বাংলা সাহিত্যের মধ্যযুগ (১২০১–১৮০০)

চর্যাপদ-পরবর্তী কাল থেকে ফোর্ট উইলিয়াম কলেজ-কেন্দ্রিক গদ্যচর্চার আগ পর্যন্ত (১২০১–১৮০০ খ্রিস্টাব্দ) সময়কে বলা হয় বাংলা সাহিত্যের মধ্যযুগ। এটি বাংলা সাহিত্যের দীর্ঘতম পর্ব—প্রায় ছয়শ বছরের। এই যুগ প্রধানত পদ্যের যুগ এবং অধিকাংশ রচনাই ধর্মাশ্রিত; উপাস্য দেব-দেবীর মাহাত্ম্য, ভক্তি ও প্রেমই এ যুগের সাহিত্যের কেন্দ্রীয় বিষয়।

মধ্যযুগে বাংলা সাহিত্য নানা ধারায় বিকশিত হয়—শ্রীকৃষ্ণকীর্তন দিয়ে সূচনা, তারপর বৈষ্ণব পদাবলি, চৈতন্য-জীবনী সাহিত্য, মঙ্গলকাব্য, অনুবাদ সাহিত্য, মুসলিম কবিদের প্রণয়োপাখ্যান, শাক্ত পদাবলি ও সমৃদ্ধ লোকসাহিত্য। রাজসভার পৃষ্ঠপোষকতা (নদিয়ার রাজা কৃষ্ণচন্দ্র, আরাকান/রোসাঙ্গ রাজসভা) এই যুগের সাহিত্যচর্চাকে বেগবান করে।

বিসিএসে মধ্যযুগের গুরুত্ব

মধ্যযুগ থেকে প্রতি বিসিএসে সাধারণত ২–৪টি প্রশ্ন আসে। বিশেষত—মধ্যযুগের আদি নিদর্শন ও তার আবিষ্কারক, মঙ্গলকাব্যের কবি ও উপাধি, অনুবাদকদের নাম, বৈষ্ণব পদাবলির কবি ও ব্রজবুলি, আরাকান রাজসভার কবি এবং কবিদের উপাধি (কবিকঙ্কণ, রায়গুণাকর, গুণরাজ খান, মৈথিল কোকিল) থেকে সবচেয়ে বেশি প্রশ্ন হয়।

মধ্যযুগের সাহিত্যধারা এক নজরে

ধারাপ্রধান কবি / নিদর্শন
আদি নিদর্শনশ্রীকৃষ্ণকীর্তন (বড়ু চণ্ডীদাস)
বৈষ্ণব পদাবলিবিদ্যাপতি, চণ্ডীদাস, জ্ঞানদাস, গোবিন্দদাস
চৈতন্য-জীবনীবৃন্দাবন দাস, কৃষ্ণদাস কবিরাজ
মঙ্গলকাব্যমুকুন্দরাম, ভারতচন্দ্র
অনুবাদকৃত্তিবাস, কাশীরাম দাস, মালাধর বসু
মুসলিম ও প্রণয়কাব্যশাহ মুহম্মদ সগীর, দৌলত কাজী, আলাওল
শাক্ত পদাবলিরামপ্রসাদ সেন
লোকসাহিত্যময়মনসিংহ গীতিকা

শ্রীকৃষ্ণকীর্তন — মধ্যযুগের আদি নিদর্শন

বড়ু চণ্ডীদাস রচিত ‘শ্রীকৃষ্ণকীর্তন’ বাংলা সাহিত্যের মধ্যযুগের প্রথম বা আদি নিদর্শন। রাধা ও কৃষ্ণের প্রেমলীলা এর মূল বিষয়; কাব্যটিতে রাধা, কৃষ্ণ ও দূতী বড়াই—এই তিনটি প্রধান চরিত্রকে কেন্দ্র করে কাহিনি এগিয়েছে। কাব্যটি ১৩টি খণ্ডে বিভক্ত (জন্ম, তাম্বূল, দান, নৌকা, ভার, ছত্র, বৃন্দাবন, কালীয়দমন, বস্ত্রহরণ, বাণ, বংশী, রাধাবিরহ ইত্যাদি)।

দীর্ঘকাল লুপ্ত থাকার পর ১৯০৯ খ্রিস্টাব্দে বসন্তরঞ্জন রায় বিদ্বদ্বল্লভ পশ্চিমবঙ্গের বাঁকুড়া জেলার কাঁকিল্যা গ্রামের এক গৃহস্থের গোয়ালঘর থেকে এর পুঁথি আবিষ্কার করেন। পুঁথিটি ১৯১৬ সালে ‘শ্রীকৃষ্ণকীর্তন’ নামে বঙ্গীয় সাহিত্য পরিষদ থেকে প্রকাশিত হয়। কাব্যটি রচিত হয়েছে সরল, প্রাঞ্জল ও প্রাণবন্ত বাংলায়, যা মধ্যযুগের ভাষার এক গুরুত্বপূর্ণ নিদর্শন।

বিষয়তথ্য
রচয়িতাবড়ু চণ্ডীদাস
আবিষ্কারকবসন্তরঞ্জন রায় বিদ্বদ্বল্লভ
আবিষ্কারের সাল১৯০৯ খ্রিস্টাব্দ
আবিষ্কারের স্থানকাঁকিল্যা গ্রাম, বাঁকুড়া
প্রকাশ১৯১৬ খ্রিস্টাব্দ
প্রধান চরিত্ররাধা, কৃষ্ণ ও বড়াই (দূতী)
বিষয়রাধা-কৃষ্ণের প্রেমলীলা

চর্যাপদ বনাম শ্রীকৃষ্ণকীর্তন — গুলিয়ে ফেলবেন না

  • চর্যাপদ: প্রাচীন যুগের নিদর্শন; আবিষ্কারক হরপ্রসাদ শাস্ত্রী (১৯০৭, নেপাল);
  • শ্রীকৃষ্ণকীর্তন: মধ্যযুগের আদি নিদর্শন; আবিষ্কারক বসন্তরঞ্জন রায় (১৯০৯, বাঁকুড়া);
  • কাকতালীয়ভাবে দুটিই গ্রন্থাকারে প্রকাশিত হয় ১৯১৬ সালে—এখানেই বেশি ভুল হয়।

চণ্ডীদাস সমস্যা

বাংলা সাহিত্যে ‘চণ্ডীদাস’ নামে একাধিক কবির পরিচয় পাওয়া যায়—বড়ু চণ্ডীদাস (শ্রীকৃষ্ণকীর্তনের রচয়িতা), দীন চণ্ডীদাস এবং দ্বিজ চণ্ডীদাস। এঁরা একই ব্যক্তি না ভিন্ন ব্যক্তি, কে কোন পদের রচয়িতা—এই জটিল প্রশ্নকেই সাহিত্যের ইতিহাসে বলা হয় ‘চণ্ডীদাস সমস্যা’।

সাধারণভাবে ধরা হয়, ‘শ্রীকৃষ্ণকীর্তন’-এর রচয়িতা বড়ু চণ্ডীদাস মধ্যযুগের প্রথম পর্বের কবি, আর বৈষ্ণব পদাবলির খ্যাতিমান ‘চণ্ডীদাস’ পরবর্তী কালের। চণ্ডীদাসের নামে প্রচলিত বিখ্যাত মানবতাবাদী পঙ্‌ক্তি—‘সবার উপরে মানুষ সত্য, তাহার উপরে নাই’।

মনে রাখুন

  • শ্রীকৃষ্ণকীর্তনের রচয়িতা—বড়ু চণ্ডীদাস;
  • ‘সবার উপরে মানুষ সত্য’—চণ্ডীদাস;
  • একাধিক চণ্ডীদাসের পরিচয়-জটিলতাই চণ্ডীদাস সমস্যা।

বৈষ্ণব পদাবলি

রাধা-কৃষ্ণের প্রেমকে কেন্দ্র করে রচিত ভক্তিমূলক গীতিকবিতার সংকলনকে বৈষ্ণব পদাবলি বলে। চতুর্দশ শতকে মিথিলার কবি বিদ্যাপতি ও বাংলার চণ্ডীদাসকে দিয়ে এর সূচনা; পরে শ্রীচৈতন্যদেবের আবির্ভাবে (পঞ্চদশ-ষোড়শ শতক) এই ধারা বাংলায় ব্যাপক জনপ্রিয়তা লাভ করে। পদাবলিতে রাধা-কৃষ্ণের প্রেম মূলত জীবাত্মা-পরমাত্মার মিলন-বিরহের রূপক।

পদাবলির ভাষা ছিল বাংলা ও ব্রজবুলি। ব্রজবুলি হলো মৈথিলি ও বাংলার মিশ্রণে গড়া একটি কৃত্রিম সাহিত্যিক ভাষা, যা বিদ্যাপতির হাতে জনপ্রিয় হয়। বহু পরে রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরও ‘ভানুসিংহ ঠাকুরের পদাবলী’-তে ব্রজবুলি ভাষা ব্যবহার করেন।

কবিপরিচয় / উপাধি
বিদ্যাপতিমিথিলার কবি; ‘মৈথিল কোকিল’/‘অভিনব জয়দেব’; ব্রজবুলিতে রচনা
চণ্ডীদাস‘সবার উপরে মানুষ সত্য’—মানবতাবাদী পদ
জ্ঞানদাসচৈতন্য-পরবর্তী শ্রেষ্ঠ বাঙালি পদকর্তা
গোবিন্দদাস‘কবিরাজ’ উপাধি; ব্রজবুলির শ্রেষ্ঠ কবি

পরীক্ষায় বহুল-জিজ্ঞাসিত

  • ‘মৈথিল কোকিল’—বিদ্যাপতি;
  • ‘সবার উপরে মানুষ সত্য, তাহার উপরে নাই’—চণ্ডীদাস;
  • ব্রজবুলি জনপ্রিয়কারী—বিদ্যাপতি; পরে ব্যবহার করেন রবীন্দ্রনাথ (ভানুসিংহ ছদ্মনামে);
  • ব্রজবুলির শ্রেষ্ঠ কবি—গোবিন্দদাস।

চৈতন্য-জীবনী সাহিত্য

ষোড়শ শতকে শ্রীচৈতন্যদেব (১৪৮৬–১৫৩৩) গৌড়ীয় বৈষ্ণব ধর্ম আন্দোলনের সূচনা করেন; নবদ্বীপ-কেন্দ্রিক এই আন্দোলন বাংলার ধর্ম ও সাহিত্যে গভীর প্রভাব ফেলে। চৈতন্যদেবকে কেন্দ্র করে গড়ে ওঠে একটি সমৃদ্ধ জীবনী সাহিত্য—যা বাংলা সাহিত্যে জীবনীগ্রন্থ রচনার সূচনা করে।

গ্রন্থরচয়িতামন্তব্য
চৈতন্যভাগবতবৃন্দাবন দাসচৈতন্যজীবনীর আদি গ্রন্থ; ‘বাংলার ভাগবত’
চৈতন্যচরিতামৃতকৃষ্ণদাস কবিরাজচৈতন্যজীবনীর শ্রেষ্ঠ ও দার্শনিক গ্রন্থ
চৈতন্যমঙ্গললোচন দাস / জয়ানন্দচৈতন্যজীবনীভিত্তিক কাব্য

মনে রাখুন

চৈতন্যজীবনীর আদি গ্রন্থ ‘চৈতন্যভাগবত’ (বৃন্দাবন দাস), আর শ্রেষ্ঠ গ্রন্থ ‘চৈতন্যচরিতামৃত’ (কৃষ্ণদাস কবিরাজ)।

মঙ্গলকাব্য

দেব-দেবীর মাহাত্ম্য প্রচার ও পূজা প্রতিষ্ঠার উদ্দেশ্যে রচিত আখ্যানকাব্যই মঙ্গলকাব্য। এতে সাধারণত দেবতা কোনো ভক্তকে স্বপ্নে আদেশ দেন কাব্য রচনার এবং মর্ত্যে নিজের পূজা প্রচলনের—এই অভিন্ন কাঠামো প্রায় সব মঙ্গলকাব্যে দেখা যায়। ‘মঙ্গল’ নাম হওয়ার কারণ, এই কাব্য এক মঙ্গলবার শুরু করে আরেক মঙ্গলবারে সমাপ্ত করে গাওয়া হতো এবং এতে মঙ্গল বা কল্যাণ কামনা করা হতো।

মঙ্গলকাব্যউপাস্য দেবতাপ্রধান কবি
মনসামঙ্গলমনসা (সর্পদেবী)কানা হরিদত্ত (আদি), বিজয় গুপ্ত, নারায়ণ দেব, কেতকাদাস ক্ষেমানন্দ
চণ্ডীমঙ্গলচণ্ডীমানিক দত্ত (আদি), মুকুন্দরাম চক্রবর্তী (শ্রেষ্ঠ)
ধর্মমঙ্গলধর্মঠাকুরময়ূর ভট্ট (আদি), ঘনরাম চক্রবর্তী, রূপরাম
অন্নদামঙ্গলঅন্নদা/দুর্গাভারতচন্দ্র রায়গুণাকর

মুকুন্দরাম চক্রবর্তী মঙ্গলকাব্যের শ্রেষ্ঠ কবিদের একজন; তাঁর উপাধি ‘কবিকঙ্কণ’ এবং রচনা ‘চণ্ডীমঙ্গল’ (অভয়ামঙ্গল)। তিনি দেবমাহাত্ম্যের পাশাপাশি সমকালীন সমাজ ও বাস্তব জীবনের নিখুঁত ছবি এঁকেছেন—কালকেতু, ফুল্লরা, ভাঁড়ু দত্তের মতো চরিত্র তাঁর বাস্তববোধের প্রমাণ। এ কারণে তাঁকে বলা হয় মধ্যযুগের ‘বাস্তববাদী কবি’।

ভারতচন্দ্র রায়গুণাকর মধ্যযুগের শেষ সার্থক ও শ্রেষ্ঠ কবি। নদিয়ার রাজা কৃষ্ণচন্দ্রের সভাকবি ছিলেন এবং রাজার কাছ থেকে ‘রায়গুণাকর’ উপাধি পান। তাঁর বিখ্যাত রচনা ‘অন্নদামঙ্গল’ (১৭৫২)। তাঁর একটি বহুপরিচিত পঙ্‌ক্তি—‘আমার সন্তান যেন থাকে দুধে-ভাতে’।

মঙ্গলকাব্যের কবিদের উপাধি

  • কবিকঙ্কণ—মুকুন্দরাম চক্রবর্তী;
  • রায়গুণাকর—ভারতচন্দ্র (উপাধিদাতা রাজা কৃষ্ণচন্দ্র);
  • সুকবি বল্লভ—নারায়ণ দেব (মনসামঙ্গল);
  • মনসামঙ্গলের আদি কবি—কানা হরিদত্ত।

অনুবাদ সাহিত্য

মধ্যযুগে সংস্কৃত মহাকাব্য ও পুরাণ বাংলায় অনূদিত হয়ে সাধারণ মানুষের কাছে পৌঁছে যায়। রাজসভা ও ভক্তদের পৃষ্ঠপোষকতায় রামায়ণ, মহাভারত ও ভাগবতের বাংলা অনুবাদ এ যুগের এক বড় অবদান; এতে সংস্কৃতে অনভিজ্ঞ সাধারণ মানুষও ধর্মীয় আখ্যানের রস আস্বাদন করতে পারেন।

মূল গ্রন্থঅনুবাদকউপাধি / রচনা
রামায়ণকৃত্তিবাস ওঝা‘শ্রীরাম পাঁচালী’; বাংলায় প্রথম রামায়ণ অনুবাদক
মহাভারতকাশীরাম দাস‘ভারত পাঁচালী’; জনপ্রিয়তম মহাভারত
মহাভারত (আংশিক)কবীন্দ্র পরমেশ্বর‘পরাগলি মহাভারত’
ভাগবতমালাধর বসু‘শ্রীকৃষ্ণবিজয়’; উপাধি ‘গুণরাজ খান’

অনুবাদক ও উপাধি

  • রামায়ণ—কৃত্তিবাস ওঝা; মহাভারত—কাশীরাম দাস; ভাগবত—মালাধর বসু;
  • মালাধর বসুর উপাধি ‘গুণরাজ খান’ (হুসেন শাহি আমলে প্রাপ্ত);
  • কৃত্তিবাসের বাড়ি নদিয়ার ফুলিয়া গ্রামে।

মুসলিম রচিত সাহিত্য

মধ্যযুগে মুসলিম কবিরাও বাংলা সাহিত্যকে সমৃদ্ধ করেন। ধর্মীয় আখ্যান, নবী-জীবনী, প্রণয়কাহিনি ও ইতিহাস নিয়ে তাঁরা কাব্য রচনা করেন। বাংলা সাহিত্যের প্রথম মুসলিম কবি হিসেবে স্বীকৃত শাহ মুহম্মদ সগীর, যিনি ‘ইউসুফ-জোলেখা’ নামে একটি প্রণয়কাব্য রচনা করেন (চতুর্দশ-পঞ্চদশ শতক)।

কবিরচনা / পরিচয়
শাহ মুহম্মদ সগীরইউসুফ-জোলেখা; মধ্যযুগের প্রথম মুসলিম কবি
সৈয়দ সুলতাননবীবংশ, জ্ঞানপ্রদীপ, শবে মেরাজ
দৌলত উজির বাহরাম খানলায়লী-মজনু
আলাওলপদ্মাবতী; মধ্যযুগের শ্রেষ্ঠ মুসলিম কবি

আরাকান রাজসভা ও রোমান্টিক প্রণয়োপাখ্যান

মধ্যযুগে আরাকান বা রোসাঙ্গ রাজসভা ছিল মুসলিম বাংলা সাহিত্যচর্চার এক গুরুত্বপূর্ণ কেন্দ্র। এখানকার রাজন্যবর্গ ও অমাত্যদের পৃষ্ঠপোষকতায় দৌলত কাজী ও আলাওল-এর মতো কবিরা রোমান্টিক প্রণয়োপাখ্যান রচনা করেন।

দৌলত কাজী ‘সতী ময়না ও লোরচন্দ্রানী’ কাব্য রচনা শুরু করেন, কিন্তু তা অসমাপ্ত রেখে মারা যান; পরে আলাওল কাব্যটি সমাপ্ত করেন। আলাওল হিন্দি কবি মালিক মুহম্মদ জায়সীর ‘পদুমাবৎ’ অবলম্বনে রচনা করেন তাঁর শ্রেষ্ঠ কাব্য ‘পদ্মাবতী’। তাঁর অন্যান্য রচনা—‘সপ্তপয়কর’, ‘সয়ফুলমুলুক বদিউজ্জামাল’, ‘তোহফা’। আলাওলকে মধ্যযুগের শ্রেষ্ঠ মুসলিম কবি বা মহাকবি বলা হয়।

আরাকান রাজসভা সম্পর্কে মনে রাখুন

  • রোসাঙ্গ/আরাকান রাজসভার প্রধান দুই কবি—দৌলত কাজী ও আলাওল;
  • ‘সতী ময়না ও লোরচন্দ্রানী’ শুরু করেন দৌলত কাজী, সমাপ্ত করেন আলাওল;
  • ‘পদ্মাবতী’—আলাওল; উৎস জায়সীর ‘পদুমাবৎ’।

শাক্ত পদাবলি ও লোকসাহিত্য

মধ্যযুগের শেষভাগে দেবী কালী ও দুর্গাকে কেন্দ্র করে গড়ে ওঠে শাক্ত পদাবলি। এর শ্রেষ্ঠ কবি রামপ্রসাদ সেন, যাঁর ভক্তিরসাত্মক গান ‘রামপ্রসাদী সংগীত’ নামে বিখ্যাত; কমলাকান্ত ভট্টাচার্যও এ ধারার উল্লেখযোগ্য কবি।

এ যুগে লিখিত সাহিত্যের পাশাপাশি মুখে-মুখে প্রচলিত ছিল সমৃদ্ধ লোকসাহিত্য। এর শ্রেষ্ঠ নিদর্শন ময়মনসিংহ গীতিকা (পূর্ববঙ্গ গীতিকা)। এই গীতিকা সংগ্রহ করেন চন্দ্রকুমার দে এবং সম্পাদনা ও প্রকাশ করেন ড. দীনেশচন্দ্র সেন (কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে, ১৯২৩)। এর অন্তর্গত বিখ্যাত পালা—মহুয়া, মলুয়া, চন্দ্রাবতী, দেওয়ানা মদিনা। বাংলা সাহিত্যের প্রথম মহিলা কবি চন্দ্রাবতী এই ধারার সঙ্গে যুক্ত।

শাখারচয়িতা / নিদর্শন
শাক্ত পদাবলিরামপ্রসাদ সেন, কমলাকান্ত ভট্টাচার্য
ময়মনসিংহ গীতিকা (সংগ্রহ)চন্দ্রকুমার দে
ময়মনসিংহ গীতিকা (সম্পাদনা)ড. দীনেশচন্দ্র সেন
প্রথম মহিলা কবিচন্দ্রাবতী

দ্রুত-তথ্য ও পরিভাষা

বিষয়তথ্য
মধ্যযুগের কালসীমা১২০১–১৮০০
আদি নিদর্শনশ্রীকৃষ্ণকীর্তন (বড়ু চণ্ডীদাস)
শ্রীকৃষ্ণকীর্তনের আবিষ্কারকবসন্তরঞ্জন রায় বিদ্বদ্বল্লভ (১৯০৯)
মৈথিল কোকিলবিদ্যাপতি
কবিকঙ্কণমুকুন্দরাম চক্রবর্তী
রায়গুণাকরভারতচন্দ্র
গুণরাজ খানমালাধর বসু
রামায়ণ অনুবাদককৃত্তিবাস ওঝা
মহাভারত অনুবাদককাশীরাম দাস
প্রথম মুসলিম কবিশাহ মুহম্মদ সগীর
শ্রেষ্ঠ মুসলিম কবিআলাওল
শাক্ত পদাবলির শ্রেষ্ঠ কবিরামপ্রসাদ সেন
ময়মনসিংহ গীতিকার সম্পাদকদীনেশচন্দ্র সেন
প্রথম মহিলা কবিচন্দ্রাবতী

পরিভাষা (Glossary)

  • ব্রজবুলি: মৈথিলি-বাংলা মিশ্র কৃত্রিম সাহিত্যিক ভাষা;
  • মঙ্গলকাব্য: দেব-দেবীর মাহাত্ম্যসূচক আখ্যানকাব্য;
  • পদাবলি: রাধাকৃষ্ণ-বিষয়ক ভক্তিগীতির সংকলন;
  • প্রণয়োপাখ্যান: প্রেমকাহিনিভিত্তিক আখ্যানকাব্য;
  • মর্সিয়া: কারবালার বিয়োগগাথা;
  • গীতিকা: মুখে-মুখে প্রচলিত আখ্যানমূলক লোকগাথা।

বিগত বিসিএসে আসা প্রশ্ন (সমাধানসহ)

৪৬তম বিসিএস

মধ্যযুগের আদি নিদর্শন কোনটি?

(ক) চর্যাপদ   (খ) শ্রীকৃষ্ণকীর্তন   (গ) অন্নদামঙ্গল   (ঘ) পদ্মাবতী

উত্তর: (খ) শ্রীকৃষ্ণকীর্তন

ব্যাখ্যা: বড়ু চণ্ডীদাসের ‘শ্রীকৃষ্ণকীর্তন’ মধ্যযুগের প্রথম নিদর্শন; চর্যাপদ প্রাচীন যুগের।

৪২তম বিসিএস

‘শ্রীকৃষ্ণকীর্তন’ কাব্যের রচয়িতা কে?

(ক) চণ্ডীদাস   (খ) বড়ু চণ্ডীদাস   (গ) দীন চণ্ডীদাস   (ঘ) বিদ্যাপতি

উত্তর: (খ) বড়ু চণ্ডীদাস

ব্যাখ্যা: শ্রীকৃষ্ণকীর্তনের রচয়িতা বড়ু চণ্ডীদাস।

৩৮তম বিসিএস

‘কবিকঙ্কণ’ কার উপাধি?

(ক) ভারতচন্দ্র   (খ) মুকুন্দরাম চক্রবর্তী   (গ) কৃত্তিবাস   (ঘ) আলাওল

উত্তর: (খ) মুকুন্দরাম চক্রবর্তী

ব্যাখ্যা: চণ্ডীমঙ্গলের শ্রেষ্ঠ কবি মুকুন্দরামের উপাধি ‘কবিকঙ্কণ’।

৪০তম বিসিএস

‘রায়গুণাকর’ কার উপাধি?

(ক) মুকুন্দরাম   (খ) ভারতচন্দ্র   (গ) কাশীরাম দাস   (ঘ) মালাধর বসু

উত্তর: (খ) ভারতচন্দ্র

ব্যাখ্যা: ‘অন্নদামঙ্গল’-এর কবি ভারতচন্দ্রকে রাজা কৃষ্ণচন্দ্র ‘রায়গুণাকর’ উপাধি দেন।

৪৪তম বিসিএস

বাংলায় রামায়ণ অনুবাদ করেন কে?

(ক) কাশীরাম দাস   (খ) কৃত্তিবাস ওঝা   (গ) মালাধর বসু   (ঘ) আলাওল

উত্তর: (খ) কৃত্তিবাস ওঝা

ব্যাখ্যা: কৃত্তিবাস ওঝা রামায়ণ (‘শ্রীরাম পাঁচালী’) বাংলায় অনুবাদ করেন।

৪৩তম বিসিএস

‘পদ্মাবতী’ কাব্যের রচয়িতা কে?

(ক) দৌলত কাজী   (খ) আলাওল   (গ) সৈয়দ সুলতান   (ঘ) শাহ মুহম্মদ সগীর

উত্তর: (খ) আলাওল

ব্যাখ্যা: আরাকান রাজসভার কবি আলাওল জায়সীর ‘পদুমাবৎ’ অবলম্বনে ‘পদ্মাবতী’ রচনা করেন।

৪১তম বিসিএস

‘মৈথিল কোকিল’ কাকে বলা হয়?

(ক) চণ্ডীদাস   (খ) বিদ্যাপতি   (গ) জ্ঞানদাস   (ঘ) গোবিন্দদাস

উত্তর: (খ) বিদ্যাপতি

ব্যাখ্যা: মিথিলার কবি বিদ্যাপতিকে ‘মৈথিল কোকিল’ বলা হয়।

৩৭তম বিসিএস

‘গুণরাজ খান’ কার উপাধি?

(ক) কৃত্তিবাস   (খ) মালাধর বসু   (গ) কাশীরাম দাস   (ঘ) মুকুন্দরাম

উত্তর: (খ) মালাধর বসু

ব্যাখ্যা: ভাগবত অনুবাদক (‘শ্রীকৃষ্ণবিজয়’) মালাধর বসুর উপাধি ‘গুণরাজ খান’।

৪৫তম বিসিএস

ময়মনসিংহ গীতিকা সম্পাদনা করেন কে?

(ক) চন্দ্রকুমার দে   (খ) দীনেশচন্দ্র সেন   (গ) সুকুমার সেন   (ঘ) সুনীতিকুমার

উত্তর: (খ) দীনেশচন্দ্র সেন

ব্যাখ্যা: চন্দ্রকুমার দে সংগ্রহ করেন, আর ড. দীনেশচন্দ্র সেন সম্পাদনা ও প্রকাশ করেন।

সূচনা, পদাবলি ও চৈতন্য

১. মধ্যযুগের কালসীমা কত?

উত্তর ও ব্যাখ্যা: ১২০১–১৮০০ খ্রিস্টাব্দ।

২. মধ্যযুগের আদি নিদর্শন কোনটি?

উত্তর ও ব্যাখ্যা: শ্রীকৃষ্ণকীর্তন।

৩. শ্রীকৃষ্ণকীর্তনের রচয়িতা কে?

উত্তর ও ব্যাখ্যা: বড়ু চণ্ডীদাস।

৪. শ্রীকৃষ্ণকীর্তন কে আবিষ্কার করেন?

উত্তর ও ব্যাখ্যা: বসন্তরঞ্জন রায় বিদ্বদ্বল্লভ (১৯০৯)।

৫. শ্রীকৃষ্ণকীর্তনের তিন প্রধান চরিত্র কী?

উত্তর ও ব্যাখ্যা: রাধা, কৃষ্ণ ও বড়াই।

৬. ‘মৈথিল কোকিল’ কাকে বলা হয়?

উত্তর ও ব্যাখ্যা: বিদ্যাপতি।

৭. ‘সবার উপরে মানুষ সত্য’ কার পঙ্‌ক্তি?

উত্তর ও ব্যাখ্যা: চণ্ডীদাস।

৮. ব্রজবুলি কে জনপ্রিয় করেন?

উত্তর ও ব্যাখ্যা: বিদ্যাপতি।

৯. চৈতন্যজীবনীর আদি গ্রন্থ কোনটি?

উত্তর ও ব্যাখ্যা: চৈতন্যভাগবত (বৃন্দাবন দাস)।

১০. চৈতন্যচরিতামৃত কার রচনা?

উত্তর ও ব্যাখ্যা: কৃষ্ণদাস কবিরাজ।

মঙ্গলকাব্য ও অনুবাদ

১১. চণ্ডীমঙ্গলের শ্রেষ্ঠ কবি কে?

উত্তর ও ব্যাখ্যা: মুকুন্দরাম চক্রবর্তী।

১২. ‘কবিকঙ্কণ’ কার উপাধি?

উত্তর ও ব্যাখ্যা: মুকুন্দরাম চক্রবর্তী।

১৩. অন্নদামঙ্গলের রচয়িতা কে?

উত্তর ও ব্যাখ্যা: ভারতচন্দ্র রায়গুণাকর।

১৪. ‘রায়গুণাকর’ উপাধি কে দেন?

উত্তর ও ব্যাখ্যা: রাজা কৃষ্ণচন্দ্র।

১৫. মনসামঙ্গলের আদি কবি কে?

উত্তর ও ব্যাখ্যা: কানা হরিদত্ত।

১৬. ‘আমার সন্তান যেন থাকে দুধে-ভাতে’ কার?

উত্তর ও ব্যাখ্যা: ভারতচন্দ্র।

১৭. বাংলায় রামায়ণ অনুবাদক কে?

উত্তর ও ব্যাখ্যা: কৃত্তিবাস ওঝা।

১৮. বাংলায় মহাভারত অনুবাদক কে?

উত্তর ও ব্যাখ্যা: কাশীরাম দাস।

১৯. ভাগবত অনুবাদক কে?

উত্তর ও ব্যাখ্যা: মালাধর বসু।

২০. ‘গুণরাজ খান’ কার উপাধি?

উত্তর ও ব্যাখ্যা: মালাধর বসু।

মুসলিম সাহিত্য, আরাকান ও লোকসাহিত্য

২১. মধ্যযুগের প্রথম মুসলিম কবি কে?

উত্তর ও ব্যাখ্যা: শাহ মুহম্মদ সগীর।

২২. শাহ মুহম্মদ সগীরের রচনা কোনটি?

উত্তর ও ব্যাখ্যা: ইউসুফ-জোলেখা।

২৩. মধ্যযুগের শ্রেষ্ঠ মুসলিম কবি কে?

উত্তর ও ব্যাখ্যা: আলাওল।

২৪. ‘পদ্মাবতী’ কার রচনা?

উত্তর ও ব্যাখ্যা: আলাওল।

২৫. ‘পদ্মাবতী’-র উৎস কোন কাব্য?

উত্তর ও ব্যাখ্যা: জায়সীর ‘পদুমাবৎ’।

২৬. ‘সতী ময়না ও লোরচন্দ্রানী’ শুরু করেন কে?

উত্তর ও ব্যাখ্যা: দৌলত কাজী।

২৭. শাক্ত পদাবলির শ্রেষ্ঠ কবি কে?

উত্তর ও ব্যাখ্যা: রামপ্রসাদ সেন।

২৮. ময়মনসিংহ গীতিকা সংগ্রহ করেন কে?

উত্তর ও ব্যাখ্যা: চন্দ্রকুমার দে।

২৯. ময়মনসিংহ গীতিকা সম্পাদনা করেন কে?

উত্তর ও ব্যাখ্যা: দীনেশচন্দ্র সেন।

৩০. বাংলা সাহিত্যের প্রথম মহিলা কবি কে?

উত্তর ও ব্যাখ্যা: চন্দ্রাবতী।

অতিরিক্ত অনুশীলন

৩১. মধ্যযুগের সময়কাল কী?

উত্তর ও ব্যাখ্যা: ১২০০–১৮০০ খ্রি.।

৩২. মধ্যযুগের প্রথম নিদর্শন কী?

উত্তর ও ব্যাখ্যা: শ্রীকৃষ্ণকীর্তন।

৩৩. শ্রীকৃষ্ণকীর্তনের রচয়িতা কে?

উত্তর ও ব্যাখ্যা: বড়ু চণ্ডীদাস।

৩৪. শ্রীকৃষ্ণকীর্তন কে আবিষ্কার করেন?

উত্তর ও ব্যাখ্যা: বসন্তরঞ্জন রায়।

৩৫. কবে আবিষ্কৃত হয়?

উত্তর ও ব্যাখ্যা: ১৯০৯।

৩৬. কোথা থেকে আবিষ্কৃত হয়?

উত্তর ও ব্যাখ্যা: বাঁকুড়ার কাঁকিল্যা গ্রাম।

৩৭. অন্ধকার যুগ কোন সময়?

উত্তর ও ব্যাখ্যা: ১২০১–১৩৫০ খ্রি.।

৩৮. বৈষ্ণব পদাবলির প্রধান কবি কারা?

উত্তর ও ব্যাখ্যা: চণ্ডীদাস, বিদ্যাপতি, জ্ঞানদাস, গোবিন্দদাস।

৩৯. বিদ্যাপতি কোন ভাষায় লেখেন?

উত্তর ও ব্যাখ্যা: ব্রজবুলি।

৪০. ‘সবার উপরে মানুষ সত্য’ কার পঙ্‌ক্তি?

উত্তর ও ব্যাখ্যা: চণ্ডীদাস।

৪১. মঙ্গলকাব্যের প্রধান ধারা কয়টি?

উত্তর ও ব্যাখ্যা: মনসা, চণ্ডী, ধর্ম।

৪২. মনসামঙ্গলের প্রধান কবি কে?

উত্তর ও ব্যাখ্যা: বিজয় গুপ্ত।

৪৩. চণ্ডীমঙ্গলের শ্রেষ্ঠ কবি কে?

উত্তর ও ব্যাখ্যা: মুকুন্দরাম চক্রবর্তী।

৪৪. মুকুন্দরামের উপাধি কী?

উত্তর ও ব্যাখ্যা: কবিকঙ্কণ।

৪৫. অন্নদামঙ্গলের রচয়িতা কে?

উত্তর ও ব্যাখ্যা: ভারতচন্দ্র রায়গুণাকর।

৪৬. ভারতচন্দ্রের উপাধি কী?

উত্তর ও ব্যাখ্যা: রায়গুণাকর।

৪৭. ‘আমার সন্তান যেন থাকে দুধে-ভাতে’ কার পঙ্‌ক্তি?

উত্তর ও ব্যাখ্যা: ভারতচন্দ্র।

৪৮. রামায়ণ বাংলায় অনুবাদ করেন কে?

উত্তর ও ব্যাখ্যা: কৃত্তিবাস ওঝা।

৪৯. মহাভারত বাংলায় অনুবাদ করেন কে?

উত্তর ও ব্যাখ্যা: কাশীরাম দাস।

৫০. ‘পদ্মাবতী’ কার রচনা?

উত্তর ও ব্যাখ্যা: আলাওল।

৫১. আলাওল কোন রাজসভার কবি?

উত্তর ও ব্যাখ্যা: আরাকান (রোসাঙ্গ)।

৫২. পদ্মাবতী কোন ভাষা থেকে অনূদিত?

উত্তর ও ব্যাখ্যা: হিন্দি (মালিক মুহম্মদ জায়সী)।

৫৩. চৈতন্যদেব কোন যুগে প্রভাব ফেলেন?

উত্তর ও ব্যাখ্যা: মধ্যযুগ।

৫৪. চৈতন্য-পরবর্তী পদাবলির প্রধান কবি কে?

উত্তর ও ব্যাখ্যা: গোবিন্দদাস।

৫৫. ‘বৈষ্ণব পদাবলি’ কীসের গান?

উত্তর ও ব্যাখ্যা: রাধাকৃষ্ণ প্রেমলীলা।

৫৬. মর্সিয়া সাহিত্যের বিষয় কী?

উত্তর ও ব্যাখ্যা: কারবালার শোকগাথা।

৫৭. মর্সিয়া সাহিত্যের প্রথম কবি কে?

উত্তর ও ব্যাখ্যা: শাহ মুহম্মদ সগীর (মতান্তরে)।

৫৮. ‘ইউসুফ-জোলেখা’ কার রচনা?

উত্তর ও ব্যাখ্যা: শাহ মুহম্মদ সগীর।

৫৯. দোভাষী পুঁথির ভাষা কেমন?

উত্তর ও ব্যাখ্যা: বাংলা-আরবি-ফারসি মিশ্র।

৬০. ‘বিদ্যাসুন্দর’ কার রচনা?

উত্তর ও ব্যাখ্যা: ভারতচন্দ্র।

৬১. ময়মনসিংহ গীতিকা কে সংগ্রহ করেন?

উত্তর ও ব্যাখ্যা: চন্দ্রকুমার দে।

৬২. ময়মনসিংহ গীতিকা কে সম্পাদনা করেন?

উত্তর ও ব্যাখ্যা: দীনেশচন্দ্র সেন।

৬৩. ‘মহুয়া’ পালা কোন গীতিকার?

উত্তর ও ব্যাখ্যা: ময়মনসিংহ গীতিকা।

৬৪. ‘মলুয়া’ পালার রচয়িতা কে?

উত্তর ও ব্যাখ্যা: চন্দ্রাবতী।

৬৫. চন্দ্রাবতী কে ছিলেন?

উত্তর ও ব্যাখ্যা: প্রথম মহিলা কবি।

৬৬. মনসামঙ্গলের চরিত্র বেহুলা-লখিন্দর কোন ধারার?

উত্তর ও ব্যাখ্যা: মনসামঙ্গল।

৬৭. চণ্ডীমঙ্গলের চরিত্র কে?

উত্তর ও ব্যাখ্যা: কালকেতু-ফুল্লরা।

৬৮. মঙ্গলকাব্য রচনার উদ্দেশ্য কী?

উত্তর ও ব্যাখ্যা: দেব-দেবীর মাহাত্ম্য।

৬৯. মঙ্গলকাব্যে ‘বন্দনা’ অংশ কী?

উত্তর ও ব্যাখ্যা: দেবতা স্তুতি।

৭০. ‘ধর্মমঙ্গল’-এর দেবতা কে?

উত্তর ও ব্যাখ্যা: ধর্মঠাকুর।

৭১. বাংলা সাহিত্যে অন্ধকার যুগের কারণ কী?

উত্তর ও ব্যাখ্যা: তুর্কি আক্রমণ।

৭২. অন্ধকার যুগে সাহিত্য নিদর্শন কম কেন?

উত্তর ও ব্যাখ্যা: রাজনৈতিক অস্থিরতা।

৭৩. মধ্যযুগে গদ্য ছিল কি?

উত্তর ও ব্যাখ্যা: প্রায় ছিল না।

৭৪. মধ্যযুগের সাহিত্য মূলত কেমন?

উত্তর ও ব্যাখ্যা: ধর্মাশ্রয়ী পদ্য।

৭৫. ‘অন্নদামঙ্গল’ কোন শতকের?

উত্তর ও ব্যাখ্যা: ১৮শ শতক।

৭৬. আলাওলকে কী বলা হয়?

উত্তর ও ব্যাখ্যা: মহাকবি।

৭৭. ‘সয়ফুলমুলুক বদিউজ্জামাল’ কার রচনা?

উত্তর ও ব্যাখ্যা: আলাওল।

৭৮. বৈষ্ণব পদাবলির ব্রজবুলি ভাষা কী?

উত্তর ও ব্যাখ্যা: মৈথিলি-বাংলা মিশ্র।

৭৯. চণ্ডীদাস কতজন ছিলেন (মতান্তরে)?

উত্তর ও ব্যাখ্যা: একাধিক।

৮০. ‘বড়ু চণ্ডীদাস’ কোন যুগের?

উত্তর ও ব্যাখ্যা: মধ্যযুগের সূচনা।

৮১. শ্রীকৃষ্ণকীর্তন কোন ছন্দে?

উত্তর ও ব্যাখ্যা: পয়ার-ত্রিপদী।

৮২. শ্রীকৃষ্ণকীর্তনের নায়ক-নায়িকা কে?

উত্তর ও ব্যাখ্যা: কৃষ্ণ-রাধা।

৮৩. মধ্যযুগের শেষ বড় কবি কে?

উত্তর ও ব্যাখ্যা: ভারতচন্দ্র।

৮৪. লোকসাহিত্যের উদাহরণ কী?

উত্তর ও ব্যাখ্যা: ছড়া, প্রবাদ, গীতিকা।

৮৫. পুঁথি সাহিত্যের কেন্দ্র কোথায় ছিল?

উত্তর ও ব্যাখ্যা: চট্টগ্রাম-আরাকান।

৮৬. ‘নবীবংশ’ কার রচনা?

উত্তর ও ব্যাখ্যা: সৈয়দ সুলতান।

৮৭. ‘রসুলবিজয়’ কার রচনা?

উত্তর ও ব্যাখ্যা: জৈনুদ্দিন/শাহ বারিদ খান।

৮৮. বাংলা সাহিত্যের প্রথম মুসলিম কবি কে (আদি)?

উত্তর ও ব্যাখ্যা: শাহ মুহম্মদ সগীর।

৮৯. মঙ্গলকাব্যের যুগ কোনটি?

উত্তর ও ব্যাখ্যা: মধ্যযুগ।

৯০. বৈষ্ণব পদাবলি কোন আন্দোলনের ফল?

উত্তর ও ব্যাখ্যা: চৈতন্যের ভক্তি আন্দোলন।

৯১. ‘গোরক্ষবিজয়’ কোন ধারার?

উত্তর ও ব্যাখ্যা: নাথ সাহিত্য।

৯২. নাথ সাহিত্যের বিষয় কী?

উত্তর ও ব্যাখ্যা: নাথ যোগীদের কাহিনি।

৯৩. মধ্যযুগে অনুবাদ সাহিত্যের উৎস কী?

উত্তর ও ব্যাখ্যা: সংস্কৃত মহাকাব্য।

৯৪. কৃত্তিবাসী রামায়ণের অপর নাম কী?

উত্তর ও ব্যাখ্যা: শ্রীরাম পাঁচালী।

৯৫. মধ্যযুগের কাব্য কীভাবে প্রচারিত হতো?

উত্তর ও ব্যাখ্যা: পাঁচালি গানে।

৯৬. ‘চণ্ডীমঙ্গল’ কোন দেবীর?

উত্তর ও ব্যাখ্যা: চণ্ডী/দুর্গা।

৯৭. মধ্যযুগের সমাপ্তি কবে?

উত্তর ও ব্যাখ্যা: ১৮০০ খ্রি.।

৯৮. মধ্যযুগ ও আধুনিক যুগের সীমারেখা কী?

উত্তর ও ব্যাখ্যা: ১৮০০ (ফোর্ট উইলিয়াম)।

৯৯. ‘পদাবলি’ শব্দের অর্থ কী?

উত্তর ও ব্যাখ্যা: পদের সমষ্টি।

১০০. মধ্যযুগে সাহিত্যের পৃষ্ঠপোষক কারা ছিলেন?

উত্তর ও ব্যাখ্যা: রাজা-জমিদার।