০ (ঘ) ধারা ১১
সঠিক উত্তর: (ক) ধারা ৮
ব্যাখ্যা: ৮ ধারা অনুযায়ী কোনো তথ্য যা বিচার্য বিষয়ের উদ্দেশ্য, প্রস্তুতি বা পূর্ববর্তী/পরবর্তী আচরণ প্রদর্শন করে, তা প্রাসঙ্গিক।
২৯. অপ্রাসঙ্গিক তথ্য অন্যথায় প্রাসঙ্গিক হয়ে ওঠে কোন ধারা অনুযায়ী, যখন তা অন্য প্রাসঙ্গিক তথ্যের সাথে সাংঘর্ষিক বা সামঞ্জস্যপূর্ণ হয়?
(ক) ধারা ১১ (খ) ধারা ১২ (গ) ধারা ১৩ (ঘ) ধারা ১৪
সঠিক উত্তর: (ক) ধারা ১১
ব্যাখ্যা: ১১ ধারা অনুযায়ী কোনো তথ্য যা অন্যথায় প্রাসঙ্গিক তথ্যের সাথে অসামঞ্জস্যপূর্ণ, অথবা কোনো বিষয়ের সম্ভাব্যতা/অসম্ভাব্যতা প্রবলভাবে প্রভাবিত করে, তা প্রাসঙ্গিক হতে পারে।
৩০. বিচার্য বিষয়ে কারো মানসিক অবস্থা, শারীরিক অনুভূতি বা অভিপ্রায় সংক্রান্ত প্রাসঙ্গিকতা কোন ধারায় বর্ণিত?
(ক) ধারা ১৪ (খ) ধারা ১৫ (গ) ধারা ১৬ (ঘ) ধারা ১৭
সঠিক উত্তর: (ক) ধারা ১৪
ব্যাখ্যা: ১৪ ধারা অনুযায়ী কোনো ব্যক্তির নির্দিষ্ট মানসিক অবস্থা, শারীরিক অনুভূতি, অভিপ্রায় বা জ্ঞান সংক্রান্ত তথ্য যখন বিচার্য বিষয়ের অংশ, তখন তা প্রাসঙ্গিক।
৩১. দলিলের বিষয়বস্তু (Contents of Documents) মৌখিক সাক্ষ্য দ্বারা প্রমাণের সাধারণ নিষেধাজ্ঞা কোন ধারায় আছে?
(ক) ধারা ৯১ (খ) ধারা ৯২ (গ) ধারা ৯৩ (ঘ) ধারা ৯৪
সঠিক উত্তর: (ক) ধারা ৯১
ব্যাখ্যা: ৯১ ধারা অনুযায়ী যেখানে চুক্তি বা লেনদেন লিখিত দলিলে রূপান্তরিত হয়েছে, সেখানে দলিলের বিষয়বস্তু প্রমাণে দলিলই একমাত্র গ্রহণযোগ্য প্রমাণ, মৌখিক সাক্ষ্য নয়।
৩২. লিখিত দলিলের শর্তাবলি পরিবর্তনের জন্য মৌখিক সাক্ষ্য গ্রহণযোগ্যতার সাধারণ নিষেধাজ্ঞা কোন ধারায় আছে?
(ক) ধারা ৯১ (খ) ধারা ৯২ (গ) ধারা ৯৩ (ঘ) ধারা ৯৪
সঠিক উত্তর: (খ) ধারা ৯২
ব্যাখ্যা: ৯২ ধারা অনুযায়ী দলিলের শর্তাবলি পরিবর্তন, সংযোজন বা বিয়োজনের জন্য সাধারণত মৌখিক সাক্ষ্য গ্রহণযোগ্য নয়, নির্দিষ্ট ব্যতিক্রম ব্যতীত।
৩৩. বিচারিক স্বীকৃতি (Judicial Admission) সম্পর্কে সাধারণ নীতি কী?
(ক) তা প্রমাণের প্রয়োজনীয়তা থেকে অব্যাহতি দিতে পারে (খ) তা কখনো গ্রহণযোগ্য নয় (গ) তা শুধু ফৌজদারি মামলায় প্রযোজ্য (ঘ) তা শুধু দলিলগত হতে হয়
সঠিক উত্তর: (ক) তা প্রমাণের প্রয়োজনীয়তা থেকে অব্যাহতি দিতে পারে
ব্যাখ্যা: আদালতে পক্ষগণ কর্তৃক স্বীকৃত তথ্য (Judicial Admission) সাধারণত পুনরায় প্রমাণের প্রয়োজন হয় না।
৩৪. এস্টোপেল (Estoppel)-এর সংজ্ঞা সাক্ষ্য আইনের কোন ধারায় আছে?
(ক) ধারা ১১৫ (খ) ধারা ১১৬ (গ) ধারা ১১৭ (ঘ) ধারা ১১৮
সঠিক উত্তর: (ক) ধারা ১১৫
ব্যাখ্যা: ১১৫ ধারায় এস্টোপেল-এর সংজ্ঞা দেওয়া হয়েছে — কোনো ব্যক্তি তার পূর্ববর্তী কথা বা আচরণের ভিত্তিতে অন্যকে বিশ্বাস করালে পরে তা অস্বীকার করতে পারবেন না।
৩৫. অংশীদার, প্রতিনিধি বা যৌথ স্বার্থসম্পন্ন ব্যক্তির স্বীকৃতি অন্যদের বিরুদ্ধে প্রাসঙ্গিক হওয়ার বিধান কোন ধারায় আছে?
(ক) ধারা ১৮ (খ) ধারা ১৯ (গ) ধারা ২০ (ঘ) ধারা ২১
সঠিক উত্তর: (ক) ধারা ১৮
ব্যাখ্যা: ১৮ ধারা অনুযায়ী নির্দিষ্ট সম্পর্কযুক্ত ব্যক্তি (যেমন অংশীদার, প্রতিনিধি) কর্তৃক প্রদত্ত স্বীকৃতি অন্য সংশ্লিষ্ট ব্যক্তির বিরুদ্ধেও প্রাসঙ্গিক হতে পারে।
৩৬. সাক্ষ্য আইনের ৩২ ধারায় মৃত বা অনুপস্থিত ব্যক্তির বিবৃতি কোন কোন ক্ষেত্রে প্রাসঙ্গিক হতে পারে?
(ক) মৃত্যুর কারণ, সাধারণ কর্তব্য পালন, স্বার্থবিরোধী বিবৃতি প্রভৃতি ক্ষেত্রে (খ) শুধু ফৌজদারি মামলায় (গ) শুধু দেওয়ানি মামলায় (ঘ) কোনো ক্ষেত্রেই নয়
সঠিক উত্তর: (ক) মৃত্যুর কারণ, সাধারণ কর্তব্য পালন, স্বার্থবিরোধী বিবৃতি প্রভৃতি ক্ষেত্রে
ব্যাখ্যা: ৩২ ধারা অনুযায়ী সাক্ষী মৃত বা হাজির হতে অক্ষম হলে তার পূর্ববর্তী বিবৃতি নির্দিষ্ট পরিস্থিতিতে (মৃত্যুর কারণ, সাধারণ কর্তব্য পালনকালে প্রদত্ত, স্বার্থবিরোধী ইত্যাদি) প্রাসঙ্গিক হতে পারে।
৩৭. পূর্ববর্তী মামলায় প্রদত্ত সাক্ষ্য পরবর্তী মামলায় ব্যবহারের বিধান কোন ধারায় আছে?
(ক) ধারা ৩৩ (খ) ধারা ৩৪ (গ) ধারা ৩৫ (ঘ) ধারা ৩৬
সঠিক উত্তর: (ক) ধারা ৩৩
ব্যাখ্যা: ৩৩ ধারা অনুযায়ী নির্দিষ্ট শর্তে (যেমন সাক্ষী মৃত/অনুপস্থিত এবং পূর্বে জেরার সুযোগ ছিল) পূর্ববর্তী মামলার সাক্ষ্য পরবর্তী মামলায় ব্যবহারযোগ্য।
৩৮. সরকারি নথিপত্র (Public Documents)-এর সংজ্ঞা কোন ধারায় আছে?
(ক) ধারা ৭৪ (খ) ধারা ৭৫ (গ) ধারা ৭৬ (ঘ) ধারা ৭৭
সঠিক উত্তর: (ক) ধারা ৭৪
ব্যাখ্যা: ৭৪ ধারায় সরকারি নথিপত্র (Public Documents)-এর সংজ্ঞা দেওয়া হয়েছে, যেমন—রাষ্ট্রীয় কার্যাবলির নথি বা সরকারি রেজিস্টার।
৩৯. সরকারি নথির প্রত্যায়িত অনুলিপি (Certified Copies) সংক্রান্ত বিধান কোন ধারায় আছে?
(ক) ধারা ৭৬ (খ) ধারা ৭৭ (গ) ধারা ৭৮ (ঘ) ধারা ৭৯
সঠিক উত্তর: (খ) ধারা ৭৭
ব্যাখ্যা: ৭৭ ধারা অনুযায়ী সরকারি নথির প্রত্যায়িত অনুলিপি মূল দলিল দাখিল ছাড়াই প্রমাণ হিসেবে দাখিল করা যায়।
৪০. অনুমান (Presumption) কত প্রকার?
(ক) ৩ প্রকার (May Presume, Shall Presume, Conclusive Proof) (খ) ২ প্রকার (গ) ৪ প্রকার (ঘ) ৫ প্রকার
সঠিক উত্তর: (ক) ৩ প্রকার (May Presume, Shall Presume, Conclusive Proof)
ব্যাখ্যা: সাক্ষ্য আইন অনুযায়ী অনুমান প্রধানত তিন প্রকার — বিচারকের ঐচ্ছিক অনুমান (May Presume), বাধ্যতামূলক অনুমান (Shall Presume) এবং চূড়ান্ত প্রমাণ (Conclusive Proof)।
৪১. নিরুদ্দেশ ব্যক্তির মৃত্যু অনুমান করার বিধান কোন ধারায় আছে?
(ক) ধারা ১০৭ (খ) ধারা ১০৮ (গ) ধারা ১০৯ (ঘ) ধারা ১১০
সঠিক উত্তর: (খ) ধারা ১০৮
ব্যাখ্যা: ১০৮ ধারা অনুযায়ী কোনো ব্যক্তি সম্পর্কে ৭ বছর কোনো সংবাদ না পাওয়া গেলে আদালত তার মৃত্যুর অনুমান করতে পারেন।
৪২. দখলের ভিত্তিতে মালিকানার অনুমান সংক্রান্ত বিধান কোন ধারায় আছে?
(ক) ধারা ১০৯ (খ) ধারা ১১০ (গ) ধারা ১১১ (ঘ) ধারা ১১২
সঠিক উত্তর: (খ) ধারা ১১০
ব্যাখ্যা: ১১০ ধারা অনুযায়ী কোনো সম্পত্তিতে দখলে থাকা ব্যক্তিকে মালিক হিসেবে অনুমান করা হয়, যতক্ষণ না বিপরীত প্রমাণিত হয়।
৪৩. প্রাথমিক বনাম গৌণ সাক্ষ্যের ক্ষেত্রে ছাপা বইয়ের একটি নির্ভরযোগ্য কপি কী ধরনের প্রমাণ হিসেবে গণ্য?
(ক) প্রাথমিক প্রমাণ (খ) গৌণ প্রমাণ সবসময় (গ) কোনো প্রমাণ নয় (ঘ) শুধু বিশেষজ্ঞ মতামত
সঠিক উত্তর: (ক) প্রাথমিক প্রমাণ
ব্যাখ্যা: ৬২ ধারার ব্যাখ্যা অনুযায়ী যান্ত্রিকভাবে মূল থেকে একযোগে ছাপানো একাধিক অভিন্ন কপির প্রতিটিই একে অপরের ক্ষেত্রে প্রাথমিক প্রমাণ হিসেবে গণ্য হয়।
৪৪. সরকারি নথির ব্যতীত অন্যান্য দলিল যাচাইয়ে সাধারণত কী প্রয়োজন হয়?
(ক) হস্তাক্ষর বা সম্পাদন প্রমাণ (Proof of Signature/Execution) (খ) শুধু মৌখিক দাবি (গ) শুধু তারিখ উল্লেখ (ঘ) কোনো প্রমাণের প্রয়োজন নেই
সঠিক উত্তর: (ক) হস্তাক্ষর বা সম্পাদন প্রমাণ (Proof of Signature/Execution)
ব্যাখ্যা: বেসরকারি দলিলের ক্ষেত্রে সাধারণত সাক্ষী বা হস্তাক্ষর বিশেষজ্ঞের মাধ্যমে সম্পাদন/হস্তাক্ষর প্রমাণ করতে হয়।
৪৫. আদালতে গৃহীত তথ্যের যে বিষয়ে প্রমাণের প্রয়োজন নেই তাকে কী বলে?
(ক) Judicial Notice (খ) Estoppel (গ) Presumption (ঘ) Hearsay
সঠিক উত্তর: (ক) Judicial Notice
ব্যাখ্যা: ৫৭ ধারা অনুযায়ী সাধারণভাবে সুবিদিত তথ্য (যেমন আইন, ভৌগোলিক তথ্য) সম্পর্কে আদালত Judicial Notice গ্রহণ করেন, পৃথক প্রমাণের প্রয়োজন হয় না।
৪৬. সাক্ষীর স্মৃতি সতেজ করতে দলিল ব্যবহারের (Refreshing Memory) বিধান কোন ধারায় আছে?
(ক) ধারা ১৫৯ (খ) ধারা ১৬০ (গ) ধারা ১৬১ (ঘ) ধারা ১৬৫
সঠিক উত্তর: (ক) ধারা ১৫৯
ব্যাখ্যা: ১৫৯ ধারা অনুযায়ী সাক্ষী জবানবন্দি প্রদানকালে তার স্মৃতি সতেজ করতে পূর্বে লিখিত কোনো দলিল দেখতে পারেন।
৪৭. পুনঃজেরার (Re-examination) উদ্দেশ্য কী?
(ক) জেরায় উত্থাপিত বিষয়ের ব্যাখ্যা প্রদান (খ) নতুন সাক্ষ্য উপস্থাপন (গ) সাক্ষীকে ভীতি প্রদর্শন (ঘ) মামলা দীর্ঘায়িত করা
সঠিক উত্তর: (ক) জেরায় উত্থাপিত বিষয়ের ব্যাখ্যা প্রদান
ব্যাখ্যা: ১৩৮ ধারা অনুযায়ী জেরায় উত্থাপিত বিষয় স্পষ্টীকরণের জন্য সংশ্লিষ্ট পক্ষ পুনঃজেরা করতে পারেন।
৪৮. প্রশ্নোত্তর পদ্ধতিতে সাক্ষ্য গ্রহণের তিনটি ধাপ কী কী?
(ক) জবানবন্দি (Examination-in-chief), জেরা (Cross-examination), পুনঃজেরা (Re-examination) (খ) শুধু জবানবন্দি ও রায় (গ) শুধু জেরা (ঘ) তদন্ত, বিচার, রায়
সঠিক উত্তর: (ক) জবানবন্দি (Examination-in-chief), জেরা (Cross-examination), পুনঃজেরা (Re-examination)
ব্যাখ্যা: সাক্ষ্য গ্রহণ সাধারণত পক্ষের জবানবন্দি, বিপক্ষের জেরা এবং প্রয়োজনে পুনঃজেরা — এই তিন ধাপে সম্পন্ন হয়।
৪৯. প্রশ্ন যা সাক্ষীর উত্তর নির্দেশ করে দেয় তাকে কী বলে?
(ক) Leading Question (খ) Cross Question (গ) Hostile Question (ঘ) Direct Question
সঠিক উত্তর: (ক) Leading Question
ব্যাখ্যা: ১৪১ ধারা অনুযায়ী যে প্রশ্নে কাঙ্ক্ষিত উত্তর ইঙ্গিত করা থাকে তাকে Leading Question বলে, যা সাধারণত জবানবন্দিতে অনুমোদিত নয়, জেরায় অনুমোদিত।
৫০. প্রতিকূল সাক্ষী (Hostile Witness)-কে নিজের পক্ষ কর্তৃক জেরা করার অনুমতি কোন ধারায় আছে?
(ক) ধারা ১৫৪ (খ) ধারা ১৫৫ (গ) ধারা ১৫৬ (ঘ) ধারা ১৪৫
সঠিক উত্তর: (ক) ধারা ১৫৪
ব্যাখ্যা: ১৫৪ ধারা অনুযায়ী আদালতের অনুমতিক্রমে নিজের সাক্ষীকেও জেরা করা যায়, যদি সে প্রতিকূল আচরণ করে।
৫১. বৈদ্যুতিন রেকর্ড (Electronic Record) সাক্ষ্য হিসেবে গ্রহণযোগ্যতার বিধান সাক্ষ্য আইনে কীভাবে যুক্ত হয়েছে?
(ক) তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি আইনের মাধ্যমে সংশোধনীর দ্বারা (খ) মূল সাক্ষ্য আইনে কখনোই ছিল না বা যুক্ত হয়নি (গ) শুধু বিশেষ ট্রাইব্যুনালে প্রযোজ্য (ঘ) শুধু ফৌজদারি মামলায় প্রযোজ্য
সঠিক উত্তর: (ক) তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি আইনের মাধ্যমে সংশোধনীর দ্বারা
ব্যাখ্যা: তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি আইন এবং সংশ্লিষ্ট সংশোধনীর মাধ্যমে ইলেকট্রনিক রেকর্ড ও কম্পিউটার-উৎপাদিত দলিল সাক্ষ্য আইনের আওতায় গ্রহণযোগ্য প্রমাণ হিসেবে অন্তর্ভুক্ত হয়েছে।
৫২. আলামত হিসেবে জব্দকৃত বস্তু (Material Evidence) আদালতে উপস্থাপনের গুরুত্ব কী?
(ক) তা সরাসরি বাস্তব প্রমাণ হিসেবে বিচারে সহায়ক (খ) তার কোনো গুরুত্ব নেই (গ) শুধু ছবি দেখালেই যথেষ্ট (ঘ) শুধু সাক্ষীর বর্ণনাই যথেষ্ট
সঠিক উত্তর: (ক) তা সরাসরি বাস্তব প্রমাণ হিসেবে বিচারে সহায়ক
ব্যাখ্যা: জব্দকৃত আলামত (যেমন অস্ত্র, রক্তমাখা কাপড়) সরাসরি প্রদর্শন অভিযোগ প্রমাণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে।
৫৩. সাক্ষ্য আইনে 'তথ্য' (Fact)-এর সংজ্ঞা কোন ধারায় আছে?
(ক) ধারা ৩ (খ) ধারা ৫ (গ) ধারা ৭ (ঘ) ধারা ৯
সঠিক উত্তর: (ক) ধারা ৩
ব্যাখ্যা: ৩ ধারায় 'তথ্য' (Fact)-এর সংজ্ঞা দেওয়া হয়েছে — ইন্দ্রিয় দ্বারা উপলব্ধিযোগ্য বা মানসিক অবস্থা।
৫৪. চক্রান্তমূলক অপরাধে অংশগ্রহণকারীদের একজনের কথিত বক্তব্য কখন অন্যদের বিরুদ্ধে অগ্রহণযোগ্য?
(ক) ষড়যন্ত্রের সন্দেহ সৃষ্টির পূর্বে বা ষড়যন্ত্র সমাপ্তির পরে বলা হলে (খ) সবসময় গ্রহণযোগ্য (গ) সবসময় অগ্রহণযোগ্য (ঘ) শুধু আদালতে বলা হলে গ্রহণযোগ্য
সঠিক উত্তর: (ক) ষড়যন্ত্রের সন্দেহ সৃষ্টির পূর্বে বা ষড়যন্ত্র সমাপ্তির পরে বলা হলে
ব্যাখ্যা: ১০ ধারার সুযোগ শুধু ষড়যন্ত্র চলাকালীন সাধারণ উদ্দেশ্য অর্জনের লক্ষ্যে প্রদত্ত বক্তব্যের জন্য প্রযোজ্য, তার আগে বা পরে নয়।
৫৫. সাক্ষ্য আইনে 'দলিল' (Document)-এর সংজ্ঞা কোন ধারায় আছে?
(ক) ধারা ৩ (খ) ধারা ৬৩ (গ) ধারা ৭৪ (ঘ) ধারা ৯১
সঠিক উত্তর: (ক) ধারা ৩
ব্যাখ্যা: ৩ ধারায় 'দলিল' (Document)-এর সংজ্ঞা দেওয়া হয়েছে — অক্ষর, চিহ্ন বা প্রতীকের মাধ্যমে বর্ণিত বা প্রকাশিত যেকোনো বিষয়।
৫৬. প্রাসঙ্গিকতা (Relevancy) ও গ্রহণযোগ্যতা (Admissibility)-র মধ্যে সম্পর্ক কী?
(ক) প্রাসঙ্গিক তথ্যই সাধারণত গ্রহণযোগ্য, তবে সব প্রাসঙ্গিক তথ্য স্বয়ংক্রিয়ভাবে সাক্ষ্য নয় যদি না তা আইনের অন্য শর্ত পূরণ করে (খ) উভয়ই সম্পূর্ণ অভিন্ন ধারণা (গ) গ্রহণযোগ্যতা প্রাসঙ্গিকতার পূর্বশর্ত নয় কখনোই (ঘ) কোনো সম্পর্ক নেই
সঠিক উত্তর: (ক) প্রাসঙ্গিক তথ্যই সাধারণত গ্রহণযোগ্য, তবে সব প্রাসঙ্গিক তথ্য স্বয়ংক্রিয়ভাবে সাক্ষ্য নয় যদি না তা আইনের অন্য শর্ত পূরণ করে
ব্যাখ্যা: সাধারণত প্রাসঙ্গিক তথ্য আদালতে গ্রহণযোগ্য হয়, তবে কিছু ক্ষেত্রে (যেমন সংবিধিবদ্ধ নিষেধাজ্ঞা) প্রাসঙ্গিক তথ্যও অগ্রহণযোগ্য হতে পারে।
৫৭. সরকারি গোপনীয়তা রক্ষার্থে নির্দিষ্ট যোগাযোগ প্রকাশে বাধা সংক্রান্ত বিধান কোন ধারায় আছে?
(ক) ধারা ১২৩ (খ) ধারা ১২৪ (গ) ধারা ১২৫ (ঘ) ধারা ১২৬
সঠিক উত্তর: (ক) ধারা ১২৩
ব্যাখ্যা: ১২৩ ধারা অনুযায়ী রাষ্ট্রীয় স্বার্থে গোপনীয় সরকারি নথি সম্পর্কিত সাক্ষ্য যথাযথ কর্তৃপক্ষের অনুমতি ব্যতীত প্রদান করা যায় না।
৫৮. আইনজীবী ও মক্কেলের মধ্যে পেশাগত যোগাযোগের গোপনীয়তা রক্ষার বিধান কোন ধারায় আছে?
(ক) ধারা ১২৬ (খ) ধারা ১২৭ (গ) ধারা ১২৮ (ঘ) ধারা ১২৯
সঠিক উত্তর: (ক) ধারা ১২৬
ব্যাখ্যা: ১২৬ ধারা অনুযায়ী আইনজীবী মক্কেলের অনুমতি ব্যতীত তাদের মধ্যকার পেশাগত যোগাযোগ প্রকাশ করতে বাধ্য নন।
৫৯. সাক্ষী নিজেকে অপরাধী প্রমাণ করে এমন প্রশ্নের উত্তর দিতে বাধ্য কিনা?
(ক) সাধারণত বাধ্য নন, তবে নির্দিষ্ট সুরক্ষাসহ প্রশ্নের উত্তর দিতে বাধ্য হতে পারেন (খ) সবসময় সম্পূর্ণ বাধ্য (গ) কখনোই কোনো প্রশ্নের উত্তর দিতে হয় না (ঘ) শুধু আসামীর ক্ষেত্রে প্রযোজ্য নীতি, সাক্ষীর ক্ষেত্রে নয়
সঠিক উত্তর: (ক) সাধারণত বাধ্য নন, তবে নির্দিষ্ট সুরক্ষাসহ প্রশ্নের উত্তর দিতে বাধ্য হতে পারেন
ব্যাখ্যা: ১৩২ ধারা অনুযায়ী সাক্ষী আত্ম-দোষারোপী প্রশ্নের উত্তর দিতে বাধ্য হতে পারেন, তবে সেই উত্তর তার বিরুদ্ধে পরবর্তীতে ব্যবহারের সুরক্ষা থাকে (নির্দিষ্ট ব্যতিক্রম ব্যতীত)।
৬০. প্রথম সাক্ষী কে ডাকবেন তা নির্ধারণের সাধারণ অধিকার কার?
(ক) যে পক্ষের উপর প্রমাণের দায় (Burden of Proof), তিনি প্রথমে শুরু করেন (খ) সবসময় বিবাদী পক্ষ (গ) আদালত এলোমেলোভাবে নির্ধারণ করে (ঘ) সাক্ষীর ইচ্ছা অনুযায়ী
সঠিক উত্তর: (ক) যে পক্ষের উপর প্রমাণের দায় (Burden of Proof), তিনি প্রথমে শুরু করেন
ব্যাখ্যা: ১০১-১০২ ধারার নীতি অনুযায়ী যে পক্ষের উপর বিষয়টি প্রমাণের দায়িত্ব, তিনিই সাধারণত সাক্ষ্য উপস্থাপন শুরু করেন।
৬১. চরিত্র সংক্রান্ত সাক্ষ্য ফৌজদারি মামলায় কতটুকু প্রাসঙ্গিক?
(ক) আসামীর সুচরিত্র প্রাসঙ্গিক; দুশ্চরিত্র সাধারণত প্রাসঙ্গিক নয় যতক্ষণ না তা নিজেই প্রশ্নবিদ্ধ হয় (খ) উভয়ই সবসময় প্রাসঙ্গিক (গ) কোনোটিই প্রাসঙ্গিক নয় (ঘ) শুধু বাদীর চরিত্র প্রাসঙ্গিক
সঠিক উত্তর: (ক) আসামীর সুচরিত্র প্রাসঙ্গিক; দুশ্চরিত্র সাধারণত প্রাসঙ্গিক নয় যতক্ষণ না তা নিজেই প্রশ্নবিদ্ধ হয়
ব্যাখ্যা: ৫৩-৫৪ ধারা অনুযায়ী ফৌজদারি মামলায় আসামীর সুচরিত্র প্রাসঙ্গিক, তবে দুশ্চরিত্র সাধারণত প্রাসঙ্গিক নয়, যদি না আসামী নিজে তার চরিত্র প্রশ্নবিদ্ধ করে।
৬২. একই ঘটনার অংশ হিসেবে ঘটা তথ্য (Res Gestae) কোন ধারায় প্রাসঙ্গিক?
(ক) ধারা ৬ (খ) ধারা ৭ (গ) ধারা ৮ (ঘ) ধারা ৯
সঠিক উত্তর: (ক) ধারা ৬
ব্যাখ্যা: ৬ ধারা অনুযায়ী বিচার্য বিষয়ের একই লেনদেনের অংশ হিসেবে সংঘটিত তথ্য (Res Gestae) প্রাসঙ্গিক, যদিও তা ভিন্ন সময় বা স্থানে ঘটে থাকে।
৬৩. ষড়যন্ত্র মামলায় সহ-অপরাধীর কার্যক্রম প্রাসঙ্গিক হওয়ার শর্ত কী?
(ক) সাধারণ উদ্দেশ্য অর্জনের লক্ষ্যে যুক্তিসঙ্গত বিশ্বাসযোগ্য প্রমাণ থাকতে হবে (খ) কোনো শর্ত নেই (গ) শুধু লিখিত প্রমাণ থাকতে হবে (ঘ) শুধু আদালতে স্বীকার করলে
সঠিক উত্তর: (ক) সাধারণ উদ্দেশ্য অর্জনের লক্ষ্যে যুক্তিসঙ্গত বিশ্বাসযোগ্য প্রমাণ থাকতে হবে
ব্যাখ্যা: ১০ ধারার প্রয়োগের পূর্বশর্ত হলো, প্রথমে যুক্তিসঙ্গত ভিত্তিতে প্রমাণ থাকতে হবে যে ষড়যন্ত্রের অস্তিত্ব ছিল ও ব্যক্তিরা তার অংশ।
৬৪. সাক্ষ্য আইন কোন ধরনের কার্যক্রমে প্রযোজ্য?
(ক) আদালতে পরিচালিত বিচার সংক্রান্ত সকল কার্যক্রমে (খ) শুধু প্রশাসনিক তদন্তে (গ) শুধু আইনসভায় (ঘ) শুধু পুলিশি তদন্তে
সঠিক উত্তর: (ক) আদালতে পরিচালিত বিচার সংক্রান্ত সকল কার্যক্রমে
ব্যাখ্যা: ১ ধারা অনুযায়ী সাক্ষ্য আইন আদালতে পরিচালিত সকল বিচারিক কার্যক্রমে প্রযোজ্য (তবে শপথ সংক্রান্ত ও সালিশ কার্যক্রমে সীমিত প্রয়োগ)।