পারিবারিক আইন ও অন্যান্য
এই অধ্যায়ে বাংলাদেশের ব্যক্তিগত আইন (Personal Law) — মুসলিম পারিবারিক আইন ও হিন্দু আইন — এবং পারিবারিক আদালত অধ্যাদেশের পাশাপাশি পরীক্ষায় নিয়মিত আসা কিছু "অন্যান্য" গুরুত্বপূর্ণ বিষয় নিয়ে আলোচনা করা হয়েছে — আইনি প্রবাদ (Legal Maxims), কোম্পানি ও অংশীদারি আইন, সালিশ আইন এবং নেগোশিয়েবল ইনস্ট্রুমেন্ট আইন। বাংলাদেশে ব্যক্তিগত আইন ধর্মীয় পরিচয় অনুযায়ী ভিন্ন হয় — মুসলিমদের জন্য মুসলিম পারিবারিক আইন এবং হিন্দুদের জন্য হিন্দু আইন প্রযোজ্য, তবে উভয় সম্প্রদায়ের বিবাহ-সংক্রান্ত বিরোধ একই পারিবারিক আদালতে নিষ্পত্তি হয়।
বার কাউন্সিল পরীক্ষায় এই অধ্যায় থেকে ব্যাপক প্রশ্ন আসে — বিশেষত তালাক ও বহুবিবাহের নিয়ম, হেবার শর্তাবলি, উত্তরাধিকার বণ্টনের নীতি, পারিবারিক আদালতের এখতিয়ার এবং সাধারণ আইনি প্রবাদ থেকে।
পরীক্ষায় এই অধ্যায়ের গুরুত্ব
বিশেষভাবে গুরুত্বপূর্ণ: মুসলিম পারিবারিক আইন অধ্যাদেশ ১৯৬১-এর বহুবিবাহ ও তালাকের বিধান, হেবার তিনটি অপরিহার্য শর্ত, উত্তরাধিকারে প্রতিস্থাপনের নীতি (Doctrine of Representation), হিন্দু আইনে দায়ভাগ মতবাদ ও সপিণ্ডের ধারণা, পারিবারিক আদালত অধ্যাদেশের এখতিয়ার ও আপিলের নিয়ম, এবং প্রচলিত ল্যাটিন আইনি প্রবাদসমূহ (Mens Rea, Audi Alteram Partem ইত্যাদি)। প্রতিটি নির্দিষ্ট ধারা ও সংখ্যা মুখস্থ রাখা প্রশ্নের সরাসরি উত্তরে কাজে লাগে।
প্রশ্নের ধরন — সম্পূর্ণ মানচিত্র
| যেখান থেকে প্রশ্ন আসে | যা জানতে হয় | উদাহরণ |
|---|---|---|
| ধারা সরাসরি | কোন ধারায় কোন বিষয় | পারিবারিক আদালতের এখতিয়ার — ৫ ধারা |
| দৃষ্টান্তভিত্তিক (বণ্টন) | উত্তরাধিকারীদের অংশ গণনা | স্ত্রী, মা ও পিতা রেখে মৃত্যু হলে পিতার অংশ কত? |
| পরিভাষাভিত্তিক | আইনি পরিভাষা/প্রবাদের অর্থ | 'Mens Rea' শব্দের অর্থ কী? |
| পার্থক্যমূলক | কাছাকাছি দুটি ধারণার পার্থক্য | তালাক-ই-তৌফিজ ও তালাক-উল-বিদাতের পার্থক্য |
পড়ার কৌশল
- মুসলিম উত্তরাধিকার বণ্টনের অঙ্ক নিয়ে ভয় না পেয়ে মৌলিক নীতি (কোরআনিক অংশীদার আগে, অবশিষ্ট আসাবা পান) আয়ত্ত করুন — জটিল অঙ্ক পরীক্ষায় কম আসে, ধারণাগত প্রশ্নই বেশি।
- আইনি প্রবাদগুলো (Legal Maxims) প্রতিটি এক লাইনে অর্থসহ একটি তালিকা তৈরি করে বারবার রিভিশন দিন — এগুলো সরাসরি সংজ্ঞামূলক প্রশ্ন হিসেবে আসে।
- পারিবারিক আদালতের এখতিয়ারভুক্ত ৫টি বিষয় (বিবাহবিচ্ছেদ, দাম্পত্য সম্পর্ক পুনরুদ্ধার, ভরণপোষণ, অভিভাবকত্ব, দেনমোহর) মুখস্থ করুন — "বিবাহ সম্পাদন" এর আওতাভুক্ত নয়, এই ব্যতিক্রম প্রায়ই প্রশ্নে আসে।
বিবাহ, বহুবিবাহ ও তালাক
বহুবিবাহ (মুসলিম পারিবারিক আইন অধ্যাদেশ, ১৯৬১-এর ৬ ধারা): বিদ্যমান বিবাহ চলাকালে দ্বিতীয় বিবাহ করতে হলে সালিশি কাউন্সিলের লিখিত অনুমতি নিতে হয়। অনুমতি ব্যতীত পুনর্বিবাহ করলে স্বামীকে সর্বোচ্চ ১ বছরের কারাদণ্ড বা ১০,০০০ টাকা অর্থদণ্ড বা উভয় দণ্ড দেওয়া যেতে পারে। সালিশি কাউন্সিল অনুমতি দিলে ক্ষতিগ্রস্ত প্রথম স্ত্রীর প্রতিকার হলো সংশ্লিষ্ট সহকারী জজের নিকট রিভিশন দায়ের করা।
তালাকের প্রকারভেদ: তালাক-ই-তৌফিজ হলো স্বামী কর্তৃক স্ত্রীকে তালাক প্রদানের ক্ষমতা অর্পণ (Delegated Divorce) — এক্ষেত্রে স্ত্রী নিজেই তালাক প্রদান করতে পারেন। তালাক-উল-বিদাত ("তিন তালাক") হলো একই বৈঠকে বা স্বল্প সময়ে তিনবার তালাক উচ্চারণের অ-অনুমোদিত রূপ। মৃত্যুশয্যায় (Marz-ul-Maut) প্রদত্ত তালাকও বৈধ, তবে স্ত্রীর উত্তরাধিকার লাভের অধিকার সুরক্ষার জন্য বিশেষ বিধান প্রযোজ্য হয়।
তালাকের নোটিশ ও কার্যকারিতা: তালাকের নোটিশ চেয়ারম্যান (সংশ্লিষ্ট ইউনিয়ন পরিষদ/পৌরসভা) এর নিকট প্রেরণ করতে হয়, এবং প্রত্যাহার না হলে নোটিশ প্রেরণের ৯০ দিন পর তা কার্যকর হয়।
হেবা (মুসলিম আইনে দান)
হেবার আবশ্যকীয় শর্ত: মুসলিম আইনে বৈধ হেবার জন্য তিনটি শর্ত পূরণ আবশ্যক — (১) দাতা কর্তৃক দানের ঘোষণা, (২) গ্রহীতা কর্তৃক গ্রহণ, এবং (৩) দখল হস্তান্তর। এই তিনটি শর্ত পূর্ণ হলে হেবা সম্পূর্ণ হয়ে যায় এবং তা পরবর্তীতে প্রত্যাহারযোগ্য থাকে না।
শর্তযুক্ত হেবা অবৈধ: দাতা যদি নিজে জীবদ্দশায় সম্পত্তি ভোগ করার এবং ভবিষ্যতে (মৃত্যুর পর) মালিকানা হস্তান্তরের শর্ত জুড়ে দেন, তবে তা হেবার মৌলিক শর্ত (তাৎক্ষণিক ও নিঃশর্ত দখল হস্তান্তর) লঙ্ঘন করে এবং অবৈধ হয়। মুশাহ: যৌথ বা অবিভক্ত সম্পত্তির নির্দিষ্ট না হওয়া অংশ — মুশাহ সম্পত্তির হেবা নির্দিষ্ট পরিস্থিতিতে বৈধ কিনা তা একটি গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন। আরিয়ত: দাতার ইচ্ছাধীন সময় পর্যন্ত কোনো সম্পত্তি সাময়িকভাবে ব্যবহার ও ভোগের অনুমতি, যা যেকোনো সময় প্রত্যাহারযোগ্য।
মুসলিম উত্তরাধিকার (ফারায়েজ)
মূলনীতি: মুসলিম উত্তরাধিকার আইনে অংশীদারদের অংশ প্রধানত কুরআন ও ফিকহ শাস্ত্রের নীতিমালার ভিত্তিতে নির্ধারিত হয় (ফারায়েজ)। প্রথমে নির্ধারিত কোরআনিক অংশীদারগণ (Sharers, যেমন স্ত্রী, স্বামী, কন্যা, মা) তাদের নির্দিষ্ট অংশ পান, এরপর অবশিষ্ট সম্পত্তি অবশিষ্টভোগী বা আসাবাগণ (Residuaries, সাধারণত নিকটাত্মীয় পুরুষ) লাভ করেন।
প্রতিস্থাপনের নীতি (Doctrine of Representation, মুসলিম পারিবারিক আইন অধ্যাদেশ ১৯৬১-এর ৪ ধারা): কোনো পুত্র বা কন্যা উত্তরাধিকার উন্মুক্ত হওয়ার পূর্বে মারা গেলে, সেই মৃত সন্তানের সন্তানরা (জীবিত থাকলে) Per Stripes নীতিতে তাদের পিতা/মাতা যে অংশ পেতেন সেই সমপরিমাণ অংশ লাভ করে — এটি প্রথাগত সুন্নি আইনের ব্যতিক্রম, যা ১৯৬১ সালের অধ্যাদেশের মাধ্যমে সংযোজিত হয়েছে।
বিশেষ পরিস্থিতি: নির্ধারিত অংশীদারদের মোট প্রাপ্য অংশ সম্পত্তির পূর্ণ ১ অংশের বেশি হয়ে গেলে "Aul" (increase) নীতিতে প্রত্যেকের অংশ আনুপাতিক হারে হ্রাস করা হয়। মৃত্যুশয্যায় (Marz-ul-Maut) অ-উত্তরাধিকারীর বরাবর প্রদত্ত দান উত্তরাধিকারীদের সম্মতি ব্যতীত কেবল এক-তৃতীয়াংশ কার্যকর হয় — এটি উইলের নিয়মের অনুরূপ।
হিন্দু আইন — দায়ভাগ ও সপিণ্ড
দায়ভাগ মতবাদ: বাংলাদেশে হিন্দু সম্প্রদায়ের সম্পত্তি বণ্টন দায়ভাগ মতবাদ অনুসারে হয়, যা "আধ্যাত্মিক কল্যাণের নীতি" (Doctrine of Spiritual Benefit)-এর উপর ভিত্তি করে গঠিত — অর্থাৎ যিনি মৃত ব্যক্তির পিণ্ডদানে (শ্রাদ্ধানুষ্ঠান) অধিক সক্ষম, তিনি উত্তরাধিকারে অগ্রাধিকার পান। সপিণ্ড: একই পূর্বপুরুষের সূত্রে সম্পর্কিত ব্যক্তিরা সপিণ্ড হিসেবে বিবেচিত হন — পুত্র, ভাইয়ের পুত্র ও বোনের পুত্র সকলেই এর অন্তর্ভুক্ত, তবে কন্যার পুত্র (দৌহিত্র) মাতার মাধ্যমে পিণ্ডদানে সক্ষম হওয়ায় অন্যান্য দূরবর্তী সপিণ্ডদের তুলনায় অগ্রাধিকার পান।
যৌথ পরিবারের কর্তার ক্ষমতা: দায়ভাগ মতবাদে প্রতিটি সদস্য জন্মসূত্রে সহ-স্বত্বাধিকারী হওয়ায় পরিবারের কর্তা সম্পত্তি হস্তান্তর বা ঋণ গ্রহণ করতে পারলেও ইচ্ছামতো কোনো সদস্যকে পরিবার থেকে বহিষ্কার করতে পারেন না। Factum Valet: জীমূতবাহন কর্তৃক প্রবর্তিত এই নীতি অনুযায়ী কোনো কাজ ধর্মীয় বিধিবিধানের বিরুদ্ধে হলেও তা সম্পন্ন হয়ে গেলে বৈধ বলে গণ্য হয়। দান: বৈধভাবে সম্পাদিত হিন্দু দান প্রত্যাহারযোগ্য নয়, তবে দাতা দানকৃত সম্পত্তির আয় জীবনস্বত্বে নিজের জন্য সংরক্ষণ করতে পারেন।
পারিবারিক আদালত অধ্যাদেশ/আইন
এখতিয়ার (৫ ধারা): পারিবারিক আদালত বিবাহবিচ্ছেদ, দাম্পত্য সম্পর্ক পুনরুদ্ধার, ভরণপোষণ, অভিভাবকত্ব এবং দেনমোহর — এই পাঁচটি বিষয়ে বিচার করার এখতিয়ার রাখে। লক্ষণীয় যে, বিবাহ সম্পাদন নিজেই এই এখতিয়ারের আওতাভুক্ত নয়, এবং মুসলিম ফারায়েজ অনুযায়ী সম্পত্তি বণ্টনও পারিবারিক আদালতের বিষয় নয় — এসব দেওয়ানি আদালতে নিষ্পত্তি হয়।
বিচার প্রক্রিয়া: লিখিত জবাব দাখিলের জন্য আদালত সাধারণত অনধিক ২১-৩০ দিন সময় দিতে পারেন (সাম্প্রতিক আইনে ২১ দিন)। ১০ ও ১৩ ধারায় বিচারের বিভিন্ন পর্যায়ে পক্ষগণের মধ্যে আপস মীমাংসার চেষ্টা করার বিধান আছে। প্রয়োজনে আদালত ১১ ধারা অনুযায়ী কার্যক্রম বদ্ধকক্ষে (In Camera) পরিচালনা করতে পারেন।
ডিক্রি জারি ও আপিল: ডিক্রিকৃত অর্থ আদায়ে ব্যর্থ দায়িককে সর্বোচ্চ ৩ মাস পর্যন্ত দেওয়ানি কারাদণ্ড দেওয়া যায়। পারিবারিক আদালতের রায়/ডিক্রির বিরুদ্ধে আপিলের এখতিয়ার সংশ্লিষ্ট জেলা জজ আদালতের — হাইকোর্ট বিভাগে সরাসরি আপিল চলে না। তবে নির্দিষ্ট নিম্ন পরিমাণের ডিক্রির (যেমন সামান্য দেনমোহর) ক্ষেত্রে আপিল দায়েরের সুযোগ আইনে সীমিত থাকতে পারে।
আইনি প্রবাদ ও নীতি (Legal Maxims)
আইনের বিভিন্ন শাখায় ব্যবহৃত কিছু ল্যাটিন প্রবাদ ও নীতি পরীক্ষায় প্রায়ই সংজ্ঞামূলক প্রশ্ন হিসেবে আসে — এগুলোর অর্থ ও প্রায়োগিক ক্ষেত্র জানা জরুরি।
| প্রবাদ/নীতি | অর্থ ও প্রয়োগ |
|---|---|
| Ignorantia Juris Non Excusat | আইন সম্পর্কে অজ্ঞতা কোনো অজুহাত নয় |
| Audi Alteram Partem | উভয়পক্ষের বক্তব্য শোনা আবশ্যক — প্রাকৃতিক ন্যায়বিচারের মূলনীতি |
| Nemo Judex in Causa Sua | কেউ নিজের মামলায় বিচারক হতে পারেন না — স্বার্থদ্বন্দ্ব এড়ানোর নীতি |
| Justice Delayed is Justice Denied | বিলম্বিত ন্যায়বিচার প্রকৃতপক্ষে ন্যায়বিচার অস্বীকারেরই নামান্তর |
| Functus Officio | দায়িত্ব সমাপ্ত হওয়ার পর কর্তৃপক্ষের সিদ্ধান্ত পরিবর্তনের ক্ষমতা না থাকা |
| Mens Rea | অপরাধমূলক মানসিকতা — ফৌজদারি দায় নির্ধারণে গুরুত্বপূর্ণ উপাদান |
| Actus Reus | অপরাধমূলক কাজ — Mens Rea-এর সাথে মিলে অপরাধ গঠন করে |
| Sub Judice | বিচারাধীন বিষয় — যে বিষয়ে আদালতে মামলা চলমান |
| Inter Vivos | জীবিত ব্যক্তিদের মধ্যে সম্পাদিত হস্তান্তর (যেমন হেবা), মৃত্যুর পর কার্যকর উইলের বিপরীত |
Double Jeopardy: একই অপরাধের জন্য একাধিকবার বিচার বা শাস্তি না দেওয়ার নীতি — বাংলাদেশে এই নীতির প্রয়োগ সংবিধানের ৩৫(২) অনুচ্ছেদ ও ফৌজদারি কার্যবিধিতে পাওয়া যায়।
কোম্পানি, অংশীদারি ও সালিশ আইন
কোম্পানি আইন, ১৯৯৪: বেসরকারি কোম্পানি (Private Company) গঠনে ন্যূনতম ২ জন সদস্য প্রয়োজন, আর সরকারি কোম্পানি (Public Company) গঠনে ন্যূনতম ৭ জন সদস্য প্রয়োজন। কোম্পানির নিবন্ধন যুগ্ম মূলধন কোম্পানি ও ফার্মসমূহের নিবন্ধক (Registrar of Joint Stock Companies and Firms, RJSC)-এর নিকট করতে হয়।
অংশীদারি আইন: অংশীদারি ব্যবসায় (Partnership Firm) নিবন্ধন আইনগতভাবে বাধ্যতামূলক নয়, তবে অনিবন্ধিত ফার্ম তৃতীয় পক্ষের বিরুদ্ধে কিছু আইনগত প্রতিকার (যেমন চুক্তি প্রয়োগের মামলা) থেকে বঞ্চিত হতে পারে। সালিশ আইন, ২০০১: সালিশি রোয়েদাদ (Arbitral Award) কার্যকর করার জন্য সংশ্লিষ্ট দেওয়ানি আদালতে আবেদন করতে হয়। মুসলিম পারিবারিক আইন অধ্যাদেশের বহুবিবাহ সংক্রান্ত সালিশি পরিষদ (Arbitration Council) এই সাধারণ সালিশ আইন থেকে পৃথক এবং বিশেষায়িত একটি কাঠামো।
নেগোশিয়েবল ইনস্ট্রুমেন্ট আইন
প্রধান দলিলসমূহ: নেগোশিয়েবল ইনস্ট্রুমেন্ট আইনে তিনটি প্রধান দলিল স্বীকৃত — প্রমিসরি নোট (৪ ধারা, নির্দিষ্ট অর্থ পরিশোধের নিঃশর্ত লিখিত অঙ্গীকার), বিনিময় বিল (৫ ধারা, Bill of Exchange), এবং চেক (৬ ধারা, নির্দিষ্ট ব্যাংকের উপর আঁকা চাহিবামাত্র প্রদেয় বিনিময় বিল)। চেক ও বিনিময় বিলে অঙ্কনকারী (Drawer), গ্রহীতা (Drawee) ও প্রাপক (Payee) — এই তিনটি পক্ষ জড়িত থাকে।
চেক ডিজঅনার (১৩৮ ধারা): অপর্যাপ্ত তহবিলের কারণে চেক ডিজঅনার হলে তা একটি ফৌজদারি অপরাধ হিসেবে গণ্য ও শাস্তিযোগ্য। মামলা দায়েরের পূর্বে চেক প্রাপককে বিবাদীকে লিখিত নোটিশ দিয়ে নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে অর্থ পরিশোধের সুযোগ দেওয়া আইনত বাধ্যতামূলক — এই পূর্বশর্ত পূরণ না করে সরাসরি ফৌজদারি মামলা দায়ের করা যায় না।
তুলনা ও কমন বিভ্রান্তি
তালাক-ই-তৌফিজ বনাম তালাক-উল-বিদাত
তালাক-ই-তৌফিজ স্বামী কর্তৃক স্ত্রীকে তালাকের ক্ষমতা অর্পণ (Delegated Divorce), যা মুসলিম আইনে স্বীকৃত ও বৈধ পদ্ধতি; তালাক-উল-বিদাত ("তিন তালাক") একই বৈঠকে তিনবার তালাক উচ্চারণের অ-অনুমোদিত রূপ, যা বিতর্কিত।
কোরআনিক অংশীদার বনাম অবশিষ্টভোগী (আসাবা)
কোরআনিক অংশীদার (Sharers) নির্দিষ্ট আগে-থেকে-বরাদ্দকৃত অংশ পান (যেমন স্ত্রী ১/৪ বা ১/৮); অবশিষ্টভোগী (Residuaries/আসাবা) কোরআনিক অংশীদারদের অংশ বাদ দিয়ে অবশিষ্ট সম্পত্তি লাভ করেন — কিছু আত্মীয় (যেমন পিতা) পরিস্থিতিভেদে উভয় ভূমিকায়ই থাকতে পারেন।
পারিবারিক আদালত বনাম দেওয়ানি আদালত
পারিবারিক আদালত শুধুমাত্র নির্দিষ্ট পাঁচটি বিষয়ে (বিবাহবিচ্ছেদ, দাম্পত্য সম্পর্ক পুনরুদ্ধার, ভরণপোষণ, অভিভাবকত্ব, দেনমোহর) এখতিয়ার রাখে; সম্পত্তি বণ্টন, উত্তরাধিকার ঘোষণা বা বিবাহ সম্পাদনের মতো বিষয় সাধারণ দেওয়ানি আদালতের এখতিয়ারভুক্ত।
দ্রুত রিভিশন — গুরুত্বপূর্ণ তথ্য এক নজরে
| বিষয় | তথ্য |
|---|---|
| বহুবিবাহে সালিশি কাউন্সিলের অনুমতি ছাড়া শাস্তি | সর্বোচ্চ ১ বছর কারাদণ্ড |
| তালাকের নোটিশ কার্যকর | নোটিশ প্রেরণের ৯০ দিন পর |
| হেবার অপরিহার্য শর্ত | ঘোষণা, গ্রহণ, দখল হস্তান্তর (৩টি) |
| প্রতিস্থাপনের নীতি | মুসলিম পারিবারিক আইন অধ্যাদেশ ১৯৬১, ৪ ধারা |
| হিন্দু উত্তরাধিকার মতবাদ | দায়ভাগ (আধ্যাত্মিক কল্যাণের নীতি) |
| Factum Valet নীতির প্রবর্তক | জীমূতবাহন |
| পারিবারিক আদালতের এখতিয়ার | ৫টি বিষয় (বিবাহ সম্পাদন ব্যতীত) |
| পারিবারিক আদালতের রায়ে আপিল | জেলা জজ আদালতে |
| ডিক্রি অনাদায়ে সর্বোচ্চ কারাদণ্ড | ৩ মাস |
| প্রাইভেট/পাবলিক কোম্পানি ন্যূনতম সদস্য | ২ জন / ৭ জন |
| কোম্পানি নিবন্ধন কর্তৃপক্ষ | RJSC (যুগ্ম মূলধন কোম্পানি ও ফার্মসমূহের নিবন্ধক) |
| চেক ডিজঅনারের ধারা | নেগোশিয়েবল ইনস্ট্রুমেন্ট আইনের ১৩৮ ধারা |
| প্রমিসরি নোট / বিনিময় বিল / চেকের ধারা | ৪ / ৫ / ৬ ধারা |
বাস্তব পরীক্ষায় আসা প্রশ্ন ও ব্যাখ্যা
নিচে বিভিন্ন বছরের বিজেএস পরীক্ষায় পারিবারিক আইন ও সংশ্লিষ্ট বিষয় থেকে সরাসরি আসা প্রশ্নগুলো দেওয়া হলো (বার কাউন্সিল পরীক্ষার্থীদের জন্যও সমানভাবে প্রাসঙ্গিক), প্রতিটির বিস্তারিত ব্যাখ্যাসহ।
The Family Courts Ordinance, 1985-এর কত ধারায় Pre-trial Proceeding সংক্রান্ত বিধান বর্ণিত আছে?
(ক) ৯ ধারা (খ) ১০ ধারা (গ) ১৬ ধারা (ঘ) ১৭ ধারা
উত্তর: (খ) ১০ ধারা
ব্যাখ্যা: পারিবারিক আদালত অধ্যাদেশ, ১৯৮৫-এর ১০ ধারায় প্রাক-বিচার শুনানি (Pre-trial Proceeding) সংক্রান্ত বিধান বর্ণিত আছে, যেখানে পক্ষগণের মধ্যে আপস মীমাংসার চেষ্টা করা হয়।
মুসলিম আইনে 'মুশাহ' অর্থ কী?
(ক) দান (খ) অগ্রক্রয় (গ) অবিভক্ত অংশ (ঘ) বিক্রয়
উত্তর: (গ) অবিভক্ত অংশ
ব্যাখ্যা: মুসলিম আইনে 'মুশাহ' বলতে যৌথ বা অবিভক্ত সম্পত্তির নির্দিষ্ট না হওয়া অংশকে বোঝানো হয়, যা হেবা বা দানের ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ বিবেচ্য বিষয়।
একজন মুসলিম তার স্ত্রীকে একখণ্ড জমি দান করেন এবং দখল বুঝিয়ে দেন। এমতাবস্থায় দানটি কেমন?
(ক) প্রত্যাহারযোগ্য (খ) মৌখিক হলে প্রত্যাহারযোগ্য (গ) প্রত্যাহারযোগ্য নয় (ঘ) রেজিস্ট্রেশন করলে প্রত্যাহারযোগ্য
উত্তর: (গ) প্রত্যাহারযোগ্য নয়
ব্যাখ্যা: মুসলিম আইনে হেবার তিনটি অপরিহার্য শর্ত (ঘোষণা, গ্রহণ ও দখল হস্তান্তর) পূর্ণ হলে দানটি সম্পূর্ণ হয়ে যায় এবং তা পরবর্তীতে প্রত্যাহারযোগ্য থাকে না।
একটি হেবানামায় দাতা উল্লেখ করেন, 'আমি যতদিন বেঁচে আছি সম্পত্তি ভোগ করব এবং বিক্রয় বা দান করব না, আমার মৃত্যুর পর তুমি মালিক হবে।' এই দানটি কেমন?
(ক) বৈধ (খ) অবৈধ (গ) অনিয়মিত (ঘ) কোনটিই নয়
উত্তর: (খ) অবৈধ
ব্যাখ্যা: মুসলিম আইনে হেবার আবশ্যকীয় শর্ত হলো তাৎক্ষণিক ও নিঃশর্তভাবে দখল হস্তান্তর করা; দাতা নিজে জীবদ্দশায় ভোগদখল রেখে ভবিষ্যতে মালিকানা হস্তান্তরের শর্ত জুড়ে দিলে তা হেবার মৌলিক শর্ত লঙ্ঘন করে এবং অবৈধ হয়।
সালিশি কাউন্সিলের অনুমতি ব্যতীত স্ত্রী থাকাকালীন পুনর্বিবাহ করলে সর্বোচ্চ কত বছরের কারাদণ্ড হতে পারে?
(ক) ৬ মাস (খ) ১ বছর (গ) ২ বছর (ঘ) ৩ বছর
উত্তর: (খ) ১ বছর
ব্যাখ্যা: মুসলিম পারিবারিক আইন অধ্যাদেশ, ১৯৬১-এর ৬ ধারা অনুযায়ী সালিশি কাউন্সিলের পূর্বানুমতি ব্যতীত দ্বিতীয় বিবাহ করলে সর্বোচ্চ ১ বছরের বিনাশ্রম কারাদণ্ড বা ১০,০০০ টাকা পর্যন্ত অর্থদণ্ড বা উভয় দণ্ডের বিধান রয়েছে।
The Family Courts Ordinance, 1985-এর ৫ ধারা মতে পারিবারিক আদালতের এখতিয়ারের বিষয়বস্তু নয় কোনটি?
(ক) বিবাহ-বিচ্ছেদ (খ) দাম্পত্য সম্পর্ক পুনরুদ্ধার (গ) বিবাহ সম্পাদন (ঘ) ভরণপোষণ
উত্তর: (গ) বিবাহ সম্পাদন
ব্যাখ্যা: পারিবারিক আদালত অধ্যাদেশের ৫ ধারা অনুযায়ী বিবাহবিচ্ছেদ, দাম্পত্য সম্পর্ক পুনরুদ্ধার, ভরণপোষণ, অভিভাবকত্ব ও দেনমোহর — এই পাঁচটি বিষয় এখতিয়ারভুক্ত, তবে বিবাহ সম্পাদন নিজেই এর আওতাভুক্ত নয়।
পারিবারিক আদালতের রায়, ডিক্রি বা আদেশের বিরুদ্ধে কোথায় আপিল করা যায়?
(ক) সিনিয়র সহকারী জজ আদালতে (খ) জেলা জজ আদালতে (গ) হাইকোর্ট বিভাগে (ঘ) যুগ্ম জেলা জজ আদালতে
উত্তর: (খ) জেলা জজ আদালতে
ব্যাখ্যা: পারিবারিক আদালত অধ্যাদেশ অনুযায়ী পারিবারিক আদালতের রায় বা ডিক্রির বিরুদ্ধে আপিল দায়েরের এখতিয়ার সংশ্লিষ্ট জেলা জজ আদালতের, হাইকোর্ট বিভাগের নয়।
মুসলিম আইনে 'তালাক-ই-তৌফিজ' কী?
(ক) স্বামী কর্তৃক সরাসরি তালাক (খ) স্ত্রীর ক্ষমতায় প্রদত্ত তালাক (গ) আদালতের মাধ্যমে তালাক (ঘ) পারস্পরিক সম্মতিতে তালাক
উত্তর: (খ) স্ত্রীর ক্ষমতায় প্রদত্ত তালাক
ব্যাখ্যা: 'তালাক-ই-তৌফিজ' হলো স্বামী কর্তৃক স্ত্রীকে তালাক প্রদানের ক্ষমতা অর্পণ করা (Delegated Divorce) — চুক্তির মাধ্যমে বা পরবর্তীতে এই ক্ষমতা প্রদত্ত হলে স্ত্রী নিজেই তালাক প্রদান করতে পারেন।
নিম্নের কোনটি 'তিন তালাক' নামে পরিচিত?
(ক) তালাক-ই-আহসান (খ) তালাক-ই-হাসান (গ) তালাক-উল-বিদাত (ঘ) উপরের সবগুলো
উত্তর: (গ) তালাক-উল-বিদাত
ব্যাখ্যা: তালাক-উল-বিদাত (Talaq-ul-Bidat) 'তিন তালাক' নামে পরিচিত — একই বৈঠকে বা স্বল্প সময়ে তিনবার তালাক উচ্চারণ করে সম্পন্ন করা তালাকের অ-অনুমোদিত রূপ।
মনুসংহিতা, যাজ্ঞবল্ক্য ও নারদ কর্তৃক সংকলিত বিধান হিন্দু আইনের কোন উৎসের অন্তর্গত?
(ক) শ্রুতি (খ) স্মৃতি (গ) পুরাণ (ঘ) প্রথা
উত্তর: (খ) স্মৃতি
ব্যাখ্যা: বেদের পরবর্তীকালে বিভিন্ন ঋষি কর্তৃক রচিত মনুসংহিতা, যাজ্ঞবল্ক্য স্মৃতি ও নারদ স্মৃতি হিন্দু আইনের 'স্মৃতি' উৎসের অন্তর্গত।
অনুশীলনী — ৩৬টি প্রশ্ন
নিচের প্রশ্নগুলো অনুশীলন করে নিজের প্রস্তুতি যাচাই করুন। প্রতিটি প্রশ্নের সাথে সঠিক উত্তর ও ব্যাখ্যা দেওয়া আছে।
১. মুসলিম পারিবারিক আইন অধ্যাদেশ, ১৯৬১ অনুযায়ী তালাকের নোটিশ কার নিকট প্রেরণ করতে হয়?
(ক) চেয়ারম্যান (সালিশি পরিষদ) ও স্ত্রী (খ) শুধু কাজী অফিস (গ) শুধু আদালত (ঘ) শুধু স্ত্রীর পিতা
সঠিক উত্তর: (ক) চেয়ারম্যান (সালিশি পরিষদ) ও স্ত্রী
ব্যাখ্যা: মুসলিম পারিবারিক আইন অধ্যাদেশের ৭ ধারা অনুযায়ী তালাকদাতাকে স্থানীয় চেয়ারম্যান ও স্ত্রীকে লিখিত নোটিশ প্রদান করতে হয়।
২. তালাকের নোটিশ প্রদানের কত দিন পর তালাক কার্যকর হয়, যদি ইতিমধ্যে প্রত্যাহার না হয়?
(ক) ৩০ দিন (খ) ৬০ দিন (গ) ৯০ দিন (ঘ) ১৮০ দিন
সঠিক উত্তর: (গ) ৯০ দিন
ব্যাখ্যা: মুসলিম পারিবারিক আইন অধ্যাদেশের ৭(৩) ধারা অনুযায়ী নোটিশ প্রদানের ৯০ দিন পর তালাক কার্যকর হয়, যদি এর মধ্যে পক্ষগণের মধ্যে আপোষ মীমাংসা না হয়।
৩. বহুবিবাহের ক্ষেত্রে মুসলিম পারিবারিক আইন অধ্যাদেশ অনুযায়ী স্বামীর করণীয় কী?
(ক) সালিশি পরিষদের অনুমতি গ্রহণ (খ) শুধু স্ত্রীর মৌখিক সম্মতি (গ) শুধু কাজীকে অবহিত করা (ঘ) কোনো অনুমতি প্রয়োজন নেই
সঠিক উত্তর: (ক) সালিশি পরিষদের অনুমতি গ্রহণ
ব্যাখ্যা: ৬ ধারা অনুযায়ী দ্বিতীয় বিবাহের পূর্বে সালিশি পরিষদের লিখিত অনুমতি গ্রহণ বাধ্যতামূলক।
৪. পারিবারিক আদালত আইন, ২০২৩ অনুযায়ী কোন কোন বিষয় পারিবারিক আদালতের এখতিয়ারভুক্ত?
(ক) দেনমোহর, ভরণপোষণ, অভিভাবকত্ব, বিবাহবিচ্ছেদ প্রভৃতি (খ) শুধু ফৌজদারি বিষয় (গ) শুধু সম্পত্তি বিরোধ (ঘ) শুধু ব্যবসায়িক বিরোধ
সঠিক উত্তর: (ক) দেনমোহর, ভরণপোষণ, অভিভাবকত্ব, বিবাহবিচ্ছেদ প্রভৃতি
ব্যাখ্যা: পারিবারিক আদালত দেনমোহর, ভরণপোষণ, অভিভাবকত্ব, বিবাহবিচ্ছেদ ও দাম্পত্য অধিকার পুনরুদ্ধার সংক্রান্ত মামলার এখতিয়ার রাখে।
৫. পারিবারিক আদালতে লিখিত জবাব দাখিলের জন্য আদালত সাধারণত সর্বোচ্চ কত দিন সময় দিতে পারেন?
(ক) ১৪ দিন (খ) ২১ দিন (গ) ৩০ দিন (ঘ) ৬০ দিন
সঠিক উত্তর: (খ) ২১ দিন
ব্যাখ্যা: পারিবারিক আদালত আইন, ২০২৩ এর ৮ ধারা অনুযায়ী লিখিত জবাব দাখিলের জন্য অনধিক ২১ দিন সময় দিতে পারেন।
৬. মুসলিম আইনে বিবাহবিচ্ছেদের পর স্ত্রীর ইদ্দতকালীন ভরণপোষণের অধিকার কতদিন থাকে?
(ক) ইদ্দতকাল পর্যন্ত (সাধারণত ৩ মাস) (খ) কোনো ভরণপোষণের অধিকার নেই (গ) সারাজীবন (ঘ) ১ বছর
সঠিক উত্তর: (ক) ইদ্দতকাল পর্যন্ত (সাধারণত ৩ মাস)
ব্যাখ্যা: মুসলিম আইন অনুযায়ী তালাকপ্রাপ্তা স্ত্রী ইদ্দতকাল পর্যন্ত (সাধারণত তিন মাসিক চক্র বা সন্তান জন্মদান পর্যন্ত) ভরণপোষণ পাওয়ার অধিকারী।
৭. হিবা (মুসলিম আইনে দান)-এর বৈধতার জন্য কী শর্ত পূরণ আবশ্যক?
(ক) ঘোষণা, গ্রহণ ও দখল হস্তান্তর (Declaration, Acceptance, Delivery of Possession) (খ) শুধু লিখিত দলিল (গ) শুধু সাক্ষীর উপস্থিতি (ঘ) শুধু আদালতের নিবন্ধন
সঠিক উত্তর: (ক) ঘোষণা, গ্রহণ ও দখল হস্তান্তর (Declaration, Acceptance, Delivery of Possession)
ব্যাখ্যা: মুসলিম আইন অনুযায়ী হিবা বৈধ হতে হলে দাতার ঘোষণা, গ্রহীতার গ্রহণ এবং প্রকৃত বা গঠনমূলক দখল হস্তান্তর — এই তিনটি শর্ত পূরণ হতে হয়।
৮. তামাদি আইনের নীতি ও মূলনীতির ল্যাটিন প্রবাদ 'Ignorantia juris non excusat'-এর অর্থ কী?
(ক) আইনের অজ্ঞতা কোনো অজুহাত নয় (খ) ন্যায়বিচার বিলম্বিত হলে তা অস্বীকৃত ন্যায়বিচার (গ) শোনো, তারপর বিচার করো (ঘ) প্রথমে আসলে প্রথমে সেবা পাবে
সঠিক উত্তর: (ক) আইনের অজ্ঞতা কোনো অজুহাত নয়
ব্যাখ্যা: 'Ignorantia juris non excusat' একটি সুপরিচিত আইনি প্রবাদ, যার অর্থ 'আইন সম্পর্কে অজ্ঞতা কোনো আইনগত অজুহাত হিসেবে গণ্য হয় না'।
৯. 'Audi Alteram Partem' নীতির অর্থ কী?
(ক) উভয় পক্ষের কথা শুনতে হবে (খ) প্রমাণের দায় বাদীর উপর (গ) বিলম্বিত ন্যায়বিচার অস্বীকৃত ন্যায়বিচার (ঘ) আইনের অজ্ঞতা কোনো অজুহাত নয়
সঠিক উত্তর: (ক) উভয় পক্ষের কথা শুনতে হবে
ব্যাখ্যা: প্রাকৃতিক ন্যায়বিচারের এই মূলনীতি অনুযায়ী কোনো সিদ্ধান্ত নেওয়ার পূর্বে উভয় পক্ষের বক্তব্য শোনা আবশ্যক।
১০. 'Justice delayed is justice denied' প্রবাদটি কীসের সাথে সম্পর্কিত?
(ক) দ্রুত বিচার লাভের অধিকার (খ) সাক্ষ্যের গ্রহণযোগ্যতা (গ) চুক্তির বলবৎকরণ (ঘ) সম্পত্তির মালিকানা
সঠিক উত্তর: (ক) দ্রুত বিচার লাভের অধিকার
ব্যাখ্যা: এই প্রবাদটি বোঝায় যে বিলম্বিত বিচার কার্যত ন্যায়বিচার অস্বীকার করার শামিল — দ্রুত বিচার লাভের অধিকারের গুরুত্ব তুলে ধরে।
১১. 'Nemo judex in causa sua' নীতির অর্থ কী?
(ক) কেউ নিজের মামলার বিচারক হতে পারবেন না (খ) প্রত্যেকে নিজের প্রতিরক্ষার অধিকারী (গ) আইনের অজ্ঞতা অজুহাত নয় (ঘ) সবার জন্য সমান আইন
সঠিক উত্তর: (ক) কেউ নিজের মামলার বিচারক হতে পারবেন না
ব্যাখ্যা: প্রাকৃতিক ন্যায়বিচারের এই নীতি অনুযায়ী স্বার্থদ্বন্দ্ব থাকলে কোনো ব্যক্তি নিজের সংশ্লিষ্ট মামলার বিচারক হতে পারবেন না — পক্ষপাতহীনতা নিশ্চিত করতে।
১২. 'Functus Officio' শব্দবন্ধের অর্থ কী?
(ক) দায়িত্ব সম্পাদনের পর আর কোনো এখতিয়ার না থাকা (খ) একই সাথে একাধিক পদে থাকা (গ) বিচারের পূর্ণ ক্ষমতা (ঘ) স্থায়ীভাবে দায়িত্বে থাকা
সঠিক উত্তর: (ক) দায়িত্ব সম্পাদনের পর আর কোনো এখতিয়ার না থাকা
ব্যাখ্যা: কোনো কর্তৃপক্ষ বা আদালত তার দায়িত্ব সম্পূর্ণভাবে সম্পাদন করার পর সেই বিষয়ে পুনরায় সিদ্ধান্ত নেওয়ার এখতিয়ার হারালে তাকে 'Functus Officio' বলে।
১৩. 'Mens Rea' শব্দটির আইনগত অর্থ কী?
(ক) অপরাধমূলক মানসিকতা বা উদ্দেশ্য (খ) শারীরিক কর্মকাণ্ড (গ) সাক্ষ্যের প্রকারভেদ (ঘ) শাস্তির পরিমাণ
সঠিক উত্তর: (ক) অপরাধমূলক মানসিকতা বা উদ্দেশ্য
ব্যাখ্যা: ফৌজদারি আইনে Mens Rea বলতে অপরাধ সংঘটনের সময় অপরাধীর মানসিক অবস্থা বা উদ্দেশ্যকে বোঝায়, যা অধিকাংশ অপরাধের অপরিহার্য উপাদান।
১৪. 'Actus Reus' শব্দটির অর্থ কী?
(ক) অপরাধমূলক কাজ বা কার্যকলাপ (খ) অপরাধমূলক উদ্দেশ্য (গ) সাক্ষ্যের ভার (ঘ) আপিলের অধিকার
সঠিক উত্তর: (ক) অপরাধমূলক কাজ বা কার্যকলাপ
ব্যাখ্যা: Actus Reus বলতে বোঝায় অপরাধের বাহ্যিক বা শারীরিক উপাদান — প্রকৃত নিষিদ্ধ কাজ বা আচরণ।
১৫. ‘Double Jeopardy’ নীতির বাংলাদেশি প্রয়োগ কোথায় পাওয়া যায়?
(ক) সংবিধানের ৩৫(২) অনুচ্ছেদ ও ফৌজদারি কার্যবিধির ৪০৩ ধারা (খ) শুধু দেওয়ানি কার্যবিধিতে (গ) শুধু সাক্ষ্য আইনে (ঘ) শুধু চুক্তি আইনে
সঠিক উত্তর: (ক) সংবিধানের ৩৫(২) অনুচ্ছেদ ও ফৌজদারি কার্যবিধির ৪০৩ ধারা
ব্যাখ্যা: এই নীতি সংবিধানের ৩৫(২) অনুচ্ছেদ এবং ফৌজদারি কার্যবিধির ৪০৩ ধারায় প্রতিফলিত — একই অপরাধে পুনরায় বিচার নিষিদ্ধ।
১৬. সাব-জুডিস (Sub Judice) শব্দের অর্থ কী?
(ক) বিচারাধীন (খ) নিষ্পন্ন (গ) খারিজকৃত (ঘ) প্রত্যাহারকৃত
সঠিক উত্তর: (ক) বিচারাধীন
ব্যাখ্যা: Sub Judice অর্থ কোনো মামলা বা বিষয় আদালতে বিচারাধীন রয়েছে।
১৭. বাংলাদেশের সর্বনিম্ন দেওয়ানি আদালত কোনটি?
(ক) সহকারী জজ আদালত (খ) যুগ্ম জেলা জজ আদালত (গ) জেলা জজ আদালত (ঘ) অতিরিক্ত জেলা জজ আদালত
সঠিক উত্তর: (ক) সহকারী জজ আদালত
ব্যাখ্যা: দেওয়ানি আদালত আইন, ১৮৮৭ অনুযায়ী সহকারী জজ আদালত সর্বনিম্ন স্তরের দেওয়ানি আদালত।
১৮. বাংলাদেশের সর্বনিম্ন ফৌজদারি আদালত কোনটি?
(ক) জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালত (খ) দায়রা জজ আদালত (গ) হাইকোর্ট বিভাগ (ঘ) মেট্রোপলিটান সেশন আদালত
সঠিক উত্তর: (ক) জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালত
ব্যাখ্যা: ফৌজদারি কার্যবিধি অনুযায়ী জুডিশিয়াল/মেট্রোপলিটান ম্যাজিস্ট্রেট আদালত সর্বনিম্ন স্তরের ফৌজদারি আদালত।
১৯. সহকারী জজ নিয়োগ পরীক্ষা কে পরিচালনা করে?
(ক) বাংলাদেশ জুডিসিয়াল সার্ভিস কমিশন (BJSC) (খ) বাংলাদেশ বার কাউন্সিল (গ) সুপ্রিম কোর্ট (ঘ) জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়
সঠিক উত্তর: (ক) বাংলাদেশ জুডিসিয়াল সার্ভিস কমিশন (BJSC)
ব্যাখ্যা: সহকারী জজ (বিজেএস) নিয়োগ পরীক্ষা বাংলাদেশ জুডিসিয়াল সার্ভিস কমিশন কর্তৃক পরিচালিত হয়।
২০. বাংলাদেশ সুপ্রিম কোর্টের প্রধান বিচারপতি নিয়োগ দেন কে?
(ক) রাষ্ট্রপতি (খ) প্রধানমন্ত্রী (গ) সংসদ (ঘ) আইনমন্ত্রী
সঠিক উত্তর: (ক) রাষ্ট্রপতি
ব্যাখ্যা: সংবিধানের ৯৫ অনুচ্ছেদ অনুযায়ী রাষ্ট্রপতি প্রধান বিচারপতি নিয়োগ করেন।
২১. জেলা জজ আদালতের প্রধান বিচারিক কর্মকর্তা কে?
(ক) জেলা ও দায়রা জজ (খ) মহানগর দায়রা জজ শুধুমাত্র (গ) চিফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট (ঘ) পুলিশ সুপার
সঠিক উত্তর: (ক) জেলা ও দায়রা জজ
ব্যাখ্যা: প্রতিটি জেলায় জেলা ও দায়রা জজ দেওয়ানি ও ফৌজদারি উভয় বিভাগের প্রধান বিচারিক কর্মকর্তা হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন।
২২. কোম্পানি আইন, ১৯৯৪ অনুযায়ী একটি বেসরকারি কোম্পানি গঠনে ন্যূনতম কতজন সদস্য প্রয়োজন?
(ক) ২ জন (খ) ৩ জন (গ) ৫ জন (ঘ) ৭ জন
সঠিক উত্তর: (ক) ২ জন
ব্যাখ্যা: কোম্পানি আইন, ১৯৯৪ অনুযায়ী বেসরকারি কোম্পানি গঠনে ন্যূনতম ২ জন সদস্য প্রয়োজন।
২৩. সরকারি কোম্পানি (Public Company) গঠনে ন্যূনতম কতজন সদস্য প্রয়োজন?
(ক) ২ জন (খ) ৩ জন (গ) ৫ জন (ঘ) ৭ জন
সঠিক উত্তর: (ঘ) ৭ জন
ব্যাখ্যা: কোম্পানি আইন অনুযায়ী পাবলিক লিমিটেড কোম্পানি গঠনে ন্যূনতম ৭ জন সদস্য প্রয়োজন।
২৪. কোম্পানির নিবন্ধন কোন কর্তৃপক্ষের নিকট করতে হয়?
(ক) Registrar of Joint Stock Companies and Firms (RJSC) (খ) বার কাউন্সিল (গ) জেলা প্রশাসক (ঘ) বাংলাদেশ ব্যাংক
সঠিক উত্তর: (ক) Registrar of Joint Stock Companies and Firms (RJSC)
ব্যাখ্যা: কোম্পানি নিবন্ধন করতে হয় Registrar of Joint Stock Companies and Firms (RJSC)-এর কাছে।
২৫. অংশীদারি ব্যবসায় (Partnership Firm) নিবন্ধন বাধ্যতামূলক কিনা?
(ক) বাধ্যতামূলক নয়, তবে না করলে কিছু আইনগত সুবিধা থেকে বঞ্চিত হতে হয় (খ) সম্পূর্ণ বাধ্যতামূলক (গ) নিবন্ধন সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ (ঘ) শুধু সরকারি অনুমতিতে সম্ভব
সঠিক উত্তর: (ক) বাধ্যতামূলক নয়, তবে না করলে কিছু আইনগত সুবিধা থেকে বঞ্চিত হতে হয়
ব্যাখ্যা: Partnership Act, 1932 অনুযায়ী অংশীদারি ফার্মের নিবন্ধন বাধ্যতামূলক নয়, তবে অনিবন্ধিত ফার্মের কিছু আইনি অধিকার (যেমন তৃতীয় পক্ষের বিরুদ্ধে মামলা) সীমিত থাকে।
২৬. আরবিট্রেশন (সালিশ) আইন, ২০০১ অনুযায়ী সালিশি রোয়েদাদ (Arbitral Award) কার্যকর করার জন্য কোথায় আবেদন করতে হয়?
(ক) সংশ্লিষ্ট দেওয়ানি আদালতে (খ) শুধু বার কাউন্সিলে (গ) শুধু হাইকোর্ট বিভাগে সবসময় (ঘ) পুলিশের কাছে
সঠিক উত্তর: (ক) সংশ্লিষ্ট দেওয়ানি আদালতে
ব্যাখ্যা: সালিশ আইন, ২০০১ অনুযায়ী সালিশি রোয়েদাদ কার্যকর করার জন্য উপযুক্ত দেওয়ানি আদালতে আবেদন করতে হয়।
২৭. সরকারের পক্ষে মামলা পরিচালনা করেন কে?
(ক) সরকারি কৌঁসুলি (Public Prosecutor) বা সংশ্লিষ্ট আইন কর্মকর্তা (খ) যেকোনো বেসরকারি আইনজীবী (গ) পুলিশ কর্মকর্তা নিজে (ঘ) সাংবাদিক
সঠিক উত্তর: (ক) সরকারি কৌঁসুলি (Public Prosecutor) বা সংশ্লিষ্ট আইন কর্মকর্তা
ব্যাখ্যা: রাষ্ট্রপক্ষে ফৌজদারি মামলা পরিচালনার জন্য সরকারি কৌঁসুলি (PP) নিযুক্ত থাকেন।
২৮. অ্যাটর্নি জেনারেলের প্রধান দায়িত্ব কী?
(ক) সরকারের প্রধান আইন কর্মকর্তা হিসেবে আইনগত পরামর্শ প্রদান ও প্রতিনিধিত্ব (খ) বিচারক নিয়োগ (গ) আইন প্রণয়ন (ঘ) পুলিশ বাহিনী পরিচালনা
সঠিক উত্তর: (ক) সরকারের প্রধান আইন কর্মকর্তা হিসেবে আইনগত পরামর্শ প্রদান ও প্রতিনিধিত্ব
ব্যাখ্যা: সংবিধানের ৬৪ অনুচ্ছেদ অনুযায়ী অ্যাটর্নি জেনারেল সরকারের প্রধান আইন কর্মকর্তা হিসেবে আদালতে সরকারের প্রতিনিধিত্ব করেন।
২৯. চেক (Cheque)-এর সংজ্ঞা নেগোশিয়েবল ইন্সট্রুমেন্ট আইনের কোন ধারায় আছে?
(ক) ধারা ৫ (খ) ধারা ৬ (গ) ধারা ১৩ (ঘ) ধারা ১৩৮
সঠিক উত্তর: (খ) ধারা ৬
ব্যাখ্যা: ৬ ধারায় চেকের সংজ্ঞা দেওয়া হয়েছে — নির্দিষ্ট ব্যাংকের উপর আঁকা চাহিবামাত্র প্রদেয় বিনিময় বিল।
৩০. অপর্যাপ্ত তহবিলের কারণে চেক ডিজঅনার হওয়ার শাস্তিমূলক বিধান নেগোশিয়েবল ইন্সট্রুমেন্ট আইনের কোন ধারায় আছে?
(ক) ধারা ১৩৮ (খ) ধারা ১৩৯ (গ) ধারা ১৪০ (ঘ) ধারা ৬৪
সঠিক উত্তর: (ক) ধারা ১৩৮
ব্যাখ্যা: ১৩৮ ধারা অনুযায়ী পর্যাপ্ত তহবিলের অভাবে চেক ডিজঅনার হলে তা ফৌজদারি অপরাধ হিসেবে গণ্য এবং শাস্তিযোগ্য।
৩১. চেক ডিজঅনার হওয়ার পর মামলা দায়েরের পূর্বে কী পদক্ষেপ আইনত বাধ্যতামূলক?
(ক) চেক প্রাপকের লিখিত নোটিশ প্রেরণ এবং নির্ধারিত সময়ে অর্থ পরিশোধের সুযোগ দেওয়া (খ) সরাসরি ফৌজদারি মামলা দায়ের (গ) থানায় জিডি করা যথেষ্ট (ঘ) কোনো পদক্ষেপ প্রয়োজন নেই
সঠিক উত্তর: (ক) চেক প্রাপকের লিখিত নোটিশ প্রেরণ এবং নির্ধারিত সময়ে অর্থ পরিশোধের সুযোগ দেওয়া
ব্যাখ্যা: ১৩৮ ধারার প্রক্রিয়া অনুযায়ী ডিজঅনারের পর চেক প্রাপককে বিবাদীকে লিখিত নোটিশ দিয়ে নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে অর্থ পরিশোধের সুযোগ দিতে হয়, তারপরও অপরিশোধিত থাকলে মামলা দায়ের করা যায়।
৩২. বিনিময় বিল (Bill of Exchange)-এর সংজ্ঞা নেগোশিয়েবল ইন্সট্রুমেন্ট আইনের কোন ধারায় আছে?
(ক) ধারা ৫ (খ) ধারা ৬ (গ) ধারা ১৩ (ঘ) ধারা ৭৯
সঠিক উত্তর: (ক) ধারা ৫
ব্যাখ্যা: ৫ ধারায় বিনিময় বিল (Bill of Exchange)-এর সংজ্ঞা দেওয়া হয়েছে।
৩৩. প্রমিসরি নোট (Promissory Note)-এর সংজ্ঞা নেগোশিয়েবল ইন্সট্রুমেন্ট আইনের কোন ধারায় আছে?
(ক) ধারা ৪ (খ) ধারা ৫ (গ) ধারা ৬ (ঘ) ধারা ১৩
সঠিক উত্তর: (ক) ধারা ৪
ব্যাখ্যা: ৪ ধারায় প্রমিসরি নোটের সংজ্ঞা দেওয়া হয়েছে — নির্দিষ্ট অর্থ পরিশোধের নিঃশর্ত লিখিত অঙ্গীকার।
৩৪. অঙ্কনকারী (Drawer), গ্রহীতা (Drawee) ও প্রাপক (Payee)-এর মধ্যে সম্পর্ক কোন দলিলে প্রযোজ্য?
(ক) চেক ও বিনিময় বিল (খ) শুধু প্রমিসরি নোট (গ) শুধু বন্ড (ঘ) শুধু শেয়ার সার্টিফিকেট
সঠিক উত্তর: (ক) চেক ও বিনিময় বিল
ব্যাখ্যা: চেক ও বিনিময় বিলে অঙ্কনকারী (যিনি নির্দেশ দেন), গ্রহীতা (যার উপর নির্দেশ দেওয়া হয়) ও প্রাপক (যিনি অর্থ পাবেন) — এই তিনটি পক্ষ জড়িত থাকে।
৩৫. হিন্দু আইনে অবিভক্ত পরিবারের সম্পত্তি (Joint Family Property) বণ্টনের মামলাকে কী বলে?
(ক) বাটোয়ারা বা পার্টিশন মামলা (খ) খারিজ মামলা (গ) রেহেন মামলা (ঘ) নামজারি মামলা
সঠিক উত্তর: (ক) বাটোয়ারা বা পার্টিশন মামলা
ব্যাখ্যা: হিন্দু যৌথ পরিবারের সম্পত্তি বণ্টনের মামলাকে বাটোয়ারা বা পার্টিশন মামলা বলা হয়, যা দেওয়ানি আদালতে দায়ের হয়।
৩৬. মুসলিম উত্তরাধিকার আইনে অংশীদারদের অংশ নির্ধারণে প্রধান উৎস কী?
(ক) পবিত্র কুরআন ও ফিকহ অনুযায়ী নির্ধারিত অংশ (ফারায়েজ) (খ) শুধু আদালতের সিদ্ধান্ত (গ) শুধু পারিবারিক সমঝোতা (ঘ) শুধু সরকারি আইন
সঠিক উত্তর: (ক) পবিত্র কুরআন ও ফিকহ অনুযায়ী নির্ধারিত অংশ (ফারায়েজ)
ব্যাখ্যা: মুসলিম উত্তরাধিকার আইনে ফারায়েজ (নির্ধারিত অংশ) মূলত কুরআন ও ফিকহ শাস্ত্রের নীতিমালার ভিত্তিতে নির্ধারিত হয়।