বাক্য
যে সুবিন্যস্ত পদসমষ্টি দ্বারা বক্তার মনের ভাব সম্পূর্ণরূপে প্রকাশ পায়, তাকে বাক্য বলে। যেমন—‘পাখিটি আকাশে উড়ছে।’ এটি একটি সম্পূর্ণ বাক্য, কারণ এটি একটি পূর্ণ ভাব প্রকাশ করছে। বাক্যের মূল উপাদান পদ; আর প্রতিটি বাক্যের দুটি প্রধান অংশ থাকে—উদ্দেশ্য ও বিধেয়।
বাক্যকে দুই দৃষ্টিকোণ থেকে শ্রেণিবদ্ধ করা হয়—গঠন অনুসারে (সরল, জটিল, যৌগিক) এবং অর্থ অনুসারে (বিবৃতি, প্রশ্ন, অনুজ্ঞা, ইচ্ছা, আবেগ প্রভৃতি)। এ ছাড়া বাক্যের তিনটি অপরিহার্য গুণ—আকাঙ্ক্ষা, আসত্তি ও যোগ্যতা।
বিসিএসে বাক্য অধ্যায়ের গুরুত্ব
বাক্যের গুণ, গঠন ও অর্থ অনুসারে প্রকার, উদ্দেশ্য-বিধেয় এবং বাক্য রূপান্তর থেকে নিয়মিত প্রশ্ন আসে। বিশেষত ‘নিচের বাক্যটি কোন ধরনের’ (সরল/জটিল/যৌগিক অথবা প্রশ্নবোধক/অনুজ্ঞা প্রভৃতি)—এই প্রশ্ন সবচেয়ে বেশি। উদাহরণসহ প্রতিটি প্রকার চিনে রাখাই মূল কৌশল।
বাক্যের শ্রেণিবিভাগ এক নজরে
| ভিত্তি | প্রকার |
|---|---|
| গুণ | আকাঙ্ক্ষা, আসত্তি, যোগ্যতা (৩) |
| গঠন অনুসারে | সরল, জটিল/মিশ্র, যৌগিক (৩) |
| অর্থ অনুসারে | বিবৃতি, প্রশ্ন, অনুজ্ঞা, ইচ্ছা, আবেগ, কার্যকারণ, সন্দেহ (৭) |
বাক্যের গুণ
একটি সার্থক বাক্যের তিনটি অপরিহার্য গুণ থাকতে হয়—আকাঙ্ক্ষা, আসত্তি ও যোগ্যতা। এই তিনটির যেকোনো একটির অভাব হলে বাক্য ত্রুটিপূর্ণ বা অর্থহীন হয়ে পড়ে।
| গুণ | পরিচয় |
|---|---|
| আকাঙ্ক্ষা | বাক্যের অর্থ সম্পূর্ণরূপে বোঝার আগ্রহ/প্রয়োজন পূরণ |
| আসত্তি | পদগুলোর সুশৃঙ্খল ও নিকটবর্তী বিন্যাস |
| যোগ্যতা | পদগুলোর অর্থগত ও ভাবগত সংগতি |
তিন গুণ উদাহরণে
- আকাঙ্ক্ষার অভাব: ‘আমি ভাত’ (অসম্পূর্ণ) → ‘আমি ভাত খাই’ (সম্পূর্ণ);
- আসত্তির অভাব: ‘খাই আমি ভাত’—পদের বিন্যাস বিশৃঙ্খল;
- যোগ্যতার অভাব: ‘আগুনে জল জ্বলে’—অর্থগত অসংগতি (জল জ্বলে না);
- তিন গুণ ঠিক থাকলে: ‘আমি ভাত খাই’—সার্থক বাক্য।
উদ্দেশ্য ও বিধেয়
বাক্যে যাকে নিয়ে কিছু বলা হয়, তাকে উদ্দেশ্য বলে; আর উদ্দেশ্য সম্পর্কে যা বলা হয়, তাকে বিধেয় বলে। যেমন—‘ছেলেটি বই পড়ছে।’ এখানে ‘ছেলেটি’ উদ্দেশ্য এবং ‘বই পড়ছে’ বিধেয়।
| বাক্য | উদ্দেশ্য | বিধেয় |
|---|---|---|
| পাখিটি আকাশে ওড়ে | পাখিটি | আকাশে ওড়ে |
| রহিম স্কুলে যায় | রহিম | স্কুলে যায় |
| সূর্য পূর্ব দিকে ওঠে | সূর্য | পূর্ব দিকে ওঠে |
উদ্দেশ্য ও বিধেয়ের সম্প্রসারণ
উদ্দেশ্য ও বিধেয়ের সঙ্গে অতিরিক্ত পদ যুক্ত হয়ে এদের সম্প্রসারিত করা যায়। যেমন—‘ছেলেটি’ (উদ্দেশ্য) → ‘লাল জামা পরা ছোট ছেলেটি’; ‘পড়ছে’ (বিধেয়) → ‘মন দিয়ে বই পড়ছে’। উদ্দেশ্যের সম্প্রসারক অংশকে ‘উদ্দেশ্যের সম্প্রসারণ’ ও বিধেয়ের অংশকে ‘বিধেয়ের সম্প্রসারণ’ বলে।
গঠন অনুসারে বাক্য
গঠন বা কাঠামোর ভিত্তিতে বাক্য তিন প্রকার—সরল, জটিল/মিশ্র ও যৌগিক। কোন বাক্যে কয়টি সমাপিকা ক্রিয়া ও কী ধরনের সংযোজক আছে, তা দেখে প্রকার নির্ণয় করা হয়।
| প্রকার | পরিচয় | উদাহরণ |
|---|---|---|
| সরল বাক্য | একটি উদ্দেশ্য ও একটি সমাপিকা ক্রিয়া | সে বই পড়ে। শিশুটি হাসছে। |
| জটিল/মিশ্র বাক্য | একটি প্রধান খণ্ডবাক্য ও এক/একাধিক আশ্রিত খণ্ডবাক্য | যে পরিশ্রম করে, সে সফল হয়। |
| যৌগিক বাক্য | দুই/ততোধিক স্বাধীন বাক্য অব্যয়ে যুক্ত | সে ধনী কিন্তু কৃপণ। |
গঠন অনুসারে আরও উদাহরণ
- সরল: সূর্য পূর্ব দিকে ওঠে; বৃষ্টি হচ্ছে; পরিশ্রমী লোক সফল হয়;
- জটিল: যখন বৃষ্টি এল, তখন আমরা ঘরে ঢুকলাম; যদি চেষ্টা করো, তবে পারবে; যেহেতু সে অসুস্থ, সেহেতু আসেনি;
- যৌগিক: তিনি এলেন এবং জয় করলেন; সে গরিব কিন্তু সৎ; পড়ো নতুবা ফেল করবে।
চেনার সূত্র
- একটিমাত্র সমাপিকা ক্রিয়া = সরল;
- ‘যে…সে’, ‘যদি…তবে’, ‘যখন…তখন’, ‘যেহেতু…সেহেতু’ সাপেক্ষ সর্বনাম/অব্যয় = জটিল;
- ‘ও/এবং/কিন্তু/তাই/অথবা/নতুবা’ দিয়ে দুই স্বাধীন বাক্য যুক্ত = যৌগিক।
অর্থ অনুসারে বাক্য
অর্থ বা ভাবের ভিত্তিতে বাক্য প্রধানত সাত প্রকার। প্রতিটি প্রকার আলাদা ভাব প্রকাশ করে—বিবৃতি, প্রশ্ন, আদেশ, ইচ্ছা, আবেগ, কার্যকারণ ও সন্দেহ।
| প্রকার | পরিচয় | উদাহরণ |
|---|---|---|
| বিবৃতিমূলক/নির্দেশক | কোনো কিছু জানানো (হ্যাঁ/না-বাচক) | সে স্কুলে যায়। সে স্কুলে যায় না। |
| প্রশ্নবোধক | প্রশ্ন করা | তুমি কোথায় যাও? |
| অনুজ্ঞাসূচক | আদেশ/অনুরোধ/উপদেশ | এখন বাড়ি যাও। সদা সত্য বলবে। |
| ইচ্ছাসূচক/প্রার্থনামূলক | কামনা/প্রার্থনা | তুমি দীর্ঘজীবী হও। |
| আবেগসূচক/বিস্ময়সূচক | আবেগ/বিস্ময় | আহা! কী সুন্দর দৃশ্য! |
| কার্যকারণাত্মক | শর্ত-কারণ প্রকাশ | পরিশ্রম করলে সফল হবে। |
| সন্দেহবাচক | সংশয়/সম্ভাবনা | আজ হয়তো বৃষ্টি হবে। |
অর্থ অনুসারে আরও উদাহরণ
- প্রশ্নবোধক: তুমি কি আসবে? কে ওখানে?;
- অনুজ্ঞা: চুপ করো; মন দিয়ে পড়ো; দয়া করে বসুন;
- ইচ্ছাসূচক: ঈশ্বর তোমার মঙ্গল করুন; দেশ এগিয়ে যাক;
- আবেগসূচক: হায়! কী দুর্ভাগ্য! বাহ, চমৎকার!;
- সন্দেহবাচক: সে হয়তো জানে না; বোধহয় ট্রেন লেট।
বাক্য রূপান্তর
অর্থ অপরিবর্তিত রেখে একপ্রকার বাক্যকে অন্য প্রকারে পরিবর্তন করাকে বাক্য রূপান্তর বলে। সরল-জটিল-যৌগিকের পারস্পরিক রূপান্তর এবং হ্যাঁ-বাচক ↔ না-বাচক রূপান্তর বিসিএসে বহুল-জিজ্ঞাসিত।
| মূল বাক্য | রূপান্তরিত বাক্য |
|---|---|
| সরল: পরিশ্রমী লোক উন্নতি করে। | জটিল: যে পরিশ্রম করে, সে উন্নতি করে। |
| জটিল: যদি চেষ্টা করো, তবে পারবে। | সরল: চেষ্টা করলে পারবে। |
| যৌগিক: সে গরিব কিন্তু সৎ। | সরল: গরিব হলেও সে সৎ। |
| হ্যাঁ-বাচক: লোকটি সৎ। | না-বাচক: লোকটি অসৎ নয়। |
| প্রশ্নবোধক: কে না তাকে চেনে? | বিবৃতি: সবাই তাকে চেনে। |
রূপান্তরের মূলনীতি
রূপান্তরের সময় বাক্যের অর্থ অপরিবর্তিত রাখতে হয়—কেবল গঠন বা ভঙ্গি বদলায়। সরল→জটিল করতে হলে একটি অংশকে আশ্রিত খণ্ডবাক্যে (যে/যদি/যখন) পরিণত করুন; জটিল→সরল করতে হলে আশ্রিত খণ্ডবাক্যকে অসমাপিকা ক্রিয়া বা বিশেষণে (করলে, করে) সংক্ষিপ্ত করুন।
ধাপে ধাপে বাক্য নির্ণয়
বাক্যের গঠন নির্ণয়ের নিশ্চিত উপায়—সমাপিকা ক্রিয়ার সংখ্যা ও সংযোজক শব্দ দেখা। নিচে কয়েকটি উদাহরণ ধাপে ধাপে দেখানো হলো।
‘যে পরিশ্রম করে, সে সফল হয়’—কোন ধরনের বাক্য?
- বাক্যে দুটি অংশ: ‘যে পরিশ্রম করে’ ও ‘সে সফল হয়’।
- ‘যে…সে’ সাপেক্ষ সর্বনাম আছে; ‘যে পরিশ্রম করে’ আশ্রিত খণ্ডবাক্য।
- একটি প্রধান ও একটি আশ্রিত খণ্ডবাক্য—তাই এটি জটিল/মিশ্র বাক্য।
‘সে ধনী কিন্তু কৃপণ’—কোন ধরনের বাক্য?
- দুটি স্বাধীন ভাব: ‘সে ধনী’ ও ‘সে কৃপণ’।
- ‘কিন্তু’ সংযোজক অব্যয় দিয়ে দুটি স্বাধীন বাক্য যুক্ত।
- স্বাধীন বাক্য অব্যয়ে যুক্ত—তাই এটি যৌগিক বাক্য।
‘পরিশ্রমী লোক উন্নতি করে’—কে জটিল বাক্যে রূপান্তর করুন।
- মূল সরল বাক্যে ‘পরিশ্রমী’ বিশেষণটিকে আশ্রিত খণ্ডবাক্যে বদলাতে হবে।
- ‘পরিশ্রমী লোক’ → ‘যে লোক পরিশ্রম করে’।
- রূপান্তর: যে লোক পরিশ্রম করে, সে উন্নতি করে। (জটিল)।
সরল-জটিল-যৌগিক: সাধারণ ভুল
গঠন অনুসারে প্রকার নির্ণয়ে সবচেয়ে বেশি ভুল হয়। মূল বিবেচ্য দুটি—সমাপিকা ক্রিয়ার সংখ্যা এবং সংযোজক শব্দের ধরন।
| যা দেখতে হবে | সরল | জটিল | যৌগিক |
|---|---|---|---|
| সমাপিকা ক্রিয়া | একটি | একাধিক (খণ্ডবাক্যে) | একাধিক (স্বাধীন) |
| সংযোজক | নেই | যে/যদি/যখন/যেহেতু | ও/এবং/কিন্তু/তাই/অথবা |
| খণ্ডবাক্য | নেই | আশ্রিত খণ্ডবাক্য আছে | স্বাধীন বাক্য যুক্ত |
| উদাহরণ | সে বই পড়ে | যে পড়ে, সে জানে | সে পড়ে ও লেখে |
বিভ্রান্তি এড়ানোর দুই প্রশ্ন
- সমাপিকা ক্রিয়া ক’টি? একটি হলে সম্ভবত সরল;
- সংযোজক কি সাপেক্ষ (যে/যদি/যখন)? → জটিল; নাকি সমুচ্চয়ী (ও/কিন্তু/তাই)? → যৌগিক।
বহুল-জিজ্ঞাসিত বাক্যের তালিকা
রিভিশনের জন্য নিচের তালিকাটি কার্যকর। বাক্য দেখে দ্রুত এর গঠন বা অর্থগত প্রকার মিলিয়ে নিন।
| বাক্য | প্রকার |
|---|---|
| সে বই পড়ে। | সরল (গঠন) |
| সূর্য পূর্ব দিকে ওঠে। | সরল |
| যে পরিশ্রম করে, সে সফল হয়। | জটিল |
| যখন বৃষ্টি এল, তখন সে এল। | জটিল |
| সে ধনী কিন্তু কৃপণ। | যৌগিক |
| তিনি এলেন এবং জয় করলেন। | যৌগিক |
| তুমি কোথায় যাও? | প্রশ্নবোধক (অর্থ) |
| এখন বাড়ি যাও। | অনুজ্ঞাসূচক |
| তুমি দীর্ঘজীবী হও। | ইচ্ছাসূচক |
| আহা! কী সুন্দর! | আবেগসূচক |
| সে স্কুলে যায়। | বিবৃতিমূলক |
| আজ হয়তো বৃষ্টি হবে। | সন্দেহবাচক |
| পরিশ্রম করলে সফল হবে। | কার্যকারণাত্মক |
দ্রুত-তথ্য ও পরিভাষা
| বিষয় | তথ্য |
|---|---|
| বাক্য | পূর্ণ ভাব প্রকাশক পদসমষ্টি |
| বাক্যের গুণ | ৩টি (আকাঙ্ক্ষা, আসত্তি, যোগ্যতা) |
| গঠন অনুসারে | ৩ প্রকার (সরল, জটিল, যৌগিক) |
| অর্থ অনুসারে | ৭ প্রকার |
| উদ্দেশ্য | যাকে নিয়ে বলা হয় |
| বিধেয় | যা বলা হয় |
| সরল বাক্য | একটি সমাপিকা ক্রিয়া |
| জটিল বাক্য | আশ্রিত খণ্ডবাক্য থাকে |
পরিভাষা (Glossary)
- আকাঙ্ক্ষা: অর্থ সম্পূর্ণ বোঝার প্রয়োজন;
- আসত্তি: পদের সুশৃঙ্খল বিন্যাস;
- যোগ্যতা: অর্থগত সংগতি;
- উদ্দেশ্য/বিধেয়: বাক্যের দুই প্রধান অংশ;
- খণ্ডবাক্য: বৃহৎ বাক্যের অন্তর্গত বাক্যাংশ;
- আশ্রিত খণ্ডবাক্য: প্রধান বাক্যের ওপর নির্ভরশীল খণ্ডবাক্য।
বিগত বিসিএসে আসা প্রশ্ন (সমাধানসহ)
বাক্যের কয়টি গুণ থাকা আবশ্যক?
(ক) ২টি (খ) ৩টি (গ) ৪টি (ঘ) ৫টি
উত্তর: (খ) ৩টি
ব্যাখ্যা: আকাঙ্ক্ষা, আসত্তি ও যোগ্যতা—এই তিন গুণ বাক্যের জন্য আবশ্যক।
‘যে পরিশ্রম করে, সে সফল হয়’—কোন ধরনের বাক্য?
(ক) সরল (খ) জটিল/মিশ্র (গ) যৌগিক (ঘ) প্রশ্নবোধক
উত্তর: (খ) জটিল/মিশ্র
ব্যাখ্যা: একটি প্রধান ও একটি আশ্রিত খণ্ডবাক্য থাকায় এটি জটিল বাক্য।
পদের সুশৃঙ্খল বিন্যাসকে কী বলে?
(ক) আকাঙ্ক্ষা (খ) আসত্তি (গ) যোগ্যতা (ঘ) বিধেয়
উত্তর: (খ) আসত্তি
ব্যাখ্যা: পদগুলোর নিকটবর্তী ও সুশৃঙ্খল বিন্যাসকে আসত্তি বলে।
‘সে গরিব কিন্তু সৎ’—কোন ধরনের বাক্য?
(ক) সরল (খ) জটিল (গ) যৌগিক (ঘ) অনুজ্ঞা
উত্তর: (গ) যৌগিক
ব্যাখ্যা: দুটি স্বাধীন বাক্য ‘কিন্তু’ অব্যয়ে যুক্ত হওয়ায় এটি যৌগিক বাক্য।
‘তুমি দীর্ঘজীবী হও’—কোন ধরনের বাক্য?
(ক) অনুজ্ঞাসূচক (খ) ইচ্ছাসূচক (গ) বিবৃতিমূলক (ঘ) প্রশ্নবোধক
উত্তর: (খ) ইচ্ছাসূচক
ব্যাখ্যা: প্রার্থনা/কামনা প্রকাশ করায় এটি ইচ্ছাসূচক বাক্য।
বাক্যে যাকে নিয়ে কিছু বলা হয় তাকে কী বলে?
(ক) বিধেয় (খ) উদ্দেশ্য (গ) কর্ম (ঘ) পূরক
উত্তর: (খ) উদ্দেশ্য
ব্যাখ্যা: বাক্যে যাকে নিয়ে বলা হয় তা উদ্দেশ্য; যা বলা হয় তা বিধেয়।
‘এখন বাড়ি যাও’—কোন ধরনের বাক্য?
(ক) বিবৃতিমূলক (খ) অনুজ্ঞাসূচক (গ) ইচ্ছাসূচক (ঘ) আবেগসূচক
উত্তর: (খ) অনুজ্ঞাসূচক
ব্যাখ্যা: আদেশ/অনুরোধ প্রকাশ করায় এটি অনুজ্ঞাসূচক বাক্য।
‘সে বই পড়ে’—কোন ধরনের বাক্য (গঠন)?
(ক) সরল (খ) জটিল (গ) যৌগিক (ঘ) মিশ্র
উত্তর: (ক) সরল
ব্যাখ্যা: একটি উদ্দেশ্য ও একটি সমাপিকা ক্রিয়া থাকায় এটি সরল বাক্য।
‘আহা! কী সুন্দর দৃশ্য!’—কোন বাক্য?
(ক) প্রশ্নবোধক (খ) আবেগসূচক (গ) অনুজ্ঞা (ঘ) সন্দেহবাচক
উত্তর: (খ) আবেগসূচক
ব্যাখ্যা: বিস্ময়/আবেগ প্রকাশ করায় এটি আবেগসূচক বাক্য।
অর্থ ঠিক রেখে বাক্যের ধরন বদলানোকে কী বলে?
(ক) বাক্য সংকোচন (খ) বাক্য রূপান্তর (গ) বাক্য বিশ্লেষণ (ঘ) বাগধারা
উত্তর: (খ) বাক্য রূপান্তর
ব্যাখ্যা: অর্থ অপরিবর্তিত রেখে গঠন বদলানোকে বাক্য রূপান্তর বলে।
বাক্যের গুণ ও অংশ
১. মনের ভাব সম্পূর্ণ প্রকাশক পদসমষ্টিকে কী বলে?
উত্তর ও ব্যাখ্যা: বাক্য।
২. বাক্যের গুণ কয়টি?
উত্তর ও ব্যাখ্যা: ৩টি।
৩. অর্থ সম্পূর্ণ বোঝার প্রয়োজনকে কী বলে?
উত্তর ও ব্যাখ্যা: আকাঙ্ক্ষা।
৪. পদের সুশৃঙ্খল বিন্যাসকে কী বলে?
উত্তর ও ব্যাখ্যা: আসত্তি।
৫. অর্থগত সংগতিকে কী বলে?
উত্তর ও ব্যাখ্যা: যোগ্যতা।
৬. বাক্যে যাকে নিয়ে বলা হয়?
উত্তর ও ব্যাখ্যা: উদ্দেশ্য।
৭. উদ্দেশ্য সম্পর্কে যা বলা হয়?
উত্তর ও ব্যাখ্যা: বিধেয়।
৮. ‘আগুনে জল জ্বলে’—কোন গুণের অভাব?
উত্তর ও ব্যাখ্যা: যোগ্যতা।
৯. ‘আমি ভাত’—কোন গুণের অভাব?
উত্তর ও ব্যাখ্যা: আকাঙ্ক্ষা।
১০. ‘খাই আমি ভাত’—কোন গুণের অভাব?
উত্তর ও ব্যাখ্যা: আসত্তি।
গঠন অনুসারে
১১. গঠন অনুসারে বাক্য কত প্রকার?
উত্তর ও ব্যাখ্যা: ৩ প্রকার।
১২. একটি সমাপিকা ক্রিয়ার বাক্য কোনটি?
উত্তর ও ব্যাখ্যা: সরল বাক্য।
১৩. ‘যদি…তবে’ যুক্ত বাক্য কোনটি?
উত্তর ও ব্যাখ্যা: জটিল বাক্য।
১৪. ‘এবং/কিন্তু’ যুক্ত বাক্য কোনটি?
উত্তর ও ব্যাখ্যা: যৌগিক বাক্য।
১৫. ‘সে বই পড়ে’ কোন বাক্য?
উত্তর ও ব্যাখ্যা: সরল।
১৬. ‘যখন বৃষ্টি এল, তখন সে এল’ কোন বাক্য?
উত্তর ও ব্যাখ্যা: জটিল।
১৭. ‘তিনি এলেন এবং জয় করলেন’ কোন বাক্য?
উত্তর ও ব্যাখ্যা: যৌগিক।
১৮. আশ্রিত খণ্ডবাক্য থাকে কোন বাক্যে?
উত্তর ও ব্যাখ্যা: জটিল বাক্যে।
১৯. সাপেক্ষ সর্বনাম কোন বাক্যে থাকে?
উত্তর ও ব্যাখ্যা: জটিল।
২০. ‘পড়ো নতুবা ফেল করবে’ কোন বাক্য?
উত্তর ও ব্যাখ্যা: যৌগিক।
অর্থ অনুসারে
২১. অর্থ অনুসারে বাক্য কত প্রকার?
উত্তর ও ব্যাখ্যা: ৭ প্রকার।
২২. ‘তুমি কোথায় যাও?’ কোন বাক্য?
উত্তর ও ব্যাখ্যা: প্রশ্নবোধক।
২৩. ‘আহা! কী সুন্দর!’ কোন বাক্য?
উত্তর ও ব্যাখ্যা: আবেগসূচক।
২৪. ‘এখন বাড়ি যাও’ কোন বাক্য?
উত্তর ও ব্যাখ্যা: অনুজ্ঞাসূচক।
২৫. ‘তুমি দীর্ঘজীবী হও’ কোন বাক্য?
উত্তর ও ব্যাখ্যা: ইচ্ছাসূচক।
২৬. ‘আজ হয়তো বৃষ্টি হবে’ কোন বাক্য?
উত্তর ও ব্যাখ্যা: সন্দেহবাচক।
২৭. ‘সে স্কুলে যায়’ কোন বাক্য?
উত্তর ও ব্যাখ্যা: বিবৃতিমূলক।
২৮. ‘পরিশ্রম করলে সফল হবে’ কোন বাক্য?
উত্তর ও ব্যাখ্যা: কার্যকারণাত্মক।
২৯. ‘সদা সত্য বলবে’ কোন বাক্য?
উত্তর ও ব্যাখ্যা: অনুজ্ঞাসূচক (উপদেশ)।
৩০. ‘দেশ এগিয়ে যাক’ কোন বাক্য?
উত্তর ও ব্যাখ্যা: ইচ্ছাসূচক।
রূপান্তর ও নির্ণয়
৩১. অর্থ ঠিক রেখে ধরন বদলানোকে কী বলে?
উত্তর ও ব্যাখ্যা: বাক্য রূপান্তর।
৩২. ‘পরিশ্রমী লোক উন্নতি করে’—জটিল রূপ?
উত্তর ও ব্যাখ্যা: যে পরিশ্রম করে, সে উন্নতি করে।
৩৩. ‘যদি চেষ্টা করো, তবে পারবে’—সরল রূপ?
উত্তর ও ব্যাখ্যা: চেষ্টা করলে পারবে।
৩৪. ‘লোকটি সৎ’—না-বাচক রূপ?
উত্তর ও ব্যাখ্যা: লোকটি অসৎ নয়।
৩৫. রূপান্তরে কী অপরিবর্তিত থাকে?
উত্তর ও ব্যাখ্যা: অর্থ।
৩৬. ‘সে গরিব কিন্তু সৎ’—সরল রূপ?
উত্তর ও ব্যাখ্যা: গরিব হলেও সে সৎ।
৩৭. সরল বাক্যে সমাপিকা ক্রিয়া ক’টি?
উত্তর ও ব্যাখ্যা: একটি।
৩৮. যৌগিক বাক্যের সংযোজক কী ধরনের?
উত্তর ও ব্যাখ্যা: সমুচ্চয়ী অব্যয়।
৩৯. জটিল বাক্যের সংযোজক কী ধরনের?
উত্তর ও ব্যাখ্যা: সাপেক্ষ সর্বনাম/অব্যয়।
৪০. ‘কে না তাকে চেনে?’—বিবৃতি রূপ?
উত্তর ও ব্যাখ্যা: সবাই তাকে চেনে।
অতিরিক্ত অনুশীলন
৪১. বাক্য কী?
উত্তর ও ব্যাখ্যা: অর্থপূর্ণ পদসমষ্টি।
৪২. বাক্যের প্রধান গুণ কয়টি?
উত্তর ও ব্যাখ্যা: ৩ (আকাঙ্ক্ষা, আসত্তি, যোগ্যতা)।
৪৩. আকাঙ্ক্ষা কী?
উত্তর ও ব্যাখ্যা: অর্থ সম্পূর্ণ করার আগ্রহ।
৪৪. আসত্তি কী?
উত্তর ও ব্যাখ্যা: পদের যথাযথ পাশাপাশি বিন্যাস।
৪৫. যোগ্যতা কী?
উত্তর ও ব্যাখ্যা: অর্থগত সংগতি।
৪৬. গঠন অনুসারে বাক্য কত প্রকার?
উত্তর ও ব্যাখ্যা: ৩ প্রকার।
৪৭. গঠনগত প্রকারগুলো কী?
উত্তর ও ব্যাখ্যা: সরল, জটিল, যৌগিক।
৪৮. সরল বাক্য কী?
উত্তর ও ব্যাখ্যা: একটি সমাপিকা ক্রিয়া।
৪৯. জটিল বাক্য কী?
উত্তর ও ব্যাখ্যা: প্রধান+অধীন খণ্ডবাক্য।
৫০. যৌগিক বাক্য কী?
উত্তর ও ব্যাখ্যা: একাধিক স্বাধীন বাক্যের সংযোগ।
৫১. অর্থ অনুসারে বাক্য কত প্রকার?
উত্তর ও ব্যাখ্যা: ৫ প্রকার।
৫২. ‘সে বই পড়ে’ কোন বাক্য?
উত্তর ও ব্যাখ্যা: বিবৃতিমূলক।
৫৩. ‘তুমি কি যাবে?’ কোন বাক্য?
উত্তর ও ব্যাখ্যা: প্রশ্নবোধক।
৫৪. ‘বাহ, কী সুন্দর!’ কোন বাক্য?
উত্তর ও ব্যাখ্যা: আবেগসূচক।
৫৫. ‘এখানে এসো’ কোন বাক্য?
উত্তর ও ব্যাখ্যা: অনুজ্ঞাসূচক।
৫৬. ‘ঈশ্বর তোমার মঙ্গল করুন’ কোন বাক্য?
উত্তর ও ব্যাখ্যা: প্রার্থনাসূচক।
৫৭. উদ্দেশ্য কী?
উত্তর ও ব্যাখ্যা: যাকে নিয়ে বলা হয়।
৫৮. বিধেয় কী?
উত্তর ও ব্যাখ্যা: উদ্দেশ্য সম্পর্কে যা বলা হয়।
৫৯. ‘ছেলেটি বই পড়ে’—উদ্দেশ্য কী?
উত্তর ও ব্যাখ্যা: ছেলেটি।
৬০. ‘ছেলেটি বই পড়ে’—বিধেয় কী?
উত্তর ও ব্যাখ্যা: বই পড়ে।
৬১. সরল বাক্যে ক্রিয়া কয়টি?
উত্তর ও ব্যাখ্যা: একটি সমাপিকা।
৬২. জটিল বাক্যে সংযোজক কী?
উত্তর ও ব্যাখ্যা: যে-সে, যদি-তবে, যেহেতু।
৬৩. যৌগিক বাক্যে সংযোজক কী?
উত্তর ও ব্যাখ্যা: এবং, ও, কিন্তু, অথবা।
৬৪. খণ্ডবাক্য কী?
উত্তর ও ব্যাখ্যা: বাক্যের অংশ।
৬৫. প্রধান খণ্ডবাক্য কী?
উত্তর ও ব্যাখ্যা: স্বাধীন অংশ।
৬৬. অধীন খণ্ডবাক্য কী?
উত্তর ও ব্যাখ্যা: পরনির্ভর অংশ।
৬৭. ‘যে পরিশ্রম করে সে সফল হয়’ কোন বাক্য?
উত্তর ও ব্যাখ্যা: জটিল।
৬৮. ‘সে ধনী কিন্তু কৃপণ’ কোন বাক্য?
উত্তর ও ব্যাখ্যা: যৌগিক।
৬৯. ‘পরিশ্রম করলে সফল হবে’ কোন বাক্য?
উত্তর ও ব্যাখ্যা: জটিল/সরল (প্রসঙ্গভেদে)।
৭০. বাক্য রূপান্তর কী?
উত্তর ও ব্যাখ্যা: এক প্রকার→অন্য প্রকার।
৭১. অস্তিবাচক বাক্য কী?
উত্তর ও ব্যাখ্যা: হ্যাঁ-সূচক।
৭২. নেতিবাচক বাক্য কী?
উত্তর ও ব্যাখ্যা: না-সূচক।
৭৩. ‘সে আসবে’ কোন বাচক?
উত্তর ও ব্যাখ্যা: অস্তিবাচক।
৭৪. ‘সে আসবে না’ কোন বাচক?
উত্তর ও ব্যাখ্যা: নেতিবাচক।
৭৫. বাক্যের ক্ষুদ্রতম একক কী?
উত্তর ও ব্যাখ্যা: পদ।
৭৬. পদক্রম কী?
উত্তর ও ব্যাখ্যা: বাক্যে পদের সাজানো।
৭৭. বাংলা বাক্যের স্বাভাবিক ক্রম কী?
উত্তর ও ব্যাখ্যা: উদ্দেশ্য-কর্ম-ক্রিয়া।
৭৮. সম্প্রসারিত উদ্দেশ্য কী?
উত্তর ও ব্যাখ্যা: বিশেষণযুক্ত উদ্দেশ্য।
৭৯. সম্প্রসারিত বিধেয় কী?
উত্তর ও ব্যাখ্যা: কর্ম-পূরকযুক্ত বিধেয়।
৮০. বাক্যে কর্তা কী?
উত্তর ও ব্যাখ্যা: ক্রিয়া সম্পাদনকারী।
৮১. বাক্যে কর্ম কী?
উত্তর ও ব্যাখ্যা: ক্রিয়ার ফল যার ওপর।
৮২. ‘বাবা আমাকে বই দিলেন’—মুখ্য কর্ম কী?
উত্তর ও ব্যাখ্যা: বই।
৮৩. ‘বাবা আমাকে বই দিলেন’—গৌণ কর্ম কী?
উত্তর ও ব্যাখ্যা: আমাকে।
৮৪. পূরক কী?
উত্তর ও ব্যাখ্যা: ক্রিয়ার অর্থ পূর্ণকারী পদ।
৮৫. বিস্ময়সূচক চিহ্ন কী?
উত্তর ও ব্যাখ্যা: !।
৮৬. প্রশ্নবোধক চিহ্ন কী?
উত্তর ও ব্যাখ্যা: ?।
৮৭. দাঁড়ি কী নির্দেশ করে?
উত্তর ও ব্যাখ্যা: বাক্য শেষ।
৮৮. কমা কী নির্দেশ করে?
উত্তর ও ব্যাখ্যা: স্বল্প বিরতি।
৮৯. ‘যদি বৃষ্টি হয় তবে যাব না’ কোন বাক্য?
উত্তর ও ব্যাখ্যা: জটিল।
৯০. সরলকে জটিল করা যায় কীভাবে?
উত্তর ও ব্যাখ্যা: খণ্ডবাক্য যোগে।
৯১. জটিলকে যৌগিক করা যায় কীভাবে?
উত্তর ও ব্যাখ্যা: সংযোজক অব্যয়ে।
৯২. বাক্যে ‘আসত্তি’ না থাকলে কী হয়?
উত্তর ও ব্যাখ্যা: অর্থ বিকৃত।
৯৩. বাক্যে ‘যোগ্যতা’ না থাকলে কী হয়?
উত্তর ও ব্যাখ্যা: অসংগত অর্থ।
৯৪. ‘আগুনে জল ঝরছে’—কোন গুণ নেই?
উত্তর ও ব্যাখ্যা: যোগ্যতা।
৯৫. ‘বই সে পড়ে একটি’—কোন গুণ নেই?
উত্তর ও ব্যাখ্যা: আসত্তি।
৯৬. ‘সে বিদ্যালয়ে’—কোন গুণ নেই?
উত্তর ও ব্যাখ্যা: আকাঙ্ক্ষা।
৯৭. শুদ্ধ বাক্য গঠনের ভিত্তি কী?
উত্তর ও ব্যাখ্যা: তিন গুণ ও ব্যাকরণ।
৯৮. প্রশ্নবোধক বাক্যে কী বসে?
উত্তর ও ব্যাখ্যা: প্রশ্নসূচক শব্দ।
৯৯. অনুজ্ঞা কোন কালে বেশি?
উত্তর ও ব্যাখ্যা: বর্তমান/ভবিষ্যৎ।
১০০. ‘বেঁচে থাকো’ কোন বাক্য?
উত্তর ও ব্যাখ্যা: প্রার্থনা/অনুজ্ঞা।