বাংলাদেশের সংবিধান
সংবিধান হলো রাষ্ট্র পরিচালনার সর্বোচ্চ আইন — রাষ্ট্রের কাঠামো, নাগরিকের মৌলিক অধিকার ও কর্তব্য, সরকারের বিভিন্ন অঙ্গের ক্ষমতা ও পারস্পরিক সম্পর্ক এতে লিপিবদ্ধ। বাংলাদেশের সংবিধান গণপরিষদে গৃহীত হয় ৪ নভেম্বর ১৯৭২ এবং কার্যকর হয় ১৬ ডিসেম্বর ১৯৭২ (বিজয় দিবসে) — এটি একটি লিখিত ও দুষ্পরিবর্তনীয় (Rigid) সংবিধান।
বার কাউন্সিল পরীক্ষায় সংবিধান থেকে নিয়মিত প্রশ্ন আসে — বিশেষত মৌলিক অধিকার, গ্রেফতার-সংক্রান্ত সাংবিধানিক সুরক্ষা, বিচার বিভাগের স্বাধীনতা এবং গুরুত্বপূর্ণ অনুচ্ছেদ থেকে, যা আইন পেশার দৈনন্দিন চর্চার সাথে সরাসরি সম্পর্কিত।
পরীক্ষায় এই অধ্যায়ের গুরুত্ব
বিশেষভাবে গুরুত্বপূর্ণ: সংবিধানের গঠন (ভাগ-অনুচ্ছেদ-তফসিল সংখ্যা), চার মূলনীতি, মৌলিক অধিকার সংক্রান্ত অনুচ্ছেদ (২৬-৪৭), গ্রেফতারের ক্ষেত্রে সাংবিধানিক সুরক্ষা (৩৩ অনুচ্ছেদ), বিচার বিভাগ পৃথকীকরণ ও মাসদার হোসেন মামলা, এবং গুরুত্বপূর্ণ সংশোধনী (বিশেষত ৮ম, ১৩তম, ১৫তম)। প্রতিটি নির্দিষ্ট অনুচ্ছেদ ও সংশোধনী নম্বর মুখস্থ রাখা প্রশ্নের সরাসরি উত্তরে কাজে লাগে।
সংবিধান এক নজরে
| বিষয় | তথ্য |
|---|---|
| গণপরিষদে গৃহীত | ৪ নভেম্বর ১৯৭২ |
| কার্যকর | ১৬ ডিসেম্বর ১৯৭২ |
| মূল ভাগ | ১১টি |
| মূল অনুচ্ছেদ | ১৫৩টি |
| মূল তফসিল | ৪টি (বর্তমানে ৭টি) |
| মূলনীতি | ৪টি |
পড়ার কৌশল
- সংবিধানের কাঠামো (১১ ভাগ, ১৫৩ অনুচ্ছেদ) প্রথমে মনে রাখুন, তারপর প্রতিটি ভাগের মূল বিষয়বস্তু জুড়ে দিন — যেমন ভাগ ২ মূলনীতি, ভাগ ৩ মৌলিক অধিকার।
- আইন পেশার সাথে সরাসরি সম্পর্কিত অনুচ্ছেদগুলোতে (গ্রেফতার-সংক্রান্ত ৩৩, বিচার বিভাগ সংক্রান্ত ৯৪-১১৬) বাড়তি মনোযোগ দিন।
- সংশোধনীগুলো ক্রমানুসারে মনে না রেখে "কী পরিবর্তন হয়েছে" এই দৃষ্টিকোণ থেকে মনে রাখুন — যেমন তত্ত্বাবধায়ক: প্রবর্তন ১৩তম, বাতিল ১৫তম।
গঠন: ভাগ, অনুচ্ছেদ ও তফসিল
মূল সংবিধানে ছিল ১১টি ভাগ, ১৫৩টি অনুচ্ছেদ এবং ৪টি তফসিল। পরবর্তী সংশোধনীর ফলে তফসিলের সংখ্যা বেড়ে বর্তমানে ৭টি হয়েছে, এবং কিছু অনুচ্ছেদ যুক্ত/বিয়োজিত হওয়ায় ক্রমিক সংখ্যায় পরিবর্তন এসেছে (যেমন ৭ক, ৭খ)।
গুরুত্বপূর্ণ অনুচ্ছেদ
- অনুচ্ছেদ ৩ — রাষ্ট্রভাষা বাংলা;
- অনুচ্ছেদ ৪ — জাতীয় সংগীত, পতাকা, প্রতীক;
- অনুচ্ছেদ ৭ — সংবিধানের প্রাধান্য (সর্বোচ্চ আইন);
- অনুচ্ছেদ ৭ক-৭খ — সংবিধান বাতিল/স্থগিতকরণকে রাষ্ট্রদ্রোহ ঘোষণা ও কিছু অনুচ্ছেদ অপরিবর্তনীয় (১৫তম সংশোধনী);
- অনুচ্ছেদ ২৬-৪৭ — মৌলিক অধিকার;
- অনুচ্ছেদ ৭০ — দলত্যাগ (ফ্লোর ক্রসিং) নিষিদ্ধ।
প্রণয়নের ইতিহাস
সংবিধান প্রণয়নে গণপরিষদ একটি খসড়া কমিটি গঠন করে, যার সভাপতি ছিলেন আইনমন্ত্রী ড. কামাল হোসেন। কমিটির সদস্য ছিলেন ৩৪ জন, যাদের মধ্যে একমাত্র নারী সদস্য ছিলেন বেগম রাজিয়া বানু। মূল সংবিধান হাতে লেখেন আব্দুর রউফ এবং তা অলংকরণ করেন শিল্পী হাশেম খান।
| বিষয় | তথ্য |
|---|---|
| খসড়া কমিটির সভাপতি | ড. কামাল হোসেন |
| খসড়া কমিটির সদস্য | ৩৪ জন |
| একমাত্র নারী সদস্য | বেগম রাজিয়া বানু |
| হাতে লেখা মূল কপি | আব্দুর রউফ |
| অলংকরণ | শিল্পী হাশেম খান |
| ভাষা | বাংলা ও ইংরেজি (বিরোধে বাংলা প্রাধান্য পাবে, ১৫৩ অনুচ্ছেদ) |
প্রস্তাবনা ও মূলনীতি (ভাগ ১-২)
সংবিধানের শুরুতে রয়েছে প্রস্তাবনা (Preamble), যেখানে রাষ্ট্রের আদর্শ ও লক্ষ্য ঘোষিত হয়েছে। ভাগ ২-এ রাষ্ট্র পরিচালনার মূলনীতি বর্ণিত — মূল সংবিধানে (১৯৭২) ছিল ৪টি: জাতীয়তাবাদ, সমাজতন্ত্র, গণতন্ত্র ও ধর্মনিরপেক্ষতা।
৫ম সংশোধনীতে (১৯৭৯) ধর্মনিরপেক্ষতা ও সমাজতন্ত্র বাদ দিয়ে "সর্বশক্তিমান আল্লাহর উপর পূর্ণ আস্থা ও বিশ্বাস" যুক্ত করা হয়। পরবর্তীতে ১৫তম সংশোধনীতে (২০১১) মূল চার মূলনীতি পুনর্বহাল করা হয়, তবে "আল্লাহর উপর আস্থা"ও বহাল থাকে।
মূলনীতি বনাম মৌলিক অধিকার
রাষ্ট্র পরিচালনার মূলনীতি (ভাগ ২) কোনো আদালতে বলবৎযোগ্য নয় — এগুলো রাষ্ট্রের জন্য নির্দেশনামূলক নীতি মাত্র। কিন্তু মৌলিক অধিকার (ভাগ ৩) বলবৎযোগ্য — লঙ্ঘিত হলে নাগরিক সরাসরি হাইকোর্ট বিভাগে রিট আবেদন করতে পারেন।
মৌলিক অধিকার (ভাগ ৩, অনুচ্ছেদ ২৬-৪৭)
সংবিধানের তৃতীয় ভাগে নাগরিকের মৌলিক অধিকার লিপিবদ্ধ, যা রাষ্ট্র কর্তৃক প্রণীত অন্য যেকোনো আইনের ঊর্ধ্বে। এই অধিকার লঙ্ঘিত হলে নাগরিক সরাসরি হাইকোর্ট বিভাগে রিট আবেদন করতে পারেন (অনুচ্ছেদ ১০২), এবং প্রতিকার পাওয়ার এই অধিকারও নিজেই একটি মৌলিক অধিকার (অনুচ্ছেদ ৪৪)।
| মৌলিক অধিকার | অনুচ্ছেদ |
|---|---|
| আইনের দৃষ্টিতে সমতা | ২৭ |
| ধর্ম, বর্ণ, লিঙ্গে বৈষম্যহীনতা | ২৮ |
| জীবন ও ব্যক্তি স্বাধীনতার অধিকার | ৩২ |
| গ্রেফতার ও আটক সংক্রান্ত সুরক্ষা | ৩৩ |
| জোরপূর্বক শ্রম নিষিদ্ধ | ৩৪ |
| বিচার ও দণ্ড সংক্রান্ত সুরক্ষা | ৩৫ |
| চলাফেরার স্বাধীনতা | ৩৬ |
| সমাবেশের স্বাধীনতা | ৩৭ |
| সংগঠনের স্বাধীনতা | ৩৮ |
| বাক ও চিন্তার স্বাধীনতা | ৩৯ |
| ধর্মীয় স্বাধীনতা | ৪১ |
| প্রতিকার পাওয়ার অধিকার | ৪৪ |
গ্রেফতার সংক্রান্ত সাংবিধানিক সুরক্ষা (৩৩ অনুচ্ছেদ)
- গ্রেফতারকৃত ব্যক্তিকে গ্রেফতারের কারণ যত শীঘ্র সম্ভব জানাতে হবে (৩৩(১) অনুচ্ছেদ)।
- তাকে তার পছন্দমতো আইনজীবীর সাথে পরামর্শের অধিকার দিতে হবে।
- যাতায়াতের প্রয়োজনীয় সময় বাদে ২৪ ঘণ্টার মধ্যে নিকটতম ম্যাজিস্ট্রেটের সামনে হাজির করতে হবে (৩৩(২) অনুচ্ছেদ)।
- ম্যাজিস্ট্রেটের অনুমতি ব্যতীত এর অতিরিক্ত সময় আটক রাখা যাবে না — এই সুরক্ষা ফৌজদারি কার্যবিধির ৬১ ধারার সাথে সরাসরি সম্পর্কিত।
রাষ্ট্রকাঠামো ও বিচার বিভাগ
বাংলাদেশ একটি সংসদীয় প্রজাতন্ত্র। রাষ্ট্রক্ষমতা তিনটি অঙ্গে বিভক্ত — আইন বিভাগ (জাতীয় সংসদ), শাসন বিভাগ (রাষ্ট্রপতি ও মন্ত্রিসভা) এবং বিচার বিভাগ (সুপ্রিম কোর্ট ও অধস্তন আদালত)।
বিচার বিভাগ পৃথকীকরণ: সংবিধানের অনুচ্ছেদ ২২-এ রাষ্ট্র পরিচালনার মূলনীতি হিসেবে নির্বাহী বিভাগ থেকে বিচার বিভাগের পৃথকীকরণের নির্দেশনা থাকলেও তা কার্যকর হতে দীর্ঘ সময় লাগে। ঐতিহাসিক মাসদার হোসেন মামলায় (১৯৯৯) আপিল বিভাগ সরকারকে বিচার বিভাগ সম্পূর্ণ পৃথক করার নির্দেশ দেন, যার ধারাবাহিকতায় ২০০৭ সালে বাস্তবে বিচার বিভাগ নির্বাহী বিভাগ থেকে পৃথক হয় এবং ফৌজদারি কার্যবিধিতে জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট সংক্রান্ত বিধান অন্তর্ভুক্ত হয়।
| অঙ্গ / পদ | তথ্য |
|---|---|
| রাষ্ট্রপতি | রাষ্ট্রপ্রধান; সংসদ কর্তৃক নির্বাচিত |
| প্রধানমন্ত্রী | সরকারপ্রধান; নির্বাহী ক্ষমতার কেন্দ্র |
| জাতীয় সংসদ | এককক্ষবিশিষ্ট; আসন ৩০০ + সংরক্ষিত নারী ৫০ |
| সুপ্রিম কোর্ট | আপিল বিভাগ ও হাইকোর্ট বিভাগ |
| প্রধান বিচারপতি | বিচার বিভাগের প্রধান, রাষ্ট্রপতি কর্তৃক নিযুক্ত |
| অ্যাটর্নি জেনারেল | সরকারের প্রধান আইন কর্মকর্তা (অনুচ্ছেদ ৬৪) |
গুরুত্বপূর্ণ সংশোধনী
সংবিধান সংশোধন করতে জাতীয় সংসদের মোট সদস্যের দুই-তৃতীয়াংশ সমর্থন প্রয়োজন (অনুচ্ছেদ ১৪২)। এ পর্যন্ত একাধিক গুরুত্বপূর্ণ সংশোধনী হয়েছে, যার মধ্যে কয়েকটি আইন পেশার সাথে সরাসরি সম্পর্কিত।
| সংশোধনী | সাল | মূল বিষয় |
|---|---|---|
| ৪র্থ | ১৯৭৫ | একদলীয় ব্যবস্থা (বাকশাল) ও রাষ্ট্রপতি শাসিত সরকার |
| ৫ম | ১৯৭৯ | মূলনীতি পরিবর্তন — ধর্মনিরপেক্ষতা ও সমাজতন্ত্র বাদ |
| ৮ম | ১৯৮৮ | ইসলাম রাষ্ট্রধর্ম; হাইকোর্ট বিভাগের স্থায়ী বেঞ্চ (পরে অবৈধ ঘোষিত) |
| ১২তম | ১৯৯১ | সংসদীয় পদ্ধতি পুনঃপ্রবর্তন |
| ১৩তম | ১৯৯৬ | তত্ত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থা প্রবর্তন |
| ১৫তম | ২০১১ | তত্ত্বাবধায়ক বাতিল; মূলনীতি পুনর্বহাল; জাতির পিতা স্বীকৃতি |
| ১৭তম | ২০১৮ | সংরক্ষিত নারী আসনের মেয়াদ আরও ২৫ বছর বৃদ্ধি |
৮ম সংশোধনী মামলা (আইন পেশার জন্য গুরুত্বপূর্ণ)
৮ম সংশোধনীর মাধ্যমে রাজধানীর বাইরে হাইকোর্ট বিভাগের ৬টি স্থায়ী বেঞ্চ স্থাপন করা হয়েছিল। আপিল বিভাগ পরবর্তীতে ঘোষণা করেন যে এই বিধান সংবিধানের মৌলিক কাঠামোর (Basic Structure) সাথে সাংঘর্ষিক এবং তা অবৈধ — কারণ হাইকোর্ট বিভাগের ঐক্য ও অখণ্ডতা সংবিধানের একটি মৌলিক বৈশিষ্ট্য।
তুলনা ও কমন বিভ্রান্তি
গৃহীত বনাম কার্যকর
সংবিধান গণপরিষদে গৃহীত হয় ৪ নভেম্বর ১৯৭২, কিন্তু কার্যকর হয় বিজয় দিবসে, অর্থাৎ ১৬ ডিসেম্বর ১৯৭২ — এই দুই তারিখ গুলিয়ে ফেলা সবচেয়ে সাধারণ ভুল।
১৩তম বনাম ১৫তম সংশোধনী
১৩তম সংশোধনীতে তত্ত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থা প্রবর্তিত হয় (১৯৯৬); ১৫তম সংশোধনীতে (২০১১) তা বাতিল করে মূল চার মূলনীতি পুনর্বহাল করা হয় এবং জাতির পিতার স্বীকৃতি দেওয়া হয়।
মূলনীতি বনাম মৌলিক অধিকার
মূলনীতি (ভাগ ২) রাষ্ট্রের জন্য নির্দেশনামূলক, আদালতে অবলবৎযোগ্য; মৌলিক অধিকার (ভাগ ৩) নাগরিকের জন্য প্রয়োগযোগ্য অধিকার, লঙ্ঘিত হলে রিটের মাধ্যমে প্রতিকারযোগ্য।
দ্রুত রিভিশন — গুরুত্বপূর্ণ তথ্য এক নজরে
| বিষয় | তথ্য |
|---|---|
| গৃহীত | ৪ নভেম্বর ১৯৭২ |
| কার্যকর | ১৬ ডিসেম্বর ১৯৭২ |
| মূল ভাগ / অনুচ্ছেদ / তফসিল | ১১ / ১৫৩ / ৪ (বর্তমানে ৭) |
| খসড়া কমিটির সভাপতি | ড. কামাল হোসেন (সদস্য ৩৪) |
| হাতে লেখা / অলংকরণ | আব্দুর রউফ / হাশেম খান |
| মূলনীতি | জাতীয়তাবাদ, সমাজতন্ত্র, গণতন্ত্র, ধর্মনিরপেক্ষতা |
| রাষ্ট্রভাষা / সংবিধানের প্রাধান্য | অনুচ্ছেদ ৩ / অনুচ্ছেদ ৭ |
| মৌলিক অধিকার | অনুচ্ছেদ ২৬-৪৭ (ভাগ ৩) |
| গ্রেফতার সংক্রান্ত সুরক্ষা | অনুচ্ছেদ ৩৩ (২৪ ঘণ্টার মধ্যে হাজির) |
| প্রতিকার পাওয়ার অধিকার | অনুচ্ছেদ ৪৪ |
| সংবিধান সংশোধনের পদ্ধতি | অনুচ্ছেদ ১৪২ (২/৩ সংখ্যাগরিষ্ঠতা) |
| মাসদার হোসেন মামলা | ১৯৯৯ (বিচার বিভাগ পৃথকীকরণ) |
| তত্ত্বাবধায়ক প্রবর্তন / বাতিল | ১৩তম / ১৫তম সংশোধনী |
| সংসদ আসন | ৩০০ + সংরক্ষিত নারী ৫০ = ৩৫০ |
বাস্তব পরীক্ষায় আসা প্রশ্ন ও ব্যাখ্যা
নিচে বিভিন্ন বছরের বিসিএস ও বার কাউন্সিল পরীক্ষায় সংবিধান থেকে সরাসরি আসা প্রশ্নগুলো দেওয়া হলো, প্রতিটির বিস্তারিত ব্যাখ্যাসহ।
বাংলাদেশের সংবিধান কার্যকর হয় কবে?
(ক) ৪ নভেম্বর ১৯৭২ (খ) ১৬ ডিসেম্বর ১৯৭২ (গ) ২৬ মার্চ ১৯৭১ (ঘ) ১০ জানুয়ারি ১৯৭২
উত্তর: (খ) ১৬ ডিসেম্বর ১৯৭২
ব্যাখ্যা: সংবিধান গণপরিষদে গৃহীত হয় ৪ নভেম্বর, কিন্তু কার্যকর হয় বিজয় দিবসে, অর্থাৎ ১৬ ডিসেম্বর ১৯৭২।
সংবিধানের খসড়া কমিটির সভাপতি কে ছিলেন?
(ক) বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান (খ) ড. কামাল হোসেন (গ) তাজউদ্দীন আহমদ (ঘ) সৈয়দ নজরুল ইসলাম
উত্তর: (খ) ড. কামাল হোসেন
ব্যাখ্যা: ৩৪ সদস্যের খসড়া কমিটির সভাপতি ছিলেন ড. কামাল হোসেন; একমাত্র নারী সদস্য ছিলেন বেগম রাজিয়া বানু।
মূল সংবিধানে ভাগ কয়টি ছিল?
(ক) ১১টি (খ) ১২টি (গ) ১৫৩টি (ঘ) ৪টি
উত্তর: (ক) ১১টি
ব্যাখ্যা: মূল সংবিধানে ভাগ ছিল ১১টি, অনুচ্ছেদ ১৫৩টি এবং তফসিল ৪টি (পরবর্তীতে সংশোধনীর ফলে তফসিল বেড়ে ৭টি হয়)।
মৌলিক অধিকার সংবিধানের কোন ভাগে অন্তর্ভুক্ত?
(ক) দ্বিতীয় ভাগ (খ) তৃতীয় ভাগ (গ) চতুর্থ ভাগ (ঘ) প্রথম ভাগ
উত্তর: (খ) তৃতীয় ভাগ
ব্যাখ্যা: মৌলিক অধিকার তৃতীয় ভাগে (অনুচ্ছেদ ২৬-৪৭) লিপিবদ্ধ, যা আদালতে বলবৎযোগ্য।
তত্ত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থা বাতিল হয় কোন সংশোধনীতে?
(ক) ১৩তম সংশোধনী (খ) ১৪তম সংশোধনী (গ) ১৫তম সংশোধনী (ঘ) ১৭তম সংশোধনী
উত্তর: (গ) ১৫তম সংশোধনী
ব্যাখ্যা: ১৩তম সংশোধনীতে (১৯৯৬) প্রবর্তিত তত্ত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থা ১৫তম সংশোধনীতে (২০১১) বাতিল করা হয়।
সংবিধানের রাষ্ট্র পরিচালনার মূলনীতি কয়টি?
(ক) ৩টি (খ) ৪টি (গ) ৫টি (ঘ) ৭টি
উত্তর: (খ) ৪টি
ব্যাখ্যা: জাতীয়তাবাদ, সমাজতন্ত্র, গণতন্ত্র ও ধর্মনিরপেক্ষতা — এই ৪টি মূলনীতি ১৫তম সংশোধনীতে পুনর্বহাল করা হয়েছে।
সংবিধানের কোন অনুচ্ছেদে রাষ্ট্রভাষা বাংলার কথা বলা হয়েছে?
(ক) অনুচ্ছেদ ২ (খ) অনুচ্ছেদ ৩ (গ) অনুচ্ছেদ ৭ (ঘ) অনুচ্ছেদ ১১
উত্তর: (খ) অনুচ্ছেদ ৩
ব্যাখ্যা: অনুচ্ছেদ ৩ অনুযায়ী প্রজাতন্ত্রের রাষ্ট্রভাষা বাংলা।
সংবিধানের কোন অনুচ্ছেদে সংবিধানের সর্বোচ্চ প্রাধান্যের কথা বলা হয়েছে?
(ক) অনুচ্ছেদ ৭ (খ) অনুচ্ছেদ ৩ (গ) অনুচ্ছেদ ৪ (ঘ) অনুচ্ছেদ ৭০
উত্তর: (ক) অনুচ্ছেদ ৭
ব্যাখ্যা: অনুচ্ছেদ ৭ অনুযায়ী সংবিধানই প্রজাতন্ত্রের সর্বোচ্চ আইন, এবং এর সাথে অসামঞ্জস্যপূর্ণ অন্য কোনো আইন এই পরিমাণে বাতিল হবে।
গ্রেফতারকৃত ব্যক্তিকে আদালতে সোপর্দের আগে কত ঘণ্টা পর্যন্ত পুলিশের হেফাজতে রাখা যায়?
(ক) ৪৮ ঘণ্টা (খ) ৭২ ঘণ্টা (গ) ২৪ ঘণ্টা (ঘ) ৩০ ঘণ্টা
উত্তর: (গ) ২৪ ঘণ্টা
ব্যাখ্যা: সংবিধানের ৩৩(২) অনুচ্ছেদ ও ফৌজদারি কার্যবিধির ৬১ ধারা অনুযায়ী গ্রেফতারকৃত ব্যক্তিকে যাতায়াতের সময় বাদে ২৪ ঘণ্টার মধ্যে নিকটতম ম্যাজিস্ট্রেটের সামনে হাজির করতে হয়।
আপিল বিভাগে মাসদার হোসেন মামলার রায় ঘোষিত হয় কোন সনে?
(ক) ১৯৯৯ (খ) ২০০০ (গ) ২০০১ (ঘ) ২০০৭
উত্তর: (ক) ১৯৯৯
ব্যাখ্যা: সচিব, অর্থ মন্ত্রণালয় বনাম মাসদার হোসেন মামলার রায় ১৯৯৯ সালে আপিল বিভাগে ঘোষিত হয়, যা বিচার বিভাগ পৃথকীকরণের সাংবিধানিক ভিত্তি স্থাপন করে (অনুচ্ছেদ ২২, ১১৫, ১১৬)।
অনুশীলনী — ২৬টি প্রশ্ন
নিচের প্রশ্নগুলো অনুশীলন করে নিজের প্রস্তুতি যাচাই করুন। প্রতিটি প্রশ্নের সাথে সঠিক উত্তর ও ব্যাখ্যা দেওয়া আছে।
১. বাংলাদেশের সংবিধান কার্যকর হয় কোন তারিখে?
(ক) ২৬ মার্চ, ১৯৭২ (খ) ১৬ ডিসেম্বর, ১৯৭২ (গ) ৪ নভেম্বর, ১৯৭২ (ঘ) ৪ ডিসেম্বর, ১৯৭২
সঠিক উত্তর: (গ) ৪ নভেম্বর, ১৯৭২
ব্যাখ্যা: ১৯৭২ সালের ৪ নভেম্বর সংবিধান গৃহীত হয় এবং ১৯৭২ সালের ১৬ ডিসেম্বর তা কার্যকর হয়।
২. বাংলাদেশের সংবিধানের কোন অনুচ্ছেদে বিচার বিভাগের স্বাধীনতার কথা বলা হয়েছে?
(ক) অনুচ্ছেদ ২২ (খ) অনুচ্ছেদ ২৭ (গ) অনুচ্ছেদ ৩২ (ঘ) অনুচ্ছেদ ৪৪
সঠিক উত্তর: (ক) অনুচ্ছেদ ২২
ব্যাখ্যা: সংবিধানের ২২ অনুচ্ছেদে রাষ্ট্রের নির্বাহী অঙ্গ থেকে বিচার বিভাগকে পৃথক রাখার নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে (রাষ্ট্র পরিচালনার মূলনীতি হিসেবে)।
৩. বিচার বিভাগ পৃথকীকরণের ঐতিহাসিক মামলা 'মাসদার হোসেন মামলা'র রায় কত সালে ঘোষিত হয়?
(ক) ১৯৯৭ (খ) ১৯৯৯ (গ) ২০০১ (ঘ) ২০০৭
সঠিক উত্তর: (খ) ১৯৯৯
ব্যাখ্যা: সচিব, অর্থ মন্ত্রণালয় বনাম মাসদার হোসেন মামলার রায় ১৯৯৯ সালে আপিল বিভাগ কর্তৃক ঘোষিত হয়, যা বিচার বিভাগ পৃথকীকরণের ভিত্তি স্থাপন করে।
৪. সংবিধানের কোন অনুচ্ছেদে আইনের দৃষ্টিতে সমতার কথা বলা হয়েছে?
(ক) অনুচ্ছেদ ২৭ (খ) অনুচ্ছেদ ২৮ (গ) অনুচ্ছেদ ৩১ (ঘ) অনুচ্ছেদ ৩৯
সঠিক উত্তর: (ক) অনুচ্ছেদ ২৭
ব্যাখ্যা: ২৭ অনুচ্ছেদ অনুযায়ী সকল নাগরিক আইনের দৃষ্টিতে সমান এবং সমান আইনি সুরক্ষা পাওয়ার অধিকারী।
৫. জীবন ও ব্যক্তিস্বাধীনতার অধিকার সংবিধানের কোন অনুচ্ছেদে বর্ণিত?
(ক) অনুচ্ছেদ ৩১ (খ) অনুচ্ছেদ ৩২ (গ) অনুচ্ছেদ ৩৩ (ঘ) অনুচ্ছেদ ৩৪
সঠিক উত্তর: (খ) অনুচ্ছেদ ৩২
ব্যাখ্যা: ৩২ অনুচ্ছেদ অনুযায়ী আইন অনুযায়ী ব্যতীত কাউকে জীবন বা ব্যক্তিস্বাধীনতা থেকে বঞ্চিত করা যাবে না।
৬. গ্রেফতারকৃত ব্যক্তিকে নিকটতম ম্যাজিস্ট্রেটের সামনে হাজির করার সাংবিধানিক বাধ্যবাধকতা কোন অনুচ্ছেদে আছে?
(ক) অনুচ্ছেদ ৩২ (খ) অনুচ্ছেদ ৩৩ (গ) অনুচ্ছেদ ৩৪ (ঘ) অনুচ্ছেদ ৩৫
সঠিক উত্তর: (খ) অনুচ্ছেদ ৩৩
ব্যাখ্যা: ৩৩ অনুচ্ছেদ অনুযায়ী গ্রেফতারকৃত ব্যক্তিকে ভ্রমণকাল বাদে ২৪ ঘণ্টার মধ্যে নিকটতম ম্যাজিস্ট্রেটের সামনে হাজির করতে হবে।
৭. একই অপরাধে একাধিকবার বিচার ও দণ্ড নিষিদ্ধকরণ সংক্রান্ত বিধান সংবিধানের কোন অনুচ্ছেদে আছে?
(ক) অনুচ্ছেদ ৩৩ (খ) অনুচ্ছেদ ৩৫(২) (গ) অনুচ্ছেদ ৩৬ (ঘ) অনুচ্ছেদ ৩৯
সঠিক উত্তর: (খ) অনুচ্ছেদ ৩৫(২)
ব্যাখ্যা: ৩৫(২) অনুচ্ছেদ অনুযায়ী কোনো ব্যক্তিকে একই অপরাধের জন্য একাধিকবার বিচার বা দণ্ডিত করা যাবে না (Double Jeopardy নিষিদ্ধ)।
৮. আসামীকে নিজের বিরুদ্ধে সাক্ষী হতে বাধ্য না করার অধিকার সংবিধানের কোন অনুচ্ছেদে আছে?
(ক) অনুচ্ছেদ ৩৫(৩) (খ) অনুচ্ছেদ ৩৫(৪) (গ) অনুচ্ছেদ ৩৬ (ঘ) অনুচ্ছেদ ৪৩
সঠিক উত্তর: (খ) অনুচ্ছেদ ৩৫(৪)
ব্যাখ্যা: ৩৫(৪) অনুচ্ছেদ অনুযায়ী ফৌজদারি মামলায় অভিযুক্ত কোনো ব্যক্তিকে নিজের বিরুদ্ধে সাক্ষী হতে বাধ্য করা যাবে না।
৯. অভিযুক্ত ব্যক্তির নিরপেক্ষ ও প্রকাশ্য বিচারের অধিকার সংবিধানের কোন অনুচ্ছেদে আছে?
(ক) অনুচ্ছেদ ৩৫(১) (খ) অনুচ্ছেদ ৩৫(৩) (গ) অনুচ্ছেদ ৩৬ (ঘ) অনুচ্ছেদ ৩৭
সঠিক উত্তর: (খ) অনুচ্ছেদ ৩৫(৩)
ব্যাখ্যা: ৩৫(৩) অনুচ্ছেদ অনুযায়ী প্রত্যেক অভিযুক্ত ব্যক্তির স্বাধীন ও নিরপেক্ষ আদালত কর্তৃক দ্রুত ও প্রকাশ্য বিচার লাভের অধিকার রয়েছে।
১০. সংবিধানের কোন অনুচ্ছেদে হাইকোর্ট বিভাগের রিট এখতিয়ারের কথা বলা হয়েছে?
(ক) অনুচ্ছেদ ১০০ (খ) অনুচ্ছেদ ১০১ (গ) অনুচ্ছেদ ১০২ (ঘ) অনুচ্ছেদ ১০৪
সঠিক উত্তর: (গ) অনুচ্ছেদ ১০২
ব্যাখ্যা: ১০২ অনুচ্ছেদ অনুযায়ী হাইকোর্ট বিভাগ মৌলিক অধিকার প্রয়োগে সহায়তা এবং অন্যান্য বিষয়ে রিট জারি করতে পারে।
১১. সুপ্রিম কোর্টের দুটি বিভাগ কী কী?
(ক) আপিল বিভাগ ও হাইকোর্ট বিভাগ (খ) প্রথম বিভাগ ও দ্বিতীয় বিভাগ (গ) দেওয়ানি বিভাগ ও ফৌজদারি বিভাগ (ঘ) উচ্চ বিভাগ ও নিম্ন বিভাগ
সঠিক উত্তর: (ক) আপিল বিভাগ ও হাইকোর্ট বিভাগ
ব্যাখ্যা: ৯৪ অনুচ্ছেদ অনুযায়ী বাংলাদেশ সুপ্রিম কোর্ট আপিল বিভাগ ও হাইকোর্ট বিভাগ নিয়ে গঠিত।
১২. বিচারপতি নিয়োগের ক্ষমতা কার?
(ক) রাষ্ট্রপতি (খ) প্রধানমন্ত্রী (গ) প্রধান বিচারপতি একাই (ঘ) সংসদ
সঠিক উত্তর: (ক) রাষ্ট্রপতি
ব্যাখ্যা: ৯৫ অনুচ্ছেদ অনুযায়ী রাষ্ট্রপতি প্রধান বিচারপতি ও অন্যান্য বিচারপতি নিয়োগ করেন।
১৩. সংবিধান সংশোধনের জন্য সংসদে কত ভাগ সংখ্যাগরিষ্ঠতার প্রয়োজন?
(ক) সাধারণ সংখ্যাগরিষ্ঠতা (খ) মোট সদস্যের দুই-তৃতীয়াংশ (গ) মোট সদস্যের তিন-চতুর্থাংশ (ঘ) সর্বসম্মতি
সঠিক উত্তর: (খ) মোট সদস্যের দুই-তৃতীয়াংশ
ব্যাখ্যা: ১৪২ অনুচ্ছেদ অনুযায়ী সংবিধান সংশোধনের জন্য সংসদের মোট সদস্যের দুই-তৃতীয়াংশ ভোটের প্রয়োজন হয়।
১৪. মৌলিক অধিকার লঙ্ঘনের প্রতিকার চাওয়ার অধিকার সংবিধানের কোন অনুচ্ছেদে আছে?
(ক) অনুচ্ছেদ ৪৪ (খ) অনুচ্ছেদ ২৬ (গ) অনুচ্ছেদ ৩১ (ঘ) অনুচ্ছেদ ১০০
সঠিক উত্তর: (ক) অনুচ্ছেদ ৪৪
ব্যাখ্যা: ৪৪ অনুচ্ছেদ অনুযায়ী মৌলিক অধিকার বলবৎকরণে হাইকোর্ট বিভাগে মামলা করার অধিকার নিশ্চিত করা হয়েছে।
১৫. রাষ্ট্র পরিচালনার মূলনীতিসমূহ (Fundamental Principles of State Policy) সংবিধানের কোন ভাগে বর্ণিত?
(ক) দ্বিতীয় ভাগ (খ) তৃতীয় ভাগ (গ) চতুর্থ ভাগ (ঘ) ষষ্ঠ ভাগ
সঠিক উত্তর: (ক) দ্বিতীয় ভাগ
ব্যাখ্যা: সংবিধানের দ্বিতীয় ভাগে (অনুচ্ছেদ ৮-২৫) রাষ্ট্র পরিচালনার মূলনীতিসমূহ বর্ণিত আছে।
১৬. মৌলিক অধিকারসমূহ সংবিধানের কোন ভাগে বর্ণিত?
(ক) দ্বিতীয় ভাগ (খ) তৃতীয় ভাগ (গ) চতুর্থ ভাগ (ঘ) পঞ্চম ভাগ
সঠিক উত্তর: (খ) তৃতীয় ভাগ
ব্যাখ্যা: সংবিধানের তৃতীয় ভাগে (অনুচ্ছেদ ২৬-৪৭ক) মৌলিক অধিকারসমূহ বর্ণিত আছে।
১৭. আইনের সাথে অসামঞ্জস্যপূর্ণ কোনো প্রথা বা রীতির পরিণতি সম্পর্কে সংবিধানের কোন অনুচ্ছেদে বলা হয়েছে?
(ক) অনুচ্ছেদ ৭ (খ) অনুচ্ছেদ ২৬ (গ) অনুচ্ছেদ ৭ক (ঘ) অনুচ্ছেদ ৭খ
সঠিক উত্তর: (খ) অনুচ্ছেদ ২৬
ব্যাখ্যা: ২৬ অনুচ্ছেদ অনুযায়ী মৌলিক অধিকারের সাথে অসামঞ্জস্যপূর্ণ কোনো আইন এতটুকু পরিমাণে বাতিল হবে।
১৮. সংবিধানের কোন অনুচ্ছেদে চিন্তা, বিবেক ও বাক-স্বাধীনতার কথা বলা হয়েছে?
(ক) অনুচ্ছেদ ৩৯ (খ) অনুচ্ছেদ ৪০ (গ) অনুচ্ছেদ ৪১ (ঘ) অনুচ্ছেদ ৪২
সঠিক উত্তর: (ক) অনুচ্ছেদ ৩৯
ব্যাখ্যা: ৩৯ অনুচ্ছেদে চিন্তা ও বিবেকের স্বাধীনতা এবং বাক ও ভাব প্রকাশের স্বাধীনতার নিশ্চয়তা দেওয়া হয়েছে।
১৯. ধর্মীয় স্বাধীনতা সংবিধানের কোন অনুচ্ছেদে বর্ণিত?
(ক) অনুচ্ছেদ ৪০ (খ) অনুচ্ছেদ ৪১ (গ) অনুচ্ছেদ ৪২ (ঘ) অনুচ্ছেদ ৪৩
সঠিক উত্তর: (খ) অনুচ্ছেদ ৪১
ব্যাখ্যা: ৪১ অনুচ্ছেদে প্রত্যেক নাগরিকের নিজ নিজ ধর্ম পালন, প্রচার ও প্রতিষ্ঠা পরিচালনার অধিকার নিশ্চিত করা হয়েছে।
২০. সম্পত্তির অধিকার সংবিধানের কোন অনুচ্ছেদে বর্ণিত?
(ক) অনুচ্ছেদ ৪০ (খ) অনুচ্ছেদ ৪২ (গ) অনুচ্ছেদ ৪৩ (ঘ) অনুচ্ছেদ ৪৪
সঠিক উত্তর: (খ) অনুচ্ছেদ ৪২
ব্যাখ্যা: ৪২ অনুচ্ছেদে সম্পত্তি অর্জন, ভোগদখল ও হস্তান্তরের অধিকার আইনসাপেক্ষে নিশ্চিত করা হয়েছে।
২১. গৃহ ও যোগাযোগের গোপনীয়তার অধিকার সংবিধানের কোন অনুচ্ছেদে বর্ণিত?
(ক) অনুচ্ছেদ ৪৩ (খ) অনুচ্ছেদ ৪৪ (গ) অনুচ্ছেদ ৪৫ (ঘ) অনুচ্ছেদ ৪৬
সঠিক উত্তর: (ক) অনুচ্ছেদ ৪৩
ব্যাখ্যা: ৪৩ অনুচ্ছেদে গৃহের নিরাপত্তা ও যোগাযোগের গোপনীয়তার অধিকার (আইনসাপেক্ষে বিধিনিষেধসহ) নিশ্চিত করা হয়েছে।
২২. সংবিধানের কোন অনুচ্ছেদ অনুযায়ী সংসদ কর্তৃক ইনডেমনিটি আইন প্রণয়ন নিষিদ্ধ, শুধুমাত্র নির্দিষ্ট ব্যতিক্রম ব্যতীত?
(ক) অনুচ্ছেদ ৪৬ (খ) অনুচ্ছেদ ৪৭ (গ) অনুচ্ছেদ ৪৭ক (ঘ) অনুচ্ছেদ ৪৮
সঠিক উত্তর: (ক) অনুচ্ছেদ ৪৬
ব্যাখ্যা: ৪৬ অনুচ্ছেদ অনুযায়ী সংসদ নির্দিষ্ট পরিস্থিতিতে ব্যক্তিদের কার্যের জন্য দায়মুক্তিদানকারী আইন প্রণয়ন করতে পারে।
২৩. রাষ্ট্রপতির অভিশংসন (Impeachment) সংক্রান্ত বিধান সংবিধানের কোন অনুচ্ছেদে আছে?
(ক) অনুচ্ছেদ ৫২ (খ) অনুচ্ছেদ ৫৩ (গ) অনুচ্ছেদ ৫৪ (ঘ) অনুচ্ছেদ ৫৬
সঠিক উত্তর: (ক) অনুচ্ছেদ ৫২
ব্যাখ্যা: ৫২ অনুচ্ছেদে রাষ্ট্রপতির অসদাচরণ বা সংবিধান লঙ্ঘনের অভিযোগে অভিশংসনের প্রক্রিয়া বর্ণিত আছে।
২৪. প্রধানমন্ত্রী নিয়োগ সংক্রান্ত বিধান সংবিধানের কোন অনুচ্ছেদে আছে?
(ক) অনুচ্ছেদ ৫৫ (খ) অনুচ্ছেদ ৫৬ (গ) অনুচ্ছেদ ৫৭ (ঘ) অনুচ্ছেদ ৫৮
সঠিক উত্তর: (ক) অনুচ্ছেদ ৫৫
ব্যাখ্যা: ৫৫ ও ৫৬ অনুচ্ছেদে মন্ত্রিসভা গঠন ও প্রধানমন্ত্রী নিয়োগ সংক্রান্ত বিধান বর্ণিত আছে — সংসদে সংখ্যাগরিষ্ঠ দলের নেতাকে রাষ্ট্রপতি প্রধানমন্ত্রী নিয়োগ দেন।
২৫. বাংলাদেশের নির্বাচন কমিশন সংক্রান্ত বিধান সংবিধানের কোন অনুচ্ছেদে আছে?
(ক) অনুচ্ছেদ ১১৮ (খ) অনুচ্ছেদ ১১৯ (গ) অনুচ্ছেদ ১২০ (ঘ) অনুচ্ছেদ ১২২
সঠিক উত্তর: (ক) অনুচ্ছেদ ১১৮
ব্যাখ্যা: ১১৮ অনুচ্ছেদে নির্বাচন কমিশন গঠন সংক্রান্ত বিধান এবং ১১৯ অনুচ্ছেদে এর দায়িত্ব বর্ণিত আছে।
২৬. মহাহিসাব নিরীক্ষক ও নিয়ন্ত্রক (Comptroller and Auditor General)-এর দায়িত্ব সংবিধানের কোন অনুচ্ছেদে বর্ণিত?
(ক) অনুচ্ছেদ ১২৭ (খ) অনুচ্ছেদ ১২৮ (গ) অনুচ্ছেদ ১২৯ (ঘ) অনুচ্ছেদ ১৩২
সঠিক উত্তর: (খ) অনুচ্ছেদ ১২৮
ব্যাখ্যা: ১২৮ অনুচ্ছেদে সরকারি আর্থিক হিসাব নিরীক্ষার দায়িত্ব ও ক্ষমতা বর্ণিত আছে।