সন্ধি

পাশাপাশি অবস্থিত দুটি ধ্বনির মিলনকে সন্ধি বলে। কথা বলার সময় আমরা প্রতিটি শব্দ আলাদা করে থেমে থেমে উচ্চারণ করি না; পরপর দুটি শব্দ বা ধ্বনি এত দ্রুত ও কাছাকাছি উচ্চারিত হয় যে তারা মিলে একটি ধ্বনিতে রূপ নেয়। যেমন—‘হিম’ ও ‘আলয়’ দুটি শব্দ মিলে হয় ‘হিমালয়’, ‘বিদ্যা’ ও ‘আলয়’ মিলে হয় ‘বিদ্যালয়’। সন্ধির মূল উদ্দেশ্য দুটি—উচ্চারণের সহজতা ও ধ্বনিগত মাধুর্য রক্ষা করা।

সন্ধিতে যে পদগুলো মিলিত হয় তাদের বলা হয় সন্ধিবদ্ধ/সমস্যমান পদ, মিলিত রূপকে বলা হয় সন্ধিবদ্ধ পদ, আর সন্ধিকে ভেঙে আগের দুটি অংশে ফিরিয়ে আনার নাম সন্ধিবিচ্ছেদ। মনে রাখতে হবে, সন্ধি হয় দুটি ধ্বনির মিলনে—এটি সমাসের মতো দুটি পদের অর্থগত মিলন নয়।

উৎপত্তিগত দিক থেকে বাংলা সন্ধি প্রধানত দুই প্রকার—সংস্কৃত (তৎসম) সন্ধি ও বাংলা সন্ধি। সংস্কৃত সন্ধি নির্দিষ্ট ব্যাকরণিক নিয়ম মেনে চলে এবং তা আবার তিন প্রকার: স্বরসন্ধি, ব্যঞ্জনসন্ধি ও বিসর্গসন্ধি। বাংলা সন্ধি নিয়ম নয়, উচ্চারণ অনুসরণ করে।

বিসিএসে সন্ধির গুরুত্ব

সন্ধিবিচ্ছেদ ও সন্ধির নাম/প্রকার নির্ণয় থেকে প্রায় প্রতি পরীক্ষায় ১–২টি প্রশ্ন থাকে। নিয়ম বোঝা জরুরি, তবে তার চেয়েও বেশি কার্যকর—বহুল-জিজ্ঞাসিত উদাহরণগুলো (রবীন্দ্র, সূর্যোদয়, দিগন্ত, মনোযোগ, উজ্জ্বল, পরস্পর) সরাসরি মনে রাখা। অনেক সময় ‘গুণ/বৃদ্ধি/যণ/অয়াদি’—এই বিশেষ নাম ধরেও প্রশ্ন আসে।

সন্ধির শ্রেণিবিভাগ এক নজরে

সন্ধির প্রকারভিত্তিউদাহরণ
স্বরসন্ধিস্বর + স্বরহিম+আলয়=হিমালয়
ব্যঞ্জনসন্ধিব্যঞ্জন+স্বর বা ব্যঞ্জন+ব্যঞ্জনদিক্+অন্ত=দিগন্ত
বিসর্গসন্ধিবিসর্গ (ঃ) + স্বর/ব্যঞ্জনমনঃ+যোগ=মনোযোগ
বাংলা সন্ধিখাঁটি বাংলা শব্দ (উচ্চারণভিত্তিক)নাত+জামাই=নাজ্জামাই

স্বরসন্ধির নিয়ম

স্বরধ্বনির সঙ্গে স্বরধ্বনির মিলনে যে সন্ধি হয় তাকে স্বরসন্ধি বলে। স্বরসন্ধির মূল কথা—পাশাপাশি দুটি স্বর এলে সেগুলো নিয়ম অনুসারে একটি স্বরে পরিণত হয়। একই জাতের (সবর্ণ) দুটি স্বর মিললে সেটি দীর্ঘ হয়, আর ভিন্ন জাতের স্বর মিললে গুণ, বৃদ্ধি প্রভৃতি নিয়ম কাজ করে।

নিয়মউদাহরণ
অ/আ + অ/আ = আহিম+আলয়=হিমালয়; হস্ত+অন্তর=হস্তান্তর; শশ+অঙ্ক=শশাঙ্ক; কথা+অমৃত=কথামৃত
অ/আ + ই/ঈ = এশুভ+ইচ্ছা=শুভেচ্ছা; নর+ইন্দ্র=নরেন্দ্র; মহা+ঈশ=মহেশ; গণ+ঈশ=গণেশ
অ/আ + উ/ঊ = ওসূর্য+উদয়=সূর্যোদয়; পর+উপকার=পরোপকার; মহা+উৎসব=মহোৎসব; নব+উঢ়া=নবোঢ়া
অ/আ + ঋ = অর্দেব+ঋষি=দেবর্ষি; মহা+ঋষি=মহর্ষি; রাজ+ঋষি=রাজর্ষি; সপ্ত+ঋষি=সপ্তর্ষি
ই/ঈ + ই/ঈ = ঈরবি+ইন্দ্র=রবীন্দ্র; গিরি+ইন্দ্র=গিরীন্দ্র; অতি+ইত=অতীত; পরি+ঈক্ষা=পরীক্ষা
উ/ঊ + উ/ঊ = ঊবধূ+উৎসব=বধূৎসব; ভানু+উদয়=ভানূদয়; সু+উক্তি=সূক্তি; বহু+ঊর্ধ্ব=বহূর্ধ্ব
অ/আ + এ/ঐ = ঐজন+এক=জনৈক; মত+ঐক্য=মতৈক্য; সদা+এব=সদৈব; হিত+ঐষী=হিতৈষী
অ/আ + ও/ঔ = ঔবন+ওষধি=বনৌষধি; মহা+ঔষধ=মহৌষধ; পরম+ঔষধ=পরমৌষধ

সবর্ণ দীর্ঘ সন্ধি

একই জাতের (সবর্ণ) দুটি স্বর পাশাপাশি এলে তারা মিলে একটি দীর্ঘ স্বর হয়—অ/আ মিলে আ, ই/ঈ মিলে ঈ, উ/ঊ মিলে ঊ। যেমন রবি+ইন্দ্র=রবীন্দ্র (ই+ই=ঈ), বধূ+উৎসব=বধূৎসব (ঊ+উ=ঊ)। এটাই স্বরসন্ধির সবচেয়ে সরল নিয়ম।

ধাপে ধাপে সন্ধিবিচ্ছেদ (উদাহরণ)

‘পরীক্ষা’ শব্দের সন্ধিবিচ্ছেদ কীভাবে করবেন?

  1. শব্দের ভেতরে দীর্ঘ ‘ঈ’ (রী) দেখে বুঝি সবর্ণ দীর্ঘ সন্ধি হতে পারে।
  2. ‘ঈ’ ভাঙলে হয় ই + ই।
  3. তাই পরি + ইক্ষা; উপসর্গ ‘পরি’ ও ‘ইক্ষা’ পাওয়া যায়।
  4. সন্ধিবিচ্ছেদ: পরি + ঈক্ষা = পরীক্ষা (ই+ঈ=ঈ)।

‘মহেশ’ শব্দের সন্ধিবিচ্ছেদ কীভাবে করবেন?

  1. শব্দে ‘এ’ (হে) আছে; অ/আ + ই/ঈ = এ নিয়ম মনে পড়ে।
  2. ‘এ’ ভাঙলে অ/আ + ই/ঈ।
  3. ‘মহা’ (আ-কারান্ত) + ‘ঈশ’ ধরলে অর্থ মেলে (মহান ঈশ্বর)।
  4. সন্ধিবিচ্ছেদ: মহা + ঈশ = মহেশ (গুণ সন্ধি)।

গুণ ও বৃদ্ধি সন্ধি

স্বরসন্ধির দুটি বিশেষ শ্রেণির আলাদা নাম আছে—গুণ ও বৃদ্ধি। পরীক্ষায় এই নাম ধরে সরাসরি প্রশ্ন আসে বলে এদের নিয়ম ও উদাহরণ পৃথকভাবে মনে রাখা দরকার।

গুণ সন্ধি: অ বা আ-এর পরে ই/ঈ থাকলে দুইয়ে মিলে হয় ‘এ’; উ/ঊ থাকলে হয় ‘ও’; আর ঋ থাকলে হয় ‘অর্’। এই ‘এ, ও, অর্’ ধ্বনিগুলোকে সংস্কৃত ব্যাকরণে ‘গুণ’ বলা হয়, তাই এর নাম গুণ সন্ধি।

গুণ সন্ধির নিয়মউদাহরণ
অ/আ + ই/ঈ = এনর+ইন্দ্র=নরেন্দ্র; দেব+ইন্দ্র=দেবেন্দ্র; সুর+ইন্দ্র=সুরেন্দ্র
অ/আ + উ/ঊ = ওপর+উপকার=পরোপকার; সূর্য+উদয়=সূর্যোদয়; হিত+উপদেশ=হিতোপদেশ
অ/আ + ঋ = অর্দেব+ঋষি=দেবর্ষি; মহা+ঋষি=মহর্ষি; উত্তম+ঋণ=উত্তমর্ণ

বৃদ্ধি সন্ধি: অ বা আ-এর পরে এ/ঐ থাকলে দুইয়ে মিলে হয় ‘ঐ’; আর ও/ঔ থাকলে হয় ‘ঔ’। এই ‘ঐ, ঔ’ ধ্বনিকে সংস্কৃতে ‘বৃদ্ধি’ বলা হয়, তাই নাম বৃদ্ধি সন্ধি।

বৃদ্ধি সন্ধির নিয়মউদাহরণ
অ/আ + এ/ঐ = ঐজন+এক=জনৈক; মত+ঐক্য=মতৈক্য; হিত+ঐষী=হিতৈষী
অ/আ + ও/ঔ = ঔবন+ওষধি=বনৌষধি; পরম+ঔষধ=পরমৌষধ; মহা+ঔদার্য=মহৌদার্য

গুণ বনাম বৃদ্ধি—এক লাইনে

  • গুণ: ফল হয় এ / ও / অর্ (নরেন্দ্র, পরোপকার, দেবর্ষি);
  • বৃদ্ধি: ফল হয় ঐ / ঔ (মতৈক্য, বনৌষধি)।

যণ ও অয়াদি সন্ধি

স্বরসন্ধির আরও দুটি বিশেষ শ্রেণি—যণ ও অয়াদি। এগুলোতে স্বরধ্বনি পরিবর্তিত হয়ে ব্যঞ্জনধ্বনিতে (অর্ধস্বরে) রূপ নেয়, তাই এদের প্রায়ই আলাদা করে চেনা কঠিন হয়।

যণ সন্ধি: ই/ঈ, উ/ঊ বা ঋ-এর পরে যদি অসবর্ণ (ভিন্ন জাতের) স্বর আসে, তবে ই/ঈ পরিণত হয় ‘য্’-এ, উ/ঊ পরিণত হয় ‘ব্’-এ এবং ঋ পরিণত হয় ‘র্’-এ। যেমন—অতি+অন্ত=অত্যন্ত (ই→য্), সু+অল্প=স্বল্প (উ→ব্)।

যণ সন্ধির নিয়মউদাহরণ
ই/ঈ + অসবর্ণ স্বর → য্অতি+অন্ত=অত্যন্ত; ইতি+আদি=ইত্যাদি; প্রতি+এক=প্রত্যেক; অভি+আগত=অভ্যাগত
উ/ঊ + অসবর্ণ স্বর → ব্সু+অল্প=স্বল্প; অনু+এষণ=অন্বেষণ; পশু+অধম=পশ্বধম
ঋ + অসবর্ণ স্বর → র্পিতৃ+আলয়=পিত্রালয়; মাতৃ+আলয়=মাত্রালয়

অয়াদি সন্ধি: এ, ঐ, ও, ঔ-এর পরে কোনো স্বর এলে যথাক্রমে এ→অয়্, ঐ→আয়্, ও→অব্, ঔ→আব্ হয়। যেমন—নে+অন=নয়ন (এ→অয়্), পো+অন=পবন (ও→অব্)।

অয়াদি সন্ধির নিয়মউদাহরণ
এ + স্বর → অয়্নে+অন=নয়ন; শে+অন=শয়ন; চে+অন=চয়ন
ঐ + স্বর → আয়্গৈ+অক=গায়ক; নৈ+অক=নায়ক
ও + স্বর → অব্পো+অন=পবন; ভো+অন=ভবন; লো+অন=লবণ
ঔ + স্বর → আব্পৌ+অক=পাবক; নৌ+ইক=নাবিক; ভৌ+উক=ভাবুক

যণ ও অয়াদি আলাদা করে চিনুন

  • যণ: শুরুতে থাকে ই/উ/ঋ; ফলে আসে য্/ব্/র্ (অত্যন্ত, স্বল্প);
  • অয়াদি: শুরুতে থাকে এ/ঐ/ও/ঔ; ফলে আসে অয়্/আয়্/অব্/আব্ (নয়ন, পবন, গায়ক, পাবক)।

ব্যঞ্জনসন্ধি

ব্যঞ্জনের সঙ্গে স্বর বা ব্যঞ্জনের, অথবা স্বরের সঙ্গে ব্যঞ্জনের মিলনে যে সন্ধি হয়, তাকে ব্যঞ্জনসন্ধি বলে। ব্যঞ্জনসন্ধির নিয়ম কিছুটা বেশি, তবে উদাহরণসহ মনে রাখলে সহজ হয়ে যায়। নিচে প্রধান নিয়মগুলো দেওয়া হলো।

নিয়মসন্ধি (বিচ্ছেদ)
বর্গের ১ম বর্ণ (ক্ চ্ ট্ ত্ প্) + স্বর/ঘোষ → নিজ বর্গের ৩য় বর্ণদিগন্ত (দিক্+অন্ত); বাগীশ (বাক্+ঈশ); সদাচার (সৎ+আচার); জগদীশ (জগৎ+ঈশ)
স্বর/হ্রস্বস্বর + ছ → চ্ছআচ্ছাদন (আ+ছাদন); পরিচ্ছদ (পরি+ছদ); বিচ্ছেদ (বি+ছেদ); প্রচ্ছদ (প্র+ছদ)
ত্/দ্ + চ/ছ → চ্চ/চ্ছউচ্চারণ (উৎ+চারণ); উচ্ছেদ (উৎ+ছেদ); সচ্চিন্তা (সৎ+চিন্তা)
ত্/দ্ + জ → জ্জসজ্জন (সৎ+জন); উজ্জ্বল (উৎ+জ্বল); তজ্জন্য (তৎ+জন্য)
ত্/দ্ + শ → চ্ছউচ্ছ্বাস (উৎ+শ্বাস)
ত্/দ্ + হ → দ্ধউদ্ধার (উৎ+হার); তদ্ধিত (তৎ+হিত); পদ্ধতি (পদ্+হতি)
ত্/দ্ + ল → ল্লউল্লাস (উৎ+লাস); উল্লেখ (উৎ+লেখ)
ত্/দ্ + ন → ন্নজগন্নাথ (জগৎ+নাথ); উন্নয়ন (উৎ+নয়ন)
জ্ + ন → জ্ঞরাজ্ঞী (রাজ্+নী); যজ্ঞ (যজ্+ন)

দুটি মূল সূত্র

  • বর্গের প্রথম বর্ণের (ক্ চ্ ট্ ত্ প্) পরে স্বর বা ঘোষ ব্যঞ্জন এলে সেটি নিজ বর্গের তৃতীয় বর্ণে (গ্ জ্ ড্ দ্ ব্) পরিণত হয় (দিক্+অন্ত=দিগন্ত, বাক্+দান=বাগ্‌দান);
  • স্বর বা হ্রস্বস্বরের পরে ‘ছ’ এলে তা চ্ছ হয় (পরি+ছদ=পরিচ্ছদ, আ+ছাদন=আচ্ছাদন)।

‘উজ্জ্বল’ শব্দের সন্ধিবিচ্ছেদ কীভাবে করবেন?

  1. শব্দে দ্বিত্ব ‘জ্জ’ আছে—ত্/দ্ + জ → জ্জ নিয়ম মনে পড়ে।
  2. ‘জ্জ’ ভাঙলে ত্/দ্ + জ্ব...।
  3. উপসর্গ ‘উৎ’ + ‘জ্বল’ ধরলে অর্থ মেলে।
  4. সন্ধিবিচ্ছেদ: উৎ + জ্বল = উজ্জ্বল।

ম্-জনিত ব্যঞ্জনসন্ধি

‘ম্’ ব্যঞ্জনের পরে বিভিন্ন বর্ণ এলে ‘ম্’ নানা রূপ নেয়—এটি ব্যঞ্জনসন্ধির একটি বিশেষ ও পরীক্ষায় বহুল-জিজ্ঞাসিত অংশ (বিশেষত ‘সম্’ উপসর্গ-যুক্ত শব্দে)। মূল নিয়ম—‘ম্’-এর পরে যে বর্গের বর্ণ আসে, ‘ম্’ সেই বর্গের অনুনাসিক (পঞ্চম) বর্ণে পরিণত হয়; আর অন্তঃস্থ/উষ্ম বর্ণের আগে ‘ম্’ হয় ‘ং’ (অনুস্বার)।

নিয়মসন্ধি (বিচ্ছেদ)
ম্ + ক-বর্গ → ঙ / ংসংকীর্ণ (সম্+কীর্ণ); সঙ্গীত (সম্+গীত); শঙ্কা (শম্+কা)
ম্ + চ-বর্গ → ঞসঞ্চয় (সম্+চয়); সঞ্জীবনী (সম্+জীবনী)
ম্ + ত-বর্গ → নসন্তাপ (সম্+তাপ); সন্দেহ (সম্+দেহ); সন্ধান (সম্+ধান)
ম্ + প-বর্গ → মসম্পাদক (সম্+পাদক); সম্মান (সম্+মান); সম্ভব (সম্+ভব)
ম্ + য/র/ল/শ/ষ/স/হ → ংসংযম (সম্+যম); সংরক্ষণ (সম্+রক্ষণ); সংশয় (সম্+শয়); সংসার (সম্+সার); সংহার (সম্+হার)

‘সম্’ উপসর্গ মনে রাখার কৌশল

‘সম্’-এর পরে যে বর্গের বর্ণ, ‘ম্’ সেই বর্গের পঞ্চম বর্ণ হয়—সম্+চয়=সঞ্চয় (চ-বর্গের ঞ), সম্+তাপ=সন্তাপ (ত-বর্গের ন)। কিন্তু য, র, ল, শ, ষ, স, হ-এর আগে ‘ম্’ সবসময় ‘ং’—সম্+সার=সংসার, সম্+হার=সংহার।

বিসর্গসন্ধি

বিসর্গের (ঃ) সঙ্গে স্বর বা ব্যঞ্জনের মিলনে যে সন্ধি হয়, তাকে বিসর্গসন্ধি বলে। বিসর্গ নিজে কোনো স্বাধীন ধ্বনি নয়; এটি মূলত দুই উৎস থেকে আসে—র-জাত বিসর্গ (যার মূলে ছিল ‘র্’; যেমন অন্তঃ, পুনঃ, প্রাতঃ) এবং স-জাত বিসর্গ (যার মূলে ছিল ‘স্’; যেমন মনঃ, তপঃ, নমঃ, শিরঃ)। কোন বিসর্গ, তার ওপর সন্ধির ফল নির্ভর করে।

নিয়মসন্ধি (বিচ্ছেদ)
অ+ঃ + অ/ঘোষ ব্যঞ্জন → ওমনোযোগ (মনঃ+যোগ); মনোহর (মনঃ+হর); তপোবন (তপঃ+বন); তেজোময় (তেজঃ+ময়)
অ+ঃ + ক/খ/প/ফ → স্নমস্কার (নমঃ+কার); পুরস্কার (পুরঃ+কার); ভাস্কর (ভাঃ+কর)
ই/উ+ঃ + স্বর/ঘোষ → র্নিরাকার (নিঃ+আকার); দুর্যোগ (দুঃ+যোগ); আশীর্বাদ (আশীঃ+বাদ)
ই/উ+ঃ + ক/প → ষ্ক/ষ্পনিষ্কাম (নিঃ+কাম); দুষ্কর (দুঃ+কর); বহিষ্কার (বহিঃ+কার); নিষ্পাপ (নিঃ+পাপ)
অন্তঃ/পুনঃ + বর্ণ → র্অন্তর্গত (অন্তঃ+গত); পুনরায় (পুনঃ+আয়); পুনর্জন্ম (পুনঃ+জন্ম)
ঃ + চ/ছ → শ্চ/শ্ছনিশ্চয় (নিঃ+চয়); নিশ্ছিদ্র (নিঃ+ছিদ্র); দুশ্চরিত্র (দুঃ+চরিত্র)
ঃ + ত/থ → স্ত/স্থনিস্তেজ (নিঃ+তেজ); দুস্থ (দুঃ+স্থ)

বিসর্গসন্ধির তিন প্রধান কৌশল

  • ‘অ’-কারের পর বিসর্গ, তারপর ঘোষ ধ্বনি/স্বর → বিসর্গ হয় ও (মনঃ+যোগ=মনোযোগ);
  • ‘ই/উ’-কারের পর বিসর্গ, তারপর স্বর/ঘোষ → বিসর্গ হয় র্ (নিঃ+আকার=নিরাকার);
  • বিসর্গের পর ক/খ/প/ফ → বিসর্গ হয় স্/ষ্ (নমঃ+কার=নমস্কার, নিঃ+কাম=নিষ্কাম)।

বাংলা সন্ধি

খাঁটি বাংলা (তদ্ভব/দেশি) শব্দের ক্ষেত্রে উচ্চারণ-অনুসারে যে সন্ধি হয়, তাকে বাংলা সন্ধি বলে। এখানে সংস্কৃত সন্ধির নিয়ম খাটে না; কেবল উচ্চারণের সহজতাই মুখ্য। বাংলা সন্ধিও স্বরসন্ধি ও ব্যঞ্জনসন্ধি—দুই ধরনের হয়।

ধরনউদাহরণ
বাংলা স্বরসন্ধিকুড়ি+এক=কুড়িক; শত+এক=শতেক
বাংলা ব্যঞ্জনসন্ধিনাত+জামাই=নাজ্জামাই; ঘোড়া+দৌড়=ঘোড়দৌড়
স্বর+ব্যঞ্জনকাঁচা+কলা=কাঁচকলা; ছোট+দা=ছোড়দা

সংস্কৃত বনাম বাংলা সন্ধি

সংস্কৃত সন্ধি হয় নিয়ম মেনে (রবি+ইন্দ্র=রবীন্দ্র), আর বাংলা সন্ধি হয় উচ্চারণ অনুসারে (নাত+জামাই=নাজ্জামাই)। শব্দটি তৎসম হলে সংস্কৃত নিয়ম প্রয়োগ করুন, খাঁটি বাংলা (তদ্ভব) হলে উচ্চারণনির্ভর বাংলা সন্ধি।

নিপাতনে সিদ্ধ সন্ধি

যেসব সন্ধি কোনো প্রচলিত নিয়ম মেনে হয় না, কিন্তু ব্যবহারে বা প্রচলনে সিদ্ধ (গৃহীত ও প্রতিষ্ঠিত), সেগুলোকে নিপাতনে সিদ্ধ সন্ধি বলে। এগুলো নিয়ম দিয়ে ব্যাখ্যা করা যায় না; তাই সরাসরি মুখস্থ রাখতে হয়। বিসিএসে এই তালিকা থেকে নিয়মিত প্রশ্ন আসে।

সন্ধিবিচ্ছেদ
পরস্পরপর + পর
বনস্পতিবন + পতি
বৃহস্পতিবৃহৎ + পতি
ষোড়শষট় + দশ
একাদশএক + দশ
গোষ্পদগো + পদ
মার্তণ্ডমার্ত + অণ্ড
প্রৌঢ়প্র + ঊঢ়
তন্বীতনু + ঈ
মনীষামনস্ + ঈষা
কুলটাকুল + টা
পতঞ্জলিপতৎ + অঞ্জলি
দিবারাত্রদিবা + রাত্র (নিপাতনে সিদ্ধ)
গবাক্ষগো + অক্ষ
বহুল-জিজ্ঞাসিত নিপাতনে সিদ্ধ—পরস্পর, বনস্পতি, বৃহস্পতি, ষোড়শ, একাদশ, গোষ্পদ, মার্তণ্ড, প্রৌঢ়, তন্বী, মনীষা, কুলটা, গবাক্ষ।

সন্ধি বনাম সমাস: সাধারণ ভুল

পরীক্ষার্থীরা প্রায়ই সন্ধি ও সমাসকে গুলিয়ে ফেলেন। দুটোই দুই অংশের মিলন হলেও এদের প্রকৃতি সম্পূর্ণ আলাদা। নিচের পার্থক্যগুলো মনে রাখলে বিভ্রান্তি দূর হবে।

বিষয়সন্ধিসমাস
কীসের মিলনপাশাপাশি দুই ধ্বনিরঅর্থসম্বন্ধযুক্ত দুই পদের
ভিত্তিউচ্চারণ/ধ্বনিগতঅর্থগত
ভাঙার নামসন্ধিবিচ্ছেদব্যাসবাক্য
উদাহরণহিম+আলয়=হিমালয়সিংহ চিহ্নিত আসন=সিংহাসন

আরও কিছু সাধারণ ভুল

  • ‘বিদ্যালয়’—সন্ধি (বিদ্যা+আলয়), সমাস নয়;
  • ‘রাজপুত্র’—সমাস (রাজার পুত্র), সন্ধি নয়;
  • সন্ধিতে শুধু ধ্বনি মেলে, তাই মিলিত অংশের আলাদা অর্থ থাকতে হয় না;
  • সমাসে অর্থ মেলে, তাই ব্যাসবাক্য দিয়ে অর্থ প্রকাশ করা যায়।

বহুল-ব্যবহৃত সন্ধির তালিকা

নিচের তালিকাটি রিভিশনের জন্য অত্যন্ত কার্যকর। পরীক্ষার আগে এই সন্ধিবিচ্ছেদগুলো একবার চোখ বুলিয়ে নিলে সন্ধি-সংক্রান্ত অধিকাংশ প্রশ্নের উত্তর দ্রুত দেওয়া যাবে।

সন্ধিবদ্ধ পদবিচ্ছেদপ্রকার
হিমালয়হিম+আলয়স্বরসন্ধি
রবীন্দ্ররবি+ইন্দ্রস্বরসন্ধি
পরীক্ষাপরি+ঈক্ষাস্বরসন্ধি
নরেন্দ্রনর+ইন্দ্রগুণ
পরোপকারপর+উপকারগুণ
দেবর্ষিদেব+ঋষিগুণ
মতৈক্যমত+ঐক্যবৃদ্ধি
বনৌষধিবন+ওষধিবৃদ্ধি
অত্যন্তঅতি+অন্তযণ
স্বল্পসু+অল্পযণ
নয়ননে+অনঅয়াদি
পবনপো+অনঅয়াদি
গায়কগৈ+অকঅয়াদি
দিগন্তদিক্+অন্তব্যঞ্জন
উদ্ধারউৎ+হারব্যঞ্জন
উজ্জ্বলউৎ+জ্বলব্যঞ্জন
পরিচ্ছদপরি+ছদব্যঞ্জন
সঞ্চয়সম্+চয়ব্যঞ্জন
সংবাদসম্+বাদব্যঞ্জন
মনোযোগমনঃ+যোগবিসর্গ
নমস্কারনমঃ+কারবিসর্গ
নিরাকারনিঃ+আকারবিসর্গ
নিষ্কামনিঃ+কামবিসর্গ
পরস্পরপর+পরনিপাতনে সিদ্ধ
ষোড়শষট়+দশনিপাতনে সিদ্ধ

দ্রুত-তথ্য ও পরিভাষা

বিষয়তথ্য
সন্ধিপাশাপাশি দুই ধ্বনির মিলন
সন্ধি প্রধানত২ প্রকার (সংস্কৃত ও বাংলা)
সংস্কৃত সন্ধি৩ প্রকার (স্বর, ব্যঞ্জন, বিসর্গ)
গুণের ফলএ / ও / অর্
বৃদ্ধির ফলঐ / ঔ
যণেই/উ → য্/ব্
অয়াদিতেএ/ও → অয়্/অব্
‘সম্’+য/র/ল/শ/ষ/স/হং (সংসার, সংহার)
‘অ’-কার+ঃ+ঘোষও (মনোযোগ)
‘ই/উ’-কার+ঃর্ (নিরাকার)

পরিভাষা (Glossary)

  • সন্ধি: দুই ধ্বনির মিলন;
  • সন্ধিবিচ্ছেদ: সন্ধি ভেঙে আলাদা করা;
  • সবর্ণ স্বর: একই জাতের স্বর (অ-আ, ই-ঈ);
  • গুণ সন্ধি: ফল এ/ও/অর্;
  • বৃদ্ধি সন্ধি: ফল ঐ/ঔ;
  • যণ সন্ধি: ই/উ পরিণত হয় য্/ব্-এ;
  • অয়াদি সন্ধি: এ/ও পরিণত হয় অয়্/অব্-এ;
  • র-জাত/স-জাত বিসর্গ: মূলে র্ বা স্ ছিল এমন বিসর্গ;
  • নিপাতনে সিদ্ধ: নিয়মবহির্ভূত প্রচলনসিদ্ধ সন্ধি।

বিগত বিসিএসে আসা প্রশ্ন (সমাধানসহ)

৪৪তম বিসিএস

‘পরস্পর’ কোন সন্ধির উদাহরণ?

(ক) স্বরসন্ধি   (খ) ব্যঞ্জনসন্ধি   (গ) নিপাতনে সিদ্ধ   (ঘ) বিসর্গসন্ধি

উত্তর: (গ) নিপাতনে সিদ্ধ

ব্যাখ্যা: ‘পরস্পর’ (পর+পর) কোনো নিয়ম মানে না; এটি নিপাতনে সিদ্ধ সন্ধি।

৪০তম বিসিএস

‘রবীন্দ্র’ শব্দের সন্ধিবিচ্ছেদ কোনটি?

(ক) রব+ইন্দ্র   (খ) রবি+ইন্দ্র   (গ) রবী+ইন্দ্র   (ঘ) রবি+ঈন্দ্র

উত্তর: (খ) রবি+ইন্দ্র

ব্যাখ্যা: ই+ই=ঈ নিয়মে রবি+ইন্দ্র=রবীন্দ্র (সবর্ণ দীর্ঘ স্বরসন্ধি)।

৩৮তম বিসিএস

‘উদ্ধার’ শব্দের সন্ধিবিচ্ছেদ কী?

(ক) উদ্+ধার   (খ) উৎ+হার   (গ) উদ্‌+হার   (ঘ) উত্+ধার

উত্তর: (খ) উৎ+হার

ব্যাখ্যা: ত্/দ্ + হ → দ্ধ নিয়মে উৎ+হার=উদ্ধার (ব্যঞ্জনসন্ধি)।

৪৩তম বিসিএস

‘মনোযোগ’ শব্দটি কোন সন্ধি?

(ক) স্বরসন্ধি   (খ) ব্যঞ্জনসন্ধি   (গ) বিসর্গসন্ধি   (ঘ) নিপাতনে সিদ্ধ

উত্তর: (গ) বিসর্গসন্ধি

ব্যাখ্যা: মনঃ+যোগ=মনোযোগ—‘অ’-কারের পর বিসর্গ, পরে ঘোষ ধ্বনি থাকায় বিসর্গ ‘ও’ হয়েছে।

৪৬তম বিসিএস

‘সূর্যোদয়’ এর সন্ধিবিচ্ছেদ কোনটি?

(ক) সূর্য+দয়   (খ) সূর্য+উদয়   (গ) সূর্যো+দয়   (ঘ) সূর্য+ওদয়

উত্তর: (খ) সূর্য+উদয়

ব্যাখ্যা: অ+উ=ও (গুণ) নিয়মে সূর্য+উদয়=সূর্যোদয়।

৪৫তম বিসিএস

‘অত্যন্ত’ কোন সন্ধির উদাহরণ?

(ক) গুণ সন্ধি   (খ) বৃদ্ধি সন্ধি   (গ) যণ সন্ধি   (ঘ) অয়াদি সন্ধি

উত্তর: (গ) যণ সন্ধি

ব্যাখ্যা: অতি+অন্ত=অত্যন্ত; ই পরিণত হয়েছে য্-এ, তাই যণ সন্ধি।

৩৭তম বিসিএস

‘নয়ন’ শব্দের সন্ধিবিচ্ছেদ কী?

(ক) নে+অন   (খ) নয়+অন   (গ) ন+য়ন   (ঘ) নয়+ন

উত্তর: (ক) নে+অন

ব্যাখ্যা: এ + অন → অয়্+অন = নয়ন; এটি অয়াদি সন্ধি।

৩৬তম বিসিএস

‘দিগন্ত’ এর সন্ধিবিচ্ছেদ কোনটি?

(ক) দিগ্+অন্ত   (খ) দিক্+অন্ত   (গ) দিগ+অন্ত   (ঘ) দিক+ন্ত

উত্তর: (খ) দিক্+অন্ত

ব্যাখ্যা: বর্গের ১ম বর্ণ ক্-এর পরে স্বর আসায় ক্→গ্; দিক্+অন্ত=দিগন্ত।

৪২তম বিসিএস

‘বনৌষধি’ কোন সন্ধির উদাহরণ?

(ক) গুণ   (খ) বৃদ্ধি   (গ) যণ   (ঘ) বিসর্গ

উত্তর: (খ) বৃদ্ধি

ব্যাখ্যা: অ+ও=ঔ নিয়মে বন+ওষধি=বনৌষধি; ফল ঔ হওয়ায় বৃদ্ধি সন্ধি।

৩৯তম বিসিএস

‘নিষ্কাম’ শব্দের সন্ধিবিচ্ছেদ কোনটি?

(ক) নিঃ+কাম   (খ) নিস+কাম   (গ) নিষ+কাম   (ঘ) নি+ষ্কাম

উত্তর: (ক) নিঃ+কাম

ব্যাখ্যা: ই-কারের পর বিসর্গ, পরে ‘ক’ থাকায় বিসর্গ ষ্‌ক হয়; নিঃ+কাম=নিষ্কাম।

স্বরসন্ধি

১. ‘হিমালয়’ এর সন্ধিবিচ্ছেদ?

উত্তর ও ব্যাখ্যা: হিম+আলয়।

২. ‘শুভেচ্ছা’ এর সন্ধিবিচ্ছেদ?

উত্তর ও ব্যাখ্যা: শুভ+ইচ্ছা।

৩. ‘সূর্যোদয়’ এর সন্ধিবিচ্ছেদ?

উত্তর ও ব্যাখ্যা: সূর্য+উদয়।

৪. ‘রবীন্দ্র’ এর সন্ধিবিচ্ছেদ?

উত্তর ও ব্যাখ্যা: রবি+ইন্দ্র।

৫. ‘পরীক্ষা’ এর সন্ধিবিচ্ছেদ?

উত্তর ও ব্যাখ্যা: পরি+ঈক্ষা।

৬. ‘মহর্ষি’ এর সন্ধিবিচ্ছেদ?

উত্তর ও ব্যাখ্যা: মহা+ঋষি।

৭. ‘বধূৎসব’ এর সন্ধিবিচ্ছেদ?

উত্তর ও ব্যাখ্যা: বধূ+উৎসব।

৮. ‘গণেশ’ এর সন্ধিবিচ্ছেদ?

উত্তর ও ব্যাখ্যা: গণ+ঈশ।

৯. ‘জনৈক’ এর সন্ধিবিচ্ছেদ?

উত্তর ও ব্যাখ্যা: জন+এক।

১০. ‘হিতৈষী’ এর সন্ধিবিচ্ছেদ?

উত্তর ও ব্যাখ্যা: হিত+ঐষী।

গুণ, বৃদ্ধি, যণ ও অয়াদি

১১. ‘নরেন্দ্র’ কোন সন্ধি?

উত্তর ও ব্যাখ্যা: গুণ সন্ধি।

১২. ‘পরোপকার’ কোন সন্ধি?

উত্তর ও ব্যাখ্যা: গুণ সন্ধি।

১৩. ‘মতৈক্য’ কোন সন্ধি?

উত্তর ও ব্যাখ্যা: বৃদ্ধি সন্ধি।

১৪. ‘বনৌষধি’ কোন সন্ধি?

উত্তর ও ব্যাখ্যা: বৃদ্ধি সন্ধি।

১৫. ‘অত্যন্ত’ কোন সন্ধি?

উত্তর ও ব্যাখ্যা: যণ সন্ধি।

১৬. ‘স্বল্প’ কোন সন্ধি?

উত্তর ও ব্যাখ্যা: যণ সন্ধি (সু+অল্প)।

১৭. ‘পবন’ কোন সন্ধি?

উত্তর ও ব্যাখ্যা: অয়াদি সন্ধি (পো+অন)।

১৮. ‘গায়ক’ কোন সন্ধি?

উত্তর ও ব্যাখ্যা: অয়াদি সন্ধি (গৈ+অক)।

১৯. গুণ সন্ধির ফল কী?

উত্তর ও ব্যাখ্যা: এ/ও/অর্।

২০. বৃদ্ধি সন্ধির ফল কী?

উত্তর ও ব্যাখ্যা: ঐ/ঔ।

ব্যঞ্জন ও ম্-জনিত সন্ধি

২১. ‘দিগন্ত’ এর সন্ধিবিচ্ছেদ?

উত্তর ও ব্যাখ্যা: দিক্+অন্ত।

২২. ‘উদ্ধার’ এর সন্ধিবিচ্ছেদ?

উত্তর ও ব্যাখ্যা: উৎ+হার।

২৩. ‘উজ্জ্বল’ এর সন্ধিবিচ্ছেদ?

উত্তর ও ব্যাখ্যা: উৎ+জ্বল।

২৪. ‘পরিচ্ছদ’ এর সন্ধিবিচ্ছেদ?

উত্তর ও ব্যাখ্যা: পরি+ছদ।

২৫. ‘রাজ্ঞী’ এর সন্ধিবিচ্ছেদ?

উত্তর ও ব্যাখ্যা: রাজ্+নী।

২৬. ‘সঞ্চয়’ এর সন্ধিবিচ্ছেদ?

উত্তর ও ব্যাখ্যা: সম্+চয়।

২৭. ‘সংহার’ এর সন্ধিবিচ্ছেদ?

উত্তর ও ব্যাখ্যা: সম্+হার।

২৮. ‘সন্তাপ’ এর সন্ধিবিচ্ছেদ?

উত্তর ও ব্যাখ্যা: সম্+তাপ।

২৯. ‘জগন্নাথ’ এর সন্ধিবিচ্ছেদ?

উত্তর ও ব্যাখ্যা: জগৎ+নাথ।

৩০. ‘সম্’+চ-বর্গ = কী?

উত্তর ও ব্যাখ্যা: ঞ (সঞ্চয়)।

বিসর্গ, নিপাতন ও তুলনা

৩১. ‘মনোযোগ’ এর সন্ধিবিচ্ছেদ?

উত্তর ও ব্যাখ্যা: মনঃ+যোগ।

৩২. ‘নিরাকার’ এর সন্ধিবিচ্ছেদ?

উত্তর ও ব্যাখ্যা: নিঃ+আকার।

৩৩. ‘নমস্কার’ এর সন্ধিবিচ্ছেদ?

উত্তর ও ব্যাখ্যা: নমঃ+কার।

৩৪. ‘নিষ্কাম’ এর সন্ধিবিচ্ছেদ?

উত্তর ও ব্যাখ্যা: নিঃ+কাম।

৩৫. ‘অন্তর্গত’ এর সন্ধিবিচ্ছেদ?

উত্তর ও ব্যাখ্যা: অন্তঃ+গত।

৩৬. ‘নিশ্চয়’ এর সন্ধিবিচ্ছেদ?

উত্তর ও ব্যাখ্যা: নিঃ+চয়।

৩৭. ‘পরস্পর’ কোন সন্ধি?

উত্তর ও ব্যাখ্যা: নিপাতনে সিদ্ধ।

৩৮. ‘ষোড়শ’ এর সন্ধিবিচ্ছেদ?

উত্তর ও ব্যাখ্যা: ষট়+দশ।

৩৯. সন্ধি ও সমাসের মূল পার্থক্য কী?

উত্তর ও ব্যাখ্যা: সন্ধি ধ্বনির মিলন, সমাস পদের/অর্থের মিলন।

৪০. সংস্কৃত সন্ধি কয় প্রকার?

উত্তর ও ব্যাখ্যা: তিন—স্বর, ব্যঞ্জন, বিসর্গ।

অতিরিক্ত অনুশীলন

৪১. সন্ধি কী?

উত্তর ও ব্যাখ্যা: পাশাপাশি দুই ধ্বনির মিলন।

৪২. বাংলা সন্ধি কত প্রকার?

উত্তর ও ব্যাখ্যা: ২ (স্বর ও ব্যঞ্জন)।

৪৩. সংস্কৃত সন্ধি কত প্রকার?

উত্তর ও ব্যাখ্যা: ৩ (স্বর, ব্যঞ্জন, বিসর্গ)।

৪৪. বিদ্যা+আলয়=?

উত্তর ও ব্যাখ্যা: বিদ্যালয়।

৪৫. হিম+আলয়=?

উত্তর ও ব্যাখ্যা: হিমালয়।

৪৬. দেব+আলয়=?

উত্তর ও ব্যাখ্যা: দেবালয়।

৪৭. নর+অধম=?

উত্তর ও ব্যাখ্যা: নরাধম।

৪৮. সিংহ+আসন=?

উত্তর ও ব্যাখ্যা: সিংহাসন।

৪৯. মহা+আশয়=?

উত্তর ও ব্যাখ্যা: মহাশয়।

৫০. রবি+ইন্দ্র=?

উত্তর ও ব্যাখ্যা: রবীন্দ্র।

৫১. গিরি+ইন্দ্র=?

উত্তর ও ব্যাখ্যা: গিরীন্দ্র।

৫২. সু+উক্তি=?

উত্তর ও ব্যাখ্যা: সূক্তি।

৫৩. বধূ+উৎসব=?

উত্তর ও ব্যাখ্যা: বধূৎসব।

৫৪. মহা+ঋষি=?

উত্তর ও ব্যাখ্যা: মহর্ষি।

৫৫. দেব+ইন্দ্র=?

উত্তর ও ব্যাখ্যা: দেবেন্দ্র।

৫৬. নর+ইন্দ্র=?

উত্তর ও ব্যাখ্যা: নরেন্দ্র।

৫৭. গঙ্গা+উর্মি=?

উত্তর ও ব্যাখ্যা: গঙ্গোর্মি।

৫৮. মহা+উৎসব=?

উত্তর ও ব্যাখ্যা: মহোৎসব।

৫৯. জল+ওঠা=?

উত্তর ও ব্যাখ্যা: জলোঠা→(বাংলা) জল ওঠা।

৬০. এক+এক=?

উত্তর ও ব্যাখ্যা: একেক।

৬১. নে+অন=?

উত্তর ও ব্যাখ্যা: নয়ন।

৬২. গৈ+অক=?

উত্তর ও ব্যাখ্যা: গায়ক।

৬৩. পো+অন=?

উত্তর ও ব্যাখ্যা: পবন।

৬৪. ভৌ+উক=?

উত্তর ও ব্যাখ্যা: ভাবুক।

৬৫. বাক্+দান=?

উত্তর ও ব্যাখ্যা: বাগ্‌দান।

৬৬. দিক্+অন্ত=?

উত্তর ও ব্যাখ্যা: দিগন্ত।

৬৭. তৎ+জন্য=?

উত্তর ও ব্যাখ্যা: তজ্জন্য।

৬৮. সৎ+জন=?

উত্তর ও ব্যাখ্যা: সজ্জন।

৬৯. উৎ+চারণ=?

উত্তর ও ব্যাখ্যা: উচ্চারণ।

৭০. তৎ+টীকা=?

উত্তর ও ব্যাখ্যা: তট্টীকা।

৭১. সম্+চয়=?

উত্তর ও ব্যাখ্যা: সঞ্চয়।

৭২. সম্+তোষ=?

উত্তর ও ব্যাখ্যা: সন্তোষ।

৭৩. সম্+বাদ=?

উত্তর ও ব্যাখ্যা: সংবাদ।

৭৪. সম্+গীত=?

উত্তর ও ব্যাখ্যা: সঙ্গীত।

৭৫. উৎ+মুখ=?

উত্তর ও ব্যাখ্যা: উন্মুখ।

৭৬. রাজ্+নী=?

উত্তর ও ব্যাখ্যা: রাজ্ঞী।

৭৭. বিসর্গ সন্ধি কীসে হয়?

উত্তর ও ব্যাখ্যা: বিসর্গের সঙ্গে।

৭৮. মনঃ+কষ্ট=?

উত্তর ও ব্যাখ্যা: মনস্তাপ (মনঃকষ্ট)।

৭৯. নিঃ+আকার=?

উত্তর ও ব্যাখ্যা: নিরাকার।

৮০. দুঃ+যোগ=?

উত্তর ও ব্যাখ্যা: দুর্যোগ।

৮১. নিঃ+রব=?

উত্তর ও ব্যাখ্যা: নীরব।

৮২. অন্তঃ+গত=?

উত্তর ও ব্যাখ্যা: অন্তর্গত।

৮৩. পুরঃ+কার=?

উত্তর ও ব্যাখ্যা: পুরস্কার।

৮৪. তিরঃ+কার=?

উত্তর ও ব্যাখ্যা: তিরস্কার।

৮৫. নমঃ+কার=?

উত্তর ও ব্যাখ্যা: নমস্কার।

৮৬. মনঃ+রম=?

উত্তর ও ব্যাখ্যা: মনোরম।

৮৭. অধঃ+গতি=?

উত্তর ও ব্যাখ্যা: অধোগতি।

৮৮. যশঃ+রাশি=?

উত্তর ও ব্যাখ্যা: যশোরাশি।

৮৯. নিসর্গ সন্ধি বাংলায় কী নামে?

উত্তর ও ব্যাখ্যা: খাঁটি বাংলা সন্ধি।

৯০. বাংলা সন্ধিতে সংস্কৃত নিয়ম খাটে?

উত্তর ও ব্যাখ্যা: না।

৯১. কাঁচা+কলা=?

উত্তর ও ব্যাখ্যা: কাঁচকলা।

৯২. বড়+দাদা=?

উত্তর ও ব্যাখ্যা: বড়দাদা।

৯৩. নাতি+বৌ=?

উত্তর ও ব্যাখ্যা: নাতবৌ।

৯৪. ঘোড়া+দৌড়=?

উত্তর ও ব্যাখ্যা: ঘোড়দৌড়।

৯৫. সন্ধির উদ্দেশ্য কী?

উত্তর ও ব্যাখ্যা: উচ্চারণ ও সংক্ষেপ।

৯৬. সন্ধি ও সমাসের পার্থক্য কী?

উত্তর ও ব্যাখ্যা: ধ্বনির/পদের মিলন।

৯৭. ‘পরস্পর’ কোন সন্ধি?

উত্তর ও ব্যাখ্যা: বিসর্গ সন্ধি।

৯৮. ‘ষড়্+আনন’=?

উত্তর ও ব্যাখ্যা: ষড়ানন।

৯৯. ‘এতদ্+দ্বারা’=?

উত্তর ও ব্যাখ্যা: এতদ্দ্বারা।

১০০. ‘তৎ+হিত’=?

উত্তর ও ব্যাখ্যা: তদ্ধিত।