বাংলা বর্ণ ও বর্ণমালা
মানুষ মুখে যে ধ্বনি উচ্চারণ করে, লেখার সময় সেই ধ্বনিকে বোঝানোর জন্য যে প্রতীক বা চিহ্ন ব্যবহার করা হয়, তাকে বর্ণ বলে। অর্থাৎ ধ্বনির লিখিত রূপই বর্ণ। আর কোনো ভাষায় ব্যবহৃত সব বর্ণের সমষ্টিগত রূপকে বলা হয় বর্ণমালা। বাংলা লিপির উৎপত্তি ব্রাহ্মী লিপি থেকে; ব্রাহ্মী → কুটিল লিপি হয়ে আজকের বাংলা লিপির রূপ গড়ে উঠেছে।
বাংলা বর্ণমালায় মোট বর্ণের সংখ্যা ৫০টি—এর মধ্যে স্বরবর্ণ ১১টি এবং ব্যঞ্জনবর্ণ ৩৯টি। ধ্বনিতত্ত্বের এই অধ্যায়টি বাংলা ব্যাকরণের ভিত্তি; বর্ণের সংখ্যা, প্রকারভেদ, উচ্চারণস্থান, মাত্রা ও কার-ফলা সম্পর্কে স্পষ্ট ধারণা না থাকলে সন্ধি, ধ্বনি পরিবর্তন প্রভৃতি অধ্যায় বোঝা কঠিন হয়।
বিসিএসে এই অধ্যায়ের গুরুত্ব
বর্ণসংখ্যা, স্বর-ব্যঞ্জনের প্রকারভেদ, মৌলিক স্বরধ্বনি, উচ্চারণস্থান (কণ্ঠ্য-তালব্য-মূর্ধন্য-দন্ত্য-ওষ্ঠ্য), অঘোষ-ঘোষ ও অল্পপ্রাণ-মহাপ্রাণ, মাত্রা এবং কার-ফলা থেকে প্রায় প্রতি পরীক্ষায় প্রশ্ন আসে। এই অধ্যায়ের বেশিরভাগ প্রশ্নই সংখ্যা ও শ্রেণিনির্ভর, তাই সংখ্যাগুলো নিখুঁতভাবে মনে রাখাই মূল কৌশল।
প্রশ্নের ধরন এক নজরে
| বিষয় | মূল তথ্য |
|---|---|
| মোট বর্ণ | ৫০টি (স্বর ১১ + ব্যঞ্জন ৩৯) |
| মৌলিক স্বরধ্বনি | ৭টি |
| স্পর্শবর্ণ | ২৫টি |
| উচ্চারণস্থান | ৫টি শ্রেণি |
| কার / ফলা | ১০টি / ৬টি |
| পরাশ্রয়ী বর্ণ | ং ঃ ঁ |
স্বরবর্ণ
যেসব ধ্বনি উচ্চারণের সময় জিহ্বা, তালু, দাঁত বা ঠোঁটে কোনো বাধা পায় না—নিজে নিজেই স্পষ্টভাবে উচ্চারিত হয়—তাদের লিখিত রূপকে স্বরবর্ণ বলে। বাংলায় স্বরবর্ণ ১১টি: অ, আ, ই, ঈ, উ, ঊ, ঋ, এ, ঐ, ও, ঔ।
উচ্চারণের দৈর্ঘ্য অনুসারে স্বরবর্ণ দুই ভাগে বিভক্ত—হ্রস্বস্বর (যা উচ্চারণে কম সময় লাগে) ও দীর্ঘস্বর (যা উচ্চারণে বেশি সময় লাগে)। তবে বাংলায় স্বরের হ্রস্ব-দীর্ঘ ভেদ উচ্চারণে তেমন স্পষ্ট নয়; এটি মূলত সংস্কৃত ব্যাকরণের অনুসরণ।
| শ্রেণি | বর্ণ | সংখ্যা |
|---|---|---|
| হ্রস্বস্বর | অ ই উ ঋ | ৪টি |
| দীর্ঘস্বর | আ ঈ ঊ এ ঐ ও ঔ | ৭টি |
| মৌলিক স্বরধ্বনি | অ আ ই উ এ ও অ্যা | ৭টি |
| যৌগিক স্বরবর্ণ | ঐ (অ+ই), ঔ (অ+উ) | ২টি |
স্বরধ্বনি: মৌলিক ও যৌগিক
- মৌলিক স্বরধ্বনি ৭টি—অ, আ, ই, উ, এ, ও, অ্যা। এগুলো ভেঙে আর ছোট করা যায় না;
- দুই স্বরধ্বনি দ্রুত পাশাপাশি উচ্চারিত হয়ে যে মিলিত ধ্বনি তৈরি হয়, তা যৌগিক স্বরধ্বনি (সংখ্যায় ২৫টি);
- কিন্তু যৌগিক স্বরধ্বনির জন্য নির্দিষ্ট বর্ণ মাত্র ২টি—ঐ ও ঔ;
- ‘অ্যা’ একটি মৌলিক স্বরধ্বনি হলেও এর জন্য পৃথক কোনো বর্ণ নেই।
ব্যঞ্জনবর্ণ
যেসব ধ্বনি উচ্চারণের সময় বাগযন্ত্রের কোথাও না কোথাও বাধা পায় এবং স্বরবর্ণের সাহায্য ছাড়া স্পষ্টভাবে উচ্চারিত হতে পারে না, তাদের লিখিত রূপকে ব্যঞ্জনবর্ণ বলে। বাংলায় ব্যঞ্জনবর্ণ ৩৯টি। উচ্চারণ ও প্রকৃতির ভিত্তিতে এদের কয়েকটি শ্রেণিতে ভাগ করা হয়।
| শ্রেণি | বর্ণ | সংখ্যা |
|---|---|---|
| স্পর্শবর্ণ (বর্গীয়) | ক থেকে ম পর্যন্ত (৫ বর্গ) | ২৫টি |
| অন্তঃস্থ বর্ণ | য র ল ব | ৪টি |
| উষ্ম/শিশ বর্ণ | শ ষ স হ | ৪টি |
| পরাশ্রয়ী বর্ণ | ং ঃ ঁ | ৩টি |
| পরিবর্তিত/প্রতিবেশ্য বর্ণ | ড় ঢ় য় | ৩টি |
স্পর্শবর্ণ বা বর্গীয় বর্ণগুলো পাঁচটি ‘বর্গে’ সাজানো—ক-বর্গ (ক খ গ ঘ ঙ), চ-বর্গ (চ ছ জ ঝ ঞ), ট-বর্গ (ট ঠ ড ঢ ণ), ত-বর্গ (ত থ দ ধ ন) ও প-বর্গ (প ফ ব ভ ম)। প্রতিটি বর্গের পঞ্চম বর্ণ (ঙ ঞ ণ ন ম) নাক দিয়ে উচ্চারিত হয় বলে এদের নাসিক্য বর্ণ বলে।
ব্যঞ্জনবর্ণের প্রধান শ্রেণি
- স্পর্শবর্ণ ২৫টি—ক থেকে ম, পাঁচটি বর্গে বিভক্ত;
- অন্তঃস্থ বর্ণ ৪টি—য, র, ল, ব;
- উষ্ম/শিশ বর্ণ ৪টি—শ, ষ, স, হ;
- নাসিক্য বর্ণ ৫টি—ঙ, ঞ, ণ, ন, ম (প্রতি বর্গের ৫ম বর্ণ)।
উচ্চারণস্থান অনুসারে বর্ণ
মুখগহ্বরের যে অংশে জিহ্বা বা ঠোঁটের স্পর্শে ধ্বনি উৎপন্ন হয়, তাকে সেই ধ্বনির উচ্চারণস্থান বলে। উচ্চারণস্থানের ভিত্তিতেই পাঁচটি বর্গের নামকরণ হয়েছে। ভেতর থেকে বাইরের দিকে ক্রমান্বয়ে—কণ্ঠ, তালু, মূর্ধা, দাঁত ও ঠোঁট।
| উচ্চারণস্থান | স্পর্শবর্ণ/বর্ণ | শ্রেণি-নাম |
|---|---|---|
| কণ্ঠ | ক খ গ ঘ ঙ | কণ্ঠ্য |
| তালু | চ ছ জ ঝ ঞ, য শ | তালব্য |
| মূর্ধা | ট ঠ ড ঢ ণ, র ষ | মূর্ধন্য |
| দাঁত | ত থ দ ধ ন, ল স | দন্ত্য |
| ঠোঁট | প ফ ব ভ ম | ওষ্ঠ্য |
স্বরবর্ণও উচ্চারণস্থান অনুসারে ভাগ করা যায়—‘অ, আ’ কণ্ঠ্য; ‘ই, ঈ’ তালব্য; ‘উ, ঊ’ ওষ্ঠ্য স্বর। বর্ণের উচ্চারণস্থান জানা থাকলে ণত্ব-ষত্ব বিধান ও উচ্চারণ-সংক্রান্ত প্রশ্ন সহজ হয়।
ঘোষ-অঘোষ ও অল্পপ্রাণ-মহাপ্রাণ
ধ্বনি উচ্চারণে স্বরতন্ত্রীর কম্পন হয় কি না, তার ভিত্তিতে ব্যঞ্জনধ্বনি অঘোষ ও ঘোষ এবং শ্বাসের পরিমাণের ভিত্তিতে অল্পপ্রাণ ও মহাপ্রাণ—এই দুই দিক থেকে ভাগ করা হয়। প্রতিটি বর্গের পাঁচটি বর্ণের অবস্থান দেখলেই এই শ্রেণি বোঝা যায়।
| অবস্থান (বর্গে) | ঘোষ/অঘোষ | প্রাণ | উদাহরণ (ক-বর্গ) |
|---|---|---|---|
| ১ম বর্ণ | অঘোষ | অল্পপ্রাণ | ক |
| ২য় বর্ণ | অঘোষ | মহাপ্রাণ | খ |
| ৩য় বর্ণ | ঘোষ | অল্পপ্রাণ | গ |
| ৪র্থ বর্ণ | ঘোষ | মহাপ্রাণ | ঘ |
| ৫ম বর্ণ | ঘোষ | অল্পপ্রাণ (নাসিক্য) | ঙ |
সহজে মনে রাখুন
- প্রতি বর্গের ১ম ও ২য় বর্ণ—অঘোষ; ৩য়, ৪র্থ, ৫ম—ঘোষ;
- প্রতি বর্গের ১ম, ৩য়, ৫ম বর্ণ—অল্পপ্রাণ; ২য় ও ৪র্থ—মহাপ্রাণ;
- উষ্মধ্বনির মধ্যে শ, ষ, স—অঘোষ এবং হ—ঘোষ;
- প্রতি বর্গের ৫ম বর্ণ (ঙ ঞ ণ ন ম) নাসিক্য।
মাত্রা অনুসারে বর্ণ
বর্ণ লেখার সময় বর্ণের মাথায় যে আনুভূমিক রেখা টানা হয়, তাকে মাত্রা বলে। মাত্রার উপস্থিতি বা অনুপস্থিতির ভিত্তিতে বর্ণ তিন প্রকার—পূর্ণমাত্রা (মাথায় পূর্ণ রেখা), অর্ধমাত্রা (আংশিক রেখা) ও মাত্রাহীন (কোনো রেখা নেই)।
| ধরন | স্বরবর্ণে | ব্যঞ্জনবর্ণে | মোট |
|---|---|---|---|
| পূর্ণমাত্রা | ৬টি (অ আ ই ঈ উ ঊ) | ২৬টি | ৩২টি |
| অর্ধমাত্রা | ১টি (ঋ) | ৭টি (খ গ ণ থ ধ প শ) | ৮টি |
| মাত্রাহীন | ৪টি (এ ঐ ও ঔ) | ৬টি (ঙ ঞ ৎ ং ঃ ঁ) | ১০টি |
মাত্রার হিসাব
- বাংলা বর্ণমালায় মোট পূর্ণমাত্রার বর্ণ ৩২টি (৬+২৬);
- অর্ধমাত্রার বর্ণ ৮টি (১+৭)—স্বরে শুধু ঋ, ব্যঞ্জনে খ গ ণ থ ধ প শ;
- মাত্রাহীন বর্ণ ১০টি (৪+৬)—স্বরে এ ঐ ও ঔ, ব্যঞ্জনে ঙ ঞ ৎ ং ঃ ঁ।
কার ও ফলা
স্বরবর্ণ যখন ব্যঞ্জনবর্ণের সঙ্গে যুক্ত হয়, তখন তার একটি সংক্ষিপ্ত রূপ ব্যবহৃত হয়; স্বরবর্ণের এই সংক্ষিপ্ত যুক্তরূপকে কার বলে। অন্যদিকে ব্যঞ্জনবর্ণ যখন অন্য ব্যঞ্জনের সঙ্গে যুক্ত হয়ে সংক্ষিপ্ত রূপ নেয়, তখন তাকে ফলা বলে।
| বিষয় | সংখ্যা | রূপ / উদাহরণ |
|---|---|---|
| কার | ১০টি | া ি ী ু ূ ৃ ে ৈ ো ৌ |
| ফলা | ৬টি | য-ফলা, র-ফলা, ল-ফলা, ম-ফলা, ন-ফলা, ব-ফলা |
কেন কার ১০টি, ১১টি নয়?
স্বরবর্ণ ১১টি হলেও কার-চিহ্ন ১০টি—কারণ ‘অ’ স্বরবর্ণের কোনো কার-চিহ্ন নেই। ব্যঞ্জনের সঙ্গে ‘অ’ এমনিতেই মিশে থাকে (যেমন ক্+অ = ক)। আর ফলা ৬টি—য, র, ল, ম, ন, ব।
বিশেষ বর্ণ ও অযোগবাহ বর্ণ
বাংলা বর্ণমালায় কয়েকটি বর্ণ আছে যাদের প্রকৃতি একটু আলাদা। এদের সম্পর্কে আলাদা করে জেনে রাখা জরুরি, কারণ এখান থেকেও প্রশ্ন আসে।
| বর্ণ | নাম | পরিচয় |
|---|---|---|
| ৎ | খণ্ড-ত | ‘ত’-এর সংক্ষিপ্ত রূপ; মাত্রাহীন ব্যঞ্জন |
| ং | অনুস্বার | পরাশ্রয়ী; ‘ঙ’-এর মতো উচ্চারণ |
| ঃ | বিসর্গ | পরাশ্রয়ী; ‘হ’-জাত অঘোষ ধ্বনি |
| ঁ | চন্দ্রবিন্দু | নাসিক্য উচ্চারণ বোঝায় |
| ড় ঢ় য় | পরিবর্তিত/প্রতিবেশ্য | মূল বর্ণ ড ঢ য থেকে উদ্ভূত |
অযোগবাহ বর্ণ
যেসব বর্ণ স্বর বা ব্যঞ্জন—কোনো শ্রেণিতেই পুরোপুরি পড়ে না, স্বাধীনভাবে উচ্চারিত হয় না, বরং অন্য বর্ণের সাহায্যে (আশ্রয়ে) উচ্চারিত হয়, তাদের অযোগবাহ বা পরাশ্রয়ী বর্ণ বলে। যেমন—অনুস্বার (ং) ও বিসর্গ (ঃ); অনেকে চন্দ্রবিন্দুকেও (ঁ) এর অন্তর্ভুক্ত করেন।
দ্রুত-তথ্য ও পরিভাষা
| বিষয় | সংখ্যা / তথ্য |
|---|---|
| মোট বর্ণ | ৫০টি |
| স্বরবর্ণ | ১১টি |
| ব্যঞ্জনবর্ণ | ৩৯টি |
| মৌলিক স্বরধ্বনি | ৭টি |
| হ্রস্বস্বর | ৪টি |
| দীর্ঘস্বর | ৭টি |
| যৌগিক স্বরবর্ণ | ২টি (ঐ, ঔ) |
| স্পর্শবর্ণ | ২৫টি |
| অন্তঃস্থ বর্ণ | ৪টি (য র ল ব) |
| উষ্মবর্ণ | ৪টি (শ ষ স হ) |
| নাসিক্য বর্ণ | ৫টি (ঙ ঞ ণ ন ম) |
| পরাশ্রয়ী/অযোগবাহ | ং ঃ ঁ |
| পূর্ণমাত্রার বর্ণ | ৩২টি |
| মাত্রাহীন বর্ণ | ১০টি |
| কার | ১০টি |
| ফলা | ৬টি |
পরিভাষা (Glossary)
- বর্ণ: ধ্বনির লিখিত প্রতীক;
- স্পর্শবর্ণ: ক থেকে ম পর্যন্ত ২৫টি বর্গীয় বর্ণ;
- নাসিক্য বর্ণ: নাক দিয়ে উচ্চারিত বর্ণ (ঙ ঞ ণ ন ম);
- অন্তঃস্থ বর্ণ: য র ল ব;
- অযোগবাহ/পরাশ্রয়ী বর্ণ: স্বাধীনভাবে উচ্চারিত হয় না এমন বর্ণ (ং ঃ ঁ);
- মাত্রা: বর্ণের মাথার আনুভূমিক রেখা।
বিগত বিসিএসে আসা প্রশ্ন (সমাধানসহ)
বাংলা বর্ণমালায় স্বরবর্ণ কয়টি?
(ক) ৭টি (খ) ১০টি (গ) ১১টি (ঘ) ৩৯টি
উত্তর: (গ) ১১টি
ব্যাখ্যা: বাংলায় স্বরবর্ণ ১১টি ও ব্যঞ্জনবর্ণ ৩৯টি—মোট ৫০টি।
বাংলা ভাষায় মৌলিক স্বরধ্বনি কয়টি?
(ক) ৪টি (খ) ৭টি (গ) ১১টি (ঘ) ১৩টি
উত্তর: (খ) ৭টি
ব্যাখ্যা: মৌলিক স্বরধ্বনি ৭টি—অ, আ, ই, উ, এ, ও, অ্যা।
‘ক’ বর্ণের উচ্চারণস্থান কোথায়?
(ক) তালু (খ) কণ্ঠ (গ) মূর্ধা (ঘ) ওষ্ঠ
উত্তর: (খ) কণ্ঠ
ব্যাখ্যা: ক-বর্গ (ক খ গ ঘ ঙ) কণ্ঠ্য ধ্বনি; তাই ‘ক’-এর উচ্চারণস্থান কণ্ঠ।
বাংলা বর্ণমালায় ‘কার’ কয়টি?
(ক) ৯টি (খ) ১০টি (গ) ১১টি (ঘ) ১২টি
উত্তর: (খ) ১০টি
ব্যাখ্যা: স্বরবর্ণ ১১টি হলেও ‘অ’-এর কার নেই, তাই কার ১০টি।
নিচের কোনটি অঘোষ ধ্বনি?
(ক) গ (খ) ঘ (গ) ক (ঘ) ঙ
উত্তর: (গ) ক
ব্যাখ্যা: প্রতিটি বর্গের ১ম ও ২য় বর্ণ অঘোষ; তাই ‘ক’ অঘোষ ধ্বনি।
‘ৎ’ বর্ণটি কী?
(ক) স্বরবর্ণ (খ) খণ্ড-ত (মাত্রাহীন ব্যঞ্জন) (গ) যৌগিক স্বর (ঘ) কার
উত্তর: (খ) খণ্ড-ত (মাত্রাহীন ব্যঞ্জন)
ব্যাখ্যা: ‘ৎ’ খণ্ড-ত নামে পরিচিত এবং একটি মাত্রাহীন ব্যঞ্জনবর্ণ।
নিচের কোনগুলো অযোগবাহ বর্ণ?
(ক) ঐ ঔ (খ) ং ঃ (গ) য় ড় (ঘ) শ ষ
উত্তর: (খ) ং ঃ
ব্যাখ্যা: অনুস্বার (ং) ও বিসর্গ (ঃ) অযোগবাহ বা পরাশ্রয়ী বর্ণ।
প্রতিটি বর্গের পঞ্চম বর্ণকে কী বলে?
(ক) উষ্মবর্ণ (খ) নাসিক্য বর্ণ (গ) অন্তঃস্থ বর্ণ (ঘ) অঘোষ বর্ণ
উত্তর: (খ) নাসিক্য বর্ণ
ব্যাখ্যা: প্রতিটি বর্গের ৫ম বর্ণ (ঙ ঞ ণ ন ম) নাক দিয়ে উচ্চারিত হয়, তাই নাসিক্য বর্ণ।
বর্ণসংখ্যা ও প্রকারভেদ
১. বাংলা বর্ণমালায় মোট বর্ণ কয়টি?
উত্তর ও ব্যাখ্যা: ৫০টি।
২. স্বরবর্ণ কয়টি?
উত্তর ও ব্যাখ্যা: ১১টি।
৩. ব্যঞ্জনবর্ণ কয়টি?
উত্তর ও ব্যাখ্যা: ৩৯টি।
৪. মৌলিক স্বরধ্বনি কয়টি?
উত্তর ও ব্যাখ্যা: ৭টি।
৫. হ্রস্বস্বর কয়টি?
উত্তর ও ব্যাখ্যা: ৪টি (অ ই উ ঋ)।
৬. দীর্ঘস্বর কয়টি?
উত্তর ও ব্যাখ্যা: ৭টি।
৭. যৌগিক স্বরবর্ণ কয়টি ও কী কী?
উত্তর ও ব্যাখ্যা: ২টি—ঐ, ঔ।
৮. যৌগিক স্বরধ্বনি কয়টি?
উত্তর ও ব্যাখ্যা: ২৫টি।
৯. স্পর্শবর্ণ কয়টি?
উত্তর ও ব্যাখ্যা: ২৫টি (ক থেকে ম)।
১০. বাংলা লিপির উৎস কোন লিপি?
উত্তর ও ব্যাখ্যা: ব্রাহ্মী লিপি।
উচ্চারণ, ঘোষ-অঘোষ ও প্রাণ
১১. ক-বর্গের উচ্চারণস্থান কী?
উত্তর ও ব্যাখ্যা: কণ্ঠ (কণ্ঠ্য)।
১২. চ-বর্গের উচ্চারণস্থান কী?
উত্তর ও ব্যাখ্যা: তালু (তালব্য)।
১৩. ট-বর্গের উচ্চারণস্থান কী?
উত্তর ও ব্যাখ্যা: মূর্ধা (মূর্ধন্য)।
১৪. প-বর্গের উচ্চারণস্থান কী?
উত্তর ও ব্যাখ্যা: ঠোঁট (ওষ্ঠ্য)।
১৫. প্রতি বর্গের ১ম-২য় বর্ণ কী?
উত্তর ও ব্যাখ্যা: অঘোষ।
১৬. প্রতি বর্গের ২য়-৪র্থ বর্ণ কী?
উত্তর ও ব্যাখ্যা: মহাপ্রাণ।
১৭. অন্তঃস্থ বর্ণ কোনগুলো?
উত্তর ও ব্যাখ্যা: য র ল ব।
১৮. উষ্ম/শিশ বর্ণ কোনগুলো?
উত্তর ও ব্যাখ্যা: শ ষ স হ।
১৯. নাসিক্য বর্ণ কোনগুলো?
উত্তর ও ব্যাখ্যা: ঙ ঞ ণ ন ম।
২০. ‘হ’ ঘোষ না অঘোষ?
উত্তর ও ব্যাখ্যা: ঘোষ।
মাত্রা, কার-ফলা ও বিশেষ বর্ণ
২১. পূর্ণমাত্রার বর্ণ মোট কয়টি?
উত্তর ও ব্যাখ্যা: ৩২টি।
২২. অর্ধমাত্রার বর্ণ কয়টি?
উত্তর ও ব্যাখ্যা: ৮টি।
২৩. মাত্রাহীন বর্ণ কয়টি?
উত্তর ও ব্যাখ্যা: ১০টি।
২৪. মাত্রাহীন স্বরবর্ণ কোনগুলো?
উত্তর ও ব্যাখ্যা: এ ঐ ও ঔ।
২৫. বাংলায় কার কয়টি?
উত্তর ও ব্যাখ্যা: ১০টি।
২৬. ‘অ’-এর কার আছে কি?
উত্তর ও ব্যাখ্যা: না, তাই কার ১০টি।
২৭. ফলা কয়টি?
উত্তর ও ব্যাখ্যা: ৬টি (য র ল ম ন ব)।
২৮. ‘ৎ’ বর্ণের নাম কী?
উত্তর ও ব্যাখ্যা: খণ্ড-ত।
২৯. অযোগবাহ বর্ণ কোনগুলো?
উত্তর ও ব্যাখ্যা: অনুস্বার (ং) ও বিসর্গ (ঃ)।
৩০. পরাশ্রয়ী বর্ণ কয়টি?
উত্তর ও ব্যাখ্যা: ৩টি (ং ঃ ঁ)।
অতিরিক্ত অনুশীলন
৩১. বাংলা বর্ণমালায় বর্ণ কয়টি?
উত্তর ও ব্যাখ্যা: ৫০টি।
৩২. স্বরবর্ণ কয়টি?
উত্তর ও ব্যাখ্যা: ১১টি।
৩৩. ব্যঞ্জনবর্ণ কয়টি?
উত্তর ও ব্যাখ্যা: ৩৯টি।
৩৪. মৌলিক স্বরধ্বনি কয়টি?
উত্তর ও ব্যাখ্যা: ৭টি।
৩৫. স্বরবর্ণের সংক্ষিপ্ত রূপকে কী বলে?
উত্তর ও ব্যাখ্যা: কার।
৩৬. ব্যঞ্জনবর্ণের সংক্ষিপ্ত রূপকে কী বলে?
উত্তর ও ব্যাখ্যা: ফলা।
৩৭. ‘অ’-এর কি কার চিহ্ন আছে?
উত্তর ও ব্যাখ্যা: নেই।
৩৮. কার চিহ্ন কয়টি?
উত্তর ও ব্যাখ্যা: ১০টি।
৩৯. ফলা কয়টি?
উত্তর ও ব্যাখ্যা: ৬টি।
৪০. বাংলা লিপির উৎস কী?
উত্তর ও ব্যাখ্যা: ব্রাহ্মী লিপি।
৪১. পূর্ণমাত্রার বর্ণ কয়টি?
উত্তর ও ব্যাখ্যা: ৩২টি।
৪২. অর্ধমাত্রার বর্ণ কয়টি?
উত্তর ও ব্যাখ্যা: ৮টি।
৪৩. মাত্রাহীন বর্ণ কয়টি?
উত্তর ও ব্যাখ্যা: ১০টি।
৪৪. ‘ঋ’ কোন ধরনের বর্ণ?
উত্তর ও ব্যাখ্যা: স্বরবর্ণ।
৪৫. ‘ং’ (অনুস্বার) কী?
উত্তর ও ব্যাখ্যা: ব্যঞ্জনধ্বনি।
৪৬. ‘ঃ’ কে কী বলে?
উত্তর ও ব্যাখ্যা: বিসর্গ।
৪৭. ‘ঁ’ কে কী বলে?
উত্তর ও ব্যাখ্যা: চন্দ্রবিন্দু।
৪৮. হ্রস্ব স্বর কয়টি?
উত্তর ও ব্যাখ্যা: ৪টি।
৪৯. দীর্ঘ স্বর কয়টি?
উত্তর ও ব্যাখ্যা: ৭টি।
৫০. যৌগিক স্বরবর্ণ কোনগুলো?
উত্তর ও ব্যাখ্যা: ঐ ও ঔ।
৫১. যৌগিক স্বরধ্বনি কয়টি?
উত্তর ও ব্যাখ্যা: ২৫টি।
৫২. ‘ক’ থেকে ‘ম’ পর্যন্ত বর্ণকে কী বলে?
উত্তর ও ব্যাখ্যা: স্পর্শ বর্ণ।
৫৩. স্পর্শ বর্ণ কয়টি?
উত্তর ও ব্যাখ্যা: ২৫টি।
৫৪. বর্গ কয়টি?
উত্তর ও ব্যাখ্যা: ৫টি।
৫৫. প্রতিটি বর্গে বর্ণ কয়টি?
উত্তর ও ব্যাখ্যা: ৫টি।
৫৬. ‘ক-বর্গের’ প্রথম বর্ণ কী?
উত্তর ও ব্যাখ্যা: ক।
৫৭. অন্তঃস্থ বর্ণ কোনগুলো?
উত্তর ও ব্যাখ্যা: য, র, ল, ব।
৫৮. উষ্ম বর্ণ কোনগুলো?
উত্তর ও ব্যাখ্যা: শ, ষ, স, হ।
৫৯. নাসিক্য বর্ণ কোনগুলো?
উত্তর ও ব্যাখ্যা: ঙ, ঞ, ণ, ন, ম।
৬০. ‘ৎ’ কে কী বলে?
উত্তর ও ব্যাখ্যা: খণ্ড ত।
৬১. বর্ণ কী?
উত্তর ও ব্যাখ্যা: ধ্বনির লিখিত রূপ।
৬২. ধ্বনি ও বর্ণের সম্পর্ক কী?
উত্তর ও ব্যাখ্যা: ধ্বনির প্রতীক বর্ণ।
৬৩. বাংলা কোন লিপিতে লেখা হয়?
উত্তর ও ব্যাখ্যা: বাংলা লিপি।
৬৪. স্বরবর্ণের প্রথম বর্ণ কী?
উত্তর ও ব্যাখ্যা: অ।
৬৫. ব্যঞ্জনবর্ণের প্রথম বর্ণ কী?
উত্তর ও ব্যাখ্যা: ক।
৬৬. ‘এ’ কোন ধরনের স্বর?
উত্তর ও ব্যাখ্যা: দীর্ঘ স্বর।
৬৭. মৌলিক স্বরধ্বনিগুলো কী?
উত্তর ও ব্যাখ্যা: অ,আ,ই,উ,এ,ও,অ্যা।
৬৮. তালব্য বর্ণ কোনটি?
উত্তর ও ব্যাখ্যা: চ-বর্গ।
৬৯. ওষ্ঠ্য বর্ণ কোনটি?
উত্তর ও ব্যাখ্যা: প-বর্গ।
৭০. দন্ত্য বর্ণ কোনটি?
উত্তর ও ব্যাখ্যা: ত-বর্গ।
৭১. মূর্ধন্য বর্ণ কোনটি?
উত্তর ও ব্যাখ্যা: ট-বর্গ।
৭২. কণ্ঠ্য বর্ণ কোনটি?
উত্তর ও ব্যাখ্যা: ক-বর্গ।
৭৩. ‘ই’-এর কার চিহ্ন কী?
উত্তর ও ব্যাখ্যা: ি।
৭৪. ‘উ’-এর কার চিহ্ন কী?
উত্তর ও ব্যাখ্যা: ু।
৭৫. ‘ব-ফলা’ উদাহরণ কী?
উত্তর ও ব্যাখ্যা: বিশ্ব।
৭৬. ‘য-ফলা’ উদাহরণ কী?
উত্তর ও ব্যাখ্যা: বিদ্যা।
৭৭. ‘র-ফলা’ উদাহরণ কী?
উত্তর ও ব্যাখ্যা: গ্রাম।
৭৮. ‘রেফ’ কী?
উত্তর ও ব্যাখ্যা: র-এর ঊর্ধ্বরূপ (্র নয়)।
৭৯. যুক্তবর্ণ কী?
উত্তর ও ব্যাখ্যা: দুই+ ব্যঞ্জনের মিলন।
৮০. ‘ক্ষ’ কোন বর্ণের যুক্তরূপ?
উত্তর ও ব্যাখ্যা: ক+ষ।
৮১. ‘জ্ঞ’ কোন বর্ণের যুক্তরূপ?
উত্তর ও ব্যাখ্যা: জ+ঞ।
৮২. ‘ঞ্চ’ কোন বর্ণের যুক্তরূপ?
উত্তর ও ব্যাখ্যা: ঞ+চ।
৮৩. বাংলা বর্ণমালা কোন ভাষাগোষ্ঠীর?
উত্তর ও ব্যাখ্যা: ইন্দো-আর্য।
৮৪. বর্ণ উচ্চারণের স্থান কয়টি?
উত্তর ও ব্যাখ্যা: পাঁচটি প্রধান।
৮৫. স্বরবর্ণ কীভাবে উচ্চারিত হয়?
উত্তর ও ব্যাখ্যা: বাধাহীনভাবে।
৮৬. ব্যঞ্জনবর্ণ উচ্চারণে কী লাগে?
উত্তর ও ব্যাখ্যা: স্বরের সাহায্য।
৮৭. ‘আ’ কোন ধরনের স্বর?
উত্তর ও ব্যাখ্যা: দীর্ঘ স্বর।
৮৮. হ্রস্ব স্বরগুলো কী?
উত্তর ও ব্যাখ্যা: অ,ই,উ,ঋ।
৮৯. বর্ণের ক্রম কী দিয়ে শুরু?
উত্তর ও ব্যাখ্যা: স্বরবর্ণ।
৯০. ‘ঢ়’ ও ‘ড়’ কোন ধরনের বর্ণ?
উত্তর ও ব্যাখ্যা: পরাশ্রয়ী/তাড়নজাত।
৯১. ‘য়’ কোন বর্ণ?
উত্তর ও ব্যাখ্যা: অন্তঃস্থ য়।
৯২. বর্ণমালা কে সংস্কার করেন?
উত্তর ও ব্যাখ্যা: ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর।
৯৩. বিদ্যাসাগরের বই কোনটি?
উত্তর ও ব্যাখ্যা: বর্ণপরিচয়।
৯৪. ‘বর্ণপরিচয়’ কবে প্রকাশিত?
উত্তর ও ব্যাখ্যা: ১৮৫৫।
৯৫. লিখিত ভাষার একক কী?
উত্তর ও ব্যাখ্যা: বর্ণ।
৯৬. কথ্য ভাষার একক কী?
উত্তর ও ব্যাখ্যা: ধ্বনি।
৯৭. বাংলা স্বরবর্ণে দীর্ঘ ‘ঈ’ আছে কি?
উত্তর ও ব্যাখ্যা: হ্যাঁ।
৯৮. ‘ৈ’ কোন কার?
উত্তর ও ব্যাখ্যা: ঐ-কার।
৯৯. ‘ৌ’ কোন কার?
উত্তর ও ব্যাখ্যা: ঔ-কার।
১০০. বর্ণ বিশ্লেষণ কী?
উত্তর ও ব্যাখ্যা: শব্দকে বর্ণে ভাঙা।