ফৌজদারি কার্যবিধি, ১৮৯৮ (The Code of Criminal Procedure, 1898)

দণ্ডবিধি যদি বলে "কী অপরাধ", তাহলে ফৌজদারি কার্যবিধি, ১৮৯৮ বলে "কীভাবে বিচার হবে"। এটি একটি পদ্ধতিগত আইন (Procedural Law) — এজাহার দায়ের থেকে শুরু করে তদন্ত, গ্রেফতার, জামিন, চার্জ গঠন, বিচার, রায় এবং আপিল-রিভিশন পর্যন্ত প্রতিটি ধাপের নিয়ম এই আইনে নির্ধারিত। বিজেএস ও বার কাউন্সিল উভয় পরীক্ষায় এই আইন থেকে দণ্ডবিধির প্রায় সমান বা তার চেয়েও বেশি প্রশ্ন আসে, কারণ প্রক্রিয়াগত খুঁটিনাটি (কোন ধারায় কী ক্ষমতা, কোন আদালতে আপিল, কত ঘণ্টার মধ্যে কী করতে হবে) এখান থেকেই আসে।

কার্যবিধিতে মোট ৫৬৪টি ধারা এবং কয়েকটি তফসিল আছে। বিচারব্যবস্থাকে দুই ভাগে ভাগ করা যায় — দেওয়ানি আদালত (দেওয়ানি কার্যবিধি অনুসরণ করে) ও ফৌজদারি আদালত (এই কার্যবিধি অনুসরণ করে)। ফৌজদারি আদালতের মধ্যে আবার আছে ম্যাজিস্ট্রেট আদালত ও দায়রা আদালত — প্রতিটির নিজস্ব এখতিয়ার ও ক্ষমতার সীমা আছে, যা পরীক্ষায় বহু জিজ্ঞাসিত বিষয়।

পরীক্ষায় এই অধ্যায়ের গুরুত্ব

বিশেষভাবে গুরুত্বপূর্ণ: ম্যাজিস্ট্রেটদের প্রকারভেদ ও ক্ষমতার সীমা, গ্রেফতার ও ২৪ ঘণ্টার নিয়ম, জামিনযোগ্য/অজামিনযোগ্য অপরাধে জামিনের নীতি, এজাহার ও নালিশী মামলার পার্থক্য, স্বীকারোক্তি রেকর্ডের নিয়ম, এবং আপিল-রিভিশন-রিভিউর মধ্যে পার্থক্য। প্রায় প্রতিটি পরীক্ষাতেই "কোন ধারায়" এবং "কোন আদালতে আপিল হবে" ধরনের প্রশ্ন থাকে।

প্রশ্নের ধরন — সম্পূর্ণ মানচিত্র

যেখান থেকে প্রশ্ন আসেযা জানতে হয়উদাহরণ
ধারা-সংখ্যা সরাসরিকোন ধারায় কোন প্রক্রিয়ার বিধানএজাহার — ১৫৪ ধারা
এখতিয়ার/আপিল-ফোরামকোন আদালতে আপিল/রিভিশন হবেদায়রা আদালতের দণ্ডের আপিল — হাইকোর্ট বিভাগ
সময়সীমাকত ঘণ্টা/দিনের মধ্যে কী করতে হবেগ্রেফতারের পর ম্যাজিস্ট্রেটের সামনে হাজির — ২৪ ঘণ্টা
ক্ষমতার সীমাকোন পদমর্যাদার কর্মকর্তা কতটুকু করতে পারেনমেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেটের সর্বোচ্চ জরিমানা
পার্থক্যমূলককাছাকাছি দুটি প্রক্রিয়ার পার্থক্যআপিল ও রিভিশনের পার্থক্য

পড়ার কৌশল

  • একটি ফৌজদারি মামলার স্বাভাবিক যাত্রাক্রম মনে রাখুন: এজাহার → তদন্ত → গ্রেফতার/জামিন → আমলে গ্রহণ → চার্জ গঠন → বিচার → রায় → আপিল/রিভিশন। প্রতিটি ধাপের সাথে সংশ্লিষ্ট ধারা যুক্ত করে পড়ুন।
  • ম্যাজিস্ট্রেট ও দায়রা আদালতের ক্ষমতার সীমা (শাস্তির পরিমাণ, জরিমানার অঙ্ক) একটি টেবিলে সাজিয়ে মুখস্থ রাখুন।
  • আপিল-রিভিশন-রিভিউ তিনটি আলাদা প্রতিকার — কোনটি কখন প্রযোজ্য তা এই নিবন্ধের তুলনামূলক অংশে স্পষ্ট করা আছে।
  • দণ্ডবিধির সাথে মিলিয়ে পড়ুন — কার্যবিধিতে "কীভাবে" আর দণ্ডবিধিতে "কী" প্রশ্ন প্রায়ই একসাথে আসে (যেমন কোন অপরাধ কোন ম্যাজিস্ট্রেট বিচার করতে পারবেন)।

আদালত ও ম্যাজিস্ট্রেটের শ্রেণিবিভাগ

কার্যবিধি অনুসারে ফৌজদারি আদালত প্রধানত দুই স্তরে বিভক্ত — ম্যাজিস্ট্রেট আদালত ও দায়রা আদালত। ম্যাজিস্ট্রেটগণ আবার দুই প্রকার — জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট (বিচারিক ক্ষমতাসম্পন্ন, ২০০৭ সালের বিচার বিভাগ পৃথকীকরণের পর প্রতিষ্ঠিত) এবং নির্বাহী (Executive) ম্যাজিস্ট্রেট (প্রশাসনিক/প্রতিরোধমূলক ক্ষমতাসম্পন্ন, যেমন ১৪৪ ধারার আদেশ জারি)। জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেটগণ প্রথম, দ্বিতীয় ও তৃতীয় শ্রেণিতে বিভক্ত, এবং প্রতিটি শ্রেণির শাস্তি প্রদানের ক্ষমতার একটি নির্দিষ্ট ঊর্ধ্বসীমা আছে।

আদালত/কর্মকর্তাসর্বোচ্চ শাস্তির ক্ষমতা
প্রথম শ্রেণির ম্যাজিস্ট্রেট৩ বছর কারাদণ্ড (সরকার বিশেষ ক্ষমতা দিলে ৫ বছর, মেট্রোপলিটনে ৭ বছর পর্যন্ত)
মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট৫ বছর কারাদণ্ড, ১০,০০০ টাকা জরিমানা
চিফ জুডিশিয়াল/মেট্রোপলিটান ম্যাজিস্ট্রেটপ্রথম শ্রেণির সমান, প্রশাসনিক তত্ত্বাবধানসহ
দায়রা জজ / অতিরিক্ত / যুগ্ম দায়রা জজমৃত্যুদণ্ড পর্যন্ত (মৃত্যুদণ্ডে হাইকোর্ট বিভাগের অনুমোদন আবশ্যক)

মামলা স্থানান্তর

একই জেলার মধ্যে এক জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালত থেকে অন্য আদালতে মামলা স্থানান্তরের ক্ষমতা চিফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেটের (১৯২ ধারা), আর জেলার বাইরে বা দায়রা আদালতের মধ্যে স্থানান্তরের ক্ষমতা হাইকোর্ট বিভাগের।

এজাহার ও তদন্ত প্রক্রিয়া (ধারা ১৫৪-১৭৩)

এজাহার (FIR — First Information Report, ১৫৪ ধারা): আমলযোগ্য অপরাধের তথ্য থানায় লিপিবদ্ধ করাকে এজাহার বলে; পুলিশ এই তথ্য পেলে তদন্ত শুরু করতে বাধ্য। আমলযোগ্য ও আমলঅযোগ্য অপরাধ: আমলযোগ্য অপরাধে পুলিশ পরোয়ানা ছাড়াই গ্রেফতার ও তদন্ত করতে পারে, কিন্তু আমলঅযোগ্য অপরাধে (১৫৫ ধারা) তদন্ত শুরুর জন্য ম্যাজিস্ট্রেটের অনুমতি আবশ্যক।

তদন্তকারী কর্মকর্তা প্রতিদিনের অগ্রগতি কেস ডায়েরিতে (১৭২ ধারা) লিপিবদ্ধ করেন, যা সরাসরি প্রমাণ নয় ও আসামীপক্ষকে দেখানো হয় না, তবে আদালত নিজের প্রয়োজনে দেখতে পারেন। তদন্ত শেষে পুলিশ চার্জশিট (অভিযোগের সত্যতা মিললে) বা ফাইনাল রিপোর্ট (সত্যতা না মিললে) দাখিল করে (১৭৩ ধারা)।

এজাহার নথিভুক্ত না হলে করণীয়?

  1. প্রথমে সংশ্লিষ্ট থানায় লিখিতভাবে অভিযোগ পুনরায় উপস্থাপনের চেষ্টা করুন।
  2. থানা প্রত্যাখ্যান করলে পুলিশ সুপারের কাছে লিখিতভাবে অভিযোগ জানান (১৫৪(৩) ধারা)।
  3. তাতেও প্রতিকার না মিললে সরাসরি ম্যাজিস্ট্রেটের কাছে নালিশ করুন (২০০ ধারা)।
  4. এভাবে এজাহার ব্যর্থ হলেও ন্যায়বিচারের পথ পুরোপুরি বন্ধ হয় না — নালিশী মামলার বিকল্প সবসময় খোলা থাকে।

গ্রেফতার সংক্রান্ত বিধান (ধারা ৫৪-৭৬)

পরোয়ানা ছাড়া গ্রেফতার (৫৪ ধারা): নির্দিষ্ট পরিস্থিতিতে (যেমন আমলযোগ্য অপরাধে জড়িত থাকার যুক্তিসঙ্গত সন্দেহ) পুলিশ পরোয়ানা ছাড়াই গ্রেফতার করতে পারে। ম্যাজিস্ট্রেট কর্তৃক গ্রেফতার (৬৫ ধারা): ম্যাজিস্ট্রেট তার স্থানীয় এখতিয়ারের মধ্যে নিজেই কাউকে গ্রেফতার করতে বা করাতে পারেন।

২৪ ঘণ্টার নিয়ম (৬১ ধারা ও সংবিধানের ৩৩ অনুচ্ছেদ): গ্রেফতারকৃত ব্যক্তিকে ভ্রমণের সময় বাদে ২৪ ঘণ্টার মধ্যে নিকটতম ম্যাজিস্ট্রেটের সামনে হাজির করতে হবে — এটি একটি সাংবিধানিক সুরক্ষাও বটে। রিমান্ড (১৬৭ ধারা): তদন্তের স্বার্থে আসামীকে পুলিশ হেফাজতে রাখা যায়, তবে সর্বমোট সময়সীমা ১৫ দিনের বেশি নয়।

জামিন সংক্রান্ত বিধান (ধারা ৪৯৬-৪৯৯)

জামিনযোগ্য অপরাধ (৪৯৬ ধারা): এক্ষেত্রে জামিন পাওয়া আসামীর আইনগত অধিকার — আদালত জামিন দিতে বাধ্য। অজামিনযোগ্য অপরাধ (৪৯৭ ধারা): এখানে জামিন মঞ্জুর করা আদালতের বিবেচনামূলক ক্ষমতা, নির্দিষ্ট বিষয় (অপরাধের গুরুত্ব, প্রমাণের শক্তি, পলায়নের ঝুঁকি) বিবেচনা করে সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। আসামীর অসুস্থতা বা শারীরিক অক্ষমতাও অজামিনযোগ্য অপরাধে জামিন বিবেচনার একটি ভিত্তি হতে পারে।

আগাম জামিন (Anticipatory Bail): গ্রেফতারের আশঙ্কায় থাকা ব্যক্তি হাইকোর্ট বিভাগে আগাম জামিনের আবেদন করতে পারেন। জামিনের শর্ত ভঙ্গ করলে আদালত জামিন বাতিল করে আসামীকে পুনরায় হেফাজতে নেওয়ার নির্দেশ দিতে পারেন।

আমলে গ্রহণ ও নালিশী মামলা (ধারা ১৯০-২০৪)

আমলে গ্রহণ (Cognizance, ১৯০ ধারা): ম্যাজিস্ট্রেট তিনভাবে অপরাধ আমলে নিতে পারেন — পুলিশ প্রতিবেদনের ভিত্তিতে, নালিশের ভিত্তিতে, অথবা নিজের জ্ঞাত তথ্যের ভিত্তিতে। নালিশী মামলা (Complaint Case, ২০০ ধারা): কোনো ব্যক্তি সরাসরি ম্যাজিস্ট্রেটের কাছে নালিশ দাখিল করলে ম্যাজিস্ট্রেট নালিশকারীর জবানবন্দি গ্রহণ করেন। প্রয়োজনে ২০২ ধারা অনুযায়ী আমলে নেওয়ার পূর্বে প্রাথমিক তদন্তের নির্দেশও দিতে পারেন।

পুলিশ প্রতিবেদনের ভিত্তিতে দায়েরকৃত মামলাকে সাধারণত জিআর (GR) মামলা বলা হয়, আর সরাসরি নালিশের ভিত্তিতে দায়েরকৃত মামলাকে নালিশী (CR) মামলা বলা হয় — এই দুই প্রকার মামলার সূচনা-প্রক্রিয়া ভিন্ন হলেও পরবর্তী বিচার-প্রক্রিয়া মূলত একই কাঠামো অনুসরণ করে।

চার্জ গঠন ও বিচারের ধরন (ধারা ২২১-২৪৯, ৪ ও ৫)

চার্জ গঠন: চার্জ গঠনের দায়িত্ব আদালতের — সংগৃহীত প্রাথমিক (Prima Facie) প্রমাণের ভিত্তিতে আদালত অভিযোগ গঠন করেন। ২২১ ধারা অনুযায়ী চার্জে অপরাধের সময়, স্থান ও প্রযোজ্য আইনের উল্লেখ থাকতে হয়, কিন্তু শাস্তির পরিমাণ উল্লেখের প্রয়োজন নেই। চার্জ আসামীকে তার বোধগম্য ভাষায় পড়ে শুনিয়ে ব্যাখ্যা করতে হয়। চার্জ গঠনের সময়ই আসামী ডিসচার্জের আবেদন করতে পারেন (২৪১ক ধারা), যদি প্রাথমিক প্রমাণই যথেষ্ট না থাকে।

সমন-মামলা বনাম ওয়ারেন্ট-মামলা: অপরাধের সর্বোচ্চ শাস্তির মেয়াদ অনুযায়ী মামলা দুই প্রকারে ভাগ হয় — সাধারণত ২ বছরের বেশি কারাদণ্ডযোগ্য অপরাধ ওয়ারেন্ট-মামলা হিসেবে বিবেচিত, যেখানে আনুষ্ঠানিক চার্জ গঠন বাধ্যতামূলক। দায়রা বিচার: মৃত্যুদণ্ড বা যাবজ্জীবনযোগ্য গুরুতর অপরাধের বিচার দায়রা আদালতে হয়।

স্বীকারোক্তি ও জবানবন্দি (ধারা ১৬১, ১৬৪)

পুলিশের নিকট জবানবন্দি (১৬১ ধারা): তদন্তকালে পুলিশ সাক্ষীর জবানবন্দি নিতে পারে, কিন্তু এতে সাক্ষীর স্বাক্ষর নেওয়া হয় না এবং তা মূল সাক্ষ্য হিসেবে ব্যবহারযোগ্য নয় — শুধু সাক্ষীকে খণ্ডন (Contradict) করতে ব্যবহার করা যায় (সাক্ষ্য আইনের ১৪৫ ধারা অনুযায়ী)।

ম্যাজিস্ট্রেট কর্তৃক স্বীকারোক্তি রেকর্ড (১৬৪ ধারা): ম্যাজিস্ট্রেট তদন্তকালে আসামীর স্বীকারোক্তি রেকর্ড করতে পারেন, তবে তার আগে আসামীকে সতর্ক করতে হয় যে তিনি স্বীকারোক্তি দিতে বাধ্য নন এবং তা তার বিরুদ্ধে ব্যবহৃত হতে পারে। প্রভাবমুক্ততা নিশ্চিত করতে স্বীকারোক্তির পর আসামীকে সাধারণত পুলিশ হেফাজতের পরিবর্তে জেলহেফাজতে পাঠানো হয়। মনে রাখা জরুরি — পুলিশ হেফাজতে থাকাকালীন প্রদত্ত স্বীকারোক্তি (সাক্ষ্য আইনের ২৬ ধারা অনুযায়ী) ম্যাজিস্ট্রেটের উপস্থিতি ছাড়া গ্রহণযোগ্য নয়।

আপিল, রিভিশন ও রিভিউ (ধারা ৪০৩-৪৩৯)

আপিল: নিম্ন আদালতের রায়ের বিরুদ্ধে উচ্চতর আদালতে দায়ের করা সাধারণ প্রতিকার — ম্যাজিস্ট্রেটের দণ্ডের বিরুদ্ধে দায়রা জজের আদালতে, আর দায়রা আদালতের দণ্ডের বিরুদ্ধে হাইকোর্ট বিভাগে আপিল হয়। রিভিশন: নিম্ন আদালতের কার্যক্রমে বেআইনি বা অনিয়ম থাকলে হাইকোর্ট বিভাগ বা দায়রা জজ স্বতঃপ্রণোদিত বা আবেদনক্রমে রিভিশনাল ক্ষমতা প্রয়োগ করতে পারেন — এটি আপিলের বিকল্প নয়, বরং সহায়ক প্রতিকার।

একই অপরাধে দ্বিতীয়বার বিচার নিষিদ্ধ (Double Jeopardy, ৪০৩ ধারা): সংবিধানের ৩৫(২) অনুচ্ছেদের সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ এই নীতি অনুযায়ী একই অপরাধে কাউকে দ্বিতীয়বার বিচার বা দণ্ডিত করা যায় না।

আপিল বনাম রিভিশন

বৈশিষ্ট্যআপিলরিভিশন
প্রকৃতিসংবিধিবদ্ধ অধিকার (নির্দিষ্ট ক্ষেত্রে)আদালতের বিবেচনামূলক ক্ষমতা
বিষয়বস্তুতথ্য ও আইন উভয় প্রশ্নে পুনর্বিচারশুধু বেআইনিতা/এখতিয়ারের ভুল
উদ্যোগসংক্ষুব্ধ পক্ষের আবেদনেআবেদনে অথবা আদালতের নিজ উদ্যোগে (Suo Moto)

প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থা (ধারা ১০৭, ১৪৪, ১৪৫)

সদাচরণের মুচলেকা (১০৭ ধারা): জনশান্তি বিঘ্নের আশঙ্কা থাকলে জেলা ম্যাজিস্ট্রেট কাউকে সদাচরণের মুচলেকা দেওয়ার আদেশ দিতে পারেন — এটি ফৌজদারি অপরাধের শাস্তি নয়, বরং প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থা। ১৪৪ ধারা: জরুরি পরিস্থিতিতে নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট জনশান্তি রক্ষায় নিষেধাজ্ঞামূলক আদেশ জারি করতে পারেন, যা সাধারণত সর্বোচ্চ ২ মাস বলবৎ থাকে। ১৪৫ ধারা: স্থাবর সম্পত্তির (বিশেষত জমি) দখল নিয়ে বিরোধে জনশান্তি বিঘ্নের আশঙ্কা থাকলে নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট দখল নির্ধারণ করে ব্যবস্থা নিতে পারেন — এটি স্বত্ব নির্ধারণ করে না, শুধু সাময়িক দখল রক্ষা করে।

তুলনা ও কমন বিভ্রান্তি

এজাহার বনাম নালিশ

এজাহার (FIR) থানায় দায়ের হয় ও পুলিশ তদন্ত করে (আমলযোগ্য অপরাধে); নালিশ সরাসরি ম্যাজিস্ট্রেটের কাছে দায়ের হয় এবং ম্যাজিস্ট্রেট নিজে নালিশকারীর জবানবন্দি নিয়ে প্রক্রিয়া শুরু করেন।

জামিনযোগ্য বনাম অজামিনযোগ্য অপরাধ

জামিনযোগ্যে জামিন অধিকার, আদালত বাধ্য; অজামিনযোগ্যে জামিন বিবেচনামূলক ক্ষমতা, নির্দিষ্ট মানদণ্ডে বিচার্য।

ডিসচার্জ বনাম খালাস বনাম অব্যাহতি

চার্জ গঠনের পূর্বে প্রাথমিক প্রমাণের অভাবে অভিযোগ থেকে অব্যাহতি পেলে তা "ডিসচার্জ"; চার্জ গঠনের পর সম্পূর্ণ বিচার শেষে দোষী প্রমাণিত না হলে তা "খালাস" (Acquittal)। নালিশকারী অনুপস্থিত থাকলেও প্রযোজ্য প্রতিকার খালাস, ডিসচার্জ নয় — কারণ ২৪৯ ধারা নির্দিষ্টভাবে "Acquit" শব্দ ব্যবহার করে।

মাস্টার রেফারেন্স টেবিল — দ্রুত রিভিশন

ধারাবিষয়বস্তু
৫৪পরোয়ানা ছাড়া গ্রেফতার
৬১গ্রেফতারের ২৪ ঘণ্টার মধ্যে ম্যাজিস্ট্রেটের সামনে হাজির
৬৫ম্যাজিস্ট্রেট কর্তৃক নিজে গ্রেফতার
১০৭সদাচরণের মুচলেকা
১৪৪নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটের নিষেধাজ্ঞা (২ মাস)
১৪৫জমি দখল বিরোধে ব্যবস্থা
১৫৪এজাহার (FIR)
১৫৫আমলঅযোগ্য অপরাধের তদন্তে ম্যাজিস্ট্রেটের অনুমতি
১৬১পুলিশের নিকট জবানবন্দি (অপ্রমাণ্য)
১৬৪ম্যাজিস্ট্রেট কর্তৃক স্বীকারোক্তি রেকর্ড
১৬৭রিমান্ড (সর্বমোট ১৫ দিন)
১৭২কেস ডায়েরি
১৭৩চার্জশিট/ফাইনাল রিপোর্ট
১৯০আমলে গ্রহণের তিন উপায়
১৯২জেলার মধ্যে মামলা স্থানান্তর (চিফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট)
২০০নালিশ গ্রহণ ও জবানবন্দি
২০২আমলে নেওয়ার পূর্বে তদন্তের নির্দেশ
২২১চার্জে অপরাধের সময়-স্থান-আইন উল্লেখ
২৪১কচার্জ গঠনকালে ডিসচার্জের আবেদন
২৪৯নালিশকারীর অনুপস্থিতিতে আসামীর খালাস
৩৭৪মৃত্যুদণ্ডে হাইকোর্ট বিভাগের অনুমোদন আবশ্যক
৪০৩একই অপরাধে পুনরায় বিচার নিষিদ্ধ
৪১০দায়রা আদালতের দণ্ডে হাইকোর্ট বিভাগে আপিল
৪৯৪সরকারি কৌঁসুলি কর্তৃক মামলা প্রত্যাহার
৪৯৬জামিনযোগ্য অপরাধে জামিন — অধিকার
৪৯৭অজামিনযোগ্য অপরাধে জামিন — বিবেচনামূলক

বাস্তব পরীক্ষায় আসা প্রশ্ন (সমাধানসহ)

ফৌজদারি কার্যবিধি থেকে বার কাউন্সিল এনরোলমেন্ট পরীক্ষায় আসা প্রতিনিধিত্বমূলক প্রশ্ন অপশন ও ব্যাখ্যাসহ সমাধান করা হলো।

২০১২ বার কাউন্সিল

ফৌজদারি কার্যবিধিতে ম্যাজিস্ট্রেটগণকে প্রধানত কত প্রকারে ভাগ করা হয়েছে?

(ক) ১ প্রকার   (খ) ২ প্রকার   (গ) ৩ প্রকার   (ঘ) ৪ প্রকার

উত্তর: (খ) ২ প্রকার

ব্যাখ্যা: ফৌজদারি কার্যবিধি অনুসারে ম্যাজিস্ট্রেট প্রধানত দুই প্রকার — জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট এবং নির্বাহী (এক্সিকিউটিভ) ম্যাজিস্ট্রেট। ২০০৭ সালে বিচার বিভাগ পৃথকীকরণের ফলে জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেটের পৃথক বিধান কার্যবিধিতে অন্তর্ভুক্ত হয়।

২০১২ বার কাউন্সিল

যুগ্ম দায়রা জজ ৭ বছরের কারাদণ্ড আরোপ করলে উক্ত দণ্ডাদেশের বিরুদ্ধে আপিল করতে হবে কোন আদালতে?

(ক) জেলা জজ আদালত   (খ) দায়রা জজ আদালত   (গ) হাইকোর্ট বিভাগ   (ঘ) আপিল বিভাগ

উত্তর: (গ) হাইকোর্ট বিভাগ

ব্যাখ্যা: ৪১০ ধারা অনুসারে দায়রা আদালত (এর অধীন যেকোনো বিচারক, যেমন যুগ্ম দায়রা জজ) কর্তৃক প্রদত্ত দণ্ডাদেশের বিরুদ্ধে হাইকোর্ট বিভাগে আপিল দায়ের করতে হয়।

২০১২ বার কাউন্সিল

গ্রেফতারকৃত ব্যক্তিকে আদালতে সোপর্দের পূর্বে সর্বোচ্চ কত ঘণ্টা পুলিশ হেফাজতে রাখা যায়?

(ক) ১২ ঘণ্টা   (খ) ২৪ ঘণ্টা   (গ) ৪৮ ঘণ্টা   (ঘ) ৭২ ঘণ্টা

উত্তর: (খ) ২৪ ঘণ্টা

ব্যাখ্যা: সংবিধানের ৩৩(২) অনুচ্ছেদ ও কার্যবিধির ৬১ ধারা অনুসারে গ্রেফতারকৃত ব্যক্তিকে ভ্রমণের সময় বাদে ২৪ ঘণ্টার মধ্যে নিকটতম ম্যাজিস্ট্রেটের সামনে হাজির করতে হয়।

২০১২ বার কাউন্সিল

FIR-এর পূর্ণরূপ কী?

(ক) First Inquiry Report   (খ) First Investigation Report   (গ) Final Information Report   (ঘ) First Information Report

উত্তর: (ঘ) First Information Report

ব্যাখ্যা: FIR-এর পূর্ণরূপ First Information Report — কার্যবিধির ১৫৪ ধারায় আমলযোগ্য অপরাধের তথ্য থানায় লিপিবদ্ধ করার এই বিধান রয়েছে।

২০১২ বার কাউন্সিল

নালিশী মামলায় সমন ইস্যুর পর অভিযোগকারী নির্ধারিত তারিখে আদালতে হাজির না হলে আদালত কী আদেশ দিতে পারেন?

(ক) মামলা মুলতবি   (খ) আসামী খালাস   (গ) পুনঃতদন্তের নির্দেশ   (ঘ) জরিমানা আরোপ

উত্তর: (খ) আসামী খালাস

ব্যাখ্যা: ২৪৯ ধারা অনুসারে নালিশকারী নির্ধারিত দিনে হাজির না হলে আদালত আসামীকে খালাস (Acquittal) দিতে পারেন।

২০১২ বার কাউন্সিল

ফৌজদারি মামলায় চার্জ গঠনের দায়িত্ব কার?

(ক) রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবীর   (খ) তদন্তকারী কর্মকর্তার   (গ) আদালতের   (ঘ) আসামীর আইনজীবীর

উত্তর: (গ) আদালতের

ব্যাখ্যা: ফৌজদারি কার্যবিধি অনুসারে চার্জ গঠনের দায়িত্ব আদালতের — আদালত সংগৃহীত প্রাথমিক প্রমাণাদির ভিত্তিতে অভিযোগ গঠন করেন।

২০১২ বার কাউন্সিল

অজামিনযোগ্য অপরাধে আসামীর অসুস্থতা বা শারীরিক অক্ষমতা বিবেচনায় আদালত কোন ধারাবলে জামিন দিতে পারেন?

(ক) ধারা ৪৯৬   (খ) ধারা ৪৯৭   (গ) ধারা ৪৯৮   (ঘ) ধারা ৪৯৯

উত্তর: (খ) ধারা ৪৯৭

ব্যাখ্যা: ৪৯৭ ধারা অনুসারে অজামিনযোগ্য অপরাধেও আসামী অসুস্থ বা শারীরিকভাবে অক্ষম হলে আদালত জামিন বিবেচনা করতে পারেন।

২০১২ বার কাউন্সিল

দায়রা জজ প্রদত্ত মৃত্যুদণ্ডাদেশ কার্যকর করার পূর্বে কার অনুমোদন প্রয়োজন?

(ক) রাষ্ট্রপতির   (খ) আপিল বিভাগের   (গ) হাইকোর্ট বিভাগের   (ঘ) আইন মন্ত্রণালয়ের

উত্তর: (গ) হাইকোর্ট বিভাগের

ব্যাখ্যা: ৩৭৪ ধারা অনুসারে দায়রা আদালত প্রদত্ত মৃত্যুদণ্ড হাইকোর্ট বিভাগ কর্তৃক নিশ্চিত (Confirm) না হওয়া পর্যন্ত কার্যকর করা যায় না।

২০২০ বার কাউন্সিল

কোনটি প্রথম শ্রেণির ম্যাজিস্ট্রেটের সাধারণ ক্ষমতা নয়?

(ক) মৃত্যুদণ্ডযোগ্য মামলায় বিচার পরিচালনা   (খ) ৩ বছর পর্যন্ত কারাদণ্ড প্রদান   (গ) জামিন মঞ্জুর   (ঘ) তদন্তের নির্দেশ প্রদান

উত্তর: (ক) মৃত্যুদণ্ডযোগ্য মামলায় বিচার পরিচালনা

ব্যাখ্যা: প্রথম শ্রেণির ম্যাজিস্ট্রেট মৃত্যুদণ্ডযোগ্য মামলার বিচার পরিচালনা করতে পারেন না — এই ধরনের গুরুতর মামলার বিচারের এখতিয়ার দায়রা আদালতের।

২০২৩ বার কাউন্সিল

অভিযোগ গঠনের পর সরকারি কৌঁসুলি আদালতের অনুমতিতে মামলা প্রত্যাহার করলে আসামীকে কী দিতে হবে?

(ক) পুনর্বিচার   (খ) খালাস   (গ) অব্যাহতি   (ঘ) জামিন

উত্তর: (খ) খালাস

ব্যাখ্যা: ৪৯৪ ধারা অনুসারে অভিযোগ গঠনের পর মামলা প্রত্যাহার করা হলে আসামীকে খালাস (Acquittal) দিতে হয়, অব্যাহতি (Discharge) নয় — কারণ ততক্ষণে চার্জ গঠন হয়ে গেছে।

অনুশীলনী

নিচের ৯৩টি প্রশ্ন দিয়ে নিজের প্রস্তুতি যাচাই করুন — প্রতিটির সাথে সঠিক উত্তর ও ব্যাখ্যা দেওয়া আছে।

১. ফৌজদারি কার্যবিধির ১৬১ ধারা অনুযায়ী পুলিশের নিকট প্রদত্ত জবানবন্দির বৈশিষ্ট্য কী?

(ক) তা সাক্ষীর স্বাক্ষর দ্বারা প্রত্যয়িত হতে হয় (খ) তা বিচারে সাক্ষ্য হিসেবে সরাসরি ব্যবহারযোগ্য নয়, শুধু খণ্ডনে ব্যবহার হয় (গ) তা আদালতে শপথপূর্বক নেওয়া হয় (ঘ) তা ম্যাজিস্ট্রেটের সামনে নিতে হয়

সঠিক উত্তর: (খ) তা বিচারে সাক্ষ্য হিসেবে সরাসরি ব্যবহারযোগ্য নয়, শুধু খণ্ডনে ব্যবহার হয়

ব্যাখ্যা: ১৬১ ধারায় পুলিশের নিকট প্রদত্ত জবানবন্দি সাক্ষ্য আইনের ১৪৫/১৫৫ ধারা অনুযায়ী শুধু সাক্ষীকে খণ্ডন (Contradict) করতে ব্যবহার করা যায়, তা মূল সাক্ষ্য নয়।

২. আসামীর স্বীকারোক্তি (Confession) কোন ধারা অনুযায়ী ম্যাজিস্ট্রেট রেকর্ড করেন?

(ক) ধারা ১৬১ (খ) ধারা ১৬৪ (গ) ধারা ৩৪২ (ঘ) ধারা ৩৬৪

সঠিক উত্তর: (খ) ধারা ১৬৪

ব্যাখ্যা: ১৬৪ ধারা অনুযায়ী ম্যাজিস্ট্রেট তদন্তকালে আসামীর স্বীকারোক্তি রেকর্ড করার ক্ষমতা রাখেন।

৩. পুলিশের নিকট প্রদত্ত স্বীকারোক্তি সম্পর্কে সাক্ষ্য আইনের বিধান কী?

(ক) তা কোনো ফৌজদারি মামলায় প্রমাণ হিসেবে গ্রহণযোগ্য নয় (খ) তা সম্পূর্ণ গ্রহণযোগ্য (গ) শুধু গুরুতর অপরাধে গ্রহণযোগ্য (ঘ) আসামীর সম্মতি সাপেক্ষে গ্রহণযোগ্য

সঠিক উত্তর: (ক) তা কোনো ফৌজদারি মামলায় প্রমাণ হিসেবে গ্রহণযোগ্য নয়

ব্যাখ্যা: সাক্ষ্য আইনের ২৫ ধারা অনুযায়ী পুলিশ কর্মকর্তার নিকট প্রদত্ত স্বীকারোক্তি কোনো ফৌজদারি মামলায় আসামীর বিরুদ্ধে প্রমাণ হিসেবে গ্রহণযোগ্য নয়।

৪. এজাহার (FIR) সংক্রান্ত বিধান কোন ধারায় আছে?

(ক) ধারা ১৫৪ (খ) ধারা ১৫৬ (গ) ধারা ১৬১ (ঘ) ধারা ১৭৩

সঠিক উত্তর: (ক) ধারা ১৫৪

ব্যাখ্যা: ১৫৪ ধারা অনুযায়ী আমলযোগ্য অপরাধের তথ্য থানায় লিপিবদ্ধ করাকে এজাহার (First Information Report) বলে।

৫. পুলিশ তদন্ত শেষে দাখিলকৃত প্রতিবেদন সংক্রান্ত বিধান কোন ধারায় আছে?

(ক) ধারা ১৬৩ (খ) ধারা ১৭২ (গ) ধারা ১৭৩ (ঘ) ধারা ১৯০

সঠিক উত্তর: (গ) ধারা ১৭৩

ব্যাখ্যা: ১৭৩ ধারা অনুযায়ী পুলিশ তদন্ত সম্পন্ন করে চার্জশিট বা ফাইনাল রিপোর্ট আদালতে দাখিল করে।

৬. তদন্তে অভিযোগের প্রাথমিক সত্যতা না পাওয়া গেলে পুলিশ কোন প্রতিবেদন দাখিল করে?

(ক) চার্জশিট (খ) ফাইনাল রিপোর্ট (গ) কেস ডায়েরি (ঘ) জব্দ তালিকা

সঠিক উত্তর: (খ) ফাইনাল রিপোর্ট

ব্যাখ্যা: অভিযোগের সত্যতা প্রমাণিত না হলে পুলিশ ফাইনাল রিপোর্ট (Final Report/FR) দাখিল করে, যাতে মামলা চূড়ান্ত করার সুপারিশ থাকে।

৭. জামিনযোগ্য অপরাধে আসামীর জামিন প্রাপ্তি কী প্রকৃতির?

(ক) আইনগত অধিকার (Legal Right), আদালত জামিন দিতে বাধ্য (খ) আদালতের সম্পূর্ণ বিবেচনামূলক (গ) শুধু সরকারি অনুমতিতে (ঘ) শুধু উচ্চ আদালতে

সঠিক উত্তর: (ক) আইনগত অধিকার (Legal Right), আদালত জামিন দিতে বাধ্য

ব্যাখ্যা: ৪৯৬ ধারা অনুযায়ী জামিনযোগ্য অপরাধে আসামীর জামিন পাওয়া তার আইনগত অধিকার এবং আদালত জামিন মঞ্জুর করতে বাধ্য।

৮. অজামিনযোগ্য অপরাধে জামিন মঞ্জুর আদালতের কী প্রকৃতির ক্ষমতা?

(ক) বাধ্যতামূলক (খ) বিবেচনামূলক (Discretionary) (গ) স্বয়ংক্রিয় (ঘ) প্রযোজ্য নয়

সঠিক উত্তর: (খ) বিবেচনামূলক (Discretionary)

ব্যাখ্যা: ৪৯৭ ধারা অনুযায়ী অজামিনযোগ্য অপরাধে জামিন মঞ্জুর করা আদালতের বিবেচনামূলক ক্ষমতা, নির্দিষ্ট শর্তসাপেক্ষে।

৯. ম্যাজিস্ট্রেট নিজে কোনো ব্যক্তিকে সরাসরি গ্রেফতার করার ক্ষমতা কোন ধারায় আছে?

(ক) ধারা ৫৪ (খ) ধারা ৬৪ (গ) ধারা ৬৫ (ঘ) ধারা ৬১

সঠিক উত্তর: (গ) ধারা ৬৫

ব্যাখ্যা: ৬৫ ধারা অনুযায়ী ম্যাজিস্ট্রেট তার স্থানীয় এখতিয়ারের মধ্যে নিজে কোনো ব্যক্তিকে গ্রেফতার করতে বা করাতে পারেন।

১০. পরোয়ানা ছাড়া গ্রেফতারের ক্ষমতা সংক্রান্ত মূল বিধান কোন ধারায় আছে?

(ক) ধারা ৫৪ (খ) ধারা ৬১ (গ) ধারা ৬৫ (ঘ) ধারা ১৬৭

সঠিক উত্তর: (ক) ধারা ৫৪

ব্যাখ্যা: ৫৪ ধারা অনুযায়ী পুলিশ নির্দিষ্ট পরিস্থিতিতে পরোয়ানা ছাড়াই ব্যক্তিকে গ্রেফতার করতে পারে।

১১. গ্রেফতারকৃত ব্যক্তিকে সর্বোচ্চ কত সময়ের মধ্যে নিকটতম ম্যাজিস্ট্রেটের নিকট হাজির করতে হবে?

(ক) ১২ ঘণ্টা (খ) ২৪ ঘণ্টা (গ) ৪৮ ঘণ্টা (ঘ) ৭২ ঘণ্টা

সঠিক উত্তর: (খ) ২৪ ঘণ্টা

ব্যাখ্যা: ৬১ ধারা অনুযায়ী পরোয়ানা ছাড়া গ্রেফতারকৃত ব্যক্তিকে ভ্রমণের সময় বাদে ২৪ ঘণ্টার মধ্যে ম্যাজিস্ট্রেটের নিকট হাজির করতে হয়।

১২. তদন্তের স্বার্থে আসামীকে পুলিশ হেফাজতে রাখার সর্বোচ্চ সময়সীমা কত?

(ক) সর্বমোট ১৫ দিন (খ) সর্বমোট ৩০ দিন (গ) কোনো সীমা নেই (ঘ) ৭ দিন

সঠিক উত্তর: (ক) সর্বমোট ১৫ দিন

ব্যাখ্যা: ১৬৭ ধারা অনুযায়ী পুলিশ রিমান্ডে (হেফাজতে) সর্বমোট ১৫ দিনের বেশি রাখা যায় না।

১৩. চার্জ গঠনকালে আসামী দোষ স্বীকার করলে ম্যাজিস্ট্রেট আদালত কোন ধারাবলে দণ্ড দিতে পারেন?

(ক) ধারা ২৪৩ (খ) ধারা ২৪৫ (গ) ধারা ২৬৫ঙ (ঘ) ধারা ৩৪২

সঠিক উত্তর: (ক) ধারা ২৪৩

ব্যাখ্যা: ২৪৩ ধারা অনুযায়ী ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে আসামী দোষ স্বীকার করলে আদালত তার স্বীকারোক্তির ভিত্তিতে দণ্ড দিতে পারেন।

১৪. দায়রা আদালতে বিচারকালে আসামী দোষ স্বীকার করলে প্রযোজ্য ধারা কোনটি?

(ক) ধারা ২৪৩ (খ) ধারা ২৬৫ঙ (গ) ধারা ৩৪২ (ঘ) ধারা ৪০৩

সঠিক উত্তর: (খ) ধারা ২৬৫ঙ

ব্যাখ্যা: ২৬৫ঙ ধারা অনুযায়ী দায়রা আদালতে আসামী দোষ স্বীকার করলে আদালত সেই স্বীকারোক্তি নথিভুক্ত করে দণ্ড দিতে পারেন।

১৫. অভিযোগ (Charge) কোন ভাষায় প্রণীত হয়?

(ক) শুধু ইংরেজি ভাষায় (খ) আদালতের ভাষায় (গ) শুধু আরবি ভাষায় (ঘ) আসামীর পছন্দের যেকোনো ভাষায়

সঠিক উত্তর: (খ) আদালতের ভাষায়

ব্যাখ্যা: ২৪১ ধারা অনুযায়ী আদালত কর্তৃক গঠিত অভিযোগ আদালতের ভাষায় লিখিত হয়।

১৬. প্রত্যেকটি দায়রা বিভাগে কত শ্রেণির বিচারক থাকে?

(ক) ২ শ্রেণির (খ) ৩ শ্রেণির (দায়রা জজ, অতিরিক্ত দায়রা জজ, যুগ্ম দায়রা জজ) (গ) ৪ শ্রেণির (ঘ) ১ শ্রেণির

সঠিক উত্তর: (খ) ৩ শ্রেণির (দায়রা জজ, অতিরিক্ত দায়রা জজ, যুগ্ম দায়রা জজ)

ব্যাখ্যা: ৯ ধারা অনুযায়ী দায়রা বিভাগে দায়রা জজ, অতিরিক্ত দায়রা জজ এবং যুগ্ম দায়রা জজ — এই তিন শ্রেণির বিচারক থাকেন।

১৭. সরকার বিশেষ ক্ষমতা অর্পণ করলে মেট্রোপলিটান ম্যাজিস্ট্রেট সর্বোচ্চ কত মেয়াদের কারাদণ্ড দিতে পারেন?

(ক) ৩ বছর (খ) ৫ বছর (গ) ৭ বছর (ঘ) ১০ বছর

সঠিক উত্তর: (গ) ৭ বছর

ব্যাখ্যা: মেট্রোপলিটান ম্যাজিস্ট্রেট সাধারণত সর্বোচ্চ ৫ বছর কারাদণ্ড দিতে পারেন, তবে সরকার বিশেষ ক্ষমতা অর্পণ করলে সর্বোচ্চ ৭ বছর পর্যন্ত দণ্ড দিতে পারেন।

১৮. দণ্ডাদেশ পুনর্বিবেচনা বা আপিলের বিধান কোন ধারায় আছে?

(ক) ধারা ৪০৩ (খ) ধারা ৪০৪ (গ) ধারা ৪০৬ (ঘ) ধারা ৪১৭

সঠিক উত্তর: (ক) ধারা ৪০৩

ব্যাখ্যা: ৪০৩-৪২৩ ধারায় ফৌজদারি আপিল সংক্রান্ত বিভিন্ন বিধান রয়েছে।

১৯. রাষ্ট্রপক্ষ কর্তৃক খালাসের রায়ের বিরুদ্ধে আপিল করার ক্ষমতা কার?

(ক) সরকার (খ) বাদী নিজে (গ) পুলিশ (ঘ) কোনো আপিল সম্ভব নয়

সঠিক উত্তর: (ক) সরকার

ব্যাখ্যা: ৪১৭ ধারা অনুযায়ী খালাসের রায়ের বিরুদ্ধে আপিল করার ক্ষমতা সরকারের (রাষ্ট্রপক্ষের) রয়েছে।

২০. পুনর্বিচার (Retrial) নির্দেশ দেওয়ার ক্ষমতা কোন আদালতের আছে?

(ক) ম্যাজিস্ট্রেট আদালতের (খ) আপিল বা রিভিশন আদালতের (গ) পুলিশের (ঘ) শুধু আপিল বিভাগের

সঠিক উত্তর: (খ) আপিল বা রিভিশন আদালতের

ব্যাখ্যা: ৪২৩ ও ৪৩৯ ধারা অনুযায়ী আপিল বা রিভিশন আদালত প্রয়োজনে নিম্ন আদালতকে পুনর্বিচারের নির্দেশ দিতে পারেন।

২১. ফৌজদারি রিভিশনের এখতিয়ার প্রধানত কোন আদালতের?

(ক) জেলা জজ ও দায়রা জজ, এবং হাইকোর্ট বিভাগের (খ) শুধু ম্যাজিস্ট্রেট আদালতের (গ) শুধু থানার (ঘ) শুধু আপিল বিভাগের

সঠিক উত্তর: (ক) জেলা জজ ও দায়রা জজ, এবং হাইকোর্ট বিভাগের

ব্যাখ্যা: ৪৩৫-৪৩৯ ধারা অনুযায়ী দায়রা জজ ও হাইকোর্ট বিভাগ ফৌজদারি রিভিশনের এখতিয়ার প্রয়োগ করতে পারে।

২২. অপরাধমূলক ষড়যন্ত্র সংক্রান্ত মামলায় আদালতের বিশেষ অনুমতি প্রয়োজন হয় কোন ধারায়?

(ক) ধারা ১৯৬ (খ) ধারা ১৯৬ক (গ) ধারা ২০০ (ঘ) ধারা ৪৩৯

সঠিক উত্তর: (খ) ধারা ১৯৬ক

ব্যাখ্যা: ১৯৬ক ধারা অনুযায়ী নির্দিষ্ট ষড়যন্ত্র সংক্রান্ত অপরাধের বিচারের জন্য সরকারের অনুমতি প্রয়োজন হতে পারে।

২৩. বেসরকারি ব্যক্তির নালিশের ভিত্তিতে মামলা গ্রহণ সংক্রান্ত বিধান কোন ধারায় আছে?

(ক) ধারা ১৯০ (খ) ধারা ২০০ (গ) ধারা ২০২ (ঘ) ধারা ২০৪

সঠিক উত্তর: (খ) ধারা ২০০

ব্যাখ্যা: ২০০ ধারা অনুযায়ী নালিশের ভিত্তিতে ম্যাজিস্ট্রেট নালিশকারীর জবানবন্দি গ্রহণ করেন।

২৪. নালিশ আমলে নেওয়ার পূর্বে তদন্তের নির্দেশ দেওয়ার ক্ষমতা কোন ধারায় আছে?

(ক) ধারা ২০০ (খ) ধারা ২০২ (গ) ধারা ২০৪ (ঘ) ধারা ২৪৯

সঠিক উত্তর: (খ) ধারা ২০২

ব্যাখ্যা: ২০২ ধারা অনুযায়ী ম্যাজিস্ট্রেট প্রয়োজনবোধে নালিশ আমলে নেওয়ার পূর্বে পুলিশ বা অন্য কাউকে তদন্তের নির্দেশ দিতে পারেন।

২৫. প্রকাশ্যে দিবালোকে অপরাধ সংঘটিত হলে সাক্ষীর জবানবন্দি সম্পর্কে কার্যবিধির সাধারণ নীতি কী?

(ক) আদালত সাক্ষ্যের নির্ভরযোগ্যতা মূল্যায়ন করেন গুণমান অনুযায়ী, সংখ্যা অনুযায়ী নয় (খ) সাক্ষীর সংখ্যা বেশি হলেই তা প্রমাণিত হয় (গ) একজন সাক্ষী কখনো গ্রহণযোগ্য নয় (ঘ) স্বীকারোক্তি ছাড়া দণ্ড দেওয়া যায় না

সঠিক উত্তর: (ক) আদালত সাক্ষ্যের নির্ভরযোগ্যতা মূল্যায়ন করেন গুণমান অনুযায়ী, সংখ্যা অনুযায়ী নয়

ব্যাখ্যা: ফৌজদারি বিচারে সাক্ষ্যের গুণগত মান বিবেচ্য, সংখ্যাগত আধিক্য নয় — একজন নির্ভরযোগ্য সাক্ষীর জবানবন্দিও দণ্ডাদেশের ভিত্তি হতে পারে।

২৬. মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করার পূর্বে কোন আদালতের নিশ্চিতকরণ (Confirmation) প্রয়োজন?

(ক) জেলা জজ আদালত (খ) হাইকোর্ট বিভাগ (গ) আপিল বিভাগ (ঘ) রাষ্ট্রপতি

সঠিক উত্তর: (খ) হাইকোর্ট বিভাগ

ব্যাখ্যা: ৩৭৪ ধারা অনুযায়ী দায়রা আদালত প্রদত্ত মৃত্যুদণ্ড হাইকোর্ট বিভাগ কর্তৃক নিশ্চিত (Confirm) না হওয়া পর্যন্ত কার্যকর করা যায় না।

২৭. তল্লাশি পরোয়ানা (Search Warrant) ইস্যু সংক্রান্ত বিধান কোন ধারায় আছে?

(ক) ধারা ৯৬ (খ) ধারা ৯৮ (গ) ধারা ১০০ (ঘ) ধারা ১৪৪

সঠিক উত্তর: (ক) ধারা ৯৬

ব্যাখ্যা: ৯৬ ধারা অনুযায়ী আদালত নির্দিষ্ট পরিস্থিতিতে তল্লাশি পরোয়ানা ইস্যু করতে পারেন।

২৮. জনশান্তি বিঘ্নের আশঙ্কায় নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট কোন ধারায় ব্যবস্থা নিতে পারেন?

(ক) ধারা ১৪৪ (খ) ধারা ১৪৫ (গ) ধারা ১৪৭ (ঘ) ধারা ১৫০

সঠিক উত্তর: (ক) ধারা ১৪৪

ব্যাখ্যা: ১৪৪ ধারা অনুযায়ী জরুরি ক্ষেত্রে নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট জনশান্তি রক্ষায় নিষেধাজ্ঞামূলক আদেশ জারি করতে পারেন।

২৯. জমি সংক্রান্ত বিরোধে দখল নিয়ে বিরোধ থাকলে নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট কোন ধারায় ব্যবস্থা নিতে পারেন?

(ক) ধারা ১৪৪ (খ) ধারা ১৪৫ (গ) ধারা ১৬০ (ঘ) ধারা ২০০

সঠিক উত্তর: (খ) ধারা ১৪৫

ব্যাখ্যা: ১৪৫ ধারা অনুযায়ী স্থাবর সম্পত্তির দখল নিয়ে বিরোধে জনশান্তি বিঘ্নের আশঙ্কা থাকলে নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট ব্যবস্থা নিতে পারেন।

৩০. পুলিশ প্রতিবেদনের ভিত্তিতে না গিয়ে সরাসরি নালিশের ভিত্তিতে দায়ের মামলাকে কী বলে?

(ক) Complaint Case (খ) State Case (গ) GR Case (ঘ) FIR Case

সঠিক উত্তর: (ক) Complaint Case

ব্যাখ্যা: সরাসরি ম্যাজিস্ট্রেটের নিকট দাখিলকৃত নালিশের ভিত্তিতে দায়েরকৃত মামলাকে Complaint Case (নালিশী মামলা) বলা হয়।

৩১. পুলিশের প্রতিবেদনের ভিত্তিতে দায়েরকৃত মামলাকে সাধারণত কী বলা হয়?

(ক) GR Case (General Register Case) (খ) CR Case (গ) Complaint Case (ঘ) Private Case

সঠিক উত্তর: (ক) GR Case (General Register Case)

ব্যাখ্যা: থানায় দায়েরকৃত এজাহারের ভিত্তিতে শুরু হওয়া মামলাকে সাধারণত জিআর (GR) মামলা বলা হয়।

৩২. আসামীর বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠনের পূর্বে আদালতের সন্তুষ্ট হওয়া প্রয়োজন কী বিষয়ে?

(ক) প্রাথমিকভাবে অভিযোগ গঠনের মতো উপাদান বিদ্যমান কিনা (খ) আসামী নির্দোষ কিনা তার চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত (গ) শাস্তির পরিমাণ (ঘ) জামিনের যোগ্যতা

সঠিক উত্তর: (ক) প্রাথমিকভাবে অভিযোগ গঠনের মতো উপাদান বিদ্যমান কিনা

ব্যাখ্যা: চার্জ গঠনের পূর্বে আদালত শুধু প্রাথমিক (Prima Facie) সাক্ষ্য-প্রমাণ বিবেচনা করে অভিযোগ গঠনের উপযুক্ততা যাচাই করেন, চূড়ান্ত দোষ-নির্দোষ নয়।

৩৩. অপরাধের বিচার শুরুর জন্য সময়সীমা (Limitation for Taking Cognizance) সংক্রান্ত বিধান কোন ধারায় আছে?

(ক) ধারা ৪৭৯ (খ) ধারা ৪৭৯ক (গ) ধারা ৪৮০ (ঘ) ধারা ৫০০

সঠিক উত্তর: (খ) ধারা ৪৭৯ক

ব্যাখ্যা: ৪৭৯ক ধারায় নির্দিষ্ট লঘু অপরাধের ক্ষেত্রে মামলা আমলে নেওয়ার সময়সীমা বর্ণিত হয়েছে।

৩৪. আসামীর মানসিক ভারসাম্যহীনতার কারণে বিচার স্থগিত রাখার বিধান কোন ধারায় আছে?

(ক) ধারা ৪৬৪ (খ) ধারা ৪৬৫ (গ) ধারা ৪৬৬ (ঘ) ধারা ৪৬৭

সঠিক উত্তর: (ক) ধারা ৪৬৪

ব্যাখ্যা: ৪৬৪ ধারা অনুযায়ী আসামী বিচারকালে মানসিক ভারসাম্যহীন হলে বিচার কার্যক্রম স্থগিত রাখার বিধান রয়েছে।

৩৫. যাবজ্জীবন কারাদণ্ডপ্রাপ্ত আসামীর ক্ষেত্রে ক্ষমা প্রদর্শনের ক্ষমতা কার?

(ক) প্রধান বিচারপতি (খ) রাষ্ট্রপতি (গ) প্রধানমন্ত্রী (ঘ) স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী

সঠিক উত্তর: (খ) রাষ্ট্রপতি

ব্যাখ্যা: সংবিধানের ৪৯ অনুচ্ছেদ অনুযায়ী দণ্ড মওকুফ, স্থগিত বা লাঘব করার ক্ষমতা রাষ্ট্রপতির রয়েছে।

৩৬. আসামীর জামিন বাতিলের আবেদন কোন আদালতে করা যায়?

(ক) যে আদালত জামিন দিয়েছে সেই আদালতে অথবা উচ্চতর আদালতে (খ) শুধু হাইকোর্ট বিভাগে (গ) শুধু আপিল বিভাগে (ঘ) শুধু থানায়

সঠিক উত্তর: (ক) যে আদালত জামিন দিয়েছে সেই আদালতে অথবা উচ্চতর আদালতে

ব্যাখ্যা: জামিন প্রদানকারী আদালত অথবা উচ্চতর আদালত পরিস্থিতির পরিপ্রেক্ষিতে জামিন বাতিল করতে পারে।

৩৭. আগাম জামিন (Anticipatory Bail) সংক্রান্ত ক্ষমতা মূলত কোন আদালতের?

(ক) ম্যাজিস্ট্রেট আদালতের (খ) হাইকোর্ট বিভাগের (গ) দায়রা জজ আদালতের (ঘ) থানার

সঠিক উত্তর: (খ) হাইকোর্ট বিভাগের

ব্যাখ্যা: সংবিধানের ৪৪ ও ১০২ অনুচ্ছেদ এবং প্রচলিত ফৌজদারি বিচার ব্যবস্থা অনুযায়ী আগাম জামিন মঞ্জুরের ক্ষমতা মূলত হাইকোর্ট বিভাগের।

৩৮. তদন্তকারী কর্মকর্তা কর্তৃক জব্দকৃত আলামত সংরক্ষণের প্রাথমিক দায়িত্ব কার?

(ক) তদন্তকারী কর্মকর্তা ও মালখানার (খ) আদালতের কেরানির (গ) সাক্ষীর (ঘ) আসামীর

সঠিক উত্তর: (ক) তদন্তকারী কর্মকর্তা ও মালখানার

ব্যাখ্যা: জব্দকৃত আলামত তদন্তকারী কর্মকর্তা কর্তৃক জব্দ তালিকা প্রস্তুতপূর্বক থানার মালখানায় সংরক্ষিত হয়, পরে প্রয়োজনে আদালতে দাখিল হয়।

৩৯. কোনো ব্যক্তিকে মৃত্যুদণ্ড বা যাবজ্জীবন দণ্ডযোগ্য অপরাধে গ্রেফতারের ক্ষেত্রে সর্বোচ্চ কী পরিমাণ বল প্রয়োগ করা যায়?

(ক) মৃত্যু ঘটানো পর্যন্ত বল প্রয়োগ করা যেতে পারে (খ) কোনো বল প্রয়োগ করা যায় না (গ) শুধু লঘু আঘাত পর্যন্ত (ঘ) শুধু হাতকড়া পরানো পর্যন্ত

সঠিক উত্তর: (ক) মৃত্যু ঘটানো পর্যন্ত বল প্রয়োগ করা যেতে পারে

ব্যাখ্যা: ৪৬ ধারা অনুযায়ী মৃত্যুদণ্ড বা যাবজ্জীবন কারাদণ্ডযোগ্য অপরাধে অভিযুক্ত ব্যক্তি পলায়নের চেষ্টা করলে প্রয়োজনে মৃত্যু ঘটিয়ে হলেও গ্রেফতার করা যেতে পারে।

৪০. নারী আসামীকে গ্রেফতারের ক্ষেত্রে সাধারণ নিয়ম কী?

(ক) সাধারণত নারী পুলিশ সদস্য দ্বারা এবং শালীনতা বজায় রেখে করতে হয় (খ) যেকোনো পুরুষ পুলিশ সদস্য করতে পারেন (গ) রাতে গ্রেফতার সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ সবসময় (ঘ) গ্রেফতারের জন্য পরিবারের অনুমতি আবশ্যক

সঠিক উত্তর: (ক) সাধারণত নারী পুলিশ সদস্য দ্বারা এবং শালীনতা বজায় রেখে করতে হয়

ব্যাখ্যা: প্রচলিত নির্দেশনা ও আদালতের রায় অনুযায়ী নারী ব্যক্তিকে গ্রেফতারের ক্ষেত্রে শালীনতা রক্ষা এবং যথাসম্ভব নারী পুলিশ সদস্যের উপস্থিতি নিশ্চিত করতে হয়।

৪১. সাক্ষীর জবানবন্দি বিচারের সময় পুনরায় হাজির করে যাচাই করার প্রক্রিয়াকে কী বলে?

(ক) জেরা (Cross-examination) (খ) জবানবন্দি (গ) সাক্ষ্য গ্রহণ (ঘ) রায় ঘোষণা

সঠিক উত্তর: (ক) জেরা (Cross-examination)

ব্যাখ্যা: বিপক্ষের আইনজীবী কর্তৃক সাক্ষীকে জিজ্ঞাসাবাদের মাধ্যমে তার সাক্ষ্য যাচাই করার প্রক্রিয়াকে জেরা (Cross-examination) বলে।

৪২. চার্জ গঠনের পর আসামীর দোষ স্বীকার না করলে পরবর্তী ধাপ কী?

(ক) বিচার শুরু ও সাক্ষ্য গ্রহণ (খ) সরাসরি রায় প্রদান (গ) মামলা খারিজ (ঘ) পুনরায় তদন্ত

সঠিক উত্তর: (ক) বিচার শুরু ও সাক্ষ্য গ্রহণ

ব্যাখ্যা: আসামী দোষ স্বীকার না করলে আদালত সাক্ষ্য গ্রহণের মাধ্যমে পূর্ণাঙ্গ বিচার কার্যক্রম শুরু করেন।

৪৩. রাষ্ট্রপক্ষের সাক্ষ্য শেষে আসামীর জবানবন্দি গ্রহণ সংক্রান্ত বিধান কোন ধারায় আছে?

(ক) ধারা ৩৪২ (খ) ধারা ৩৬৪ (গ) ধারা ৪০৩ (ঘ) ধারা ৪৩৯

সঠিক উত্তর: (ক) ধারা ৩৪২

ব্যাখ্যা: ৩৪২ ধারা অনুযায়ী রাষ্ট্রপক্ষের সাক্ষ্য শেষে আদালত আসামীকে ব্যাখ্যা দেওয়ার সুযোগ দিয়ে জবানবন্দি গ্রহণ করেন।

৪৪. একই অপরাধে একাধিকবার বিচার নিষিদ্ধ করার নীতিকে কী বলে?

(ক) Double Jeopardy (খ) Res Judicata (গ) Estoppel (ঘ) Autrefois Guilty

সঠিক উত্তর: (ক) Double Jeopardy

ব্যাখ্যা: সংবিধানের ৩৫(২) অনুচ্ছেদ ও কার্যবিধির ৪০৩ ধারা অনুযায়ী একই অপরাধে একাধিকবার বিচার নিষিদ্ধ — একে Double Jeopardy নীতি বলা হয়।

৪৫. তদন্তকারী কর্মকর্তা মামলার অগ্রগতি সংক্রান্ত যে দৈনিক নথি রাখেন তাকে কী বলে?

(ক) কেস ডায়েরি (Case Diary) (খ) চার্জশিট (গ) এজাহার (ঘ) জব্দ তালিকা

সঠিক উত্তর: (ক) কেস ডায়েরি (Case Diary)

ব্যাখ্যা: ১৭২ ধারা অনুযায়ী তদন্তকারী কর্মকর্তা প্রতিদিনের তদন্ত কার্যক্রম কেস ডায়েরিতে লিপিবদ্ধ করেন।

৪৬. কেস ডায়েরি সরাসরি আসামীপক্ষকে দেখানো সংক্রান্ত সাধারণ নিয়ম কী?

(ক) সরাসরি আসামীপক্ষকে দেখানো যায় না, তবে আদালত ব্যবহার করতে পারেন (খ) আসামীপক্ষ সবসময় দেখতে পারবে (গ) শুধু রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী দেখতে পারবেন (ঘ) প্রকাশ্য আদালতে পড়ে শোনাতে হবে

সঠিক উত্তর: (ক) সরাসরি আসামীপক্ষকে দেখানো যায় না, তবে আদালত ব্যবহার করতে পারেন

ব্যাখ্যা: ১৭২(২) ধারা অনুযায়ী কেস ডায়েরি সরাসরি প্রমাণ নয় এবং আসামীপক্ষকে দেখানো যায় না, তবে আদালত নিজের ব্যবহারের জন্য দেখতে পারেন।

৪৭. সমন-মামলা (Summons Case) ও ওয়ারেন্ট-মামলা (Warrant Case)-এর মূল পার্থক্য কী?

(ক) শাস্তির সর্বোচ্চ মেয়াদের ভিত্তিতে শ্রেণিবিভাগ (খ) মামলার নাম (গ) সাক্ষীর সংখ্যা (ঘ) আদালতের অবস্থান

সঠিক উত্তর: (ক) শাস্তির সর্বোচ্চ মেয়াদের ভিত্তিতে শ্রেণিবিভাগ

ব্যাখ্যা: কার্যবিধিতে অপরাধের সর্বোচ্চ শাস্তির মেয়াদ অনুযায়ী মামলাকে সমন-মামলা ও ওয়ারেন্ট-মামলায় শ্রেণিবদ্ধ করা হয়েছে — সাধারণত ২ বছরের বেশি কারাদণ্ডযোগ্য অপরাধ ওয়ারেন্ট-মামলা হিসেবে গণ্য হয়।

৪৮. যৌথভাবে সংঘটিত অপরাধের ক্ষেত্রে একাধিক আসামীর একত্রে বিচারের বিধানকে কী বলে?

(ক) Joint Trial (খ) Split Trial (গ) Retrial (ঘ) Committal

সঠিক উত্তর: (ক) Joint Trial

ব্যাখ্যা: নির্দিষ্ট শর্ত পূরণ সাপেক্ষে একাধিক আসামীর একত্রে বিচারকে Joint Trial বলা হয়, যা মামলার কার্যকারিতা বৃদ্ধি করে।

৪৯. দায়রা আদালতে বিচারের জন্য মামলা প্রেরণের প্রক্রিয়াকে কী বলা হতো?

(ক) দায়েরার নথিভুক্তকরণ (খ) কমিটমেন্ট (Committal Proceedings) (গ) রিমান্ড (ঘ) চার্জশিট

সঠিক উত্তর: (খ) কমিটমেন্ট (Committal Proceedings)

ব্যাখ্যা: পূর্বে ম্যাজিস্ট্রেট আদালত থেকে দায়রা আদালতে বিচারার্থ মামলা প্রেরণের প্রক্রিয়াকে কমিটমেন্ট প্রসিডিংস বলা হতো।

৫০. সাক্ষীর জবানবন্দি শপথ ব্যতীত গ্রহণযোগ্য হতে পারে কোন ক্ষেত্রে?

(ক) শিশু সাক্ষীর ক্ষেত্রে আদালতের বিবেচনায় (খ) কখনোই নয় (গ) শুধু বিশেষজ্ঞ সাক্ষীর ক্ষেত্রে (ঘ) শুধু পুলিশ সাক্ষীর ক্ষেত্রে

সঠিক উত্তর: (ক) শিশু সাক্ষীর ক্ষেত্রে আদালতের বিবেচনায়

ব্যাখ্যা: সাক্ষ্য আইনের বিধান ও প্রচলিত ব্যাখ্যা অনুযায়ী শিশু সাক্ষী শপথের অর্থ না বুঝলে আদালত বিবেচনাপূর্বক শপথ ব্যতীত জবানবন্দি গ্রহণ করতে পারেন, তবে যথাযথ সতর্কতা প্রয়োজন।

৫১. তদন্ত (Investigation), অনুসন্ধান (Inquiry) ও বিচার (Trial) — এই তিনটি পর্যায়ের সঠিক ক্রম কোনটি?

(ক) তদন্ত → অনুসন্ধান/বিচার (খ) বিচার → তদন্ত → অনুসন্ধান (গ) অনুসন্ধান → তদন্ত → বিচার (ঘ) তিনটি একসাথে হয়

সঠিক উত্তর: (ক) তদন্ত → অনুসন্ধান/বিচার

ব্যাখ্যা: সাধারণত পুলিশ তদন্তের পর প্রয়োজনে ম্যাজিস্ট্রেট অনুসন্ধান করেন, অতঃপর আদালতে বিচার কার্যক্রম শুরু হয়।

৫২. চার্জ গঠনে আসামীর প্রতি অভিযোগ কতবার পড়ে শোনানো ও ব্যাখ্যা করা আবশ্যক?

(ক) একবার, আসামীর বোধগম্য ভাষায় (খ) প্রতিটি সাক্ষ্যের পর (গ) শুধু রায়ের সময় (ঘ) প্রয়োজন নেই

সঠিক উত্তর: (ক) একবার, আসামীর বোধগম্য ভাষায়

ব্যাখ্যা: কার্যবিধি অনুযায়ী চার্জ আসামীকে তার বোধগম্য ভাষায় পড়ে শুনিয়ে ব্যাখ্যা করা আবশ্যক, যাতে সে তার বিরুদ্ধে অভিযোগ বুঝতে পারে।

৫৩. কোনো অপরাধের তদন্ত এলাকা নির্ধারণে সাধারণ নিয়ম কী?

(ক) অপরাধ সংঘটনের স্থান বা এখতিয়ারভুক্ত থানা (খ) আসামীর জন্মস্থান (গ) বাদীর ইচ্ছা (ঘ) সাক্ষীর বসবাসস্থান

সঠিক উত্তর: (ক) অপরাধ সংঘটনের স্থান বা এখতিয়ারভুক্ত থানা

ব্যাখ্যা: সাধারণত অপরাধ যে থানা এলাকায় সংঘটিত হয়, সেই থানারই তদন্তের এখতিয়ার থাকে।

৫৪. কোনো ব্যক্তি নিজ ইচ্ছায় থানায় হাজির হয়ে অপরাধ স্বীকার করলে পুলিশের করণীয় কী?

(ক) এজাহার লিপিবদ্ধ করে তদন্ত শুরু করা (খ) সরাসরি ছেড়ে দেওয়া (গ) কোনো ব্যবস্থা না নেওয়া (ঘ) শুধু সতর্ক করে দেওয়া

সঠিক উত্তর: (ক) এজাহার লিপিবদ্ধ করে তদন্ত শুরু করা

ব্যাখ্যা: ১৫৪ ধারা অনুযায়ী আমলযোগ্য অপরাধের তথ্য পেলে পুলিশ তা এজাহার হিসেবে লিপিবদ্ধ করে তদন্ত শুরু করতে বাধ্য।

৫৫. আমলযোগ্য (Cognizable) ও আমলঅযোগ্য (Non-cognizable) অপরাধের মধ্যে মূল পার্থক্য কী?

(ক) আমলযোগ্য অপরাধে পুলিশ পরোয়ানা ছাড়াই গ্রেফতার করতে পারে (খ) উভয়ই একই (গ) আমলঅযোগ্য অপরাধ বেশি গুরুতর (ঘ) আমলযোগ্য অপরাধে বিচার হয় না

সঠিক উত্তর: (ক) আমলযোগ্য অপরাধে পুলিশ পরোয়ানা ছাড়াই গ্রেফতার করতে পারে

ব্যাখ্যা: আমলযোগ্য অপরাধে পুলিশ পরোয়ানা ছাড়াই গ্রেফতার ও তদন্ত শুরু করতে পারে, আমলঅযোগ্য অপরাধে সাধারণত ম্যাজিস্ট্রেটের অনুমতি প্রয়োজন হয়।

৫৬. আমলঅযোগ্য অপরাধের তদন্ত শুরুর জন্য পুলিশের কী প্রয়োজন?

(ক) ম্যাজিস্ট্রেটের অনুমতি (খ) কোনো অনুমতির প্রয়োজন নেই (গ) শুধু বাদীর সম্মতি (ঘ) শুধু সাক্ষীর বক্তব্য

সঠিক উত্তর: (ক) ম্যাজিস্ট্রেটের অনুমতি

ব্যাখ্যা: ১৫৫ ধারা অনুযায়ী আমলঅযোগ্য অপরাধের ক্ষেত্রে পুলিশ ম্যাজিস্ট্রেটের অনুমতি ব্যতীত তদন্ত শুরু করতে পারে না।

৫৭. তদন্তকালে সন্দেহভাজন ব্যক্তির শারীরিক পরীক্ষা করানোর ক্ষমতা কার?

(ক) রেজিস্টার্ড চিকিৎসকের মাধ্যমে, পুলিশের অনুরোধে (খ) শুধু ম্যাজিস্ট্রেট নিজে (গ) শুধু আদালতের রায়ের পর (ঘ) কোনো পরীক্ষা করা যায় না

সঠিক উত্তর: (ক) রেজিস্টার্ড চিকিৎসকের মাধ্যমে, পুলিশের অনুরোধে

ব্যাখ্যা: কার্যবিধির সংশ্লিষ্ট বিধান অনুযায়ী তদন্তের স্বার্থে উপ-পরিদর্শকের অনুরোধে রেজিস্টার্ড চিকিৎসক সন্দেহভাজন ব্যক্তির শারীরিক পরীক্ষা করতে পারেন।

৫৮. অভিযোগপত্র (Charge Sheet) দাখিলের পর ম্যাজিস্ট্রেটের প্রথম করণীয় কাজ কী?

(ক) আসামীর উপস্থিতি নিশ্চিত করে অভিযোগ বিবেচনা (খ) সরাসরি রায় প্রদান (গ) মামলা খারিজ করা (ঘ) পুনরায় তদন্তের নির্দেশ

সঠিক উত্তর: (ক) আসামীর উপস্থিতি নিশ্চিত করে অভিযোগ বিবেচনা

ব্যাখ্যা: চার্জশিট দাখিলের পর ম্যাজিস্ট্রেট আসামীর উপস্থিতি নিশ্চিত করে অভিযোগ গঠনের উপযুক্ততা বিবেচনা করেন।

৫৯. বেসরকারি ব্যক্তি (Private Person) কি কাউকে গ্রেফতার করতে পারেন?

(ক) হ্যাঁ, নির্দিষ্ট পরিস্থিতিতে (যেমন আমলযোগ্য অপরাধে হাতেনাতে ধরা পড়লে) (খ) না, কখনোই নয় (গ) শুধু পুলিশের অনুমতি নিয়ে (ঘ) শুধু ম্যাজিস্ট্রেটের উপস্থিতিতে

সঠিক উত্তর: (ক) হ্যাঁ, নির্দিষ্ট পরিস্থিতিতে (যেমন আমলযোগ্য অপরাধে হাতেনাতে ধরা পড়লে)

ব্যাখ্যা: ৫৯ ধারা অনুযায়ী বেসরকারি ব্যক্তি আমলযোগ্য ও জামিন-অযোগ্য অপরাধে হাতেনাতে ধরা পড়া ব্যক্তিকে গ্রেফতার করে নিকটস্থ পুলিশে সোপর্দ করতে পারেন।

৬০. মিথ্যা এজাহার দায়েরের জন্য কী শাস্তির বিধান রয়েছে?

(ক) দণ্ডবিধি অনুযায়ী মিথ্যা তথ্য প্রদানের শাস্তি (খ) কোনো শাস্তি নেই (গ) শুধু সতর্কীকরণ (ঘ) শুধু ক্ষতিপূরণ

সঠিক উত্তর: (ক) দণ্ডবিধি অনুযায়ী মিথ্যা তথ্য প্রদানের শাস্তি

ব্যাখ্যা: দণ্ডবিধির ১৮২ ও ২১১ ধারা অনুযায়ী মিথ্যা তথ্য দিয়ে কাউকে ফাঁসানোর উদ্দেশ্যে এজাহার দায়ের করলে তা শাস্তিযোগ্য অপরাধ।

৬১. তদন্তাধীন মামলায় সাক্ষীর গোপনীয়তা রক্ষার জন্য বিশেষ ব্যবস্থা কোন ধরনের মামলায় প্রযোজ্য হতে পারে?

(ক) স্পর্শকাতর মামলা (যেমন নারী ও শিশু নির্যাতন) (খ) সাধারণ চুরি মামলা (গ) সব ধরনের দেওয়ানি মামলা (ঘ) শুধু ট্রাফিক মামলা

সঠিক উত্তর: (ক) স্পর্শকাতর মামলা (যেমন নারী ও শিশু নির্যাতন)

ব্যাখ্যা: নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনের মতো বিশেষ আইনে স্পর্শকাতর মামলায় সাক্ষী ও ভুক্তভোগীর পরিচয় গোপন রাখার বিশেষ বিধান রয়েছে।

৬২. আসামীর পক্ষে আইনি সহায়তা (Legal Aid) পাওয়ার ব্যবস্থা কোন আইনে আছে?

(ক) Legal Aid Services Act, 2000 (খ) Bar Council Order, 1972 (গ) Evidence Act, 1872 (ঘ) Penal Code, 1860

সঠিক উত্তর: (ক) Legal Aid Services Act, 2000

ব্যাখ্যা: Legal Aid Services Act, 2000 অনুযায়ী আর্থিকভাবে অসচ্ছল বিচারপ্রার্থীদের সরকারি খরচে আইনি সহায়তা প্রদানের ব্যবস্থা রয়েছে।

৬৩. চার্জশিট দাখিলের পর তদন্তে নতুন তথ্য পাওয়া গেলে পুলিশের করণীয় কী?

(ক) সম্পূরক প্রতিবেদন (Supplementary Charge Sheet) দাখিল করা (খ) নতুন মামলা দায়ের করা (গ) কোনো ব্যবস্থা নেওয়া যায় না (ঘ) পুরনো চার্জশিট বাতিল করা

সঠিক উত্তর: (ক) সম্পূরক প্রতিবেদন (Supplementary Charge Sheet) দাখিল করা

ব্যাখ্যা: নতুন প্রমাণ পাওয়া গেলে তদন্তকারী কর্মকর্তা আদালতের অনুমতিক্রমে সম্পূরক প্রতিবেদন দাখিল করতে পারেন।

৬৪. জামিনের শর্ত ভঙ্গ করলে আদালতের করণীয় কী?

(ক) জামিন বাতিল করে আসামীকে হেফাজতে নেওয়া (খ) কোনো ব্যবস্থা নেওয়া যায় না (গ) শুধু জরিমানা আরোপ (ঘ) নতুন মামলা দায়ের

সঠিক উত্তর: (ক) জামিন বাতিল করে আসামীকে হেফাজতে নেওয়া

ব্যাখ্যা: জামিনের শর্ত ভঙ্গ করলে আদালত জামিন বাতিল করে আসামীকে পুনরায় হেফাজতে নেওয়ার নির্দেশ দিতে পারেন।

৬৫. ফৌজদারি কার্যবিধিতে 'আমলযোগ্য অপরাধ' (Cognizable Offence)-এর সংজ্ঞা কোন ধারায় আছে?

(ক) ধারা ৪(চ) (খ) ধারা ৪(ট) (গ) ধারা ৫ (ঘ) ধারা ৬

সঠিক উত্তর: (ক) ধারা ৪(চ)

ব্যাখ্যা: ৪(চ) ধারায় আমলযোগ্য অপরাধ ও আমলযোগ্য মামলার সংজ্ঞা দেওয়া হয়েছে।

৬৬. অভিযোগপত্রে একাধিক অপরাধের চার্জ গঠনের সাধারণ নিয়ম কী?

(ক) একই লেনদেন থেকে উদ্ভূত সংশ্লিষ্ট অপরাধসমূহ একত্রে চার্জ করা যায় (খ) একটি মামলায় শুধু একটি অপরাধেরই চার্জ করা যায় (গ) সবসময় পৃথক মামলা করতে হবে (ঘ) চার্জ গঠনের কোনো নিয়ম নেই

সঠিক উত্তর: (ক) একই লেনদেন থেকে উদ্ভূত সংশ্লিষ্ট অপরাধসমূহ একত্রে চার্জ করা যায়

ব্যাখ্যা: কার্যবিধির বিধান অনুযায়ী একই লেনদেন থেকে উদ্ভূত একাধিক সংশ্লিষ্ট অপরাধের জন্য একই বিচারে চার্জ গঠন করা যায়।

৬৭. তদন্তে বিলম্ব হলে আসামীর প্রতিকার কী হতে পারে?

(ক) জামিনের আবেদন বা দ্রুত বিচারের জন্য আদালতের হস্তক্ষেপ প্রার্থনা (খ) কোনো প্রতিকার নেই (গ) তদন্তকারী কর্মকর্তার বিরুদ্ধে সরাসরি মামলা (ঘ) স্বয়ংক্রিয়ভাবে খালাস

সঠিক উত্তর: (ক) জামিনের আবেদন বা দ্রুত বিচারের জন্য আদালতের হস্তক্ষেপ প্রার্থনা

ব্যাখ্যা: অহেতুক বিলম্বের ক্ষেত্রে আসামী জামিনের আবেদন করতে পারেন বা আদালতের কাছে দ্রুত বিচারের জন্য প্রার্থনা জানাতে পারেন, যা দ্রুত বিচারের সাংবিধানিক অধিকারের অংশ।

৬৮. নিহত ব্যক্তির লাশ পরীক্ষা (Inquest) করার প্রাথমিক দায়িত্ব কার?

(ক) পুলিশ কর্মকর্তা বা ম্যাজিস্ট্রেট (খ) শুধু চিকিৎসক (গ) শুধু আদালত (ঘ) শুধু নিহতের পরিবার

সঠিক উত্তর: (ক) পুলিশ কর্মকর্তা বা ম্যাজিস্ট্রেট

ব্যাখ্যা: ১৭৪ ধারা অনুযায়ী পুলিশ কর্মকর্তা (এবং নির্দিষ্ট ক্ষেত্রে ম্যাজিস্ট্রেট) অস্বাভাবিক মৃত্যুর ক্ষেত্রে ইনকোয়েস্ট রিপোর্ট প্রস্তুত করেন।

৬৯. ময়নাতদন্ত (Post-mortem Examination) পরিচালনা করেন কে?

(ক) রেজিস্টার্ড চিকিৎসক (খ) পুলিশ কর্মকর্তা (গ) ম্যাজিস্ট্রেট নিজে (ঘ) নিহতের আত্মীয়

সঠিক উত্তর: (ক) রেজিস্টার্ড চিকিৎসক

ব্যাখ্যা: ১৭৬ ধারার অধীনে পুলিশের অনুরোধে সরকার নির্ধারিত রেজিস্টার্ড চিকিৎসক ময়নাতদন্ত পরিচালনা করেন।

৭০. অস্বাভাবিক মৃত্যুর ক্ষেত্রে ম্যাজিস্ট্রেট কর্তৃক তদন্ত পরিচালনার বিধান কোন ধারায় আছে?

(ক) ধারা ১৭৪ (খ) ধারা ১৭৬ (গ) ধারা ১৭৭ (ঘ) ধারা ১৭৮

সঠিক উত্তর: (খ) ধারা ১৭৬

ব্যাখ্যা: ১৭৬ ধারা অনুযায়ী নির্দিষ্ট পরিস্থিতিতে (যেমন হেফাজতে মৃত্যু) ম্যাজিস্ট্রেট নিজে তদন্ত পরিচালনা করতে পারেন।

৭১. হেফাজতে মৃত্যুর (Death in Custody) ক্ষেত্রে বিশেষ কী বিধান প্রযোজ্য হয়?

(ক) ম্যাজিস্ট্রেট কর্তৃক বাধ্যতামূলক তদন্ত (খ) কোনো তদন্তের প্রয়োজন নেই (গ) শুধু পুলিশের অভ্যন্তরীণ তদন্ত যথেষ্ট (ঘ) মামলা স্বয়ংক্রিয়ভাবে খারিজ হয়

সঠিক উত্তর: (ক) ম্যাজিস্ট্রেট কর্তৃক বাধ্যতামূলক তদন্ত

ব্যাখ্যা: ১৭৬ ধারা অনুযায়ী হেফাজতে মৃত্যুর ক্ষেত্রে ম্যাজিস্ট্রেট কর্তৃক বাধ্যতামূলক তদন্ত পরিচালনা করতে হয়, যা স্বচ্ছতা নিশ্চিত করে।

৭২. কোনো ব্যক্তি ফৌজদারি মামলায় জামিনে মুক্তির পর বিদেশ গমনে ইচ্ছুক হলে সাধারণত কী প্রয়োজন?

(ক) আদালতের অনুমতি (খ) শুধু পাসপোর্ট অফিসের অনুমতি (গ) কোনো অনুমতির প্রয়োজন নেই (ঘ) শুধু থানার অনুমতি

সঠিক উত্তর: (ক) আদালতের অনুমতি

ব্যাখ্যা: জামিনের শর্ত হিসেবে সাধারণত আদালতের নির্দিষ্ট অনুমতি ব্যতীত জামিনে থাকা আসামীর দেশত্যাগ সীমিত থাকে।

৭৩. তদন্তে ব্যবহৃত ফরেনসিক প্রতিবেদন (যেমন DNA/ভিসেরা রিপোর্ট) সাক্ষ্য হিসেবে কীভাবে বিবেচিত হয়?

(ক) বিশেষজ্ঞ মতামত হিসেবে সাক্ষ্য আইনের ৪৫ ধারা অনুযায়ী প্রাসঙ্গিক (খ) তা কখনোই সাক্ষ্য নয় (গ) তা স্বয়ংক্রিয়ভাবে চূড়ান্ত প্রমাণ (ঘ) শুধু আসামীর সম্মতিতে গ্রহণযোগ্য

সঠিক উত্তর: (ক) বিশেষজ্ঞ মতামত হিসেবে সাক্ষ্য আইনের ৪৫ ধারা অনুযায়ী প্রাসঙ্গিক

ব্যাখ্যা: ফরেনসিক বিশেষজ্ঞ প্রতিবেদন সাক্ষ্য আইনের ৪৫ ধারা অনুযায়ী বিশেষজ্ঞ মতামত হিসেবে প্রাসঙ্গিক প্রমাণ, তবে চূড়ান্ত নয়, আদালতের মূল্যায়ন সাপেক্ষ।

৭৪. তদন্তকারী কর্মকর্তা প্রয়োজনে অন্য থানার সহায়তা নিতে পারেন কি?

(ক) হ্যাঁ, প্রয়োজনে আন্তঃথানা সহযোগিতা নেওয়া যায় (খ) না, শুধু নিজ থানাতেই তদন্ত সম্ভব (গ) শুধু আদালতের নির্দেশে (ঘ) শুধু ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তার অনুমতিক্রমে সবসময় বাধ্যতামূলক

সঠিক উত্তর: (ক) হ্যাঁ, প্রয়োজনে আন্তঃথানা সহযোগিতা নেওয়া যায়

ব্যাখ্যা: তদন্তের প্রয়োজনে পুলিশ প্রশাসনিক কাঠামোর মধ্যে আন্তঃথানা সহযোগিতা নেওয়া সাধারণ প্র্যাকটিস।

৭৫. ম্যাজিস্ট্রেটগণের শ্রেণিবিভাগ কোন ধারায় বর্ণিত?

(ক) ধারা ৬ (খ) ধারা ৭ (গ) ধারা ৮ (ঘ) ধারা ৯

সঠিক উত্তর: (ক) ধারা ৬

ব্যাখ্যা: ৬ ধারা অনুযায়ী ম্যাজিস্ট্রেটদের জুডিশিয়াল ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট হিসেবে শ্রেণিবিভক্ত করা হয়েছে।

৭৬. প্রথম শ্রেণির ম্যাজিস্ট্রেটের সর্বোচ্চ কারাদণ্ড প্রদানের ক্ষমতা কত?

(ক) ২ বছর (খ) ৩ বছর (গ) ৫ বছর (ঘ) ৭ বছর

সঠিক উত্তর: (খ) ৩ বছর

ব্যাখ্যা: সাধারণত প্রথম শ্রেণির ম্যাজিস্ট্রেট সর্বোচ্চ ৩ বছর পর্যন্ত কারাদণ্ড প্রদান করতে পারেন।

৭৭. চিফ মেট্রোপলিটান ম্যাজিস্ট্রেট বা চিফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেটের ভূমিকা কী?

(ক) মহানগর/জেলার ম্যাজিস্ট্রেট আদালতসমূহের প্রশাসনিক ও বিচারিক তত্ত্বাবধান (খ) শুধু ফাইল সংরক্ষণ (গ) শুধু পুলিশ তদারকি (ঘ) আইন প্রণয়ন

সঠিক উত্তর: (ক) মহানগর/জেলার ম্যাজিস্ট্রেট আদালতসমূহের প্রশাসনিক ও বিচারিক তত্ত্বাবধান

ব্যাখ্যা: চিফ মেট্রোপলিটান/জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট সংশ্লিষ্ট এলাকার ম্যাজিস্ট্রেট আদালতসমূহের কাজের বন্টন ও তত্ত্বাবধান করেন।

৭৮. এজাহার নথিভুক্ত করতে অস্বীকৃতি জানালে অভিযোগকারীর প্রতিকার কী?

(ক) পুলিশ সুপারের কাছে অভিযোগ অথবা সরাসরি ম্যাজিস্ট্রেটের কাছে নালিশ (খ) কোনো প্রতিকার নেই (গ) শুধু সংবাদপত্রে প্রকাশ (ঘ) উচ্চ আদালতে সরাসরি রিট ব্যতীত কোনো উপায় নেই

সঠিক উত্তর: (ক) পুলিশ সুপারের কাছে অভিযোগ অথবা সরাসরি ম্যাজিস্ট্রেটের কাছে নালিশ

ব্যাখ্যা: ১৫৪(৩) ধারা অনুযায়ী থানায় এজাহার নথিভুক্ত না হলে অভিযোগকারী পুলিশ সুপারের কাছে লিখিতভাবে অভিযোগ জানাতে পারেন, অথবা ২০০ ধারা অনুযায়ী সরাসরি ম্যাজিস্ট্রেটের কাছে নালিশ করতে পারেন।

৭৯. তদন্তকারী কর্মকর্তা সাক্ষীকে হাজির হতে সমন জারি করতে পারেন কোন ধারা অনুযায়ী?

(ক) ধারা ১৬০ (খ) ধারা ১৬১ (গ) ধারা ১৬২ (ঘ) ধারা ১৬৪

সঠিক উত্তর: (ক) ধারা ১৬০

ব্যাখ্যা: ১৬০ ধারা অনুযায়ী তদন্তকারী কর্মকর্তা প্রয়োজনীয় ব্যক্তিকে হাজির হওয়ার জন্য লিখিত আদেশ দিতে পারেন।

৮০. পুলিশের নিকট প্রদত্ত জবানবন্দি সাক্ষীর স্বাক্ষর দ্বারা প্রত্যয়িত করা সংক্রান্ত সাধারণ নিয়ম কী?

(ক) সাধারণত সাক্ষীর স্বাক্ষর নেওয়া হয় না (খ) সবসময় স্বাক্ষর আবশ্যক (গ) শুধু ফৌজদারি অপরাধে আবশ্যক (ঘ) শুধু ম্যাজিস্ট্রেটের অনুমতিতে

সঠিক উত্তর: (ক) সাধারণত সাক্ষীর স্বাক্ষর নেওয়া হয় না

ব্যাখ্যা: ১৬১(৩) ধারা অনুযায়ী পুলিশের নিকট প্রদত্ত জবানবন্দিতে সাক্ষীর স্বাক্ষর গ্রহণ করা হয় না, যা এর অপ্রমাণ্য প্রকৃতি নিশ্চিত করে।

৮১. ফৌজদারি আপিলে উচ্চতর আদালত দণ্ড বৃদ্ধি করতে পারেন কোন পরিস্থিতিতে?

(ক) রাষ্ট্রপক্ষের আপিলে বা রিভিশনাল ক্ষমতা প্রয়োগে নোটিশ প্রদানপূর্বক (খ) আসামীর আপিলে স্বতঃপ্রণোদিতভাবে সবসময় (গ) কখনোই দণ্ড বৃদ্ধি করা যায় না (ঘ) শুধু সাক্ষীর অনুরোধে

সঠিক উত্তর: (ক) রাষ্ট্রপক্ষের আপিলে বা রিভিশনাল ক্ষমতা প্রয়োগে নোটিশ প্রদানপূর্বক

ব্যাখ্যা: সাধারণত আসামীর নিজের আপিলে দণ্ড বৃদ্ধি করা হয় না; তবে রাষ্ট্রপক্ষের আপিল বা যথাযথ নোটিশ প্রদানপূর্বক রিভিশনাল ক্ষমতা প্রয়োগে দণ্ড বৃদ্ধি সম্ভব।

৮২. স্বীকারোক্তি প্রদানের পূর্বে ম্যাজিস্ট্রেটের কর্তব্য কী?

(ক) আসামীকে সতর্ক করা যে তিনি বাধ্য নন এবং তার বিরুদ্ধে ব্যবহৃত হতে পারে (খ) কোনো সতর্কতা প্রয়োজন নেই (গ) শুধু আসামীর আত্মীয়কে অবহিত করা (ঘ) শুধু পুলিশকে অবহিত করা

সঠিক উত্তর: (ক) আসামীকে সতর্ক করা যে তিনি বাধ্য নন এবং তার বিরুদ্ধে ব্যবহৃত হতে পারে

ব্যাখ্যা: ১৬৪ ধারা অনুযায়ী ম্যাজিস্ট্রেট স্বীকারোক্তি রেকর্ডের পূর্বে আসামীকে সতর্ক করেন যে তিনি স্বীকারোক্তি দিতে বাধ্য নন এবং তা তার বিরুদ্ধে সাক্ষ্য হিসেবে ব্যবহৃত হতে পারে।

৮৩. স্বীকারোক্তি প্রদানের পর আসামীকে ম্যাজিস্ট্রেট কোথায় প্রেরণ করেন, যাতে তা পুলিশি প্রভাবমুক্ত থাকে?

(ক) ম্যাজিস্ট্রেটের হেফাজতে বা জেলহাজতে, পুলিশ হেফাজতে নয় (খ) পুনরায় পুলিশ হেফাজতে (গ) সরাসরি বাড়িতে (ঘ) কোনো নির্দেশনা নেই

সঠিক উত্তর: (ক) ম্যাজিস্ট্রেটের হেফাজতে বা জেলহাজতে, পুলিশ হেফাজতে নয়

ব্যাখ্যা: স্বীকারোক্তির অপ্রভাবিত হওয়া নিশ্চিত করতে প্রথা অনুযায়ী আসামীকে সাধারণত পুলিশ হেফাজতে না পাঠিয়ে জেলহাজতে পাঠানো হয়।

৮৪. তল্লাশি পরিচালনার সময় সাক্ষী (Search Witness) রাখার বাধ্যবাধকতা কোন ধারায় আছে?

(ক) ধারা ১০৩ (খ) ধারা ১০৪ (গ) ধারা ১০৫ (ঘ) ধারা ১০৬

সঠিক উত্তর: (ক) ধারা ১০৩

ব্যাখ্যা: ১০৩ ধারা অনুযায়ী তল্লাশির সময় স্থানীয় সম্মানিত ব্যক্তিদের সাক্ষী রাখা এবং তল্লাশি তালিকা প্রস্তুত করা বাধ্যতামূলক।

৮৫. গ্রেফতারের সময় জব্দকৃত বস্তুর তালিকা প্রস্তুতকে কী বলে?

(ক) জব্দ তালিকা (Seizure List) (খ) চার্জশিট (গ) এজাহার (ঘ) কেস ডায়েরি

সঠিক উত্তর: (ক) জব্দ তালিকা (Seizure List)

ব্যাখ্যা: গ্রেফতার বা তল্লাশির সময় প্রাপ্ত বস্তুর বিস্তারিত তালিকা প্রস্তুত করাকে জব্দ তালিকা বলা হয়, যা পরে আদালতে দাখিল করা হয়।

৮৬. ফৌজদারি মামলায় আসামীর অনুপস্থিতিতে বিচার (Trial in Absentia) কোন পরিস্থিতিতে হতে পারে?

(ক) পলাতক আসামীর ক্ষেত্রে নির্দিষ্ট শর্ত পূরণ সাপেক্ষে (খ) কখনোই সম্ভব নয় (গ) শুধু আসামীর সম্মতিতে (ঘ) শুধু দেওয়ানি মামলায়

সঠিক উত্তর: (ক) পলাতক আসামীর ক্ষেত্রে নির্দিষ্ট শর্ত পূরণ সাপেক্ষে

ব্যাখ্যা: নির্দিষ্ট পরিস্থিতিতে (যেমন সমন/ওয়ারেন্ট সত্ত্বেও ইচ্ছাকৃতভাবে পলাতক থাকা) আদালত আসামীর অনুপস্থিতিতে বিচার পরিচালনা করতে পারেন।

৮৭. পলাতক আসামীর সম্পত্তি ক্রোকের বিধান কোন ধারায় আছে?

(ক) ধারা ৮৭ (খ) ধারা ৮৮ (গ) ধারা ৮৯ (ঘ) ধারা ৮৭ ও ৮৮

সঠিক উত্তর: (ঘ) ধারা ৮৭ ও ৮৮

ব্যাখ্যা: ৮৭ ধারায় পলাতক ঘোষণার এবং ৮৮ ধারায় সেই ব্যক্তির সম্পত্তি ক্রোকের বিধান রয়েছে।

৮৮. সরকারি কৌঁসুলি (Public Prosecutor) নিয়োগ দেন কে?

(ক) সরকার (খ) বার কাউন্সিল (গ) প্রধান বিচারপতি (ঘ) পুলিশ সুপার

সঠিক উত্তর: (ক) সরকার

ব্যাখ্যা: সরকার প্রতিটি জেলার জন্য সরকারি কৌঁসুলি ও অতিরিক্ত সরকারি কৌঁসুলি নিয়োগ দেয়।

৮৯. রাষ্ট্রপক্ষের মামলা প্রত্যাহারের (Withdrawal from Prosecution) ক্ষমতা কার?

(ক) সরকারি কৌঁসুলি, আদালতের সম্মতিক্রমে (খ) শুধু পুলিশ (গ) শুধু বাদী (ঘ) শুধু আসামী

সঠিক উত্তর: (ক) সরকারি কৌঁসুলি, আদালতের সম্মতিক্রমে

ব্যাখ্যা: ৪৯৪ ধারা অনুযায়ী সরকারি কৌঁসুলি আদালতের সম্মতিক্রমে বিচার চলাকালীন যেকোনো পর্যায়ে মামলা প্রত্যাহার করতে পারেন।

৯০. ফৌজদারি মামলায় জামিন প্রদানের ক্ষেত্রে সাধারণত জামানত হিসেবে কী চাওয়া হতে পারে?

(ক) ব্যক্তিগত বন্ড ও জামিনদারের স্বীকৃতি (Surety) (খ) শুধু নগদ অর্থ সবসময় (গ) কোনো জামানত প্রয়োজন নেই কখনোই (ঘ) শুধু সম্পত্তির দলিল বাধ্যতামূলক

সঠিক উত্তর: (ক) ব্যক্তিগত বন্ড ও জামিনদারের স্বীকৃতি (Surety)

ব্যাখ্যা: ৪৯৯ ধারা অনুযায়ী জামিনের জন্য সাধারণত ব্যক্তিগত বন্ড এবং প্রয়োজনে এক বা একাধিক জামিনদারের স্বীকৃতি নেওয়া হয়।

৯১. তদন্তে ব্যবহৃত 'নারকো অ্যানালাইসিস' বা অনুরূপ পরীক্ষার সাক্ষ্যগত মূল্য কেমন?

(ক) সীমিত ও বিতর্কিত, সরাসরি স্বীকারোক্তি হিসেবে ব্যবহারযোগ্য নয় (খ) সম্পূর্ণ সাক্ষ্য হিসেবে গ্রহণযোগ্য (গ) চূড়ান্ত প্রমাণ (ঘ) ফৌজদারি কার্যবিধিতে সরাসরি স্বীকৃত পদ্ধতি

সঠিক উত্তর: (ক) সীমিত ও বিতর্কিত, সরাসরি স্বীকারোক্তি হিসেবে ব্যবহারযোগ্য নয়

ব্যাখ্যা: এই ধরনের পরীক্ষা ব্যক্তির সম্মতি ও মানবাধিকার প্রশ্নে বিতর্কিত এবং তা সরাসরি স্বীকারোক্তি হিসেবে আইনগত মর্যাদা পায় না।

৯২. ফৌজদারি মামলায় ভুক্তভোগীর ক্ষতিপূরণ (Compensation to Victim) প্রদানের ক্ষমতা কোন ধারায় আছে?

(ক) ধারা ৫৪৫ (খ) ধারা ৫৪৬ (গ) ধারা ৫৪৭ (ঘ) ধারা ৫৪৮

সঠিক উত্তর: (ক) ধারা ৫৪৫

ব্যাখ্যা: ৫৪৫ ধারা অনুযায়ী আদালত জরিমানার অর্থ থেকে ভুক্তভোগীকে ক্ষতিপূরণ প্রদানের নির্দেশ দিতে পারেন।

৯৩. ফৌজদারি মামলায় সরকারি খরচে আইনজীবী নিয়োগের বিধান কোন পরিস্থিতিতে প্রযোজ্য?

(ক) দরিদ্র আসামী নিজে আইনজীবী নিয়োগ করতে অক্ষম হলে (খ) সবসময় বাধ্যতামূলক (গ) শুধু দেওয়ানি মামলায় (ঘ) শুধু আপিলে

সঠিক উত্তর: (ক) দরিদ্র আসামী নিজে আইনজীবী নিয়োগ করতে অক্ষম হলে

ব্যাখ্যা: লিগ্যাল এইড ব্যবস্থার আওতায় আর্থিকভাবে অসচ্ছল আসামীর জন্য রাষ্ট্রীয় খরচে আইনজীবী নিয়োগের সুযোগ রয়েছে, যা ন্যায্য বিচারের নিশ্চয়তা দেয়।