ভৌত বিজ্ঞান (পদার্থ ও রসায়ন)

ভৌত বিজ্ঞান হলো জড় প্রকৃতির বিজ্ঞান — পদার্থ কী দিয়ে গঠিত, কীভাবে আচরণ করে, এবং শক্তি কীভাবে এক রূপ থেকে অন্য রূপে যায় তা এখানে আলোচিত হয়। এটি প্রধানত দুই ভাগে বিভক্ত: রসায়ন (পদার্থের গঠন ও বিক্রিয়া) এবং পদার্থবিজ্ঞান (বল, শক্তি, তাপ, আলো, শব্দ, তড়িৎ ইত্যাদি)।

বিসিএস প্রিলিমিনারিতে সাধারণ বিজ্ঞান অংশে ভৌত বিজ্ঞান থেকে সবচেয়ে বেশি প্রশ্ন আসে। এখানে মুখস্থনির্ভর তথ্য (একক, সংকেত, বিজ্ঞানী) যেমন থাকে, তেমনি ধারণাগত প্রশ্নও (কেন আকাশ নীল, কেন শব্দ শূন্যে চলে না) আসে। তাই তথ্যের পাশাপাশি ব্যাখ্যা বোঝা জরুরি।

এই অধ্যায়ে পদার্থের অবস্থা, পরমাণুর গঠন, পর্যায় সারণি, রাসায়নিক বন্ধন, এসিড-ক্ষার-লবণ, জারণ-বিজারণ, ধাতু ও কার্বন, পরিমাপ, বল ও গতি, তাপ, তরঙ্গ ও শব্দ, আলো, তড়িৎ, চৌম্বকত্ব, আধুনিক পদার্থবিজ্ঞান ও শক্তির উৎস — প্রতিটি বিষয় বিস্তারিতভাবে সাজানো হয়েছে।

প্রস্তুতির দিকনির্দেশনা

বিভাগগুরুত্বপূর্ণ বিষয়প্রশ্নের ধরন
রসায়নমৌল, যৌগ, এসিড-ক্ষার, ধাতুসংকেত, বিক্রিয়া, ব্যবহার
বলবিদ্যাবল, গতি, নিউটনের সূত্রসংজ্ঞা ও প্রয়োগ
তাপতাপমাত্রা, তাপ সঞ্চালনএকক ও রূপান্তর
আলো ও শব্দপ্রতিফলন, প্রতিসরণ, তরঙ্গধারণাগত ব্যাখ্যা
তড়িৎবিভব, রোধ, ক্ষমতাএকক ও সূত্র
আধুনিকতেজস্ক্রিয়তা, নিউক্লিয়ার শক্তিতথ্য ও ব্যবহার

দ্রুত-স্মরণ কৌশল: এককগুলোকে বিষয়ভিত্তিকভাবে গুছিয়ে মনে রাখুন — বল (নিউটন), শক্তি (জুল), ক্ষমতা (ওয়াট), তড়িৎ প্রবাহ (অ্যাম্পিয়ার), বিভব (ভোল্ট), রোধ (ওহম), কম্পাঙ্ক (হার্জ)। আর গুরুত্বপূর্ণ ধ্রুবক: আলোর বেগ ৩×১০⁸ m/s, শব্দের বেগ বাতাসে ~৩৪০ m/s, g = ৯.৮ m/s²।

পদার্থের অবস্থা (States of Matter)

যা স্থান দখল করে ও যার ভর আছে, তাকে পদার্থ বলে। অণু-পরমাণুর বিন্যাস ও তাদের মধ্যকার আকর্ষণ বলের ওপর ভিত্তি করে পদার্থ প্রধানত তিন অবস্থায় থাকে — কঠিন, তরল ও বায়বীয়। এছাড়া প্লাজমা ও বোস-আইনস্টাইন কনডেনসেটকে চতুর্থ ও পঞ্চম অবস্থা ধরা হয়।

তাপ প্রয়োগ বা অপসারণে পদার্থ এক অবস্থা থেকে অন্য অবস্থায় যায়। কঠিন→তরল হওয়া গলন, তরল→বায়বীয় হওয়া বাষ্পীভবন, বায়বীয়→তরল হওয়া ঘনীভবন এবং কঠিন→সরাসরি বায়বীয় হওয়াকে ঊর্ধ্বপাতন (sublimation) বলে। কর্পূর, ন্যাপথলিন ও শুষ্ক বরফ ঊর্ধ্বপাতিত হয়।

অবস্থাআকার ও আয়তনঅণুর বিন্যাস
কঠিননির্দিষ্ট আকার ও আয়তনঘনসন্নিবিষ্ট, কম্পনশীল
তরলআয়তন নির্দিষ্ট, আকার পাত্রনির্ভরকিছুটা মুক্ত
বায়বীয়আকার-আয়তন কোনোটিই নির্দিষ্ট নয়অত্যন্ত মুক্ত ও দ্রুতগতি
প্লাজমাআয়নিত গ্যাসঅতি উচ্চ তাপে, তারা/বজ্রে

মনে রাখুন: পানির তিন অবস্থা — বরফ (কঠিন), পানি (তরল), জলীয়বাষ্প (বায়বীয়)। পানির হিমাঙ্ক ০°C, স্ফুটনাঙ্ক ১০০°C (১ বায়ুচাপে)। শুষ্ক বরফ আসলে কঠিন কার্বন ডাই-অক্সাইড, যা গলে না — সরাসরি গ্যাসে পরিণত হয়।

গুরুত্বপূর্ণ তথ্য

  • সাধারণ তাপমাত্রায় একমাত্র তরল ধাতু পারদ; একমাত্র তরল অধাতু ব্রোমিন।
  • পানির ঘনত্ব ৪°C-এ সর্বোচ্চ; তাই বরফ পানির ওপর ভাসে।
  • চাপ বাড়ালে স্ফুটনাঙ্ক বাড়ে (প্রেশার কুকারের নীতি)।

পরমাণুর গঠন ও মৌলিক কণা

মৌলের ক্ষুদ্রতম কণা, যা রাসায়নিক বিক্রিয়ায় অংশ নেয়, তাকে পরমাণু বলে। পরমাণুর কেন্দ্রে থাকে নিউক্লিয়াস, যেখানে ধনাত্মক প্রোটন ও চার্জহীন নিউট্রন থাকে; আর নিউক্লিয়াসের চারপাশে বিভিন্ন কক্ষপথে ঘোরে ঋণাত্মক ইলেকট্রন।

পরমাণুর প্রোটন সংখ্যাই পারমাণবিক সংখ্যা (Z), আর প্রোটন ও নিউট্রনের সমষ্টি ভরসংখ্যা (A)। একই মৌলের ভিন্ন ভরসংখ্যার পরমাণুকে আইসোটোপ বলে (যেমন কার্বন-১২ ও কার্বন-১৪)।

কণাচার্জআপেক্ষিক ভরআবিষ্কারক
প্রোটন+১১রাদারফোর্ড
নিউট্রন০১চ্যাডউইক
ইলেকট্রন−১১/১৮৩৭ (নগণ্য)জে জে থমসন

মূল ধারণা: পরমাণু সাধারণত চার্জ-নিরপেক্ষ (প্রোটন = ইলেকট্রন)। ইলেকট্রন হারালে ধনাত্মক আয়ন (ক্যাটায়ন), গ্রহণ করলে ঋণাত্মক আয়ন (অ্যানায়ন) হয়। সর্বশেষ কক্ষপথের ইলেকট্রনই যোজ্যতা (valency) নির্ধারণ করে ও রাসায়নিক ধর্মের জন্য দায়ী।

দরকারি তথ্য

  • কার্বনের পারমাণবিক সংখ্যা ৬, ভরসংখ্যা ১২।
  • তেজস্ক্রিয়তা নিউক্লিয়াসের একটি ধর্ম, ইলেকট্রনের নয়।
  • আইসোটোপের রাসায়নিক ধর্ম একই, কিন্তু ভর ভিন্ন।

পর্যায় সারণি ও মৌলসমূহ

মৌলগুলোকে তাদের পারমাণবিক সংখ্যা অনুসারে সাজিয়ে যে ছক তৈরি হয়, তাকে পর্যায় সারণি (Periodic Table) বলে। আধুনিক পর্যায় সারণিতে সাতটি পর্যায় (আনুভূমিক সারি) ও আঠারোটি গ্রুপ (উল্লম্ব কলাম) আছে। মেন্ডেলিফকে পর্যায় সারণির জনক বলা হয়।

একই গ্রুপের মৌলের রাসায়নিক ধর্ম প্রায় একই, কারণ তাদের সর্বশেষ কক্ষপথে সমান সংখ্যক ইলেকট্রন থাকে। বাম দিকে ধাতু, ডান দিকে অধাতু এবং মাঝে ধাতুকল্প (metalloid) অবস্থান করে।

শ্রেণিউদাহরণবৈশিষ্ট্য
ক্ষার ধাতুসোডিয়াম, পটাশিয়ামঅতি সক্রিয়, পানির সাথে বিক্রিয়া
নিষ্ক্রিয় গ্যাসহিলিয়াম, নিয়ন, আর্গনবিক্রিয়া করে না
হ্যালোজেনফ্লোরিন, ক্লোরিনঅধাতু, সক্রিয়
অবস্থান্তর ধাতুলোহা, তামা, দস্তাপরিবাহী, রঙিন যৌগ

মনে রাখুন: সবচেয়ে হালকা মৌল হাইড্রোজেন; সবচেয়ে হালকা ধাতু লিথিয়াম; সবচেয়ে ভারী প্রাকৃতিক মৌল ইউরেনিয়াম। বর্তমানে জ্ঞাত মৌল ১১৮টি, যার মধ্যে প্রায় ৯২টি প্রাকৃতিক।

রাসায়নিক বন্ধন ও যৌগ

স্থিতিশীল ইলেকট্রন বিন্যাস অর্জনের জন্য পরমাণুগুলো পরস্পরের সাথে যুক্ত হয়ে যৌগ গঠন করে; এই যুক্ত হওয়ার শক্তিই রাসায়নিক বন্ধন। ইলেকট্রন আদান-প্রদানে আয়নিক বন্ধন (যেমন NaCl) এবং ইলেকট্রন ভাগাভাগিতে সমযোজী বন্ধন (যেমন H₂O, CO₂) গঠিত হয়।

দুই বা ততোধিক ভিন্ন মৌল নির্দিষ্ট অনুপাতে যুক্ত হয়ে যৌগ তৈরি করে, যার ধর্ম উপাদান মৌল থেকে সম্পূর্ণ ভিন্ন। যেমন সোডিয়াম (বিস্ফোরক ধাতু) ও ক্লোরিন (বিষাক্ত গ্যাস) মিলে তৈরি হয় নিরাপদ খাদ্যলবণ।

যৌগসংকেতপ্রচলিত নাম
সোডিয়াম ক্লোরাইডNaClখাবার লবণ
ক্যালসিয়াম কার্বনেটCaCO₃চুনাপাথর/মার্বেল
সোডিয়াম বাই-কার্বনেটNaHCO₃বেকিং সোডা
ক্যালসিয়াম অক্সাইডCaOকলিচুন
মিথেনCH₄প্রাকৃতিক গ্যাস

সাধারণ যৌগের ব্যবহার

  • চুনাপাথর (CaCO₃) — সিমেন্ট ও কাচ তৈরিতে।
  • বেকিং সোডা — রুটি ফোলাতে ও অগ্নিনির্বাপকে।
  • ব্লিচিং পাউডার — জীবাণুনাশক ও রঞ্জনমুক্তকরণে।

এসিড, ক্ষার ও লবণ

যে যৌগ জলীয় দ্রবণে হাইড্রোজেন আয়ন (H⁺) দেয় তা এসিড, আর যে হাইড্রক্সিল আয়ন (OH⁻) দেয় তা ক্ষার (ক্ষারক)। এসিড স্বাদে টক, নীল লিটমাসকে লাল করে; ক্ষার স্বাদে কটু ও পিচ্ছিল, লাল লিটমাসকে নীল করে। এসিড ও ক্ষার বিক্রিয়ায় লবণ ও পানি উৎপন্ন হয় — একে প্রশমন বিক্রিয়া বলে।

দ্রবণের অম্লত্ব বা ক্ষারত্ব pH স্কেলে (০–১৪) মাপা হয়। pH ৭ নিরপেক্ষ (বিশুদ্ধ পানি), ৭-এর কম অম্লীয়, ৭-এর বেশি ক্ষারীয়।

পদার্থউপস্থিত এসিড/ক্ষার
লেবু, কমলাসাইট্রিক এসিড
ভিনেগারঅ্যাসিটিক এসিড
টক দইল্যাকটিক এসিড
পিঁপড়ার হুলফরমিক এসিড
চুনক্যালসিয়াম হাইড্রক্সাইড (ক্ষার)

মনে রাখুন: গাঢ় সালফিউরিক এসিডকে "রাসায়নিক দ্রব্যের রাজা" বলা হয়। পাকস্থলীতে হজমের জন্য হাইড্রোক্লোরিক এসিড (HCl) থাকে। অ্যাকোয়া রেজিয়া (নাইট্রিক + হাইড্রোক্লোরিক এসিড ১:৩) সোনা গলাতে পারে।

ধাতু, অধাতু ও কার্বন

যেসব মৌল উজ্জ্বল, তাপ ও তড়িৎ পরিবাহী, আঘাতে প্রসারণশীল (আঘাত সহে পাত হয়) — সেগুলো ধাতু (লোহা, তামা, সোনা)। এর বিপরীত ধর্মের মৌল অধাতু (কার্বন, সালফার, অক্সিজেন)। ধাতুর মরিচা পড়া একটি ধীর জারণ প্রক্রিয়া, যার জন্য অক্সিজেন ও আর্দ্রতা দরকার।

কার্বন একটি ব্যতিক্রমী মৌল — এর বহুরূপতা (allotropy) আছে: হীরা (কঠিনতম প্রাকৃতিক পদার্থ), গ্রাফাইট (পরিবাহী, পিচ্ছিল) ও ফুলারিন সবই বিশুদ্ধ কার্বন। কার্বনভিত্তিক যৌগ নিয়ে জৈব রসায়ন গড়ে উঠেছে।

ধাতুবৈশিষ্ট্য/ব্যবহার
সোনানিষ্ক্রিয়, মরিচা পড়ে না, অলংকার
তামাশ্রেষ্ঠ পরিবাহী, বৈদ্যুতিক তার
লোহানির্মাণে; মরিচা পড়ে
অ্যালুমিনিয়ামহালকা, বিমান-পাত্রে
টাংস্টেনউচ্চ গলনাঙ্ক, বাল্বের ফিলামেন্ট

গুরুত্বপূর্ণ তথ্য

  • মরিচা রোধে লোহায় দস্তা প্রলেপ দেওয়াকে গ্যালভানাইজিং বলে।
  • স্টিল/ইস্পাত হলো লোহা ও কার্বনের সংকর ধাতু।
  • হীরা ও গ্রাফাইট — একই মৌল কার্বনের রূপভেদ, তবু ধর্ম বিপরীত (গঠনের পার্থক্যে)।

ভৌত রাশি, একক ও পরিমাপ

যা পরিমাপ করা যায় তাকে ভৌত রাশি বলে। যেসব রাশি অন্য কোনো রাশির ওপর নির্ভর করে না, সেগুলো মৌলিক রাশি (দৈর্ঘ্য, ভর, সময় ইত্যাদি ৭টি); আর মৌলিক রাশির সমন্বয়ে গঠিত রাশি লব্ধ রাশি (বেগ, বল, ক্ষেত্রফল)। আন্তর্জাতিকভাবে গৃহীত একক পদ্ধতিই SI একক।

রাশিSI এককরাশিSI একক
দৈর্ঘ্যমিটারবলনিউটন
ভরকিলোগ্রামশক্তিজুল
সময়সেকেন্ডক্ষমতাওয়াট
তাপমাত্রাকেলভিনকম্পাঙ্কহার্জ
তড়িৎ প্রবাহঅ্যাম্পিয়ারচাপপ্যাসকেল

মাপার যন্ত্র: তাপমাত্রা — থার্মোমিটার; বায়ুচাপ — ব্যারোমিটার; আর্দ্রতা — হাইগ্রোমিটার; ভূমিকম্প — সিসমোগ্রাফ; উচ্চতা — অল্টিমিটার; রক্তচাপ — স্ফিগমোম্যানোমিটার।

বল ও গতি

যা স্থির বস্তুকে গতিশীল করে, গতিশীল বস্তুকে থামায় বা গতির দিক পরিবর্তন করে, তাকে বল বলে। বল ও গতি সম্পর্কে নিউটনের তিনটি সূত্র আধুনিক বলবিদ্যার ভিত্তি।

নিউটনের প্রথম সূত্র (জড়তার সূত্র): বাইরের বল না দিলে স্থির বস্তু স্থির ও গতিশীল বস্তু সমবেগে চলতে থাকে। দ্বিতীয় সূত্র: বল = ভর × ত্বরণ (F = ma)। তৃতীয় সূত্র: প্রতিটি ক্রিয়ার সমান ও বিপরীত প্রতিক্রিয়া আছে।

রাশিসংজ্ঞা
দ্রুতিএকক সময়ে অতিক্রান্ত দূরত্ব
বেগনির্দিষ্ট দিকে দ্রুতি
ত্বরণবেগের পরিবর্তনের হার
ভরবেগভর × বেগ
অভিকর্ষজ ত্বরণ (g)৯.৮ m/s²

মনে রাখুন: বাসের হঠাৎ থামায় সামনে ঝুঁকে পড়া জড়তার উদাহরণ (প্রথম সূত্র)। রকেট সামনে এগোয় গ্যাস পেছনে ছুঁড়ে (তৃতীয় সূত্র)। ভর সর্বত্র একই, কিন্তু ওজন = ভর × g, তাই চাঁদে ওজন কম।

তাপ ও তাপগতিবিদ্যা

তাপ একধরনের শক্তি যা উষ্ণতর বস্তু থেকে শীতলতর বস্তুর দিকে প্রবাহিত হয়। তাপমাত্রা হলো বস্তুর উষ্ণতার পরিমাপ। তাপ তিন উপায়ে সঞ্চালিত হয় — পরিবহন (কঠিনে), পরিচলন (তরল-গ্যাসে) ও বিকিরণ (মাধ্যম ছাড়াই, যেমন সূর্যের তাপ)।

স্কেলহিমাঙ্কস্ফুটনাঙ্ক
সেলসিয়াস০°C১০০°C
ফারেনহাইট৩২°F২১২°F
কেলভিন২৭৩ K৩৭৩ K

রূপান্তর সূত্র: F = (৯/৫)C + ৩২; K = C + ২৭৩। মানবদেহের স্বাভাবিক তাপমাত্রা ৩৭°C = ৯৮.৪°F। কালো রঙ তাপ সবচেয়ে বেশি শোষণ ও বিকিরণ করে; সাদা প্রতিফলিত করে।

তরঙ্গ ও শব্দ

শক্তি স্থানান্তরের যে প্রক্রিয়ায় মাধ্যমের কণা কেবল কম্পিত হয় কিন্তু স্থান পরিবর্তন করে না, তাকে তরঙ্গ বলে। শব্দ একটি অনুদৈর্ঘ্য যান্ত্রিক তরঙ্গ — এর সঞ্চালনের জন্য মাধ্যম দরকার, তাই শূন্যস্থানে শব্দ চলে না।

শব্দের বেগ কঠিন মাধ্যমে সবচেয়ে বেশি, বায়বীয়তে সবচেয়ে কম (কঠিন > তরল > বায়বীয়)। শব্দের তীক্ষ্ণতা (pitch) কম্পাঙ্কের ওপর এবং প্রাবল্য (loudness) বিস্তারের ওপর নির্ভর করে।

রাশিব্যাখ্যা
কম্পাঙ্কপ্রতি সেকেন্ডে কম্পন সংখ্যা (হার্জ)
তরঙ্গদৈর্ঘ্যদুই পরপর শীর্ষের দূরত্ব
শব্দের বেগ (বাতাসে)প্রায় ৩৪০ m/s
শ্রাব্যতার সীমা২০ Hz – ২০,০০০ Hz

মনে রাখুন: ২০,০০০ Hz-এর বেশি কম্পাঙ্কের শব্দ শ্রবণাতীত (ultrasound) — সোনোগ্রাফি ও দূরত্ব মাপায় ব্যবহৃত। প্রতিধ্বনি শোনার জন্য উৎস ও প্রতিফলকের ন্যূনতম দূরত্ব প্রায় ১৬.৬ মিটার।

আলো ও আলোকবিজ্ঞান

আলো একটি তড়িৎ-চৌম্বক তরঙ্গ, যার জন্য মাধ্যম লাগে না — তাই সূর্যের আলো শূন্য মহাকাশ পেরিয়ে পৃথিবীতে আসে। আলোর বেগ শূন্যস্থানে প্রায় ৩ লক্ষ কিলোমিটার/সেকেন্ড, যা প্রকৃতির দ্রুততম।

আলো এক মাধ্যম থেকে অন্য মাধ্যমে গেলে দিক পরিবর্তন করে — একে প্রতিসরণ বলে; আর মসৃণ তলে ফিরে আসাকে প্রতিফলন বলে। শ্বেত আলো প্রকৃতপক্ষে সাত রঙের মিশ্রণ, যা প্রিজমে বিশ্লিষ্ট হয় (বেনীআসহকলা)। রংধনু, মরীচিকা — সবই আলোর প্রতিসরণ/পূর্ণ অভ্যন্তরীণ প্রতিফলনের ফল।

ঘটনাকারণ
রংধনুবৃষ্টিকণায় প্রতিসরণ ও বিচ্ছুরণ
আকাশ নীলনীল আলোর বেশি বিক্ষেপণ
মরীচিকাপূর্ণ অভ্যন্তরীণ প্রতিফলন
তারার মিটমিটবায়ুস্তরে প্রতিসরণের তারতম্য

লেন্স ও চোখ: উত্তল লেন্স দূরদৃষ্টি এবং অবতল লেন্স ক্ষীণদৃষ্টি সংশোধনে ব্যবহৃত। চোখের রেটিনায় প্রতিবিম্ব গঠিত হয়। আলোর তিন মৌলিক রঙ লাল, সবুজ, নীল (RGB)।

স্থির ও চল তড়িৎ

পরিবাহীর মধ্য দিয়ে ইলেকট্রনের প্রবাহই তড়িৎ প্রবাহ। এর একক অ্যাম্পিয়ার। দুই বিন্দুর মধ্যে বিভব পার্থক্য (একক ভোল্ট) থাকলেই প্রবাহ চলে, আর প্রবাহে বাধাই রোধ (একক ওহম)।

ওহমের সূত্র অনুযায়ী V = IR (বিভব = প্রবাহ × রোধ)। তড়িৎ ক্ষমতা P = VI, একক ওয়াট। ঘরে ব্যবহৃত বিদ্যুৎ পরিবর্তী প্রবাহ (AC); ব্যাটারির বিদ্যুৎ একমুখী (DC)।

রাশিএককযন্ত্র
তড়িৎ প্রবাহঅ্যাম্পিয়ারঅ্যামিটার
বিভব পার্থক্যভোল্টভোল্টমিটার
রোধওহম—
ক্ষমতাওয়াটওয়াটমিটার

মনে রাখুন: ফিউজ তার অতিরিক্ত প্রবাহে গলে গিয়ে বর্তনী ও যন্ত্র রক্ষা করে। ১ কিলোওয়াট-ঘণ্টা (kWh) = ১ ইউনিট বিদ্যুৎ। বাসাবাড়িতে সংযোগ সাধারণত প্যারালাল/সমান্তরালে দেওয়া হয়।

চৌম্বকত্ব, আধুনিক পদার্থবিজ্ঞান ও তেজস্ক্রিয়তা

যে বস্তু লোহাকে আকর্ষণ করে ও স্বাধীনভাবে ঝুলিয়ে দিলে উত্তর-দক্ষিণে দাঁড়ায়, তা চুম্বক। চুম্বকের দুই মেরু — উত্তর ও দক্ষিণ; সমমেরু বিকর্ষণ, বিপরীত মেরু আকর্ষণ করে। তড়িৎ প্রবাহ চৌম্বকক্ষেত্র তৈরি করে (তড়িৎ-চুম্বক), আর চৌম্বকক্ষেত্রের পরিবর্তনে তড়িৎ তৈরি হয় (তড়িৎ আবেশ) — জেনারেটর ও ট্রান্সফরমার এই নীতিতে চলে।

তেজস্ক্রিয়তা হলো অস্থিতিশীল নিউক্লিয়াস থেকে স্বতঃস্ফূর্তভাবে আলফা, বিটা ও গামা রশ্মি নির্গমন। নিউক্লিয়াস ভেঙে শক্তি নির্গমনকে ফিশন (পারমাণবিক বোমা ও চুল্লি) এবং হালকা নিউক্লিয়াস জোড়া লাগাকে ফিউশন (সূর্যের শক্তি) বলে।

যন্ত্রশক্তি রূপান্তর
জেনারেটরযান্ত্রিক → বৈদ্যুতিক
বৈদ্যুতিক মোটরবৈদ্যুতিক → যান্ত্রিক
ট্রান্সফরমারএসি ভোল্টেজ বাড়ায়/কমায়
সৌরকোষআলোক → বৈদ্যুতিক

মনে রাখুন: এক্স-রে আবিষ্কার করেন রন্টজেন; তেজস্ক্রিয়তা আবিষ্কার করেন বেকরেল ও কুরি দম্পতি। পারমাণবিক চুল্লিতে বিক্রিয়া নিয়ন্ত্রণে ক্যাডমিয়াম/বোরন রড নিউট্রন শোষণ করে।

শক্তির উৎস, ব্যবহার ও রূপান্তর

কাজ করার সামর্থ্যই শক্তি। শক্তির নিত্যতা সূত্র অনুযায়ী শক্তি সৃষ্টি বা ধ্বংস হয় না, কেবল এক রূপ থেকে অন্য রূপে রূপান্তরিত হয়। শক্তির উৎস দুই প্রকার — নবায়নযোগ্য (সৌর, বায়ু, জলবিদ্যুৎ, জোয়ারভাটা) ও অনবায়নযোগ্য (কয়লা, তেল, গ্যাস, ইউরেনিয়াম)।

নবায়নযোগ্যঅনবায়নযোগ্য
সৌরশক্তিকয়লা
বায়ুশক্তিপেট্রোল/ডিজেল
জলবিদ্যুৎপ্রাকৃতিক গ্যাস
বায়োগ্যাসপারমাণবিক জ্বালানি

মনে রাখুন: জীবাশ্ম জ্বালানি (কয়লা, তেল, গ্যাস) অনবায়নযোগ্য ও পরিবেশদূষক। ভবিষ্যতের টেকসই সমাধান নবায়নযোগ্য শক্তি। বায়োগ্যাসের প্রধান উপাদান মিথেন।

দ্রুত-তথ্য ও পরিভাষা

পরীক্ষার আগে একনজরে গুরুত্বপূর্ণ তথ্য ও পরিভাষা:

বিষয়তথ্য
আলোর বেগ৩×১০⁸ m/s
শব্দের বেগ (বাতাসে)~৩৪০ m/s
পানির স্ফুটনাঙ্ক১০০°C
মানবদেহের তাপ৩৭°C / ৯৮.৪°F
সবচেয়ে হালকা মৌলহাইড্রোজেন
একমাত্র তরল ধাতুপারদ
শুষ্ক বরফকঠিন CO₂
g৯.৮ m/s²
বৈদ্যুতিক বাল্বের ফিলামেন্টটাংস্টেন
শ্রেষ্ঠ তড়িৎ পরিবাহীরূপা (ব্যবহারে তামা)

পরিভাষা (Glossary)

  • পরমাণু: মৌলের ক্ষুদ্রতম কণা যা বিক্রিয়ায় অংশ নেয়
  • আইসোটোপ: একই মৌলের ভিন্ন ভরসংখ্যার পরমাণু
  • যোজনী: কোনো মৌলের যুক্ত হওয়ার ক্ষমতা
  • প্রতিসরণ: এক মাধ্যম থেকে অন্য মাধ্যমে আলোর দিক পরিবর্তন
  • পরিবাহী: যে পদার্থ তড়িৎ/তাপ চলাচলে দেয়
  • অর্ধপরিবাহী: সিলিকন/জার্মেনিয়ামের মতো আংশিক পরিবাহী
  • তেজস্ক্রিয়তা: অস্থিতিশীল নিউক্লিয়াস থেকে বিকিরণ
  • জড়তা: গতির অবস্থা বজায় রাখার প্রবণতা

বিগত বিসিএসে আসা প্রশ্ন (সমাধানসহ)

পদার্থ ও রসায়ন থেকে আসা প্রতিনিধিত্বমূলক প্রশ্ন অপশনসহ সমাধান করা হলো।

৪৪তম বিসিএস

কোন রঙের আলোর তরঙ্গদৈর্ঘ্য সবচেয়ে বেশি?

(ক) বেগুনি (খ) লাল (গ) সবুজ (ঘ) নীল

উত্তর: (খ) লাল

ব্যাখ্যা: দৃশ্যমান আলোয় লাল আলোর তরঙ্গদৈর্ঘ্য সর্বাধিক।

৪৬তম বিসিএস

শব্দের তীক্ষ্ণতা কীসের ওপর নির্ভর করে?

(ক) বিস্তার (খ) কম্পাঙ্ক (গ) বেগ (ঘ) মাধ্যম

উত্তর: (খ) কম্পাঙ্ক

ব্যাখ্যা: তীক্ষ্ণতা (pitch) কম্পাঙ্কের ওপর নির্ভর করে।

৪০তম বিসিএস

কোনটি নবায়নযোগ্য শক্তির উৎস নয়?

(ক) সৌরশক্তি (খ) বায়ুশক্তি (গ) প্রাকৃতিক গ্যাস (ঘ) জলবিদ্যুৎ

উত্তর: (গ) প্রাকৃতিক গ্যাস

ব্যাখ্যা: প্রাকৃতিক গ্যাস জীবাশ্ম জ্বালানি — অনবায়নযোগ্য।

৩৮তম বিসিএস

পারমাণবিক চুল্লিতে নিয়ন্ত্রক রড হিসেবে ব্যবহৃত হয়—

(ক) ইউরেনিয়াম (খ) ক্যাডমিয়াম (গ) গ্রাফাইট (ঘ) প্লুটোনিয়াম

উত্তর: (খ) ক্যাডমিয়াম

ব্যাখ্যা: ক্যাডমিয়াম নিউট্রন শোষণ করে বিক্রিয়া নিয়ন্ত্রণ করে।

৪৩তম বিসিএস

সাধারণ লবণের রাসায়নিক নাম কী?

(ক) সোডিয়াম বাই কার্বনেট (খ) সোডিয়াম ক্লোরাইড (গ) ক্যালসিয়াম কার্বনেট (ঘ) পটাশিয়াম ক্লোরাইড

উত্তর: (খ) সোডিয়াম ক্লোরাইড

ব্যাখ্যা: খাবার লবণ = সোডিয়াম ক্লোরাইড (NaCl)।

৪৫তম বিসিএস

কোনটি অর্ধপরিবাহী পদার্থ?

(ক) তামা (খ) সিলিকন (গ) রূপা (ঘ) লোহা

উত্তর: (খ) সিলিকন

ব্যাখ্যা: সিলিকন অর্ধপরিবাহী; চিপ-ট্রানজিস্টরে ব্যবহৃত।

৪৭তম বিসিএস

শুষ্ক বরফ (Dry Ice) আসলে কী?

(ক) কঠিন পানি (খ) কঠিন CO₂ (গ) কঠিন নাইট্রোজেন (ঘ) কঠিন অক্সিজেন

উত্তর: (খ) কঠিন CO₂

ব্যাখ্যা: শুষ্ক বরফ কঠিন কার্বন ডাই-অক্সাইড।

৩৯তম বিসিএস

তড়িৎ প্রবাহের একক কী?

(ক) ভোল্ট (খ) অ্যাম্পিয়ার (গ) ওয়াট (ঘ) ওহম

উত্তর: (খ) অ্যাম্পিয়ার

ব্যাখ্যা: তড়িৎ প্রবাহের একক অ্যাম্পিয়ার।

অনুশীলনী (Practice)

নিচের প্রশ্নগুলো অনুশীলন করলে ভৌত বিজ্ঞানের সব গুরুত্বপূর্ণ তথ্য আয়ত্তে চলে আসবে।

পদার্থ ও পরমাণু

১. পদার্থের অবস্থা কয়টি?

উত্তর ও ব্যাখ্যা: ৩টি (কঠিন, তরল, বায়বীয়)।

২. পদার্থের ক্ষুদ্রতম কণা কী?

উত্তর ও ব্যাখ্যা: পরমাণু।

৩. পরমাণুর কেন্দ্র কী?

উত্তর ও ব্যাখ্যা: নিউক্লিয়াস।

৪. নিউক্লিয়াসে কী থাকে?

উত্তর ও ব্যাখ্যা: প্রোটন ও নিউট্রন।

৫. ঋণাত্মক কণা কোনটি?

উত্তর ও ব্যাখ্যা: ইলেকট্রন।

৬. ধনাত্মক কণা কোনটি?

উত্তর ও ব্যাখ্যা: প্রোটন।

৭. চার্জহীন কণা কোনটি?

উত্তর ও ব্যাখ্যা: নিউট্রন।

৮. পরমাণু সংখ্যা কী নির্দেশ করে?

উত্তর ও ব্যাখ্যা: প্রোটন সংখ্যা।

৯. সবচেয়ে হালকা মৌল কোনটি?

উত্তর ও ব্যাখ্যা: হাইড্রোজেন।

১০. পদার্থের চতুর্থ অবস্থা কী?

উত্তর ও ব্যাখ্যা: প্লাজমা।

রসায়ন

১১. পানির সংকেত কী?

উত্তর ও ব্যাখ্যা: H₂O।

১২. লবণের সংকেত কী?

উত্তর ও ব্যাখ্যা: NaCl।

১৩. চুন-পানি ঘোলা করে কোন গ্যাস?

উত্তর ও ব্যাখ্যা: CO₂।

১৪. সবচেয়ে হালকা গ্যাস কোনটি?

উত্তর ও ব্যাখ্যা: হাইড্রোজেন।

১৫. শ্বাসে গ্রহণ করা গ্যাস কী?

উত্তর ও ব্যাখ্যা: অক্সিজেন।

১৬. বায়ুর প্রধান গ্যাস কী?

উত্তর ও ব্যাখ্যা: নাইট্রোজেন।

১৭. অ্যাসিডের স্বাদ কেমন?

উত্তর ও ব্যাখ্যা: টক।

১৮. ক্ষারের স্বাদ কেমন?

উত্তর ও ব্যাখ্যা: কটু/পিচ্ছিল।

১৯. নিরপেক্ষ pH কত?

উত্তর ও ব্যাখ্যা: ৭।

২০. অ্যাসিড pH কেমন?

উত্তর ও ব্যাখ্যা: ৭-এর কম।

২১. লিটমাস অ্যাসিডে কী রং?

উত্তর ও ব্যাখ্যা: লাল।

২২. লিটমাস ক্ষারে কী রং?

উত্তর ও ব্যাখ্যা: নীল।

২৩. খাবার সোডা কী?

উত্তর ও ব্যাখ্যা: NaHCO₃।

২৪. মরিচা কী?

উত্তর ও ব্যাখ্যা: আয়রন অক্সাইড।

২৫. সোনার বিশুদ্ধতা মাপা হয় কীসে?

উত্তর ও ব্যাখ্যা: ক্যারেট।

২৬. হীরা কীসের রূপ?

উত্তর ও ব্যাখ্যা: কার্বন।

২৭. গ্রাফাইট কীসের রূপ?

উত্তর ও ব্যাখ্যা: কার্বন।

২৮. পেন্সিলের সীস কী?

উত্তর ও ব্যাখ্যা: গ্রাফাইট।

২৯. সবচেয়ে কঠিন প্রাকৃতিক পদার্থ কী?

উত্তর ও ব্যাখ্যা: হীরা।

৩০. তরল ধাতু কোনটি?

উত্তর ও ব্যাখ্যা: পারদ।

বল, গতি ও শক্তি

৩১. বলের একক কী?

উত্তর ও ব্যাখ্যা: নিউটন।

৩২. কাজের একক কী?

উত্তর ও ব্যাখ্যা: জুল।

৩৩. ক্ষমতার একক কী?

উত্তর ও ব্যাখ্যা: ওয়াট।

৩৪. গতির সূত্র কে দেন?

উত্তর ও ব্যাখ্যা: নিউটন।

৩৫. অভিকর্ষজ ত্বরণ কত?

উত্তর ও ব্যাখ্যা: ৯.৮ m/s²।

৩৬. মহাকর্ষ কে আবিষ্কার করেন?

উত্তর ও ব্যাখ্যা: নিউটন।

৩৭. শক্তির একক কী?

উত্তর ও ব্যাখ্যা: জুল।

৩৮. শক্তি কি সৃষ্টি/ধ্বংস হয়?

উত্তর ও ব্যাখ্যা: না, রূপান্তর হয়।

৩৯. গতিশক্তি কী?

উত্তর ও ব্যাখ্যা: গতিজনিত শক্তি।

৪০. বিভবশক্তি কী?

উত্তর ও ব্যাখ্যা: অবস্থানজনিত শক্তি।

৪১. চাপের একক কী?

উত্তর ও ব্যাখ্যা: প্যাসকেল।

৪২. ভরের একক কী?

উত্তর ও ব্যাখ্যা: কিলোগ্রাম।

৪৩. ওজন কী?

উত্তর ও ব্যাখ্যা: ভরের ওপর অভিকর্ষ বল।

৪৪. সরল যন্ত্র কী?

উত্তর ও ব্যাখ্যা: লিভার, কপিকল ইত্যাদি।

৪৫. ঘর্ষণ কী?

উত্তর ও ব্যাখ্যা: গতিরোধী বল।

তাপ, আলো ও শব্দ

৪৬. তাপমাত্রার একক কী?

উত্তর ও ব্যাখ্যা: কেলভিন।

৪৭. পানির স্ফুটনাঙ্ক কত?

উত্তর ও ব্যাখ্যা: ১০০°C।

৪৮. পানির হিমাঙ্ক কত?

উত্তর ও ব্যাখ্যা: ০°C।

৪৯. আলোর বেগ কত?

উত্তর ও ব্যাখ্যা: ৩×১০⁸ m/s।

৫০. আলো কী?

উত্তর ও ব্যাখ্যা: এক প্রকার তরঙ্গ।

৫১. রংধনু কীসে হয়?

উত্তর ও ব্যাখ্যা: আলোর বিচ্ছুরণে।

৫২. লেন্স কত প্রকার?

উত্তর ও ব্যাখ্যা: ২ (উত্তল, অবতল)।

৫৩. শব্দের বেগ বাতাসে কত?

উত্তর ও ব্যাখ্যা: ~৩৪০ m/s।

৫৪. শব্দ কোথায় চলে না?

উত্তর ও ব্যাখ্যা: শূন্যস্থানে।

৫৫. শব্দের তীক্ষ্ণতা কীসে নির্ভর?

উত্তর ও ব্যাখ্যা: কম্পাঙ্ক।

৫৬. প্রতিধ্বনি কী?

উত্তর ও ব্যাখ্যা: শব্দের প্রতিফলন।

৫৭. আলট্রাসাউন্ড কী?

উত্তর ও ব্যাখ্যা: উচ্চ কম্পাঙ্কের শব্দ।

৫৮. তাপ কীভাবে ছড়ায়?

উত্তর ও ব্যাখ্যা: পরিবহন, পরিচলন, বিকিরণ।

৫৯. সূর্যের তাপ কীভাবে আসে?

উত্তর ও ব্যাখ্যা: বিকিরণে।

৬০. আলোর প্রতিফলন কী?

উত্তর ও ব্যাখ্যা: আলো ফিরে আসা।

বিদ্যুৎ, চুম্বক ও আধুনিক

৬১. তড়িৎ প্রবাহের একক কী?

উত্তর ও ব্যাখ্যা: অ্যাম্পিয়ার।

৬২. বিভব পার্থক্যের একক কী?

উত্তর ও ব্যাখ্যা: ভোল্ট।

৬৩. রোধের একক কী?

উত্তর ও ব্যাখ্যা: ওহম।

৬৪. ওহমের সূত্র কী?

উত্তর ও ব্যাখ্যা: V=IR।

৬৫. বিদ্যুৎ ক্ষমতার একক কী?

উত্তর ও ব্যাখ্যা: ওয়াট।

৬৬. পরিবাহী কী?

উত্তর ও ব্যাখ্যা: বিদ্যুৎ চলে যেখানে।

৬৭. অন্তরক কী?

উত্তর ও ব্যাখ্যা: বিদ্যুৎ চলে না যেখানে।

৬৮. সেরা পরিবাহী কোনটি?

উত্তর ও ব্যাখ্যা: রূপা।

৬৯. চুম্বকের মেরু কয়টি?

উত্তর ও ব্যাখ্যা: ২টি।

৭০. সমমেরু কী করে?

উত্তর ও ব্যাখ্যা: বিকর্ষণ।

৭১. বিপরীত মেরু কী করে?

উত্তর ও ব্যাখ্যা: আকর্ষণ।

৭২. ডায়নামো কী রূপান্তর করে?

উত্তর ও ব্যাখ্যা: যান্ত্রিক→বৈদ্যুতিক।

৭৩. মোটর কী রূপান্তর করে?

উত্তর ও ব্যাখ্যা: বৈদ্যুতিক→যান্ত্রিক।

৭৪. ফিউজ কী করে?

উত্তর ও ব্যাখ্যা: অতিরিক্ত প্রবাহে গলে।

৭৫. এসি/ডিসি কী?

উত্তর ও ব্যাখ্যা: পরিবর্তী/একমুখী প্রবাহ।

৭৬. তেজস্ক্রিয় রশ্মি কী কী?

উত্তর ও ব্যাখ্যা: আলফা, বিটা, গামা।

৭৭. নিউক্লিয়ার বিদ্যুৎ কোন প্রক্রিয়ায়?

উত্তর ও ব্যাখ্যা: ফিশন।

৭৮. সৌরকোষ কী রূপান্তর করে?

উত্তর ও ব্যাখ্যা: আলোক→বৈদ্যুতিক।

৭৯. এক্স-রে কে আবিষ্কার করেন?

উত্তর ও ব্যাখ্যা: রন্টজেন।

৮০. রেডিয়াম কে আবিষ্কার করেন?

উত্তর ও ব্যাখ্যা: কুরি দম্পতি।

৮১. পরমাণুর মডেল কে দেন?

উত্তর ও ব্যাখ্যা: বোর।

৮২. তড়িৎ চুম্বক কী?

উত্তর ও ব্যাখ্যা: বিদ্যুতে তৈরি চুম্বক।

৮৩. বজ্রপাত কী?

উত্তর ও ব্যাখ্যা: বায়ুমণ্ডলীয় বিদ্যুৎ।

৮৪. বজ্রনিরোধক কী?

উত্তর ও ব্যাখ্যা: ধাতব দণ্ড।

৮৫. এলইডি কী?

উত্তর ও ব্যাখ্যা: আলোক নিঃসারী ডায়োড।

৮৬. লেজার কী?

উত্তর ও ব্যাখ্যা: সুসংগত তীব্র আলো।

৮৭. অপটিক্যাল ফাইবারে তথ্য যায় কীসে?

উত্তর ও ব্যাখ্যা: আলোয়।

৮৮. সেমিকন্ডাক্টর কী?

উত্তর ও ব্যাখ্যা: অর্ধপরিবাহী।

৮৯. ট্রানজিস্টর কী করে?

উত্তর ও ব্যাখ্যা: সংকেত নিয়ন্ত্রণ।

৯০. সৌরশক্তি কি নবায়নযোগ্য?

উত্তর ও ব্যাখ্যা: হ্যাঁ।

৯১. পারমাণবিক জ্বালানি কী?

উত্তর ও ব্যাখ্যা: ইউরেনিয়াম।

৯২. বৈদ্যুতিক বাল্ব কে আবিষ্কার করেন?

উত্তর ও ব্যাখ্যা: এডিসন।

৯৩. তড়িৎ বিশ্লেষণ কী?

উত্তর ও ব্যাখ্যা: বিদ্যুতে যৌগ ভাঙা।

৯৪. গ্যালভানাইজেশন কী?

উত্তর ও ব্যাখ্যা: জিংক প্রলেপ।

৯৫. ক্যাটালিস্ট কী?

উত্তর ও ব্যাখ্যা: বিক্রিয়ার গতিবর্ধক।

৯৬. জ্বলনের জন্য কী দরকার?

উত্তর ও ব্যাখ্যা: অক্সিজেন।

৯৭. শুষ্ক বরফ কী?

উত্তর ও ব্যাখ্যা: কঠিন CO₂।

৯৮. বিশুদ্ধ পানির pH কত?

উত্তর ও ব্যাখ্যা: ৭।

৯৯. সবচেয়ে ভারী প্রাকৃতিক মৌল কী?

উত্তর ও ব্যাখ্যা: ইউরেনিয়াম।

১০০. পদার্থবিজ্ঞানের মৌলিক একক কয়টি?

উত্তর ও ব্যাখ্যা: ৭টি।