দণ্ডবিধি, ১৮৬০ (The Penal Code, 1860)

বাংলাদেশের সমগ্র ফৌজদারি বিচারব্যবস্থার ভিত্তি হলো দণ্ডবিধি, ১৮৬০ — উপমহাদেশের প্রাচীনতম ও সবচেয়ে প্রভাবশালী আইনগুলোর একটি। ১৮৬০ সালে প্রণীত এই আইন কোন কাজ অপরাধ, তার সংজ্ঞা কী এবং তার শাস্তি কী হবে তা নির্ধারণ করে। বাংলাদেশ বার কাউন্সিল এনরোলমেন্ট পরীক্ষা সম্পূর্ণভাবে আইনভিত্তিক (১০০ নম্বরের পুরোটাই আইন), এবং যে কয়েকটি আইন থেকে সবচেয়ে বেশি প্রশ্ন আসে দণ্ডবিধি তার মধ্যে অন্যতম — প্রতিটি পরীক্ষাতেই নরহত্যা, চুরি-দস্যুতা, প্রতারণা, জালিয়াতি ও সাধারণ ব্যতিক্রম থেকে নিয়মিত প্রশ্ন থাকে।

দণ্ডবিধি একটি মূল আইন (Substantive Law) — এটি অপরাধের সংজ্ঞা ও শাস্তি নির্ধারণ করে, কিন্তু বিচারের পদ্ধতি নির্ধারণ করে না। বিচারের পদ্ধতিগত দিক নির্ধারণ করে ফৌজদারি কার্যবিধি, ১৮৯৮ (একটি পদ্ধতিগত আইন বা Procedural Law) এবং প্রমাণ সংক্রান্ত নিয়ম নির্ধারণ করে সাক্ষ্য আইন, ১৮৭২। এই তিনটি আইন একসাথে বাংলাদেশের ফৌজদারি বিচারব্যবস্থার কাঠামো তৈরি করে, এবং বার কাউন্সিল পরীক্ষায় প্রায়ই এই তিনটির মধ্যে সম্পর্ক ও পার্থক্য জিজ্ঞাসা করা হয়।

বার কাউন্সিল পরীক্ষায় এই অধ্যায়ের গুরুত্ব

বার কাউন্সিল এনরোলমেন্ট পরীক্ষার পুরো ১০০ নম্বরই আইনভিত্তিক, এবং দণ্ডবিধি থেকে নিয়মিতভাবে একটি উল্লেখযোগ্য অংশ আসে। বিশেষভাবে গুরুত্বপূর্ণ: নরহত্যা ও খুনের সংজ্ঞা-পার্থক্য (৩০০ ধারা ও এর ব্যতিক্রম), চুরি-দস্যুতা-ডাকাতির পার্থক্য, প্রতারণা ও বিশ্বাসভঙ্গের পার্থক্য, সাধারণ ব্যতিক্রম (বিশেষত আত্মরক্ষার অধিকার ও শিশুর দায়মুক্তি), এবং প্ররোচনা/ষড়যন্ত্রের নীতি। পরীক্ষায় প্রায়ই কাল্পনিক পরিস্থিতি দিয়ে ("A, B-কে ... করে — A কী অপরাধ করেছে?") প্রয়োগভিত্তিক প্রশ্ন আসে, শুধু সংজ্ঞা মুখস্থ থাকলেই চলে না — প্রয়োগ বুঝতে হয়। পাস নম্বর সাধারণত ৫০ (৫০%)।

প্রশ্নের ধরন — সম্পূর্ণ মানচিত্র

যেখান থেকে প্রশ্ন আসেযা জানতে হয়উদাহরণ
ধারা-সংখ্যা সরাসরিকোন ধারায় কোন বিষয় বলা আছেখুনের সংজ্ঞা — ৩০০ ধারা
প্রয়োগভিত্তিক (Case-based)কাল্পনিক ঘটনায় কোন অপরাধ প্রযোজ্যA, Z-কে ভয় দেখিয়ে টাকা আদায় করে — এটি কোন অপরাধ?
সংখ্যা-ভিত্তিক তথ্যকতজন, কত বছর, কত প্রকারবেআইনি সমাবেশে ন্যূনতম কতজন লাগে — ৫ জন
পার্থক্যমূলকদুটি কাছাকাছি ধারণার পার্থক্যচুরি ও দস্যুতার পার্থক্য কী?
শাস্তির পরিমাণসর্বোচ্চ/সর্বনিম্ন শাস্তি কতসাধারণ চুরির সর্বোচ্চ শাস্তি — ৩ বছর
আন্তঃসম্পর্কিত আইনদণ্ডবিধি বনাম কার্যবিধি/সাক্ষ্য আইনদণ্ডবিধি কোন ধরনের আইন — Substantive

পড়ার কৌশল

  • প্রতিটি অপরাধের জন্য চারটি তথ্য আলাদা করে মনে রাখুন: সংজ্ঞার ধারা, শাস্তির ধারা, শাস্তির পরিমাণ, ন্যূনতম উপাদান (যদি সংখ্যাভিত্তিক হয়)।
  • কাছাকাছি ধারণাগুলো (চুরি/দস্যুতা/ডাকাতি; আঘাত/গুরুতর আঘাত; খুন/মানবহত্যা/অবহেলাজনিত মৃত্যু) একসাথে তুলনা করে পড়ুন — এই নিবন্ধের "তুলনা ও কমন বিভ্রান্তি" অংশে এগুলো একত্রে দেওয়া আছে।
  • প্রয়োগভিত্তিক প্রশ্নের জন্য শুধু সংজ্ঞা নয়, প্রতিটি অপরাধের ২-৩টি বাস্তব উদাহরণ মুখস্থ রাখুন, যাতে পরীক্ষায় নতুন কাল্পনিক পরিস্থিতিতেও সঠিক অপরাধ শনাক্ত করতে পারেন।
  • বিগত বার কাউন্সিল প্রশ্ন সমাধান করুন — একই ধারা ঘুরেফিরে আসে, বিশেষত ৩০০, ৩২০, ৩৪, ৩৭৮, ৩৯০-৩৯৬, ৪১৫, ৪০৫, ৪৬৩।

পটভূমি ও গঠন-কাঠামো

দণ্ডবিধি রচনার উদ্যোগ নেওয়া হয় ১৮৩৪ সালে, যখন ব্রিটিশ ভারতের প্রথম আইন কমিশনের চেয়ারম্যান হিসেবে দায়িত্বপ্রাপ্ত হন লর্ড মেকলে (Lord Macaulay)। তাঁর নেতৃত্বে প্রণীত খসড়া দীর্ঘ পর্যালোচনার পর ১৮৬০ সালের ৬ অক্টোবর চূড়ান্তভাবে গৃহীত হয় এবং ১৮৬২ সালের ১ জানুয়ারি থেকে কার্যকর হয়। উপমহাদেশের অধিকাংশ দেশ (ভারত, পাকিস্তান, বাংলাদেশ, মিয়ানমার, শ্রীলঙ্কা) আজও মূলত একই কাঠামোর দণ্ডবিধি অনুসরণ করে, যদিও প্রতিটি দেশ সময়ে সময়ে নিজস্ব সংশোধনী এনেছে।

দণ্ডবিধি মোট ২৩টি অধ্যায়ে (Chapter) এবং প্রায় ৫১১টি ধারায় বিভক্ত। প্রথম দুটি অধ্যায় (ধারা ১-৫২) সাধারণ ভূমিকা, সংজ্ঞা ও সাধারণ ব্যাখ্যা নিয়ে; চতুর্থ অধ্যায় (৭৬-১০৬) সাধারণ ব্যতিক্রম নিয়ে; এবং বাকি অধ্যায়গুলো নির্দিষ্ট নির্দিষ্ট অপরাধ (রাষ্ট্রের বিরুদ্ধে, জনশান্তির বিরুদ্ধে, মানবদেহের বিরুদ্ধে, সম্পত্তির বিরুদ্ধে ইত্যাদি) নিয়ে সাজানো।

অধ্যায়বিষয়বস্তুধারার পরিসর
১মভূমিকা১-৫
২য়সাধারণ ব্যাখ্যা (সংজ্ঞা)৬-৫২ক
৪র্থসাধারণ ব্যতিক্রম৭৬-১০৬
৫মপ্ররোচনা (Abetment)১০৭-১২০খ
৬ষ্ঠরাষ্ট্রের বিরুদ্ধে অপরাধ১২১-১৩০
৮মজনশান্তির বিরুদ্ধে অপরাধ১৪১-১৬০
১৬শমানবদেহের বিরুদ্ধে অপরাধ (নরহত্যা, আঘাত)২৯৯-৩৭৭
১৭শসম্পত্তির বিরুদ্ধে অপরাধ (চুরি, প্রতারণা)৩৭৮-৪৬২
১৮শদলিল ও সম্পত্তি-চিহ্ন সংক্রান্ত অপরাধ (জালিয়াতি)৪৬৩-৪৮৯ঙ
২১শমানহানি৪৯৯-৫০২
২২শঅপরাধমূলক ভীতি প্রদর্শন, অপমান ও বিরক্তিকরণ৫০৩-৫১০

দণ্ডবিধি বনাম ফৌজদারি কার্যবিধি বনাম সাক্ষ্য আইন

  • দণ্ডবিধি, ১৮৬০ — কী অপরাধ, কী শাস্তি (Substantive Law)।
  • ফৌজদারি কার্যবিধি, ১৮৯৮ — কীভাবে তদন্ত ও বিচার হবে (Procedural Law)।
  • সাক্ষ্য আইন, ১৮৭২ — কোন তথ্য আদালতে প্রমাণ হিসেবে গ্রহণযোগ্য হবে তার নিয়ম।

এই তিনটি আইন একসাথেই একটি ফৌজদারি মামলার সম্পূর্ণ যাত্রা নিয়ন্ত্রণ করে — প্রথমে অপরাধ কী তা দণ্ডবিধি বলে, তারপর কীভাবে তদন্ত-বিচার হবে তা কার্যবিধি বলে, এবং বিচারে কোন তথ্য প্রমাণ হিসেবে ধর্তব্য হবে তা সাক্ষ্য আইন বলে।

গুরুত্বপূর্ণ সংজ্ঞা (ধারা ৬-৫২ক)

দণ্ডবিধির দ্বিতীয় অধ্যায়ে এমন কিছু শব্দের সংজ্ঞা দেওয়া আছে যেগুলো সমগ্র আইন জুড়ে বারবার ব্যবহৃত হয়। এই সংজ্ঞাগুলো ভালোভাবে বুঝে রাখলে পরবর্তী প্রতিটি অধ্যায়ে অপরাধ শনাক্ত করা সহজ হয়ে যায় — বিশেষত "অসাধুভাবে" ও "প্রতারণামূলকভাবে"-এর পার্থক্য বোঝা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ, কারণ চুরি-প্রতারণা-বিশ্বাসভঙ্গের সংজ্ঞাতেই এই শব্দগুলোর প্রয়োগ নির্ভর করে।

পরিভাষাধারাসংক্ষিপ্ত অর্থ
সরকারি কর্মচারী (Public Servant)২১যেকোনো সরকারি পদে নিযুক্ত ব্যক্তি (বিচারক, পুলিশ, প্রশাসনিক কর্মচারী সহ)
অসাধুভাবে (Dishonestly)২৪বেআইনিভাবে নিজের লাভ বা অন্যের ক্ষতির উদ্দেশ্যে কাজ করা
প্রতারণামূলকভাবে (Fraudulently)২৫প্রতারণার উদ্দেশ্যে কাজ করা (লাভ-ক্ষতির প্রশ্ন নয়, প্রতারণাই মুখ্য)
স্বেচ্ছায় (Voluntarily)৩৯ফলাফল সম্পর্কে জেনে বা কারণ থাকার সম্ভাবনা জেনে কাজ করা
নথি (Document)২৯অক্ষর/চিহ্নের মাধ্যমে কোনো বিষয় প্রকাশক যেকোনো বস্তু
মূল্যবান জামানত (Valuable Security)৩০এমন দলিল যা কোনো আইনগত অধিকার সৃষ্টি, স্থানান্তর বা বিলুপ্ত করে
জীবন (Life)৪৫মানুষের জীবন, যদি প্রসঙ্গ ভিন্ন অর্থ না বোঝায়
ক্ষতি (Injury)৪৪দেহ, মন, সুনাম বা সম্পত্তির যেকোনো বেআইনি ক্ষতি

"অসাধুভাবে" বনাম "প্রতারণামূলকভাবে" — কীভাবে আলাদা করবেন?

  1. প্রশ্ন করুন: কাজটির উদ্দেশ্য কি নিজের বেআইনি লাভ বা অন্যের বেআইনি ক্ষতি? হলে তা "অসাধুভাবে" (২৪ ধারা)।
  2. প্রশ্ন করুন: কাজটির উদ্দেশ্য কি কাউকে প্রতারিত করা বা ভুল বিশ্বাস সৃষ্টি করা? হলে তা "প্রতারণামূলকভাবে" (২৫ ধারা)।
  3. উদাহরণ: A, B-এর মালিকানাধীন জিনিস না দিয়ে নিজে রেখে দিলে তা অসাধুভাবে (আত্মসাৎ); কিন্তু A যদি নকল দলিল তৈরি করে B-কে বিশ্বাস করায় যে সে-ই প্রকৃত মালিক, তা প্রতারণামূলকভাবে (জালিয়াতি)।
  4. তাই: চুরি/আত্মসাৎ/বিশ্বাসভঙ্গ → মূলত "অসাধুভাবে"; জালিয়াতি/প্রতারণা → মূলত "প্রতারণামূলকভাবে"।

দণ্ডের প্রকারভেদ (ধারা ৫৩-৭৫)

দণ্ডবিধির ৫৩ ধারা অনুসারে বাংলাদেশে পাঁচ প্রকারের শাস্তি প্রচলিত: মৃত্যুদণ্ড, যাবজ্জীবন কারাদণ্ড, কারাদণ্ড (কঠোর/সশ্রম বা সাধারণ/বিনাশ্রম), সম্পত্তি বাজেয়াপ্তকরণ এবং অর্থদণ্ড। লক্ষণীয় যে বেত্রাঘাত দণ্ডবিধির অধীনে অনুমোদিত শাস্তির তালিকায় নেই — এটি একটি জনপ্রিয় প্রশ্ন, বার কাউন্সিল পরীক্ষায় একাধিকবার এসেছে।

যাবজ্জীবন কারাদণ্ড সর্বদা সশ্রম কারাদণ্ড হিসেবে গণ্য হয়। শাস্তির ভগ্নাংশ নিরূপণের ক্ষেত্রে (যেমন কোনো বিধানে "সর্বোচ্চ শাস্তির অর্ধেক" বলা থাকলে) যাবজ্জীবন কারাদণ্ডকে ৩০ বছরের সশ্রম কারাদণ্ড হিসেবে গণনা করা হয়। আর যে অপরাধের একমাত্র শাস্তি জরিমানা, সেক্ষেত্রে জরিমানা অনাদায়ে যে কারাদণ্ড হবে তা বিনাশ্রম হবে।

শাস্তির প্রকারবৈশিষ্ট্য
মৃত্যুদণ্ডসর্বোচ্চ শাস্তি, নির্দিষ্ট গুরুতর অপরাধে (যেমন খুন, ডাকাতির সাথে খুন)
যাবজ্জীবন কারাদণ্ডসবসময় সশ্রম; ভগ্নাংশ নিরূপণে ৩০ বছর ধরা হয়
কারাদণ্ডসশ্রম (কঠোর) বা বিনাশ্রম (সাধারণ) হতে পারে
সম্পত্তি বাজেয়াপ্তকরণনির্দিষ্ট অপরাধে অপরাধ-সংশ্লিষ্ট সম্পত্তি রাষ্ট্র কর্তৃক বাজেয়াপ্ত
অর্থদণ্ডএকক শাস্তি বা অন্য শাস্তির সাথে যুক্ত হতে পারে; অনাদায়ে কারাদণ্ড সর্বোচ্চ শাস্তির ১/৪ অংশের বেশি নয়

মনে রাখার কৌশল

  • বেত্রাঘাত দণ্ডবিধির অনুমোদিত শাস্তি নয় — এটি একটি বহুল-জিজ্ঞাসিত "কোনটি সঠিক নয়" ধরনের প্রশ্ন।
  • যাবজ্জীবন = ৩০ বছর সশ্রম কারাদণ্ড (শুধু ভগ্নাংশ হিসাবের জন্য, প্রকৃত মেয়াদ নয়)।
  • অর্থদণ্ড অনাদায়ে কারাদণ্ড সবসময় মূল অপরাধের সর্বোচ্চ শাস্তির ১/৪ অংশের মধ্যে সীমাবদ্ধ।

সাধারণ ব্যতিক্রম ও আত্মরক্ষার অধিকার (ধারা ৭৬-১০৬)

দণ্ডবিধির চতুর্থ অধ্যায়ে এমন পরিস্থিতির তালিকা দেওয়া আছে যেখানে বাহ্যত অপরাধের মতো দেখতে কাজও প্রকৃতপক্ষে অপরাধ নয়। এগুলোকে সাধারণ ব্যতিক্রম (General Exceptions) বলা হয়। বার কাউন্সিল পরীক্ষায় এই অংশ থেকে প্রায়ই প্রশ্ন আসে, বিশেষত শিশুর দায়মুক্তি এবং আত্মরক্ষার অধিকারের সীমা নিয়ে।

শিশুর দায়মুক্তি: ৮২ ধারা অনুযায়ী ৯ বছরের কম বয়সী শিশুর কোনো কাজ কখনোই অপরাধ হিসেবে গণ্য হয় না (Doli Incapax — শিশুর অপরাধমূলক দায়িত্ববোধ থাকতে পারে না ধরে নেওয়া হয়)। কিন্তু ৮৩ ধারা অনুযায়ী ৯ থেকে ১২ বছর বয়সী শিশুর ক্ষেত্রে যদি প্রমাণিত হয় যে সে কাজের প্রকৃতি ও ফলাফল বোঝার মতো পরিপক্বতা অর্জন করেনি, তাহলেই কেবল সে দায়মুক্ত হবে — অর্থাৎ এই বয়সসীমায় দায়মুক্তি শর্তসাপেক্ষ, স্বয়ংক্রিয় নয়।

মানসিক ভারসাম্যহীনতা: ৮৪ ধারা অনুযায়ী কাজের প্রকৃতি বুঝতে অক্ষম মানসিক ভারসাম্যহীন ব্যক্তির কাজ অপরাধ নয়। সরল বিশ্বাসে কৃত কাজ: ৭৬ ও ৭৯ ধারা অনুযায়ী আইনগত বাধ্যবাধকতার কারণে বা সরল বিশ্বাসে নিজেকে আইনত অনুমোদিত মনে করে কৃত কাজ অপরাধ নয় — যেমন বিচারক কর্তৃক সরল বিশ্বাসে সম্পাদিত বিচারিক কাজ (৭৭ ধারা)।

আত্মরক্ষার অধিকার (ধারা ৯৬-১০৬)

প্রত্যেক ব্যক্তির নিজের শরীর ও সম্পত্তি রক্ষার্থে আত্মরক্ষার অধিকার আছে, তবে এই অধিকার নিরঙ্কুশ নয় — তা প্রয়োজনের সীমার মধ্যে সীমাবদ্ধ (৯৯ ধারা)। সীমা অতিক্রম করে অতিরিক্ত বলপ্রয়োগ করলে সেই সুরক্ষা হারিয়ে তা নিজেই পৃথক অপরাধ হয়ে যেতে পারে।

  • শরীরের প্রতিরক্ষায় মৃত্যু ঘটানো যায় (১০০ ধারা) এমন ৬টি ক্ষেত্রে — যেমন মৃত্যু বা গুরুতর আঘাতের আশঙ্কাজনক আক্রমণ, ধর্ষণের চেষ্টা, অপহরণের চেষ্টা ইত্যাদি।
  • সম্পত্তির প্রতিরক্ষায় মৃত্যু ঘটানো যায় (১০৩ ধারা) এমন ক্ষেত্রে — যেমন রাতের বেলায় গৃহে ভাঙচুর করে অনুপ্রবেশ, ডাকাতি।
  • এই অধিকারের স্থিতিকাল যতক্ষণ পর্যন্ত যুক্তিসঙ্গত আতঙ্ক (Reasonable Apprehension) বিদ্যমান থাকে ততক্ষণ পর্যন্তই বলবৎ থাকে — বিপদ কেটে গেলে অধিকারও শেষ হয়ে যায়।

আত্মরক্ষার অধিকার প্রয়োগযোগ্য কিনা কীভাবে বুঝবেন?

  1. প্রথমে দেখুন আক্রমণ প্রকৃত ও তাৎক্ষণিক কিনা (অতীতের প্রতিশোধ নয়)।
  2. তারপর দেখুন সম্পদ না শরীর কোনটি বিপদাপন্ন — সেই অনুযায়ী ৯৬-১০২ (শরীর) বা ১০৩-১০৪ (সম্পত্তি) ধারা প্রযোজ্য হবে।
  3. মৃত্যু ঘটানোর মাত্রায় পৌঁছানো যৌক্তিক কিনা যাচাই করুন — শুধু ১০০ বা ১০৩ ধারায় তালিকাভুক্ত নির্দিষ্ট পরিস্থিতিতেই মৃত্যু ঘটানো ন্যায্য।
  4. বিপদ থেমে যাওয়ার পরও বলপ্রয়োগ অব্যাহত রাখলে তা সুরক্ষার বাইরে চলে যাবে — উদাহরণ: চোর পালিয়ে যাওয়ার পরও তাকে ধাওয়া করে গুরুতর আঘাত করা আত্মরক্ষা নয়, বরং নিজেই অপরাধ।

প্ররোচনা, ষড়যন্ত্র ও অভিন্ন উদ্দেশ্য (ধারা ৩৪, ১০৭-১২০খ)

অভিন্ন উদ্দেশ্য (Common Intention, ৩৪ ধারা): একাধিক ব্যক্তি পূর্ব-পরিকল্পিত অভিন্ন উদ্দেশ্যে একত্রে কোনো অপরাধমূলক কাজ করলে, প্রত্যেকে সেই কাজের জন্য এককভাবেই দায়ী হবেন — যদিও বাস্তবে হয়তো একজনই চূড়ান্ত কাজটি করেছেন। এর জন্য ন্যূনতম ২ জন ব্যক্তি প্রয়োজন এবং পূর্ব-পরিকল্পনা (Pre-arranged Plan) থাকা আবশ্যক।

প্ররোচনা (Abetment, ১০৭ ধারা): কাউকে কোনো কাজ করতে উস্কানি দেওয়া, ষড়যন্ত্রে যুক্ত হওয়া, বা ইচ্ছাকৃতভাবে সাহায্য করার মাধ্যমে প্ররোচনা সংঘটিত হতে পারে। ১০৯ ধারা অনুযায়ী, যদি প্ররোচিত কাজ প্রকৃতপক্ষে সংঘটিত হয় এবং তার জন্য পৃথক শাস্তির বিধান না থাকে, তাহলে প্ররোচনাকারী মূল অপরাধীর সমান শাস্তি পাবেন। তবে গুরুত্বপূর্ণ শর্ত হলো — প্ররোচনাকারী কেবল সেই নির্দিষ্ট অপরাধের জন্যই দায়ী হবেন যার জন্য তিনি প্ররোচনা দিয়েছেন, তার বাইরে সংঘটিত অতিরিক্ত অপরাধের জন্য নয় (যেমন ঘরে আগুন দেওয়ার প্ররোচনা দিলে চুরির জন্য প্ররোচনাকারী দায়ী হবেন না, যদি চুরি তার প্ররোচনার অংশ না হয়)।

অপরাধমূলক ষড়যন্ত্র (Criminal Conspiracy, ১২০ক ধারা): দুই বা ততোধিক ব্যক্তি বেআইনি কাজ করতে বা বৈধ কাজ বেআইনি পন্থায় করতে চুক্তিবদ্ধ হলে তা অপরাধমূলক ষড়যন্ত্র। প্ররোচনা থেকে পার্থক্য হলো — ষড়যন্ত্রে শুধু চুক্তিই যথেষ্ট, বাস্তবে কাজ সংঘটিত হওয়া জরুরি নয় (নির্দিষ্ট ক্ষেত্রে)।

প্ররোচনা বনাম ষড়যন্ত্র বনাম অভিন্ন উদ্দেশ্য

ধারণাধারামূল উপাদান
অভিন্ন উদ্দেশ্য৩৪পূর্ব-পরিকল্পিত যৌথ কাজ, সবাই একসাথে অংশগ্রহণ করে
প্ররোচনা১০৭-১২০খউস্কানি/সাহায্য দেওয়া, নিজে সরাসরি কাজ না করেও
ষড়যন্ত্র১২০ক-১২০খশুধু বেআইনি চুক্তি, কাজ সংঘটিত না হলেও দায় হতে পারে

বেআইনি সমাবেশ, দাঙ্গা ও জনশান্তি (ধারা ১৪১-১৬০)

বেআইনি সমাবেশ (Unlawful Assembly, ১৪১ ধারা): ন্যূনতম ৫ জন ব্যক্তির সমাবেশ যদি নির্দিষ্ট কয়েকটি বেআইনি সাধারণ উদ্দেশ্যে (যেমন বলপ্রয়োগে কাউকে অন্যায়ভাবে কোনো কাজে বাধ্য করা, সরকারি সম্পত্তি দখল) গঠিত হয়, তবে তা বেআইনি সমাবেশ। ১৪৯ ধারা অনুযায়ী এই সমাবেশের যেকোনো সদস্য সাধারণ উদ্দেশ্য অনুসরণে সংঘটিত অপরাধের জন্য দায়ী হবেন, এমনকি সরাসরি অংশগ্রহণ না করলেও।

দাঙ্গা (Rioting, ১৪৬ ধারা): বেআইনি সমাবেশ কর্তৃক বলপ্রয়োগ বা সহিংসতা প্রয়োগ করা হলে তা দাঙ্গা হিসেবে গণ্য। মারামারি (Affray): সর্বনিম্ন ২ জনের অংশগ্রহণে জনসমক্ষে শান্তি বিঘ্নকারী ঝগড়া। রাষ্ট্রদ্রোহ (Sedition, ১২৪ক ধারা): সরকারের প্রতি ঘৃণা, বিদ্বেষ বা অসন্তোষ সৃষ্টির চেষ্টাকে রাষ্ট্রদ্রোহ বলা হয়, যার সর্বোচ্চ শাস্তি যাবজ্জীবন কারাদণ্ড।

ধারণান্যূনতম ব্যক্তিধারা
বেআইনি সমাবেশ৫ জন১৪১
দাঙ্গা৫ জন (বেআইনি সমাবেশ + বলপ্রয়োগ)১৪৬
মারামারি (Affray)২ জন১৫৯
দস্যুতা (Robbery)১ জন৩৯০
ডাকাতি (Dacoity)৫ জন৩৯১
অভিন্ন উদ্দেশ্য২ জন৩৪

"কতজন লাগে" — একসাথে মুখস্থ রাখার তালিকা

উপরের টেবিলটি বার কাউন্সিল পরীক্ষায় বহুবার আসা "ন্যূনতম কতজন" ধরনের প্রশ্নের সবচেয়ে সংক্ষিপ্ত সমাধান। লক্ষ করুন দস্যুতা মাত্র ১ জন দ্বারাও সংঘটিত হতে পারে (বলপ্রয়োগ থাকলেই যথেষ্ট), কিন্তু সেটিই যখন ৫ বা ততোধিক ব্যক্তি একত্রে করে তখন তা ডাকাতি হয়ে যায়।

নরহত্যা ও খুন (ধারা ২৯৯-৩১১)

মানবহত্যা সংক্রান্ত অপরাধ বার কাউন্সিল পরীক্ষায় সবচেয়ে বেশি আসা টপিকগুলোর একটি। প্রথমে দুটি মৌলিক ধারণা আলাদা করে বুঝতে হবে — মানবহত্যা (Culpable Homicide, ২৯৯ ধারা) হলো ছাতা-ধারণা, আর নরহত্যা/খুন (Murder, ৩০০ ধারা) হলো তার সবচেয়ে গুরুতর রূপ। প্রতিটি খুনই মানবহত্যা, কিন্তু প্রতিটি মানবহত্যা খুন নয়।

৩০০ ধারার পাঁচটি ব্যতিক্রম: খুনের সংজ্ঞার সাথে যুক্ত ৫টি ব্যতিক্রম আছে, যেগুলোর যেকোনো একটি প্রযোজ্য হলে কাজটি খুন নয় বরং সাধারণ মানবহত্যা (৩০৪ ধারা) হিসেবে গণ্য হবে: (১) গুরুতর ও আকস্মিক প্ররোচনার (Grave and Sudden Provocation) কারণে আত্মনিয়ন্ত্রণ হারানো, (২) আত্মরক্ষার অধিকার প্রয়োগে সীমা অতিক্রম, (৩) আইনসংগত ক্ষমতা প্রয়োগকারী সরকারি কর্মচারীর কাজ, (৪) হঠাৎ ঝগড়ায় উত্তেজনার বশে সংঘটিত কাজ (পূর্ব-পরিকল্পনা ছাড়া), (৫) ১৮ বছরের ঊর্ধ্বে ব্যক্তির স্বেচ্ছা সম্মতিতে সংঘটিত মৃত্যু।

অপরাধধারা (সংজ্ঞা)ধারা (শাস্তি)সর্বোচ্চ শাস্তি
খুন (Murder)৩০০৩০২মৃত্যুদণ্ড বা যাবজ্জীবন
খুন নহে এমন মানবহত্যা২৯৯৩০৪যাবজ্জীবন বা ১০ বছর কারাদণ্ড
অবহেলাজনিত মৃত্যু—৩০৪ক৫ বছর কারাদণ্ড (জামিনযোগ্য)
আত্মহত্যায় প্ররোচনা—৩০৬১০ বছর কারাদণ্ড
আত্মহত্যার চেষ্টা—৩০৯১ বছর বিনাশ্রম কারাদণ্ড
খুনের চেষ্টা—৩০৭যাবজ্জীবন পর্যন্ত (আসামী ইতিমধ্যে যাবজ্জীবনে থাকলে মৃত্যুদণ্ডও সম্ভব)

খুন না মানবহত্যা — কীভাবে শনাক্ত করবেন?

  1. প্রথমে দেখুন মৃত্যু ঘটানোর উদ্দেশ্য বা মৃত্যু ঘটতে পারে জেনে কাজ করা হয়েছে কিনা (২৯৯ ধারার উপাদান)।
  2. থাকলে, এবার দেখুন ৩০০ ধারার ৫টি ব্যতিক্রমের কোনোটি প্রযোজ্য কিনা (যেমন হঠাৎ উত্তেজনা, আত্মরক্ষার সীমা অতিক্রম)।
  3. ব্যতিক্রম প্রযোজ্য হলে → মানবহত্যা (৩০৪ ধারা); প্রযোজ্য না হলে → খুন (৩০২ ধারা)।
  4. উদাহরণ: তর্কাতর্কির এক পর্যায়ে হঠাৎ রাগে আঘাত করে মৃত্যু ঘটালে (পূর্ব-পরিকল্পনা ছাড়া) — এটি সাধারণত মানবহত্যা (৩০৪ ধারা), খুন নয়।

আঘাত সংক্রান্ত অপরাধ (ধারা ৩১৯-৩৩৮)

আঘাত (Hurt, ৩১৯ ধারা): কাউকে শারীরিক ব্যথা, রোগ বা অসুস্থতা সৃষ্টি করলে তা আঘাত। গুরুতর আঘাত (Grievous Hurt, ৩২০ ধারা): দণ্ডবিধি সুনির্দিষ্টভাবে ৮ প্রকারের আঘাতকে গুরুতর হিসেবে চিহ্নিত করেছে — যেমন খোজাকরণ, স্থায়ী অন্ধত্ব, স্থায়ী বধিরতা, কোনো অঙ্গ বিনষ্ট বা তার শক্তি স্থায়ীভাবে বিলুপ্তি, মুখমণ্ডলের স্থায়ী বিকৃতি, অস্থিভঙ্গ বা দাঁত ভেঙে যাওয়া, এবং এমন যেকোনো আঘাত যা জীবনের প্রতি ঝুঁকি সৃষ্টি করে বা ২০ দিনের বেশি সময় দেহের স্বাভাবিক কার্যক্রম ব্যাহত করে।

সাধারণ (সরল) আঘাতের সর্বোচ্চ শাস্তি ১ বছর কারাদণ্ড (৩২৩ ধারা), আর বিপজ্জনক অস্ত্র বা উপায়ে গুরুতর আঘাতের সর্বোচ্চ শাস্তি ১০ বছর পর্যন্ত কারাদণ্ড (৩২৬ ধারা)। দাঁত ভাঙা, নাক ভাঙা বা অস্থিভঙ্গের মতো ঘটনা প্রশ্নে প্রায়ই "কোন ধারার অপরাধ" জিজ্ঞাসা করা হয় — এগুলো সবই গুরুতর আঘাতের (৩২০ ধারা) তালিকাভুক্ত উদাহরণ।

অপহরণ, অন্যায় আটক ও বাধা (ধারা ৩৪১-৩৪২, ৩৫৯-৩৬৬)

অন্যায় বাধা (Wrongful Restraint, ৩৩৯ ধারা): কাউকে তার ইচ্ছামতো চলাচলে বাধা দেওয়া (যেমন কারো চলাচলের পথে বিঘ্ন সৃষ্টি করা), শাস্তি বিনাশ্রম কারাদণ্ড। অন্যায় আটক (Wrongful Confinement, ৩৪০ ধারা): কাউকে নির্দিষ্ট সীমানার বাইরে যেতে বাধা দেওয়া (যেমন ঘরে তালাবদ্ধ করে রাখা) — অন্যায় বাধার চেয়ে গুরুতর, কারণ এতে চলাচলের সম্পূর্ণ স্বাধীনতা হরণ হয়।

অপহরণ (Kidnapping, ৩৫৯ ধারা): দুই প্রকার — (১) বাংলাদেশ থেকে অপহরণ (৩৬০ ধারা, ভৌগোলিক সীমা অতিক্রম) এবং (২) আইনসঙ্গত অভিভাবকত্ব থেকে অপহরণ (৩৬১ ধারা, নাবালক/মানসিক অসুস্থ ব্যক্তিকে অভিভাবকের সম্মতি ছাড়া নিয়ে যাওয়া)। মনুষ্যহরণ (Abduction, ৩৬২ ধারা): প্রতারণা বা বলপ্রয়োগে কাউকে কোনো স্থান থেকে যেতে বাধ্য করা — অপহরণের চেয়ে ব্যাপকতর, বয়সসীমা নির্দিষ্ট নয়।

মানহানি, ভীতিপ্রদর্শন ও শালীনতাহানি (ধারা ৩৫৪, ৪৯৯-৫০০, ৫০৩-৫০৯)

মানহানি (Defamation, ৪৯৯ ধারা): কারো সুনাম ক্ষুণ্ন করার উদ্দেশ্যে মিথ্যা বা ক্ষতিকর তথ্য প্রকাশ করা মানহানি; এর সংজ্ঞার সাথে ১০টি ব্যতিক্রম যুক্ত আছে (যেমন সত্য ও জনস্বার্থে প্রকাশিত তথ্য, আদালতের কার্যক্রম সম্পর্কে ন্যায্য মন্তব্য)। শাস্তি ৫০০ ধারায় — সর্বোচ্চ ২ বছর কারাদণ্ড।

অপরাধমূলক ভীতি প্রদর্শন (Criminal Intimidation, ৫০৩ ধারা): কাউকে ক্ষতির ভয় দেখিয়ে কোনো কাজ করতে বা না করতে বাধ্য করার চেষ্টা; শাস্তি ৫০৬ ধারায়। নারীর শালীনতাহানি (Outraging Modesty, ৩৫৪ ধারা): নারীর শালীনতাহানির উদ্দেশ্যে আক্রমণ বা অপরাধমূলক বলপ্রয়োগ। ইভটিজিং (৫০৯ ধারা): নারীর শালীনতা ক্ষুণ্ন করার উদ্দেশ্যে শব্দ, অঙ্গভঙ্গি বা কাজ — এই ধারাটি সাম্প্রতিক পরীক্ষায় একাধিকবার এসেছে।

চুরি, দস্যুতা ও ডাকাতি (ধারা ৩৭৮-৪০২)

চুরি (Theft, ৩৭৮ ধারা): কারো সম্মতি ছাড়া তার দখল থেকে অসাধুভাবে অস্থাবর সম্পত্তি সরিয়ে নেওয়া। মূল উপাদান — সম্পত্তি অবশ্যই অস্থাবর (Movable) হতে হবে; জমির মতো স্থাবর সম্পত্তি নিজে চুরির বিষয়বস্তু হতে পারে না, তবে জমি থেকে বিচ্ছিন্ন কিছু (যেমন কাটা গাছ, ধান) অস্থাবর হয়ে গেলে চুরি প্রযোজ্য হয়। সাধারণ চুরির সর্বোচ্চ শাস্তি ৩ বছর কারাদণ্ড (৩৭৯ ধারা); বসতঘরে চুরির সর্বোচ্চ শাস্তি বেশি — ৭ বছর সশ্রম কারাদণ্ড (৩৮০ ধারা)।

বলপূর্বক আদায় (Extortion, ৩৮৩ ধারা): কাউকে ভয় দেখিয়ে সম্পত্তি বা মূল্যবান জামানত হস্তান্তরে বাধ্য করা। দস্যুতা (Robbery, ৩৯০ ধারা): চুরি বা বলপূর্বক আদায়ের সাথে সহিংসতা বা সহিংসতার আশঙ্কা যুক্ত হলে তা দস্যুতা — এটি মাত্র ১ জন ব্যক্তি দ্বারাও সংঘটিত হতে পারে। ডাকাতি (Dacoity, ৩৯১ ধারা): ৫ বা ততোধিক ব্যক্তি একত্রে দস্যুতা করলে তা ডাকাতি — ডাকাতির সাথে খুন সংঘটিত হলে সর্বোচ্চ শাস্তি মৃত্যুদণ্ড (৩৯৬ ধারা)।

ধারণাধারাবিশেষত্ব
চুরি৩৭৮শুধু অস্থাবর সম্পত্তি, বলপ্রয়োগ নেই
বলপূর্বক আদায়৩৮৩ভয় দেখিয়ে সম্পত্তি আদায়, সম্মতিতেই হস্তান্তর
দস্যুতা৩৯০চুরি/বলপূর্বক আদায় + সহিংসতা, ১ জনেও সম্ভব
ডাকাতি৩৯১দস্যুতা, তবে ৫+ ব্যক্তি একত্রে

চুরি না দস্যুতা — কীভাবে আলাদা করবেন?

  1. প্রথমে দেখুন সম্পত্তি নেওয়ার সময় বলপ্রয়োগ বা সহিংসতার হুমকি ছিল কিনা।
  2. না থাকলে → সাধারণ চুরি (৩৭৮ ধারা)।
  3. থাকলে, কতজন জড়িত তা গণনা করুন — ৫ জনের কম হলে দস্যুতা (৩৯০), ৫ বা তার বেশি হলে ডাকাতি (৩৯১)।
  4. উদাহরণ: চুরি করতে গিয়ে আসামী যদি স্বেচ্ছায় আঘাত করে, তা আর সাধারণ চুরি থাকে না — দস্যুতা হয়ে যায়।

প্রতারণা, আত্মসাৎ ও বিশ্বাসভঙ্গ (ধারা ৪০৩-৪২০)

অপরাধমূলক আত্মসাৎ (Criminal Misappropriation, ৪০৩ ধারা): কারো সম্পত্তি (যা প্রথমে বৈধভাবে দখলে এসেছিল, যেমন কুড়িয়ে পাওয়া বস্তু) পরে অসাধুভাবে নিজের বলে ব্যবহার/বিক্রি করা। বিশ্বাসভঙ্গ (Criminal Breach of Trust, ৪০৫ ধারা): কারো উপর অর্পিত সম্পত্তি সেই বিশ্বাস ভঙ্গ করে অসাধুভাবে আত্মসাৎ বা ব্যবহার করা — মূল পার্থক্য হলো এখানে সম্পত্তি অর্পণের একটি সুস্পষ্ট চুক্তি/বিশ্বাসের সম্পর্ক থাকে, যা আত্মসাতে (৪০৩) থাকে না।

প্রতারণা (Cheating, ৪১৫ ধারা): মিথ্যা প্রতিনিধিত্ব করে কাউকে প্রতারিত করে সম্পত্তি প্রদানে বা কোনো কাজে প্ররোচিত করা; শাস্তি ৪১৭ ধারায় (সাধারণ, ১ বছর) এবং ৪২০ ধারায় (সম্পত্তি হস্তান্তরসহ প্রতারণা, ৭ বছর পর্যন্ত)। ছদ্মবেশে প্রতারণা (Cheating by Personation, ৪১৬ ধারা): অন্য কারো পরিচয় ধারণ করে প্রতারণা — যেমন মৃত ব্যক্তির পরিচয় নিয়ে প্রতারণা করা এই ধারার অধীনে পড়ে।

আত্মসাৎ বনাম বিশ্বাসভঙ্গ বনাম প্রতারণা

ধারণাধারামূল উপাদান
অপরাধমূলক আত্মসাৎ৪০৩বৈধভাবে দখলে আসা সম্পত্তি পরে অসাধুভাবে নিজের করে নেওয়া
বিশ্বাসভঙ্গ৪০৫সুস্পষ্ট অর্পণ/বিশ্বাসের সম্পর্ক ভঙ্গ করে আত্মসাৎ
প্রতারণা৪১৫মিথ্যা প্রতিনিধিত্বে অন্যকে প্রতারিত করে সম্পত্তি/কাজ আদায়

জালিয়াতি ও নথি সংক্রান্ত অপরাধ (ধারা ৪৬৩-৪৭৭ক)

মিথ্যা দলিল প্রস্তুতকরণ (৪৬৪ ধারা): কারো স্বাক্ষর জাল করা, দলিলে বেআইনি পরিবর্তন আনা, বা প্রতারণামূলকভাবে অন্যের স্বাক্ষর আছে বলে বিশ্বাস করানো — এই তিনটি উপায়ে মিথ্যা দলিল প্রস্তুত হতে পারে। জালিয়াতি (Forgery, ৪৬৩ ধারা): প্রতারণার উদ্দেশ্যে মিথ্যা দলিল তৈরি করা; সাধারণ জালিয়াতির শাস্তি ৪৬৫ ধারায় (২ বছর), আর প্রতারণার উদ্দেশ্যে জালিয়াতির শাস্তি আরও কঠোর — ৪৬৮ ধারায় সর্বোচ্চ ৭ বছর কারাদণ্ড।

দণ্ডবিধিতে ট্রেড মার্ক (Trade Mark) — অর্থাৎ কোনো পণ্য নির্দিষ্ট ব্যক্তির উৎপাদিত বলে বোঝাতে ব্যবহৃত চিহ্ন — সংক্রান্ত জালিয়াতিও পৃথকভাবে অপরাধ হিসেবে বিবেচিত। গৃহভঙ্গ (House-breaking, ৪৪৫ ধারা) — যা চুরি বা অন্য অপরাধ সংঘটনের উদ্দেশ্যে অন্যের গৃহে অনুপ্রবেশ — দণ্ডবিধিতে ৬টি উপায়ে সংঘটিত হতে পারে বলে বর্ণিত আছে।

রাষ্ট্র ও বিচারপ্রক্রিয়ার বিরুদ্ধে অপরাধ (ধারা ১২১-১৩০, ১৯৩, ২০১, ২২৮)

রাষ্ট্রদ্রোহ (Sedition, ১২৪ক ধারা): সরকারের প্রতি ঘৃণা, বিদ্বেষ বা অসন্তোষ সৃষ্টির চেষ্টা করলে তা রাষ্ট্রদ্রোহ; সর্বোচ্চ শাস্তি যাবজ্জীবন কারাদণ্ড। মিথ্যা সাক্ষ্য প্রদান (১৯৩ ধারা): বৈচারিক কার্যক্রমে মিথ্যা সাক্ষ্য দিলে সর্বোচ্চ ৭ বছর কারাদণ্ড। প্রমাণ ধ্বংস করে অপরাধীকে রক্ষা (২০১ ধারা): কোনো অপরাধের প্রমাণ গোপন বা ধ্বংস করে অপরাধীকে আইনি শাস্তি থেকে রক্ষার চেষ্টা।

বিচারিক কার্যক্রমে বাধাদান (২২৮ ধারা): বিচারিক কার্যধারায় নিযুক্ত সরকারি কর্মচারীকে ইচ্ছাকৃতভাবে অবজ্ঞা করা বা বাধাগ্রস্ত করা। সরকারি আদেশ অমান্য (১৮৮ ধারা): সরকারি কর্মচারী কর্তৃক যথাযথভাবে জারিকৃত আদেশ অমান্য করা। এই ধারাগুলো বিচারব্যবস্থা ও প্রশাসনিক শৃঙ্খলা রক্ষার সাথে সরাসরি সম্পর্কিত বলে বার কাউন্সিল পরীক্ষায় গুরুত্বপূর্ণ।

তুলনা ও কমন বিভ্রান্তি

নিচের তুলনাগুলো পরীক্ষার্থীদের সবচেয়ে বেশি গুলিয়ে ফেলা বিষয়গুলো একত্রে সাজানো হলো, যাতে দ্রুত রিভিশনে পার্থক্যগুলো স্পষ্ট থাকে।

চুরি বনাম দস্যুতা বনাম ডাকাতি বনাম বলপূর্বক আদায়

চুরিতে বলপ্রয়োগ থাকে না; বলপূর্বক আদায়ে ভয় দেখিয়ে সম্মতিতেই সম্পত্তি হস্তান্তর করানো হয় (তাই ভুক্তভোগী স্বেচ্ছায় দেয়, চুরির মতো লুকিয়ে নেওয়া হয় না); দস্যুতায় বলপ্রয়োগ/সহিংসতা থাকে এবং তা ১ জন করলেও হয়; ডাকাতি হলো ৫+ ব্যক্তির দস্যুতা।

খুন বনাম মানবহত্যা বনাম অবহেলাজনিত মৃত্যু

খুন ও মানবহত্যা উভয় ক্ষেত্রেই মৃত্যু ঘটানোর উদ্দেশ্য বা মৃত্যু হতে পারে জেনে কাজ করা থাকে — পার্থক্য শুধু ৩০০ ধারার ৫টি ব্যতিক্রম প্রযোজ্য কিনা তাতে। অন্যদিকে অবহেলাজনিত মৃত্যুতে (৩০৪ক) মৃত্যু ঘটানোর কোনো উদ্দেশ্যই থাকে না — নিছক বেপরোয়া বা অবহেলাজনিত আচরণে দুর্ঘটনাক্রমে মৃত্যু ঘটে (যেমন বেপরোয়া গাড়ি চালানো), তাই এটি জামিনযোগ্য অপরাধ।

আত্মসাৎ বনাম বিশ্বাসভঙ্গ বনাম প্রতারণা বনাম জালিয়াতি

আত্মসাতে সম্পত্তি প্রথমে দুর্ঘটনাক্রমে/বৈধভাবে হাতে আসে; বিশ্বাসভঙ্গে একটি সুস্পষ্ট অর্পণ-সম্পর্ক ভঙ্গ হয়; প্রতারণায় মিথ্যা প্রতিনিধিত্বের মাধ্যমে অন্যকে ঠকিয়ে সম্পত্তি/সুবিধা আদায় করা হয়; আর জালিয়াতিতে প্রতারণার হাতিয়ার হিসেবে একটি মিথ্যা দলিল তৈরি করা হয় — অর্থাৎ জালিয়াতি প্রায়ই প্রতারণার একটি পূর্ববর্তী ধাপ।

প্ররোচনা বনাম অভিন্ন উদ্দেশ্য বনাম ষড়যন্ত্র

অভিন্ন উদ্দেশ্যে (৩৪ ধারা) সবাই সরাসরি অংশ নেয় যৌথ পরিকল্পনায়; প্ররোচনায় (১০৭-১২০খ) একজন কেবল উস্কানি/সাহায্য দেয়, নিজে সরাসরি কাজ নাও করতে পারে; ষড়যন্ত্রে (১২০ক) শুধু বেআইনি চুক্তিই যথেষ্ট, প্রকৃত কাজ সংঘটিত হওয়া সবসময় জরুরি নয়।

মাস্টার রেফারেন্স টেবিল — দ্রুত রিভিশন

পরীক্ষার ঠিক আগে দ্রুত রিভিশনের জন্য দণ্ডবিধির সবচেয়ে বেশি জিজ্ঞাসিত ধারাগুলো একত্রে দেওয়া হলো।

ধারাবিষয়বস্তু
২১সরকারি কর্মচারীর সংজ্ঞা
২৪ / ২৫অসাধুভাবে / প্রতারণামূলকভাবে-এর সংজ্ঞা
৩৪অভিন্ন উদ্দেশ্য (Common Intention)
৫৩দণ্ডের ৫ প্রকার
৭৭বিচারকের সরল বিশ্বাসে কৃত কাজ
৮২ / ৮৩৯ বছরের কম / ৯-১২ বছর শিশুর দায়মুক্তি
৮৪মানসিক ভারসাম্যহীন ব্যক্তির দায়মুক্তি
৯৬-১০৬আত্মরক্ষার অধিকার
১০০ / ১০৩শরীর/সম্পত্তি রক্ষায় মৃত্যু ঘটানো যায় এমন ক্ষেত্র
১০৯প্ররোচনাকারীর শাস্তি (মূল অপরাধীর সমান)
১২০কঅপরাধমূলক ষড়যন্ত্রের সংজ্ঞা
১২৪করাষ্ট্রদ্রোহ
১৪১ / ১৪৬বেআইনি সমাবেশ / দাঙ্গা
১৪৯বেআইনি সমাবেশের সদস্যের দায়
১৮৮সরকারি আদেশ অমান্য
১৯৩মিথ্যা সাক্ষ্য প্রদান
২৯৯ / ৩০০মানবহত্যা / খুনের সংজ্ঞা (৫টি ব্যতিক্রমসহ)
৩০২ / ৩০৪ / ৩০৪কখুন / মানবহত্যা / অবহেলাজনিত মৃত্যুর শাস্তি
৩০৬ / ৩০৯আত্মহত্যায় প্ররোচনা / আত্মহত্যার চেষ্টা
৩২০গুরুতর আঘাতের ৮ প্রকার
৩৩৯ / ৩৪০অন্যায় বাধা / অন্যায় আটক
৩৫৪ / ৫০৯শালীনতাহানি / ইভটিজিং
৩৫৯-৩৬২অপহরণের ২ প্রকার ও মনুষ্যহরণ
৩৭৮ / ৩৮০চুরি / বসতঘরে চুরি
৩৮৩বলপূর্বক আদায় (Extortion)
৩৯০ / ৩৯১ / ৩৯৬দস্যুতা / ডাকাতি / ডাকাতির সাথে খুন
৪০৩ / ৪০৫অসাধু আত্মসাৎ / বিশ্বাসভঙ্গ
৪১৫ / ৪১৬ / ৪২০প্রতারণা / ছদ্মবেশে প্রতারণা / সম্পত্তিসহ প্রতারণা
৪৪১ / ৪৪৫অপরাধমূলক অনধিকার প্রবেশ / গৃহভঙ্গ
৪৬৩ / ৪৬৪ / ৪৬৮জালিয়াতি / মিথ্যা দলিল প্রস্তুত / প্রতারণার উদ্দেশ্যে জালিয়াতি
৪৯৯ / ৫০০মানহানির সংজ্ঞা (১০ ব্যতিক্রম) / শাস্তি
৫০৩ / ৫০৬অপরাধমূলক ভীতি প্রদর্শনের সংজ্ঞা / শাস্তি
৫১১অপরাধের চেষ্টার সাধারণ শাস্তি (মূল শাস্তির অর্ধেক পর্যন্ত)

বাস্তব পরীক্ষায় আসা প্রশ্ন (সমাধানসহ)

দণ্ডবিধি থেকে বার কাউন্সিল এনরোলমেন্ট পরীক্ষায় আসা প্রতিনিধিত্বমূলক প্রশ্ন অপশন ও ব্যাখ্যাসহ সমাধান করা হলো।

২০১৩ বার কাউন্সিল

পেনাল কোড হলো একটি —

(ক) Adjective Law   (খ) Substantive Law   (গ) Procedural Law   (ঘ) Delegated Legislation

উত্তর: (খ) Substantive Law

ব্যাখ্যা: দণ্ডবিধি একটি Substantive Law বা মূল আইন — এটি অপরাধ সংজ্ঞায়িত করে এবং তার শাস্তি নির্ধারণ করে, বিচারপ্রক্রিয়া নির্ধারণ করে না (তা করে পদ্ধতিগত আইন যেমন ফৌজদারি কার্যবিধি)।

২০১২ বার কাউন্সিল

দণ্ডবিধির কোন ধারায় অভিন্ন ইচ্ছা (Common Intention) জনিত দায় সম্পর্কে বিধান আছে?

(ক) ধারা ১০৭   (খ) ধারা ৩০০   (গ) ধারা ৩৭৮   (ঘ) ধারা ৩৪

উত্তর: (ঘ) ধারা ৩৪

ব্যাখ্যা: ৩৪ ধারা অনুযায়ী একাধিক ব্যক্তি অভিন্ন ইচ্ছায় (Common Intention) কোনো অপরাধমূলক কাজ করলে প্রত্যেকে এককভাবে সেই কাজ করার ন্যায় দায়ী হবে।

২০১২ বার কাউন্সিল

দণ্ডবিধি অনুসারে কত বছরের কম বয়স্ক শিশুর কর্মকাণ্ড শাস্তিযোগ্য অপরাধ হিসেবে গণ্য হবে না?

(ক) ৭ বছর   (খ) ১২ বছর   (গ) ৯ বছর   (ঘ) ১৪ বছর

উত্তর: (গ) ৯ বছর

ব্যাখ্যা: ৮২ ধারা অনুসারে ৯ বছরের কম বয়সী শিশুর কোনো কাজ অপরাধ হিসেবে গণ্য হবে না (Doli Incapax নীতি) — তার অপরাধমূলক দায়িত্ববোধ থাকার কথা ধরে নেওয়া হয় না।

২০১৫ বার কাউন্সিল

দণ্ডবিধির ৩০০ ধারায় খুনের সংজ্ঞায় ব্যতিক্রম মোট কতটি?

(ক) ৩টি   (খ) ৪টি   (গ) ৫টি   (ঘ) ৬টি

উত্তর: (গ) ৫টি

ব্যাখ্যা: ৩০০ ধারায় নরহত্যা (Murder)-এর সংজ্ঞার সাথে ৫টি ব্যতিক্রম (Exception) যুক্ত আছে, যেগুলোর যেকোনো একটি প্রযোজ্য হলে কাজটি খুন নয় বরং সাধারণ মানবহত্যা (৩০৪ ধারা) হিসেবে গণ্য হয়।

২০১৫ বার কাউন্সিল

দণ্ডবিধি অনুসারে কত প্রকারের শাস্তি আছে?

(ক) ৩ প্রকার   (খ) ৪ প্রকার   (গ) ৫ প্রকার   (ঘ) ৬ প্রকার

উত্তর: (গ) ৫ প্রকার

ব্যাখ্যা: ৫৩ ধারা অনুসারে মৃত্যুদণ্ড, যাবজ্জীবন কারাদণ্ড, কারাদণ্ড (কঠোর/সাধারণ), সম্পত্তি বাজেয়াপ্তকরণ এবং অর্থদণ্ড — এই ৫ প্রকার শাস্তির বিধান আছে।

২০২০ বার কাউন্সিল

দণ্ডবিধির কোন অধ্যায়ে রাষ্ট্রের বিরুদ্ধে অপরাধ সম্পর্কিত বিধান রয়েছে?

(ক) তৃতীয় অধ্যায়   (খ) পঞ্চম অধ্যায়   (গ) ষষ্ঠ অধ্যায়   (ঘ) সপ্তম অধ্যায়

উত্তর: (গ) ষষ্ঠ অধ্যায়

ব্যাখ্যা: দণ্ডবিধির ষষ্ঠ অধ্যায়ে (Chapter VI, ধারা ১২১-১৩০) রাষ্ট্রের বিরুদ্ধে অপরাধ (রাষ্ট্রদ্রোহসহ) সম্পর্কিত বিধান রয়েছে।

২০২০ বার কাউন্সিল

A, B-কে C-এর ঘর পোড়ানোর জন্য প্ররোচিত করে। B, C-এর ঘরে আগুন দেয় ও একই সাথে চুরিও করে। A দায়ী হবে —

(ক) চুরি ও অগ্নিসংযোগ উভয়ের জন্য   (খ) শুধু চুরির জন্য   (গ) ঘর পোড়াতে প্ররোচনার জন্য   (ঘ) কোনো অপরাধের জন্য দায়ী নয়

উত্তর: (গ) ঘর পোড়াতে প্ররোচনার জন্য

ব্যাখ্যা: ইন্ধনদাতা (Abettor) কেবল সেই নির্দিষ্ট অপরাধের জন্য দায়ী হন যার জন্য তিনি প্ররোচনা দিয়েছেন। A শুধু অগ্নিসংযোগের জন্য প্ররোচনা দিয়েছিল, চুরির জন্য নয় — তাই চুরির দায় A-এর উপর বর্তাবে না।

২০২২ বার কাউন্সিল

দণ্ডবিধির কোন অধ্যায়ে সাধারণ ব্যতিক্রমসমূহ (General Exceptions) বর্ণিত হয়েছে?

(ক) দ্বিতীয় অধ্যায়   (খ) তৃতীয় অধ্যায়   (গ) চতুর্থ অধ্যায়   (ঘ) পঞ্চম অধ্যায়

উত্তর: (গ) চতুর্থ অধ্যায়

ব্যাখ্যা: দণ্ডবিধির চতুর্থ অধ্যায়ে (ধারা ৭৬-১০৬) সাধারণ ব্যতিক্রমসমূহ বর্ণিত হয়েছে — যেমন শিশুর দায়মুক্তি, আত্মরক্ষার অধিকার, সরল বিশ্বাসে কৃত কাজ ইত্যাদি।

২০২৩ বার কাউন্সিল

দণ্ডবিধি অনুসারে চুরি কোন প্রকৃতির সম্পত্তির সাথে সম্পৃক্ত?

(ক) শুধু স্থাবর   (খ) শুধু অস্থাবর   (গ) স্থাবর ও অস্থাবর উভয়   (ঘ) শুধু নগদ অর্থ

উত্তর: (খ) শুধু অস্থাবর

ব্যাখ্যা: ৩৭৮ ধারা অনুযায়ী চুরি কেবল অস্থাবর (Movable) সম্পত্তির ক্ষেত্রে প্রযোজ্য — স্থাবর সম্পত্তি (যেমন জমি) নিজে চুরির বিষয়বস্তু হতে পারে না, তবে তা থেকে বিচ্ছিন্ন কোনো বস্তু (যেমন গাছ কেটে নেওয়া) অস্থাবর হয়ে গেলে চুরি প্রযোজ্য হয়।

২০২৩ বার কাউন্সিল

দণ্ডবিধি অনুসারে মনুষ্যহরণ (Kidnapping) কত প্রকার?

(ক) ১ প্রকার   (খ) ২ প্রকার   (গ) ৩ প্রকার   (ঘ) ৪ প্রকার

উত্তর: (খ) ২ প্রকার

ব্যাখ্যা: দণ্ডবিধি অনুযায়ী মনুষ্যহরণ দুই প্রকার — (১) বাংলাদেশ থেকে অপহরণ (ধারা ৩৬০) এবং (২) আইনসঙ্গত অভিভাবকত্ব থেকে অপহরণ (ধারা ৩৬১)।

অনুশীলনী

নিচের ৭৫টি প্রশ্ন দিয়ে নিজের প্রস্তুতি যাচাই করুন — প্রতিটির সাথে সঠিক উত্তর ও ব্যাখ্যা দেওয়া আছে।

১. দণ্ডবিধির ৩০০ ধারায় কোন অপরাধের সংজ্ঞা দেওয়া হয়েছে?

(ক) নরহত্যা (Murder) (খ) মানবহত্যা (Culpable Homicide) (গ) আঘাত (Hurt) (ঘ) অপহরণ

সঠিক উত্তর: (ক) নরহত্যা (Murder)

ব্যাখ্যা: ৩০০ ধারায় নরহত্যা (Murder)-এর সংজ্ঞা ও তার ব্যতিক্রমসমূহ বর্ণিত হয়েছে।

২. নরহত্যার (Murder) শাস্তি কোন ধারায় বর্ণিত আছে?

(ক) ধারা ৩০০ (খ) ধারা ৩০২ (গ) ধারা ৩০৪ (ঘ) ধারা ৩০৬

সঠিক উত্তর: (খ) ধারা ৩০২

ব্যাখ্যা: ৩০২ ধারায় নরহত্যার শাস্তি — মৃত্যুদণ্ড বা যাবজ্জীবন কারাদণ্ড এবং অর্থদণ্ড — বর্ণিত আছে।

৩. মানবহত্যা যা নরহত্যা নয় (Culpable Homicide not amounting to Murder)-এর শাস্তি কোন ধারায়?

(ক) ধারা ৩০২ (খ) ধারা ৩০৩ (গ) ধারা ৩০৪ (ঘ) ধারা ৩০৫

সঠিক উত্তর: (গ) ধারা ৩০৪

ব্যাখ্যা: ৩০৪ ধারায় মানবহত্যা যা নরহত্যা পর্যায়ে পড়ে না, তার শাস্তি বর্ণিত আছে।

৪. আত্মহত্যায় প্ররোচনার শাস্তি কোন ধারায় আছে?

(ক) ধারা ৩০৪ (খ) ধারা ৩০৫ (গ) ধারা ৩০৬ (ঘ) ধারা ৩০৯

সঠিক উত্তর: (গ) ধারা ৩০৬

ব্যাখ্যা: ৩০৬ ধারায় আত্মহত্যায় প্ররোচনার শাস্তি বর্ণিত আছে।

৫. আত্মহত্যার চেষ্টার শাস্তি কোন ধারায় আছে?

(ক) ধারা ৩০৬ (খ) ধারা ৩০৯ (গ) ধারা ৩১০ (ঘ) ধারা ৩১১

সঠিক উত্তর: (খ) ধারা ৩০৯

ব্যাখ্যা: ৩০৯ ধারায় আত্মহত্যার চেষ্টার শাস্তি বর্ণিত আছে।

৬. যৌথ অভিপ্রায়ে (Common Intention) কৃত অপরাধ সংক্রান্ত বিধান কোন ধারায় আছে?

(ক) ধারা ৩৪ (খ) ধারা ৩৫ (গ) ধারা ১০৭ (ঘ) ধারা ১২০ক

সঠিক উত্তর: (ক) ধারা ৩৪

ব্যাখ্যা: ৩৪ ধারা অনুযায়ী একাধিক ব্যক্তি যৌথ অভিপ্রায়ে অপরাধ করলে প্রত্যেকে একক অপরাধকারীর ন্যায় দায়ী হবে।

৭. অপরাধে ইন্ধন দান (Abetment)-এর সংজ্ঞা কোন ধারায় আছে?

(ক) ধারা ১০৭ (খ) ধারা ১০৮ (গ) ধারা ১০৯ (ঘ) ধারা ১১০

সঠিক উত্তর: (ক) ধারা ১০৭

ব্যাখ্যা: ১০৭ ধারায় ইন্ধন দান (Abetment)-এর সংজ্ঞা দেওয়া হয়েছে।

৮. অপরাধমূলক ষড়যন্ত্রের (Criminal Conspiracy) সংজ্ঞা কোন ধারায় আছে?

(ক) ধারা ১১৯ (খ) ধারা ১২০ (গ) ধারা ১২০ক (ঘ) ধারা ১২১

সঠিক উত্তর: (গ) ধারা ১২০ক

ব্যাখ্যা: ১২০ক ধারায় অপরাধমূলক ষড়যন্ত্রের সংজ্ঞা দেওয়া হয়েছে।

৯. চুরির (Theft) সংজ্ঞা কোন ধারায় আছে?

(ক) ধারা ৩৭৮ (খ) ধারা ৩৭৯ (গ) ধারা ৩৮০ (ঘ) ধারা ৪০৩

সঠিক উত্তর: (ক) ধারা ৩৭৮

ব্যাখ্যা: ৩৭৮ ধারায় চুরি (Theft)-এর সংজ্ঞা দেওয়া হয়েছে।

১০. চুরির শাস্তি কোন ধারায় বর্ণিত আছে?

(ক) ধারা ৩৭৮ (খ) ধারা ৩৭৯ (গ) ধারা ৩৮০ (ঘ) ধারা ৩৮১

সঠিক উত্তর: (খ) ধারা ৩৭৯

ব্যাখ্যা: ৩৭৯ ধারায় চুরির শাস্তি বর্ণিত আছে।

১১. দস্যুতা (Robbery)-র সংজ্ঞা কোন ধারায় আছে?

(ক) ধারা ৩৯০ (খ) ধারা ৩৯১ (গ) ধারা ৩৯২ (ঘ) ধারা ৩৯৫

সঠিক উত্তর: (ক) ধারা ৩৯০

ব্যাখ্যা: ৩৯০ ধারায় দস্যুতা (Robbery)-র সংজ্ঞা দেওয়া হয়েছে — চুরি বা বলপূর্বক আদায় যখন সহিংসতার সাথে যুক্ত হয়।

১২. দলবদ্ধ দস্যুতা (Dacoity)-কে কত জনের অংশগ্রহণে সংঘটিত দস্যুতা বলে গণ্য করা হয়?

(ক) ৩ জন (খ) ৫ জন বা তার বেশি (গ) ৭ জন (ঘ) ১০ জন

সঠিক উত্তর: (খ) ৫ জন বা তার বেশি

ব্যাখ্যা: ৩৯১ ধারা অনুযায়ী ৫ বা ততোধিক ব্যক্তি একত্রে দস্যুতা সংঘটন করলে তাকে Dacoity বলা হয়।

১৩. প্রতারণা (Cheating)-র সংজ্ঞা কোন ধারায় আছে?

(ক) ধারা ৪১৫ (খ) ধারা ৪১৭ (গ) ধারা ৪২০ (ঘ) ধারা ৪৬৩

সঠিক উত্তর: (ক) ধারা ৪১৫

ব্যাখ্যা: ৪১৫ ধারায় প্রতারণা (Cheating)-র সংজ্ঞা দেওয়া হয়েছে।

১৪. প্রতারণা করে সম্পত্তি প্রদানে প্ররোচিত করার শাস্তি কোন ধারায় আছে?

(ক) ধারা ৪১৫ (খ) ধারা ৪১৭ (গ) ধারা ৪২০ (ঘ) ধারা ৪২১

সঠিক উত্তর: (গ) ধারা ৪২০

ব্যাখ্যা: ৪২০ ধারায় প্রতারণা করে সম্পত্তি হস্তান্তরে প্ররোচিত করার শাস্তি বর্ণিত আছে।

১৫. অপরাধমূলক আত্মসাৎ (Criminal Misappropriation)-এর সংজ্ঞা কোন ধারায় আছে?

(ক) ধারা ৪০৩ (খ) ধারা ৪০৫ (গ) ধারা ৪০৬ (ঘ) ধারা ৪২০

সঠিক উত্তর: (ক) ধারা ৪০৩

ব্যাখ্যা: ৪০৩ ধারায় অপরাধমূলক আত্মসাৎ (Criminal Misappropriation of Property)-এর সংজ্ঞা দেওয়া হয়েছে।

১৬. বিশ্বাসভঙ্গজনিত অপরাধ (Criminal Breach of Trust)-এর সংজ্ঞা কোন ধারায় আছে?

(ক) ধারা ৪০৫ (খ) ধারা ৪০৬ (গ) ধারা ৪০৯ (ঘ) ধারা ৪২০

সঠিক উত্তর: (ক) ধারা ৪০৫

ব্যাখ্যা: ৪০৫ ধারায় বিশ্বাসভঙ্গজনিত অপরাধ (Criminal Breach of Trust)-এর সংজ্ঞা দেওয়া হয়েছে।

১৭. জাল দলিল প্রস্তুতকরণ (Forgery)-এর সংজ্ঞা কোন ধারায় আছে?

(ক) ধারা ৪৬৩ (খ) ধারা ৪৬৪ (গ) ধারা ৪৬৫ (ঘ) ধারা ৪৬৮

সঠিক উত্তর: (খ) ধারা ৪৬৪

ব্যাখ্যা: ৪৬৪ ধারায় জাল দলিল প্রস্তুতকরণ (Making a False Document)-এর সংজ্ঞা দেওয়া হয়েছে।

১৮. প্রতারণার উদ্দেশ্যে জালিয়াতির শাস্তি কোন ধারায় আছে?

(ক) ধারা ৪৬৩ (খ) ধারা ৪৬৫ (গ) ধারা ৪৬৬ (ঘ) ধারা ৪৬৮

সঠিক উত্তর: (ঘ) ধারা ৪৬৮

ব্যাখ্যা: ৪৬৮ ধারায় প্রতারণার উদ্দেশ্যে সংঘটিত জালিয়াতির শাস্তি বর্ণিত আছে, যা সাধারণ জালিয়াতির (৪৬৫ ধারা) চেয়ে কঠোর।

১৯. অপরাধমূলক ভীতি প্রদর্শন (Criminal Intimidation)-এর সংজ্ঞা কোন ধারায় আছে?

(ক) ধারা ৫০৩ (খ) ধারা ৫০৪ (গ) ধারা ৫০৬ (ঘ) ধারা ৫০৯

সঠিক উত্তর: (ক) ধারা ৫০৩

ব্যাখ্যা: ৫০৩ ধারায় অপরাধমূলক ভীতি প্রদর্শনের সংজ্ঞা দেওয়া হয়েছে।

২০. নারীর শালীনতাহানির উদ্দেশ্যে আক্রমণ সংক্রান্ত শাস্তি কোন ধারায় আছে?

(ক) ধারা ৩৫৪ (খ) ধারা ৩৭৫ (গ) ধারা ৪৯৪ (ঘ) ধারা ৫০৯

সঠিক উত্তর: (ক) ধারা ৩৫৪

ব্যাখ্যা: ৩৫৪ ধারায় নারীর শালীনতাহানির উদ্দেশ্যে আক্রমণ বা অপরাধমূলক বলপ্রয়োগের শাস্তি বর্ণিত আছে।

২১. ধর্ষণের (Rape) সংজ্ঞা মূলত কোন ধারায় ছিল?

(ক) ধারা ৩৭৩ (খ) ধারা ৩৭৫ (গ) ধারা ৩৭৬ (ঘ) ধারা ৩৭৭

সঠিক উত্তর: (খ) ধারা ৩৭৫

ব্যাখ্যা: দণ্ডবিধির ৩৭৫ ধারায় ধর্ষণের সংজ্ঞা এবং ৩৭৬ ধারায় শাস্তি বর্ণিত ছিল (পরবর্তীতে বিশেষ আইনেও প্রাসঙ্গিক বিধান যুক্ত হয়েছে)।

২২. অপহরণ (Kidnapping)-এর সংজ্ঞা কোন ধারায় আছে?

(ক) ধারা ৩৫৯ (খ) ধারা ৩৬০ (গ) ধারা ৩৬৩ (ঘ) ধারা ৩৬৪

সঠিক উত্তর: (ক) ধারা ৩৫৯

ব্যাখ্যা: ৩৫৯ ধারায় অপহরণের প্রকারভেদ এবং পরবর্তী ধারাসমূহে (৩৬০-৩৬৬) বিস্তারিত সংজ্ঞা ও শাস্তি বর্ণিত আছে।

২৩. বেআইনি সমাবেশ (Unlawful Assembly)-এর সংজ্ঞার জন্য ন্যূনতম কত জন ব্যক্তি প্রয়োজন?

(ক) ৩ জন বা তার বেশি (খ) ৫ জন বা তার বেশি (গ) ৭ জন বা তার বেশি (ঘ) ১০ জন বা তার বেশি

সঠিক উত্তর: (খ) ৫ জন বা তার বেশি

ব্যাখ্যা: ১৪১ ধারা অনুযায়ী ৫ বা ততোধিক ব্যক্তির সমাবেশ নির্দিষ্ট সাধারণ উদ্দেশ্যে হলে তা বেআইনি সমাবেশ হিসেবে গণ্য হয়।

২৪. দাঙ্গা (Rioting)-এর সংজ্ঞা কোন ধারায় আছে?

(ক) ধারা ১৪৬ (খ) ধারা ১৪৭ (গ) ধারা ১৪৮ (ঘ) ধারা ১৪৯

সঠিক উত্তর: (ক) ধারা ১৪৬

ব্যাখ্যা: ১৪৬ ধারায় দাঙ্গা (Rioting)-র সংজ্ঞা দেওয়া হয়েছে — বেআইনি সমাবেশ কর্তৃক বলপ্রয়োগ বা সহিংসতা প্রয়োগ।

২৫. সরকারি কর্মচারীকে তার দায়িত্ব পালনে বাধাদানের শাস্তি সংক্রান্ত বিধান কোন ধারায় আছে?

(ক) ধারা ১৮৬ (খ) ধারা ১৮৮ (গ) ধারা ৩৫৩ (ঘ) ধারা ৪৪১

সঠিক উত্তর: (গ) ধারা ৩৫৩

ব্যাখ্যা: ৩৫৩ ধারায় সরকারি কর্মচারীকে তার দায়িত্ব পালন থেকে নিবৃত্ত করার উদ্দেশ্যে বলপ্রয়োগ বা আক্রমণের শাস্তি বর্ণিত আছে।

২৬. অবৈধ প্রবেশ (Criminal Trespass)-এর সংজ্ঞা কোন ধারায় আছে?

(ক) ধারা ৪৪০ (খ) ধারা ৪৪১ (গ) ধারা ৪৪২ (ঘ) ধারা ৪৪৭

সঠিক উত্তর: (খ) ধারা ৪৪১

ব্যাখ্যা: ৪৪১ ধারায় অবৈধ প্রবেশ (Criminal Trespass)-এর সংজ্ঞা দেওয়া হয়েছে।

২৭. গৃহভঙ্গ (House-breaking)-এর সংজ্ঞা কোন ধারায় আছে?

(ক) ধারা ৪৪৫ (খ) ধারা ৪৪৬ (গ) ধারা ৪৪৭ (ঘ) ধারা ৪৪৮

সঠিক উত্তর: (খ) ধারা ৪৪৬

ব্যাখ্যা: ৪৪৬ ধারায় গৃহভঙ্গ (House-breaking)-এর সংজ্ঞা দেওয়া হয়েছে।

২৮. দণ্ডবিধিতে সাধারণ ব্যতিক্রম (General Exceptions) অধ্যায়টি কত ধারা থেকে কত ধারা পর্যন্ত?

(ক) ধারা ৭৬ থেকে ১০৬ (খ) ধারা ৩৪ থেকে ৩৮ (গ) ধারা ১০৭ থেকে ১২০ (ঘ) ধারা ১ থেকে ৫

সঠিক উত্তর: (ক) ধারা ৭৬ থেকে ১০৬

ব্যাখ্যা: দণ্ডবিধির দ্বিতীয় অধ্যায়ে (ধারা ৭৬-১০৬) সাধারণ ব্যতিক্রমসমূহ বর্ণিত আছে, যেমন—আত্মরক্ষার অধিকার, শিশু ও উন্মাদের দায়মুক্তি ইত্যাদি।

২৯. ৭ বছরের কম বয়সী শিশুর কৃতকর্মকে দণ্ডবিধি কীভাবে বিবেচনা করে?

(ক) তা কোনো অপরাধ হিসেবে গণ্য হয় না (খ) তা লঘু অপরাধ হিসেবে গণ্য হয় (গ) তা সাধারণ অপরাধের মতোই বিচার্য (ঘ) শাস্তি অর্ধেক হবে

সঠিক উত্তর: (ক) তা কোনো অপরাধ হিসেবে গণ্য হয় না

ব্যাখ্যা: ৮২ ধারা অনুযায়ী ৭ বছরের কম বয়সী শিশুর কোনো কাজ অপরাধ হিসেবে গণ্য হয় না, কারণ তার অপরাধমূলক দায়িত্ববোধ (Mens Rea) অনুপস্থিত ধরে নেওয়া হয়।

৩০. আত্মরক্ষার অধিকার (Right of Private Defence) সংক্রান্ত বিধান কোন ধারাসমূহে আছে?

(ক) ধারা ৯৬-১০৬ (খ) ধারা ৭৬-৮০ (গ) ধারা ৩৪-৩৮ (ঘ) ধারা ১০৭-১২০

সঠিক উত্তর: (ক) ধারা ৯৬-১০৬

ব্যাখ্যা: ৯৬ থেকে ১০৬ ধারায় শরীর ও সম্পত্তি রক্ষার্থে আত্মরক্ষার অধিকার সংক্রান্ত বিধান বর্ণিত আছে।

৩১. দণ্ডবিধিতে কতটি প্রধান ধরনের শাস্তির উল্লেখ আছে?

(ক) ৩ প্রকার (খ) ৪ প্রকার (গ) ৫ প্রকার (ঘ) ৬ প্রকার

সঠিক উত্তর: (গ) ৫ প্রকার

ব্যাখ্যা: ৫৩ ধারা অনুযায়ী মৃত্যুদণ্ড, যাবজ্জীবন কারাদণ্ড, কারাদণ্ড (কঠোর/সাধারণ), সম্পত্তি বাজেয়াপ্তকরণ এবং অর্থদণ্ড — এই ৫ প্রকার শাস্তির উল্লেখ আছে।

৩২. বহুবিবাহ (Bigamy) সংক্রান্ত অপরাধের শাস্তি কোন ধারায় আছে?

(ক) ধারা ৪৯০ (খ) ধারা ৪৯৪ (গ) ধারা ৪৯৭ (ঘ) ধারা ৪৯৮

সঠিক উত্তর: (খ) ধারা ৪৯৪

ব্যাখ্যা: ৪৯৪ ধারায় স্বামী বা স্ত্রী জীবিত থাকা অবস্থায় পুনরায় বিবাহ করার শাস্তি বর্ণিত আছে।

৩৩. মানহানির (Defamation) সংজ্ঞা কোন ধারায় আছে?

(ক) ধারা ৪৯৯ (খ) ধারা ৫০০ (গ) ধারা ৫০১ (ঘ) ধারা ৫০২

সঠিক উত্তর: (ক) ধারা ৪৯৯

ব্যাখ্যা: ৪৯৯ ধারায় মানহানি (Defamation)-এর সংজ্ঞা এবং ব্যতিক্রমসমূহ বর্ণিত আছে; ৫০০ ধারায় শাস্তি বর্ণিত আছে।

৩৪. দণ্ডবিধিতে 'অপরাধ' (Offence)-এর সংজ্ঞা কোন ধারায় আছে?

(ক) ধারা ৪০ (খ) ধারা ৪১ (গ) ধারা ৪২ (ঘ) ধারা ৪৩

সঠিক উত্তর: (ক) ধারা ৪০

ব্যাখ্যা: ৪০ ধারায় 'অপরাধ' (Offence)-এর সংজ্ঞা দেওয়া হয়েছে — এই কোড দ্বারা শাস্তিযোগ্য কোনো কাজ বা বাদ দেওয়া।

৩৫. সরল আঘাত (Simple Hurt)-এর সংজ্ঞা কোন ধারায় আছে?

(ক) ধারা ৩১৯ (খ) ধারা ৩২০ (গ) ধারা ৩২১ (ঘ) ধারা ৩২২

সঠিক উত্তর: (ক) ধারা ৩১৯

ব্যাখ্যা: ৩১৯ ধারায় আঘাত (Hurt)-এর সংজ্ঞা দেওয়া হয়েছে — শারীরিক ব্যথা, রোগ বা অসুস্থতা সৃষ্টি।

৩৬. গুরুতর আঘাত (Grievous Hurt)-এর সংজ্ঞা কোন ধারায় আছে?

(ক) ধারা ৩২০ (খ) ধারা ৩২১ (গ) ধারা ৩২২ (ঘ) ধারা ৩২৪

সঠিক উত্তর: (ক) ধারা ৩২০

ব্যাখ্যা: ৩২০ ধারায় গুরুতর আঘাতের প্রকারভেদ বর্ণিত আছে, যেমন—খোজাকরণ, স্থায়ী বিকৃতি, অস্থিভঙ্গ ইত্যাদি।

৩৭. অন্যায় আটক (Wrongful Confinement)-এর সংজ্ঞা কোন ধারায় আছে?

(ক) ধারা ৩৩৯ (খ) ধারা ৩৪০ (গ) ধারা ৩৪১ (ঘ) ধারা ৩৪২

সঠিক উত্তর: (খ) ধারা ৩৪০

ব্যাখ্যা: ৩৪০ ধারায় অন্যায় আটক (Wrongful Confinement)-এর সংজ্ঞা দেওয়া হয়েছে।

৩৮. প্রলোভন দেখিয়ে অপহরণ (Kidnapping) ও অপহরণের পর হত্যা সংক্রান্ত কঠোরতর শাস্তির বিধান কোন ধারায় আছে?

(ক) ধারা ৩৬৪ (খ) ধারা ৩৬৫ (গ) ধারা ৩৬৬ (ঘ) ধারা ৩৬৭

সঠিক উত্তর: (ক) ধারা ৩৬৪

ব্যাখ্যা: ৩৬৪ ধারা অনুযায়ী হত্যার উদ্দেশ্যে অপহরণের ক্ষেত্রে কঠোরতর শাস্তির বিধান রয়েছে।

৩৯. জাল মুদ্রা তৈরির শাস্তি সংক্রান্ত বিধান কোন অধ্যায়ে আছে?

(ক) দ্বাদশ অধ্যায় (Offences relating to Coin and Government Stamps) (খ) ষোড়শ অধ্যায় (গ) সপ্তদশ অধ্যায় (ঘ) একবিংশ অধ্যায়

সঠিক উত্তর: (ক) দ্বাদশ অধ্যায় (Offences relating to Coin and Government Stamps)

ব্যাখ্যা: দণ্ডবিধির দ্বাদশ অধ্যায়ে মুদ্রা ও সরকারি স্ট্যাম্প সংক্রান্ত অপরাধ ও শাস্তি বর্ণিত আছে।

৪০. সরকারি কর্মচারী কর্তৃক দুর্নীতি সংক্রান্ত অপরাধ প্রধানত কোন আইনে শাস্তিযোগ্য?

(ক) Prevention of Corruption Act, 1947 ও দণ্ডবিধি উভয়ে (খ) শুধু দণ্ডবিধিতে (গ) শুধু দুর্নীতি দমন আইনে (ঘ) শুধু বিশেষ ক্ষমতা আইনে

সঠিক উত্তর: (ক) Prevention of Corruption Act, 1947 ও দণ্ডবিধি উভয়ে

ব্যাখ্যা: সরকারি কর্মচারীর দুর্নীতি সংক্রান্ত অপরাধ Prevention of Corruption Act, 1947 এবং দণ্ডবিধির নির্দিষ্ট ধারা উভয়ের অধীনে শাস্তিযোগ্য হতে পারে।

৪১. মিথ্যা সাক্ষ্য প্রদান (Giving False Evidence)-এর শাস্তি কোন ধারায় আছে?

(ক) ধারা ১৯১ (খ) ধারা ১৯৩ (গ) ধারা ১৯৫ (ঘ) ধারা ১৯৬

সঠিক উত্তর: (খ) ধারা ১৯৩

ব্যাখ্যা: ১৯৩ ধারায় মিথ্যা সাক্ষ্য প্রদানের শাস্তি বর্ণিত আছে।

৪২. প্রমাণ ধ্বংস করে অপরাধীকে রক্ষা করার শাস্তি কোন ধারায় আছে?

(ক) ধারা ২০১ (খ) ধারা ২০২ (গ) ধারা ২০৩ (ঘ) ধারা ২০৪

সঠিক উত্তর: (ক) ধারা ২০১

ব্যাখ্যা: ২০১ ধারায় অপরাধের প্রমাণ গোপন বা ধ্বংস করে অপরাধীকে শাস্তি থেকে রক্ষার চেষ্টার শাস্তি বর্ণিত আছে।

৪৩. আত্মরক্ষার অধিকার প্রয়োগে সীমা অতিক্রম করলে তার পরিণতি কী?

(ক) তা আত্মরক্ষার সুরক্ষা হারাতে পারে ও পৃথক অপরাধ হতে পারে (খ) সবসময় সম্পূর্ণ সুরক্ষিত থাকে (গ) কোনো প্রভাব পড়ে না (ঘ) শাস্তি স্বয়ংক্রিয়ভাবে মওকুফ হয়

সঠিক উত্তর: (ক) তা আত্মরক্ষার সুরক্ষা হারাতে পারে ও পৃথক অপরাধ হতে পারে

ব্যাখ্যা: ৯৯ ধারার সীমা অতিক্রম করে প্রয়োজনের অতিরিক্ত বলপ্রয়োগ করলে আত্মরক্ষার সুরক্ষা হারিয়ে তা পৃথক অপরাধ হিসেবে গণ্য হতে পারে।

৪৪. প্রতিবন্ধী বা অপ্রকৃতিস্থ ব্যক্তির অপরাধমূলক কাজের দায়মুক্তি সংক্রান্ত বিধান কোন ধারায় আছে?

(ক) ধারা ৮৪ (খ) ধারা ৮৫ (গ) ধারা ৮৬ (ঘ) ধারা ৮৭

সঠিক উত্তর: (ক) ধারা ৮৪

ব্যাখ্যা: ৮৪ ধারা অনুযায়ী কাজের প্রকৃতি বুঝতে অক্ষম মানসিক ভারসাম্যহীন ব্যক্তির কাজ অপরাধ হিসেবে গণ্য হয় না।

৪৫. সম্মতিক্রমে সংঘটিত কাজের ক্ষেত্রে দায়মুক্তি সংক্রান্ত সাধারণ নীতি কোন ধারায় আছে?

(ক) ধারা ৮৭ (খ) ধারা ৮৮ (গ) ধারা ৮৯ (ঘ) ধারা ৯০

সঠিক উত্তর: (ক) ধারা ৮৭

ব্যাখ্যা: ৮৭ ধারা অনুযায়ী মৃত্যু বা গুরুতর আঘাতের উদ্দেশ্য ব্যতীত ১৮ বছরের ঊর্ধ্বে ব্যক্তির স্বেচ্ছা সম্মতিতে সংঘটিত কাজ নির্দিষ্ট শর্তে অপরাধ নয়।

৪৬. দণ্ডবিধির ১৯৮০ (সংশোধনী) অনুযায়ী কোন ধরনের হত্যাকাণ্ডে যৌতুক সংশ্লিষ্টতা বিবেচ্য?

(ক) যৌতুকজনিত মৃত্যু বিশেষ আইনে পৃথকভাবে বিবেচিত হয় (খ) দণ্ডবিধি এই বিষয়ে কিছু বলে না (গ) শুধু দেওয়ানি প্রতিকার প্রযোজ্য (ঘ) শুধু পারিবারিক আদালতের বিষয়

সঠিক উত্তর: (ক) যৌতুকজনিত মৃত্যু বিশেষ আইনে পৃথকভাবে বিবেচিত হয়

ব্যাখ্যা: যৌতুকজনিত সহিংসতা ও মৃত্যু বর্তমানে নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনের মতো বিশেষ আইনে সুনির্দিষ্টভাবে সংজ্ঞায়িত ও শাস্তিযোগ্য, যা দণ্ডবিধির সাধারণ বিধানের পরিপূরক।

৪৭. অবহেলাজনিত মৃত্যু (Death by Negligence)-র শাস্তি কোন ধারায় আছে?

(ক) ধারা ৩০৪ (খ) ধারা ৩০৪ক (গ) ধারা ৩০৫ (ঘ) ধারা ৩০৬

সঠিক উত্তর: (খ) ধারা ৩০৪ক

ব্যাখ্যা: ৩০৪ক ধারায় বেপরোয়া বা অবহেলাজনিত কাজের মাধ্যমে মৃত্যু ঘটানোর শাস্তি বর্ণিত আছে (যেমন সড়ক দুর্ঘটনা)।

৪৮. সাধারণ আঘাতের (Simple Hurt) শাস্তি কোন ধারায় আছে?

(ক) ধারা ৩২১ (খ) ধারা ৩২৩ (গ) ধারা ৩২৫ (ঘ) ধারা ৩২৬

সঠিক উত্তর: (খ) ধারা ৩২৩

ব্যাখ্যা: ৩২৩ ধারায় স্বেচ্ছায় সরল আঘাত প্রদানের শাস্তি বর্ণিত আছে।

৪৯. অস্ত্র দ্বারা গুরুতর আঘাত প্রদানের শাস্তি কোন ধারায় আছে?

(ক) ধারা ৩২৩ (খ) ধারা ৩২৫ (গ) ধারা ৩২৬ (ঘ) ধারা ৩২৭

সঠিক উত্তর: (গ) ধারা ৩২৬

ব্যাখ্যা: ৩২৬ ধারায় বিপজ্জনক অস্ত্র বা উপায়ে গুরুতর আঘাত প্রদানের শাস্তি বর্ণিত আছে।

৫০. অবৈধভাবে বাধা প্রদান (Wrongful Restraint)-এর সংজ্ঞা কোন ধারায় আছে?

(ক) ধারা ৩৩৯ (খ) ধারা ৩৪০ (গ) ধারা ৩৪১ (ঘ) ধারা ৩৪২

সঠিক উত্তর: (ক) ধারা ৩৩৯

ব্যাখ্যা: ৩৩৯ ধারায় Wrongful Restraint-এর সংজ্ঞা দেওয়া হয়েছে — কাউকে তার ইচ্ছামতো চলাচলে বাধা দেওয়া।

৫১. সম্মানহানিকর বলপ্রয়োগ (Assault)-এর সংজ্ঞা কোন ধারায় আছে?

(ক) ধারা ৩৪৯ (খ) ধারা ৩৫০ (গ) ধারা ৩৫১ (ঘ) ধারা ৩৫২

সঠিক উত্তর: (গ) ধারা ৩৫১

ব্যাখ্যা: ৩৫১ ধারায় Assault (আক্রমণাত্মক ইঙ্গিত/প্রস্তুতি)-এর সংজ্ঞা দেওয়া হয়েছে, যা প্রকৃত শারীরিক স্পর্শ ছাড়াই হতে পারে।

৫২. অপরাধমূলক বলপ্রয়োগ (Criminal Force)-এর সংজ্ঞা কোন ধারায় আছে?

(ক) ধারা ৩৪৯ (খ) ধারা ৩৫০ (গ) ধারা ৩৫১ (ঘ) ধারা ৩৫৩

সঠিক উত্তর: (খ) ধারা ৩৫০

ব্যাখ্যা: ৩৫০ ধারায় Criminal Force-এর সংজ্ঞা দেওয়া হয়েছে — সম্মতি ব্যতীত অপরাধমূলক উদ্দেশ্যে বলপ্রয়োগ।

৫৩. বলপ্রয়োগের সংজ্ঞা (Force) দণ্ডবিধির কোন ধারায় আছে?

(ক) ধারা ৩৪৯ (খ) ধারা ৩৫০ (গ) ধারা ৩৫১ (ঘ) ধারা ৩৫২

সঠিক উত্তর: (ক) ধারা ৩৪৯

ব্যাখ্যা: ৩৪৯ ধারায় সাধারণভাবে 'বলপ্রয়োগ' (Force)-এর সংজ্ঞা দেওয়া হয়েছে।

৫৪. অপরাধমূলক নরহত্যার ব্যতিক্রম হিসেবে হঠাৎ উত্তেজনার বশে সংঘটিত হত্যাকাণ্ড কোন বিভাগে পড়ে?

(ক) মানবহত্যা যা নরহত্যা নয় (Exception 1 to Section 300) (খ) সবসময় সরাসরি নরহত্যা (Murder) (গ) কোনো অপরাধই নয় (ঘ) শুধু আঘাতজনিত অপরাধ

সঠিক উত্তর: (ক) মানবহত্যা যা নরহত্যা নয় (Exception 1 to Section 300)

ব্যাখ্যা: ৩০০ ধারার Exception 1 অনুযায়ী গুরুতর ও আকস্মিক প্ররোচনার (Grave and Sudden Provocation) কারণে আত্মনিয়ন্ত্রণ হারিয়ে সংঘটিত হত্যাকাণ্ড নরহত্যা নয়, বরং মানবহত্যা হিসেবে বিবেচিত হতে পারে।

৫৫. অপরাধের চেষ্টা (Attempt to Commit Offence) সংক্রান্ত সাধারণ শাস্তির বিধান কোন ধারায় আছে?

(ক) ধারা ৫১১ (খ) ধারা ৫০৯ (গ) ধারা ৫০৭ (ঘ) ধারা ৫০৫

সঠিক উত্তর: (ক) ধারা ৫১১

ব্যাখ্যা: ৫১১ ধারায় দণ্ডবিধিতে পৃথকভাবে শাস্তির বিধান না থাকা অপরাধের চেষ্টার সাধারণ শাস্তি বর্ণিত আছে।

৫৬. প্রকাশ্যে অশ্লীল আচরণের শাস্তি কোন ধারায় আছে?

(ক) ধারা ২৯৪ (খ) ধারা ২৯৫ (গ) ধারা ২৯৬ (ঘ) ধারা ২৯৭

সঠিক উত্তর: (ক) ধারা ২৯৪

ব্যাখ্যা: ২৯৪ ধারায় জনসমক্ষে অশ্লীল কার্যকলাপের শাস্তি বর্ণিত আছে।

৫৭. ধর্মীয় অনুভূতিতে আঘাত করার উদ্দেশ্যে ইচ্ছাকৃত কার্যকলাপের শাস্তি কোন ধারায় আছে?

(ক) ধারা ২৯৫ক (খ) ধারা ২৯৬ (গ) ধারা ২৯৭ (ঘ) ধারা ২৯৮

সঠিক উত্তর: (ক) ধারা ২৯৫ক

ব্যাখ্যা: ২৯৫ক ধারায় ইচ্ছাকৃতভাবে ধর্মীয় অনুভূতিতে আঘাত করার উদ্দেশ্যে কৃত কার্যকলাপের শাস্তি বর্ণিত আছে।

৫৮. দণ্ডবিধির ২য় ধারায় কী বলা হয়েছে?

(ক) বাংলাদেশের মধ্যে সংঘটিত প্রতিটি অপরাধের জন্য এই কোড প্রযোজ্য হবে (খ) শুধু বিদেশে সংঘটিত অপরাধে প্রযোজ্য (গ) শুধু সরকারি কর্মচারীর ক্ষেত্রে প্রযোজ্য (ঘ) শুধু রাজধানীতে প্রযোজ্য

সঠিক উত্তর: (ক) বাংলাদেশের মধ্যে সংঘটিত প্রতিটি অপরাধের জন্য এই কোড প্রযোজ্য হবে

ব্যাখ্যা: ২ ধারা অনুযায়ী বাংলাদেশের অভ্যন্তরে সংঘটিত প্রতিটি অপরাধের জন্য এই কোড প্রযোজ্য, অপরাধীর জাতীয়তা নির্বিশেষে।

৫৯. বাংলাদেশের নাগরিক বিদেশে অপরাধ করলে দণ্ডবিধির প্রযোজ্যতা কেমন?

(ক) ৪ ধারা অনুযায়ী নির্দিষ্ট শর্তে প্রযোজ্য হতে পারে (খ) কখনোই প্রযোজ্য নয় (গ) শুধু সেই দেশের আইন প্রযোজ্য (ঘ) স্বয়ংক্রিয়ভাবে দায়মুক্তি পাবেন

সঠিক উত্তর: (ক) ৪ ধারা অনুযায়ী নির্দিষ্ট শর্তে প্রযোজ্য হতে পারে

ব্যাখ্যা: ৪ ধারা অনুযায়ী বাংলাদেশের নাগরিক কর্তৃক বিদেশে সংঘটিত নির্দিষ্ট অপরাধের ক্ষেত্রেও এই কোড প্রযোজ্য হতে পারে (Extra-territorial Jurisdiction)।

৬০. 'সরকারি কর্মচারী' (Public Servant)-এর সংজ্ঞা কোন ধারায় আছে?

(ক) ধারা ২১ (খ) ধারা ২৪ (গ) ধারা ৩০ (ঘ) ধারা ৪০

সঠিক উত্তর: (ক) ধারা ২১

ব্যাখ্যা: ২১ ধারায় 'সরকারি কর্মচারী' (Public Servant)-এর বিস্তারিত সংজ্ঞা দেওয়া হয়েছে।

৬১. 'অসাধুভাবে' (Dishonestly)-এর সংজ্ঞা কোন ধারায় আছে?

(ক) ধারা ২৩ (খ) ধারা ২৪ (গ) ধারা ২৫ (ঘ) ধারা ২৬

সঠিক উত্তর: (খ) ধারা ২৪

ব্যাখ্যা: ২৪ ধারায় 'অসাধুভাবে' (Dishonestly)-এর সংজ্ঞা দেওয়া হয়েছে — বেআইনিভাবে লাভ বা ক্ষতির উদ্দেশ্যে কোনো কাজ করা।

৬২. 'প্রতারণামূলকভাবে' (Fraudulently)-এর সংজ্ঞা কোন ধারায় আছে?

(ক) ধারা ২৫ (খ) ধারা ২৬ (গ) ধারা ২৭ (ঘ) ধারা ২৮

সঠিক উত্তর: (ক) ধারা ২৫

ব্যাখ্যা: ২৫ ধারায় 'প্রতারণামূলকভাবে' (Fraudulently)-এর সংজ্ঞা দেওয়া হয়েছে।

৬৩. 'মূল্যবান জামানত' (Valuable Security)-এর সংজ্ঞা কোন ধারায় আছে?

(ক) ধারা ৩০ (খ) ধারা ৩১ (গ) ধারা ৩৩ (ঘ) ধারা ৪৩

সঠিক উত্তর: (খ) ধারা ৩১

ব্যাখ্যা: ৩০ ও ৩১ ধারায় 'নথি' এবং 'মূল্যবান জামানত'-এর সংজ্ঞা যথাক্রমে বর্ণিত আছে।

৬৪. দণ্ডবিধিতে 'কাজ' (Act) ও 'বাদ দেওয়া' (Omission)-এর মধ্যে পার্থক্য কী?

(ক) কাজ হলো ইতিবাচক কর্মকাণ্ড, বাদ দেওয়া হলো কর্তব্য পালনে ব্যর্থতা (খ) উভয়ই একই জিনিস (গ) শুধু কাজই অপরাধ হতে পারে (ঘ) শুধু বাদ দেওয়াই অপরাধ হতে পারে

সঠিক উত্তর: (ক) কাজ হলো ইতিবাচক কর্মকাণ্ড, বাদ দেওয়া হলো কর্তব্য পালনে ব্যর্থতা

ব্যাখ্যা: দণ্ডবিধি অনুযায়ী কাজ (Act) হলো ইতিবাচক কর্মকাণ্ড আর Omission হলো আইনগত কর্তব্য পালনে ব্যর্থতা—উভয়ই নির্দিষ্ট শর্তে অপরাধ গঠন করতে পারে।

৬৫. অপরাধের প্ররোচনা ও মূল অপরাধ একই সাথে সংঘটিত হলে সাধারণ নিয়ম কী?

(ক) ইন্ধনদাতা মূল অপরাধীর ন্যায় দণ্ডনীয় হতে পারেন নির্দিষ্ট শর্তে (খ) ইন্ধনদাতা কখনো দণ্ডনীয় নন (গ) শুধু মূল অপরাধী দণ্ডনীয় (ঘ) উভয়েই দায়মুক্ত

সঠিক উত্তর: (ক) ইন্ধনদাতা মূল অপরাধীর ন্যায় দণ্ডনীয় হতে পারেন নির্দিষ্ট শর্তে

ব্যাখ্যা: ১০৯ ধারা অনুযায়ী প্ররোচিত অপরাধ সংঘটিত হলে এবং শাস্তির পৃথক বিধান না থাকলে ইন্ধনদাতা মূল অপরাধের শাস্তির যোগ্য হন।

৬৬. অপরাধমূলক ভয়ভীতি প্রদর্শনের শাস্তি কোন ধারায় আছে?

(ক) ধারা ৫০৩ (খ) ধারা ৫০৪ (গ) ধারা ৫০৬ (ঘ) ধারা ৫০৯

সঠিক উত্তর: (গ) ধারা ৫০৬

ব্যাখ্যা: ৫০৬ ধারায় অপরাধমূলক ভীতি প্রদর্শনের শাস্তি বর্ণিত আছে।

৬৭. শান্তি ভঙ্গের উদ্দেশ্যে অপমান (Intentional Insult) সংক্রান্ত শাস্তি কোন ধারায় আছে?

(ক) ধারা ৫০৪ (খ) ধারা ৫০৫ (গ) ধারা ৫০৬ (ঘ) ধারা ৫০৯

সঠিক উত্তর: (ক) ধারা ৫০৪

ব্যাখ্যা: ৫০৪ ধারায় শান্তি ভঙ্গের উদ্দেশ্যে ইচ্ছাকৃত অপমানের শাস্তি বর্ণিত আছে।

৬৮. নারীর শালীনতাহানির উদ্দেশ্যে অঙ্গভঙ্গি বা শব্দ ব্যবহারের শাস্তি কোন ধারায় আছে?

(ক) ধারা ৫০৬ (খ) ধারা ৫০৯ (গ) ধারা ৩৫৪ (ঘ) ধারা ৩৭৫

সঠিক উত্তর: (খ) ধারা ৫০৯

ব্যাখ্যা: ৫০৯ ধারায় নারীর শালীনতাহানির উদ্দেশ্যে শব্দ, অঙ্গভঙ্গি বা কাজের শাস্তি বর্ণিত আছে।

৬৯. জাল টাকা জেনেশুনে ব্যবহারের শাস্তি কোন অধ্যায়ে বর্ণিত?

(ক) দ্বাদশ অধ্যায় (খ) ষোড়শ অধ্যায় (গ) সপ্তদশ অধ্যায় (ঘ) অষ্টাদশ অধ্যায়

সঠিক উত্তর: (ক) দ্বাদশ অধ্যায়

ব্যাখ্যা: দণ্ডবিধির দ্বাদশ অধ্যায়ে জাল মুদ্রা ও সরকারি স্ট্যাম্প সংক্রান্ত অপরাধের শাস্তি বর্ণিত আছে।

৭০. প্রকাশ্যে অশালীন গান বা কথা বলার শাস্তি সংক্রান্ত বিধান কোন ধারায় আছে?

(ক) ধারা ২৯৪ (খ) ধারা ২৯৪ক (গ) ধারা ২৯৬ (ঘ) ধারা ২৯৮

সঠিক উত্তর: (ক) ধারা ২৯৪

ব্যাখ্যা: ২৯৪ ধারা অনুযায়ী প্রকাশ্য স্থানে অশ্লীল গান, শব্দ বা কথা বলার শাস্তির বিধান রয়েছে।

৭১. ধর্মীয় সমাবেশে বিঘ্ন সৃষ্টির শাস্তি কোন ধারায় আছে?

(ক) ধারা ২৯৬ (খ) ধারা ২৯৭ (গ) ধারা ২৯৮ (ঘ) ধারা ২৯৯

সঠিক উত্তর: (ক) ধারা ২৯৬

ব্যাখ্যা: ২৯৬ ধারায় ধর্মীয় সমাবেশে ইচ্ছাকৃত বিঘ্ন সৃষ্টির শাস্তি বর্ণিত আছে।

৭২. সরকারি সিলমোহর জাল করার শাস্তি কোন ধারায় আছে?

(ক) ধারা ২৫২ (খ) ধারা ২৫৫ (গ) ধারা ৪৬৭ (ঘ) ধারা ৪৭২

সঠিক উত্তর: (ঘ) ধারা ৪৭২

ব্যাখ্যা: ৪৭২ ধারায় জাল সিলমোহর সাথে জেনেশুনে ব্যবহারের শাস্তি বর্ণিত আছে।

৭৩. সরকারি চাকরিতে প্রবেশের জন্য মিথ্যা পরিচয় প্রদানের শাস্তি সংক্রান্ত বিধান কোন ধারায় আছে?

(ক) ধারা ১৭০ (খ) ধারা ১৭১ (গ) ধারা ৪১৯ (ঘ) ধারা ৪২০

সঠিক উত্তর: (গ) ধারা ৪১৯

ব্যাখ্যা: ৪১৯ ধারায় প্রতারণামূলকভাবে পরিচয় ব্যবহার করে সুবিধা গ্রহণের শাস্তি বর্ণিত আছে।

৭৪. অগ্নিসংযোগের মাধ্যমে সম্পত্তি ধ্বংসের শাস্তি কোন ধারায় আছে?

(ক) ধারা ৪৩৫ (খ) ধারা ৪৩৬ (গ) ধারা ৪৩৭ (ঘ) ধারা ৪৩৮

সঠিক উত্তর: (খ) ধারা ৪৩৬

ব্যাখ্যা: ৪৩৬ ধারায় বাসগৃহ বা সম্পত্তি ধ্বংসের উদ্দেশ্যে অগ্নিসংযোগের কঠোর শাস্তি বর্ণিত আছে।

৭৫. সাধারণ ক্ষতিসাধন (Mischief)-এর সংজ্ঞা কোন ধারায় আছে?

(ক) ধারা ৪২৫ (খ) ধারা ৪২৬ (গ) ধারা ৪২৭ (ঘ) ধারা ৪৩০

সঠিক উত্তর: (ক) ধারা ৪২৫

ব্যাখ্যা: ৪২৫ ধারায় Mischief (ক্ষতিসাধন)-এর সংজ্ঞা দেওয়া হয়েছে — অন্যের সম্পত্তির ক্ষতি করার উদ্দেশ্যে কাজ করা।