বার কাউন্সিল বিধি ও পেশাগত আচরণ

বাংলাদেশ বার কাউন্সিল হলো আইন পেশার নিয়ন্ত্রক সর্বোচ্চ প্রতিষ্ঠান, যা Bangladesh Legal Practitioners and Bar Council Order, 1972 (একটি President's Order) দ্বারা প্রতিষ্ঠিত। এটি আইনজীবী তালিকাভুক্তি, আইন শিক্ষার মান নিয়ন্ত্রণ, পেশাগত আচরণবিধি প্রণয়ন এবং অসদাচরণের শাস্তি নির্ধারণ করে। বিজেএস পরীক্ষার্থীর জন্যও এই অধ্যায়টি গুরুত্বপূর্ণ, কারণ সহকারী জজ হিসেবে নিয়োগের পূর্বে আইনজীবী হিসেবে তালিকাভুক্তি ও পেশাগত আচরণবিধির জ্ঞান বিচার বিভাগের কার্যক্রম বোঝার জন্য অপরিহার্য।

এই অধ্যায়ে কাউন্সিলের গঠন, সদস্যপদ, এনরোলমেন্টের যোগ্যতা, শিক্ষানবিশি ব্যবস্থা, শৃঙ্খলা ট্রাইব্যুনাল এবং আইনজীবীর নৈতিক আচরণবিধি নিয়ে আলোচনা করা হয়েছে।

পরীক্ষায় এই অধ্যায়ের গুরুত্ব

বিশেষভাবে গুরুত্বপূর্ণ: বার কাউন্সিলের সদস্য সংখ্যা ও গঠন প্রক্রিয়া, নির্বাচিত সদস্যদের কার্যকাল, এনরোলমেন্টের ন্যূনতম বয়স ও যোগ্যতা, শিক্ষানবিশি সংক্রান্ত নিয়ম (Pupilage), শৃঙ্খলা ট্রাইব্যুনালের গঠন ও আপিলের এখতিয়ার, এবং পেশাগত আচরণবিধির মূলনীতি (মক্কেল, আদালত ও সহকর্মীদের প্রতি আইনজীবীর কর্তব্য)। প্রতিটি নির্দিষ্ট সংখ্যা (সদস্য সংখ্যা, বয়সসীমা, দিনসংখ্যা) মুখস্থ রাখা প্রশ্নের সরাসরি উত্তরে কাজে লাগে।

প্রশ্নের ধরন — সম্পূর্ণ মানচিত্র

যেখান থেকে প্রশ্ন আসেযা জানতে হয়উদাহরণ
সাংগঠনিক কাঠামোকাউন্সিলের গঠন ও কমিটিএনরোলমেন্ট কমিটির চেয়ারম্যান কে?
সংখ্যাভিত্তিকবয়স, মেয়াদ, দিনসংখ্যাএনরোলমেন্টের ন্যূনতম বয়স কত?
শৃঙ্খলামূলকঅসদাচরণের শাস্তি ও প্রতিকারট্রাইব্যুনালের আদেশের বিরুদ্ধে আপিল কোথায়?
আচরণবিধি (দৃষ্টান্তভিত্তিক)একটি পরিস্থিতিতে আইনজীবীর করণীয়বিরোধপূর্ণ স্বার্থে মামলা নেওয়া যাবে কি?

পড়ার কৌশল

  • কাউন্সিলের কাঠামো (সদস্য সংখ্যা, নির্বাচন পদ্ধতি, কার্যকাল) প্রথমে আয়ত্ত করুন — এটি সাংগঠনিক প্রশ্নের ভিত্তি।
  • পেশাগত আচরণবিধি তিনটি সম্পর্কের নিরিখে ভাগ করে পড়ুন: মক্কেলের প্রতি, আদালতের প্রতি, এবং সহকর্মী আইনজীবীর প্রতি কর্তব্য — প্রতিটি প্রশ্ন এই তিনটির যেকোনো একটির আওতায় পড়ে।
  • শিক্ষানবিশি ও এনরোলমেন্ট সংক্রান্ত সাংখ্যিক তথ্য (বয়স, বছর, সংখ্যা) একটি টেবিলে সাজিয়ে মুখস্থ করুন।

বার কাউন্সিলের গঠন ও সদস্যপদ

প্রতিষ্ঠাকারী আইন: বাংলাদেশ বার কাউন্সিল প্রতিষ্ঠিত হয় Bangladesh Legal Practitioners and Bar Council Order, 1972-এর মাধ্যমে, যা একটি President's Order (রাষ্ট্রপতির আদেশ) — এটি একটি সংবিধিবদ্ধ (Statutory) সংস্থা, সংবিধান দ্বারা সরাসরি সৃষ্ট প্রতিষ্ঠান নয়।

সদস্য সংখ্যা ও গঠন: বার কাউন্সিলের মোট সদস্য সংখ্যা ১৫ জন, যার মধ্যে নির্বাচিত ও পদাধিকারবলে সদস্য (যেমন অ্যাটর্নি জেনারেল) উভয়ই অন্তর্ভুক্ত থাকেন। গ্রুপ ভিত্তিতে নির্বাচনযোগ্য সদস্য সংখ্যা ৭ জন। নির্বাচিত সদস্যদের কার্যকাল ৩ বছর, এবং কোনো এ্যাডভোকেট ২ বারের বেশি বার কাউন্সিলের সদস্য পদে থাকতে পারেন না।

নির্বাচন প্রক্রিয়া: মেয়াদ উত্তীর্ণের বছরে ৩১ মে-র মধ্যে বার কাউন্সিল নির্বাচন সম্পন্ন করতে হয়, এবং নির্বাচনসূচি নির্বাচনের কমপক্ষে ৪৫ দিন পূর্বে প্রকাশ করতে হয়। নতুন বার কাউন্সিলের প্রথম সভা মেয়াদ শুরুর ১ মাসের মধ্যে অনুষ্ঠিত হতে হয়।

কমিটি ও কর্মকর্তা

সচিব: বার কাউন্সিলের সচিব সরকার কর্তৃক নিযুক্ত হন, এবং সাধারণত জেলা জজ বা অতিরিক্ত জেলা জজ পদমর্যাদার একজন বিচার বিভাগীয় কর্মকর্তাকে এই পদে নিয়োগ দেওয়া হয়। এনরোলমেন্ট কমিটি (Enrolment Committee): অ্যাডভোকেট হবার সকল আবেদনপত্র এই কমিটিতে উপস্থাপন করতে হয়; এর চেয়ারম্যান আপিল বিভাগের একজন বিচারপতি, যিনি প্রধান বিচারপতি কর্তৃক মনোনীত হন।

বিধি প্রণয়নের অনুমোদন: বার কাউন্সিল কর্তৃক প্রণীত বিধির (Rules) পূর্ণ কার্যকারিতার জন্য সরকারের অনুমোদন প্রয়োজন — এটি নিশ্চিত করে যে পেশাগত নিয়ন্ত্রণ রাষ্ট্রীয় নীতির সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ থাকে।

অ্যাডভোকেট তালিকাভুক্তির যোগ্যতা

ন্যূনতম বয়স: অ্যাডভোকেট হিসেবে তালিকাভুক্তির জন্য প্রার্থীর ন্যূনতম বয়স ২১ বছর হতে হবে, অন্য সকল যোগ্যতা পূরণ সাপেক্ষে। লিঙ্গ বৈষম্য নিষেধ: বার কাউন্সিল অর্ডারের ২৮ অনুচ্ছেদ অনুযায়ী কেবল লিঙ্গের কারণে কাউকে তালিকাভুক্তি থেকে বঞ্চিত করা যায় না।

নৈতিক অযোগ্যতা: সরকারি চাকরি থেকে নৈতিক স্খলনের দায়ে বরখাস্তকৃত ব্যক্তি অ্যাডভোকেট হবার জন্য অযোগ্য, যদি না তিনি বরখাস্তের পর ২ বছর অতিবাহিত করেন। হাইকোর্ট বিভাগে ব্যবসার যোগ্যতা: হাইকোর্ট বিভাগে আইন ব্যবসার অনুমতি পেতে একজন অ্যাডভোকেটকে অধস্তন আদালতে ন্যূনতম ২ বছর আইন ব্যবসার অভিজ্ঞতা থাকতে হয়।

শিক্ষানবিশি (Pupilage)

শিক্ষানবিশ গ্রহণের যোগ্যতা: ন্যূনতম ১০ বছরের আইন ব্যবসার অভিজ্ঞতাসম্পন্ন একজন অ্যাডভোকেট একজন সনদ প্রার্থীকে শিক্ষানবিশ (Pupil) হিসেবে গ্রহণ করতে পারেন। বার কাউন্সিলের অনুমতি ছাড়া একজন অ্যাডভোকেট সর্বোচ্চ ৪ জন শিক্ষানবিশ রাখতে পারেন।

Pupilage Diary: অ্যাডভোকেট সনদের জন্য আবেদনকারীর Pupilage Diary-তে ন্যূনতম ৫টি দেওয়ানি মামলার নোট থাকতে হবে, যা শিক্ষানবিশকালীন বাস্তব মামলা পর্যবেক্ষণের প্রমাণ হিসেবে কাজ করে।

শৃঙ্খলা ট্রাইব্যুনাল ও শাস্তি

ট্রাইব্যুনালের গঠন: কোনো অ্যাডভোকেটের বিরুদ্ধে পেশাগত অসদাচরণের অভিযোগ বিচারের জন্য বার কাউন্সিল কর্তৃক গঠিত ট্রাইব্যুনাল ৩ জন সদস্যের সমন্বয়ে গঠিত হয়। অভিযোগ দাখিলের ফি: কোনো এ্যাডভোকেটের বিরুদ্ধে দাখিলকৃত অভিযোগপত্রের সাথে ১০০০ টাকা ফি প্রদান করতে হয়।

আপিলের এখতিয়ার: ট্রাইব্যুনালের সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে সংক্ষুব্ধ অ্যাডভোকেট হাইকোর্ট বিভাগে আপিল করতে পারেন — বার কাউন্সিলের অভ্যন্তরীণ শৃঙ্খলা প্রক্রিয়া চূড়ান্ত হলেও তা বিচার বিভাগীয় পর্যালোচনার আওতামুক্ত নয়। অনধিকারচর্চার শাস্তি: কোনো ব্যক্তি অ্যাডভোকেট না হয়েও আইন ব্যবসা করলে তাকে সর্বোচ্চ ৬ মাস কারাদণ্ডে দণ্ডিত করা যেতে পারে।

সদস্যপদ শূন্য হওয়া বনাম না হওয়ার ক্ষেত্র

  1. পদত্যাগ করলে সদস্যপদ শূন্য হয়।
  2. চেয়ারম্যানের অনুমতি ব্যতীত পরপর তিনটি সভায় অনুপস্থিত থাকলে সদস্যপদ শূন্য হয়।
  3. কিন্তু ফৌজদারি মামলায় কারাদণ্ডপ্রাপ্ত হলেই স্বয়ংক্রিয়ভাবে সদস্যপদ শূন্য হয় না — এক্ষেত্রে পৃথক প্রক্রিয়ার প্রয়োজন হতে পারে, তাই এই পার্থক্যটি প্রশ্নে প্রায়ই আসে।

মক্কেলের প্রতি আচরণ

বিরোধপূর্ণ স্বার্থের প্রতিনিধিত্ব নিষেধ: "An Advocate shall not represent conflicting interests" — একজন আইনজীবী একই বিষয়ে পরস্পরবিরোধী স্বার্থসম্পন্ন দুই পক্ষের প্রতিনিধিত্ব করতে পারেন না; এটি মক্কেলের প্রতি আইনজীবীর কর্তব্যের একটি মূলনীতি। হয়রানিমূলক মামলা প্রত্যাখ্যান: কোনো পক্ষ শুধু অপর পক্ষকে হয়রানি করার উদ্দেশ্যে মামলা করতে চাইলে, একজন আইনজীবী সেই মামলা পরিচালনা করতে অস্বীকার করবেন।

মক্কেলের বিরুদ্ধে সাক্ষ্য প্রদানে দ্বন্দ্ব: কোনো মামলায় আইনজীবীকে মক্কেলের পক্ষে সাক্ষ্য প্রদান করতে হলে (আনুষ্ঠানিক বিষয় ব্যতীত অন্য কোনো বিষয়ে), তাকে সেই মামলার পরিচালনার দায়িত্ব অন্য আইনজীবীর নিকট ছেড়ে দিতে হবে — একই সাথে আইনজীবী ও সাক্ষী উভয় ভূমিকা পালন করা যায় না। নিলাম ক্রয় নিষেধ: কোনো সম্পত্তির নিলাম বিক্রয় কার্যক্রমে একজন পক্ষকে প্রতিনিধিত্বকারী আইনজীবী সেই সম্পত্তি বা তার কোনো অংশ কোনোভাবেই ক্রয় করতে পারবেন না।

আদালত ও সহকর্মীদের প্রতি আচরণ

বিচারকের সাথে সাক্ষাৎ: আদালত কর্ম সমাপ্তের পর কোনো জরুরি বিষয়ে বিচারকের সাথে সাক্ষাতের প্রয়োজন হলেও, একজন আইনজীবীর এ ধরনের একতরফা যোগাযোগ থেকে বিরত থাকা উচিত — ন্যায়বিচারের প্রতি জনআস্থা রক্ষার্থে এটি জরুরি। প্রাক-শ্রোতা অধিকার (Right of Pre-audience): বাংলাদেশের অ্যাটর্নি জেনারেলের অন্যান্য আইনজীবীর উপর প্রাক-শ্রোতা অধিকার রয়েছে — অর্থাৎ আদালতে অগ্রাধিকারভিত্তিতে বক্তব্য উপস্থাপনের সুযোগ।

একাধিক আইনজীবী নিযুক্তি: কোনো মামলায় একই পক্ষে একাধিক আইনজীবী নিযুক্ত থাকলে, মামলা পরিচালনার অধিকার তাদের যেকোনো একজনের থাকে — জ্যেষ্ঠতা বা প্রথম নিয়োগের ভিত্তিতে নয়। দ্বৈত পেশা নিষেধ: আইন পেশার পাশাপাশি অন্য কোনো ব্যবসা পরিচালনা করা পেশাগত আচরণবিধির লঙ্ঘন হিসেবে গণ্য হয়। প্রাক্তন সরকারি দায়িত্বের সীমাবদ্ধতা: কোনো আইনজীবী সরকারি পদে থাকাকালে কোনো বিষয়ে কাজ করলে, অবসর গ্রহণের পর একই বিষয়ে নিজেকে নিযুক্ত করতে পারেন না — এটি জনগণের প্রতি আইনজীবীর কর্তব্যের অংশ।

তুলনা ও কমন বিভ্রান্তি

এনরোলমেন্ট কমিটি বনাম শৃঙ্খলা ট্রাইব্যুনাল

এনরোলমেন্ট কমিটি নতুন অ্যাডভোকেট তালিকাভুক্তির আবেদন যাচাই করে (চেয়ারম্যান আপিল বিভাগের বিচারক); শৃঙ্খলা ট্রাইব্যুনাল ইতিমধ্যে তালিকাভুক্ত অ্যাডভোকেটদের বিরুদ্ধে অসদাচরণের অভিযোগ বিচার করে (৩ সদস্যবিশিষ্ট, সিদ্ধান্তে হাইকোর্ট বিভাগে আপিলযোগ্য)।

মক্কেল বনাম আদালত বনাম সহকর্মীর প্রতি কর্তব্য

মক্কেলের প্রতি কর্তব্য (বিরোধপূর্ণ স্বার্থ পরিহার, সাক্ষ্য-আইনজীবী দ্বন্দ্ব এড়ানো); আদালতের প্রতি কর্তব্য (একতরফা যোগাযোগ পরিহার, শালীনতা রক্ষা); সহকর্মীর প্রতি কর্তব্য (পারস্পরিক শিষ্টাচার, মামলা হস্তান্তরে সহযোগিতা) — প্রশ্নে প্রায়ই একটি আচরণ কোন সম্পর্কের আওতায় পড়ে তা চিহ্নিত করতে বলা হয়।

সদস্যপদ বনাম তালিকাভুক্তি হারানো

বার কাউন্সিলের সদস্যপদ (কাউন্সিলে প্রতিনিধিত্ব) ও আইনজীবী হিসেবে তালিকাভুক্তি (আইন ব্যবসার অধিকার) সম্পূর্ণ ভিন্ন বিষয় — সদস্যপদ শূন্য হলেও একজন ব্যক্তি অ্যাডভোকেট থাকতে পারেন, কিন্তু তালিকাভুক্তি বাতিল হলে আইন ব্যবসার অধিকারই হারিয়ে যায়।

দ্রুত রিভিশন — গুরুত্বপূর্ণ তথ্য এক নজরে

বিষয়তথ্য
প্রতিষ্ঠাকারী আইনBangladesh Legal Practitioners and Bar Council Order, 1972 (President's Order)
মোট সদস্য সংখ্যা১৫ জন
গ্রুপভিত্তিক নির্বাচিত সদস্য৭ জন
নির্বাচিত সদস্যদের কার্যকাল৩ বছর
একই ব্যক্তি সর্বোচ্চ কতবার সদস্য২ বার
এনরোলমেন্টের ন্যূনতম বয়স২১ বছর
লিঙ্গ বৈষম্য নিষেধ২৮ অনুচ্ছেদ
শিক্ষানবিশ গ্রহণে আইনজীবীর অভিজ্ঞতান্যূনতম ১০ বছর
একজন আইনজীবীর সর্বোচ্চ শিক্ষানবিশ৪ জন (অনুমতি ছাড়া)
Pupilage Diary-তে ন্যূনতম দেওয়ানি মামলা৫টি
হাইকোর্টে ব্যবসার জন্য অধস্তন অভিজ্ঞতান্যূনতম ২ বছর
শৃঙ্খলা ট্রাইব্যুনালের সদস্য সংখ্যা৩ জন
ট্রাইব্যুনালের আদেশে আপিলহাইকোর্ট বিভাগে
অনধিকারচর্চার সর্বোচ্চ শাস্তি৬ মাস কারাদণ্ড
এনরোলমেন্ট কমিটির চেয়ারম্যানআপিল বিভাগের বিচারক (প্রধান বিচারপতি মনোনীত)
বার কাউন্সিলের সচিব নিয়োগকারীসরকার (জেলা/অতিরিক্ত জেলা জজ পদমর্যাদা)
নির্বাচনসূচি প্রকাশের ন্যূনতম সময়৪৫ দিন পূর্বে
অ্যাটর্নি জেনারেলের বিশেষ অধিকারRight of Pre-audience

বাস্তব পরীক্ষায় আসা প্রশ্ন ও ব্যাখ্যা

নিচে বিভিন্ন বছরের বার কাউন্সিল পরীক্ষায় এই বিষয় থেকে সরাসরি আসা প্রশ্নগুলো দেওয়া হলো (বিজেএস পরীক্ষার্থীদের জন্যও সমানভাবে প্রাসঙ্গিক), প্রতিটির বিস্তারিত ব্যাখ্যাসহ।

২০১২ বার কাউন্সিল

বাংলাদেশ বার কাউন্সিল একটি কী ধরনের সংস্থা?

(ক) সাংবিধানিক সংস্থা   (খ) সংবিধিবদ্ধ সংস্থা   (গ) নির্বাচিত সংস্থা   (ঘ) সমবায় সমিতি

উত্তর: (খ) সংবিধিবদ্ধ সংস্থা

ব্যাখ্যা: বাংলাদেশ বার কাউন্সিল Bangladesh Legal Practitioners and Bar Council Order, 1972 দ্বারা প্রতিষ্ঠিত একটি সংবিধিবদ্ধ (Statutory) সংস্থা, সংবিধান দ্বারা সরাসরি সৃষ্ট নয়।

২০১২ বার কাউন্সিল

বাংলাদেশ বার কাউন্সিলের মোট সদস্য সংখ্যা কত?

(ক) ১৫ জন   (খ) ১৪ জন   (গ) ১৬ জন   (ঘ) ১৩ জন

উত্তর: (ক) ১৫ জন

ব্যাখ্যা: Bangladesh Legal Practitioners and Bar Council Order, 1972 অনুসারে বার কাউন্সিলের মোট সদস্য সংখ্যা ১৫ জন, যার মধ্যে নির্বাচিত ও পদাধিকারবলে সদস্য উভয়ই অন্তর্ভুক্ত।

২০১২ বার কাউন্সিল

অ্যাডভোকেট হিসেবে তালিকাভুক্তির জন্য একজন প্রার্থীর ন্যূনতম বয়স কত হতে হবে?

(ক) ১৮ বছর   (খ) ২১ বছর   (গ) ২৫ বছর   (ঘ) ৩০ বছর

উত্তর: (খ) ২১ বছর

ব্যাখ্যা: Bangladesh Legal Practitioners and Bar Council Order, 1972 অনুসারে অ্যাডভোকেট হিসেবে তালিকাভুক্তির জন্য প্রার্থীর ন্যূনতম বয়স ২১ বছর হতে হবে।

২০১৩ বার কাউন্সিল

বার কাউন্সিলের নির্বাচিত সদস্যগণের কার্যকাল কত বছরে সমাপ্ত হয়?

(ক) ৫ বছর   (খ) ৩ বছর   (গ) ২ বছর   (ঘ) ১ বছর

উত্তর: (খ) ৩ বছর

ব্যাখ্যা: বার কাউন্সিল অর্ডার অনুসারে নির্বাচিত সদস্যদের কার্যকাল ৩ বছর, যার পর নতুন নির্বাচনের মাধ্যমে সদস্য নির্ধারিত হয়।

২০১৩ বার কাউন্সিল

অ্যাডভোকেট এনরোলমেন্ট কমিটির চেয়ারম্যান কে?

(ক) অ্যাটর্নি জেনারেল   (খ) বার কাউন্সিলের চেয়ারম্যান   (গ) আপিল বিভাগের একজন বিচারক   (ঘ) হাইকোর্ট বিভাগের একজন বিচারক

উত্তর: (গ) আপিল বিভাগের একজন বিচারক

ব্যাখ্যা: বার কাউন্সিল অর্ডার অনুসারে অ্যাডভোকেট এনরোলমেন্ট কমিটির চেয়ারম্যান আপিল বিভাগের একজন বিচারপতি, যিনি প্রধান বিচারপতি কর্তৃক মনোনীত হন।

২০১৩ বার কাউন্সিল

বার কাউন্সিল কর্তৃক গঠিত ট্রাইব্যুনাল কতজন সদস্যের সমন্বয়ে গঠিত হয়?

(ক) ৭ জন   (খ) ৫ জন   (গ) ৩ জন   (ঘ) ১ জন

উত্তর: (গ) ৩ জন

ব্যাখ্যা: বার কাউন্সিল অর্ডার অনুসারে পেশাগত অসদাচরণের বিচারের জন্য গঠিত ট্রাইব্যুনাল ৩ জন সদস্যের সমন্বয়ে গঠিত হয়, এবং এর সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে হাইকোর্ট বিভাগে আপিল করা যায়।

২০১৫ বার কাউন্সিল

বাংলাদেশ বার কাউন্সিলের সচিব নিযুক্ত হন কার দ্বারা?

(ক) রাষ্ট্রপতি কর্তৃক   (খ) চেয়ারম্যান কর্তৃক   (গ) সরকার কর্তৃক   (ঘ) প্রধান বিচারপতি কর্তৃক

উত্তর: (গ) সরকার কর্তৃক

ব্যাখ্যা: Bangladesh Legal Practitioners and Bar Council Order অনুসারে বার কাউন্সিলের সচিব সরকার কর্তৃক নিযুক্ত হন, এবং তিনি জেলা জজ বা অতিরিক্ত জেলা জজ পদমর্যাদার হয়ে থাকেন।

২০২০ বার কাউন্সিল

বার কাউন্সিল নির্বাচনের জন্য নির্বাচনসূচি কমপক্ষে কত দিন পূর্বে প্রকাশ করতে হয়?

(ক) ১৫ দিন   (খ) ৩০ দিন   (গ) ৪৫ দিন   (ঘ) ৬০ দিন

উত্তর: (গ) ৪৫ দিন

ব্যাখ্যা: বার কাউন্সিল বিধি অনুসারে চেয়ারম্যান কর্তৃক নির্বাচনসূচি অনুষ্ঠিতব্য নির্বাচনের কমপক্ষে ৪৫ দিন পূর্বে প্রকাশ করতে হয়।

২০২২ বার কাউন্সিল

অন্যান্য আইনজীবীর উপর প্রাক-শ্রোতা অধিকার (Right of Pre-audience) কার রয়েছে?

(ক) বাংলাদেশের প্রধান বিচারপতি   (খ) সংশ্লিষ্ট বার এসোসিয়েশনের সভাপতি   (গ) এনরোলমেন্ট কমিটির চেয়ারম্যান   (ঘ) বাংলাদেশের অ্যাটর্নি জেনারেল

উত্তর: (ঘ) বাংলাদেশের অ্যাটর্নি জেনারেল

ব্যাখ্যা: বার কাউন্সিলের পেশাগত আচরণবিধি অনুযায়ী বাংলাদেশের অ্যাটর্নি জেনারেলের অন্যান্য আইনজীবীর উপর প্রাক-শ্রোতা অধিকার (Right of Pre-audience) রয়েছে — অর্থাৎ আদালতে তিনি অগ্রাধিকারভিত্তিতে বক্তব্য উপস্থাপনের সুযোগ পান।

২০২৩ বার কাউন্সিল

The Bangladesh Legal Practitioners and Bar Council Order, 1972-এর কোন অনুচ্ছেদটি 'লিঙ্গ বৈষম্য বিরোধী'?

(ক) ৩০ অনুচ্ছেদ   (খ) ৩২ অনুচ্ছেদ   (গ) ২৭ অনুচ্ছেদ   (ঘ) ২৮ অনুচ্ছেদ

উত্তর: (ঘ) ২৮ অনুচ্ছেদ

ব্যাখ্যা: The Bangladesh Legal Practitioners and Bar Council Order, 1972-এর ২৮ অনুচ্ছেদে লিঙ্গ বৈষম্য বিরোধী বিধান রয়েছে — অর্থাৎ কেবল লিঙ্গের কারণে কাউকে অ্যাডভোকেট হিসেবে তালিকাভুক্তি থেকে বঞ্চিত করা যায় না।

অনুশীলনী — ৩০টি প্রশ্ন

নিচের প্রশ্নগুলো অনুশীলন করে নিজের প্রস্তুতি যাচাই করুন। প্রতিটি প্রশ্নের সাথে সঠিক উত্তর ও ব্যাখ্যা দেওয়া আছে।

১. অ্যাডভোকেট তালিকাভুক্তির আবেদন প্রত্যাখ্যাত হলে প্রার্থীর প্রতিকার কী?

(ক) বার কাউন্সিলের নিকট পুনর্বিবেচনার আবেদন বা আপিল (খ) কোনো প্রতিকার নেই (গ) সরাসরি সংসদে আবেদন (ঘ) নতুন পরীক্ষায় বসতে হবে বাধ্যতামূলকভাবে

সঠিক উত্তর: (ক) বার কাউন্সিলের নিকট পুনর্বিবেচনার আবেদন বা আপিল

ব্যাখ্যা: তালিকাভুক্তি প্রত্যাখ্যাত হলে বিধি অনুযায়ী প্রার্থী পুনর্বিবেচনা বা উপযুক্ত ফোরামে আপিলের সুযোগ পান।

২. একজন অ্যাডভোকেট মক্কেলের গোপনীয় তথ্য (Client Confidentiality) প্রকাশ করলে তা কী ধরনের লঙ্ঘন?

(ক) গুরুতর পেশাগত অসদাচরণ ও আস্থার লঙ্ঘন (খ) সাধারণ ভুল, শাস্তিযোগ্য নয় (গ) শুধু নৈতিক সমস্যা (ঘ) বৈধ, যদি আদালতের বাইরে বলা হয়

সঠিক উত্তর: (ক) গুরুতর পেশাগত অসদাচরণ ও আস্থার লঙ্ঘন

ব্যাখ্যা: মক্কেল-আইনজীবী সম্পর্কের মৌলিক ভিত্তি হলো গোপনীয়তা রক্ষা; তা লঙ্ঘন গুরুতর পেশাগত অসদাচরণ হিসেবে গণ্য।

৩. বিজ্ঞাপন প্রদানের মাধ্যমে মক্কেল আকর্ষণ করা পেশাগত আচরণবিধিতে কীভাবে বিবেচিত হয়?

(ক) সাধারণত নিষিদ্ধ বা কঠোরভাবে সীমিত (খ) সম্পূর্ণ অনুমোদিত (গ) বাধ্যতামূলক (ঘ) শুধু টেলিভিশনে অনুমোদিত

সঠিক উত্তর: (ক) সাধারণত নিষিদ্ধ বা কঠোরভাবে সীমিত

ব্যাখ্যা: আইন পেশার মর্যাদা রক্ষার্থে প্রথাগতভাবে অ্যাডভোকেটদের বাণিজ্যিক বিজ্ঞাপন প্রদান নিষিদ্ধ বা কঠোরভাবে সীমাবদ্ধ।

৪. একজন অ্যাডভোকেট মামলায় হেরে যাওয়ার নিশ্চয়তা সত্ত্বেও মক্কেলকে জয়ের মিথ্যা প্রতিশ্রুতি দিলে তা কী ধরনের আচরণ?

(ক) অসদাচরণ ও পেশাগত নৈতিকতার লঙ্ঘন (খ) স্বাভাবিক ব্যবসায়িক কৌশল (গ) কোনো সমস্যা নেই (ঘ) শুধু ফৌজদারি অপরাধ

সঠিক উত্তর: (ক) অসদাচরণ ও পেশাগত নৈতিকতার লঙ্ঘন

ব্যাখ্যা: মক্কেলকে মিথ্যা আশ্বাস দেওয়া পেশাগত সততা ও আচরণবিধির স্পষ্ট লঙ্ঘন।

৫. বার কাউন্সিলের নির্বাহী কমিটি (Executive Committee)-র মূল দায়িত্ব কী?

(ক) বার কাউন্সিলের দৈনন্দিন প্রশাসনিক কার্যক্রম পরিচালনা (খ) মামলার রায় প্রদান (গ) আইন প্রণয়ন (ঘ) বিচারক নিয়োগ

সঠিক উত্তর: (ক) বার কাউন্সিলের দৈনন্দিন প্রশাসনিক কার্যক্রম পরিচালনা

ব্যাখ্যা: নির্বাহী কমিটি বার কাউন্সিলের সাধারণ পরিষদের নীতিমালার আলোকে দৈনন্দিন প্রশাসনিক কাজ পরিচালনা করে।

৬. তালিকাভুক্ত অ্যাডভোকেট মৃত্যুবরণ করলে বা পেশা ত্যাগ করলে তার নাম রোল থেকে অপসারণের বিধান কে প্রয়োগ করে?

(ক) বার কাউন্সিল (খ) স্থানীয় বার সমিতি একাই (গ) আদালত (ঘ) পরিবার

সঠিক উত্তর: (ক) বার কাউন্সিল

ব্যাখ্যা: বার কাউন্সিল রোল (তালিকা) সংরক্ষণ ও হালনাগাদ করার দায়িত্বে থাকে, যার মধ্যে মৃত বা পেশা ত্যাগকারীর নাম অপসারণও অন্তর্ভুক্ত।

৭. আইন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের স্বীকৃতি প্রদানে বার কাউন্সিলের ভূমিকা কী?

(ক) Legal Education Committee-র মাধ্যমে আইন শিক্ষার মান নির্ধারণ ও অনুমোদন (খ) কোনো ভূমিকা নেই (গ) শুধু সার্টিফিকেট বিতরণ (ঘ) শুধু পরীক্ষার হল ভাড়া দেওয়া

সঠিক উত্তর: (ক) Legal Education Committee-র মাধ্যমে আইন শিক্ষার মান নির্ধারণ ও অনুমোদন

ব্যাখ্যা: বার কাউন্সিলের লিগ্যাল এডুকেশন কমিটি আইন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের পাঠ্যক্রম ও মান অনুমোদন করে, যা তালিকাভুক্তির যোগ্যতা নির্ধারণ করে।

৮. একজন অ্যাডভোকেট বিপরীত পক্ষের আইনজীবীর সাথে অসৌজন্যমূলক আচরণ করলে তা কী হিসেবে গণ্য হতে পারে?

(ক) পেশাগত শিষ্টাচার লঙ্ঘন (খ) স্বাভাবিক অনুশীলন (গ) কোনো সমস্যা নয় (ঘ) শুধু ফৌজদারি অপরাধ

সঠিক উত্তর: (ক) পেশাগত শিষ্টাচার লঙ্ঘন

ব্যাখ্যা: পেশাগত আচরণবিধি অনুযায়ী সহকর্মী আইনজীবীদের প্রতি সৌজন্য বজায় রাখা একটি গুরুত্বপূর্ণ নৈতিক দায়িত্ব, যার লঙ্ঘন শিষ্টাচার ভঙ্গ হিসেবে গণ্য।

৯. একজন অ্যাডভোকেট মামলায় সাক্ষ্য প্রমাণ জেনেশুনে বিকৃত উপস্থাপন করলে তা কোন ধরনের অপরাধ?

(ক) গুরুতর পেশাগত অসদাচরণ ও সম্ভাব্য ফৌজদারি দায় (খ) স্বাভাবিক কৌশল (গ) কোনো অপরাধ নয় (ঘ) শুধু নৈতিক প্রশ্ন

সঠিক উত্তর: (ক) গুরুতর পেশাগত অসদাচরণ ও সম্ভাব্য ফৌজদারি দায়

ব্যাখ্যা: সাক্ষ্য বিকৃতকরণ ন্যায়বিচার প্রক্রিয়ায় প্রতারণা এবং তা গুরুতর পেশাগত অসদাচরণসহ ফৌজদারি দায়ও সৃষ্টি করতে পারে।

১০. একজন প্রবীণ আইনজীবী নবীন আইনজীবীদের প্রশিক্ষণে ভূমিকা রাখা পেশাগত নীতিতে কীভাবে উৎসাহিত করা হয়?

(ক) শিক্ষানবীশ ব্যবস্থার মাধ্যমে পেশাগত জ্ঞান হস্তান্তর একটি স্বীকৃত দায়িত্ব (খ) এটি কোনো দায়িত্ব নয় (গ) শুধু আর্থিক লাভের জন্য করা হয় (ঘ) নিষিদ্ধ কার্যক্রম

সঠিক উত্তর: (ক) শিক্ষানবীশ ব্যবস্থার মাধ্যমে পেশাগত জ্ঞান হস্তান্তর একটি স্বীকৃত দায়িত্ব

ব্যাখ্যা: বার কাউন্সিলের পুপিলেজ ব্যবস্থা নবীন আইনজীবীদের প্রশিক্ষণের একটি স্বীকৃত ও কাঠামোবদ্ধ প্রক্রিয়া, যা পেশার মান বজায় রাখতে সহায়ক।

১১. বাংলাদেশ বার কাউন্সিল কোন আইনের অধীনে প্রতিষ্ঠিত?

(ক) The Bangladesh Legal Practitioners and Bar Council Order, 1972 (খ) The Legal Practitioners Act, 1879 (গ) The Advocates Act, 1961 (ঘ) The Judicial Service Act

সঠিক উত্তর: (ক) The Bangladesh Legal Practitioners and Bar Council Order, 1972

ব্যাখ্যা: The Bangladesh Legal Practitioners and Bar Council Order, 1972 এর অধীনে বাংলাদেশ বার কাউন্সিল প্রতিষ্ঠিত।

১২. বার কাউন্সিলের মূল দায়িত্ব কী?

(ক) আইন পেশার মান নিয়ন্ত্রণ ও অ্যাডভোকেট তালিকাভুক্তি (খ) বিচারক নিয়োগ (গ) আইন প্রণয়ন (ঘ) মামলার রায় প্রদান

সঠিক উত্তর: (ক) আইন পেশার মান নিয়ন্ত্রণ ও অ্যাডভোকেট তালিকাভুক্তি

ব্যাখ্যা: বার কাউন্সিলের প্রধান দায়িত্ব আইন পেশার মান রক্ষা, আচরণবিধি নিয়ন্ত্রণ এবং অ্যাডভোকেট হিসেবে তালিকাভুক্তকরণ।

১৩. একজন অ্যাডভোকেটকে আইন পেশা থেকে অপসারণ বা সাময়িক বহিষ্কারের সিদ্ধান্ত প্রথমে কে গ্রহণ করে?

(ক) বার কাউন্সিলের ট্রাইব্যুনাল (খ) সরাসরি হাইকোর্ট বিভাগ (গ) সংশ্লিষ্ট জেলা বার সমিতি (ঘ) সংসদ

সঠিক উত্তর: (ক) বার কাউন্সিলের ট্রাইব্যুনাল

ব্যাখ্যা: পেশাগত অসদাচরণের অভিযোগে বার কাউন্সিলের ট্রাইব্যুনাল প্রথমে শুনানি করে সিদ্ধান্ত গ্রহণ করে।

১৪. বার কাউন্সিল ট্রাইব্যুনালের সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে আপিল কোথায় করা যায়?

(ক) হাইকোর্ট বিভাগে (খ) আপিল বিভাগে (গ) জেলা জজ আদালতে (ঘ) কোনো আপিল নেই

সঠিক উত্তর: (ক) হাইকোর্ট বিভাগে

ব্যাখ্যা: বার কাউন্সিল ট্রাইব্যুনালের সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে সংক্ষুব্ধ ব্যক্তি হাইকোর্ট বিভাগে আপিল করতে পারেন।

১৫. অ্যাডভোকেট হিসেবে তালিকাভুক্তির জন্য ন্যূনতম শিক্ষাগত যোগ্যতা কী?

(ক) স্বীকৃত বিশ্ববিদ্যালয় থেকে আইনে স্নাতক ডিগ্রি (খ) যেকোনো বিষয়ে স্নাতক (গ) শুধু এইচএসসি (ঘ) কোনো নির্দিষ্ট যোগ্যতা নেই

সঠিক উত্তর: (ক) স্বীকৃত বিশ্ববিদ্যালয় থেকে আইনে স্নাতক ডিগ্রি

ব্যাখ্যা: বার কাউন্সিল বিধিমালা অনুযায়ী অ্যাডভোকেট হতে হলে স্বীকৃত বিশ্ববিদ্যালয় থেকে আইনে স্নাতক ডিগ্রি থাকা আবশ্যক।

১৬. অ্যাডভোকেট তালিকাভুক্তির পূর্বে প্রার্থীকে কোন পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হতে হয়?

(ক) বার কাউন্সিল এনরোলমেন্ট পরীক্ষা (প্রিলিমিনারি, লিখিত ও মৌখিক) (খ) বিজেএস পরীক্ষা (গ) বিসিএস পরীক্ষা (ঘ) কোনো পরীক্ষা প্রয়োজন নেই

সঠিক উত্তর: (ক) বার কাউন্সিল এনরোলমেন্ট পরীক্ষা (প্রিলিমিনারি, লিখিত ও মৌখিক)

ব্যাখ্যা: প্রার্থীকে বার কাউন্সিল আয়োজিত এনরোলমেন্ট পরীক্ষার তিনটি ধাপ — প্রিলিমিনারি (MCQ), লিখিত ও মৌখিক — উত্তীর্ণ হতে হয়।

১৭. শিক্ষানবীশ (Pupilage) কালের সাধারণ মেয়াদ কত?

(ক) ৬ মাস (খ) ১ বছর (গ) ২ বছর (ঘ) ৩ বছর

সঠিক উত্তর: (খ) ১ বছর

ব্যাখ্যা: বার কাউন্সিল বিধিমালা অনুযায়ী তালিকাভুক্তির পূর্বে সাধারণত ১ বছরের পুপিলেজ (শিক্ষানবীশ) সম্পন্ন করতে হয়।

১৮. ন্যূনতম কত বছরের পেশাগত অভিজ্ঞতাসম্পন্ন অ্যাডভোকেট শিক্ষানবীশ গ্রহণ করতে পারেন?

(ক) ৫ বছর (খ) ৭ বছর (গ) ১০ বছর (ঘ) ১৫ বছর

সঠিক উত্তর: (গ) ১০ বছর

ব্যাখ্যা: বার কাউন্সিল বিধিমালা অনুযায়ী ন্যূনতম ১০ বছরের অভিজ্ঞতাসম্পন্ন অ্যাডভোকেট একজন শিক্ষানবীশ গ্রহণ করতে পারেন।

১৯. শিক্ষানবীশের ডায়েরিতে (Pupilage Diary) ন্যূনতম কয়টি দেওয়ানি মামলার নোট থাকা আবশ্যক?

(ক) ৩টি (খ) ৫টি (গ) ৭টি (ঘ) ১০টি

সঠিক উত্তর: (খ) ৫টি

ব্যাখ্যা: বার কাউন্সিল বিধি অনুযায়ী পুপিলেজ ডায়েরিতে ন্যূনতম ৫টি দেওয়ানি মামলার নোট রাখতে হয়।

২০. অ্যাডভোকেটদের পেশাগত আচরণবিধি (Canons of Professional Conduct and Etiquette) কে প্রণয়ন করে?

(ক) বার কাউন্সিল (খ) সুপ্রিম কোর্ট (গ) সংসদ (ঘ) আইন মন্ত্রণালয়

সঠিক উত্তর: (ক) বার কাউন্সিল

ব্যাখ্যা: বার কাউন্সিল অর্ডারের অধীনে বার কাউন্সিল অ্যাডভোকেটদের পেশাগত আচরণবিধি প্রণয়ন করে।

২১. একজন অ্যাডভোকেট মক্কেলের অর্থ নিজের ব্যক্তিগত কাজে ব্যবহার করলে তা কী ধরনের লঙ্ঘন?

(ক) গুরুতর পেশাগত অসদাচরণ (খ) সাধারণ ভুল, শাস্তিযোগ্য নয় (গ) শুধু নৈতিক সমস্যা, আইনগত নয় (ঘ) বৈধ, যদি পরে ফেরত দেয়

সঠিক উত্তর: (ক) গুরুতর পেশাগত অসদাচরণ

ব্যাখ্যা: মক্কেলের অর্থ তহবিল তছরুপ করা গুরুতর পেশাগত অসদাচরণ হিসেবে গণ্য হয়, যার জন্য তালিকাভুক্তি বাতিলসহ শাস্তি হতে পারে।

২২. দুই পক্ষের স্বার্থদ্বন্দ্ব (Conflict of Interest) থাকলে একজন অ্যাডভোকেটের করণীয় কী?

(ক) উভয় পক্ষের প্রতিনিধিত্ব থেকে বিরত থাকা (খ) যেকোনো একপক্ষের প্রতিনিধিত্ব করা যায় কোনো বাধা ছাড়াই (গ) আদালতকে না জানিয়ে উভয় পক্ষের প্রতিনিধিত্ব করা যায় (ঘ) বার কাউন্সিলের অনুমতি ছাড়াই উভয় পক্ষ নেওয়া যায়

সঠিক উত্তর: (ক) উভয় পক্ষের প্রতিনিধিত্ব থেকে বিরত থাকা

ব্যাখ্যা: পেশাগত আচরণবিধি অনুযায়ী স্বার্থদ্বন্দ্বপূর্ণ পক্ষগণের একযোগে প্রতিনিধিত্ব করা থেকে অ্যাডভোকেটকে বিরত থাকতে হয়।

২৩. একজন অ্যাডভোকেট বিচারকের সাথে দুর্ব্যবহার করলে তা কোন ধরনের অপরাধ হতে পারে?

(ক) আদালত অবমাননা এবং পেশাগত অসদাচরণ (খ) শুধু নৈতিক সমস্যা (গ) কোনো অপরাধ নয় (ঘ) শুধু সিভিল দায়

সঠিক উত্তর: (ক) আদালত অবমাননা এবং পেশাগত অসদাচরণ

ব্যাখ্যা: বিচারকের সাথে দুর্ব্যবহার আদালত অবমাননা (Contempt of Court) এবং একইসাথে পেশাগত অসদাচরণ হিসেবে গণ্য হতে পারে।

২৪. অ্যাডভোকেটের ফি নির্ধারণে সাধারণ নীতি কী?

(ক) পক্ষগণের সম্মতিতে যুক্তিসঙ্গত ফি নির্ধারিত হয়, তবে অতিরিক্ত মুনাফাখোরি নিষিদ্ধ (খ) সরকার নির্ধারিত নির্দিষ্ট ফি বাধ্যতামূলক (গ) কোনো ফি নেওয়া যায় না (ঘ) ফি শুধু মামলা জেতার শর্তে নেওয়া যায়

সঠিক উত্তর: (ক) পক্ষগণের সম্মতিতে যুক্তিসঙ্গত ফি নির্ধারিত হয়, তবে অতিরিক্ত মুনাফাখোরি নিষিদ্ধ

ব্যাখ্যা: পেশাগত আচরণবিধি অনুযায়ী ফি পক্ষগণের সম্মতিসাপেক্ষে যুক্তিসঙ্গত হতে হয়, তবে অস্বাভাবিক বা মুনাফাখোরি ফি নিষিদ্ধ।

২৫. বার কাউন্সিল অর্ডার অনুযায়ী বার কাউন্সিলের সাধারণ সংস্থা কী নামে পরিচিত?

(ক) General Council (খ) Executive Committee (গ) Bar Council Tribunal (ঘ) Legal Education Committee

সঠিক উত্তর: (ক) General Council

ব্যাখ্যা: বার কাউন্সিল অর্ডার অনুযায়ী General Council বার কাউন্সিলের সর্বোচ্চ সাধারণ সংস্থা হিসেবে কাজ করে।

২৬. বার কাউন্সিলের নির্বাচিত সদস্যগণ সাধারণত কোন পদ্ধতিতে নির্বাচিত হন?

(ক) জেলা ভিত্তিক নির্বাচিত সদস্যদের দ্বারা (খ) সরকার কর্তৃক মনোনয়ন (গ) লটারির মাধ্যমে (ঘ) জ্যেষ্ঠতার ভিত্তিতে স্বয়ংক্রিয়ভাবে

সঠিক উত্তর: (ক) জেলা ভিত্তিক নির্বাচিত সদস্যদের দ্বারা

ব্যাখ্যা: বার কাউন্সিল অর্ডার অনুযায়ী বিভিন্ন জেলা/গ্রুপ থেকে নির্বাচিত অ্যাডভোকেটগণ সাধারণ পরিষদের সদস্য নির্বাচিত হন।

২৭. অ্যাডভোকেট হিসেবে তালিকাভুক্তির আবেদন প্রথমে কার কাছে দাখিল করতে হয়?

(ক) বার কাউন্সিল (খ) সংশ্লিষ্ট জেলা জজ (গ) স্থানীয় বার সমিতি সরাসরি (ঘ) প্রধান বিচারপতির কার্যালয়

সঠিক উত্তর: (ক) বার কাউন্সিল

ব্যাখ্যা: প্রার্থীকে তালিকাভুক্তির জন্য বার কাউন্সিলে নির্ধারিত ফরমে আবেদন দাখিল করতে হয়।

২৮. তালিকাভুক্ত অ্যাডভোকেট নৈতিক স্খলনজনিত অপরাধে দণ্ডিত হলে তার সদস্যপদের কী হতে পারে?

(ক) তালিকাভুক্তি বাতিল বা স্থগিত হতে পারে (খ) কোনো প্রভাব পড়ে না (গ) শুধু জরিমানা হয় (ঘ) স্বয়ংক্রিয়ভাবে পুনর্বহাল হয়

সঠিক উত্তর: (ক) তালিকাভুক্তি বাতিল বা স্থগিত হতে পারে

ব্যাখ্যা: নৈতিক স্খলনজনিত (Moral Turpitude) অপরাধে দণ্ডিত হলে বার কাউন্সিল তালিকাভুক্তি বাতিল বা স্থগিত করতে পারে।

২৯. সিনিয়র অ্যাডভোকেট (Senior Advocate) মনোনয়নের ক্ষমতা কার?

(ক) সুপ্রিম কোর্ট (আপিল বিভাগ ও হাইকোর্ট বিভাগ) (খ) বার কাউন্সিল (গ) আইন মন্ত্রণালয় (ঘ) সংশ্লিষ্ট জেলা বার সমিতি

সঠিক উত্তর: (ক) সুপ্রিম কোর্ট (আপিল বিভাগ ও হাইকোর্ট বিভাগ)

ব্যাখ্যা: সুপ্রিম কোর্টের সংশ্লিষ্ট বিভাগ (আপিল বিভাগ বা হাইকোর্ট বিভাগ) বিশেষ যোগ্যতাসম্পন্ন অ্যাডভোকেটকে সিনিয়র অ্যাডভোকেট হিসেবে মনোনীত করতে পারে।

৩০. অ্যাডভোকেট হিসেবে আপিল বিভাগে ওকালতি করার জন্য অতিরিক্ত কোন যোগ্যতা প্রয়োজন?

(ক) হাইকোর্ট বিভাগে নির্দিষ্ট বছরের অভিজ্ঞতাসহ পৃথক তালিকাভুক্তি (Advocate-on-Record/Appellate Division enrolment) (খ) কোনো অতিরিক্ত যোগ্যতা প্রয়োজন নেই (গ) শুধু বয়স ৪০ বছর হলেই যথেষ্ট (ঘ) শুধু বার কাউন্সিলের সভাপতির অনুমোদন

সঠিক উত্তর: (ক) হাইকোর্ট বিভাগে নির্দিষ্ট বছরের অভিজ্ঞতাসহ পৃথক তালিকাভুক্তি (Advocate-on-Record/Appellate Division enrolment)

ব্যাখ্যা: আপিল বিভাগে অনুশীলনের জন্য হাইকোর্ট বিভাগে নির্দিষ্ট বছরের অভিজ্ঞতাসহ পৃথকভাবে তালিকাভুক্ত/সনদপ্রাপ্ত হতে হয়।