দেওয়ানি কার্যবিধি, ১৯০৮ (The Code of Civil Procedure, 1908)

দেওয়ানি কার্যবিধি হলো দেওয়ানি (Civil) প্রকৃতির মামলা পরিচালনার সম্পূর্ণ পদ্ধতিগত নিয়মাবলি — সম্পত্তি বিরোধ, চুক্তি ভঙ্গ, ক্ষতিপূরণ, ঘোষণামূলক মামলা প্রভৃতি দেওয়ানি মামলা এই আইনের কাঠামো অনুসরণ করেই আরজি দাখিল থেকে ডিক্রি জারি পর্যন্ত পরিচালিত হয়। কার্যবিধি দুই ভাগে বিভক্ত — মূল অংশে ১৫৮টি ধারা (মৌলিক আইনগত নীতি) এবং প্রথম তফসিলে ৫১টি আদেশ (Order) ও তাদের বিধি (Rules) — পদ্ধতিগত খুঁটিনাটি।

বার কাউন্সিল পরীক্ষায় দেওয়ানি কার্যবিধি থেকে ব্যাপক প্রশ্ন আসে, বিশেষত আরজি-জবাব প্রস্তুতি, এখতিয়ার নির্ধারণ, ডিক্রি জারি এবং আপিল-রিভিশন-রিভিউর মধ্যে পার্থক্য নিয়ে।

পরীক্ষায় এই অধ্যায়ের গুরুত্ব

বিশেষভাবে গুরুত্বপূর্ণ: রেস জুডিকাটা ও রেস সাব জুডিসের পার্থক্য (১০-১১ ধারা), এখতিয়ার নির্ধারণের নিয়ম, আরজি নাকচ/ফেরতের পার্থক্য, ডিক্রি ও আদেশের পার্থক্য, আপিল-রিভিশন-রিভিউর এখতিয়ার ও পার্থক্য, এবং আদালতের সহজাত ক্ষমতা (১৫১ ধারা)। কার্যবিধির "আদেশ ও বিধি" সংখ্যা (যেমন আদেশ ৭ বিধি ১১ = আরজি নাকচ) মুখস্থ রাখা পরীক্ষায় সরাসরি কাজে লাগে।

প্রশ্নের ধরন — সম্পূর্ণ মানচিত্র

যেখান থেকে প্রশ্ন আসেযা জানতে হয়উদাহরণ
ধারা/আদেশ-বিধি সরাসরিকোন ধারা/আদেশে কোন বিষয়আরজি নাকচ — আদেশ ৭ বিধি ১১
এখতিয়ার ও ফোরামকোন আদালতে কী প্রতিকাররিভিশনের এখতিয়ার — হাইকোর্ট বিভাগ
পার্থক্যমূলককাছাকাছি দুটি ধারণার পার্থক্যডিক্রি ও আদেশের পার্থক্য কী?
প্রক্রিয়াগত ক্রমমামলার কোন ধাপে কী হয়চার্জ/জবাবের পর পরবর্তী ধাপ কী?

পড়ার কৌশল

  • একটি দেওয়ানি মামলার স্বাভাবিক যাত্রাক্রম মনে রাখুন: আরজি → সমন → জবাব → বিচার্য বিষয় নির্ধারণ → সাক্ষ্য → যুক্তিতর্ক → রায় → ডিক্রি → জারি → আপিল। প্রতিটি ধাপের সংশ্লিষ্ট আদেশ-বিধি যুক্ত করে পড়ুন।
  • আপিল-রিভিশন-রিভিউ — তিনটি ভিন্ন প্রতিকার, এই নিবন্ধের তুলনামূলক অংশে একসাথে পড়ুন।
  • "ধারা" (মূল আইনগত নীতি, পরিবর্তন কঠিন) ও "আদেশ-বিধি" (পদ্ধতিগত বিস্তারিত, তুলনামূলক নমনীয়) — এই পার্থক্য মাথায় রেখে পড়লে গোলমাল কম হবে।

এখতিয়ার ও আদালতের শ্রেণিবিভাগ (ধারা ৯, ১৫-২০)

দেওয়ানি আদালতের সাধারণ এখতিয়ার (৯ ধারা): আইন দ্বারা প্রকাশ্য বা প্রচ্ছন্নভাবে বারিত না হলে দেওয়ানি প্রকৃতির সকল মামলা বিচার করার এখতিয়ার দেওয়ানি আদালতের রয়েছে — বিশেষ ট্রাইব্যুনাল থাকলেও এই সাধারণ এখতিয়ার বহাল থাকে যদি না স্পষ্টভাবে বারিত করা হয়।

স্থানীয় এখতিয়ার: স্থাবর সম্পত্তি সংক্রান্ত মামলা সম্পত্তির অবস্থানভুক্ত আদালতে দায়ের করতে হয় (১৬ ধারা); সম্পত্তি একাধিক আদালতের এখতিয়ারে অবস্থিত হলে বাদী যেকোনো একটিতে মামলা করতে পারেন (১৭ ধারা)। আর্থিক এখতিয়ার: মামলার আর্থিক মূল্যমান অনুযায়ী সহকারী জজ, যুগ্ম জেলা জজ বা জেলা জজ আদালতে মামলা করতে হয়।

আদালতএখতিয়ারের ধরন
সহকারী জজ আদালতসর্বনিম্ন স্তর, সীমিত আর্থিক এখতিয়ার
যুগ্ম জেলা জজ আদালতসহকারী জজের তুলনায় বৃহত্তর আর্থিক এখতিয়ার
জেলা ও দায়রা জজ আদালতজেলার সর্বোচ্চ দেওয়ানি আদালত, আপিল এখতিয়ারসহ
হাইকোর্ট বিভাগরিভিশন, রিট ও নির্দিষ্ট আপিল এখতিয়ার

আরজি ও লিখিত জবাব (আদেশ ৬, ৭, ৮)

আরজি (Plaint, আদেশ ৭): মামলার কারণ (Cause of Action), মূল্যায়ন, এখতিয়ার সংক্রান্ত বিবৃতি ও প্রার্থিত প্রতিকার উল্লেখ থাকতে হয়। মামলার কারণ উল্লেখ না থাকলে বা যথাযথ কোর্ট ফি না থাকলে আরজি নাকচ (Rejection, আদেশ ৭ বিধি ১১) হয়; আর ভুল আদালতে দাখিল হলে তা যথাযথ আদালতে দাখিলের জন্য ফেরত (Return, আদেশ ৭ বিধি ১০) দেওয়া হয় — এই দুটির পার্থক্য পরীক্ষায় খুবই গুরুত্বপূর্ণ।

লিখিত জবাব (Written Statement, আদেশ ৮): বিবাদী আরজির প্রতিটি বক্তব্য নির্দিষ্টভাবে স্বীকার/অস্বীকার করবেন; সুনির্দিষ্টভাবে অস্বীকার না করলে তা স্বীকৃত বলে গণ্য হয় (আদেশ ৮ বিধি ৫)। Pleadings (আদেশ ৬): আরজি ও জবাব উভয়কে একত্রে Pleadings বলা হয়, যা মামলার যেকোনো পর্যায়ে ন্যায়বিচারের স্বার্থে সংশোধনযোগ্য (আদেশ ৬ বিধি ১৭)।

আরজি নাকচ (Rejection) না ফেরত (Return) — কীভাবে আলাদা করবেন?

  1. প্রশ্ন করুন: আদালতের কি এই মামলার বিষয়ে আদৌ এখতিয়ার আছে?
  2. এখতিয়ার না থাকলে (ভুল আদালত) → আরজি ফেরত (Return, আদেশ ৭ বিধি ১০) — যথাযথ আদালতে পুনরায় দাখিলযোগ্য।
  3. এখতিয়ার থাকলেও মামলার কারণ না থাকলে, কোর্ট ফি ঘাটতি থাকলে, বা তামাদি-বারিত হলে → আরজি নাকচ (Rejection, আদেশ ৭ বিধি ১১)।
  4. উভয় ক্ষেত্রেই এই আদেশ ডিক্রি হিসেবে গণ্য (২(২) ধারা) এবং আপিলযোগ্য।

সমন, পক্ষভুক্তি ও প্রতিনিধিত্বমূলক মামলা (আদেশ ১, ৫, ৩২)

সমন (আদেশ ৫): বিবাদীকে মামলা সম্পর্কে অবহিত করতে এবং জবাব দাখিলের সুযোগ দিতে সমন জারি করা হয়; একাধিক বিবাদী থাকলে প্রত্যেককে পৃথকভাবে সমন জারি করতে হয়। পক্ষভুক্তির ত্রুটি (আদেশ ১ বিধি ৯): ভুল/অনুপস্থিত পক্ষভুক্তির কারণে মাত্র মামলা খারিজ করা যায় না — আদালত প্রয়োজনীয় পক্ষ যুক্ত/বাদ দেওয়ার সুযোগ দেন।

প্রতিনিধিত্বমূলক মামলা (আদেশ ১ বিধি ৮): একই স্বার্থসম্পন্ন বহু ব্যক্তির পক্ষে আদালতের অনুমতিক্রমে একজন বা কয়েকজন মামলা দায়ের/পরিচালনা করতে পারেন। নাবালকের মামলা (আদেশ ৩২): নাবালক বাদীর পক্ষে "নেক্সট ফ্রেন্ড" এবং নাবালক বিবাদীর পক্ষে আদালত-নিযুক্ত "গার্ডিয়ান অ্যাড লিটেম" মামলা পরিচালনা করেন।

অন্তর্বর্তীকালীন প্রতিকার (আদেশ ৩৮, ৩৯, ৪০)

অস্থায়ী নিষেধাজ্ঞা (আদেশ ৩৯): মামলা চলাকালে বিরোধীয় বিষয়ের স্থিতাবস্থা রক্ষায় আদালত সাময়িক নিষেধাজ্ঞা দিতে পারেন; লঙ্ঘনের ক্ষেত্রে দেওয়ানি কারাগারে সর্বোচ্চ ৬ মাস আটকের বিধান আছে। রায়ের পূর্বে ক্রোক (আদেশ ৩৮): বিবাদী সম্পত্তি সরিয়ে ফেলার আশঙ্কা থাকলে রায়ের পূর্বেই সম্পত্তি ক্রোক করা যায়। রিসিভার নিয়োগ (আদেশ ৪০): বিরোধীয় সম্পত্তি রক্ষণাবেক্ষণে আদালত একজন নিরপেক্ষ রিসিভার নিয়োগ দিতে পারেন।

বিচার, রায় ও ডিক্রি (আদেশ ১৪, ১৮, ২০)

বিচার্য বিষয় নির্ধারণ (আদেশ ১৪): পক্ষগণের বিতর্কিত বিষয়ের ভিত্তিতে আদালত Issues নির্ধারণ করেন, যার উপর সাক্ষ্য গ্রহণ ও যুক্তিতর্ক পরিচালিত হয়। রায় (Judgment, আদেশ ২০): সাক্ষ্য ও যুক্তিতর্ক শেষে আদালত রায় প্রদান করেন, যাতে বিচার্য বিষয়ের সংক্ষিপ্তসার, সিদ্ধান্ত ও তার কারণ উল্লেখ থাকে। রায়ের ভিত্তিতে আনুষ্ঠানিক ডিক্রি প্রস্তুত হয়, যা জারিযোগ্য দলিল।

ডিক্রি বনাম আদেশ: ডিক্রি পক্ষগণের অধিকার নিয়ে চূড়ান্ত ও সুস্পষ্ট সিদ্ধান্ত (যেমন মামলা ডিক্রি/খারিজ), আর আদেশ সাধারণত পদ্ধতিগত বা অন্তর্বর্তীকালীন বিষয়ে (যেমন সময় বৃদ্ধি)। প্রাথমিক বনাম চূড়ান্ত ডিক্রি: ভাগবাটোয়ারা মামলার মতো ক্ষেত্রে প্রথমে প্রাথমিক ডিক্রি (আরও কার্যক্রম প্রয়োজন, যেমন হিসাব-নিকাশ) ও পরে চূড়ান্ত ডিক্রি (মামলা সম্পূর্ণ নিষ্পত্তি) প্রদান করা হয়।

ডিক্রি জারি (আদেশ ২১, ধারা ৩৬-৪৮)

ডিক্রি জারি সর্বদা সেই আদালতেই করতে হয় যে আদালত ডিক্রি প্রদান করেছিল (৩৮ ধারা) — উচ্চতর আদালতে (আপিল/রিভিশনে) ডিক্রি বহাল হলেও জারি মূল আদালতেই হয়। প্রয়োজনে ডিক্রি ভিন্ন জেলার আদালতে জারির জন্য স্থানান্তর করা যায় (৩৯ ধারা), যেমন সম্পত্তি অন্য জেলায় থাকলে।

জারি প্রক্রিয়ায় সম্পত্তি সাধারণত প্রকাশ্য নিলামের মাধ্যমে বিক্রয় করা হয় (বিক্রয়ের পূর্বে ঘোষণা প্রকাশ করে)। তৃতীয় পক্ষ জারিকৃত সম্পত্তিতে দাবি উত্থাপন করলে আদালত তা নিষ্পত্তি করেন (আদেশ ২১ বিধি ৫৮)। ডিক্রিকৃত অর্থ পরিশোধে ব্যর্থ দেনাদারকে নির্দিষ্ট শর্তে দেওয়ানি কারাগারে আটকের বিধানও আছে।

আপিল, রিভিশন ও রিভিউ (ধারা ৯৬-১১৫, ১৪৪)

আপিল (৯৬ ধারা): মূল এখতিয়ারে প্রদত্ত ডিক্রির বিরুদ্ধে সংক্ষুব্ধ পক্ষ আপিল করতে পারেন, তবে পক্ষগণের সম্মতিতে প্রদত্ত ডিক্রির (Consent Decree) বিরুদ্ধে আপিল চলে না (৯৬(৩) ধারা)। দ্বিতীয় আপিল (১০০ ধারা): শুধুমাত্র গুরুত্বপূর্ণ আইনগত প্রশ্ন (Substantial Question of Law) জড়িত থাকলেই গ্রহণযোগ্য। রিভিশন (১১৫ ধারা): এখতিয়ার প্রয়োগে ভুল, ব্যর্থতা বা বেআইনি প্রয়োগের ক্ষেত্রে হাইকোর্ট বিভাগ রিভিশনাল ক্ষমতা প্রয়োগ করেন — সাক্ষ্যের পুনর্মূল্যায়ন রিভিশনের বিষয় নয়, তা আপিলের এখতিয়ার।

রিভিউ (আদেশ ৪৭): নতুন গুরুত্বপূর্ণ প্রমাণ আবিষ্কৃত হলে (যা পূর্বে জানা সম্ভব ছিল না) একই আদালতে রিভিউ আবেদন করা যায় — এটি একমাত্র প্রতিকার যা রায়দানকারী আদালতেই দায়ের করতে হয়। পূর্বাবস্থায় প্রত্যর্পণ (Restitution, ১৪৪ ধারা): ডিক্রি রদ বা পরিবর্তিত হলে আদালত পক্ষগণকে পূর্বাবস্থায় ফিরিয়ে দিতে পারেন।

আপিল বনাম রিভিশন বনাম রিভিউ

বৈশিষ্ট্যআপিলরিভিশনরিভিউ
দায়ের করা হয়উচ্চতর আদালতেহাইকোর্ট বিভাগেএকই (রায়দানকারী) আদালতে
বিষয়বস্তুতথ্য ও আইন উভয়শুধু এখতিয়ার-সংক্রান্ত ভুলনতুন প্রমাণ/স্পষ্ট ভুল
প্রকৃতিসংবিধিবদ্ধ অধিকারবিবেচনামূলক ক্ষমতাসীমিত ব্যতিক্রমী প্রতিকার

রেস জুডিকাটা, রেস সাব জুডিস ও এস্টোপেল

রেস জুডিকাটা (Res Judicata, ১১ ধারা): একই পক্ষ ও একই বিষয়বস্তুর মধ্যে পূর্বে সক্ষম আদালত কর্তৃক চূড়ান্তভাবে নিষ্পত্তিকৃত বিষয় পুনরায় বিচার করা যাবে না — একে "দোবারা দোষ"ও বলা হয়। রেস সাব জুডিস (Res Sub Judice, ১০ ধারা): একই পক্ষের মধ্যে একই বিষয়ে অন্য মামলা ইতিমধ্যে বিচারাধীন থাকলে, পরবর্তী মামলার কার্যক্রম মুলতবি রাখতে হয়।

এস্টোপেল (সাক্ষ্য আইনের ১১৫ ধারা, তবে দেওয়ানি মামলায় ব্যাপকভাবে প্রযোজ্য): কোনো ব্যক্তি তার পূর্ববর্তী কথা বা আচরণের ভিত্তিতে অন্যকে বিশ্বাস করালে, পরে তা অস্বীকার করতে পারবেন না। মূল পার্থক্য — রেস জুডিকাটা পূর্ববর্তী রায়ের ভিত্তিতে বাধা সৃষ্টি করে, রেস সাব জুডিস সমান্তরাল বিচারাধীন মামলার ভিত্তিতে, আর এস্টোপেল ব্যক্তির নিজের পূর্ববর্তী আচরণের ভিত্তিতে।

আদালতের সহজাত ক্ষমতা (ধারা ১৫১)

১৫১ ধারা অনুযায়ী ন্যায়বিচারের স্বার্থে বা আদালতের প্রক্রিয়ার অপব্যবহার রোধে আদালতের একটি সহজাত (Inherent) ক্ষমতা সংরক্ষিত থাকে, যা কার্যবিধির অন্য কোনো নির্দিষ্ট বিধান দ্বারা সীমিত হয় না। তবে এই ক্ষমতা সীমাহীন নয় — উদাহরণস্বরূপ, তামাদি আইনের স্পষ্ট বাধা অতিক্রম করতে এই ক্ষমতা প্রয়োগ করা যায় না, কারণ তা একটি সংবিধিবদ্ধ (Statutory) বাধা, যা সহজাত ক্ষমতার চেয়ে অগ্রাধিকার পায়।

তুলনা ও কমন বিভ্রান্তি

আরজি নাকচ বনাম আরজি ফেরত

নাকচ (Rejection, আদেশ ৭ বিধি ১১) — এখতিয়ার থাকা সত্ত্বেও মামলার কারণ/কোর্ট ফি/তামাদির সমস্যায়; ফেরত (Return, আদেশ ৭ বিধি ১০) — এখতিয়ারের অভাবে, যথাযথ আদালতে পুনরায় দাখিলের সুযোগসহ।

রেস জুডিকাটা বনাম রেস সাব জুডিস

রেস জুডিকাটায় (১১ ধারা) পূর্ববর্তী মামলা ইতিমধ্যে চূড়ান্তভাবে নিষ্পত্তি হয়ে গেছে; রেস সাব জুডিসে (১০ ধারা) পূর্ববর্তী মামলা এখনো বিচারাধীন — তাই একটিতে নতুন মামলা খারিজযোগ্য, অন্যটিতে শুধু মুলতবি।

প্রাথমিক ডিক্রি বনাম চূড়ান্ত ডিক্রি

প্রাথমিক ডিক্রি এমন বিষয়ে যেখানে আরও কার্যক্রম প্রয়োজন (যেমন হিসাব-নিকাশ); চূড়ান্ত ডিক্রি মামলা সম্পূর্ণরূপে নিষ্পত্তি করে। ভাগবাটোয়ারা মামলায় উভয়ই ক্রমান্বয়ে প্রয়োজন হতে পারে।

দ্রুত রিভিশন — গুরুত্বপূর্ণ ধারা ও আদেশ-বিধি এক নজরে

ধারা/আদেশ-বিধিবিষয়
ধারা ৯দেওয়ানি আদালতের সাধারণ এখতিয়ার
ধারা ১০রেস সাব জুডিস (বিচারাধীন মামলা মুলতবি)
ধারা ১১রেস জুডিকাটা (পুনর্বিচার নিষেধ)
ধারা ১৬-১৭স্থাবর সম্পত্তির স্থানীয় এখতিয়ার
ধারা ৩৮-৩৯ডিক্রি জারির আদালত ও স্থানান্তর
ধারা ৯৬আপিলের অধিকার; ৯৬(৩) সম্মতিমূলক ডিক্রিতে আপিল নিষেধ
ধারা ১০০দ্বিতীয় আপিল — শুধু গুরুত্বপূর্ণ আইনগত প্রশ্নে
ধারা ১১৫রিভিশন — হাইকোর্ট বিভাগের এখতিয়ার
ধারা ১৪৪পূর্বাবস্থায় প্রত্যর্পণ (Restitution)
ধারা ১৫১আদালতের সহজাত ক্ষমতা
আদেশ ১ বিধি ৮প্রতিনিধিত্বমূলক মামলা
আদেশ ১ বিধি ৯পক্ষভুক্তির ত্রুটিতে মামলা খারিজ নয়
আদেশ ৬ বিধি ১৭Pleadings সংশোধনের ক্ষমতা
আদেশ ৭ বিধি ১০আরজি ফেরত (এখতিয়ারের অভাবে)
আদেশ ৭ বিধি ১১আরজি নাকচ (মামলার কারণ/কোর্ট ফি/তামাদি)
আদেশ ৮ বিধি ৫সুনির্দিষ্ট অস্বীকার না করলে স্বীকৃত গণ্য
আদেশ ১৪বিচার্য বিষয় (Issues) নির্ধারণ
আদেশ ২০রায় ও ডিক্রি প্রণয়ন
আদেশ ২১ডিক্রি জারি প্রক্রিয়া
আদেশ ৩২নাবালকের মামলা — নেক্সট ফ্রেন্ড/গার্ডিয়ান
আদেশ ৩৮রায়ের পূর্বে ক্রোক
আদেশ ৩৯অস্থায়ী নিষেধাজ্ঞা
আদেশ ৪০রিসিভার নিয়োগ
আদেশ ৪৭রিভিউ — নতুন প্রমাণ আবিষ্কারে

বাস্তব পরীক্ষায় আসা প্রশ্ন ও ব্যাখ্যা

নিচে বিভিন্ন বছরের বার কাউন্সিল পরীক্ষায় দেওয়ানি কার্যবিধি থেকে সরাসরি আসা প্রশ্নগুলো দেওয়া হলো, প্রতিটির বিস্তারিত ব্যাখ্যাসহ।

২০১২ বার কাউন্সিল

দোবারা দোষ (Res Judicata) বিষয়ে দেওয়ানি কার্যবিধির কোন ধারায় বিধান আছে?

(ক) ধারা ১০   (খ) ধারা ১১   (গ) ধারা ১৫   (ঘ) ধারা ২৪

উত্তর: (খ) ধারা ১১

ব্যাখ্যা: কার্যবিধির ১১ ধারায় রেস জুডিকাটা বা দোবারা দোষের বিধান আছে — একই বিষয়বস্তু ও পক্ষের মধ্যে পূর্বে চূড়ান্তভাবে নিষ্পত্তিকৃত বিষয় পুনরায় বিচারযোগ্য নয়।

২০১২ বার কাউন্সিল

এক জেলার আদালতে বিচারাধীন দেওয়ানি মামলা অন্য জেলার আদালতে স্থানান্তরের ক্ষমতা কার?

(ক) জেলা জজের   (খ) সংশ্লিষ্ট উভয় জেলা জজের যৌথ সিদ্ধান্তে   (গ) হাইকোর্ট বিভাগের   (ঘ) আইন মন্ত্রণালয়ের

উত্তর: (গ) হাইকোর্ট বিভাগের

ব্যাখ্যা: কার্যবিধির ২৪ ধারা অনুযায়ী এক জেলার আদালত থেকে অন্য জেলার আদালতে মামলা স্থানান্তরের সাধারণ ক্ষমতা হাইকোর্ট বিভাগের।

২০১২ বার কাউন্সিল

পক্ষগণের সম্মতির ভিত্তিতে প্রদত্ত (Consent) ডিক্রির বিরুদ্ধে আপিলের বিধান কী?

(ক) সবসময় আপিল চলবে   (খ) আপিল চলবে না   (গ) শুধু লিভ নিয়ে আপিল চলবে   (ঘ) শুধু রিভিউ চলবে

উত্তর: (খ) আপিল চলবে না

ব্যাখ্যা: ৯৬(৩) ধারা অনুযায়ী পক্ষগণের সম্মতিতে প্রদত্ত ডিক্রির (Consent Decree) বিরুদ্ধে আপিল চলে না, কারণ পক্ষগণ নিজেরাই তাতে সম্মত হয়েছিলেন।

২০১২ বার কাউন্সিল

দেওয়ানি কার্যবিধির ১৫১ ধারায় আদালতের ক্ষমতাকে কী বলা হয়?

(ক) বিবেচনামূলক ক্ষমতা   (খ) আপিলীয় ক্ষমতা   (গ) সহজাত ক্ষমতা   (ঘ) রিভিশনাল ক্ষমতা

উত্তর: (গ) সহজাত ক্ষমতা

ব্যাখ্যা: ১৫১ ধারা আদালতের সহজাত ক্ষমতা (Inherent Power) সংরক্ষণ করে — ন্যায়বিচারের স্বার্থে বা প্রক্রিয়ার অপব্যবহার রোধে এই ক্ষমতা প্রয়োগ করা যায়।

২০১২ বার কাউন্সিল

দেওয়ানি কার্যবিধি অনুসারে 'প্লিডিংস' (Pleadings) বলতে কী বোঝায়?

(ক) শুধু আরজি   (খ) শুধু জবাব   (গ) আরজি ও জবাব উভয়   (ঘ) সাক্ষ্য প্রমাণ

উত্তর: (গ) আরজি ও জবাব উভয়

ব্যাখ্যা: আদেশ ৬ অনুযায়ী 'Pleadings' বলতে আরজি (Plaint) ও লিখিত জবাব (Written Statement) উভয়কেই বোঝায়।

২০১২ বার কাউন্সিল

আরজিতে মামলার কারণ (Cause of Action) উল্লেখ না থাকলে আদালতের করণীয় কী?

(ক) আরজি ফেরত   (খ) আরজি নাকচ   (গ) মামলা খারিজ   (ঘ) নোটিশ জারি

উত্তর: (খ) আরজি নাকচ

ব্যাখ্যা: আদেশ ৭ বিধি ১১ অনুযায়ী মামলার কারণ উল্লেখ না থাকলে আরজি নাকচ (Rejection of Plaint) করা হয়।

২০১২ বার কাউন্সিল

লিখিত জবাবে আরজির কোনো বক্তব্য সুনির্দিষ্টভাবে অস্বীকার না করলে তার ফল কী?

(ক) তা স্বয়ংক্রিয়ভাবে স্বীকৃত বলে গণ্য হবে   (খ) আরজি নাকচ হবে   (গ) মামলা খারিজ হবে   (ঘ) কোনো প্রভাব নেই

উত্তর: (ক) তা স্বয়ংক্রিয়ভাবে স্বীকৃত বলে গণ্য হবে

ব্যাখ্যা: আদেশ ৮ বিধি ৫ অনুযায়ী লিখিত জবাবে আরজির কোনো বক্তব্য সুনির্দিষ্টভাবে অস্বীকার না করা হলে তা স্বীকৃত বলে গণ্য হয়।

২০১২ বার কাউন্সিল

বিরোধীয় স্থাবর সম্পত্তি দুটি ভিন্ন জেলার এখতিয়ারে অবস্থিত হলে মামলা কোথায় দায়ের করা যায়?

(ক) যেকোনো একটি জেলার আদালতে   (খ) শুধু হাইকোর্ট বিভাগে   (গ) উভয় জেলায় পৃথকভাবে   (ঘ) শুধু প্রধান কার্যালয়ের জেলায়

উত্তর: (ক) যেকোনো একটি জেলার আদালতে

ব্যাখ্যা: কার্যবিধির ১৭ ধারা অনুযায়ী স্থাবর সম্পত্তি একাধিক আদালতের এখতিয়ারে অবস্থিত হলে বাদী তার পছন্দমতো যেকোনো একটি আদালতে মামলা দায়ের করতে পারেন।

২০২০ বার কাউন্সিল

রিভিশন মামলায় হাইকোর্ট বিভাগ কর্তৃক বহাল ডিক্রি জারির দরখাস্ত কোথায় করতে হয়?

(ক) হাইকোর্ট বিভাগে   (খ) ডিক্রি প্রদানকারী মূল আদালতে   (গ) জেলা জজ আদালতে   (ঘ) আপিল আদালতে

উত্তর: (খ) ডিক্রি প্রদানকারী মূল আদালতে

ব্যাখ্যা: কার্যবিধি অনুযায়ী ডিক্রি জারি সর্বদা যে আদালত ডিক্রি প্রদান করেছিল সেই মূল আদালতেই করতে হয়, উচ্চতর আদালতে বহাল হলেও।

২০২৩ বার কাউন্সিল

দেওয়ানি আদালত কোন ক্ষেত্রে সহজাত ক্ষমতা প্রয়োগ করতে পারে না?

(ক) মিথ্যা মামলা রোধে   (খ) প্রক্রিয়ার অপব্যবহার রোধে   (গ) তামাদির বাধা অতিক্রম করতে   (ঘ) ন্যায়বিচার নিশ্চিতে

উত্তর: (গ) তামাদির বাধা অতিক্রম করতে

ব্যাখ্যা: ১৫১ ধারার সহজাত ক্ষমতা ন্যায়বিচার নিশ্চিতকরণে ব্যবহৃত হয়, কিন্তু তামাদি আইনের স্পষ্ট বাধা অতিক্রম করার জন্য এই ক্ষমতা প্রয়োগ করা যায় না।

অনুশীলনী — ১১১টি প্রশ্ন

নিচের প্রশ্নগুলো অনুশীলন করে নিজের প্রস্তুতি যাচাই করুন। প্রতিটি প্রশ্নের সাথে সঠিক উত্তর ও ব্যাখ্যা দেওয়া আছে।

১. দেওয়ানি কার্যবিধির ৯ ধারা অনুযায়ী দেওয়ানি আদালতের এখতিয়ার সম্পর্কে সঠিক নিয়ম কোনটি?

(ক) শুধু আইনে সুনির্দিষ্টভাবে উল্লেখিত মামলাই দেওয়ানি আদালত বিচার করবে (খ) আইন দ্বারা বারিত না হলে সকল দেওয়ানি প্রকৃতির মামলা বিচার করার এখতিয়ার দেওয়ানি আদালতের থাকবে (গ) ফৌজদারি মামলাও দেওয়ানি আদালত বিচার করতে পারবে (ঘ) শুধুমাত্র জেলা জজ আদালতের এই এখতিয়ার থাকবে

সঠিক উত্তর: (খ) আইন দ্বারা বারিত না হলে সকল দেওয়ানি প্রকৃতির মামলা বিচার করার এখতিয়ার দেওয়ানি আদালতের থাকবে

ব্যাখ্যা: কার্যবিধির ৯ ধারা অনুযায়ী, প্রকাশ্য বা প্রচ্ছন্নভাবে বারিত না হলে দেওয়ানি প্রকৃতির সকল মামলা বিচার করার এখতিয়ার দেওয়ানি আদালতের রয়েছে।

২. দেওয়ানি কার্যবিধির ১১ ধারায় বর্ণিত নীতিটির নাম কী?

(ক) রেস জুডিকাটা (Res Judicata) (খ) এস্টোপেল (গ) রেস সাব জুডিস (ঘ) ক্রোক

সঠিক উত্তর: (ক) রেস জুডিকাটা (Res Judicata)

ব্যাখ্যা: ১১ ধারায় রেস জুডিকাটা নীতি বর্ণিত হয়েছে — একই বিষয়বস্তু ও পক্ষের মধ্যে পূর্বে চূড়ান্তভাবে নিষ্পত্তিকৃত বিষয় পুনরায় বিচারযোগ্য নয়।

৩. দেওয়ানি কার্যবিধির ১০ ধারায় কোন নীতি বর্ণিত হয়েছে?

(ক) রেস জুডিকাটা (খ) রেস সাব জুডিস (মামলা মুলতবি রাখা) (গ) এস্টোপেল (ঘ) সমন জারি

সঠিক উত্তর: (খ) রেস সাব জুডিস (মামলা মুলতবি রাখা)

ব্যাখ্যা: ১০ ধারা অনুযায়ী একই পক্ষের মধ্যে একই বিষয়ে পূর্বে দায়েরকৃত মামলা বিচারাধীন থাকলে পরবর্তী মামলার কার্যক্রম মুলতবি রাখতে হয় (Res Sub Judice)।

৪. বাদীর আরজি কোন আদেশ ও বিধি অনুযায়ী প্রস্তুত করতে হয়?

(ক) আদেশ ৬ (খ) আদেশ ৭ (গ) আদেশ ৮ (ঘ) আদেশ ৫

সঠিক উত্তর: (খ) আদেশ ৭

ব্যাখ্যা: কার্যবিধির আদেশ ৭ এ আরজি (Plaint) সংক্রান্ত বিধান রয়েছে।

৫. বিবাদীর লিখিত জবাব কোন আদেশে বর্ণিত আছে?

(ক) আদেশ ৭ (খ) আদেশ ৮ (গ) আদেশ ৯ (ঘ) আদেশ ৬

সঠিক উত্তর: (খ) আদেশ ৮

ব্যাখ্যা: আদেশ ৮-এ লিখিত জবাব (Written Statement) সংক্রান্ত বিধান রয়েছে।

৬. সমন জারি সংক্রান্ত বিধান কোন আদেশে আছে?

(ক) আদেশ ৪ (খ) আদেশ ৫ (গ) আদেশ ৬ (ঘ) আদেশ ৯

সঠিক উত্তর: (খ) আদেশ ৫

ব্যাখ্যা: কার্যবিধির আদেশ ৫-এ বিবাদীর প্রতি সমন জারি সংক্রান্ত বিধান রয়েছে।

৭. পক্ষগণের অনুপস্থিতির পরিণতি (Consequence of non-appearance) সংক্রান্ত বিধান কোন আদেশে আছে?

(ক) আদেশ ৮ (খ) আদেশ ৯ (গ) আদেশ ১০ (ঘ) আদেশ ১১

সঠিক উত্তর: (খ) আদেশ ৯

ব্যাখ্যা: আদেশ ৯-এ মামলার শুনানির দিন পক্ষগণের অনুপস্থিতির ফলাফল সংক্রান্ত বিধান রয়েছে (যেমন একতরফা ডিক্রি বা মামলা খারিজ)।

৮. অস্থায়ী নিষেধাজ্ঞা (Temporary Injunction) সংক্রান্ত বিধান কোন আদেশে আছে?

(ক) আদেশ ৩৮ (খ) আদেশ ৩৯ (গ) আদেশ ৪০ (ঘ) আদেশ ৪১

সঠিক উত্তর: (খ) আদেশ ৩৯

ব্যাখ্যা: কার্যবিধির আদেশ ৩৯-এ অস্থায়ী নিষেধাজ্ঞা ও গ্রেফতার সংক্রান্ত বিধান রয়েছে।

৯. রায়ের পূর্বে ক্রোক (Attachment Before Judgment) সংক্রান্ত বিধান কোন আদেশে আছে?

(ক) আদেশ ৩৭ (খ) আদেশ ৩৮ (গ) আদেশ ৩৯ (ঘ) আদেশ ৪০

সঠিক উত্তর: (খ) আদেশ ৩৮

ব্যাখ্যা: আদেশ ৩৮-এ রায়ের পূর্বে গ্রেফতার ও সম্পত্তি ক্রোক সংক্রান্ত বিধান রয়েছে।

১০. রিসিভার নিয়োগ সংক্রান্ত বিধান কোন আদেশে আছে?

(ক) আদেশ ৩৯ (খ) আদেশ ৪০ (গ) আদেশ ৪১ (ঘ) আদেশ ৪২

সঠিক উত্তর: (খ) আদেশ ৪০

ব্যাখ্যা: আদেশ ৪০-এ রিসিভার (Receiver) নিয়োগ সংক্রান্ত বিধান রয়েছে।

১১. আপিল (Appeal from Original Decree) সংক্রান্ত মূল বিধান কোন আদেশে আছে?

(ক) আদেশ ৪০ (খ) আদেশ ৪১ (গ) আদেশ ৪২ (ঘ) আদেশ ৪৩

সঠিক উত্তর: (খ) আদেশ ৪১

ব্যাখ্যা: আদেশ ৪১-এ মূল ডিক্রির বিরুদ্ধে আপিল সংক্রান্ত বিধান রয়েছে।

১২. দ্বিতীয় আপিল (Second Appeal) সংক্রান্ত বিধান কোন আদেশে আছে?

(ক) আদেশ ৪১ (খ) আদেশ ৪২ (গ) আদেশ ৪৩ (ঘ) আদেশ ৪৭

সঠিক উত্তর: (খ) আদেশ ৪২

ব্যাখ্যা: আদেশ ৪২-এ দ্বিতীয় আপিল সংক্রান্ত বিধান রয়েছে, যা আদেশ ৪১-এর বিধানসমূহ যথাসম্ভব প্রযোজ্য করে।

১৩. রিভিউ (Review) সংক্রান্ত বিধান কোন আদেশে আছে?

(ক) আদেশ ৪৫ (খ) আদেশ ৪৬ (গ) আদেশ ৪৭ (ঘ) আদেশ ৪৮

সঠিক উত্তর: (গ) আদেশ ৪৭

ব্যাখ্যা: আদেশ ৪৭-এ রায় পুনর্বিবেচনা (Review) সংক্রান্ত বিধান রয়েছে।

১৪. ডিক্রি জারি (Execution of Decree) সংক্রান্ত মূল বিধান কোন আদেশে আছে?

(ক) আদেশ ২০ (খ) আদেশ ২১ (গ) আদেশ ২২ (ঘ) আদেশ ২৩

সঠিক উত্তর: (খ) আদেশ ২১

ব্যাখ্যা: আদেশ ২১-এ ডিক্রি জারি সংক্রান্ত বিস্তারিত বিধান রয়েছে।

১৫. মামলা চলাকালে কোনো পক্ষের মৃত্যু হলে করণীয় কী সংক্রান্ত বিধান কোন আদেশে আছে?

(ক) আদেশ ২১ (খ) আদেশ ২২ (গ) আদেশ ২৩ (ঘ) আদেশ ২৪

সঠিক উত্তর: (খ) আদেশ ২২

ব্যাখ্যা: আদেশ ২২-এ মামলা চলাকালীন পক্ষের মৃত্যু, বিবাহ বা দেউলিয়াত্বের ক্ষেত্রে করণীয় (Devolution of interest) সংক্রান্ত বিধান রয়েছে।

১৬. মামলা প্রত্যাহার ও আপোষ মীমাংসা (Withdrawal and Adjustment of Suits) সংক্রান্ত বিধান কোন আদেশে আছে?

(ক) আদেশ ২২ (খ) আদেশ ২৩ (গ) আদেশ ২৪ (ঘ) আদেশ ২৫

সঠিক উত্তর: (খ) আদেশ ২৩

ব্যাখ্যা: আদেশ ২৩-এ মামলা প্রত্যাহার ও আপোষ মীমাংসা সংক্রান্ত বিধান রয়েছে।

১৭. গণ্য সাক্ষ্য (Commission for Examination of Witnesses) সংক্রান্ত বিধান কোন আদেশে আছে?

(ক) আদেশ ২৫ (খ) আদেশ ২৬ (গ) আদেশ ২৭ (ঘ) আদেশ ২৮

সঠিক উত্তর: (খ) আদেশ ২৬

ব্যাখ্যা: আদেশ ২৬-এ কমিশনের মাধ্যমে সাক্ষ্য গ্রহণ সংক্রান্ত বিধান রয়েছে।

১৮. আপোষ ডিক্রি (Consent Decree)-এর বিরুদ্ধে আপিলের বিধান কী?

(ক) আপিল করা যাবে না (খ) শুধু হাইকোর্টে আপিল করা যাবে (গ) লিভ নিয়ে আপিল করা যাবে (ঘ) আপিল আবশ্যিক

সঠিক উত্তর: (ক) আপিল করা যাবে না

ব্যাখ্যা: ৯৬(৩) ধারা অনুযায়ী পক্ষগণের সম্মতিতে প্রদত্ত ডিক্রির (Consent Decree) বিরুদ্ধে আপিল চলে না।

১৯. দেওয়ানি কার্যবিধির ১১৫ ধারায় কোন প্রতিকারের বিধান আছে?

(ক) আপিল (খ) রিভিশন (গ) রিভিউ (ঘ) রেফারেন্স

সঠিক উত্তর: (খ) রিভিশন

ব্যাখ্যা: ১১৫ ধারা অনুযায়ী হাইকোর্ট বিভাগ অধস্তন আদালতের এখতিয়ার-সংক্রান্ত ভুলের ক্ষেত্রে রিভিশনাল ক্ষমতা প্রয়োগ করতে পারে।

২০. রেফারেন্স (Reference) সংক্রান্ত বিধান কোন ধারায় আছে?

(ক) ধারা ১১৩ (খ) ধারা ১১৪ (গ) ধারা ১১৫ (ঘ) ধারা ১৪৪

সঠিক উত্তর: (ক) ধারা ১১৩

ব্যাখ্যা: ১১৩ ধারা অনুযায়ী অধস্তন আদালত আইনগত জটিল প্রশ্নে হাইকোর্ট বিভাগের অভিমতের জন্য মামলা রেফার করতে পারে।

২১. পূর্বাবস্থায় প্রত্যর্পণ (Restitution) সংক্রান্ত বিধান কোন ধারায় আছে?

(ক) ধারা ১৪৪ (খ) ধারা ১৪৫ (গ) ধারা ১৪৬ (ঘ) ধারা ১৪৭

সঠিক উত্তর: (ক) ধারা ১৪৪

ব্যাখ্যা: ১৪৪ ধারা অনুযায়ী ডিক্রি রদ বা পরিবর্তিত হলে আদালত পক্ষগণকে পূর্বাবস্থায় প্রত্যর্পণ (Restitution) করাতে পারেন।

২২. মামলার মূল্যায়ন (Valuation of Suit) মূলত কী নির্ধারণের জন্য প্রয়োজন?

(ক) আদালতের আর্থিক এখতিয়ার (Pecuniary Jurisdiction) (খ) আদালতের স্থানীয় এখতিয়ার (গ) কোর্ট ফি রেয়াত (ঘ) তামাদির মেয়াদ

সঠিক উত্তর: (ক) আদালতের আর্থিক এখতিয়ার (Pecuniary Jurisdiction)

ব্যাখ্যা: মামলার মূল্যায়ন প্রধানত আদালতের আর্থিক এখতিয়ার নির্ধারণ ও প্রযোজ্য কোর্ট ফি নির্ণয়ের জন্য প্রয়োজন হয়।

২৩. Set-off (পাল্টা দাবি সমন্বয়) কোন ধরনের মামলায় দাবি করা যায়?

(ক) শুধু টাকা আদায়ের মামলায় (খ) শুধু স্থাবর সম্পত্তির মামলায় (গ) যেকোনো প্রকৃতির মামলায় (ঘ) শুধু পারিবারিক মামলায়

সঠিক উত্তর: (ক) শুধু টাকা আদায়ের মামলায়

ব্যাখ্যা: আদেশ ৮ বিধি ৬ অনুযায়ী Set-off কেবল নির্দিষ্ট পরিমাণ টাকা আদায়ের মামলায় বিবাদী দাবি করতে পারেন।

২৪. আরজিতে মামলার কারণ (Cause of Action) উল্লেখ না থাকলে আদালতের করণীয় কী?

(ক) আরজি নাকচ করবেন (খ) আরজি ফেরত দেবেন (গ) মামলা খারিজ করবেন (ঘ) বিবাদীকে নোটিশ দেবেন

সঠিক উত্তর: (ক) আরজি নাকচ করবেন

ব্যাখ্যা: আদেশ ৭ বিধি ১১ অনুযায়ী মামলার কারণ উল্লেখ না থাকলে আরজি নাকচ (Rejection of Plaint) করা হয়।

২৫. ভুল আদালতে আরজি দাখিল করা হলে আদালতের করণীয় কী?

(ক) আরজি নাকচ করবেন (খ) আরজি ফেরত দেবেন যথাযথ আদালতে দাখিলের জন্য (গ) মামলা খারিজ করবেন (ঘ) স্থানান্তর আদেশ দেবেন

সঠিক উত্তর: (খ) আরজি ফেরত দেবেন যথাযথ আদালতে দাখিলের জন্য

ব্যাখ্যা: আদেশ ৭ বিধি ১০ অনুযায়ী এখতিয়ারবিহীন আদালতে আরজি দাখিল হলে তা যথাযথ আদালতে দাখিলের জন্য ফেরত (Return of Plaint) দেওয়া হয়।

২৬. লিখিত জবাবে আরজির কোনো বক্তব্য সুনির্দিষ্টভাবে অস্বীকার না করলে তার আইনগত ফল কী?

(ক) তা স্বয়ংক্রিয়ভাবে স্বীকৃত বলে গণ্য হবে (খ) আরজি নাকচ হবে (গ) মামলা খারিজ হবে (ঘ) কোনো প্রভাব পড়বে না

সঠিক উত্তর: (ক) তা স্বয়ংক্রিয়ভাবে স্বীকৃত বলে গণ্য হবে

ব্যাখ্যা: আদেশ ৮ বিধি ৫ অনুযায়ী লিখিত জবাবে আরজির কোনো বক্তব্য সুনির্দিষ্টভাবে অস্বীকার না করা হলে তা স্বীকৃত বলে গণ্য হয়।

২৭. বিবাদী নির্ধারিত সময়ে লিখিত জবাব দাখিলে ব্যর্থ হলে সাধারণত কী হয়?

(ক) মামলা খারিজ হয়ে যায় (খ) একতরফা ডিক্রি হতে পারে (গ) আরজি নাকচ হয়ে যায় (ঘ) জরিমানা আরোপ হয়

সঠিক উত্তর: (খ) একতরফা ডিক্রি হতে পারে

ব্যাখ্যা: নির্ধারিত সময়ে জবাব দাখিলে ব্যর্থ হলে আদালত বিবাদীর বিরুদ্ধে একতরফা (Ex-parte) কার্যক্রম গ্রহণ করতে পারেন।

২৮. Pleadings (আরজি বা জবাব) সংশোধন সংক্রান্ত বিধান কোথায় আছে?

(ক) আদেশ ৬ বিধি ১৭ (খ) আদেশ ৭ বিধি ১১ (গ) আদেশ ৮ বিধি ৫ (ঘ) আদেশ ৯ বিধি ২

সঠিক উত্তর: (ক) আদেশ ৬ বিধি ১৭

ব্যাখ্যা: আদেশ ৬ বিধি ১৭ অনুযায়ী আদালত মামলার যেকোনো পর্যায়ে ন্যায়বিচারের স্বার্থে Pleadings সংশোধনের অনুমতি দিতে পারেন।

২৯. আরজিতে অ্যাডভোকেটের মাধ্যমে দাখিলকৃত মামলায় স্বাক্ষর সাধারণত কাদের থাকা প্রয়োজন?

(ক) শুধু অ্যাডভোকেটের (খ) বাদী এবং অ্যাডভোকেট উভয়ের (গ) শুধু আদালতের (ঘ) শুধু সাক্ষীর

সঠিক উত্তর: (খ) বাদী এবং অ্যাডভোকেট উভয়ের

ব্যাখ্যা: আদেশ ৬ বিধি ১৪ অনুযায়ী আরজি বা জবাবে বাদী/বিবাদী বা তার যথাযথ ক্ষমতাপ্রাপ্ত প্রতিনিধি এবং অ্যাডভোকেটের স্বাক্ষর থাকতে হয়।

৩০. বিরোধীয় স্থাবর সম্পত্তি দুটি ভিন্ন আদালতের এখতিয়ারে অবস্থিত হলে মামলা কোথায় দায়ের করা যায়?

(ক) যেকোনো একটি আদালতে (খ) শুধুমাত্র হাইকোর্টে (গ) উভয় আদালতে যৌথভাবে (ঘ) শুধু প্রধান কার্যালয়ের আদালতে

সঠিক উত্তর: (ক) যেকোনো একটি আদালতে

ব্যাখ্যা: কার্যবিধির ১৭ ধারা অনুযায়ী স্থাবর সম্পত্তি একাধিক আদালতের এখতিয়ারে অবস্থিত হলে বাদী তার পছন্দমতো যেকোনো একটি আদালতে মামলা দায়ের করতে পারেন।

৩১. এক জেলার আদালত থেকে অন্য জেলার আদালতে দেওয়ানি মামলা স্থানান্তরের ক্ষমতা কোন কর্তৃপক্ষের?

(ক) জেলা জজ (খ) হাইকোর্ট বিভাগ (গ) দায়রা জজ (ঘ) সহকারী জজ

সঠিক উত্তর: (খ) হাইকোর্ট বিভাগ

ব্যাখ্যা: কার্যবিধির ২৪ ধারা অনুযায়ী এক জেলার আদালত থেকে অন্য জেলার আদালতে মামলা স্থানান্তরের সাধারণ ক্ষমতা হাইকোর্ট বিভাগের।

৩২. রিভিশন মামলায় হাইকোর্ট বিভাগ কর্তৃক বহাল ডিক্রি জারির দরখাস্ত কোথায় করতে হয়?

(ক) হাইকোর্ট বিভাগে (খ) ডিক্রি প্রদানকারী মূল আদালতে (গ) জেলা জজ আদালতে (ঘ) আপিল আদালতে

সঠিক উত্তর: (খ) ডিক্রি প্রদানকারী মূল আদালতে

ব্যাখ্যা: কার্যবিধি অনুযায়ী ডিক্রি জারি সর্বদা যে আদালত ডিক্রি প্রদান করেছিল সেই মূল আদালতেই করতে হয়, উচ্চতর আদালতে বহাল হলেও।

৩৩. দেওয়ানি কারাগারে গ্রেফতার/আটক সংক্রান্ত বিধান কোন আদেশে আছে?

(ক) আদেশ ২০ (খ) আদেশ ২১ (গ) আদেশ ৩৮ (ঘ) আদেশ ৩৯

সঠিক উত্তর: (ঘ) আদেশ ৩৯

ব্যাখ্যা: আদেশ ৩৯ বিধি ২(৩) অনুযায়ী অস্থায়ী নিষেধাজ্ঞা লঙ্ঘনের ক্ষেত্রে দেওয়ানি কারাগারে সর্বোচ্চ ৬ মাস আটকের বিধান রয়েছে।

৩৪. অস্থায়ী নিষেধাজ্ঞার আদেশের বিরুদ্ধে কোন প্রতিকার পাওয়া যায়?

(ক) আপিল (খ) রিভিউ (গ) রেফারেন্স (ঘ) কোনোটিই নয়

সঠিক উত্তর: (ক) আপিল

ব্যাখ্যা: আদেশ ৪৩ বিধি ১ অনুযায়ী অস্থায়ী নিষেধাজ্ঞার আদেশের বিরুদ্ধে আপিল দায়ের করা যায়।

৩৫. দলিল বাতিলের মামলায় বাদী কোন শর্তে মামলা দায়ের করতে পারেন?

(ক) শুধু দলিলের পক্ষ হলে (খ) দলিলের পক্ষ না হলেও, দলিলটি তার অধিকার ক্ষুণ্ন করলে (গ) শুধু নিবন্ধক অফিসে (ঘ) শুধু আদালতের অনুমতি নিয়ে

সঠিক উত্তর: (খ) দলিলের পক্ষ না হলেও, দলিলটি তার অধিকার ক্ষুণ্ন করলে

ব্যাখ্যা: নির্দিষ্ট প্রতিকার আইন ও প্রচলিত প্রথা অনুযায়ী, কোনো দলিল কারো স্বার্থের হানিকর হলে সে দলিলের আনুষ্ঠানিক পক্ষ না হয়েও তা বাতিলের মামলা করতে পারেন।

৩৬. দখলহীন ব্যক্তি স্থাবর সম্পত্তির স্বত্ব সংক্রান্ত প্রতিকার চাইলে সাধারণত কী মামলা করতে হয়?

(ক) শুধু দখল উদ্ধারের মামলা (খ) স্বত্ব ঘোষণা ও দখল উদ্ধারের মামলা (গ) শুধু ক্ষতিপূরণের মামলা (ঘ) নিষেধাজ্ঞার মামলা

সঠিক উত্তর: (খ) স্বত্ব ঘোষণা ও দখল উদ্ধারের মামলা

ব্যাখ্যা: সম্পত্তিতে দখল না থাকলে শুধু নিষেধাজ্ঞা যথেষ্ট নয়; স্বত্ব ঘোষণাসহ দখল উদ্ধারের মামলা করতে হয়।

৩৭. স্থায়ী নিষেধাজ্ঞার ডিক্রি প্রদান আদালতের কী প্রকৃতির ক্ষমতা?

(ক) বাধ্যতামূলক (Mandatory) (খ) বিবেচনামূলক (Discretionary) (গ) স্বয়ংক্রিয় (Automatic) (ঘ) শর্তহীন

সঠিক উত্তর: (খ) বিবেচনামূলক (Discretionary)

ব্যাখ্যা: নির্দিষ্ট প্রতিকার আইন অনুযায়ী স্থায়ী নিষেধাজ্ঞা মঞ্জুর করা আদালতের বিবেচনামূলক (Discretionary) ক্ষমতা, বাধ্যতামূলক অধিকার নয়।

৩৮. দেওয়ানি কার্যবিধি অনুসারে আপিল দায়েরের পূর্বে ডিক্রি স্থগিতের দরখাস্ত সাধারণত কোথায় দাখিল করতে হয়?

(ক) আপিল আদালতে (খ) ডিক্রি প্রদানকারী আদালতে (গ) হাইকোর্ট বিভাগে (ঘ) জেলা প্রশাসকের কাছে

সঠিক উত্তর: (খ) ডিক্রি প্রদানকারী আদালতে

ব্যাখ্যা: আদেশ ৪১ বিধি ৫ অনুযায়ী ডিক্রি কার্যকর স্থগিতের দরখাস্ত সাধারণত ডিক্রি প্রদানকারী আদালতে দাখিল করতে হয়, প্রয়োজনে আপিল আদালতেও করা যায়।

৩৯. রিভিউ দরখাস্ত না-মঞ্জুরের আদেশের বিরুদ্ধে কোন প্রতিকার পাওয়া যায়?

(ক) আপিল (খ) রিভিশন (গ) রিভিউ পুনরায় (ঘ) কোনো প্রতিকার নেই

সঠিক উত্তর: (খ) রিভিশন

ব্যাখ্যা: রিভিউ না-মঞ্জুরের আদেশের বিরুদ্ধে সংক্ষুব্ধ পক্ষ হাইকোর্ট বিভাগে রিভিশন দায়ের করতে পারেন।

৪০. একতরফা ডিক্রির বিরুদ্ধে সংক্ষুব্ধ বিবাদীর সাধারণ প্রতিকার কী?

(ক) একতরফা ডিক্রি রদের দরখাস্ত অথবা আপিল (খ) শুধু রিভিউ (গ) শুধু রিট (ঘ) কোনো প্রতিকার নেই

সঠিক উত্তর: (ক) একতরফা ডিক্রি রদের দরখাস্ত অথবা আপিল

ব্যাখ্যা: আদেশ ৯ বিধি ১৩ অনুযায়ী একতরফা ডিক্রি রদের দরখাস্ত করা যায়, অথবা কার্যবিধি অনুযায়ী আপিলও দায়ের করা যায়।

৪১. জেলা জজের আপিল এখতিয়ারে প্রদত্ত আদেশের বিরুদ্ধে সাধারণ প্রতিকার কী?

(ক) হাইকোর্ট বিভাগে রিভিশন (খ) পুনরায় জেলা জজের কাছে আপিল (গ) সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগে সরাসরি আপিল (ঘ) কোনো প্রতিকার নেই

সঠিক উত্তর: (ক) হাইকোর্ট বিভাগে রিভিশন

ব্যাখ্যা: জেলা জজ তার আপিল এখতিয়ারে প্রদত্ত আদেশের বিরুদ্ধে সংক্ষুব্ধ পক্ষ হাইকোর্ট বিভাগে রিভিশন দায়ের করতে পারেন।

৪২. রিভিশনের এখতিয়ার প্রয়োগের প্রধান কারণ কোনটি নয়?

(ক) এখতিয়ার প্রয়োগে ভুল (খ) এখতিয়ার প্রয়োগে ব্যর্থতা (গ) বেআইনিভাবে এখতিয়ার প্রয়োগ (ঘ) সাক্ষ্যের মূল্যায়নে ভিন্নমত

সঠিক উত্তর: (ঘ) সাক্ষ্যের মূল্যায়নে ভিন্নমত

ব্যাখ্যা: ১১৫ ধারা অনুযায়ী রিভিশন কেবল এখতিয়ার-সংক্রান্ত ভুলের ক্ষেত্রে প্রযোজ্য; সাক্ষ্যের পুনর্মূল্যায়ন আপিলের বিষয়, রিভিশনের নয়।

৪৩. দেওয়ানি মামলায় আরজিতে বাদীর দখলে না থাকা দলিলের ক্ষেত্রে বাদীর করণীয় কী?

(ক) সেসব দলিলের তালিকা ও দখলদারের নাম দাখিল করতে হবে (খ) দলিল ছাড়াই মামলা চলবে না (গ) শুধু মৌখিক বিবরণ দিলেই চলবে (ঘ) আদালতকে জানানোর প্রয়োজন নেই

সঠিক উত্তর: (ক) সেসব দলিলের তালিকা ও দখলদারের নাম দাখিল করতে হবে

ব্যাখ্যা: আদেশ ৭ বিধি ১৪ অনুযায়ী বাদীর দখলে না থাকা সমর্থক দলিলের তালিকা এবং সেগুলো কার দখলে আছে তা আরজির সাথে দাখিল করতে হয়।

৪৪. লিখিত জবাবের সত্যাখ্যান (Verification) অংশে সাধারণত কার স্বাক্ষর থাকে?

(ক) শুধু অ্যাডভোকেটের (খ) বিষয়ে ব্যক্তিগত জ্ঞানসম্পন্ন (ওয়াকিফহাল) ব্যক্তির (গ) শুধু আদালতের কর্মকর্তার (ঘ) শুধু সাক্ষীর

সঠিক উত্তর: (খ) বিষয়ে ব্যক্তিগত জ্ঞানসম্পন্ন (ওয়াকিফহাল) ব্যক্তির

ব্যাখ্যা: আদেশ ৬ বিধি ১৫ অনুযায়ী Verification অংশে বিষয়বস্তু সম্পর্কে ব্যক্তিগত জ্ঞানসম্পন্ন ব্যক্তির স্বাক্ষর থাকতে হয়।

৪৫. দেওয়ানি মামলা চলাকালে কোনো পক্ষ মারা গেলে এবং যথাসময়ে উত্তরাধিকারী প্রতিস্থাপন না করা হলে কী হতে পারে?

(ক) মামলা বাতিল (Abate) হয়ে যেতে পারে (খ) মামলা স্বয়ংক্রিয়ভাবে স্থগিত থাকে (গ) মামলা খারিজ হয়ে যায় (ঘ) আদালত জরিমানা করেন

সঠিক উত্তর: (ক) মামলা বাতিল (Abate) হয়ে যেতে পারে

ব্যাখ্যা: আদেশ ২২ অনুযায়ী নির্ধারিত সময়ের মধ্যে মৃত পক্ষের স্থলাভিষিক্ত না করা হলে মামলাটি বাতিল (Abatement) হয়ে যেতে পারে।

৪৬. দেওয়ানি কার্যবিধিতে 'Decree' ও 'Order'-এর মধ্যে মূল পার্থক্য কী?

(ক) ডিক্রি চূড়ান্তভাবে অধিকার নির্ধারণ করে, আদেশ সাধারণত পদ্ধতিগত বিষয় নিয়ে (খ) আদেশ সবসময় আপিলযোগ্য, ডিক্রি নয় (গ) উভয়ই একই জিনিস (ঘ) ডিক্রি শুধু ফৌজদারি মামলায় প্রযোজ্য

সঠিক উত্তর: (ক) ডিক্রি চূড়ান্তভাবে অধিকার নির্ধারণ করে, আদেশ সাধারণত পদ্ধতিগত বিষয় নিয়ে

ব্যাখ্যা: ডিক্রি হলো মামলার পক্ষগণের অধিকার নিয়ে চূড়ান্ত ও সুস্পষ্ট সিদ্ধান্ত, অন্যদিকে আদেশ সাধারণত পদ্ধতিগত বা অন্তর্বর্তীকালীন বিষয়ে দেওয়া হয়।

৪৭. প্রাথমিক ডিক্রি (Preliminary Decree) ও চূড়ান্ত ডিক্রি (Final Decree)-এর পার্থক্য কী?

(ক) প্রাথমিক ডিক্রি মামলার আরও কার্যক্রম প্রয়োজন এমন বিষয়ে, চূড়ান্ত ডিক্রি মামলা সম্পূর্ণরূপে নিষ্পত্তি করে (খ) উভয়ই একই সময়ে প্রদান করা হয় (গ) প্রাথমিক ডিক্রির বিরুদ্ধে আপিল করা যায় না (ঘ) চূড়ান্ত ডিক্রি সবসময় প্রথমে প্রদান করা হয়

সঠিক উত্তর: (ক) প্রাথমিক ডিক্রি মামলার আরও কার্যক্রম প্রয়োজন এমন বিষয়ে, চূড়ান্ত ডিক্রি মামলা সম্পূর্ণরূপে নিষ্পত্তি করে

ব্যাখ্যা: প্রাথমিক ডিক্রি এমন বিষয়ে দেওয়া হয় যেখানে আরও কার্যক্রম (যেমন হিসাব-নিকাশ) প্রয়োজন হয়; পরে চূড়ান্ত ডিক্রির মাধ্যমে মামলা সম্পূর্ণ নিষ্পত্তি হয় (যেমন—ভাগবাটোয়ারা মামলা)।

৪৮. দেওয়ানি কার্যবিধি অনুযায়ী কোর্ট ফি সংক্রান্ত ঘাটতি থাকলে আরজির কী পরিণতি হতে পারে?

(ক) নির্ধারিত সময়ে ঘাটতি পূরণ না করলে আরজি নাকচ হতে পারে (খ) মামলা স্বয়ংক্রিয়ভাবে খারিজ হয়ে যায় (গ) কোনো প্রভাব পড়ে না (ঘ) বিবাদীকে জরিমানা করা হয়

সঠিক উত্তর: (ক) নির্ধারিত সময়ে ঘাটতি পূরণ না করলে আরজি নাকচ হতে পারে

ব্যাখ্যা: আদেশ ৭ বিধি ১১(গ) অনুযায়ী নির্ধারিত সময়ে কোর্ট ফি ঘাটতি পূরণ না করলে আরজি নাকচ করা যায়।

৪৯. দেওয়ানি মামলায় সাক্ষ্য গ্রহণ শেষে যুক্তিতর্ক শুনানির পর আদালতের পরবর্তী ধাপ কী?

(ক) রায় প্রদান (খ) পুনরায় সাক্ষ্য গ্রহণ (গ) আপোষ প্রস্তাব (ঘ) তদন্ত প্রতিবেদন সংগ্রহ

সঠিক উত্তর: (ক) রায় প্রদান

ব্যাখ্যা: সাক্ষ্য ও যুক্তিতর্ক শুনানি সম্পন্ন হলে আদালত রায় (Judgment) প্রদান করেন, যার ভিত্তিতে ডিক্রি প্রস্তুত হয়।

৫০. এক আদালতের ডিক্রি অন্য আদালতে জারির জন্য পাঠানোকে কী বলে?

(ক) ডিক্রি স্থানান্তর (Transfer of Decree for Execution) (খ) ডিক্রি বাতিল (গ) ডিক্রি রিভিউ (ঘ) ডিক্রি সংশোধন

সঠিক উত্তর: (ক) ডিক্রি স্থানান্তর (Transfer of Decree for Execution)

ব্যাখ্যা: কার্যবিধির ৩৯ ধারা অনুযায়ী এক আদালতের ডিক্রি জারির জন্য অন্য উপযুক্ত আদালতে স্থানান্তর করা যায়, যেমন সম্পত্তি ভিন্ন জেলায় থাকলে।

৫১. ডিক্রিদার কর্তৃক জারি মামলা দায়েরের সময়সীমা সাধারণত কত বছর?

(ক) ৩ বছর (খ) ৬ বছর (গ) ১২ বছর (ঘ) ৩০ বছর

সঠিক উত্তর: (গ) ১২ বছর

ব্যাখ্যা: তামাদি আইনের বিধান অনুযায়ী ডিক্রি জারির মামলা দায়েরের সাধারণ মেয়াদ ১২ বছর।

৫২. আরজিতে একাধিক কারণ (Cause of Action) একত্রে অন্তর্ভুক্ত করাকে কী বলে?

(ক) Joinder of Causes of Action (খ) Misjoinder of Parties (গ) Splitting of Claim (ঘ) Multifariousness শুধুই দোষ

সঠিক উত্তর: (ক) Joinder of Causes of Action

ব্যাখ্যা: উপযুক্ত শর্ত পূরণ সাপেক্ষে একাধিক সংশ্লিষ্ট কারণ একই মামলায় অন্তর্ভুক্ত করাকে Joinder of Causes of Action বলে।

৫৩. দাবির খণ্ডিতকরণ (Splitting of Claim) নিষিদ্ধ করার উদ্দেশ্য কী?

(ক) একই কারণে একাধিক মামলা রোধ করা (খ) বাদীর সুবিধার্থে (গ) কোর্ট ফি বৃদ্ধি করা (ঘ) বিবাদীর অধিকার বৃদ্ধি করা

সঠিক উত্তর: (ক) একই কারণে একাধিক মামলা রোধ করা

ব্যাখ্যা: আদেশ ২ বিধি ২ অনুযায়ী একই মামলার কারণ থেকে উদ্ভূত সম্পূর্ণ দাবি একসাথে না চাইলে অবশিষ্ট অংশ পরবর্তীতে দাবি করার অধিকার হারাতে পারে — এতে মামলার বহুবিধতা রোধ হয়।

৫৪. প্রতিনিধিত্বমূলক মামলা (Representative Suit) সংক্রান্ত বিধান কোন আদেশে আছে?

(ক) আদেশ ১ (খ) আদেশ ১ বিধি ৮ (গ) আদেশ ২ (ঘ) আদেশ ৩

সঠিক উত্তর: (খ) আদেশ ১ বিধি ৮

ব্যাখ্যা: আদেশ ১ বিধি ৮ অনুযায়ী একই স্বার্থসম্পন্ন বহু ব্যক্তির পক্ষে আদালতের অনুমতিক্রমে একজন বা কয়েকজন প্রতিনিধিত্বমূলক মামলা দায়ের করতে পারেন।

৫৫. পক্ষভুক্তির অভাব বা ত্রুটি (Misjoinder/Non-joinder of Parties) থাকলে মামলার কী হয়?

(ক) সাধারণত মামলা খারিজযোগ্য নয়, আদালত সংশোধনের সুযোগ দেন (খ) মামলা স্বয়ংক্রিয়ভাবে বাতিল হয়ে যায় (গ) আরজি নাকচ হবে (ঘ) কোনো প্রতিকার নেই

সঠিক উত্তর: (ক) সাধারণত মামলা খারিজযোগ্য নয়, আদালত সংশোধনের সুযোগ দেন

ব্যাখ্যা: আদেশ ১ বিধি ৯ অনুযায়ী পক্ষভুক্তির ত্রুটির কারণে মাত্র মামলা খারিজ করা যায় না; আদালত প্রয়োজনীয় পক্ষ যুক্ত/বাদ দেওয়ার সুযোগ দেন।

৫৬. নাবালকের পক্ষে মামলা পরিচালনা করেন কে?

(ক) আদালত নিজে (খ) নেক্সট ফ্রেন্ড (Next Friend) (গ) কোনো অ্যাডভোকেট স্বতঃস্ফূর্তভাবে (ঘ) পুলিশ

সঠিক উত্তর: (খ) নেক্সট ফ্রেন্ড (Next Friend)

ব্যাখ্যা: আদেশ ৩২ অনুযায়ী নাবালকের পক্ষে তার নেক্সট ফ্রেন্ড (Next Friend) মামলা দায়ের ও পরিচালনা করেন।

৫৭. নাবালক বিবাদীর পক্ষে আদালত কাকে নিয়োগ দেন?

(ক) গার্ডিয়ান অ্যাড লিটেম (Guardian ad litem) (খ) নেক্সট ফ্রেন্ড (গ) আমমোক্তার (ঘ) রিসিভার

সঠিক উত্তর: (ক) গার্ডিয়ান অ্যাড লিটেম (Guardian ad litem)

ব্যাখ্যা: আদেশ ৩২ অনুযায়ী নাবালক বিবাদীর পক্ষে মামলা পরিচালনার জন্য আদালত একজন গার্ডিয়ান অ্যাড লিটেম নিয়োগ দেন।

৫৮. দেওয়ানি মামলায় আপোষ মীমাংসার ভিত্তিতে ডিক্রি প্রদানের জন্য কী প্রয়োজন?

(ক) আদালতের সন্তুষ্টি যে আপোষ আইনসংগত (খ) শুধু পক্ষগণের স্বাক্ষর (গ) শুধু অ্যাডভোকেটের অনুমতি (ঘ) কোনো শর্ত নেই

সঠিক উত্তর: (ক) আদালতের সন্তুষ্টি যে আপোষ আইনসংগত

ব্যাখ্যা: আদেশ ২৩ বিধি ৩ অনুযায়ী আদালত আপোষ মীমাংসার আইনসংগত ও প্রকৃত হওয়া সম্পর্কে সন্তুষ্ট হলে তার ভিত্তিতে ডিক্রি প্রদান করেন।

৫৯. মামলা প্রত্যাহারের পর নতুন করে একই বিষয়ে মামলা করতে চাইলে কী প্রয়োজন?

(ক) আদালতের পূর্বানুমতি (Liberty to file fresh suit) (খ) কোনো অনুমতির প্রয়োজন নেই (গ) শুধু নোটিশ প্রদান (ঘ) শুধু সময় বৃদ্ধির আবেদন

সঠিক উত্তর: (ক) আদালতের পূর্বানুমতি (Liberty to file fresh suit)

ব্যাখ্যা: আদেশ ২৩ বিধি ১ অনুযায়ী নতুন মামলা দায়েরের অধিকারসহ প্রত্যাহারের অনুমতি (Liberty) না নিলে পুনরায় মামলা করা যায় না।

৬০. সমন গ্রহণে অস্বীকৃতি জানালে তামিলের ফলাফল কী হতে পারে?

(ক) সমন যথাযথভাবে তামিল হয়েছে বলে গণ্য হতে পারে (খ) সমন অকার্যকর হয়ে যায় (গ) পুনরায় সমন জারি বাধ্যতামূলক (ঘ) মামলা খারিজ হয়ে যায়

সঠিক উত্তর: (ক) সমন যথাযথভাবে তামিল হয়েছে বলে গণ্য হতে পারে

ব্যাখ্যা: সমন গ্রহণে ইচ্ছাকৃত অস্বীকৃতি জানালে তা যথাযথ তামিল হয়েছে বলে গণ্য করা যায়।

৬১. বিকল্প পদ্ধতিতে সমন জারি (Substituted Service) কখন প্রযোজ্য?

(ক) সাধারণ পদ্ধতিতে তামিল সম্ভব না হলে (খ) সবসময় প্রথম পদ্ধতি হিসেবে (গ) শুধু বিদেশে বসবাসকারীর ক্ষেত্রে (ঘ) শুধু সরকারি কর্মচারীর ক্ষেত্রে

সঠিক উত্তর: (ক) সাধারণ পদ্ধতিতে তামিল সম্ভব না হলে

ব্যাখ্যা: আদেশ ৫ বিধি ২০ অনুযায়ী সাধারণ পদ্ধতিতে তামিল সম্ভব না হলে আদালত পত্রিকায় বিজ্ঞপ্তি বা প্রকাশ্য স্থানে সাঁটানোর মাধ্যমে বিকল্প পদ্ধতিতে সমন জারির নির্দেশ দিতে পারেন।

৬২. দেওয়ানি মামলার সাক্ষীকে আদালতে হাজির হতে বাধ্য করার জন্য কী জারি করা হয়?

(ক) সমন (খ) ওয়ারেন্ট (গ) নোটিশ (ঘ) পরোয়ানা

সঠিক উত্তর: (ক) সমন

ব্যাখ্যা: আদেশ ১৬ অনুযায়ী সাক্ষীকে আদালতে হাজিরের জন্য সমন (Summons to Witness) জারি করা হয়।

৬৩. দলিল দাখিলের জন্য পক্ষগণকে যে তালিকা দাখিল করতে হয় তাকে কী বলে?

(ক) List of Documents (খ) Cause List (গ) Case Diary (ঘ) Interrogatories

সঠিক উত্তর: (ক) List of Documents

ব্যাখ্যা: আদেশ ৭ বিধি ১৪ ও আদেশ ৮ বিধি ৭(ক) অনুযায়ী পক্ষগণকে নির্ভরযোগ্য দলিলের তালিকা (List of Documents) দাখিল করতে হয়।

৬৪. পরস্পরের কাছে লিখিত প্রশ্নমালা প্রেরণের মাধ্যমে তথ্য জানতে চাওয়ার প্রক্রিয়াকে কী বলে?

(ক) Interrogatories (খ) Affidavit (গ) Deposition (ঘ) Discovery of Documents

সঠিক উত্তর: (ক) Interrogatories

ব্যাখ্যা: আদেশ ১১ অনুযায়ী পক্ষগণ পরস্পরের কাছে লিখিত প্রশ্নমালা (Interrogatories) প্রেরণ করে প্রাসঙ্গিক তথ্য জানতে পারেন।

৬৫. মিথ্যা বা উৎপীড়নমূলক মামলা দায়েরের জন্য আদালত কী আরোপ করতে পারেন?

(ক) ক্ষতিপূরণমূলক খরচা (Compensatory Costs) (খ) শুধু সতর্কীকরণ (গ) ফৌজদারি মামলা (ঘ) কোনো ব্যবস্থা নেই

সঠিক উত্তর: (ক) ক্ষতিপূরণমূলক খরচা (Compensatory Costs)

ব্যাখ্যা: কার্যবিধির ৩৫ক ধারা অনুযায়ী মিথ্যা বা উৎপীড়নমূলক দাবি বা জবাব দাখিলের জন্য আদালত ক্ষতিপূরণমূলক খরচা আরোপ করতে পারেন।

৬৬. মামলার খরচা (Costs) প্রদানের সাধারণ নীতি কী?

(ক) আদালতের বিবেচনা সাপেক্ষে, সাধারণত পরাজিত পক্ষ বহন করে (খ) সবসময় সমান ভাগে বহন করতে হয় (গ) শুধু বাদী বহন করে (ঘ) সরকার বহন করে

সঠিক উত্তর: (ক) আদালতের বিবেচনা সাপেক্ষে, সাধারণত পরাজিত পক্ষ বহন করে

ব্যাখ্যা: ৩৫ ধারা অনুযায়ী খরচা প্রদান আদালতের বিবেচনামূলক ক্ষমতা, তবে প্রচলিত নীতি অনুযায়ী সাধারণত পরাজিত পক্ষ খরচা বহন করে।

৬৭. এখতিয়ারবিহীন আদালতের রায় সম্পর্কে সাধারণ নিয়ম কী?

(ক) তা অকার্যকর (Void) বলে গণ্য হতে পারে (খ) তা সবসময় বৈধ থাকে (গ) শুধু আপিলে বাতিলযোগ্য (ঘ) শুধু রিভিউতে বাতিলযোগ্য

সঠিক উত্তর: (ক) তা অকার্যকর (Void) বলে গণ্য হতে পারে

ব্যাখ্যা: মৌলিক এখতিয়ারের অভাবে প্রদত্ত রায়/ডিক্রি সাধারণত অকার্যকর (Void/Coram non judice) বলে গণ্য হয় এবং যেকোনো পর্যায়ে চ্যালেঞ্জ করা যায়।

৬৮. দেওয়ানি কার্যবিধির প্রথম তফসিলে (First Schedule) কী অন্তর্ভুক্ত থাকে?

(ক) আদেশসমূহ (Orders) ও বিধিসমূহ (Rules) (খ) শুধু ধারাসমূহ (গ) শুধু কোর্ট ফি হার (ঘ) শুধু ফরম

সঠিক উত্তর: (ক) আদেশসমূহ (Orders) ও বিধিসমূহ (Rules)

ব্যাখ্যা: কার্যবিধির মূল অংশে ধারাসমূহ (মৌলিক আইন) এবং প্রথম তফসিলে পদ্ধতিগত আদেশ ও বিধিসমূহ থাকে।

৬৯. দেওয়ানি কার্যবিধির ৮০ ধারা অনুযায়ী সরকারের বিরুদ্ধে মামলা দায়েরের পূর্বে কী প্রয়োজন?

(ক) নির্দিষ্ট সময় পূর্বে নোটিশ প্রদান (খ) শুধু আবেদন দাখিল (গ) আদালতের পূর্বানুমতি (ঘ) কোনো পূর্বশর্ত নেই

সঠিক উত্তর: (ক) নির্দিষ্ট সময় পূর্বে নোটিশ প্রদান

ব্যাখ্যা: ৮০ ধারা অনুযায়ী সরকার বা সরকারি কর্মচারীর বিরুদ্ধে দাপ্তরিক কাজের জন্য মামলা করতে হলে ২ মাস পূর্বে লিখিত নোটিশ প্রদান আবশ্যক।

৭০. মামলার আরজিতে বিবাদীর ঠিকানা ভুল বা অসম্পূর্ণ থাকলে আদালতের করণীয় কী?

(ক) সংশোধনের জন্য বাদীকে সময় দেওয়া (খ) সরাসরি মামলা খারিজ করা (গ) বিবাদীকে অব্যাহতি দেওয়া (ঘ) মামলা স্থগিত রাখা চিরতরে

সঠিক উত্তর: (ক) সংশোধনের জন্য বাদীকে সময় দেওয়া

ব্যাখ্যা: আদালত সাধারণত ত্রুটি সংশোধনের সুযোগ দেন, যাতে ন্যায্য বিচার ব্যাহত না হয়।

৭১. গার্ডিয়ানশিপ সংক্রান্ত মামলায় সাধারণত কোন আইন প্রযোজ্য হয়?

(ক) Guardians and Wards Act, 1890 (খ) Contract Act, 1872 (গ) Registration Act, 1908 (ঘ) Limitation Act, 1908

সঠিক উত্তর: (ক) Guardians and Wards Act, 1890

ব্যাখ্যা: নাবালকের অভিভাবকত্ব সংক্রান্ত বিষয়ে Guardians and Wards Act, 1890 প্রযোজ্য।

৭২. আপোষ ডিক্রি (Compromise Decree) সম্পাদনের পর তা চ্যালেঞ্জ করার সাধারণ উপায় কী?

(ক) যে আদালত ডিক্রি দিয়েছে সেই আদালতে আপত্তি উত্থাপন (খ) নতুন মামলা দায়ের (গ) ফৌজদারি মামলা (ঘ) সরাসরি আপিল বিভাগে রিট

সঠিক উত্তর: (ক) যে আদালত ডিক্রি দিয়েছে সেই আদালতে আপত্তি উত্থাপন

ব্যাখ্যা: আপোষ ডিক্রি জালিয়াতি বা প্রতারণার অভিযোগে চ্যালেঞ্জ হলে সাধারণত যে আদালত ডিক্রি প্রদান করেছে, সেখানেই আপত্তি উত্থাপন করা হয়।

৭৩. এখতিয়ার নির্ধারণে আর্থিক এখতিয়ার (Pecuniary Jurisdiction) বলতে কী বোঝায়?

(ক) মামলার আর্থিক মূল্যমান অনুযায়ী আদালতের বিচার ক্ষমতার সীমা (খ) আদালতের ভৌগোলিক অবস্থান (গ) মামলার প্রকৃতি (দেওয়ানি/ফৌজদারি) (ঘ) সময়সীমা

সঠিক উত্তর: (ক) মামলার আর্থিক মূল্যমান অনুযায়ী আদালতের বিচার ক্ষমতার সীমা

ব্যাখ্যা: আর্থিক এখতিয়ার বলতে বোঝায় মামলার দাবিকৃত অর্থমূল্যের ভিত্তিতে কোন পর্যায়ের আদালত মামলাটি বিচার করতে পারবে তার সীমা।

৭৪. মামলা দায়েরের সময় বাদী কর্তৃক কোর্ট ফি পরিশোধের বাধ্যবাধকতা কোন আইনে নির্ধারিত?

(ক) Court Fees Act, 1870 (খ) Stamp Act, 1899 (গ) Registration Act, 1908 (ঘ) Limitation Act, 1908

সঠিক উত্তর: (ক) Court Fees Act, 1870

ব্যাখ্যা: মামলা দায়েরের সময় প্রযোজ্য কোর্ট ফি Court Fees Act, 1870 অনুযায়ী নির্ধারিত ও পরিশোধযোগ্য।

৭৫. দেওয়ানি মামলায় দাখিলকৃত আরজিতে সংযুক্ত মূল দলিলের উপর প্রয়োজনীয় স্ট্যাম্প শুল্ক কোন আইনে নির্ধারিত?

(ক) Stamp Act, 1899 (খ) Court Fees Act, 1870 (গ) Registration Act, 1908 (ঘ) Contract Act, 1872

সঠিক উত্তর: (ক) Stamp Act, 1899

ব্যাখ্যা: দলিলের উপর প্রযোজ্য স্ট্যাম্প শুল্ক Stamp Act, 1899 দ্বারা নিয়ন্ত্রিত।

৭৬. রায় ঘোষণার পর ডিক্রি প্রস্তুতের সাধারণ প্রক্রিয়া কী?

(ক) রায়ের ভিত্তিতে ডিক্রি আকারে প্রস্তুত ও স্বাক্ষরিত হয় (খ) ডিক্রি ছাড়াই রায় কার্যকর হয় (গ) ডিক্রি রায়ের আগে প্রস্তুত হয় (ঘ) ডিক্রি শুধু আপিলে প্রস্তুত হয়

সঠিক উত্তর: (ক) রায়ের ভিত্তিতে ডিক্রি আকারে প্রস্তুত ও স্বাক্ষরিত হয়

ব্যাখ্যা: কার্যবিধি অনুযায়ী রায় ঘোষণার পর তার ভিত্তিতে আনুষ্ঠানিক ডিক্রি প্রস্তুত ও আদালত কর্তৃক স্বাক্ষরিত হয়, যা জারিযোগ্য দলিল হিসেবে কাজ করে।

৭৭. ডিক্রি জারির মামলায় বিবাদীর অসম্মতি সত্ত্বেও স্থাবর সম্পত্তি বিক্রয়ের পদ্ধতিকে কী বলে?

(ক) নিলাম বিক্রয় (Auction Sale) (খ) ব্যক্তিগত বিক্রয় (গ) বন্ধকী বিক্রয় (ঘ) দান

সঠিক উত্তর: (ক) নিলাম বিক্রয় (Auction Sale)

ব্যাখ্যা: আদেশ ২১ অনুযায়ী ডিক্রি জারির জন্য সম্পত্তি সাধারণত প্রকাশ্য নিলামের মাধ্যমে বিক্রয় করা হয়।

৭৮. জারি মামলায় ডিক্রিকৃত অর্থ পরিশোধে অক্ষম দেনাদারকে দেওয়ানি কারাগারে আটক রাখার বিধান কোন আদেশে আছে?

(ক) আদেশ ২১ (খ) আদেশ ৩৮ (গ) আদেশ ৪০ (ঘ) আদেশ ৪৫

সঠিক উত্তর: (ক) আদেশ ২১

ব্যাখ্যা: আদেশ ২১ এর নির্দিষ্ট বিধিতে ডিক্রিকৃত অর্থ পরিশোধে ব্যর্থ দেনাদারকে দেওয়ানি কারাগারে আটকের বিধান রয়েছে, তবে নির্দিষ্ট ব্যতিক্রমসহ (যেমন নারীর ক্ষেত্রে সীমাবদ্ধতা)।

৭৯. প্রাক্তন বিচারকের রায়ের বিরুদ্ধে সংশ্লিষ্ট পক্ষ যদি নতুন প্রমাণ আবিষ্কার করেন যা পূর্বে জানা ছিল না, তাহলে কী প্রতিকার নিতে পারেন?

(ক) রিভিউ আবেদন (খ) নতুন মামলা (গ) রিভিশন (ঘ) আপিল শুধুমাত্র

সঠিক উত্তর: (ক) রিভিউ আবেদন

ব্যাখ্যা: আদেশ ৪৭ অনুযায়ী নতুন ও গুরুত্বপূর্ণ প্রমাণ আবিষ্কৃত হলে (যা যথাযথ পরিশ্রম সত্ত্বেও পূর্বে জানা সম্ভব ছিল না) রিভিউ আবেদন করা যায়।

৮০. এখতিয়ার সংক্রান্ত আপত্তি কোন পর্যায়ে উত্থাপন করা সমীচীন?

(ক) যত দ্রুত সম্ভব, প্রথম সুযোগেই (খ) শুধু আপিলে (গ) শুধু জারি মামলায় (ঘ) যেকোনো সময়ে কোনো প্রভাব ছাড়াই

সঠিক উত্তর: (ক) যত দ্রুত সম্ভব, প্রথম সুযোগেই

ব্যাখ্যা: প্রচলিত নীতি অনুযায়ী এখতিয়ার সংক্রান্ত আপত্তি যত দ্রুত সম্ভব উত্থাপন করা উচিত, নয়তো বিলম্বে উত্থাপনের ফলে তা প্রত্যাখ্যাত হতে পারে যদি না তা মৌলিক এখতিয়ারের অভাব সংক্রান্ত হয়।

৮১. একই আদালতে দুটি মামলা একই বিষয়ে বিচারাধীন থাকলে আদালতের সাধারণ পদক্ষেপ কী হতে পারে?

(ক) মামলা দুটি একত্রীকরণ (Consolidation) করা যেতে পারে (খ) উভয় মামলা খারিজ করতে হবে (গ) একটি মামলা অবশ্যই বাতিল হবে (ঘ) কোনো পদক্ষেপ নেওয়া যায় না

সঠিক উত্তর: (ক) মামলা দুটি একত্রীকরণ (Consolidation) করা যেতে পারে

ব্যাখ্যা: বিচারিক সুবিধা ও সামঞ্জস্যপূর্ণ রায়ের স্বার্থে আদালত সম্পর্কিত মামলাসমূহ একত্রীকরণ (Consolidation) করতে পারেন।

৮২. দেওয়ানি কার্যবিধিতে 'ডিক্রিদার' (Decree-holder) বলতে কাকে বোঝায়?

(ক) যার পক্ষে ডিক্রি প্রদত্ত হয়েছে (খ) যার বিরুদ্ধে ডিক্রি প্রদত্ত হয়েছে (গ) যিনি মামলা দায়ের করেছেন (ঘ) যিনি সাক্ষ্য দিয়েছেন

সঠিক উত্তর: (ক) যার পক্ষে ডিক্রি প্রদত্ত হয়েছে

ব্যাখ্যা: ২(৩) ধারা অনুযায়ী যার পক্ষে ডিক্রি প্রদত্ত হয়েছে বা যিনি ডিক্রি জারির মাধ্যমে সুফল ভোগ করেন, তাকে ডিক্রিদার বলা হয়।

৮৩. 'দায়িক' বা 'Judgment-debtor' বলতে কাকে বোঝায়?

(ক) যার বিরুদ্ধে ডিক্রি প্রদত্ত হয়েছে (খ) যার পক্ষে ডিক্রি প্রদত্ত হয়েছে (গ) সাক্ষী (ঘ) আইনজীবী

সঠিক উত্তর: (ক) যার বিরুদ্ধে ডিক্রি প্রদত্ত হয়েছে

ব্যাখ্যা: ২(১০) ধারা অনুযায়ী যার বিরুদ্ধে ডিক্রি বা আদেশ প্রদত্ত হয়েছে তাকে Judgment-debtor বলা হয়।

৮৪. 'আদালতের কার্যক্রম' বন্ধ রাখার (Stay of Proceedings) ক্ষমতা কোন ধারা/আদেশে বর্ণিত?

(ক) ধারা ১০ ও আদেশ ৯ (খ) শুধু ধারা ৩৫ (গ) শুধু আদেশ ২০ (ঘ) শুধু আদেশ ৪১

সঠিক উত্তর: (ক) ধারা ১০ ও আদেশ ৯

ব্যাখ্যা: কার্যবিধির ১০ ধারা (একই বিষয়ে অন্য মামলা বিচারাধীন থাকলে) এবং আদালতের বিবেচনামূলক ক্ষমতা অনুযায়ী প্রয়োজনে মামলার কার্যক্রম স্থগিত রাখা যায়।

৮৫. অতিরিক্ত জেলা জজ ও জেলা জজের এখতিয়ারের মধ্যে সম্পর্ক কী?

(ক) অতিরিক্ত জেলা জজ জেলা জজ কর্তৃক হস্তান্তরিত মামলায় জেলা জজের ন্যায় ক্ষমতা প্রয়োগ করেন (খ) উভয়ে সম্পূর্ণ ভিন্ন এখতিয়ার রাখেন (গ) অতিরিক্ত জেলা জজের কোনো বিচারিক ক্ষমতা নেই (ঘ) শুধু ফৌজদারি মামলায় প্রযোজ্য

সঠিক উত্তর: (ক) অতিরিক্ত জেলা জজ জেলা জজ কর্তৃক হস্তান্তরিত মামলায় জেলা জজের ন্যায় ক্ষমতা প্রয়োগ করেন

ব্যাখ্যা: কার্যবিধি ও দেওয়ানি আদালত আইন অনুযায়ী জেলা জজ কর্তৃক হস্তান্তরিত মামলায় অতিরিক্ত জেলা জজ জেলা জজের অনুরূপ ক্ষমতা প্রয়োগ করেন।

৮৬. সহকারী জজ আদালতের আর্থিক এখতিয়ার কীভাবে নির্ধারিত হয়?

(ক) দেওয়ানি আদালত আইন ও সরকারি প্রজ্ঞাপন অনুযায়ী (খ) কেন্দ্রীয়ভাবে সংবিধানে নির্ধারিত (গ) প্রতিটি মামলার ক্ষেত্রে আলাদা (ঘ) কোনো সীমা নেই

সঠিক উত্তর: (ক) দেওয়ানি আদালত আইন ও সরকারি প্রজ্ঞাপন অনুযায়ী

ব্যাখ্যা: দেওয়ানি আদালত আইন, ১৮৮৭ ও সরকারি প্রজ্ঞাপনের মাধ্যমে সহকারী জজ আদালতের আর্থিক এখতিয়ারের সীমা নির্ধারিত হয়।

৮৭. যুগ্ম জেলা জজ আদালতের এখতিয়ার সহকারী জজ আদালতের তুলনায় কেমন?

(ক) সাধারণত বৃহত্তর আর্থিক এখতিয়ারসম্পন্ন (খ) একই এখতিয়ার (গ) কম এখতিয়ারসম্পন্ন (ঘ) শুধু ফৌজদারি এখতিয়ার রাখে

সঠিক উত্তর: (ক) সাধারণত বৃহত্তর আর্থিক এখতিয়ারসম্পন্ন

ব্যাখ্যা: যুগ্ম জেলা জজ আদালত সাধারণত সহকারী জজ আদালতের চেয়ে বৃহত্তর আর্থিক এখতিয়ারের মামলা বিচার করে।

৮৮. দেওয়ানি মামলায় তদন্তকারী কমিশনার (Local Commissioner) নিয়োগের উদ্দেশ্য কী?

(ক) স্থানীয় তদন্ত, সম্পত্তি জরিপ বা হিসাব পরীক্ষার জন্য (খ) রায় প্রদানের জন্য (গ) সাক্ষীকে শাস্তি দেওয়ার জন্য (ঘ) মামলা খারিজ করার জন্য

সঠিক উত্তর: (ক) স্থানীয় তদন্ত, সম্পত্তি জরিপ বা হিসাব পরীক্ষার জন্য

ব্যাখ্যা: আদেশ ২৬ অনুযায়ী স্থানীয় তদন্ত, সম্পত্তির অবস্থা যাচাই বা জটিল হিসাব পরীক্ষার জন্য আদালত স্থানীয় কমিশনার নিয়োগ করতে পারেন।

৮৯. রায়ের অনুলিপি (Certified Copy of Judgment) সংগ্রহে ব্যয়িত সময় আপিলের তামাদি গণনায় কীভাবে বিবেচিত হয়?

(ক) তা তামাদি গণনা থেকে বাদ যায় (খ) তা তামাদির মধ্যে গণনা করা হয় (গ) কোনো প্রভাব নেই (ঘ) শুধু ফৌজদারি মামলায় প্রযোজ্য

সঠিক উত্তর: (ক) তা তামাদি গণনা থেকে বাদ যায়

ব্যাখ্যা: তামাদি আইনের ১২ ধারা অনুযায়ী রায়ের প্রত্যয়িত অনুলিপি প্রাপ্তিতে ব্যয়িত সময় আপিল দায়েরের তামাদি গণনা থেকে বাদ দেওয়া হয়।

৯০. আরজিতে বাদীর পক্ষ থেকে মিথ্যা বিবৃতি প্রমাণিত হলে তার আইনি পরিণতি কী হতে পারে?

(ক) ক্ষতিপূরণমূলক খরচা এবং সম্ভাব্য ফৌজদারি দায় (খ) কোনো পরিণতি নেই (গ) শুধু সতর্কীকরণ (ঘ) মামলা স্বয়ংক্রিয়ভাবে জয়ী হবে

সঠিক উত্তর: (ক) ক্ষতিপূরণমূলক খরচা এবং সম্ভাব্য ফৌজদারি দায়

ব্যাখ্যা: কার্যবিধির ৩৫ক ধারা অনুযায়ী মিথ্যা দাবির জন্য ক্ষতিপূরণমূলক খরচা আরোপ হতে পারে, এবং দণ্ডবিধি অনুযায়ী মিথ্যা হলফনামা পৃথক অপরাধও হতে পারে।

৯১. দেওয়ানি মামলায় 'হলফনামা' (Affidavit) সাধারণত কোন ধরনের প্রমাণ হিসেবে ব্যবহৃত হয়?

(ক) লিখিত শপথকৃত বিবৃতি, নির্দিষ্ট আবেদনের সমর্থনে (খ) মৌখিক সাক্ষ্যের বিকল্প সবসময় (গ) শুধু বিশেষজ্ঞ মতামত (ঘ) শুধু ফৌজদারি মামলায় প্রযোজ্য

সঠিক উত্তর: (ক) লিখিত শপথকৃত বিবৃতি, নির্দিষ্ট আবেদনের সমর্থনে

ব্যাখ্যা: আদেশ ১৯ অনুযায়ী নির্দিষ্ট দরখাস্ত বা আবেদনের সমর্থনে হলফনামা আদালতে দাখিল করা যায়, যা লিখিত শপথকৃত বিবৃতি হিসেবে বিবেচিত।

৯২. দেওয়ানি কার্যবিধির ৩৩ ধারায় কোন বিষয়ে বিধান আছে?

(ক) রায় ও ডিক্রি (Judgment and Decree) (খ) সমন জারি (গ) আপিল (ঘ) রিভিশন

সঠিক উত্তর: (ক) রায় ও ডিক্রি (Judgment and Decree)

ব্যাখ্যা: ৩৩ ধারা অনুযায়ী সাক্ষ্য ও শুনানি শেষে আদালত রায় প্রদান করবেন এবং তার ভিত্তিতে ডিক্রি প্রস্তুত হবে।

৯৩. বিশেষ মামলার (Suit) সংজ্ঞায়িত সময়সীমার মধ্যে বিবাদীর হাজির না হওয়ার পরিণতি কোন আদেশে বর্ণিত?

(ক) আদেশ ৯ (খ) আদেশ ১০ (গ) আদেশ ১১ (ঘ) আদেশ ১২

সঠিক উত্তর: (ক) আদেশ ৯

ব্যাখ্যা: আদেশ ৯-এ শুনানির দিন পক্ষগণের অনুপস্থিতির পরিণতি (একতরফা ডিক্রি বা মামলা খারিজ) বর্ণিত আছে।

৯৪. পক্ষগণের মৌখিক পরীক্ষা (Examination of Parties by the Court) সংক্রান্ত বিধান কোন আদেশে আছে?

(ক) আদেশ ৯ (খ) আদেশ ১০ (গ) আদেশ ১১ (ঘ) আদেশ ১৮

সঠিক উত্তর: (খ) আদেশ ১০

ব্যাখ্যা: আদেশ ১০-এ আদালত কর্তৃক পক্ষগণকে সরাসরি প্রশ্ন করার মাধ্যমে বিতর্কিত বিষয় স্পষ্ট করার বিধান রয়েছে।

৯৫. বিচার্য বিষয় নির্ধারণ (Framing of Issues) সংক্রান্ত বিধান কোন আদেশে আছে?

(ক) আদেশ ১৩ (খ) আদেশ ১৪ (গ) আদেশ ১৫ (ঘ) আদেশ ১৬

সঠিক উত্তর: (খ) আদেশ ১৪

ব্যাখ্যা: আদেশ ১৪-এ পক্ষগণের বিতর্কিত বিষয়াদির ভিত্তিতে বিচার্য বিষয় (Issues) নির্ধারণের বিধান রয়েছে।

৯৬. দলিলাদি দাখিলের (Production of Documents) সাধারণ সময় কোন আদেশে বর্ণিত?

(ক) আদেশ ৭ (খ) আদেশ ১৩ (গ) আদেশ ১৬ (ঘ) আদেশ ১৮

সঠিক উত্তর: (খ) আদেশ ১৩

ব্যাখ্যা: আদেশ ১৩-এ মামলার শুনানির প্রথম দিন বা তার পূর্বেই সংশ্লিষ্ট দলিল দাখিলের সাধারণ বিধান রয়েছে।

৯৭. সাক্ষ্য গ্রহণ পদ্ধতি (Hearing of the Suit and Examination of Witnesses) সংক্রান্ত বিধান কোন আদেশে আছে?

(ক) আদেশ ১৬ (খ) আদেশ ১৭ (গ) আদেশ ১৮ (ঘ) আদেশ ১৯

সঠিক উত্তর: (গ) আদেশ ১৮

ব্যাখ্যা: আদেশ ১৮-এ মামলার শুনানি ও সাক্ষীদের পরীক্ষার ধারাবাহিক প্রক্রিয়া বর্ণিত আছে।

৯৮. শুনানি মুলতবি (Adjournment) সংক্রান্ত বিধান কোন আদেশে আছে?

(ক) আদেশ ১৬ (খ) আদেশ ১৭ (গ) আদেশ ১৮ (ঘ) আদেশ ২০

সঠিক উত্তর: (খ) আদেশ ১৭

ব্যাখ্যা: আদেশ ১৭-এ যথাযথ কারণ প্রদর্শন সাপেক্ষে মামলার শুনানি মুলতবি রাখার বিধান রয়েছে।

৯৯. দেওয়ানি কার্যবিধির ৯৬ ধারা অনুযায়ী কোন ডিক্রির বিরুদ্ধে আপিল করা যায়?

(ক) মূল এখতিয়ারে প্রদত্ত ডিক্রি (খ) শুধু জারি আদেশ (গ) শুধু অন্তর্বর্তীকালীন আদেশ (ঘ) শুধু রিভিউ আদেশ

সঠিক উত্তর: (ক) মূল এখতিয়ারে প্রদত্ত ডিক্রি

ব্যাখ্যা: ৯৬ ধারা অনুযায়ী মূল এখতিয়ারসম্পন্ন আদালত কর্তৃক প্রদত্ত ডিক্রির বিরুদ্ধে সংক্ষুব্ধ পক্ষ আপিল করতে পারেন, নির্দিষ্ট ব্যতিক্রম ব্যতীত।

১০০. ক্ষুদ্র মূল্যমানের (Petty Suits) মামলায় দ্বিতীয় আপিলের ক্ষেত্রে সাধারণ নিয়ম কী?

(ক) নির্দিষ্ট আর্থিক সীমার নিচে দ্বিতীয় আপিল সীমিত বা নিষিদ্ধ হতে পারে (খ) সবসময় দ্বিতীয় আপিল করা যায় (গ) প্রথম আপিলই নিষিদ্ধ (ঘ) কোনো বিধিনিষেধ নেই

সঠিক উত্তর: (ক) নির্দিষ্ট আর্থিক সীমার নিচে দ্বিতীয় আপিল সীমিত বা নিষিদ্ধ হতে পারে

ব্যাখ্যা: কার্যবিধির ১০২ ধারা অনুযায়ী নির্দিষ্ট আর্থিক সীমার নিচের মামলায় দ্বিতীয় আপিল সীমিত।

১০১. দ্বিতীয় আপিল (Second Appeal) গ্রহণযোগ্য হওয়ার জন্য প্রধান শর্ত কী?

(ক) মামলায় গুরুত্বপূর্ণ আইনগত প্রশ্ন (Substantial Question of Law) জড়িত থাকতে হবে (খ) শুধু তথ্যগত ভুল হলেই যথেষ্ট (গ) উভয় পক্ষের সম্মতি প্রয়োজন (ঘ) কোনো শর্ত নেই

সঠিক উত্তর: (ক) মামলায় গুরুত্বপূর্ণ আইনগত প্রশ্ন (Substantial Question of Law) জড়িত থাকতে হবে

ব্যাখ্যা: ১০০ ধারা অনুযায়ী দ্বিতীয় আপিল কেবল তখনই গ্রহণযোগ্য যখন মামলায় গুরুত্বপূর্ণ আইনগত প্রশ্ন জড়িত থাকে।

১০২. দেওয়ানি কার্যবিধির ৩৬ ধারায় কোন বিষয়ে বিধান আছে?

(ক) আদেশ জারি সংক্রান্ত সাধারণ বিধান (খ) সমন জারি (গ) আপিল (ঘ) রিভিউ

সঠিক উত্তর: (ক) আদেশ জারি সংক্রান্ত সাধারণ বিধান

ব্যাখ্যা: ৩৬ ধারা অনুযায়ী ডিক্রি জারির বিধান যতদূর সম্ভব আদেশ জারির ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য হবে।

১০৩. এক ডিক্রির একাধিক ডিক্রিদার থাকলে জারি মামলা পরিচালনার নিয়ম কী?

(ক) সকলে একত্রে বা যেকোনো একজন আদালতের অনুমতিক্রমে জারি করতে পারেন (খ) শুধু জ্যেষ্ঠ ডিক্রিদার পারবেন (গ) সবাইকে একত্রে আবেদন করতেই হবে (ঘ) জারি করা যাবে না

সঠিক উত্তর: (ক) সকলে একত্রে বা যেকোনো একজন আদালতের অনুমতিক্রমে জারি করতে পারেন

ব্যাখ্যা: একাধিক ডিক্রিদার থাকলে আদালতের নির্দেশনা অনুযায়ী যৌথভাবে বা এককভাবে জারি কার্যক্রম পরিচালিত হতে পারে।

১০৪. প্রতিদ্বন্দ্বী দাবিদারদের মধ্যে একই সম্পত্তি নিয়ে দাবির ক্ষেত্রে আন্তঃপক্ষীয় (Interpleader) মামলার উদ্দেশ্য কী?

(ক) প্রকৃত দাবিদার নির্ধারণের জন্য নিরপেক্ষ ব্যক্তি কর্তৃক মামলা দায়ের (খ) একজন দাবিদারের পক্ষে রায় নিশ্চিত করা (গ) সম্পত্তি বাজেয়াপ্ত করা (ঘ) মামলা এড়ানো

সঠিক উত্তর: (ক) প্রকৃত দাবিদার নির্ধারণের জন্য নিরপেক্ষ ব্যক্তি কর্তৃক মামলা দায়ের

ব্যাখ্যা: আদেশ ৩৫ অনুযায়ী নিরপেক্ষ ব্যক্তি (যেমন ভাড়াটিয়া) একাধিক প্রতিদ্বন্দ্বী দাবিদারের মধ্যে প্রকৃত অধিকারী নির্ধারণে আন্তঃপক্ষীয় মামলা করতে পারেন।

১০৫. বিশেষ মামলা (যেমন—সমবায় সমিতি সংক্রান্ত) দায়েরের পূর্বে বাধ্যতামূলক পূর্বশর্ত কী হতে পারে?

(ক) সংশ্লিষ্ট বিশেষ আইনে নির্ধারিত পূর্ব প্রক্রিয়া (যেমন নোটিশ বা প্রশাসনিক আবেদন) সম্পন্ন করা (খ) কোনো পূর্বশর্ত নেই (গ) শুধু কোর্ট ফি প্রদান (ঘ) শুধু সাক্ষী প্রস্তুত রাখা

সঠিক উত্তর: (ক) সংশ্লিষ্ট বিশেষ আইনে নির্ধারিত পূর্ব প্রক্রিয়া (যেমন নোটিশ বা প্রশাসনিক আবেদন) সম্পন্ন করা

ব্যাখ্যা: নির্দিষ্ট বিশেষ আইন অনুযায়ী কিছু মামলায় (যেমন সমবায় বিরোধ) আদালতে যাওয়ার পূর্বে নির্দিষ্ট প্রশাসনিক প্রক্রিয়া অনুসরণ বাধ্যতামূলক হতে পারে।

১০৬. ডিক্রি আংশিক পালিত হওয়ার পর অবশিষ্ট অংশের জারি অব্যাহত রাখার নিয়ম কী?

(ক) ডিক্রিদার অবশিষ্ট অংশের জন্য জারি চালিয়ে যেতে পারেন (খ) সম্পূর্ণ জারি বাতিল হয়ে যায় (গ) নতুন মামলা করতে হবে (ঘ) কোনো প্রতিকার নেই

সঠিক উত্তর: (ক) ডিক্রিদার অবশিষ্ট অংশের জন্য জারি চালিয়ে যেতে পারেন

ব্যাখ্যা: আংশিক পরিশোধের পরও ডিক্রিদার বকেয়া অংশের জন্য জারি প্রক্রিয়া চালিয়ে যেতে পারেন।

১০৭. নাবালকের সম্পত্তি সংক্রান্ত মামলায় গার্ডিয়ান আদালতের অনুমতি ব্যতীত আপোষ করলে তার আইনি পরিণতি কী?

(ক) আপোষটি নাবালকের স্বার্থবিরোধী হলে বাতিলযোগ্য হতে পারে (খ) সবসময় বৈধ থাকে (গ) স্বয়ংক্রিয়ভাবে বাতিল হয়ে যায় (ঘ) কোনো প্রভাব নেই

সঠিক উত্তর: (ক) আপোষটি নাবালকের স্বার্থবিরোধী হলে বাতিলযোগ্য হতে পারে

ব্যাখ্যা: আদেশ ৩২ অনুযায়ী নাবালকের স্বার্থ সংশ্লিষ্ট আপোষে আদালতের অনুমোদন প্রয়োজন; তা ব্যতীত স্বার্থবিরোধী আপোষ চ্যালেঞ্জযোগ্য।

১০৮. দেওয়ানি কার্যবিধির ৩৮ ধারায় কোন বিষয়ে বিধান আছে?

(ক) ডিক্রি জারির আদালত (Court which may Execute Decree) (খ) সমন জারি (গ) মামলার মূল্যায়ন (ঘ) কোর্ট ফি

সঠিক উত্তর: (ক) ডিক্রি জারির আদালত (Court which may Execute Decree)

ব্যাখ্যা: ৩৮ ধারা অনুযায়ী ডিক্রি প্রদানকারী আদালত বা যে আদালতে হস্তান্তরিত হয়েছে, সেই আদালত ডিক্রি জারি করতে পারে।

১০৯. ডিক্রি জারির আবেদনে কী কী তথ্য উল্লেখ থাকা আবশ্যক?

(ক) মামলার নম্বর, পক্ষগণের নাম, ডিক্রির তারিখ ও জারির প্রার্থিত পদ্ধতি (খ) শুধু ডিক্রির তারিখ (গ) শুধু পক্ষগণের নাম (ঘ) কোনো নির্দিষ্ট তথ্যের প্রয়োজন নেই

সঠিক উত্তর: (ক) মামলার নম্বর, পক্ষগণের নাম, ডিক্রির তারিখ ও জারির প্রার্থিত পদ্ধতি

ব্যাখ্যা: আদেশ ২১ বিধি ১১ অনুযায়ী জারির দরখাস্তে মামলার বিবরণ, ডিক্রির তারিখ, পাওনার পরিমাণ ও প্রার্থিত জারি পদ্ধতি উল্লেখ করতে হয়।

১১০. দেওয়ানি মামলায় বিবাদীর জবাবে নতুন তথ্য উত্থাপন করাকে কী বলে?

(ক) Additional Plea বা নতুন দাবি উত্থাপন (খ) কাউন্টার ক্লেইম শুধুই (গ) রিভিউ (ঘ) রিভিশন

সঠিক উত্তর: (ক) Additional Plea বা নতুন দাবি উত্থাপন

ব্যাখ্যা: লিখিত জবাবে বিবাদী আরজিতে উত্থাপিত বিষয় অস্বীকারের পাশাপাশি নিজের অতিরিক্ত বক্তব্যও (Additional Plea) উপস্থাপন করতে পারেন।

১১১. বিবাদী কর্তৃক পাল্টা দাবি (Counter Claim) উত্থাপনের বিধান কোন আদেশে আছে?

(ক) আদেশ ৮ (খ) আদেশ ৮ক (গ) আদেশ ৯ (ঘ) আদেশ ৭

সঠিক উত্তর: (খ) আদেশ ৮ক

ব্যাখ্যা: আদেশ ৮ক-তে বিবাদী কর্তৃক পাল্টা দাবি (Counter Claim) উত্থাপনের বিধান রয়েছে, যা মূল মামলার সাথেই নিষ্পত্তি হতে পারে।