বাংলা সাহিত্যের প্রাচীন যুগ ও চর্যাপদ
বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস হাজার বছরের পুরনো। এই সুদীর্ঘ ইতিহাসকে সময়ের বিচারে তিনটি বড় পর্বে ভাগ করা হয়—প্রাচীন যুগ (আনু. ৬৫০–১২০০ খ্রিস্টাব্দ), মধ্যযুগ (১২০১–১৮০০ খ্রিস্টাব্দ) এবং আধুনিক যুগ (১৮০১ খ্রিস্টাব্দ–বর্তমান)। এর মধ্যে প্রাচীন যুগ হলো বাংলা ভাষা ও সাহিত্যের সূচনাপর্ব, আর এই পর্বের একমাত্র প্রামাণ্য লিখিত নিদর্শন হলো চর্যাপদ। তাই বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস প্রকৃতপক্ষে চর্যাপদ দিয়েই শুরু হয়।
চর্যাপদ কোনো একক কবির রচনা নয়; এটি খ্রিস্টীয় সপ্তম থেকে দ্বাদশ শতকের মধ্যে বিভিন্ন সময়ে রচিত একগুচ্ছ গানের সংকলন। এই গানগুলো রচনা করেছিলেন বৌদ্ধ সহজিয়া সাধকেরা—সাধন-প্রক্রিয়া ও গূঢ় তত্ত্বকথা রূপকের আড়ালে প্রকাশ করার জন্য। ফলে চর্যাপদ একইসঙ্গে একটি ধর্মীয় সাধন-সংগীত এবং তৎকালীন বাঙালি সমাজজীবনের এক অমূল্য দলিল।
বিসিএসে প্রাচীন যুগের গুরুত্ব
চর্যাপদ ছোট অধ্যায় হলেও বিসিএসে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ; প্রায় প্রতি পরীক্ষায় এখান থেকে ১–২টি প্রশ্ন নিশ্চিতভাবে আসে। বিশেষত—আবিষ্কারক ও আবিষ্কারের সাল-স্থান, মূল নাম, টীকাকার, আদি কবি, সর্বাধিক পদের রচয়িতা, মোট পদসংখ্যা, পদকর্তার সংখ্যা এবং ভাষা সংক্রান্ত তথ্য থেকে। তথ্যগুলো নিখুঁতভাবে মনে রাখলে এখান থেকে নম্বর হারানোর সুযোগ নেই।
প্রশ্নের ধরন এক নজরে
| যেখান থেকে প্রশ্ন আসে | মূল উত্তর |
|---|---|
| আবিষ্কারক ও সাল | হরপ্রসাদ শাস্ত্রী, ১৯০৭ |
| আবিষ্কারের স্থান | নেপালের রাজদরবার |
| চর্যাপদের মূল নাম | চর্যাচর্যবিনিশ্চয় |
| টীকাকার | মুনিদত্ত |
| আদি কবি | লুইপা |
| সর্বাধিক পদের রচয়িতা | কাহ্নপা |
| মোট পদসংখ্যা | সাড়ে ৪৬টি |
| ভাষা | সন্ধ্যা/আলো-আঁধারি ভাষা |
বাংলা সাহিত্যের যুগবিভাগ
বাংলা সাহিত্যের যুগবিভাগ নিয়ে গবেষকদের মধ্যে কিছু মতভেদ থাকলেও, প্রচলিত ও সর্বাধিক গ্রহণযোগ্য বিভাজন হলো তিন যুগে—প্রাচীন, মধ্য ও আধুনিক। ড. মুহম্মদ শহীদুল্লাহ প্রাচীন যুগের সূচনা ধরেন খ্রিস্টীয় সপ্তম শতকে (আনু. ৬৫০ খ্রি.), আর ড. সুনীতিকুমার চট্টোপাধ্যায় ও ড. সুকুমার সেন এর সূচনা ধরেন আনুমানিক দশম শতকে (আনু. ৯৫০ খ্রি.)। এই মতভেদ মূলত চর্যাপদের রচনাকাল নিয়ে।
প্রাচীন যুগ ও মধ্যযুগের মাঝখানে (আনু. ১২০১–১৩৫০) একটি সাহিত্য-নিদর্শনহীন সময় আছে, যাকে অনেকে ‘অন্ধকার যুগ’ বলেন। মধ্যযুগ ছিল মূলত পদ্য ও ধর্মাশ্রিত সাহিত্যের যুগ, আর আধুনিক যুগে এসে গদ্য, উপন্যাস, ছোটগল্প ও আধুনিক কবিতার বিকাশ ঘটে।
| যুগ | কালসীমা | একমাত্র/প্রধান নিদর্শন |
|---|---|---|
| প্রাচীন যুগ | আনু. ৬৫০–১২০০ খ্রি. | চর্যাপদ (একমাত্র নিদর্শন) |
| অন্ধকার যুগ | আনু. ১২০১–১৩৫০ খ্রি. | নির্ভরযোগ্য নিদর্শন প্রায় নেই |
| মধ্যযুগ | ১২০১–১৮০০ খ্রি. | শ্রীকৃষ্ণকীর্তন, মঙ্গলকাব্য, পদাবলি |
| আধুনিক যুগ | ১৮০১ খ্রি.–বর্তমান | গদ্য, উপন্যাস, আধুনিক কবিতা |
কালসীমা নিয়ে মতভেদ
- ড. মুহম্মদ শহীদুল্লাহ: প্রাচীন যুগ আনু. ৬৫০ খ্রিস্টাব্দ থেকে;
- ড. সুনীতিকুমার চট্টোপাধ্যায় ও সুকুমার সেন: আনু. ৯৫০ খ্রিস্টাব্দ থেকে;
- পরীক্ষায় সাধারণত ‘আনু. ৬৫০–১২০০ খ্রিস্টাব্দ’ উত্তরটিই গ্রহণযোগ্য ধরা হয়।
চর্যাপদ: নাম ও স্বরূপ
‘চর্যা’ শব্দের অর্থ আচরণীয় বা অনুশীলনযোগ্য সাধন-পদ্ধতি। চর্যাপদের প্রকৃত বা মূল নাম ‘চর্যাচর্যবিনিশ্চয়’—অর্থাৎ কোন আচরণ করণীয় (চর্য) এবং কোনটি বর্জনীয় (অচর্য), তার নিশ্চয় বা নির্ণয়। এ ছাড়া একে ‘চর্যাগীতিকা’, ‘চর্যাগীতিকোষ’, ‘আশ্চর্যচর্যাচয়’ প্রভৃতি নামেও অভিহিত করা হয়।
স্বরূপগত দিক থেকে চর্যাপদ হলো বৌদ্ধ সহজযান সম্প্রদায়ের সাধকদের রচিত সাধন-সংগীত। এই সাধকেরা মনে করতেন, কঠোর তত্ত্বকথা সরাসরি না বলে রূপক ও প্রতীকের মাধ্যমে বললে তা কেবল দীক্ষিত শিষ্যরাই বুঝবেন, সাধারণ মানুষের কাছে গূঢ় থেকে যাবে। এ কারণেই চর্যার ভাষা রহস্যময়, দ্ব্যর্থবোধক—যাকে বলা হয় ‘সন্ধ্যা ভাষা’ বা ‘আলো-আঁধারি ভাষা’।
তবে এই গানগুলো নিছক তত্ত্বকথা নয়। রূপক তৈরি করতে গিয়ে সাধকেরা যে সমস্ত উপমা-দৃষ্টান্ত ব্যবহার করেছেন, সেগুলোতে অজান্তেই উঠে এসেছে সমকালীন বাংলার সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রা—তাদের দারিদ্র্য, পেশা, আনন্দ-বেদনা। ফলে সাহিত্যিক মূল্যের পাশাপাশি চর্যাপদ একটি অমূল্য সামাজিক ও ঐতিহাসিক দলিলও বটে।
এক নজরে চর্যাপদের পরিচয়
- মূল নাম: চর্যাচর্যবিনিশ্চয়;
- ধরন: বৌদ্ধ সহজিয়া সাধকদের সাধন-সংগীত;
- ভাষা: সন্ধ্যা/আলো-আঁধারি ভাষা;
- মর্যাদা: বাংলা সাহিত্যের আদি বা প্রাচীনতম নিদর্শন।
চর্যাপদের আবিষ্কার ও প্রকাশ
চর্যাপদ শতাব্দীর পর শতাব্দী বিস্মৃত ছিল; এর অস্তিত্ব সম্পর্কে বাঙালি দীর্ঘকাল অজ্ঞাত ছিল। এই হারানো সম্পদ পুনরুদ্ধারের কৃতিত্ব মহামহোপাধ্যায় হরপ্রসাদ শাস্ত্রীর (১৮৫৩–১৯৩১)। প্রাচীন পুঁথির সন্ধানে তিনি কয়েকবার নেপাল ভ্রমণ করেন। ১৯০৭ খ্রিস্টাব্দে নেপালের রাজদরবারের গ্রন্থাগার (রয়্যাল লাইব্রেরি) থেকে তিনি চর্যাপদের পুঁথিসহ কয়েকটি মূল্যবান বৌদ্ধ পুঁথি আবিষ্কার করেন।
হরপ্রসাদ শাস্ত্রী নেপাল থেকে যে পুঁথিগুলো সংগ্রহ করেন, তার মধ্যে ছিল—‘চর্যাচর্যবিনিশ্চয়’ (অর্থাৎ চর্যাপদ), সরহপাদ ও কৃষ্ণাচার্যের ‘দোহাকোষ’ এবং ‘ডাকার্ণব’। এই পুঁথিগুলো একত্র করে তিনি ১৯১৬ খ্রিস্টাব্দে কলকাতার বঙ্গীয় সাহিত্য পরিষদ থেকে ‘হাজার বছরের পুরাণ বাঙ্গালা ভাষায় বৌদ্ধগান ও দোহা’ নামে গ্রন্থাকারে প্রকাশ করেন।
চর্যাপদের মূল পুঁথির সঙ্গে ছিল আচার্য মুনিদত্ত রচিত একটি সংস্কৃত টীকা (‘নির্মলগিরা টীকা’), যা পদগুলোর গূঢ় অর্থ বুঝতে সাহায্য করে। মূল পুঁথির কয়েকটি পাতা হারিয়ে যাওয়ায় কিছু পদ অসম্পূর্ণ বা লুপ্ত। পরবর্তীকালে চর্যার একটি তিব্বতি অনুবাদও পাওয়া যায়; ড. প্রবোধচন্দ্র বাগচী সেই অনুবাদ নিয়ে গবেষণা করে হারানো কয়েকটি পদের সন্ধান দেন।
| বিষয় | তথ্য |
|---|---|
| আবিষ্কারক | মহামহোপাধ্যায় হরপ্রসাদ শাস্ত্রী |
| আবিষ্কারের সাল | ১৯০৭ খ্রিস্টাব্দ |
| আবিষ্কারের স্থান | নেপালের রাজদরবারের গ্রন্থাগার |
| মূল নাম | চর্যাচর্যবিনিশ্চয় |
| টীকাকার | মুনিদত্ত (সংস্কৃত টীকা) |
| প্রকাশকাল | ১৯১৬ খ্রিস্টাব্দ |
| প্রকাশক | বঙ্গীয় সাহিত্য পরিষদ, কলকাতা |
| প্রকাশিত গ্রন্থের নাম | হাজার বছরের পুরাণ বাঙ্গালা ভাষায় বৌদ্ধগান ও দোহা |
| তিব্বতি অনুবাদ নিয়ে গবেষণা | ড. প্রবোধচন্দ্র বাগচী |
সাল দুটি আলাদা করে মনে রাখুন
আবিষ্কার ১৯০৭, কিন্তু গ্রন্থাকারে প্রকাশ ১৯১৬—এই দুটি সাল প্রায়ই একসঙ্গে বিকল্প হিসেবে দেওয়া হয়। ‘আবিষ্কার’ বললে ১৯০৭, ‘প্রকাশ’ বললে ১৯১৬। মনে রাখার সহজ সূত্র: শাস্ত্রী প্রথমে খুঁজে পান (১৯০৭), তারপর ছাপান (১৯১৬)।
বিষয়বস্তু ও সমাজচিত্র
চর্যাপদের মুখ্য বিষয় হলো বৌদ্ধ সহজিয়া সাধনতত্ত্ব—দেহকে কেন্দ্র করে যোগসাধনা, চিত্তশুদ্ধি এবং পরম সত্য বা মহাসুখ লাভের পথ। এই তত্ত্বকথা প্রকাশ করা হয়েছে নানা রূপক ও প্রতীকের আশ্রয়ে। যেমন—নৌকা বাওয়া, হরিণ শিকার, তাঁত বোনা, মদ চোলাই, বিয়ের অনুষ্ঠান প্রভৃতি দৈনন্দিন ঘটনার মধ্য দিয়ে গূঢ় সাধনতত্ত্ব বোঝানো হয়েছে।
এই রূপক নির্মাণের ফাঁকে ফুটে উঠেছে খ্রিস্টীয় সপ্তম–দ্বাদশ শতকের বাংলার সাধারণ ও নিম্নবর্গের মানুষের জীবনচিত্র। চর্যায় দেখা মেলে ডোম, শবর, চণ্ডাল, মাঝি, শিকারি, তাঁতির মতো পেশাজীবী মানুষের; দেখা যায় তাদের কুঁড়েঘর, দারিদ্র্য, নৌকা, শিকার, চাষবাস ও উৎসবের ছবি। এ কারণেই চর্যাপদকে বলা হয় সমকালীন বাঙালি সমাজের ‘জীবন্ত প্রতিচ্ছবি’।
চর্যায় প্রতিফলিত সমাজচিত্র
- পেশা: শিকার, নৌকা বাওয়া, তাঁত বোনা, মদ চোলাই, ডালা-কুলা বানানো;
- জনগোষ্ঠী: ডোম, শবর, চণ্ডাল, কাপালিক—সমাজের নিম্নবর্গের মানুষ;
- জীবনযাত্রা: দারিদ্র্য, ঋণ, উঁচু-নিচু ভেদাভেদ, বিয়ের আচার;
- প্রকৃতি: নদী, বন, পাহাড়, হাতি, হরিণ, ইঁদুর প্রভৃতির উল্লেখ।
চর্যার একটি বিখ্যাত পঙ্ক্তি ভুসুকুপার—‘আপণা মাংসে হরিণা বৈরী’ (হরিণ নিজের মাংসের কারণেই নিজের শত্রু); আরেকটি বিখ্যাত চিত্র—‘টালত মোর ঘর নাহি পড়বেষী’ (উঁচু ঢিবির উপর আমার ঘর, প্রতিবেশী নেই)—যেখানে দারিদ্র্য ও নিঃসঙ্গতার ছবি রূপকের ভেতর দিয়ে ফুটে উঠেছে।
পদকর্তা / সিদ্ধাচার্য
চর্যাপদের পদকর্তাদের বলা হয় সিদ্ধাচার্য—অর্থাৎ সিদ্ধিলাভ করা বৌদ্ধ সাধক। তাঁদের নামের শেষে সম্মানসূচক ‘পা’ (পাদ) যুক্ত থাকে (যেমন লুই + পা = লুইপা)। পদকর্তার সংখ্যা ২৪ জন (মতান্তরে ২৩ জন)। এঁদের মধ্যে কেউ কেউ একাধিক পদ রচনা করেছেন।
লুইপা-কে চর্যাপদের আদি বা প্রথম কবি ধরা হয়; তাঁর রচিত পদ সংখ্যায় অল্প হলেও তাঁকে সিদ্ধাচার্যদের অগ্রণী মনে করা হয়। সবচেয়ে বেশি পদ রচনা করেন কাহ্নপা (কৃষ্ণাচার্য/কৃষ্ণপাদ)—তাঁর পদের সংখ্যা ১৩টি (কোনো কোনো গণনায় ১২টি)। ভুসুকুপা রচনা করেন উল্লেখযোগ্যসংখ্যক পদ এবং তিনি নিজেকে বাঙালি বলে উল্লেখ করেছেন (‘বাঙ্গালী ভইলী’)।
| সিদ্ধাচার্য | পরিচয় / অবদান |
|---|---|
| লুইপা | চর্যাপদের আদি কবি; সিদ্ধাচার্যদের অগ্রণী |
| কাহ্নপা (কৃষ্ণাচার্য) | সর্বাধিক পদের (১৩টি) রচয়িতা |
| ভুসুকুপা | বহু পদের রচয়িতা; নিজেকে বাঙালি বলে দাবি |
| সরহপা | প্রাচীনতম সিদ্ধাচার্যদের একজন; দোহাকোষের রচয়িতা |
| শবরপা | লুইপার গুরু হিসেবে পরিচিত |
| কুক্কুরীপা | অনেকের মতে একমাত্র নারী পদকর্তা |
| ঢেণ্ঢণপা, ডোম্বীপা | অন্যান্য উল্লেখযোগ্য পদকর্তা |
পরীক্ষায় বহুল-জিজ্ঞাসিত
- আদি কবি—লুইপা;
- সর্বাধিক পদ—কাহ্নপা (১৩টি);
- নিজেকে বাঙালি দাবি—ভুসুকুপা;
- সম্ভাব্য একমাত্র নারী কবি—কুক্কুরীপা।
পদসংখ্যা ও পুঁথির অবস্থা
নেপাল থেকে প্রাপ্ত পুঁথিতে চর্যাপদের সাড়ে ৪৬টি পদ পাওয়া গেছে—৪৬টি সম্পূর্ণ এবং ২৩ নম্বর পদটি খণ্ডিত বা অসম্পূর্ণ, তাই একে ‘সাড়ে ৪৬’ বলা হয়। মুনিদত্তের টীকা অনুযায়ী মূল চর্যাপদে ৫১টি পদ ছিল বলে ধারণা করা হয়; কিন্তু পুঁথির কয়েকটি পাতা হারিয়ে যাওয়ায় ২৪, ২৫ ও ৪৮ নম্বর পদ এবং ২৩ নম্বর পদের কিছু অংশ পাওয়া যায়নি।
পরবর্তীকালে চর্যার তিব্বতি অনুবাদ থেকে হারানো কয়েকটি পদের পাঠ উদ্ধার করা সম্ভব হয়েছে। ফলে সংখ্যা নিয়ে দুটি তথ্য একসঙ্গে মনে রাখা জরুরি—প্রাপ্ত পদ সাড়ে ৪৬টি, আর মূল ধারণা অনুযায়ী ৫১টি।
| বিষয় | সংখ্যা / তথ্য |
|---|---|
| প্রাপ্ত পদসংখ্যা | সাড়ে ৪৬টি (৪৬ সম্পূর্ণ + ২৩নং খণ্ডিত) |
| মূল পদসংখ্যা (ধারণা) | ৫১টি |
| যেসব পদ পাওয়া যায়নি | ২৪, ২৫, ৪৮ ও ২৩ নম্বরের অংশ |
| পদকর্তার সংখ্যা | ২৪ জন (মতান্তরে ২৩) |
| সর্বাধিক পদ | কাহ্নপা—১৩টি |
সংখ্যা মনে রাখার সহজ সূত্র
প্রাপ্ত সাড়ে ৪৬, মূল ৫১, পদকর্তা ২৪, কাহ্নপার ১৩, আদি কবি লুইপা—এই পাঁচটি সংখ্যা/তথ্য একসঙ্গে আয়ত্তে থাকলে চর্যাপদের প্রায় সব প্রশ্নের উত্তর দেওয়া যায়।
ভাষা ও ভাষা-বিতর্ক
চর্যাপদের ভাষাকে হরপ্রসাদ শাস্ত্রী নাম দিয়েছেন ‘সন্ধ্যা ভাষা’ বা ‘আলো-আঁধারি ভাষা’। কারণ এর অর্থ কখনো স্পষ্ট, কখনো অস্পষ্ট বা রহস্যাবৃত—আলো ও অন্ধকারের মাঝামাঝি। এই দ্ব্যর্থবোধকতা ইচ্ছাকৃত; সাধন-তত্ত্বকে গোপন রাখাই ছিল এর উদ্দেশ্য। (কেউ কেউ ‘সন্ধ্যা’ শব্দটিকে ‘সন্ধা’ অর্থাৎ ‘অভিপ্রায়/ইঙ্গিতের ভাষা’ বলেও ব্যাখ্যা করেন।)
চর্যাপদের ভাষা কোন ভাষার আদি রূপ, তা নিয়ে দীর্ঘ বিতর্ক আছে। বাংলা ছাড়াও ওড়িয়া, অসমীয়া, মৈথিলি ও হিন্দি ভাষাভাষীরা একে নিজেদের সাহিত্যের আদি নিদর্শন বলে দাবি করেন। তবে ড. সুনীতিকুমার চট্টোপাধ্যায় তাঁর বিখ্যাত গ্রন্থ ‘The Origin and Development of the Bengali Language’ (ODBL, ১৯২৬)-এ ধ্বনি, শব্দ, রূপ ও বাক্যগঠন বিশ্লেষণ করে প্রমাণ করেন যে চর্যাপদের ভাষা মূলত প্রাচীন বাংলা। ড. মুহম্মদ শহীদুল্লাহও এই মত সমর্থন করেন।
চর্যাপদ যে বাংলা ভাষার নিদর্শন—প্রমাণ
- ক্রিয়াপদের রূপ (যেমন ‘-ইল’, ‘-ইব’ প্রত্যয়) বাংলার মতো;
- কর্তৃকারকে ‘-এ’ বিভক্তির ব্যবহার;
- শব্দভাণ্ডার ও বাক্যগঠনে বাংলার সুস্পষ্ট বৈশিষ্ট্য;
- ড. সুনীতিকুমার চট্টোপাধ্যায় ODBL-এ ভাষাতাত্ত্বিকভাবে এটি প্রতিষ্ঠা করেন।
ছন্দ, রাগ-রাগিণী ও ধর্মমত
চর্যাপদ ছিল গেয় বা গানের পদ; নির্দিষ্ট সুরে এগুলো গাওয়া হতো। তাই প্রতিটি পদের শুরুতে যে রাগে গানটি গাওয়া হবে, তার নাম উল্লেখ করা আছে—যেমন পটমঞ্জরী, গবড়া, ভৈরবী, কামোদ, দেশাখ প্রভৃতি। এর মধ্যে ‘পটমঞ্জরী’ রাগেই সর্বাধিক পদ রচিত। ছন্দের দিক থেকে চর্যাপদে প্রধানত মাত্রাবৃত্ত জাতীয় ছন্দ ব্যবহৃত হয়েছে।
ধর্মমতের দিক থেকে চর্যার সাধকেরা ছিলেন মহাযান বৌদ্ধধর্মের বজ্রযান-সহজযান শাখার অনুসারী। তাঁরা কঠোর আচার-অনুষ্ঠানের বদলে সহজ ও স্বাভাবিক পথে সাধনার কথা বলতেন—এই কারণেই ‘সহজযান’ ও ‘সহজিয়া’ নাম। দেহভিত্তিক সাধনা ও গুরুবাদ ছিল এই মতের কেন্দ্রীয় বৈশিষ্ট্য।
| বিষয় | তথ্য |
|---|---|
| গানের বৈশিষ্ট্য | প্রতিটি পদ নির্দিষ্ট রাগে গেয় |
| সর্বাধিক ব্যবহৃত রাগ | পটমঞ্জরী |
| ছন্দ | মাত্রাবৃত্ত (পাদাকুলক জাতীয়) |
| ধর্মমত | বজ্রযান-সহজযান (সহজিয়া) বৌদ্ধধর্ম |
অন্ধকার যুগ (আনু. ১২০১–১৩৫০)
চর্যাপদ-পরবর্তী এবং ‘শ্রীকৃষ্ণকীর্তন’-পূর্ব প্রায় দেড়শ বছরকে (আনু. ১২০১–১৩৫০) কোনো কোনো সাহিত্য-ঐতিহাসিক ‘অন্ধকার যুগ’ বা ‘বন্ধ্যা যুগ’ বলেন, কারণ এই সময়ের কোনো নির্ভরযোগ্য মৌলিক সাহিত্যিক নিদর্শন পাওয়া যায় না। ১২০৪ খ্রিস্টাব্দে ইখতিয়ার উদ্দিন মুহম্মদ বখতিয়ার খলজির বাংলা বিজয় ও পরবর্তী রাজনৈতিক অস্থিরতাকে এর কারণ হিসেবে দেখানো হয়।
তবে ‘অন্ধকার যুগ’ ধারণাটি বিতর্কিত। ড. মুহম্মদ শহীদুল্লাহসহ অনেক গবেষক এই নামকরণে আপত্তি করেন; তাঁদের মতে এ সময়েও সাহিত্যচর্চা চলছিল, কেবল নিদর্শন টিকে থাকেনি। এ সময়ের রচনা হিসেবে যেসব নিদর্শনের কথা বলা হয় (যদিও রচনাকাল বিতর্কিত), সেগুলো হলো—রামাই পণ্ডিতের ‘শূন্যপুরাণ’, হলায়ুধ মিশ্রের ‘সেক শুভোদয়া’ এবং ‘প্রাকৃত পৈঙ্গল’।
অন্ধকার যুগ সম্পর্কে জেনে রাখুন
- কালসীমা: আনু. ১২০১–১৩৫০ খ্রিস্টাব্দ;
- কারণ: তুর্কি বিজয় ও রাজনৈতিক-সাংস্কৃতিক অস্থিরতা;
- বিতর্কিত নিদর্শন: শূন্যপুরাণ, সেক শুভোদয়া, প্রাকৃত পৈঙ্গল;
- নামকরণে আপত্তি: ড. মুহম্মদ শহীদুল্লাহ প্রমুখ।
চর্যাপদের সাহিত্যিক মূল্য ও বৈশিষ্ট্য
চর্যাপদের গুরুত্ব বহুমাত্রিক। প্রথমত, এটি বাংলা ভাষার প্রাচীনতম নিদর্শন—হাজার বছর আগের বাংলা ভাষা কেমন ছিল, তা জানার একমাত্র প্রামাণ্য উৎস। দ্বিতীয়ত, এটি বাংলা কবিতার আদি নিদর্শন; রূপক, উপমা ও প্রতীকের ব্যবহারে এতে কাব্যিক সৌন্দর্য স্পষ্ট। তৃতীয়ত, এটি তৎকালীন সমাজ, অর্থনীতি ও ধর্মজীবনের এক অমূল্য ঐতিহাসিক দলিল।
চর্যাপদের প্রধান বৈশিষ্ট্য
- বাংলা ভাষা ও সাহিত্যের আদি/প্রাচীনতম নিদর্শন;
- বৌদ্ধ সহজিয়া সাধকদের রচিত গেয় সাধন-সংগীত;
- রূপক ও প্রতীকাশ্রয়ী ‘সন্ধ্যা ভাষা’;
- গূঢ় সাধনতত্ত্বের সঙ্গে সমকালীন সমাজজীবনের চিত্র;
- নির্দিষ্ট রাগে গেয়; মাত্রাবৃত্ত ছন্দে রচিত।
দ্রুত-তথ্য ও পরিভাষা
| বিষয় | তথ্য |
|---|---|
| বাংলা সাহিত্যের প্রাচীনতম নিদর্শন | চর্যাপদ |
| মূল নাম | চর্যাচর্যবিনিশ্চয় |
| আবিষ্কারক | হরপ্রসাদ শাস্ত্রী |
| আবিষ্কারের সাল ও স্থান | ১৯০৭; নেপালের রাজদরবার |
| প্রকাশ | ১৯১৬; বঙ্গীয় সাহিত্য পরিষদ |
| টীকাকার | মুনিদত্ত |
| আদি কবি | লুইপা |
| সর্বাধিক পদ | কাহ্নপা (১৩টি) |
| প্রাপ্ত পদসংখ্যা | সাড়ে ৪৬টি |
| মূল পদসংখ্যা (ধারণা) | ৫১টি |
| পদকর্তা | ২৪ জন |
| ভাষা | সন্ধ্যা/আলো-আঁধারি ভাষা |
| ভাষাতাত্ত্বিক প্রমাণকারী | ড. সুনীতিকুমার চট্টোপাধ্যায় (ODBL) |
| ধর্মমত | বজ্রযান-সহজযান বৌদ্ধধর্ম |
পরিভাষা (Glossary)
- চর্যা: আচরণীয়/অনুশীলনযোগ্য সাধন-পদ্ধতি;
- চর্যাচর্যবিনিশ্চয়: করণীয় ও বর্জনীয় নির্ণয়—চর্যাপদের মূল নাম;
- সন্ধ্যা ভাষা: আলো-আঁধারিময়, রূপকাশ্রয়ী দ্ব্যর্থবোধক ভাষা;
- সিদ্ধাচার্য: সিদ্ধিলাভ করা বৌদ্ধ সাধক-কবি;
- দোহা: দুই চরণবিশিষ্ট উপদেশমূলক পদ;
- সহজযান: মহাযান বৌদ্ধধর্মের সহজ-সাধনার শাখা।
বিগত বিসিএসে আসা প্রশ্ন (সমাধানসহ)
বাংলা সাহিত্যের প্রাচীনতম নিদর্শন কোনটি?
(ক) শ্রীকৃষ্ণকীর্তন (খ) চর্যাপদ (গ) মঙ্গলকাব্য (ঘ) বৈষ্ণব পদাবলি
উত্তর: (খ) চর্যাপদ
ব্যাখ্যা: চর্যাপদ (আনু. ৬৫০–১২০০) বাংলা ভাষা ও সাহিত্যের সবচেয়ে পুরনো লিখিত নিদর্শন; শ্রীকৃষ্ণকীর্তন মধ্যযুগের নিদর্শন।
চর্যাপদ কে আবিষ্কার করেন?
(ক) সুনীতিকুমার চট্টোপাধ্যায় (খ) দীনেশচন্দ্র সেন (গ) হরপ্রসাদ শাস্ত্রী (ঘ) মুনিদত্ত
উত্তর: (গ) হরপ্রসাদ শাস্ত্রী
ব্যাখ্যা: ১৯০৭ সালে নেপালের রাজদরবার থেকে হরপ্রসাদ শাস্ত্রী চর্যাপদ আবিষ্কার করেন; সুনীতিকুমার শুধু ভাষা বিশ্লেষণ করেন।
চর্যাপদের আদি কবি কে?
(ক) কাহ্নপা (খ) লুইপা (গ) ভুসুকুপা (ঘ) শবরপা
উত্তর: (খ) লুইপা
ব্যাখ্যা: লুইপাকে চর্যাপদের আদি বা প্রথম কবি ধরা হয়; সর্বাধিক পদ কিন্তু কাহ্নপার।
চর্যাপদে সর্বাধিক পদ কার রচনা?
(ক) লুইপা (খ) কাহ্নপা (গ) সরহপা (ঘ) কুক্কুরীপা
উত্তর: (খ) কাহ্নপা
ব্যাখ্যা: কাহ্নপা (কৃষ্ণাচার্য) সর্বাধিক ১৩টি পদ রচনা করেন।
চর্যাপদের ভাষাকে কী বলা হয়?
(ক) ব্রজবুলি (খ) সন্ধ্যা ভাষা (গ) সাধু ভাষা (ঘ) চলিত ভাষা
উত্তর: (খ) সন্ধ্যা ভাষা
ব্যাখ্যা: আলো-আঁধারিময় রূপকভাষা হওয়ায় হরপ্রসাদ শাস্ত্রী একে ‘সন্ধ্যা ভাষা’ বলেন। ব্রজবুলি মধ্যযুগের পদাবলির ভাষা।
চর্যাপদ কোথা থেকে আবিষ্কৃত হয়?
(ক) নেপালের রাজদরবার (খ) আরাকান রাজসভা (গ) কাশী (ঘ) শান্তিনিকেতন
উত্তর: (ক) নেপালের রাজদরবার
ব্যাখ্যা: ১৯০৭ সালে নেপালের রাজদরবারের গ্রন্থাগার থেকে এটি আবিষ্কৃত হয়।
চর্যাপদের প্রকৃত/মূল নাম কী?
(ক) চর্যাগীতি (খ) চর্যাচর্যবিনিশ্চয় (গ) দোহাকোষ (ঘ) বৌদ্ধগান ও দোহা
উত্তর: (খ) চর্যাচর্যবিনিশ্চয়
ব্যাখ্যা: চর্যাপদের মূল নাম ‘চর্যাচর্যবিনিশ্চয়’। ‘হাজার বছরের পুরাণ বাঙ্গালা ভাষায় বৌদ্ধগান ও দোহা’ হলো প্রকাশিত গ্রন্থের নাম।
চর্যাপদের টীকাকার কে?
(ক) হরপ্রসাদ শাস্ত্রী (খ) মুনিদত্ত (গ) প্রবোধচন্দ্র বাগচী (ঘ) সুকুমার সেন
উত্তর: (খ) মুনিদত্ত
ব্যাখ্যা: চর্যাপদের সংস্কৃত টীকা রচনা করেন আচার্য মুনিদত্ত।
চর্যাপদ কত সালে প্রকাশিত হয়?
(ক) ১৯০৭ (খ) ১৯১৬ (গ) ১৯২৬ (ঘ) ১৯০৯
উত্তর: (খ) ১৯১৬
ব্যাখ্যা: আবিষ্কার ১৯০৭ হলেও গ্রন্থাকারে প্রকাশ ১৯১৬ সালে (বঙ্গীয় সাহিত্য পরিষদ)।
আবিষ্কার, প্রকাশ ও নাম
১. বাংলা সাহিত্যের আদি/প্রাচীনতম নিদর্শন কী?
উত্তর ও ব্যাখ্যা: চর্যাপদ।
২. চর্যাপদের মূল নাম কী?
উত্তর ও ব্যাখ্যা: চর্যাচর্যবিনিশ্চয়।
৩. চর্যাপদ কে আবিষ্কার করেন?
উত্তর ও ব্যাখ্যা: হরপ্রসাদ শাস্ত্রী।
৪. কত সালে আবিষ্কৃত হয়?
উত্তর ও ব্যাখ্যা: ১৯০৭ সালে।
৫. কোথা থেকে আবিষ্কৃত হয়?
উত্তর ও ব্যাখ্যা: নেপালের রাজদরবার থেকে।
৬. চর্যাপদ কত সালে প্রকাশিত হয়?
উত্তর ও ব্যাখ্যা: ১৯১৬ সালে।
৭. কোন প্রতিষ্ঠান থেকে প্রকাশিত হয়?
উত্তর ও ব্যাখ্যা: বঙ্গীয় সাহিত্য পরিষদ।
৮. প্রকাশিত গ্রন্থের নাম কী ছিল?
উত্তর ও ব্যাখ্যা: হাজার বছরের পুরাণ বাঙ্গালা ভাষায় বৌদ্ধগান ও দোহা।
৯. চর্যাপদের টীকাকার কে?
উত্তর ও ব্যাখ্যা: মুনিদত্ত।
১০. তিব্বতি অনুবাদ নিয়ে গবেষণা করেন কে?
উত্তর ও ব্যাখ্যা: ড. প্রবোধচন্দ্র বাগচী।
পদকর্তা, পদসংখ্যা ও স্বরূপ
১১. চর্যাপদের আদি কবি কে?
উত্তর ও ব্যাখ্যা: লুইপা।
১২. সর্বাধিক পদ কার রচনা?
উত্তর ও ব্যাখ্যা: কাহ্নপা (১৩টি)।
১৩. প্রাপ্ত পদসংখ্যা কত?
উত্তর ও ব্যাখ্যা: সাড়ে ৪৬টি।
১৪. মূল পদসংখ্যা কত বলে ধারণা?
উত্তর ও ব্যাখ্যা: ৫১টি।
১৫. পদকর্তার সংখ্যা কত?
উত্তর ও ব্যাখ্যা: ২৪ জন (মতান্তরে ২৩)।
১৬. কোন পদকর্তা নিজেকে বাঙালি বলে দাবি করেন?
উত্তর ও ব্যাখ্যা: ভুসুকুপা।
১৭. সম্ভাব্য একমাত্র নারী পদকর্তা কে?
উত্তর ও ব্যাখ্যা: কুক্কুরীপা।
১৮. চর্যাপদ কাদের রচিত?
উত্তর ও ব্যাখ্যা: বৌদ্ধ সহজিয়া সাধকদের।
১৯. সিদ্ধাচার্য বলতে কী বোঝায়?
উত্তর ও ব্যাখ্যা: সিদ্ধিলাভ করা বৌদ্ধ সাধক-কবি।
২০. কোন কোন পদ পাওয়া যায়নি?
উত্তর ও ব্যাখ্যা: ২৪, ২৫, ৪৮ নম্বর ও ২৩ নম্বরের অংশ।
ভাষা, ছন্দ, ধর্ম ও যুগ
২১. চর্যাপদের ভাষাকে কী বলা হয়?
উত্তর ও ব্যাখ্যা: সন্ধ্যা/আলো-আঁধারি ভাষা।
২২. চর্যাপদ কোন ভাষার নিদর্শন?
উত্তর ও ব্যাখ্যা: প্রাচীন বাংলা।
২৩. ভাষাতাত্ত্বিকভাবে কে এটি প্রমাণ করেন?
উত্তর ও ব্যাখ্যা: ড. সুনীতিকুমার চট্টোপাধ্যায় (ODBL)।
২৪. চর্যার সাধকেরা কোন ধর্মমতের?
উত্তর ও ব্যাখ্যা: বজ্রযান-সহজযান বৌদ্ধধর্ম।
২৫. চর্যাপদ কোন ছন্দে রচিত?
উত্তর ও ব্যাখ্যা: মাত্রাবৃত্ত (পাদাকুলক জাতীয়)।
২৬. সর্বাধিক পদ কোন রাগে গাওয়া হয়?
উত্তর ও ব্যাখ্যা: পটমঞ্জরী।
২৭. প্রাচীন যুগের কালসীমা কত?
উত্তর ও ব্যাখ্যা: আনু. ৬৫০–১২০০ খ্রিস্টাব্দ।
২৮. অন্ধকার যুগের কালসীমা কত?
উত্তর ও ব্যাখ্যা: আনু. ১২০১–১৩৫০ খ্রিস্টাব্দ।
২৯. ‘আপণা মাংসে হরিণা বৈরী’ পঙ্ক্তি কার?
উত্তর ও ব্যাখ্যা: ভুসুকুপা।
৩০. অন্ধকার যুগের নামকরণে কে আপত্তি করেন?
উত্তর ও ব্যাখ্যা: ড. মুহম্মদ শহীদুল্লাহ।
অতিরিক্ত অনুশীলন
৩১. বাংলা সাহিত্যের প্রাচীনতম নিদর্শন কী?
উত্তর ও ব্যাখ্যা: চর্যাপদ।
৩২. চর্যাপদ কে আবিষ্কার করেন?
উত্তর ও ব্যাখ্যা: হরপ্রসাদ শাস্ত্রী।
৩৩. কবে আবিষ্কৃত হয়?
উত্তর ও ব্যাখ্যা: ১৯০৭।
৩৪. কোথা থেকে আবিষ্কৃত হয়?
উত্তর ও ব্যাখ্যা: নেপাল রাজদরবার।
৩৫. চর্যাপদ কবে প্রকাশিত হয়?
উত্তর ও ব্যাখ্যা: ১৯১৬।
৩৬. কোন প্রতিষ্ঠান প্রকাশ করে?
উত্তর ও ব্যাখ্যা: বঙ্গীয় সাহিত্য পরিষদ।
৩৭. চর্যাপদের মূল নাম কী?
উত্তর ও ব্যাখ্যা: চর্যাচর্যবিনিশ্চয়।
৩৮. চর্যাপদের আদি কবি কে?
উত্তর ও ব্যাখ্যা: লুইপা।
৩৯. চর্যাপদে সর্বাধিক পদ কার?
উত্তর ও ব্যাখ্যা: কাহ্নপা।
৪০. কাহ্নপার পদ কয়টি?
উত্তর ও ব্যাখ্যা: ১৩টি।
৪১. চর্যাপদের ভাষাকে কী বলে?
উত্তর ও ব্যাখ্যা: সন্ধ্যা ভাষা।
৪২. ‘সন্ধ্যা ভাষা’ নামকরণ কে করেন?
উত্তর ও ব্যাখ্যা: হরপ্রসাদ শাস্ত্রী।
৪৩. চর্যাপদ কোন ধর্মের সাধকদের রচনা?
উত্তর ও ব্যাখ্যা: বৌদ্ধ সহজিয়া।
৪৪. চর্যাপদে মোট পদ কয়টি (প্রাপ্ত)?
উত্তর ও ব্যাখ্যা: সাড়ে ৪৬টি।
৪৫. চর্যাপদের কবি কতজন?
উত্তর ও ব্যাখ্যা: ২৪ জন।
৪৬. চর্যাপদের কোন পদ পাওয়া যায়নি?
উত্তর ও ব্যাখ্যা: ২৩,২৪,২৫ (আংশিক)।
৪৭. প্রাচীন যুগের সময়কাল কী?
উত্তর ও ব্যাখ্যা: ৬৫০–১২০০ খ্রি.।
৪৮. চর্যাপদের টীকাকার কে?
উত্তর ও ব্যাখ্যা: মুনিদত্ত।
৪৯. চর্যাপদ কোন ছন্দে রচিত?
উত্তর ও ব্যাখ্যা: মাত্রাবৃত্ত।
৫০. ‘আপণা মাংসে হরিণা বৈরী’ কার পদ?
উত্তর ও ব্যাখ্যা: ভুসুকুপা।
৫১. চর্যাপদে নারী চরিত্র কী নামে?
উত্তর ও ব্যাখ্যা: ডোম্বী, শবরী।
৫২. লুইপাকে কী বলা হয়?
উত্তর ও ব্যাখ্যা: আদি সিদ্ধাচার্য।
৫৩. চর্যাপদের প্রকাশক গ্রন্থের নাম কী?
উত্তর ও ব্যাখ্যা: হাজার বছরের পুরাণ বাঙ্গালা...বৌদ্ধ গান ও দোহা।
৫৪. চর্যাপদ কোন লিপিতে লেখা?
উত্তর ও ব্যাখ্যা: বাংলা/প্রাচীন লিপি।
৫৫. চর্যাপদে সমাজচিত্র আছে কি?
উত্তর ও ব্যাখ্যা: হ্যাঁ।
৫৬. চর্যাপদের রূপক অর্থ কী?
উত্তর ও ব্যাখ্যা: সাধনতত্ত্ব।
৫৭. প্রাচীন যুগের একমাত্র নিদর্শন কী?
উত্তর ও ব্যাখ্যা: চর্যাপদ।
৫৮. চর্যাপদ কোন অঞ্চলের ভাষা বলে ধারণা?
উত্তর ও ব্যাখ্যা: পূর্ব ভারতীয়।
৫৯. ‘শবরপা’ কোন পদের কবি?
উত্তর ও ব্যাখ্যা: চর্যাপদের।
৬০. চর্যার ভাষা রহস্যময় কেন?
উত্তর ও ব্যাখ্যা: রূপক-সংকেত।
৬১. হরপ্রসাদ শাস্ত্রীর উপাধি কী?
উত্তর ও ব্যাখ্যা: মহামহোপাধ্যায়।
৬২. চর্যাপদ কোন ভাষার আদি রূপ?
উত্তর ও ব্যাখ্যা: বাংলা।
৬৩. চর্যাপদ অসমীয়া-ওড়িয়ারাও দাবি করে কেন?
উত্তর ও ব্যাখ্যা: অভিন্ন উৎস।
৬৪. চর্যার পদগুলো কী?
উত্তর ও ব্যাখ্যা: গান।
৬৫. চর্যাপদে রাগ-রাগিণীর উল্লেখ আছে কি?
উত্তর ও ব্যাখ্যা: হ্যাঁ।
৬৬. প্রাচীন যুগের সাহিত্য মূলত কেমন?
উত্তর ও ব্যাখ্যা: ধর্মীয়/সাধনভিত্তিক।
৬৭. চর্যাপদ রচনার উদ্দেশ্য কী?
উত্তর ও ব্যাখ্যা: সাধনতত্ত্ব প্রচার।
৬৮. চর্যাপদের কবিদের কী বলা হয়?
উত্তর ও ব্যাখ্যা: সিদ্ধাচার্য।
৬৯. ‘টালত মোর ঘর নাহি পড়বেষী’ কোন পদ?
উত্তর ও ব্যাখ্যা: ঢেণ্ঢণপার।
৭০. চর্যাপদের পাণ্ডুলিপি কোথায় সংরক্ষিত?
উত্তর ও ব্যাখ্যা: নেপাল।
৭১. চর্যাপদ কি গীতিধর্মী?
উত্তর ও ব্যাখ্যা: হ্যাঁ।
৭২. চর্যাপদের সংস্কৃত টীকার নাম কী?
উত্তর ও ব্যাখ্যা: নির্মলগিরা টীকা।
৭৩. চর্যাপদে কয়টি রাগের উল্লেখ?
উত্তর ও ব্যাখ্যা: বিভিন্ন রাগ।
৭৪. প্রাচীন যুগে গদ্য ছিল কি?
উত্তর ও ব্যাখ্যা: না, পদ্যপ্রধান।
৭৫. চর্যাপদ কোন সাধনার সাথে যুক্ত?
উত্তর ও ব্যাখ্যা: দেহতত্ত্ব।
৭৬. বাংলা ভাষার বয়স চর্যাপদ থেকে প্রায় কত?
উত্তর ও ব্যাখ্যা: হাজার বছরের বেশি।
৭৭. চর্যাপদ কি বৌদ্ধ তান্ত্রিক?
উত্তর ও ব্যাখ্যা: হ্যাঁ, সহজিয়া।
৭৮. চর্যাপদের রচয়িতারা কোথাকার?
উত্তর ও ব্যাখ্যা: বিভিন্ন অঞ্চলের।
৭৯. চর্যাপদে সমাজের কোন শ্রেণির চিত্র?
উত্তর ও ব্যাখ্যা: নিম্নবর্গ।
৮০. ‘কাহ্নপা’-এর অপর নাম কী?
উত্তর ও ব্যাখ্যা: কৃষ্ণাচার্য।
৮১. চর্যাপদ আবিষ্কারের গুরুত্ব কী?
উত্তর ও ব্যাখ্যা: বাংলার আদি নিদর্শন।
৮২. চর্যাপদ কোন শতকের রচনা (আনু.)?
উত্তর ও ব্যাখ্যা: ৭ম–১২শ শতক।
৮৩. চর্যাপদে প্রকৃতির চিত্র আছে কি?
উত্তর ও ব্যাখ্যা: হ্যাঁ।
৮৪. প্রাচীন যুগের ভাষা কী নামে পরিচিত?
উত্তর ও ব্যাখ্যা: প্রাচীন বাংলা।
৮৫. চর্যাপদ কি ধর্মনিরপেক্ষ?
উত্তর ও ব্যাখ্যা: না, ধর্মীয়।
৮৬. চর্যাপদের মূল বিষয় কী?
উত্তর ও ব্যাখ্যা: বৌদ্ধ সাধনতত্ত্ব।
৮৭. চর্যার পদকর্তাদের সংখ্যা নিয়ে মতভেদ কেন?
উত্তর ও ব্যাখ্যা: টীকা-পাঠভেদ।
৮৮. চর্যাপদ প্রথম কে সম্পাদনা করেন?
উত্তর ও ব্যাখ্যা: হরপ্রসাদ শাস্ত্রী।
৮৯. প্রাচীন যুগের অবসান কবে?
উত্তর ও ব্যাখ্যা: ১২০০ খ্রি. (তুর্কি আক্রমণ)।
৯০. চর্যাপদের ঐতিহাসিক মূল্য কী?
উত্তর ও ব্যাখ্যা: ভাষা-সমাজের আদি সাক্ষ্য।
৯১. চর্যাপদে কোন যান-এর প্রভাব?
উত্তর ও ব্যাখ্যা: বজ্রযান/সহজযান।
৯২. চর্যাপদ কি লোকজীবনের প্রতিফলন?
উত্তর ও ব্যাখ্যা: হ্যাঁ।
৯৩. চর্যাপদ কোন সাহিত্যধারার আদি?
উত্তর ও ব্যাখ্যা: বাংলা কবিতা।
৯৪. বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস শুরু কোথা থেকে?
উত্তর ও ব্যাখ্যা: চর্যাপদ।
৯৫. চর্যাপদের কবি ‘সরহপা’ কী রচনার জন্য খ্যাত?
উত্তর ও ব্যাখ্যা: দোহা।
৯৬. চর্যাপদ কোন ভৌগোলিক অঞ্চলজুড়ে?
উত্তর ও ব্যাখ্যা: বাংলা-বিহার-অসম-ওড়িশা।
৯৭. চর্যাপদ কি সংগীতনির্ভর রচনা?
উত্তর ও ব্যাখ্যা: হ্যাঁ।
৯৮. চর্যাপদের ভাষা কোন স্তরের?
উত্তর ও ব্যাখ্যা: প্রাচীন বাংলা।
৯৯. চর্যাপদ কি পদ্যে রচিত?
উত্তর ও ব্যাখ্যা: হ্যাঁ।
১০০. চর্যাপদের সাধকেরা কী চর্চা করতেন?
উত্তর ও ব্যাখ্যা: যোগসাধনা।