বাংলা সাহিত্যের আধুনিক যুগ (১৮০০–বর্তমান)

বাংলা সাহিত্যের ইতিহাসকে সাধারণত তিন ভাগে ভাগ করা হয় — প্রাচীন যুগ (আনু. ৬৫০–১২০০ খ্রি.), মধ্যযুগ (১২০১–১৮০০ খ্রি.) এবং আধুনিক যুগ (১৮০১ খ্রি. থেকে বর্তমান)। আধুনিক যুগ বাংলা সাহিত্যের সবচেয়ে সমৃদ্ধ, বৈচিত্র্যময় ও বিস্তৃত পর্ব। এই পর্বেই বাংলা গদ্য পূর্ণাঙ্গ রূপ পায়, প্রথম উপন্যাস-ছোটগল্প-আধুনিক নাটক রচিত হয়, সাময়িকপত্র ও মুদ্রণযন্ত্রের হাত ধরে সাহিত্য জনসাধারণের কাছে পৌঁছে যায় এবং মাইকেল, বঙ্কিম, রবীন্দ্রনাথ ও নজরুলের মতো যুগস্রষ্টা প্রতিভার আবির্ভাব ঘটে।

আধুনিক যুগের মূল বৈশিষ্ট্য হলো — ইউরোপীয় (বিশেষত ইংরেজি) সাহিত্যের প্রভাব, ব্যক্তিস্বাতন্ত্র্যবোধ ও মানবতাবাদ, ধর্মনিরপেক্ষ ও ইহলৌকিক দৃষ্টিভঙ্গি, গদ্যসাহিত্যের প্রাধান্য এবং নতুন নতুন সাহিত্যরূপের (উপন্যাস, ছোটগল্প, প্রবন্ধ, সনেট, মহাকাব্য) জন্ম।

বিজেএসে এই অধ্যায়ের গুরুত্ব

বাংলা ভাষা ও সাহিত্য অংশে সাহিত্য (২০ নম্বর) থেকে আসা প্রশ্নের সিংহভাগই আধুনিক যুগ থেকে আসে — মধুসূদন, বঙ্কিম, রবীন্দ্রনাথ, নজরুল, শরৎচন্দ্র, জীবনানন্দ, জসীমউদ্‌দীন, মীর মশাররফ, বেগম রোকেয়া, ফোর্ট উইলিয়াম কলেজ, সাময়িকপত্র, উপাধি ও ছদ্মনাম, "প্রথম" ও "জনক" সংক্রান্ত তথ্য থেকে প্রায় প্রতি বিজেএসে ৪–৭টি প্রশ্ন থাকে। তাই এই অধ্যায়টি নিখুঁতভাবে আয়ত্ত করা মানে বাংলা অংশে নিশ্চিত নম্বর।

প্রশ্নের ধরন — সম্পূর্ণ মানচিত্র

যেখান থেকে প্রশ্ন আসেযা জানতে হয়উদাহরণ
জনক ও প্রবর্তককে কীসের জনক/প্রবর্তকগদ্যের জনক — বিদ্যাসাগর
"প্রথম" সংক্রান্তপ্রথম উপন্যাস, নাটক, পত্রিকাপ্রথম সার্থক উপন্যাস — দুর্গেশনন্দিনী
উপাধি ও অভিধাবিশ্বকবি, বিদ্রোহী কবি, পল্লিকবিরূপসী বাংলার কবি — জীবনানন্দ
ছদ্মনামলেখকের ছদ্মনামটেকচাঁদ ঠাকুর — প্যারীচাঁদ মিত্র
গ্রন্থ-রচয়িতাকোন বই কার লেখামেঘনাদবধ — মধুসূদন
সাময়িকপত্রপত্রিকা ও সম্পাদকবঙ্গদর্শন — বঙ্কিমচন্দ্র
পুরস্কার ও সালনোবেল, একুশে, স্বাধীনতা পদকনোবেল ১৯১৩ — গীতাঞ্জলি

পড়ার কৌশল

  • প্রতিটি বড় সাহিত্যিকের জন্মসাল, উপাধি, প্রথম গ্রন্থ ও শ্রেষ্ঠ গ্রন্থ — এই চারটি তথ্য আলাদা করে মুখস্থ রাখুন।
  • "প্রথম", "জনক/প্রবর্তক", "উপাধি", "ছদ্মনাম" — এই চারটি তালিকা বারবার রিভিশন দিন; এখান থেকেই সবচেয়ে বেশি প্রশ্ন আসে।
  • একই ব্যক্তির একাধিক পরিচয় গুলিয়ে যায় (যেমন মধুসূদন = কবি + নাট্যকার + প্রহসনকার) — ছক করে মনে রাখুন।
  • বিগত ১৫টি বিজেএসের বাংলা সাহিত্য প্রশ্ন সমাধান করুন; একই তথ্য ঘুরেফিরে আসে।

যুগবিভাগ ও আধুনিক যুগের সূচনা

বাংলা সাহিত্যের ইতিহাসকে সময়ের ভিত্তিতে তিনটি প্রধান যুগে ভাগ করা হয়। এই যুগবিভাগ সম্পর্কে স্পষ্ট ধারণা থাকলে আধুনিক যুগের অবস্থান ও বৈশিষ্ট্য সহজে বোঝা যায়।

যুগকালসীমাপ্রধান বৈশিষ্ট্য
প্রাচীন যুগআনু. ৬৫০–১২০০ খ্রি.চর্যাপদ (একমাত্র নিদর্শন)
মধ্যযুগ১২০১–১৮০০ খ্রি.শ্রীকৃষ্ণকীর্তন, মঙ্গলকাব্য, বৈষ্ণব পদাবলি, অনুবাদ সাহিত্য
অন্ধকার/বন্ধ্যা যুগ১২০১–১৩৫০ খ্রি. (মধ্যযুগের ভেতরে)তুর্কি আক্রমণজনিত সাহিত্য-স্থবিরতা
আধুনিক যুগ১৮০১ খ্রি.–বর্তমানগদ্য, উপন্যাস, ছোটগল্প, আধুনিক কবিতা ও নাটক

আধুনিক যুগ কবে থেকে?

সাহিত্য-ঐতিহাসিকদের অধিকাংশ মত অনুযায়ী ১৮০১ খ্রিস্টাব্দ থেকে বাংলা সাহিত্যের আধুনিক যুগের সূচনা ধরা হয়। কারণ এ সময়েই ফোর্ট উইলিয়াম কলেজকে কেন্দ্র করে বাংলা গদ্যের চর্চা শুরু হয় এবং মুদ্রণযন্ত্রের সাহায্যে বাংলা বই ছাপা হতে থাকে। তবে সাহিত্যিক-মানের আধুনিকতা প্রকৃত অর্থে ফুটে ওঠে ঊনবিংশ শতকের মধ্যভাগে — মাইকেল মধুসূদন দত্ত ও বঙ্কিমচন্দ্রের হাত ধরে।

আধুনিক যুগের প্রধান বৈশিষ্ট্য

  • গদ্যের প্রাধান্য: মধ্যযুগ ছিল পদ্যের যুগ; আধুনিক যুগে প্রথম পূর্ণাঙ্গ গদ্যসাহিত্য গড়ে ওঠে।
  • নতুন সাহিত্যরূপ: উপন্যাস, ছোটগল্প, প্রবন্ধ, সনেট, মহাকাব্য, ট্র্যাজেডি নাটক — সবই এই যুগের অবদান।
  • ইউরোপীয় প্রভাব: ইংরেজি শিক্ষা ও সাহিত্যের সংস্পর্শে নতুন ভাব ও আঙ্গিক আসে।
  • ব্যক্তিস্বাতন্ত্র্য ও মানবতাবাদ: দেবতা নয়, মানুষ ও তার জীবন হয়ে ওঠে সাহিত্যের কেন্দ্র।
  • ধর্মনিরপেক্ষ ও ইহলৌকিক দৃষ্টিভঙ্গি; সমাজ-সংস্কার ও দেশপ্রেমের প্রকাশ।
মনে রাখুন — প্রাচীন = চর্যাপদ; মধ্য = পদ্য (মঙ্গলকাব্য, পদাবলি); আধুনিক = গদ্য ও নতুন রূপ (১৮০১–)

ফোর্ট উইলিয়াম কলেজ ও বাংলা গদ্যের সূচনা

বাংলা গদ্যের প্রাতিষ্ঠানিক চর্চার সূত্রপাত ঘটে ফোর্ট উইলিয়াম কলেজকে কেন্দ্র করে। ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানির ইংরেজ কর্মচারীদের ভারতীয় ভাষা ও সংস্কৃতিতে প্রশিক্ষণ দেওয়ার উদ্দেশ্যে লর্ড ওয়েলেসলি ১৮০০ খ্রিস্টাব্দে (১০ জুলাই) কলকাতায় এই কলেজ প্রতিষ্ঠা করেন। এখানকার পণ্ডিত ও মুন্সিরা পাঠ্যপুস্তক রচনার প্রয়োজনে বাংলা গদ্যে বহু বই লেখেন — এভাবেই সচেতনভাবে বাংলা গদ্যের যাত্রা শুরু হয়।

ফোর্ট উইলিয়াম কলেজ — মূল তথ্য

বিষয়তথ্য
প্রতিষ্ঠা১৮০০ খ্রিস্টাব্দ, কলকাতা
প্রতিষ্ঠাতালর্ড ওয়েলেসলি
বাংলা বিভাগের প্রধানউইলিয়াম কেরি
উদ্দেশ্যইংরেজ কর্মচারীদের ভাষা-শিক্ষা
বিলুপ্তি১৮৫৪ খ্রিস্টাব্দ

ফোর্ট উইলিয়াম কলেজের গদ্যকার ও তাঁদের গ্রন্থ

লেখকউল্লেখযোগ্য গ্রন্থমন্তব্য
উইলিয়াম কেরিকথোপকথন (১৮০১), ইতিহাসমালাবাংলা বিভাগের প্রধান
রামরাম বসুপ্রতাপাদিত্য চরিত্র (১৮০১)বাঙালি রচিত প্রথম মুদ্রিত গদ্যগ্রন্থ
মৃত্যুঞ্জয় বিদ্যালঙ্কারবত্রিশ সিংহাসন, প্রবোধচন্দ্রিকা, রাজাবলি, হিতোপদেশবাংলা গদ্যের প্রথম শিল্পী রূপে পরিচিত
গোলকনাথ শর্মাহিতোপদেশ (অনুবাদ)প্রথম প্রকাশিত পাঠ্য
চণ্ডীচরণ মুনশিতোতা ইতিহাস—
হরপ্রসাদ রায়পুরুষ পরীক্ষা—

মুদ্রণযন্ত্র ও প্রথম বাংলা বই

  • বাংলা মুদ্রণের সূচনা শ্রীরামপুর মিশন প্রেস (১৮০০) ও উইলিয়াম কেরির উদ্যোগে।
  • বাংলা অক্ষরে ছাপা প্রথম বই — ন্যাথানিয়েল ব্রাসি হ্যালহেড-এর "A Grammar of the Bengal Language" (১৭৭৮); বাংলা টাইপ তৈরি করেন চার্লস উইলকিন্স ও পঞ্চানন কর্মকার।
  • রামরাম বসু-র "প্রতাপাদিত্য চরিত্র" (১৮০১) — কোনো বাঙালির লেখা প্রথম মুদ্রিত বাংলা গদ্যগ্রন্থ।

গদ্যের বিকাশ: রামমোহন, বিদ্যাসাগর ও অন্যান্য

ফোর্ট উইলিয়াম কলেজের পাঠ্যপুস্তকী গদ্য ছিল আড়ষ্ট ও কৃত্রিম। এই গদ্যকে সাহিত্যিক মর্যাদা ও সৌন্দর্য দেন মূলত রাজা রামমোহন রায় ও ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর। রামমোহন ধর্ম ও দর্শন বিষয়ক তর্ক-বিতর্কের প্রয়োজনে গদ্যকে যুক্তিনিষ্ঠ করেন, আর বিদ্যাসাগর গদ্যে যতিচিহ্ন, ছন্দ ও শিল্পসৌন্দর্য যোগ করে তাকে পূর্ণাঙ্গ শিল্পমাধ্যমে পরিণত করেন।

রাজা রামমোহন রায় (১৭৭২/৭৪–১৮৩৩)

তাঁকে বলা হয় "রাজা" (মুঘল সম্রাট প্রদত্ত উপাধি) এবং আধুনিক ভারতের প্রথম মনীষী / আধুনিক যুগের অগ্রদূত। তিনি সতীদাহ প্রথা রদে (১৮২৯) প্রধান ভূমিকা রাখেন এবং ব্রাহ্মসমাজ প্রতিষ্ঠা করেন (১৮২৮)। গদ্যে যতিচিহ্নের প্রাথমিক ব্যবহার তাঁর হাতেই শুরু হয়।

উল্লেখযোগ্য গ্রন্থ: বেদান্তগ্রন্থ, বেদান্তসার, গৌড়ীয় ব্যাকরণ, ভট্টাচার্যের সহিত বিচার, প্রবর্তক ও নিবর্তকের সংবাদ।

ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর (১৮২০–১৮৯১)

তাঁকে বলা হয় "বাংলা গদ্যের জনক" ও "বাংলা গদ্যের প্রথম শিল্পী"। জন্ম মেদিনীপুরের বীরসিংহ গ্রামে; সংস্কৃত কলেজ থেকে "বিদ্যাসাগর" উপাধি লাভ। তিনি বাংলা গদ্যে যতিচিহ্ন (কমা, সেমিকোলন, দাঁড়ি) নিয়মিত করেন এবং বাক্যকে সুষম, ঝংকারময় ও পাঠযোগ্য করে তোলেন। সমাজসংস্কারক হিসেবে তিনি বিধবা বিবাহ আইন (১৮৫৬) পাসে ও বাল্যবিবাহ-বহুবিবাহ রোধে অগ্রণী ভূমিকা রাখেন।

গ্রন্থধরন / মন্তব্য
বেতাল পঞ্চবিংশতি (১৮৪৭)প্রথম মৌলিক গদ্যগ্রন্থ (অনুবাদভিত্তিক আখ্যান)
শকুন্তলা, সীতার বনবাসআখ্যানমূলক গদ্য
বর্ণপরিচয় (১-২ ভাগ)শিশুশিক্ষার বই
বিধবা বিবাহ প্রচলিত হওয়া উচিত কিনাসমাজসংস্কারমূলক প্রবন্ধ
প্রভাবতী সম্ভাষণশোকগদ্য

কথ্যরীতি ও রঙ্গব্যঙ্গের গদ্য

লেখকছদ্মনামগ্রন্থ ও অবদান
প্যারীচাঁদ মিত্রটেকচাঁদ ঠাকুরআলালের ঘরের দুলাল (১৮৫৮) — কথ্যভাষায় লেখা প্রথম বাংলা উপন্যাস
কালীপ্রসন্ন সিংহহুতোম প্যাঁচাহুতোম প্যাঁচার নকশা (১৮৬২) — সমাজব্যঙ্গ; মহাভারতের বাংলা অনুবাদ
অক্ষয়কুমার দত্ত—তত্ত্ববোধিনী পত্রিকা সম্পাদক; বিজ্ঞানমনস্ক গদ্য
দেবেন্দ্রনাথ ঠাকুর—ব্রাহ্মধর্ম, আত্মজীবনী; রবীন্দ্রনাথের পিতা

সহজে গুলিয়ে যায়

বাংলা গদ্যের জনক — ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর; কিন্তু প্রথম সার্থক উপন্যাস — বঙ্কিমের দুর্গেশনন্দিনী। "আলালের ঘরের দুলাল" প্রথম কথ্যরীতির উপন্যাস (টেকচাঁদ ঠাকুর = প্যারীচাঁদ মিত্র), আর "হুতোম প্যাঁচার নকশা" প্রথম সার্থক নকশাজাতীয়/ব্যঙ্গ রচনা (হুতোম প্যাঁচা = কালীপ্রসন্ন সিংহ)।

সাময়িকপত্র ও সাংবাদিকতা

আধুনিক বাংলা সাহিত্যের বিকাশে সাময়িকপত্র ও সংবাদপত্রের ভূমিকা অপরিসীম। এগুলো লেখকদের প্রকাশমাধ্যম দিয়েছে, নতুন ভাব ও আন্দোলন ছড়িয়ে দিয়েছে এবং গদ্যরীতিকে পরিণত করেছে। বিজেএসে "কোন পত্রিকা কবে, কে সম্পাদক" — এই প্রশ্ন নিয়মিত আসে।

পত্রিকাপ্রকাশকালসম্পাদক / মন্তব্য
দিগ্‌দর্শন১৮১৮জন ক্লার্ক মার্শম্যান — প্রথম বাংলা সাময়িকপত্র (মাসিক)
সমাচার দর্পণ১৮১৮মার্শম্যান (শ্রীরামপুর মিশন) — প্রথম বাংলা সংবাদপত্র (সাপ্তাহিক)
বেঙ্গল গেজেট (বাংলা)১৮১৮গঙ্গাকিশোর ভট্টাচার্য — বাঙালি পরিচালিত প্রথম সংবাদপত্র
সংবাদ প্রভাকর১৮৩১ (পরে দৈনিক ১৮৩৯)ঈশ্বরচন্দ্র গুপ্ত — প্রথম বাংলা দৈনিক
তত্ত্ববোধিনী পত্রিকা১৮৪৩অক্ষয়কুমার দত্ত (ব্রাহ্মসমাজ)
বঙ্গদর্শন১৮৭২বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
সবুজপত্র১৯১৪প্রমথ চৌধুরী — চলিত গদ্যরীতির আন্দোলন
কল্লোল১৯২৩দীনেশরঞ্জন দাশ — কল্লোল যুগ
ধূমকেতু১৯২২কাজী নজরুল ইসলাম
শিখা১৯২৭ঢাকা মুসলিম সাহিত্য সমাজ (বুদ্ধির মুক্তি আন্দোলন)

"প্রথম" মনে রাখার সহজ সূত্র

  • প্রথম বাংলা সাময়িকপত্র/মাসিক — দিগ্‌দর্শন (১৮১৮)।
  • প্রথম বাংলা সংবাদপত্র/সাপ্তাহিক — সমাচার দর্পণ (১৮১৮)।
  • প্রথম বাংলা দৈনিক — সংবাদ প্রভাকর।
  • বাঙালি সম্পাদিত প্রথম সংবাদপত্র — বেঙ্গল গেজেট (গঙ্গাকিশোর ভট্টাচার্য)।

আধুনিক কবিতা ও মহাকাব্যের বিকাশ

মধ্যযুগের ধর্মাশ্রিত পদ্য থেকে বেরিয়ে ব্যক্তিমানুষের অনুভূতি, প্রকৃতি ও দেশপ্রেমকে কেন্দ্র করে আধুনিক কবিতা গড়ে ওঠে। এই উত্তরণের সূচনা করেন ঈশ্বরচন্দ্র গুপ্ত, পূর্ণতা দেন মাইকেল মধুসূদন দত্ত, আর গীতিকবিতার ধারা এগিয়ে নেন বিহারীলাল চক্রবর্তী।

কবিউপাধি / অবদান
ঈশ্বরচন্দ্র গুপ্ত"যুগসন্ধিক্ষণের কবি" — মধ্যযুগ ও আধুনিক যুগের সেতুবন্ধ
মাইকেল মধুসূদন দত্তআধুনিকতার প্রবর্তক; অমিত্রাক্ষর ছন্দ ও বাংলা সনেটের প্রবর্তক
বিহারীলাল চক্রবর্তী"ভোরের পাখি" (রবীন্দ্রনাথের অভিধা); গীতিকবিতার প্রবর্তক
হেমচন্দ্র বন্দ্যোপাধ্যায়"বৃত্রসংহার" মহাকাব্য; দেশাত্মবোধক কবিতা
নবীনচন্দ্র সেনপলাশীর যুদ্ধ, রৈবতক-কুরুক্ষেত্র-প্রভাস (ত্রয়ী)
কামিনী রায়প্রথম স্নাতক নারী; আলো ও ছায়া

অমিত্রাক্ষর ছন্দ কী?

মিল বা অন্ত্যমিলবিহীন, প্রবহমান ছন্দ যেখানে চরণের শেষে অর্থ থেমে না থেকে পরের চরণে গড়িয়ে যায় (enjambment)। ইংরেজি "blank verse" ও মিল্টনের প্রভাবে মধুসূদন এটি বাংলায় প্রবর্তন করেন — প্রথম প্রয়োগ "তিলোত্তমাসম্ভব কাব্য" (১৮৬০) এবং শ্রেষ্ঠ প্রয়োগ "মেঘনাদবধ কাব্য" (১৮৬১)।

চতুর্দশপদী কবিতা (সনেট)

১৪ চরণবিশিষ্ট কবিতাই সনেট। ইতালীয় কবি পেত্রার্কের এই আঙ্গিক ইংরেজি হয়ে বাংলায় আনেন মাইকেল মধুসূদন দত্ত — তাঁর "চতুর্দশপদী কবিতাবলী"-তে; বিখ্যাত সনেট "বঙ্গভাষা" ও "কপোতাক্ষ নদ"। পরে রবীন্দ্রনাথ "নৈবেদ্য" প্রভৃতিতে সনেট রচনা করেন।

মাইকেল মধুসূদন দত্ত (১৮২৪–১৮৭৩)

বাংলা সাহিত্যে আধুনিকতার প্রবর্তক মাইকেল মধুসূদন দত্ত। যশোরের সাগরদাঁড়ি গ্রামে জন্ম। খ্রিস্টধর্ম গ্রহণ করে নামের সঙ্গে "মাইকেল" যুক্ত হয়। তিনি একাধারে মহাকবি, নাট্যকার, প্রহসনকার ও সনেট-রচয়িতা — বাংলা সাহিত্যে একসঙ্গে এতগুলো নতুন পথের প্রবর্তক আর কেউ নন।

তাঁর যুগান্তকারী অবদান

প্রবর্তনগ্রন্থ / উদাহরণ
অমিত্রাক্ষর ছন্দপ্রথম — তিলোত্তমাসম্ভব কাব্য (১৮৬০)
বাংলা মহাকাব্যমেঘনাদবধ কাব্য (১৮৬১) — শ্রেষ্ঠ বাংলা মহাকাব্য
বাংলা সনেট (চতুর্দশপদী)চতুর্দশপদী কবিতাবলী; "বঙ্গভাষা"
বাংলা পত্রকাব্যবীরাঙ্গনা কাব্য
প্রথম সার্থক ট্র্যাজেডি নাটককৃষ্ণকুমারী
প্রথম মৌলিক নাটকশর্মিষ্ঠা (১৮৫৯)
প্রহসনএকেই কি বলে সভ্যতা; বুড়ো শালিকের ঘাড়ে রোঁ

প্রধান রচনাবলি

ধরনরচনা
মহাকাব্যমেঘনাদবধ কাব্য
কাব্যতিলোত্তমাসম্ভব, ব্রজাঙ্গনা, বীরাঙ্গনা, চতুর্দশপদী কবিতাবলী
নাটকশর্মিষ্ঠা, পদ্মাবতী, কৃষ্ণকুমারী
প্রহসনএকেই কি বলে সভ্যতা, বুড়ো শালিকের ঘাড়ে রোঁ

মেঘনাদবধ কাব্য সম্পর্কে জেনে রাখুন

  • রামায়ণের কাহিনি-অবলম্বনে রচিত ৯ সর্গের মহাকাব্য; কিন্তু এখানে রাবণ ও মেঘনাদ বীর-নায়ক রূপে চিত্রিত — প্রথাবিরোধী দৃষ্টিভঙ্গি।
  • রচিত অমিত্রাক্ষর ছন্দে; বাংলা সাহিত্যের শ্রেষ্ঠ মহাকাব্য।
  • মধুসূদনের সমাধিফলকে লেখা তাঁরই পঙ্‌ক্তি: "দাঁড়াও পথিকবর..."।

উপন্যাসের বিকাশ ও বঙ্কিমচন্দ্র

উপন্যাস আধুনিক যুগের সম্পূর্ণ নতুন সাহিত্যরূপ। কথ্যরীতিতে প্যারীচাঁদ মিত্রের "আলালের ঘরের দুলাল" (১৮৫৮) একে পথ দেখালেও শিল্পসম্মত ও সার্থক উপন্যাসের সূচনা করেন বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায় — তাঁকে বলা হয় "সাহিত্যসম্রাট" ও বাংলা উপন্যাসের জনক।

বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায় (১৮৩৮–১৮৯৪)

উত্তর ২৪ পরগনার কাঁঠালপাড়ায় জন্ম। কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রথম স্নাতকদের একজন এবং ডেপুটি ম্যাজিস্ট্রেট। তাঁর সম্পাদিত "বঙ্গদর্শন" (১৮৭২) পত্রিকা বাংলা সাহিত্যে নবজাগরণ আনে। তাঁর "আনন্দমঠ" উপন্যাসে রয়েছে ভারতের বিখ্যাত সংগীত "বন্দে মাতরম্"।

উপন্যাসমন্তব্য
Rajmohan's Wifeইংরেজিতে লেখা প্রথম উপন্যাস
দুর্গেশনন্দিনী (১৮৬৫)প্রথম সার্থক বাংলা উপন্যাস
কপালকুণ্ডলা (১৮৬৬)রোমান্সধর্মী; "কপালকুণ্ডলা" চরিত্র
বিষবৃক্ষ, কৃষ্ণকান্তের উইলসামাজিক উপন্যাস
আনন্দমঠ (১৮৮২)"বন্দে মাতরম্" এই উপন্যাসে
দেবী চৌধুরাণী, রাজসিংহ, সীতারামঐতিহাসিক/জাতীয়তাবাদী

প্রবন্ধ ও ব্যঙ্গরচনায় তাঁর "কমলাকান্তের দপ্তর" বিখ্যাত।

ছোটগল্প ও পরবর্তী ঔপন্যাসিক

লেখকঅবদান
রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরবাংলা ছোটগল্পের প্রকৃত জনক; "গল্পগুচ্ছ"
শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়"অপরাজেয় কথাশিল্পী"; শ্রীকান্ত, দেবদাস
মীর মশাররফ হোসেন"বিষাদ-সিন্ধু" — মুসলিম সমাজের প্রথম সার্থক কথাসাহিত্যিক
তারাশঙ্কর, বিভূতিভূষণ, মানিকত্রয়ী ঔপন্যাসিক (পথের পাঁচালী, পুতুলনাচের ইতিকথা, গণদেবতা)
মনে রাখুন — প্রথম সার্থক উপন্যাস দুর্গেশনন্দিনী (বঙ্কিম, ১৮৬৫); প্রথম কথ্যরীতির উপন্যাস আলালের ঘরের দুলাল (প্যারীচাঁদ); ইংরেজিতে বঙ্কিমের প্রথম উপন্যাস Rajmohan's Wife।

বাংলা নাটকের বিকাশ

আধুনিক বাংলা নাটকের যাত্রা ঊনবিংশ শতকের মধ্যভাগে। মঞ্চনাট্যের বিকাশে ন্যাশনাল থিয়েটার (১৮৭২) গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। এই ধারায় মধুসূদন, দীনবন্ধু মিত্র ও গিরিশচন্দ্র ঘোষ ছিলেন অগ্রপথিক।

নাট্যকার / নাটকমন্তব্য
তারাচরণ শিকদার — ভদ্রার্জুনপ্রথম বাংলা নাটক (১৮৫২, মতান্তরে)
রামনারায়ণ তর্করত্ন — কুলীনকুলসর্বস্বপ্রথম সার্থক মৌলিক নাটক (১৮৫৪)
মাইকেল মধুসূদন — শর্মিষ্ঠাপ্রথম মৌলিক সাহিত্যিক-মানের নাটক (১৮৫৯)
মাইকেল মধুসূদন — কৃষ্ণকুমারীপ্রথম সার্থক ট্র্যাজেডি
দীনবন্ধু মিত্র — নীলদর্পণ (১৮৬০)নীলকরদের অত্যাচার; মধুসূদন কর্তৃক ইংরেজি অনুবাদ
গিরিশচন্দ্র ঘোষ"নাট্যসম্রাট"; প্রফুল্ল, সিরাজদ্দৌলা
দ্বিজেন্দ্রলাল রায় (ডি.এল. রায়)ঐতিহাসিক নাটক — সাজাহান, চন্দ্রগুপ্ত

"প্রথম" নাটক — বিভ্রান্তি এড়ান

প্রথম বাংলা প্রহসন — মধুসূদনের "একেই কি বলে সভ্যতা"। প্রথম সার্থক ট্র্যাজেডি — "কৃষ্ণকুমারী"। "নীলদর্পণ"-কে বলা হয় বাংলার "Uncle Tom's Cabin"; এটি প্রথম মুদ্রিত সামাজিক-প্রতিবাদী নাটক।

রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর (১৮৬১–১৯৪১)

বাংলা তথা বিশ্বসাহিত্যের অন্যতম শ্রেষ্ঠ প্রতিভা রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর — উপাধি "বিশ্বকবি" / "কবিগুরু" / "গুরুদেব"। কলকাতার জোড়াসাঁকো ঠাকুরবাড়িতে জন্ম। ১৯১৩ সালে "গীতাঞ্জলি" (Song Offerings) কাব্যের ইংরেজি অনুবাদের জন্য তিনি সাহিত্যে নোবেল পুরস্কার লাভ করেন এবং প্রথম এশীয় নোবেলজয়ী হন। তিনি শান্তিনিকেতন ও বিশ্বভারতী প্রতিষ্ঠা করেন এবং জালিয়ানওয়ালাবাগ হত্যাকাণ্ডের প্রতিবাদে ১৯১৯ সালে "নাইট" উপাধি ত্যাগ করেন।

রবীন্দ্র-প্রতিভার নানা শাখা

ধরনউল্লেখযোগ্য রচনা
কাব্যমানসী, সোনার তরী, চিত্রা, গীতাঞ্জলি, বলাকা, পুনশ্চ
উপন্যাসগোরা, ঘরে বাইরে, চোখের বালি, নৌকাডুবি, যোগাযোগ, শেষের কবিতা
ছোটগল্পগল্পগুচ্ছ — কাবুলিওয়ালা, পোস্টমাস্টার, দেনাপাওনা, ছুটি
নাটকরক্তকরবী, ডাকঘর, বিসর্জন, রাজা, মুক্তধারা, চিত্রাঙ্গদা
প্রবন্ধকালান্তর, সভ্যতার সংকট, স্বদেশ
আত্মজীবনীজীবনস্মৃতি, ছেলেবেলা

অবশ্যই মনে রাখুন

  • নোবেল লাভ — ১৯১৩, গ্রন্থ গীতাঞ্জলি; প্রথম এশীয় ও প্রথম ভারতীয় নোবেলজয়ী।
  • প্রথম কাব্যগ্রন্থ — কবিকাহিনী (মতান্তরে "বনফুল"); প্রথম ছোটগল্প — "ভিখারিণী"।
  • দুই দেশের জাতীয় সংগীতের রচয়িতা — বাংলাদেশ: "আমার সোনার বাংলা"; ভারত: "জন গণ মন"।
  • শ্রীলঙ্কার জাতীয় সংগীতও রবীন্দ্র-ভাবাদর্শে অনুপ্রাণিত।

কাজী নজরুল ইসলাম (১৮৯৯–১৯৭৬)

বাংলাদেশের জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলাম; উপাধি "বিদ্রোহী কবি"। পশ্চিমবঙ্গের বর্ধমান জেলার চুরুলিয়া গ্রামে জন্ম। শোষণ, অন্যায় ও সাম্প্রদায়িকতার বিরুদ্ধে তাঁর দৃপ্ত কণ্ঠ বাংলা সাহিত্যে সাম্য, মানবতা ও বিদ্রোহের নতুন সুর আনে। ১৯৭২ সালে বাংলাদেশ সরকার তাঁকে ঢাকায় নিয়ে আসে; ১৯৭৬ সালে তাঁকে বাংলাদেশের নাগরিকত্ব ও জাতীয় কবির মর্যাদা দেওয়া হয়। মৃত্যুর পর ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় মসজিদ সংলগ্ন স্থানে সমাধিস্থ।

বিদ্রোহী কবিতা ও প্রধান রচনা

তাঁর বিখ্যাত "বিদ্রোহী" কবিতা প্রকাশিত হয় ১৯২২ সালে (বিজলী পত্রিকা), পরে "অগ্নিবীণা" কাব্যে সংকলিত।

ধরনরচনা
কাব্যঅগ্নিবীণা (প্রথম কাব্যগ্রন্থ), বিষের বাঁশি, সাম্যবাদী, সর্বহারা, চক্রবাক, সিন্ধু-হিন্দোল
উপন্যাসবাঁধনহারা, মৃত্যুক্ষুধা, কুহেলিকা
গল্পগ্রন্থব্যথার দান, রিক্তের বেদন, শিউলিমালা
নাটক / প্রবন্ধঝিলিমিলি, আলেয়া; যুগবাণী, রাজবন্দীর জবানবন্দী
সম্পাদিত পত্রিকাধূমকেতু, লাঙল, নবযুগ

নজরুল সম্পর্কে দ্রুত-তথ্য

  • প্রথম কাব্যগ্রন্থ — অগ্নিবীণা (১৯২২); বিখ্যাত কবিতা — বিদ্রোহী, প্রলয়োল্লাস, কামাল পাশা।
  • উপাধি — বিদ্রোহী কবি; বাংলাদেশের জাতীয় কবি (১৯৭২-এ ঢাকায় আনা হয়)।
  • "ধূমকেতু" পত্রিকা সম্পাদনার জন্য ব্রিটিশ কারাবরণ; তখনই লেখেন "রাজবন্দীর জবানবন্দী"।
  • বাংলা গজল ও ইসলামি গানের ধারায় তিনি অগ্রপথিক; হাজারো "নজরুলগীতি"-র স্রষ্টা।

অন্যান্য প্রধান সাহিত্যিক

রবীন্দ্র-নজরুল ছাড়াও আধুনিক যুগকে সমৃদ্ধ করেছেন আরও বহু কালজয়ী সাহিত্যিক। বিজেএসে এঁদের উপাধি ও প্রধান রচনা থেকে নিয়মিত প্রশ্ন আসে।

সাহিত্যিকউপাধিপ্রধান রচনা
শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়অপরাজেয় কথাশিল্পীশ্রীকান্ত, দেবদাস, পথের দাবী, গৃহদাহ, পল্লীসমাজ
জসীমউদ্‌দীনপল্লিকবিনকশী কাঁথার মাঠ, সোজন বাদিয়ার ঘাট, কবর (কবিতা)
জীবনানন্দ দাশরূপসী বাংলার কবি / নির্জনতার কবিবনলতা সেন, রূপসী বাংলা, ধূসর পাণ্ডুলিপি
বেগম রোকেয়ানারীজাগরণের অগ্রদূতসুলতানার স্বপ্ন, অবরোধবাসিনী, মতিচূর, পদ্মরাগ
প্রমথ চৌধুরীছদ্মনাম "বীরবল"; চলিত গদ্যের প্রবর্তকসবুজপত্র, তেল-নুন-লকড়ি, বীরবলের হালখাতা
সুকুমার রায়ননসেন্স ছড়ার স্রষ্টাআবোল তাবোল, হ-য-ব-র-ল, পাগলা দাশু
মধুসূদন দত্ত-পরবর্তী তিরিশের কবিরাপঞ্চপাণ্ডবজীবনানন্দ, বুদ্ধদেব বসু, অমিয় চক্রবর্তী, সুধীন্দ্রনাথ দত্ত, বিষ্ণু দে

তিরিশের দশক ও পঞ্চপাণ্ডব

রবীন্দ্র-প্রভাব থেকে বেরিয়ে আধুনিক (ইউরোপীয় আধুনিকতাবাদী) কবিতার সূচনা করেন তিরিশের দশকের কবিরা। এঁদের মধ্যে পাঁচজন — জীবনানন্দ দাশ, বুদ্ধদেব বসু, অমিয় চক্রবর্তী, সুধীন্দ্রনাথ দত্ত ও বিষ্ণু দে — "পঞ্চপাণ্ডব" নামে পরিচিত।

বাংলাদেশ পর্ব ও আধুনিক মুসলিম সাহিত্য

মুসলিম সমাজে আধুনিক বাংলা সাহিত্যচর্চার সূচনা করেন মীর মশাররফ হোসেন (বিষাদ-সিন্ধু)। এরপর ঢাকা কেন্দ্রিক "মুসলিম সাহিত্য সমাজ" ও "বুদ্ধির মুক্তি" আন্দোলন (পত্রিকা: শিখা, ১৯২৭) নতুন চিন্তার দ্বার খোলে। ১৯৪৭ ও ১৯৭১-এর পর বাংলাদেশে গড়ে ওঠে স্বতন্ত্র, সমৃদ্ধ সাহিত্যধারা — যার কেন্দ্রে রয়েছে ভাষা আন্দোলন ও মুক্তিযুদ্ধ।

সাহিত্যিকপরিচয় / প্রধান রচনা
মীর মশাররফ হোসেনবিষাদ-সিন্ধু; মুসলিম সমাজের প্রথম সার্থক সাহিত্যিক
ফররুখ আহমদ"মুসলিম রেনেসাঁর কবি"; সাত সাগরের মাঝি
জসীমউদ্‌দীনপল্লিকবি; নকশী কাঁথার মাঠ
সৈয়দ ওয়ালীউল্লাহলালসালু, চাঁদের অমাবস্যা, কাঁদো নদী কাঁদো
শামসুর রাহমানস্বাধীনতা তুমি, আসাদের শার্ট; নাগরিক কবি
আল মাহমুদসোনালি কাবিন
সৈয়দ শামসুল হক"সব্যসাচী লেখক"; নূরলদীনের সারাজীবন, পায়ের আওয়াজ পাওয়া যায়
জহির রায়হানহাজার বছর ধরে, আরেক ফাল্গুন
শহীদুল্লা কায়সারসংশপ্তক, সারেং বৌ
মুনীর চৌধুরীকবর (নাটক), রক্তাক্ত প্রান্তর
আবু ইসহাকসূর্য দীঘল বাড়ী

ভাষা আন্দোলন ও মুক্তিযুদ্ধের সাহিত্য

  • একুশের প্রথম কবিতা — মাহবুব উল আলম চৌধুরীর "কাঁদতে আসিনি ফাঁসির দাবি নিয়ে এসেছি"।
  • একুশের গান "আমার ভাইয়ের রক্তে রাঙানো একুশে ফেব্রুয়ারি" — আব্দুল গাফ্‌ফার চৌধুরী।
  • মুক্তিযুদ্ধভিত্তিক উপন্যাস — জহির রায়হানের "আরেক ফাল্গুন", আনোয়ার পাশার "রাইফেল রোটি আওরাত"।

দ্রুত-তথ্য: উপাধি, ছদ্মনাম, জনক ও "প্রথম"

নিচের ছকগুলো পরীক্ষার আগে বারবার রিভিশন দিন — আধুনিক যুগ থেকে আসা প্রশ্নের সিংহভাগ এখান থেকেই মেলে।

উপাধি ও অভিধা

উপাধিব্যক্তি
বিশ্বকবি / কবিগুরুরবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
জাতীয় কবি / বিদ্রোহী কবিকাজী নজরুল ইসলাম
পল্লিকবিজসীমউদ্‌দীন
রূপসী বাংলার কবিজীবনানন্দ দাশ
সাহিত্যসম্রাটবঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
অপরাজেয় কথাশিল্পীশরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
ভোরের পাখিবিহারীলাল চক্রবর্তী
যুগসন্ধিক্ষণের কবিঈশ্বরচন্দ্র গুপ্ত
নাট্যসম্রাটগিরিশচন্দ্র ঘোষ
সব্যসাচী লেখকসৈয়দ শামসুল হক
মুসলিম রেনেসাঁর কবিফররুখ আহমদ

ছদ্মনাম

ছদ্মনামপ্রকৃত নাম
ভানুসিংহ ঠাকুররবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
বীরবলপ্রমথ চৌধুরী
টেকচাঁদ ঠাকুরপ্যারীচাঁদ মিত্র
হুতোম প্যাঁচাকালীপ্রসন্ন সিংহ
বনফুলবলাইচাঁদ মুখোপাধ্যায়
জরাসন্ধচারুচন্দ্র চক্রবর্তী
মুকুন্দরাম / কবিকঙ্কণমুকুন্দরাম চক্রবর্তী (মধ্যযুগ)

জনক / প্রবর্তক

বিষয়জনক / প্রবর্তক
বাংলা গদ্যের জনকঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর
আধুনিকতার প্রবর্তকমাইকেল মধুসূদন দত্ত
অমিত্রাক্ষর ছন্দের প্রবর্তকমাইকেল মধুসূদন দত্ত
বাংলা সনেটের প্রবর্তকমাইকেল মধুসূদন দত্ত
বাংলা ছোটগল্পের জনকরবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
চলিত গদ্যরীতির প্রবর্তকপ্রমথ চৌধুরী
গীতিকবিতার প্রবর্তকবিহারীলাল চক্রবর্তী

"প্রথম" সংক্রান্ত

প্রথমউত্তর
প্রথম সার্থক উপন্যাসদুর্গেশনন্দিনী (বঙ্কিম)
প্রথম কথ্যরীতির উপন্যাসআলালের ঘরের দুলাল (প্যারীচাঁদ)
প্রথম বাংলা মহাকাব্যমেঘনাদবধ কাব্য (মধুসূদন)
প্রথম সার্থক ট্র্যাজেডিকৃষ্ণকুমারী (মধুসূদন)
প্রথম প্রহসনএকেই কি বলে সভ্যতা (মধুসূদন)
প্রথম বাংলা সাময়িকপত্রদিগ্‌দর্শন (১৮১৮)
প্রথম বাংলা সংবাদপত্রসমাচার দর্পণ (১৮১৮)

পরিভাষা (Glossary)

  • অমিত্রাক্ষর ছন্দ: অন্ত্যমিলহীন প্রবহমান ছন্দ (blank verse)।
  • সনেট / চতুর্দশপদী: ১৪ চরণের কবিতা।
  • মহাকাব্য: বীররসাশ্রিত দীর্ঘ আখ্যানকাব্য।
  • প্রহসন: সমাজের দোষ-ত্রুটি নিয়ে হাস্যরসাত্মক নাটক।
  • নকশা: সমাজচিত্র-ভিত্তিক ব্যঙ্গাত্মক গদ্যরচনা।
  • পত্রকাব্য: চিঠির আকারে রচিত কাব্য (যেমন বীরাঙ্গনা)।
  • যুগসন্ধিক্ষণ: দুই যুগের সংযোগস্থল (মধ্য ও আধুনিক)।

বাস্তব পরীক্ষায় আসা প্রশ্ন (সমাধানসহ)

আধুনিক যুগ থেকে আসা প্রতিনিধিত্বমূলক প্রশ্ন অপশন ও ব্যাখ্যাসহ সমাধান করা হলো।

৪৪তম বিসিএস

বাংলা সাহিত্যে আধুনিকতার প্রবর্তক কে?

(ক) বঙ্কিমচন্দ্র   (খ) মাইকেল মধুসূদন দত্ত   (গ) রবীন্দ্রনাথ   (ঘ) ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর

উত্তর: (খ) মাইকেল মধুসূদন দত্ত

ব্যাখ্যা: অমিত্রাক্ষর ছন্দ, সনেট, মহাকাব্য ও ট্র্যাজেডি নাটক — বাংলা সাহিত্যে একসঙ্গে এতগুলো আধুনিক রূপের প্রবর্তক মধুসূদন; তাই তাঁকে আধুনিকতার প্রবর্তক বলা হয়।

৪৬তম বিসিএস

বাংলা সাহিত্যের প্রথম সার্থক উপন্যাস কোনটি?

(ক) আনন্দমঠ   (খ) দুর্গেশনন্দিনী   (গ) কপালকুণ্ডলা   (ঘ) বিষবৃক্ষ

উত্তর: (খ) দুর্গেশনন্দিনী

ব্যাখ্যা: বঙ্কিমচন্দ্রের "দুর্গেশনন্দিনী" (১৮৬৫) বাংলা সাহিত্যের প্রথম সার্থক উপন্যাস। "আলালের ঘরের দুলাল" প্রথম কথ্যরীতির উপন্যাস হলেও শিল্পসার্থকতায় দুর্গেশনন্দিনীই প্রথম।

৪০তম বিসিএস

রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর নোবেল পুরস্কার পান কোন গ্রন্থের জন্য?

(ক) গীতাঞ্জলি   (খ) সোনার তরী   (গ) চিত্রা   (ঘ) বলাকা

উত্তর: (ক) গীতাঞ্জলি

ব্যাখ্যা: ১৯১৩ সালে "গীতাঞ্জলি"-র ইংরেজি অনুবাদ (Song Offerings)-এর জন্য রবীন্দ্রনাথ সাহিত্যে নোবেল পান — প্রথম এশীয় নোবেলজয়ী।

৪৩তম বিসিএস

'অগ্নিবীণা' কাব্যগ্রন্থের রচয়িতা কে?

(ক) রবীন্দ্রনাথ   (খ) কাজী নজরুল ইসলাম   (গ) জীবনানন্দ দাশ   (ঘ) জসীমউদ্‌দীন

উত্তর: (খ) কাজী নজরুল ইসলাম

ব্যাখ্যা: "অগ্নিবীণা" (১৯২২) নজরুলের প্রথম কাব্যগ্রন্থ; এতে বিখ্যাত "বিদ্রোহী" ও "প্রলয়োল্লাস" কবিতা সংকলিত।

৪৫তম বিসিএস

অমিত্রাক্ষর ছন্দের প্রবর্তক কে?

(ক) রবীন্দ্রনাথ   (খ) মাইকেল মধুসূদন দত্ত   (গ) বঙ্কিমচন্দ্র   (ঘ) নজরুল

উত্তর: (খ) মাইকেল মধুসূদন দত্ত

ব্যাখ্যা: ইংরেজি blank verse-এর অনুকরণে মধুসূদন অমিত্রাক্ষর ছন্দ প্রবর্তন করেন; প্রথম প্রয়োগ "তিলোত্তমাসম্ভব কাব্যে", শ্রেষ্ঠ প্রয়োগ "মেঘনাদবধ কাব্যে"।

৪৭তম বিসিএস

'পল্লিকবি' কাকে বলা হয়?

(ক) জসীমউদ্‌দীন   (খ) নজরুল   (গ) জীবনানন্দ দাশ   (ঘ) রবীন্দ্রনাথ

উত্তর: (ক) জসীমউদ্‌দীন

ব্যাখ্যা: পল্লিজীবন ও লোকজ সুরকে কবিতায় তুলে ধরায় জসীমউদ্‌দীনকে "পল্লিকবি" বলা হয়; বিখ্যাত রচনা "নকশী কাঁথার মাঠ"।

৩৮তম বিসিএস

বাংলা গদ্যের জনক কে?

(ক) রামমোহন রায়   (খ) ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর   (গ) মধুসূদন   (ঘ) প্যারীচাঁদ মিত্র

উত্তর: (খ) ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর

ব্যাখ্যা: বাংলা গদ্যে যতিচিহ্ন ও শিল্পসৌন্দর্য যোগ করে একে পূর্ণাঙ্গ মাধ্যমে পরিণত করায় বিদ্যাসাগরকে "বাংলা গদ্যের জনক" বলা হয়।

৪১তম বিসিএস

'বিষাদ-সিন্ধু' গ্রন্থের রচয়িতা কে?

(ক) কায়কোবাদ   (খ) মীর মশাররফ হোসেন   (গ) ইসমাইল হোসেন সিরাজী   (ঘ) মোজাম্মেল হক

উত্তর: (খ) মীর মশাররফ হোসেন

ব্যাখ্যা: কারবালার বিয়োগান্ত ঘটনা অবলম্বনে "বিষাদ-সিন্ধু" রচনা করেন মীর মশাররফ হোসেন — মুসলিম সমাজের প্রথম সার্থক কথাসাহিত্যিক।

৩৭তম বিসিএস

'বঙ্গদর্শন' পত্রিকার সম্পাদক কে ছিলেন?

(ক) বঙ্কিমচন্দ্র   (খ) প্রমথ চৌধুরী   (গ) রবীন্দ্রনাথ   (ঘ) দীনবন্ধু মিত্র

উত্তর: (ক) বঙ্কিমচন্দ্র

ব্যাখ্যা: ১৮৭২ সালে বঙ্কিমচন্দ্র "বঙ্গদর্শন" প্রকাশ ও সম্পাদনা করেন; এটি বাংলা সাহিত্যে নবজাগরণ আনে।

৩৫তম বিসিএস

'নীলদর্পণ' নাটকের রচয়িতা কে?

(ক) মধুসূদন   (খ) দীনবন্ধু মিত্র   (গ) গিরিশচন্দ্র ঘোষ   (ঘ) দ্বিজেন্দ্রলাল রায়

উত্তর: (খ) দীনবন্ধু মিত্র

ব্যাখ্যা: নীলকরদের অত্যাচার নিয়ে দীনবন্ধু মিত্র "নীলদর্পণ" (১৮৬০) রচনা করেন; এর ইংরেজি অনুবাদ করেন মধুসূদন।

৩৬তম বিসিএস

'সবুজপত্র' পত্রিকার সম্পাদক ও চলিত গদ্যরীতির প্রবর্তক কে?

(ক) প্রমথ চৌধুরী   (খ) রবীন্দ্রনাথ   (গ) বঙ্কিমচন্দ্র   (ঘ) অক্ষয়কুমার দত্ত

উত্তর: (ক) প্রমথ চৌধুরী

ব্যাখ্যা: "বীরবল" ছদ্মনামের প্রমথ চৌধুরী ১৯১৪ সালে "সবুজপত্র" সম্পাদনা করেন এবং সাহিত্যে চলিত গদ্যরীতি প্রবর্তন করেন।

৪২তম বিসিএস

কাজী নজরুল ইসলামকে বাংলাদেশে জাতীয় কবির মর্যাদা দেওয়া হয় কেন?

(ক) নোবেল পাওয়ায়   (খ) বিদ্রোহী চেতনা ও অবদানের জন্য   (গ) সাংবাদিকতার জন্য   (ঘ) উপন্যাসের জন্য

উত্তর: (খ) বিদ্রোহী চেতনা ও অবদানের জন্য

ব্যাখ্যা: শোষণ ও অন্যায়ের বিরুদ্ধে বিদ্রোহী চেতনা এবং সাম্য-মানবতার আদর্শের জন্য ১৯৭২ সালে তাঁকে ঢাকায় এনে জাতীয় কবির মর্যাদা দেওয়া হয়।

অনুশীলনী (Practice)

নিচের প্রশ্নগুলো টপিক অনুসারে সাজানো; প্রতিটির সাথে সংক্ষিপ্ত ব্যাখ্যা দেওয়া আছে। ঢেকে রেখে নিজে উত্তর দিন, তারপর মিলিয়ে নিন।

যুগবিভাগ, গদ্য ও ফোর্ট উইলিয়াম

১. বাংলা সাহিত্যের আধুনিক যুগ শুরু কবে?

উত্তর ও ব্যাখ্যা: ১৮০১ খ্রিস্টাব্দ থেকে (ফোর্ট উইলিয়াম কলেজকে কেন্দ্র করে গদ্যচর্চা শুরু)।

২. ফোর্ট উইলিয়াম কলেজ কে প্রতিষ্ঠা করেন?

উত্তর ও ব্যাখ্যা: লর্ড ওয়েলেসলি (১৮০০)।

৩. ফোর্ট উইলিয়াম কলেজের বাংলা বিভাগের প্রধান কে ছিলেন?

উত্তর ও ব্যাখ্যা: উইলিয়াম কেরি।

৪. কোনো বাঙালির লেখা প্রথম মুদ্রিত গদ্যগ্রন্থ কোনটি?

উত্তর ও ব্যাখ্যা: প্রতাপাদিত্য চরিত্র (রামরাম বসু, ১৮০১)।

৫. বাংলা গদ্যের জনক কে?

উত্তর ও ব্যাখ্যা: ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর।

৬. বিদ্যাসাগরের প্রথম মৌলিক গদ্যগ্রন্থ কোনটি?

উত্তর ও ব্যাখ্যা: বেতাল পঞ্চবিংশতি (১৮৪৭)।

৭. "টেকচাঁদ ঠাকুর" কার ছদ্মনাম?

উত্তর ও ব্যাখ্যা: প্যারীচাঁদ মিত্র।

৮. "হুতোম প্যাঁচার নকশা" কার রচনা?

উত্তর ও ব্যাখ্যা: কালীপ্রসন্ন সিংহ (ছদ্মনাম হুতোম প্যাঁচা)।

৯. ব্রাহ্মসমাজের প্রতিষ্ঠাতা কে?

উত্তর ও ব্যাখ্যা: রাজা রামমোহন রায় (১৮২৮)।

১০. "বর্ণপরিচয়" গ্রন্থের রচয়িতা কে?

উত্তর ও ব্যাখ্যা: ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর।

সাময়িকপত্র

১১. প্রথম বাংলা সাময়িকপত্র কোনটি?

উত্তর ও ব্যাখ্যা: দিগ্‌দর্শন (১৮১৮)।

১২. প্রথম বাংলা সংবাদপত্র কোনটি?

উত্তর ও ব্যাখ্যা: সমাচার দর্পণ (১৮১৮)।

১৩. প্রথম বাংলা দৈনিক পত্রিকা কোনটি?

উত্তর ও ব্যাখ্যা: সংবাদ প্রভাকর (ঈশ্বরচন্দ্র গুপ্ত)।

১৪. "বঙ্গদর্শন" পত্রিকার সম্পাদক কে?

উত্তর ও ব্যাখ্যা: বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায় (১৮৭২)।

১৫. "সবুজপত্র" পত্রিকার সম্পাদক কে?

উত্তর ও ব্যাখ্যা: প্রমথ চৌধুরী (১৯১৪)।

১৬. "ধূমকেতু" পত্রিকার সম্পাদক কে?

উত্তর ও ব্যাখ্যা: কাজী নজরুল ইসলাম।

১৭. বাঙালি পরিচালিত প্রথম সংবাদপত্র কোনটি?

উত্তর ও ব্যাখ্যা: বেঙ্গল গেজেট (গঙ্গাকিশোর ভট্টাচার্য)।

কবিতা, নাটক ও মধুসূদন

১৮. বাংলা সাহিত্যে আধুনিকতার প্রবর্তক কে?

উত্তর ও ব্যাখ্যা: মাইকেল মধুসূদন দত্ত।

১৯. অমিত্রাক্ষর ছন্দের প্রবর্তক কে?

উত্তর ও ব্যাখ্যা: মাইকেল মধুসূদন দত্ত।

২০. অমিত্রাক্ষর ছন্দে লেখা প্রথম কাব্য কোনটি?

উত্তর ও ব্যাখ্যা: তিলোত্তমাসম্ভব কাব্য (১৮৬০)।

২১. বাংলা সনেটের প্রবর্তক কে?

উত্তর ও ব্যাখ্যা: মাইকেল মধুসূদন দত্ত।

২২. "মেঘনাদবধ কাব্য" কোন ধরনের রচনা?

উত্তর ও ব্যাখ্যা: মহাকাব্য (৯ সর্গ, অমিত্রাক্ষর ছন্দে)।

২৩. "বীরাঙ্গনা কাব্য" কোন ধরনের কাব্য?

উত্তর ও ব্যাখ্যা: পত্রকাব্য (মধুসূদন)।

২৪. প্রথম সার্থক ট্র্যাজেডি নাটক কোনটি?

উত্তর ও ব্যাখ্যা: কৃষ্ণকুমারী (মধুসূদন)।

২৫. প্রথম বাংলা প্রহসন কোনটি?

উত্তর ও ব্যাখ্যা: একেই কি বলে সভ্যতা (মধুসূদন)।

২৬. "নীলদর্পণ" নাটকের রচয়িতা কে?

উত্তর ও ব্যাখ্যা: দীনবন্ধু মিত্র (১৮৬০)।

২৭. "নাট্যসম্রাট" কাকে বলা হয়?

উত্তর ও ব্যাখ্যা: গিরিশচন্দ্র ঘোষ।

২৮. "যুগসন্ধিক্ষণের কবি" কে?

উত্তর ও ব্যাখ্যা: ঈশ্বরচন্দ্র গুপ্ত।

২৯. "ভোরের পাখি" কাকে বলা হয়?

উত্তর ও ব্যাখ্যা: বিহারীলাল চক্রবর্তী।

উপন্যাস ও বঙ্কিমচন্দ্র

৩০. বাংলা সাহিত্যের প্রথম সার্থক উপন্যাস কোনটি?

উত্তর ও ব্যাখ্যা: দুর্গেশনন্দিনী (বঙ্কিম, ১৮৬৫)।

৩১. "সাহিত্যসম্রাট" কাকে বলা হয়?

উত্তর ও ব্যাখ্যা: বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়।

৩২. "বন্দে মাতরম্" গানটি কোন উপন্যাসের অন্তর্গত?

উত্তর ও ব্যাখ্যা: আনন্দমঠ (বঙ্কিম)।

৩৩. বঙ্কিমচন্দ্রের ইংরেজিতে লেখা উপন্যাস কোনটি?

উত্তর ও ব্যাখ্যা: Rajmohan's Wife।

৩৪. প্রথম কথ্যরীতির (চলিত) উপন্যাস কোনটি?

উত্তর ও ব্যাখ্যা: আলালের ঘরের দুলাল (প্যারীচাঁদ মিত্র)।

৩৫. বাংলা ছোটগল্পের জনক কে?

উত্তর ও ব্যাখ্যা: রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর।

রবীন্দ্রনাথ, নজরুল ও অন্যান্য

৩৬. রবীন্দ্রনাথ নোবেল পান কবে ও কোন গ্রন্থের জন্য?

উত্তর ও ব্যাখ্যা: ১৯১৩, গীতাঞ্জলি।

৩৭. রবীন্দ্রনাথের ছদ্মনাম কী?

উত্তর ও ব্যাখ্যা: ভানুসিংহ ঠাকুর।

৩৮. বাংলাদেশের জাতীয় সংগীতের রচয়িতা কে?

উত্তর ও ব্যাখ্যা: রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর ("আমার সোনার বাংলা")।

৩৯. নজরুলের প্রথম কাব্যগ্রন্থ কোনটি?

উত্তর ও ব্যাখ্যা: অগ্নিবীণা (১৯২২)।

৪০. "বিদ্রোহী কবি" কাকে বলা হয়?

উত্তর ও ব্যাখ্যা: কাজী নজরুল ইসলাম।

৪১. "অপরাজেয় কথাশিল্পী" কে?

উত্তর ও ব্যাখ্যা: শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়।

৪২. "রূপসী বাংলার কবি" কে?

উত্তর ও ব্যাখ্যা: জীবনানন্দ দাশ।

৪৩. তিরিশের "পঞ্চপাণ্ডব" কারা?

উত্তর ও ব্যাখ্যা: জীবনানন্দ, বুদ্ধদেব বসু, অমিয় চক্রবর্তী, সুধীন্দ্রনাথ দত্ত ও বিষ্ণু দে।

৪৪. "বিষাদ-সিন্ধু" গ্রন্থের রচয়িতা কে?

উত্তর ও ব্যাখ্যা: মীর মশাররফ হোসেন।

৪৫. "সুলতানার স্বপ্ন" গ্রন্থের রচয়িতা কে?

উত্তর ও ব্যাখ্যা: বেগম রোকেয়া।

৪৬. "সব্যসাচী লেখক" কাকে বলা হয়?

উত্তর ও ব্যাখ্যা: সৈয়দ শামসুল হক।

৪৭. "লালসালু" উপন্যাসের রচয়িতা কে?

উত্তর ও ব্যাখ্যা: সৈয়দ ওয়ালীউল্লাহ।

৪৮. "মুসলিম রেনেসাঁর কবি" কে?

উত্তর ও ব্যাখ্যা: ফররুখ আহমদ।

অতিরিক্ত অনুশীলন

৪৯. আধুনিক যুগের সূচনা কবে?

উত্তর ও ব্যাখ্যা: ১৮০০ খ্রি.।

৫০. ফোর্ট উইলিয়াম কলেজ কবে প্রতিষ্ঠিত?

উত্তর ও ব্যাখ্যা: ১৮০০।

৫১. ফোর্ট উইলিয়াম কলেজ কোথায়?

উত্তর ও ব্যাখ্যা: কলকাতা।

৫২. বাংলা গদ্য বিকাশে কোন প্রতিষ্ঠান গুরুত্বপূর্ণ?

উত্তর ও ব্যাখ্যা: ফোর্ট উইলিয়াম কলেজ।

৫৩. বাংলা সাহিত্যের প্রথম সার্থক উপন্যাস কী?

উত্তর ও ব্যাখ্যা: দুর্গেশনন্দিনী।

৫৪. দুর্গেশনন্দিনী কার রচনা?

উত্তর ও ব্যাখ্যা: বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়।

৫৫. কবে প্রকাশিত হয়?

উত্তর ও ব্যাখ্যা: ১৮৬৫।

৫৬. বাংলা সাহিত্যের প্রথম উপন্যাস (আখ্যানধর্মী) কী?

উত্তর ও ব্যাখ্যা: আলালের ঘরের দুলাল।

৫৭. আলালের ঘরের দুলাল কার রচনা?

উত্তর ও ব্যাখ্যা: প্যারীচাঁদ মিত্র।

৫৮. ‘মেঘনাদবধ কাব্য’ কার রচনা?

উত্তর ও ব্যাখ্যা: মাইকেল মধুসূদন দত্ত।

৫৯. অমিত্রাক্ষর ছন্দের প্রবর্তক কে?

উত্তর ও ব্যাখ্যা: মাইকেল মধুসূদন দত্ত।

৬০. বাংলা সাহিত্যের প্রথম মহাকাব্য কী?

উত্তর ও ব্যাখ্যা: মেঘনাদবধ কাব্য।

৬১. বাংলা সনেটের প্রবর্তক কে?

উত্তর ও ব্যাখ্যা: মাইকেল মধুসূদন দত্ত।

৬২. রবীন্দ্রনাথ নোবেল পান কবে?

উত্তর ও ব্যাখ্যা: ১৯১৩।

৬৩. কোন গ্রন্থের জন্য নোবেল পান?

উত্তর ও ব্যাখ্যা: গীতাঞ্জলি।

৬৪. রবীন্দ্রনাথ প্রথম এশীয় নোবেলজয়ী কি?

উত্তর ও ব্যাখ্যা: হ্যাঁ।

৬৫. ‘বিদ্রোহী কবি’ কে?

উত্তর ও ব্যাখ্যা: কাজী নজরুল ইসলাম।

৬৬. নজরুলের বিখ্যাত কবিতা কী?

উত্তর ও ব্যাখ্যা: বিদ্রোহী।

৬৭. ‘বিদ্রোহী’ কবিতা কবে প্রকাশিত?

উত্তর ও ব্যাখ্যা: ১৯২২।

৬৮. বাংলা গদ্যের জনক কে?

উত্তর ও ব্যাখ্যা: ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর।

৬৯. বিদ্যাসাগরের বই কোনটি?

উত্তর ও ব্যাখ্যা: বর্ণপরিচয়।

৭০. ‘বেতাল পঞ্চবিংশতি’ কার রচনা?

উত্তর ও ব্যাখ্যা: বিদ্যাসাগর।

৭১. বঙ্কিমের সাময়িকপত্র কোনটি?

উত্তর ও ব্যাখ্যা: বঙ্গদর্শন।

৭২. ‘বন্দে মাতরম’ কোন উপন্যাসে?

উত্তর ও ব্যাখ্যা: আনন্দমঠ।

৭৩. আনন্দমঠ কার রচনা?

উত্তর ও ব্যাখ্যা: বঙ্কিমচন্দ্র।

৭৪. বাংলা সাহিত্যে ‘সাহিত্যসম্রাট’ কে?

উত্তর ও ব্যাখ্যা: বঙ্কিমচন্দ্র।

৭৫. রবীন্দ্রনাথের প্রথম কাব্যগ্রন্থ কী?

উত্তর ও ব্যাখ্যা: কবি-কাহিনী।

৭৬. ‘সোনার তরী’ কার কাব্য?

উত্তর ও ব্যাখ্যা: রবীন্দ্রনাথ।

৭৭. ‘অগ্নিবীণা’ কার কাব্য?

উত্তর ও ব্যাখ্যা: নজরুল।

৭৮. ‘বিষের বাঁশি’ কার রচনা?

উত্তর ও ব্যাখ্যা: নজরুল।

৭৯. প্রথম সাময়িকপত্র কোনটি?

উত্তর ও ব্যাখ্যা: দিগ্‌দর্শন।

৮০. ‘সমাচার দর্পণ’ কে প্রকাশ করেন?

উত্তর ও ব্যাখ্যা: শ্রীরামপুর মিশন।

৮১. প্রথম বাংলা সংবাদপত্র কোনটি?

উত্তর ও ব্যাখ্যা: সমাচার দর্পণ।

৮২. ‘তত্ত্ববোধিনী পত্রিকা’ কার সম্পাদনায়?

উত্তর ও ব্যাখ্যা: অক্ষয়কুমার দত্ত।

৮৩. বাংলা নাটকের জনক কে?

উত্তর ও ব্যাখ্যা: দীনবন্ধু মিত্র (মতান্তরে মধুসূদন)।

৮৪. ‘নীলদর্পণ’ কার রচনা?

উত্তর ও ব্যাখ্যা: দীনবন্ধু মিত্র।

৮৫. বাংলা সাহিত্যের প্রথম ট্র্যাজেডি নাটক কী?

উত্তর ও ব্যাখ্যা: কৃষ্ণকুমারী।

৮৬. কৃষ্ণকুমারী কার রচনা?

উত্তর ও ব্যাখ্যা: মাইকেল মধুসূদন দত্ত।

৮৭. বাংলা সাহিত্যের প্রথম প্রহসন কার?

উত্তর ও ব্যাখ্যা: মাইকেল মধুসূদন দত্ত।

৮৮. ‘পথের পাঁচালী’ কার রচনা?

উত্তর ও ব্যাখ্যা: বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়।

৮৯. ‘গৃহদাহ’ কার রচনা?

উত্তর ও ব্যাখ্যা: শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়।

৯০. ‘দেবদাস’ কার রচনা?

উত্তর ও ব্যাখ্যা: শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়।

৯১. ‘অপরাজিত’ কার রচনা?

উত্তর ও ব্যাখ্যা: বিভূতিভূষণ।

৯২. বাংলা ছোটগল্পের জনক কে?

উত্তর ও ব্যাখ্যা: রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর।

৯৩. রবীন্দ্রনাথের জন্মসাল কী?

উত্তর ও ব্যাখ্যা: ১৮৬১।

৯৪. নজরুলের জন্মসাল কী?

উত্তর ও ব্যাখ্যা: ১৮৯৯।

৯৫. বাংলাদেশের জাতীয় কবি কে?

উত্তর ও ব্যাখ্যা: কাজী নজরুল ইসলাম।

৯৬. ‘চতুরঙ্গ’ কার উপন্যাস?

উত্তর ও ব্যাখ্যা: রবীন্দ্রনাথ।

৯৭. ‘শেষের কবিতা’ কার রচনা?

উত্তর ও ব্যাখ্যা: রবীন্দ্রনাথ।

৯৮. বাংলা সাহিত্যে ‘কল্লোল যুগ’ কী?

উত্তর ও ব্যাখ্যা: ১৯২০-এর আধুনিক ধারা।

৯৯. ‘জীবনানন্দ দাশ’ কোন কবি?

উত্তর ও ব্যাখ্যা: প্রকৃতি/রূপসী বাংলার কবি।

১০০. ‘বনলতা সেন’ কার কবিতা?

উত্তর ও ব্যাখ্যা: জীবনানন্দ দাশ।